রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

অধ্যক্ষ হত্যার দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

অধ্যক্ষ হত্যার দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মিন্টু। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অধ্যক্ষ জামাল হোসেন ঠান্ডু হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বেগম শাহানা হক সিদ্দিকা এ রায় দেন।

একই সঙ্গে আদালতের বিচারক দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। এ ছাড়া হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৩ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সখীপুরের ফুলবাগ গোবরচাকা গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে মিনহাজুর রহমান মিন্টু, একই গ্রামের সুর্যদ আলীর ছেলে আব্দুল মালেক শুকুর। 

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, শমশের আলী, মোহাম্মদ মাসুদ ও মোহাম্মদ নান্নু মিয়া।

রাষ্ট্ররপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন সিকদার বলেন, ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর দুপুরে অধ্যক্ষ জামাল হোসেন ঠান্ডু সখীপুরের পলাশতলী মহাবিদ্যালয় থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়৷ তিনি বৈল্লারপুর এলাকায় পৌঁছলে পূর্বশত্রুতার জেরে মিনহাজুর রহমান মিন্টু নেতৃত্বে জামাল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিন জামাল হোসেনের স্ত্রী পারভীন বেগম বাদী হয়ে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আইয়ুব আলী ৫ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিচারক সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও  অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৩ জনকে বেকসুর খালাস দেয়। রায় ঘোষণার সময় মিন্টু আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং শুকুর পলাতক ছিলেন।


নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই: প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে, কখনও কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। তারা (বিএনপি) জানে যে, সঠিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা হত্যা, অভ্যুত্থান ও ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসতে অভ্যস্ত। এটাই বাস্তবতা।

জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চেয়েছিলেন তারা কারা? আওয়ামী লীগ সব সময় দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে।

শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলেছেন, জনগণ নির্বাচনে অবাধে তাদের ভোট দেবে এবং বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছেন যে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

‘আমি মনে করি, তারা (বিএনপি) সত্যিই চিন্তিত যে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। কারণ, তারা ভোট কারচুপি এবং ভোটার তালিকায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার রাখার সুযোগ পাচ্ছে না। অন্যথায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই,’ উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নির্বাচনে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দেবে। ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন এমন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, এটা তাদের দলের সিদ্ধান্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে। যদি কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারায় তাহলে কার কি করার আছে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএম একটি আধুনিক পদ্ধতি এবং বিশ্বের অনেক দেশেই এটি ব্যবহৃত হয়। আমরা দেখেছি, যেখানে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে দ্রুত নির্বাচনের ফলাফল পাওয়া যায় এবং মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে।


‘ওরা আমার ছেলেকে মেরেই ফেলল’

‘ওরা আমার ছেলেকে মেরেই ফেলল’
শ্রীপুর থানা। ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

গাজীপুরের শ্রীপুরে রানা মিয়া (৩০) নামে এক যুবককে চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার ভোর রাতে তাকে মারধর করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। পরে স্বজনরা স্থানীয়দের সহায়তায় রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ছেলেকে বাঁচাতে না পেরে রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে থানায় হাজির রানার বাবা।

রানা মিয়া উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের মো. আমিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলো, কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী শিপন মিয়া (২৫), আকাশ মিয়া (২২), উজ্বল মিয়া (২৫) ও আবুল কাশেমের ছেলে ইমন (২৬)।

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি শিপনের ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি ভ্যানগাড়ি চুরি হয়। শনিবার ভোর রাত তিনটার দিকে রানাকে ভ্যানগাড়ি চুরির অভিযোগ এনে আটকে রাখে শিপন। পরে রাত থেকে দিনভর মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মারধরে তিনটি ভ্যানগাড়ি চুরির কথা স্বীকার করে রানা। পরে স্থানীয়রা রানাকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে সবার সামনেই রানাকে মারধর করে অভিযুক্তরা। পরে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেয়া হয় রানাকে।

নিহতের বাবা আমিরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের হাত থেকে ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরে তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি বারবার অনুরোধ করলেও আমার ছেলেকে তারা ছাড়লো না, আমি তাদের পায়ে পর্যন্ত ধরেছি। আমার ছেলেকে ওরা মেরেই ফেলল।’

আমিরুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে দফায় দফায় নির্যাতন করে বুকের পাজর, দুই হাত ও পা ভেঙে দেয়। ছেলের শরীরের এক ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা নেই যে ওই স্থানে আঘাত করেনি।’

তবে এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী শিপনের বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার মা রোকেয়া আক্তার বলেন, শিপন ব্যবসার কাজে এলাকার বাইরে আছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ কাজ করছে।


রহস্যে ঘেরা মরিয়ম মান্নানের মায়ের হারিয়ে যাওয়া

রহস্যে ঘেরা মরিয়ম মান্নানের মায়ের হারিয়ে যাওয়া
মা রহিমা বেগম (বাঁয়ে), মায়ের সন্ধান চেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্নার ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত

খুলনার মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুরে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মায়ের নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে প্রায় এক মাস ধরে তার সন্ধান করছিলেন তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান। মরিয়মের কান্নার ছবি ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

মরিয়ম মান্নানের মায়ের এই ঘটনা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের এ নিয়ে কৌতূহলের সীমা নেই। এর মধ্যেই রহিমা বেগমকে উদ্ধারের পর পুলিশ বলছে, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা খুলনার দৌলতপুর থানার এসআই লুৎফুল হায়দার তাকে উদ্ধারের বিষয়টি দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেন।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার ওসি আব্দুল ওহাব জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করা হয়। তাকে খুলনায় পাঠানো হচ্ছে।

পুলিশের একটি দল রাত ২টার দিকে রহিমা বেগমকে নিয়ে খুলনার দৌলতপুর থানায় পৌঁছায়।

খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন দৌলতপুর থানায় রহিমা বেগমকে
নিয়ে আসার পর উদ্ধার অভিযান বিষয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান এবং সেখানেই ছিলেন।

 মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'আপাতত তাকে ভিকটিম সেন্টারে রাখবো, এবং পিআইবি চাইলে তাদের কাছে হস্তান্তর করব। রহিমা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। উনি আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। কথা বললে হয়তো আমরা জানতে পারতাম তিনি কীভাবে সেখানে গেলেন বা কী ঘটনা ঘটেছে। আরো জিজ্ঞাসা করে ঘটনার আদ্যপ্রান্ত জানা যাবে।'

 পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৮ বছর আগে খুলনার সোনালী জুট মিলে চাকরি করতেন কুদ্দুস মোল্লা। তখন তিনি পরিবার নিয়ে রহিমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। ওই সময় রহিমার পরিবারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে কুদ্দুসের পরিবারের। কয়েক বছর আগে কুদ্দুস পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ হতো।
পুলিশ রহিমা বেগমের নিখোঁজ হওয়ার আগের কল রেকর্ডের সূত্র ধরেই তদন্তে নামে। সেখান থেকেই জানতে পারে কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে তার অবস্থান। তবে এই সময় তিনি পরিবারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।

দৌলতপুর থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রহিমা ও তার মেয়েরা অপহরণের নাটক সাজান। রহিমা আত্মগোপনে যাওয়ার পর অজ্ঞাতপরিচয় যেকোনো নারীর মরদেহকে মায়ের বলে দাবি করার পরিকল্পনাও সাজিয়ে রেখেছিলেন তার মেয়েরা।’

এর আগে গত শুক্রবার ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার করা একটি মরদেহকে মায়ের বলে দাবি করেছিলেন মরিয়ম মান্নানসহ রহিমা বেগমের তিন মেয়ে।

খুলনার দৌলতপুর মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়া থেকে গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিখোঁজ হন রহিমা। সে সময় রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হাওলাদার ওই বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন রহিমা।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই অপহরণ মামলা করেন রহিমা বেগমের মেয়ে আদুরী।

খোঁজ না পাওয়ায় পরদিন রহিমার ছেলে মো. মিরাজ আল সাদী দৌলতপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

রহিমা অপহৃত হয়েছেন দাবি করে ১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারের সদস্যরা।

রহিমার সঙ্গে জমি নিয়ে স্থানীয়দের মামলা চলছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল। রহিমার করা সেই মামলায় আসামিরা হলেন প্রতিবেশী মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিুকল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল ও হেলাল শরীফ।

আদালত ১৪ সেপ্টেম্বর রহিমা অপহরণ মামলা পিবিআইতে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই।

এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার করা এক নারীর মরদেহকে রহিমা বেগমের বলে দাবি করেন তার মেয়েরা। এদিন রাত পৌনে ১২টার দিকে মরিয়ম মান্নান ফেসবুক এক পোস্টে বলেন, ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি আমি এই মাত্র।’

পরদিন সকালে নিখোঁজ রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, মাহফুজা আক্তার ও আদুরী আক্তার ফুলপুর থানায় পৌঁছান।

এ সময় পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় ওই নারীর ছবিসহ পরনে থাকা আলামতগুলো মেয়েদের দেখান। মরিয়ম মান্নান তার মায়ের ছবিসহ সালোয়ার-কামিজ দেখে দাবি করেন, এটিই তার মায়ের মরদেহ।

মরিয়ম মান্নান সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘২৭ দিন ধরে আমার মা নিখোঁজ। আমরা প্রতিনিয়ত মাকে খুঁজছি। এরই মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও ছবিতে আমার মায়ের শরীর, কপাল ও হাত দেখে মনে হয়েছে এটাই আমার মা।’

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মরিয়মকে জানানো হয়, ডিএনএ টেস্ট ছাড়া মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ফুলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মোতালেব চৌধুরী শুক্রবার বলেন, ‘মরিয়মের মায়ের বয়স ৫৫ বছর। আমরা যে গলিত মরদেহটি উদ্ধার করেছি, তার আনুমানিক বয়স ২৮ থেকে ৩২ বছর মনে হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনায় মরদেহটি তার মায়ের নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।’

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বওলা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটির পরনে তখন গোলাপি রঙের সালোয়ার; গায়ে সুতির ছাপা গোলাপি, কালো-বেগুনি ও কমলা রঙের কামিজ এবং গলায় গোলাপি রঙের ওড়না প্যাঁচানো ছিল। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে না পেরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ১২ সেপ্টেম্বর দাফন করা হয়। ডিএনএ টেস্ট করতে প্রয়োজনীয় আলামতও সংরক্ষণ করা হয়েছে।’

ওসি বলেন, ‘মরিয়ম মান্নান ওই মরদেহটি তার মা রহিমার দাবি করলেও নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। চূড়ান্তভাবে মরদেহ শনাক্তে মরিয়মের ডিএনএ টেস্ট করা প্রয়োজন।’


তালসড়কে তালপিঠা উৎসব

তালসড়কে তালপিঠা উৎসব
সড়কের দুপাশে সারি সারি তালগাছ। সৌন্দর্যমণ্ডিত এ তালসড়কে চলছে তালপিঠা উৎসব। গতকাল নওগাঁর নিয়ামতপুরের ঘুঘুডাঙ্গা তালসড়কে। ছবি: দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

প্রথম দেখায় মনে হবে এ যেন তালগাছের রাজ্য! সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ। যেন মন জুড়ানো দৃশ্য। প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত এই স্থানে তালপিঠার মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল থেকে তিন দিনব্যাপী এই মেলা চলবে। মেলায় সমাগম ঘটেছে হাজারও মানুষের।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা তালসড়কে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রতি বছরই এ তালপিঠা মেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে দর্শনার্থীরা সড়কটির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্বাদ নিতে পারেন বাহারি তালপিঠারও। এ বছর মেলায় তালের পাটিসাপটা, তালের জিলাপি, তালের বড়া, তালের ক্ষীর, তালের কফি, তালের আমতা, তালের নাড়ুসহ অন্তত ২০ ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। বদলগাছীতে থেকে আসা দোকানি জাহেরা খাতুন বলেন, ‘আমার স্টলে ১০ থেকে ১২ রকমের পিঠা আছে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। অনেক মানুষের সমাগমও ঘটেছে এই পিঠামেলায়।’

সাপাহার উপজেলা থেকে আসা মীনা বেগম পিঠার স্টল দিয়েছেন মেলায়। এ সময় মিনা বেগম বলেন, ‘আমার স্টলে ১০-১৫ রকমের তালের পিঠা আছে। কেউ স্টল ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ কিনে খাচ্ছেন পছন্দের পিঠাগুলো। সবমিলে অন্য রকম এক উৎসব বিরাজ করছে।’

বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন অনেক দর্শনার্থী। এমন মেলায় আয়োজন করায় তারাও খুশি। জেলা শহর থেকে মেলায় আসা লতিফুর রহমান বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মেলায় এসেছি। অনেক দিন ঘোরাফেরা করা হয় না। অনেক রকমের তালপিঠা পসরা সাজানো। সব মিলে খুব ভালো লাগছে।’

সাবরিনা আক্তার নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবী মিলে মেলায় এসেছি। অনেক তালগাছ আবার তালপিঠার মেলা। চমৎকার আয়োজন। আমাদের খুবই ভালো লাগছে।’

পিঠামেলায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের আমন্ত্রণে এসেছেন সাংবাদিক, কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। এ সময় তিনি বলেন, ‘খুবই চমৎকার একটি স্থান। দুই পাশে অসংখ্য তালগাছ। এখানেই বসেছে রকমারি পিঠার মেলা। পিঠাগুলোর অন্য রকম স্বাদ। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। আমাদের সবার উচিত, বেশি করে গাছ লাগানো ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা।’

১৯৮৬ সালের দিকে স্থানীয় হাজীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন এই তালগাছগুলো রোপণ করেছিলেন বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। উদ্দেশ্য ছিল বজ্রপাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি যোগ হবে বাড়তি সৌন্দর্যও।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘প্রতি বছর ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে আয়োজন করা হয় এই মেলার। মেলাকে উপলক্ষ করে জামাই-মেয়ে আর স্বজনরা আসেন প্রতিটি বাড়িতে। মূলত, নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালের পিঠা পরিচিত করে দেয়ার জন্যই এমন আয়োজন। একটা সময় আমি থাকব না, তবে এমন আয়োজন যুগের পর যুগ থাকবে। এমটাই আশা আমার।’


শহরের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে কীর্তিনাশা

শহরের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে কীর্তিনাশা
শরীয়তপুরের নড়িয়াবাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে কীর্তিনাশা নদীতে।ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • পৌরসভার বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্ধারিত স্থান না থাকায় শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের আবর্জনা কীর্তিনাশা নদীতে ফেলা হচ্ছে।

নুরুল আমীন, শরীয়তপুর

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় কীর্তিনাশা নদীর লঞ্চঘাট এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌরসভার বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্ধারিত স্থান বা ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ময়লা ও আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে জেলা শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত গুরুত্বপূর্ণ নদীটি দূষণের পাশাপাশি ভরাট হওয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদী দূষণ বন্ধে শিগগির ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের সুবিধা নিশ্চিত করতে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নড়িয়া পৌরসভা। পৌরসভায় প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষের বসবাস। উপজেলা সদর ও পৌরশহর হওয়ায় নড়িয়াবাজারে গড়ে উঠেছে দেড় হাজারেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া বাজার ও আশপাশে রয়েছে হাসপাতাল, ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিভিন্ন পণ্য তৈরির কারখানা, মাছ-মাংস, সার, কীটনাশক এবং ওষুধের দোকান।

নড়িয়াবাজারের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কীর্তিনাশা নদী। ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কীর্তিনাশা নদীটি পদ্মা নদীর নড়িয়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে মাদারীপুরের আড়িয়াল খাঁ নদের সঙ্গে মিশেছে। নড়িয়াবাজারের সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এই কীর্তিনাশা নদীতে।

নড়িয়া পৌরসভার স্থায়ী বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও তাদের সংগ্ৰহ করা ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন নদীতে। ফলে নড়িয়ার পুরোনো লঞ্চঘাট এলাকার কীর্তিনাশা নদীতীরের অন্তত ২০০ মিটার এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরে ফেলা ময়লা-আবর্জনা নদীর স্রোতে পানিতে মিশে দূষিত হচ্ছে পরিবেশও। এ ছাড়া ময়লার স্তূপে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীতীরবর্তী ওই সব এলাকা।

নড়িয়াবাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, আবর্জনা ফেলার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে নদীর তীরে ফেলতে হচ্ছে। এখানে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে আশপাশের দোকানে ক্রেতারা আসতে চান না। ব্যবসায়ীরাও দুর্গন্ধ আর মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ। 

পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করা বিডিক্লিনের জেলা কমিটির সহসমন্বয়ক পলাশ খান বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। আর এ জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে পৌরসভাকে। নড়িয়াতে শিগগির বিডিক্লিন টিমের সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্রচারণা চালাবেন। বিশেষ করে বাসিন্দাদের নদীতে ময়লা ফেলা থেকে বিরত রাখতে জোর প্রচারণা চালানো হবে।

নদী পরিব্রাজক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নুরুজ্জামান শিপন দৈনিক বাংলাকে, প্রতিনিয়তই নদী দখল ও দূষণ বেড়েই চলছে। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নদী দখল ও দূষণরোধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। নদী দূষণের পরিমাণ কী হতে পারে তা সরকারের ভেবে দেখা উচিত। নড়িয়া পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কীর্তিনাশা নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে নদীর পানি দূষণ হচ্ছে। অন্যদিকে নদী ভরাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

নড়িয়া পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ দৈনিক বাংলাকে জানান, স্থায়ীভাবে বর্জ্য অপসারণের জন্য ডাম্পিং ইয়ার্ড না থাকায় নদীতে আবর্জনা ফেলছেন স্থানীয়রা। নদী রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হবে। ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ করার জন্য পৌর শহরের বাঁশতলা এলাকায় এক একর পরিমাণ জমি ক্রয় করা হয়েছে। সেটি নির্মাণ হলে এ সমস্যা থাকবে না। ইয়ার্ড নির্মাণে কমপক্ষে তিন একর জমি প্রয়োজন। ক্রয়কৃত জমির পাশে আরও দুই একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।