শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২

বিএসএমএমইউ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল বিএনপি-জামায়াত: প্রধানমন্ত্রী

বিএসএমএমইউ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল বিএনপি-জামায়াত: প্রধানমন্ত্রী
বিএসএমএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। ছবি: ফোকাস বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) বন্ধ করে দেয়ার তৎপরতা চালানো হয়েছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই সেই সময় কর্তব্যরত অনেক চিকিৎসক-নার্সকে, যারা সেই কাজে বাধা দিয়েছিলেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি টিকে গেছে।’

আজ বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএসএমএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এটিই দেশের প্রথম কোনো সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১৯৯৬ সালে ১১ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছিলাম। সেটি জনগণের জোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সফল হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে সব বন্ধ করে দেয়। তাদের যুক্তি ছিল, এই ক্লিনিকগুলো চালু থাকলে বাংলাদেশের মানুষ নাকি শুধু নৌকায় ভোট দেবে, তাদের ভোট দেবে না। তাই সেটি তারা বন্ধ করে দিয়েছিল।’

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুরু থেকেই স্বাস্থ্য সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ইউনিয়ন পর্যন্ত ১০ বেডের হাসপাতালসহ গ্রাম পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা শুরু করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের পর একের পর এক মিলিটারি ক্যু হতে থাকে, ক্ষমতা দখল হয়ে যায়। ফলে মানুষের যে সেবা পাওয়া অধিকার ছিল, তা থেকে মানুষ বঞ্চিত হয়। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে। সে সময় বাংলাদেশে কোনো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। এই প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) আমরা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের এই ইনস্টিটিউশন এক সময় শাহবাগ হোটেল ছিল। হোটেলটিকে এক সময় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট করা হয়। তিনজন অধ্যাপককে নিয়ে এই ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠে। আমি অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলামকে সব সময় স্মরণ করি। তিনি এই ইনস্টিটিউটকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং ১৯৭২ সালে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, জাতির পিতা সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর সব উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়।


ভগ্নিপতিকে ‘গলা কেটে’ হত্যার অভিযোগে শ্যালক আটক

ভগ্নিপতিকে ‘গলা কেটে’ হত্যার অভিযোগে শ্যালক আটক
ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

মানিকগঞ্জের সদরে ভগ্নিপতিকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগে শ্যালক সোহেল নুরুন নবীকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার পুটাইল ইউনিয়েনর কৈতরা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

আটক সোহেল নুরুন নবী নেত্রকোনার কেন্দুয়ার রাজনগর এলাকার মৃত আলতু মিয়ার ছেলে। নিহত রুবেল মিয়া কিশোরগঞ্জের ইটনার তারাশ্বর এলাকার রেনু মিয়ার ছেলে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার জানান, রুবেল মিয়া কৈতরার মামুন হ্যাচারিতে কাজ করতেন। ১৬ সেপ্টেম্বর সেখানে বেড়াতে আসেন শ্যালক সোহেল। আসার পর থেকে দেখেন হ্যাচারিতে রাখা ইট প্রতিদিন রাতে ভগ্নিপতি রুবেল চুরি করে বিক্রি করেন। এতে বাধা দেন সোহেল এবং ইট বিক্রির টাকা মালিককে ফেরত দিতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে প্রথমে কুপিয়ে ও পরে গলা কেটে রুবেলকে হত্যা করেন সোহেল।  

পরে পুলিশ রাতেই সোহেলকে আটক করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও ওসি জানিয়েছেন।


কক্সবাজারে ডেঙ্গু মহামারি ছড়িয়েছে ৫৮ জেলায়

কক্সবাজারে ডেঙ্গু মহামারি  ছড়িয়েছে ৫৮ জেলায়
ছবি: সংগৃহীত
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত
  • কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য রোহিঙ্গা ঘনবসতিকে দায়ী করা হয়েছে

  • নগরায়ণের সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

জাকিয়া আহমেদ

ডেঙ্গু আবারও দেশজুড়ে ছড়িয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে কেবল ছয় জেলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। ঢাকায় এবারও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। মৃত্যুও বেশি। তবে এডিস মশাবাহিত এই রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে কক্সবাজারে। এই পরিস্থিতির জন্য ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবির ও তাদের অসচেতনতাকে দায়ী করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে সর্বশেষ গত বছর এভাবে ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছিল। তার আগে ২০১৯ সালে ৬৪ জেলায়ই ডেঙ্গু ছড়ায়। সেবার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এবার অবশ্য প্রকোপ ততটা প্রবল না হলেও তা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে নগরায়ণের একটা সম্পর্ক রয়েছে। দেশে নগরায়ণের হার বেড়েছে। তবে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। ডেঙ্গুর চিকিৎসাব্যবস্থা, মশক নিধন কর্মসূচিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক। সচেতনতার ঘাটতি তো আগে থেকেই আছে। ফলে শুরুর দিকে ডেঙ্গু শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন নিয়মিতই দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ডেঙ্গুর মৌসুমও প্রলম্বিত হচ্ছে।

ঢাকায় রোগী সবচেয়ে বেশি, কক্সবাজারে মহামারি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাঙামাটি, বান্দরবান, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ৮৭৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোয় ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ১৭ জন। কক্সবাজারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪২ জন।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে হিসাব দিচ্ছে, প্রকৃত রোগীর সংখ্যা তার কয়েক গুণ বেশি। কারণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুধু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা জানাচ্ছে। এটি স্পষ্ট হয় কক্সবাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করলেই।

কক্সবাজারে ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই দিন আগে সাড়ে ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেই সঙ্গে একই ঘরে অনেক মানুষের বসবাস। তারা পানি জমিয়ে রাখে ঘরের ভেতরে। স্বাস্থ্য সচেতনতা একেবারেই নেই। এ জন্য এবার কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি।

কক্সবাজারে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে মন্তব্য করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘এ রকম মহামারি যদি অন্যান্য জেলায়ও শুরু হয়, তাহলে বিপর্যয় ঘটবে। কাজেই এমন বিপর্যয়ের আগেই তা মোকাবিলার সক্ষমতা আমাদের তৈরি করা উচিত।’

দেশজুড়ে ডেঙ্গু ছড়ানোর কারণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে নগরায়ণের সম্পর্ক রয়েছে। দেশের সব পৌরসভা, উপজেলা এবং জেলায় জেলায় নগরায়ণ হচ্ছে। সেখানে ভবনের পর ভবন হচ্ছে। সঙ্গে বাড়ছে অটোরিকশার গাড়ির টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের প্যাকেটের মতো পানি জমতে পারে এমন বর্জ্য। ঢাকায় ডিসপোজাল ব্যবস্থা থাকলেও জেলা শহর কিংবা উপজেলা-পৌরসভা পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একেবারেই নেই। ফলে সেখানে পানি জমছে, এডিস মশা ডিম পাড়ছে, বংশবিস্তার ঘটাচ্ছে। এসব কারণেই সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে।

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিজ এলাকা গাইবান্ধা পৌরসভার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এই পৌরসভায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো সক্ষমতা নেই। এ চিত্র শুধু এখানকার নয়, পুরো দেশের। তাই পুরো দেশের জন্য এখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন করা দরকার।

অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকার সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা বেশি, সক্ষমতা বেশি। এখানে ডেঙ্গুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিকিৎসকরাও অনেক অভিজ্ঞ। কিন্তু ঢাকার বাইরে এসব সুবিধা একেবারেই নেই। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকাকেন্দ্রিক সবকিছু। এই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসা দরকার। না হলে ভবিষ্যতে করোনা বা চিকুনগুনিয়ার মতো স্বাস্থ্য সমস্যার চেয়েও ভয়াবহ সমস্যা হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করা জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার দৈনিক বাংলাকে বলেন, কোনো জেলায় পাঁচজনের বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে যে সেখানে ডেঙ্গু স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সেটা ভয়ংকর আশঙ্কার। কেননা ঢাকার বাইরে মশক নিধন কর্মসূচি, চিকিৎসাব্যবস্থা এবং ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে তা মোকাবিলার সক্ষমতা নেই বললেই চলে। কক্সবাজারে এমনটাই লক্ষ করা যাচ্ছে।

কবিরুল বাশারের মতে, সক্ষমতার ঘাটতির কারণেই ডেঙ্গু এখন দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে। কাজেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

আর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজির আহমেদের পরামর্শ হলো, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ যেমন শহর ও গ্রামে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে, সেভাবেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও তারা দায়িত্ব পালন করবে।


অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জাতির মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার ফলে জ্বালানি, খাদ্যসহ নানা ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাতের অবসান চাই। নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে একটি দেশকে শাস্তি দিতে গিয়ে নারী, শিশুসহ গোটা মানবজাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়। এর প্রভাব কেবল একটি দেশেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং সকল মানুষের জীবন-জীবিকা মহাসঙ্কটে পতিত হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। বিশেষ করে, শিশুরাই বেশি কষ্ট ভোগ করে। তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে হারিয়ে যায়। আসুন, সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে হাতে হাত মিলিয়ে আমরা একটি উত্তম ভবিষ্যৎ তৈরির পথে এগিয়ে যাই।

আগামী প্রজন্মের জন্য শান্তিময় বিশ্ব ও উন্নত-সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধ, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করুন। শিশুকে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা দিন। শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।

সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখার নীতির কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত পররাষ্ট্রনীতির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’ বাংলাদেশ জন্মলগ্ন থেকেই এই প্রতিপাদ্য উদ্ভূত জোট নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করে আসছে।


চায়না দুয়ারি জাল: বেড়েছে ব্যবহার, হুমকিতে জলজ জীববৈচিত্র্য

চায়না দুয়ারি জাল: বেড়েছে ব্যবহার, হুমকিতে জলজ জীববৈচিত্র্য
খুলনার তেরকাদা উপজেলার ভূতিয়ার বিল থেকে মাছ ধরার জন্য নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ফেলছেন এক জেলে। ছবি: দৈনিক বাংলা
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত

খুলনা ব্যুরো

উপকূলীয় মৎস্যভাণ্ডার থেকে মাছ আহরণে নিষিদ্ধ ‘ট্রেন জাল’ ব্যবহারের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। চায়না দুয়ারি হিসেবে পরিচিত এই জালে প্রতি গিঁটের ফাঁসের দূরত্ব এক সেন্টিমিটারেরও কম। এর ভেতর থেকে মাছের ডিম বা পোনা কিছুই বের হতে পারে না।

জালটিতে শুধু মাছ নয়, জলজপ্রাণী শামুক, ঝিনুক, সাপ, ব্যাঙসহ প্রায় সবই আটকা পড়ে। ডাঙায় শুকাতে দিলে জালে লেগে থাকা মাছ খেতে এসে আটকা যায় পাখিও। সহজে বহনযোগ্য ও বেশি পরিমাণে মাছ আহরণ একইসঙ্গে করা যায় বলে এই জালের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে জেলেদের মধ্যে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জালে ছোট মাছসহ পোনাও দেদার ধরা পড়ছে বলে স্থানীয় জলাশয়গুলো অচিরেই মাছের সংকটে পড়বে। পরিবেশের জন্যও এই জাল ক্ষতিকর। দেশে প্রচলিত মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালায় সাড়ে ৪ সেন্টিমিটার বা এর থেকে কম দৈর্ঘ্যের ফাঁসবিশিষ্ট জাল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ১ সেন্টিমিটারেরও কম দৈর্ঘ্যের ফাঁস হওয়ায় চায়না দুয়ারি জাল স্বাভাবিকভাবেই নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও খুলনার তেরখাদা উপজেলার ভূতিয়ার বিল, বাসুয়াখালি বিল, ডুমুরিয়া উপজেলার ডাকাতিয়া বিল ও শিবসা, পশুর, ভদ্রা, ভৈরব, কাজীবাছা, কপোতাক্ষ নদসহ প্রায় সব নদী ও খালে এই জাল ব্যবহার করা হচ্ছে।

তেরখাদা উপজেলার নাচুনিয়া গ্রামের জেলে মোজাফফার জানান, পাঁচ বছর ধরে ভূতিয়ার বিল থেকে মাছ আহরণ করেন তিনি। আগে খেওলা জাল ব্যবহার করলেও কষ্ট লাঘবের জন্য এখন চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করছেন। ২০ ফুট লম্বা পাঁচটি চায়না দুয়ারি জাল রয়েছে তার। ওই এলাকার পাঁচ শতাধিক জেলে দুই হাজারেরও বেশি চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে ভূতিয়ার বিল থেকে মাছ আহরণ করেন বলে দাবি করেন মোজাফফার।

মোজাফফারের মতো অন্য জেলেরাও চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারকেই নিজেদের জন্য সুবিধাজনক মনে করছেন। তবে এই জালের ব্যবহার যে নিষিদ্ধ, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই তাদের।

চায়না দুয়ারি জালের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক নাজমুল আহসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘জালের গিঁটের দৈর্ঘ্যের আইন অনুযায়ী এই জালটি আমাদের দেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি যেকোনো জাল মাছের জন্য হুমকি। ছোট ছোট মাছ টিকিয়ে রাখা জীববৈচিত্র্যের জন্য জরুরি। বড় মাছের পোনা যদি ধরে ফেলা হয়, তাহলে মা মাছের সংকট বাড়বে।’

একই ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক খন্দকার আনিসুল হক বলেন, ‘প্লাস্টিকের তৈরি হওয়ায় এই জাল দীর্ঘদিনেও নষ্ট হয় না। তাই এই জাল কেবল মৎস্যভাণ্ডার ধ্বংস করছে না, এটি পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।’ সাম্প্রতিক সময়ে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বাড়লেও এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের শক্ত কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। আর স্থানীয় মৎস্য বিভাগের বক্তব্যও দায়সারা। জানতে চাইলে মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, ‘নতুন করে এই জালের ব্যবহার শুরু হয়েছে। মাছ রক্ষায় আমরা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। জাল পেলে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।’

ক্যাপশন:

১. খুলনার তেরখাদা উপজেলার ভূতিয়ার বিল থেকে মাছ ধরার জন্য নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ফেলছেন এক জেলে। ছবি: দৈনিক বাংলা

২. খুলনার তেরখাদা উপজেলার নাচুনিয়া গ্রামের এক বাড়িতে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল রোদে শুকানো হচ্ছে। ছবি: দৈনিক বাংলা


সেতুর অভাবে ভোগান্তি

সেতুর অভাবে ভোগান্তি
সেতুর অভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দুই হাজার মানুষকে। ছবি: দৈনিক বাংলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ও নাসিরনগরের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কান্তা খাল। খালের এক পাড়ে নাসিরনগর উপজেলার সর্ববৃহৎ প্রাচীন বাজার চাতলপাড় এবং অপর পাড়ে রয়েছে সরাইলের অরুয়াইল বাজার। খাল পার হয়ে প্রতিদিন অন্তত দুই হাজার মানুষকে এই দুই পাড়ের বাজারগুলোতে যাতায়াতে ব্যবহার করতে হয় নৌকা। খালটিতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েও সুফল পাননি স্থানীয় বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাতলপাড় বাজারের আশপাশের অর্ধশতাধিক গ্রাম নাসিরনগর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। এসব গ্রাম তাদের উপজেলা সদর থেকে অন্তত ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাই এসব গ্রামের মানুষ যাতায়াতের সুবিধার্থে আর নিকটস্থ এলাকা হওয়ায় নৌকা দিয়ে পার হয়ে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে কেনাকাটা থেকে শুরু করে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনে চলে আসে। তা ছাড়া নাসিরনগরের সেসব গ্রামের মানুষের অনেকেই সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন। এ অবস্থায় একটি সেতুর অভাবে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরাইলের অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘এই একটি সেতুর জন্য দুটি উপজেলার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কয়েক বছর আগে এই খালে সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। দুই পাড়ে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কাজে আসেনি ওই এলাকার মানুষের। আস্তে আস্তে সেতুটি ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। দুই উপজেলার মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য খালে সেতু নির্মাণ জরুরি।’

নাসিনগরের চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুর দাবি জানাতে জানাতে এখন সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছেন। রাতের বেলা কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেয়ার পথে এই খালের কাছে আটকে যান মানুষ। কারণ, তখন খেয়াঘাটে নৌকা থাকে না। এমনও হয়েছে খেয়া ভাড়া দেয়ার অভাবে অনেক বাচ্চা স্কুলে নিয়মিত যায় না।’

নাসিরনগরে বাসিন্দা কামাল হোসেন, সরাইলের বাসিন্দা খোদেজা বেগম, অরুয়াইল-চাতলপাড় সড়কে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলচালক সুজন মিয়া বলেন, ‘দুইপাড়ের যাতায়াতের সুবিধার্থে সেতুর একটি বিশেষ প্রয়োজন। প্রতিদিন পাঁচ টাকা ভাড়া দিয়ে এপার-ওপার যাতায়াত করতে হয়। কান্তার খালে ব্রিজ না থাকায় আমরা ভাটি এলাকার দুই উপজেলাবাসী চরম দুর্ভোগে আছি। দুই পাশে রাস্তা আছে ব্রিজ নাই। ব্রিজটি নির্মাণ হলে শুধু দুর্ভোগ থেকে রেহাই নয়, সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলাবাসীর মধ্যে একটা বন্ধন সৃষ্টি হবে।’

সরাইল উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘সরাইলে যোগদান করেছি কয়ক দিন হলো। কান্তার খালে কোনো সেতু না থাকায় দুই উপজেলার মানুষ কষ্ট করছেন এটা দুঃখের বিষয়। আমি কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে যাব। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’