বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চিকিৎসক শাকির গ্রেপ্তার

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চিকিৎসক শাকির গ্রেপ্তার
শাকির বিন ওয়ালী। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

রাজধানীর রামপুরার পূর্ব হাজীপাড়ার বাসা থেকে আটক তরুণ চিকিৎসক  শাকির বিন ওয়ালীকে  জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

পুলিশের সিটিটিসির প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার শাকির বিন ওয়ালী একজন চিকিৎসক৷ তিনি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য।

তিনি জানান, শাকির কুমিল্লার নিখোঁজ সাত ছাত্রকে আনসার আল ইসলামে যোগদান করান। তিনি ওই সাতজনকে তাওহিদ ও জিহাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।

ওই সাত ছাত্রের খোঁজ এখনও মেলেনি বলে জানিয়েছেন সিটিটিসির প্রধান।

গত ২৩ আগস্ট কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যান সাত শিক্ষার্থী। যাওয়ার সময় তেমন টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন কিংবা বাড়তি পোশাকও নেননি তারা। একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলেও নিখোঁজ প্রত্যেকেই ছিলেন পরস্পরের পরিচিত। তাদের বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।

স্বজনদের দাবি, পড়াশোনার বাইরে অন্য কোনো বিশেষ বিষয়ের প্রতি কখনও তারা সন্তানদের আগ্রহ দেখেননি। কলেজ, কোচিংয়ের বাইরে যে সময়টি পেতেন তার বেশির ভাগটাই বাসায় বই পড়ে কিংবা মোবাইল ফোনে তারা সময় কাটাতেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পুলিশ ধারণা করেছিল, তারা কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়েছেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল মান্নান এই শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে, তবে তাদের সন্ধান পাওয়ার আগে নিশ্চিত কিছু বলা যাবে না।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইমরান বিন রহমান, সামি, কুমিল্লা সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম, নিহাল, ভিক্টোরিয়া কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ইমতিয়াজ আহমেদ রিফাত, একই কলেজের তৃতীয় বর্ষের আমিনুল ইসলাম আলামিন ও ঢাকার ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে অনার্স শেষ করা নিলয়।

শাকিরের বাবা ডা. এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত রোববার বিকেলে সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকের লোকজন তার ছেলেকে তুলে নিয়ে যান। সিআইডি পুলিশ পরিচয়ধারীরা রাত ১০টার দিকে আবারও তার বাসায় গিয়ে শাকিরের ব্যবহার করা একটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যান।

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হায়তুন নবী খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি শাকির বিন ওয়ালীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন আটক করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শাকিরের বাবা ডা. এ কে এম ওয়ালীউল্লাহ জানান, তিনি প্রায় দুই যুগ ধরে পূর্ব হাজীপাড়ার ৬৮/এ নম্বর বাসায় বাস করে আসছেন। গত রোববার বেলা ৩টার দিকে সাদা পোশাকে কয়েকজন লোক নিজেদের সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসায় এসে শাকিরের খোঁজ করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাকিরকে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যান। রাত ১০টার দিকে তারা আবারও বাসায় এসে শাকিরের রুম তল্লাশি করেন। এ সময় তারা শাকিরের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্রগুলো ঘেঁটে দেখেন। শাকির বিন ওয়ালী সম্প্রতি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে এফসিপিএস পরীক্ষায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এম ওয়ালী উল্লাহ জানান, তারা পরদিন সিআইডি কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, সিআইডি তার ছেলেকে নিয়ে আসেনি। এ বিষয় সাধারণ ডায়েরি করতে রামপুরা থানায় গেলেও থানা কর্তৃপক্ষ আরও খোঁজ করতে বললেও জিডি নেয়নি। গতকাল বিকেলে আবারও রামপুরা থানায় গেলে ওসি তাদের জানান, শাকির নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে। সন্ধ্যার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

এ কে এম ওয়ালীউল্লাহ বলেন, ‘শাকির কুমিল্লা মেডিকেলে পড়াশোনার সময়ে রেটিনা কোচিংয়ে ক্লাস নিত। সে সময় ছাত্রশিবিরের ছেলেপেলের সঙ্গে কিছুটা ওঠাবসা করেছে। মেডিকেল শেষ করার পর সে এখন পুরোদমে এফসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রাজনীতি বা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তার সম্পৃক্ত থাকার কথা নয়। তারপরও কোনো অভিযোগ থাকলে পরিবারের সদস্যদের তো বলতে হবে। এভাবে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়াটা তো সমীচীন নয়।’

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া সাত তরুণের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে শাকির বিন ওয়ালীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয়। এর আগেও জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিন নিয়ে বের হয়ে আসেন। শাকিরের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওই সূত্রের দাবি।


ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলে পানি পান করে ৬০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলে  পানি পান করে ৬০  শিক্ষার্থী হাসপাতালে
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে একটি বিদ্যালয়ে টিউবওয়েলের পানি পান করে ৬০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলার শিতলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গতকাল বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে। 

হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে জানান, বিদ্যালয়ের পানি পান করার পর প্রথমে চারজন এবং পরে আরও তিনজন হাসপাতালে আসে পেট ব্যথা ও বমির উপসর্গ নিয়ে। তাদের মধ্যে তিনজন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে হাসপাতালে আসার আগেই। ছত্রাকনাশক কোনো রাসায়নিক মিশ্রিত পানি পানে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।

আরএমও বলেন, ‘আমরা পানির নমুনা সংগ্রহ করেছি। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) এই নমুনা ঢাকায় পাঠানো হবে পরীক্ষার জন্য।’ তিনি বলেন, ‘এই সাতজনের বাইরে যারা এসেছে, তারা আসলে আতঙ্কে ভর্তি হয়েছে। আমরা সবার চিকিৎসা দিচ্ছি। ৬০ জনই শঙ্কামুক্ত।’  

শিতলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিয়া বলে, ‘পিপাসা লাগলে কয়েকজন বান্ধবী মিলে টিউবওয়েলের পানি পান করি। পানি পানের পর থেকে পেট ব্যথা শুরু হয়। আধা ঘণ্টার মধ্যে অসুস্থতা বেড়ে যায়। তখন স্কুল থেকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নেয়া হয় আমাদের।’ 

জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলতাফুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় আমি স্কুলে ছিলাম না। টিউবওয়েলের পানির নমুনা পরীক্ষা করা হলে বোঝা যাবে আসলে কী ঘটেছে। আপাতত ওই টিউবওয়েল থেকে পানি পান বন্ধ রাখা হয়েছে।

হরিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাইহানুল ইসলাম মিঞা বিকেলে দৈনিক বাংলাকে বলেন, টিউবওয়েলের পানি পান করে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে টিউবওয়েলের পানি পান বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পুলিশকেও জানাতে বলা হয়েছে। হাসপাতালে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিচ্ছিল। তারা শঙ্কামুক্ত।

হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে কোনো বিষজাতীয় কিছু মেশানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এমনটি জানিয়েছেন। আমরা ঘটনা তদন্ত করছি। 


‘বাংলাদেশে অভিবাসন ব্যয় সবচেয়ে বেশি’

‘বাংলাদেশে অভিবাসন ব্যয় সবচেয়ে বেশি’
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে কর্মশালার আয়োজন করে ব্রাক। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যান। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে তথ্য সহজে না পাওয়ার কারণেই তারা দালালনির্ভর হয়ে পড়েন। আর এ কারণেই পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশেই অভিবাসন ব্যয় সবচেয়ে বেশি। বিপরীতে আয় সবচেয়ে কম।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক আয়োজিত ‘নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের পুনঃকেন্দ্রীকরণ’বিষয়ক জেলা কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইলিয়াস মেহেদী ও বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন এফ এম সাহাবুদ্দিন খান। আরও উপস্থিত ছিলেন অভিবাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিদেশফেরত অভিবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, বিশ্বমন্দার বাজারেও অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকার অন্যতম কারণ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। প্রতিবছর ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে যুক্ত হন। যাদের বড় অংশ বিদেশে যান। কর্মী প্রেরণকারী ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি কাজ করছেন।

শরিফুল হাসান বলেন, ‘কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ উচ্চ অভিবাসন ব্যয়। বাংলাদেশ থেকে বিদেশ যাওয়ার খরচ সবচেয়ে বেশি। অথচ সেসব কর্মী আয় করেন সবচেয়ে কম। এর কারণ আমাদের মানুষ খুব বেশি সচেতন না। তারা মনে করেন বিদেশে গেলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু দক্ষ হয়ে যাওয়া, বৈধভাবে যাওয়ার বিষয়ে তারা জানেন না।’

শরিফুল হাসান বলেন, ‘দেশের বেশির ভাগ রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস রাজধানীতে হওয়ায় প্রান্তিক মানুষ সেখানে পৌঁছাতে পারেন না। তারা প্রতি পদে পদে দালালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বলা যায়, অভিবাসনের পুরো রিক্রুটটা দালালের ওপর নির্ভরশীল।’

ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইলিয়াস মেহেদী বলেন, সরকারি প্রতিটি সেক্টরে জনবল বেশি, কিন্তু সে তুলনায় নিয়ন্ত্রণ কম। বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো এত প্রচ্ছন্ন থাকে যে সেবাগ্রহীতারা কোথায় গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী সেবা পাবেন, তা জানেন না আর জানারও চেষ্টা করেন না। তারা চান কীভাবে স্বল্প সময়ে, স্বল্প পরিশ্রমে বেশি টাকা উপার্জন করা যায়। তাই তারা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নেয়ার ব্যাপারেও উদাসীন।

কর্মশালায় দুজন বিদেশফেরত ব্যক্তি তাদের প্রবাসজীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।


১০ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হলো ট্রেন চলাচল

১০ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হলো ট্রেন চলাচল
ট্রেনের লাইনচ্যুত এই বগি সরানো হয়েছে। ছবি : দৈনিক বাংলা
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

গাজীপুরের টঙ্গীতে মালবাহী কন্টেইনারের বগি লাইনচ্যুতের ঘটনার ১০ ঘন্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে ট্রেন চলাচল। দুপুর সোয়া দুইটার দিকে লাইনচ্যুত বগি রেললাইন থেকে সরালে শুরু হয় ট্রেন চলাচল।

টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) নুর মোহাম্মদ খান ট্রেন চলাচল স্বাভাবিকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে দুর্ঘটনার প্রায় ৮ ঘন্টা পর বেলা ১২টার দিকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে ঢাকা থেকে আসা রিলিফ ট্রেন। এ সময় আপ লাইন বন্ধ থাকায় এক লাইনেই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখে রেল কর্তৃপক্ষ। তবুও ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান হাজার হাজার যাত্রী। দেখা দেয় শিডিউল বিপর্যয়।

নুর মোহাম্মদ খান বলেন, ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন এসে লাইনচ্যুত বগিটি সরিয়ে নিলে দুপুর সোয়া দুইটার দিকে দুই লাইনেই ট্রেন চলাচল সচল হয়। ভোর সাড়ে ৪টায় মধুমিতা রেলগেইট এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মালবাহী ট্রেনের একটি কন্টেইনার বগি লাইনচ্যুত হয়।

রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম জানান, কন্টেইনার বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা খায়রুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে।


র‌্যাব আইনের লিমিট ক্রস করে না: বিদায়ী ডিজি

র‌্যাব আইনের লিমিট ক্রস করে না: বিদায়ী ডিজি
বিদায়ী মতবিনিময় সভায় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। ছবি : দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) বিদায়ী মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, র‌্যাব প্রয়োজন হলেই কেবল শক্তি প্রয়োগ করে। না হলে করে না। যখন আক্রান্ত হয়, পাল্টা আঘাত তখনই করে। র‌্যাব আইনের লিমিট ক্রস করে না।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আগামী নির্বাচনে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, নির্বাচনকালীন নির্বাচন কমিশনের যে কাঠামো রয়েছে, সেই কাঠামোর ভেতর থেকেই পুলিশ তার যথাযথ দায়িত্বপালন করবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা এবং ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে কাজ করার যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে। তাদের নির্দেশনা মেনে পুলিশ চলবে। এ বিষয়ে বাহিনীর দীর্ঘ দিনের যে অনুশীলন তা মেনে চলব এবং সামনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করব।’

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জঙ্গি বিস্তার রোধে আমাদের জোরালো অভিযানের কারণে উল্লেখযোগ্য জঙ্গি সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে। আমার সময়ে কোন ধরনের জঙ্গি হামলা হয়নি।

র্যাবের মহাপরিচালক পদে থাকার সময় পাওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুলিশ প্রধান হিসেবে কাজ করার সময় কোনো চাপ থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

নিষেধাজ্ঞার পরে বন্দুকযুদ্ধ কমেছে—এমন প্রশ্নে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় র্যাব কখনও আইনের সীমা লঙ্ঘন করেনি।


শিশু ধর্ষণের মামলায় দুই যুবক গ্রেপ্তার

শিশু ধর্ষণের মামলায় দুই যুবক গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার দুই আসামি। ছবি : দৈনিক বাংলা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশিত

খাগড়াছড়িতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেফতাররা হলো খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা এলাকার  ধনিময় ত্রিপুরা ও একই উপজেলার তাইন্দং হেডম্যান পাড়ার সমুয়েল ত্রিপুরা। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা  হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় মেয়েটিকে একা পেয়ে নিজেদের বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে ধনিময় ত্রিপুরা ও সমুয়েল ত্রিপুরা।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতে পাঠানো হবে।