সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

৩০ মিনিটের পথ পেরোতে ৪ ঘণ্টা!

৩০ মিনিটের পথ পেরোতে ৪ ঘণ্টা!
গাজীপুরের টঙ্গী থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কের দশা এমন বেহাল। ছবি: দৈনিক বাংলা
ইফতেখার রায়হান, গাজীপুর
প্রকাশিত
  • বৃষ্টিতে স্থবির ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক

  • সড়কে শত শত গর্তে বেগ পেতে হচ্ছে যানবাহনকে

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও বিআরটি প্রকল্পের ধীরগতির কাজের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনভর সড়কের বিভিন্ন অংশে সেসব গর্তে যানবাহন উল্টে যানচলাচলে দেখা দেয় চরম ধীরগতি। এতে ভোগান্তিতে পড়েন এ পথে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।

সরজমিনে দেখা যায়, নগরীর বড়বাড়ি থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্ট যানজটের কারণে স্থবির হয়ে পুরো টঙ্গী এলাকা। ১০-১৫ মিনিটের পথ যেতে সময় লেগেছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। ৩০ মিনিটের পথ পেরোতে যানবাহনের সময় লেগেছে চার ঘণ্টা পর্যন্ত। যাত্রীদের অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হয়েও দুর্ভোগে পড়েছেন। মহাসড়কের পাশে ফুটপাত না থাকায় বাধ্য হয়ে কাঁদা-পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যান স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষরা।

স্থানীয়রা বলছেন, কচ্ছপগতির বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গত বেশ কয়েক বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রাজধানীর নিকটবর্তী শিল্পনগরী গাজীপুরের বাসিন্দাদের। মহাসড়কের টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন জায়গায় চলছে বিআরটির ফ্লাইওভারের পিলার, স্টেশন ও সড়ক ও ড্রেনের নির্মাণকাজ। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে গত দুইদিনের বৃষ্টিতে টঙ্গী ব্রিজ ও মিলগেট এলাকায় তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এসব খানাখন্দে প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে যানবাহন। মিলগেট এলাকায় বিআরটির পিয়ার ক্যাপ বসানোর জন্য গর্ত খুঁড়ে রাখা ও গর্তের চারপাশ টিন দিয়ে ঘিরে রাখায় চার লেনের সড়ক সংকুচিত হয়ে এক লেনে পরিণত হয়েছে। ফলে ওই অংশে ধীরগতিতে যানচলাচলে করছে। এ কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া উত্তরবঙ্গের ৩২টি জেলার অসংখ্য যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন মিলগেট এলাকায় গিয়ে যানজটে আটকা পড়ছে। এ কারণে যানজটের সারি দীর্ঘ হয়ে রাজধানীতেও এর প্রভাব পড়ছে।

সরজমিনে দেখা যায়, বুধবার দিনভর মহাসড়কের বড়বাড়ি থেকে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছিল তীব্র যানজট। টানা বৃষ্টিতে ওই অংশের সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত পানিতে ডুবে থাকায় উভয় লেনে যানচলাচল ব্যাহত হয়। বিকল্প সড়ক না থাকায় যানবহনের সারি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হয়। যানজটে আটকা পড়ে অনেকে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন। মহাসড়কের উভয়পাশের ফুটপাত না থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বাধ্য হয়ে পথচারীরা সড়কের মাঝখান দিয়ে চলাচল করেন। তবে কাঁদাপানিতে পায়ে হাঁটার পথেও ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আব্দুল মান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চান্দনা চৌরাস্তা থেকে সকাল ৮টায় রওনা হয়ে দুপুর ১২টায় আব্দুল্লাহপুর আসতে পেরেছি। অথচ এই পথটুকু যেতে মাত্র ৩০ মিনিট সময় লাগার কথা। কিছু পথ পায়ে হেঁটে, আর কিছু পথ গাড়িতে এসেছি। অফিস সময় তো পেরিয়ে গেছে। এখন চাকরিটা আছে নাকি চলে গেছে, তা নিয়েই দুঃশ্চিতায় আছি।

ধীরগতির বিআরটি প্রকল্পের সমালোচনা করে পথচারী মাজেদুল হক বলেন, উন্নয়নকাজে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ার কারণে সড়কের এই বেহাল অবস্থা। সড়কের উন্নয়নের পাশাপাশি বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল কর্তৃপক্ষের।

টঙ্গী ব্রিজের উত্তরপাশে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় সকাল থেকেই ধীরগতিতে যানবাহন প্রবেশ করে রাজধানীতে। সেখানে গর্তে উল্টে পড়ে বেশ কয়েকটি পণ্যবোঝাই রিকশা, ভ্যান ও সিএনজি। এর ফলে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন।

সড়কের এমন বেহাল দশা হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহনের চালসহ পথচারীদের: ছবি: দৈনিক বাংলা
সড়কের এমন বেহাল দশা হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহনের চালসহ পথচারীদের: ছবি: দৈনিক বাংলা

উত্তরা হাইস্কুলের শিক্ষার্থী লামিয়া বলেন, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় হেঁটে যেতে হয়েছে। কাঁদাপানি মাড়িয়ে যাওয়ায় নোংরা ইউনিফর্মেই ক্লাস করতে হয়েছে। এখন বাসায় ফেরার পথেও যানজট। বাধ্য হয়ে আবারও হেঁটে বাড়ি ফিরছি। প্রায় প্রতিদিনই যানজটের কবলে পড়ে স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়।

পরিবহন চালক খোরশেদ মিয়া বলেন, আগে ১২ কিলোমিটার মহাসড়কেই খানাখন্দ ও গর্ত ছিল। কিন্তু এখন টঙ্গীতে সড়কের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে এই ভোগান্তির অবসান কবে হবে তা কেউ বলতে পারেন?

ঢিলেঢালা উন্নয়ন কাজের কারণে গত কয়েকবছর ধরেই পরিবহন চালকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সড়কের বিভিন্নস্থানে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। প্রায়ই গর্তে গাড়ি আটকে যায়, অনেক সময় গর্তে চাকা পড়ে উল্টে যায় গাড়ি। এই দুর্ভোগের একটা সমাধান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য পরিবহন শ্রমিকদের।

এদিকে, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট খানাখন্দ ও গর্তে বালু-পুরনো রাস্তার ঢালাই ফেলে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে ট্রাফিক পুলিশ। তবে বিভিন্ন জায়গায় গর্তে যানবাহন ফেঁসে যাওয়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বেগ পোহাতে হয়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আলমগীর হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, টঙ্গী ব্রিজ থেকে মিলগেট পর্যন্ত অনেকগুলো গর্ত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে ছোট গর্তগুলো বড় হয়ে যাচ্ছে। ফলে ছোট পরিবহনগুলো গর্তে উল্টে পড়ে যাচ্ছে। আমাদের দুইটি রেকার গাড়ি সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তবুও গর্তে ফেঁসে যাওয়া গাড়ি সরাতে যে সময় লাগছে তাতেই যানজটের সারি দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে।

আলমগীর হোসেন আরও বলেন, রেশনিং উপায়ে যানজট নিরসনে জিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কাজ করছে। তবে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে আমাদের প্রচেষ্টা সেভাবে সুফল পাচ্ছে না। বিআরটি কর্তৃপক্ষকে খানাখন্দ মেরামতের জন্য বলা হয়েছে। তারা রাত ১২টার মধ্যে সব খানাখন্দ ভরাট করার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে, বুধবার দুপুরে চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়ে টঙ্গীর সড়ক পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন বিআরটি’র প্রকল্প পরিচালক (সেতু) মহিরুল ইসলাম খান। তবে পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।


সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু

সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে নিজ বাসার সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন তুষভান্ডার মহিলা কলেজের শিক্ষক পারুল বেগম। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) গুলফামুল ইসলাম মন্ডল কলেজ শিক্ষক পারুলের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, রোজা রাখতে রোববার ভোরে ঘুম থেকে উঠে সেহেরি রান্নার জন্য গ্যাসের চুলা চালু করতে যান পারুল। এ সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সে আগুনে দগ্ধ হন পারুল। ধোঁয়া ও পারুলের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে নিয়ে যান। বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মারা যান তিনি।

পারুল বানু উপজেলার তুষভান্ডার মহিলা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তার স্বামী একই কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক। তাদের দুজনের বাড়ি রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলায়। কলেজে শিক্ষকতার সুবাদে তারা উপজেলা সদরে ভাড়া থাকতেন। তাদের একটি সন্তান রয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) গুলফামুল ইসলাম মন্ডল বলেন, প্রভাষক পারুলের লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। মেডিকেল কলেজ থেকে আগুন লাগার বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। আমাদের কাছে যেসব তথ্য ছিল, আমরা জানিয়েছি।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম গোলাম রসুল বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। ওই শিক্ষকের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ রাজশাহীতে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’


ফুটবলার আঁখির জমি নিষ্কণ্টক, মামলা প্রত্যাহার

ফুটবলার আঁখির জমি নিষ্কণ্টক, মামলা প্রত্যাহার
আঁখিকে বরাদ্দ দেয়া জমি, ইনসেটে আঁখি খাতুন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনূর্ধ্ব-১৫ গোল্ডেন বুট জয়ী ও সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি জয়ী নারী ফুটবলার আঁখি খাতুনকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ৮ শতাংশ জমির ওপর করা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার বাদী হাজী মকরম প্রামানিক সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফুন নাহার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাদীপক্ষ মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। ফলে এ মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। বর্তমানে ফুটবলার আঁখিকে বরাদ্দ দেওয়া ওই জমিটি এখন সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ফুটবলার আঁখির জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ জমির একটি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ৪ জুন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার জমির দলিল হস্তান্তর করেন। সম্প্রতি হাজী মকরম প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি ওই জমির তাদের দখলে রয়েছে দাবি করে মামলা করেন। তবে মামলার তফসিলে তিনি খতিয়ান উল্লেখ বা জমিটির মালিকানা দাবি করেননি। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বাদী নিজেই মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করলে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

ফুটবলে অবদান ও পরিবারের দারিদ্র্য অবস্থা বিবেচনায় তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় আঁখিকে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জমির মালিকানা দাবি করে শাহজাদপুরের একজন ব্যবসায়ী মামলা করেন। আঁখির জমি নিয়ে সমস্যার কথা বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ নতুন জমি আঁখির নামে বরাদ্দ দেয়। গত ৪ জুন এই জমির দলিল আঁখির পরিবারের কাছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার জমির দলিল হস্তান্তর করেন। সম্প্রতি আঁখি খাতুনকে বরাদ্দ দেয়া সেই জমির দখল নিয়ে হাজী মকরম প্রামানিক আদালতে মামলা করেছিলেন।

গত বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলার নোটিশ নিয়ে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুনুর রশিদ ও কনস্টেবল আবু মুসা আঁখির গ্রামের বাড়িতে গেলে তার বাবার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আঁখির বাবাকে পুলিশ শাসায় এবং থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সমালোচনা হলে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেন। এ ঘটনার পাঁচদিন পর বাদী স্বেচ্ছায় মামলাটি প্রত্যাহার করে নিলেন।


মুক্তিপণ দিতে না পারায় খুন হলেন কৃষক

মুক্তিপণ দিতে না পারায় খুন হলেন কৃষক
মরদেহ। প্রতীকী ছবি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মুক্তিপণ দিতে না পারায় খুন হয়েছেন কৃষক ছাইদুর রহমান (৪০)। তিনি উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের বলতৈল গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের নদী থেকে ছাইদুর রহমানের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে। এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি অপহৃত হন।

ছাইদুরের পরিবারের বরাত দিয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনামুল হক জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর ছাইদুর সন্ধ্যার আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। ২৫ সেপ্টেম্বর ছাইদুরের পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তার মুক্তির জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। একাধিকবার এই টাকার দাবিতে মোবাইল করে অপহরণকারীরা। কিন্তু ছাইদুরের পরিবারের পক্ষে এই টাকা দেয়া সম্ভব না বলে জানানো হয়।

এনামুল হক বলেন, ‘আজ (সোমবার) সকালে স্থানীয় লোকজন গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের নদীতে ছাইদুরের ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় খবর দেয়। পুলিশ নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করেছে। ছাইদুরের মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে।’

ছাইদুরের স্ত্রী বুলবুলি খাতুন বলেন, ‘গত শনিবার সন্ধায় আমার স্বামী এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়। রাত ১০টাতেও তার কোনো খোঁজখবর পাইনি। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আত্মীয়ের বাড়িতে ফোন দিলে তারা জানায়, ছাইদুর দাওয়াত খেতে যায়নি।’

বুলবুলি বলেন, ‘রোববার দুপুরে একটা ফোন আসে আমার স্বামীর মোবাইল নম্বর থেকে। বলে, স্বামীকে ফিরে পেতে হলে আমাদের টাকা দিতে হবে। এরপর টাকা গোছানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু টাকা গোছাতে পারিনি। আমার স্বামীকে ওরা মেরে নদীতে ফেলে দিয়েছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খুনিদের শনাক্ত এবং তাদের ধরার চেষ্টা শুরু করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’


রংপুর মেডিকেলের অব্যবস্থাপনা বন্ধে রাজপথে চিকিৎসকরা

রংপুর মেডিকেলের অব্যবস্থাপনা বন্ধে রাজপথে চিকিৎসকরা
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন। ছবি: দৈনিক বাংলা
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন চিকিৎসকরা। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে প্রতিবাদস্বরূপ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মানববন্ধন করেন তারা।

‘রংপুরের সম্মিলিত চিকিৎসক সমাজ’-এর ব্যানারে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীর।

মানববন্ধনে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বিমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘এত অনিয়ম হচ্ছে যে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ কারণে আমরা রাস্তায় নেমেছি, প্রতিবাদ করছি। আমরা চাই এই হাসপাতালের সব অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধ হোক। এরপরও যদি দাবি আদায় না হয় তাহলে আমরা পরামর্শ করে কঠোর আন্দোলনে যাব।’

বিএমএ নেতা মামুনুর রশীদ বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত অনিয়ম চলে। পদে পদে টাকা দিতে হয়। আমরা এতদিন নীরব ছিলাম। এখানে চিকিৎসকের মাকে নিয়ে এলেও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।’

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায় তখন সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। যে-ই দুর্নীতি করুক তার কোনো দল নেই, সমাজ নেই, তার পরিচয় সে দুর্নীতিবাজ। আমি রংপুরের সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’

রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক নুরুন্নবী লাইজু বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা একটি অসাধু সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এখানে কেউ মৃত্যুবরণ করলেও ওই চক্রকে টাকা দিতে হয়, তা না হলে হয়রানির শিকার হতে হয়।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অসাধু চক্রকে বিতাড়িত, এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে চিকিৎসা ও শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি জানান বক্তারা।

এ সময় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ মাহফুজার রহমান, বিএমএ-এর সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন, জামাল উদ্দিন প্রমুখ।


সাফজয়ী নীলাকে বরণ করতে উন্মুখ কুষ্টিয়া

সাফজয়ী নীলাকে বরণ করতে উন্মুখ কুষ্টিয়া
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাফজয়ী নীলা। ফাইল ছবি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সাফ ফুটবল শিরোপাজয়ী নারী দলের খেলোয়াড় কুষ্টিয়ার মেয়ে নিলুফা ইয়াসমিন নীলাকে সংবর্ধনা দেবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা। নীলা যে দিন কুষ্টিয়া পৌঁছবেন, সে দিনই তাকে নিয়ে খোলা গাড়িতে করে সারা শহর ঘোরানো হবে। ওই দিনই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে শিল্পকলা একাডেমিতে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে রোববার দুপুরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে এক সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ সাইদুল ইসলাম এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। জানা গেছে, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা কুষ্টিয়া পৌঁছলে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেবেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যরা। এরপর খোলা গাড়িতে করে ব্যান্ড বাজিয়ে কুষ্টিয়া শহরের প্রদক্ষিণ করানো হবে। সঙ্গে থাকবে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পোশাকি দল ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা। শহর প্রদক্ষিণ শেষে কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে সংবর্ধনা দেয়া হবে নীলাকে।

জেলা প্রশাসক জানান, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের জন্যও সংবর্ধনা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পক্ষ থেকে নিলুফা ইয়াসমিন নীলাকে কেউ উপহার দিতে চাইলে সেই সুযোগও রাখা হয়েছে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য সাব্বির মোহাম্মদ কাদেরী সবুর বলেন, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা যেদিন কুষ্টিয়ায় আসবেন, তাকে সে দিনই একই আয়োজনে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

এর আগে গত শুক্রবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ সাইদুল ইসলাম কুষ্টিয়া শহরের নীলার বাড়িতে গিয়ে নীলার মাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি নীলাকে সংবর্ধনা ও এক লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন। পরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যরা নীলার বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এর আগে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র শাহিন উদ্দিন নিজ উদ্যোগে ও ব্যক্তিগত খরচে নিলুফা ইয়াসমিন নীলার কুষ্টিয়া জুগিয়া পালপাড়া সবজি ফার্ম এলাকার বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা পরিষ্কার করান এবং বাড়ির উঠানে বালু দিয়ে ভরাট করে দেন। তিনিও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আলাদা সংবর্ধনার আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন।

নিলুফা ইয়াসমিন নীলা কুষ্টিয়া পৌর এলাকার জুগিয়া পালপাড়া এলাকার বাছিরন শাম্মী আক্তারের মেয়ে। ছোটবেলায় তার বাবার কাছ থেকে মা আলাদা হয়ে যান। পরবর্তী সময়ে তার মা বাছিরন আক্তার শাম্মী অনেক সংগ্রাম ও কষ্ট করে নীলা ও তার ছোট বোন সুরভী আক্তারকে বড় করেছেন। মেয়র এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছেন নীলার মাসহ পরিবারের সবাই।

মা বাছিরন আক্তার শাম্মী বলেন, ‘মেয়ে এত বড় সাফল্য নিয়ে আসবে, আমরা কেউ ভাবিনি। আমরা খুব খুশি। মেয়েকে নিয়ে গর্বিত।’ তিনি জানান, নিলুফা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর আন্তবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন তিনি। ওই খেলা শেষ করে তিনি কুষ্টিয়া ফিরবেন।