রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে নিজেই উদ্ধার করলেন মোবাইল ফোন

পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে নিজেই উদ্ধার করলেন মোবাইল ফোন
চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার। ফাইল ছবি
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত

গুলশানের অফিস শেষ করে সন্ধ্যায় বাড্ডার বাসায় ফিরছিলেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ইত্তেহাদুল ইসলাম। বাড্ডায় গিয়ে বাস থেকে নামার আগ মুহূর্তে পকেট থেকে মোবাইলটি নিয়ে যায় এক পকেটমার। আইফোন ১৩ সিরিজের মূল্যবান ফোনটি হারিয়ে দৌড়ে যান থানা পুলিশের কাছে। করেন জিডি। কিন্তু থানা পুলিশের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পেয়ে নিজেই হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার অভিযানে নামেন তিনি। সঙ্গী ছিল তার স্ত্রী। সারা দিনের শ্বাসরুদ্ধকর এক যাত্রা শেষে রাতের বেলা ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা থেকে ফোনটি ফেরত নিয়ে আসেন তিনি। তবে চোরকে ধরতে পারেননি।

এক দিনেই হাতবদল হওয়া এক মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানদারের কাছ থেকে মোবাইলটি ফেরত পান তিনি। মামলা-মোকাদ্দমা করবেন না এই শর্তে দোকানদার তাকে মোবাইলটি ফেরত দেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, মোবাইল চুরি বা ছিনতাই হলে সেটি উদ্ধারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অতটা গুরুত্ব দেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও বলছেন, একটি মোবাইল উদ্ধার করতে যে কার্যক্রম চালাতে হয়, তা একটি খুনের মামলার আসামি ধরার মতো একই পরিশ্রমের কাজ। বড় বড় মামলার তদন্তে ব্যস্ত থাকার কারণে তারা চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইলে ততটা মনোযোগ দিতে পারেন না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ কে এম হাফিজ আক্তার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মোবাইল চুরি-ছিনতাই বেড়েছে এটা সত্যি। আমরা এ বিষয়ে বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ডিএমপির ৫০ থানা পুলিশসহ গোয়েন্দারা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করবে। আজকেও (বুধবার) কমিশনার কার্যালয়ে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে।’

ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘মোবাইল চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে সাধারণত মাদকাসক্তরা জড়িত। তারা সড়কে চলতি যাত্রীদের টার্গেট করে। এ ছাড়া মোটরসাইকেলযোগেও টানা পার্টির সদস্যরা মোবাইল ছিনতাই করছে। আমরা এটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।’

মোবাইল উদ্ধার করা ইত্তেহাদুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, মোবাইল চুরি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে মাথায় আসে আইফোন সিরিজের মোবাইলে ফাইন্ড মাই ডিভাইস নামে একটি অপশন রয়েছে। তিনি একটি দোকান থেকে স্ত্রী ফারাহ দিবা চৌধুরীকে ফোন করেন। বলেন, দ্রুত যেন বাসায় থাকা আইপ্যাড দিয়ে তার ফোনটি লক করে দেয়। এরপর বাসায় গিয়ে ফাইন্ড মাই ডিভাইস চালু করে দেখেন ফোনটি তখনো বাড্ডা এলাকাতেই আছে। তিনি দৌড়ে যান বাড্ডা থানায়। একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর বাড্ডা এলাকাতেই থাকা ফোনটি উদ্ধারের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেন। ফাইন্ড মাই ডিভাইসের মাধ্যমে দেখতে পান ফোনটি নিয়ে পকেটমার বাড্ডা ইউলুপের কাছে চলে গেছে। কিন্তু দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক মোবাইল উদ্ধার অভিযানে অপারগতা জানান।

ইত্তেহাদুল বলেন, ‘আমি একরাশ হতাশা নিয়ে বাসায় চলে আসি। সারা রাত ফোনটির লোকেশন দেখতে থাকি। রাতে ফোনটি ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারে গিয়ে থেমে যায়। পরদিন সকালে আমার স্ত্রী বিষয়টি জরুরি সেবা-৯৯৯-এ ফোন করে সহযোগিতা চান। ৯৯৯ ডেমরা থানায় সংযোগ করে দিলে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাড্ডা থানার রেফারেন্স লাগবে। সকালে তিনি বাড্ডা থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে তারা ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের বিটের দায়িত্বে থাকা এক উপপরিদর্শকের নম্বর দেন। এরই মধ্যে তারা চলে যান ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায়। সেখানে গিয়ে ডেমরা থানার সেই উপপরিদর্শককে জানালে তিনি দেখা করেন। তাকে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ফোনটি ওখানকার একটি ভবনে রয়েছে জানালে তিনিও উদ্ধার অভিযান চালাতে অস্বীকৃতি জানান।

ইত্তেহাদুল বলেন, ডেমরা থানার ওই পুলিশ কর্মকর্তা চলে গেলে অসহায় হয়ে পড়েন তারা। এ সময় স্ত্রী ফারাহ দিবা তাকে সাহস দিয়ে নিজেরাই খুঁজে বের করার জন্য উদ্যোগ নেন। ফাইন্ড মাই ডিভাইসে লোকেশন দেখে তারা প্রাথমিকভাবে পাশাপাশি তিনটি ভবনের মধ্যে একটি শনাক্ত করেন। এরপর মসজিদ থেকে নামাজ শেষে ফেরা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বিকে খুলে বলেন পুরো কাহিনি। তাদের সহযোগিতায় একটি ভবনের দোতালায় উঠতেই ফাইন্ড মাই ডিভাইস অপশন থেকে সিগন্যাল দেয়। এরপর স্থানীয় মুরব্বিদের মধ্যস্থতায় ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দাকে ফোন করেন তারা। ফ্ল্যাটের ওই বাসিন্দার একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান রয়েছে। শুরুতেই তিনি ফোনটি গত রাতেই কেনার কথা জানান। মামলা না করার শর্তে ফোনটি ফেরত দিয়ে যান তিনি।

ইত্তেহাদুল বলেন, ‘আমরা দুজন ঝুঁকি নিয়ে ফোনটি উদ্ধার অভিযানে নামি। পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করলে আরও সহজেই কাজটি হয়ে যেত। ফোনটি অনেক দামি ছিল। এ ছাড়া এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডকুমেন্টও ছিল। এ জন্যই ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেমেছিলাম।’

সংশ্লিস্টরা জানান, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে এখন হরহামেশাই মোবাইল ফোন চুরি ও ছিনতাই হচ্ছে। গত ৩১ আগস্ট বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সামনের সড়কে গাড়িতে থাকা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদেরের ফোনটি ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। মাস কয়েক আগে বিজয় সরণি এলাকা থেকে পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নানের ফোনও ছোঁ মেরে নিয়ে গিয়েছিল এক ছিনতাইকারী।

ভুক্তভোগীরা জানান, নামিদামি বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন ছিনতাই বা চুরি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তা উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠেন। সাধারণ মানুষের মোবাইল চুরি বা ছিনতাই হলে উদ্ধার তো দূরের কথা, পুলিশ অনেক সময় মামলাও নিতে চায় না। হারিয়েছে উল্লেখ করে থানায় জিডি করতে হয়।

গত ২১ জুলাই কারওয়ান বাজারে বাস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মোবাইল ছিনিয়ে নিলে তিনি দৌড়ে এক ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলেন। কিন্তু মোবাইলটি হাতবদল হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তা উদ্ধার করতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে গত ৩ আগস্ট সেই দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মোবাইলটি উদ্ধার করে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী ঢাকার যেসব সড়কে যানজট থাকে সেসব এলাকায় মোবাইল ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা ওঁৎ পেতে থাকে। যানবাহনে চলন্ত অবস্থায় জানালা খুলে কেউ মোবাইলে কথা বলতে দেখলেই ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। এ ছাড়া মোটরসাইকেলযোগে টানা পার্টির সদস্যরা রিকশা আরোহীদের ব্যাগ বা মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এই চক্রটি ভোরের দিকে তৎপর থাকে বেশি। ব্যাগ টান দেয়ায় রিকশা থেকে পড়ে একাধিক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

পুরোনো মোবাইল ব্যবসায়ীদের তালিকার নির্দেশ

মোবাইল চুরি ও ছিনতাই বেড়ে যাওয়া পুরোনো মোবাইল বেচাকেনা করে এমন দোকান বা ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। আগস্ট মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি ছিনতাই হওয়া মোবাইল কেনাবেচা বন্ধের জন্য থানাভিত্তিক পুরোনো মোবাইল বেচাকেনা হয়- এমন দোকানের তালিকা করতে বলেন। ১৫ দিনের মধ্যে এই তালিকা কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশনাও দেন তিনি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, পুরোনো মোবাইল বিক্রেতাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে দোকানদার যেন মোবাইল কেনে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে পুরোনো মোবাইল বিক্রেতার নাম-ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংরক্ষণ করতে হবে। তা না হলে যাদের কাছে চোরাই মোবাইল পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


মরিয়মের সাথে দেখা করার পর মুখ খুললেন রহিমা

মরিয়মের সাথে দেখা করার পর মুখ খুললেন রহিমা
মা রহিমা বেগম (বাঁয়ে), মায়ের সন্ধান চেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্নার ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
  • একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সাথে ওষুধ, পোষাক থাকতে পারে না : পিবিআই

  • প্রতিবেশিরা আমাকে অপহরণ করে ব্লাংক স্ট্যাম্পে সাক্ষর নিয়েছে : রহিমা বেগম

খুলনা মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগম উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই অনেকটা নিশ্চুপ ছিলেন। প্রথমবার মরিয়মের সাথে দেখা করতে না চাইলেও পবর্তীতে মরিয়ম তাকে জড়িয়ে ধরলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে পুলিশের কাছে তুলেন অপহরণের অভিযোগ।

শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে পৌনে ১১ টায় খুলনার উদ্দেশ্য রওনা হয় পুলিশ। রাত ২ টা ১০ মিনিটে তাকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে রাখা হয় সোনাডাঙায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে।

দৌলতপুর থানার উপ পরিদর্শক দোলা দে বলেন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকা অবস্থায় তার মেয়েরা দেখা করতে এসেছিল। তবে তিনি কোন ভাবেই রাজি হচ্ছিলেন না। পরে আমার অনুরোধে জানালার কাছে এসেছিলেন। মরিয়ম মা বলে ডাক দিলে তিনি ভেতরে চলে যান। পরে তাকে আমরা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) খুলনা জেলা কার্যালয়ে হস্তান্তর করি।

পিবিআই কার্যালয়েও তাকে নানা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রথমদিকে তিনি একেবারে নিশ্চুপ ছিলেন।

খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, আমরা নানাভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম। তবে কোন ভাবেই তিনি মুখ খুলতে চাননি।

তবে দুপুরের পরে তার মেয়ে মরিয়মসহ অন্যরা পিবিআই কার্যালয়ে এসে মা রহিমা বেগমকে জড়িয়ে ধরেন। তখন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রহিমা বেগম।

সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, মেয়েদের সাথে দেখা হওয়ার পরে রহিমা বেগম মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন প্রতিবেশি কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনসহ তিন জন তাকে অপহরণ করেছিল। তাকে কোথাও আটকে রেখে ব্লাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন তারা। পরে তারা এক হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘রহিমা বেগমের দাবি, তিনি কিছুই চিনতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে গোপালগঞ্জের মুকছেদপুর হয়ে পূর্ব পরিচিত ভাড়াটিয়ার ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে যান। কিন্তু তার কাছে কোনো মোবাইল নম্বর না থাকায় কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রহিমা বেগমের বক্তব্য খতিয়ে দেখছি। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী সবকিছু করা হবে।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, রহিমা বেগমকে উদ্ধারের সময়ে তার কাছ থেকে একটি সাদা ব্যাগ পাওয়া গেছে। তাতে ওষুধ ছিল, পোষাকসহ অন্যান্যা মালামাল ছিল। একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সাথে এগুলি থাকতে পারে না। তাই এটা অপহরণ নাও হতে পারে।



পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি
প্রতীকী ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকা ডুবে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন।

জেলা ফায়ার সার্ভিস থেকে নৌকাডুবির কথা বলা হলেও হতাহতের সঠিক তথ্য এখনও দিতে পারেননি।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় দৈনিক বাংলাকে ১৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


ঘুষ নেয়ায় নাজির বরখাস্ত

ঘুষ নেয়ায় নাজির বরখাস্ত
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।

একই সঙ্গে ঘটনা‌ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আজ রোববার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে চি‌ঠি পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এক‌টি ভাইরাল ভিডিওর বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দিনের ঘুষের বিনিময়ে কাজের সংবাদ তথ্য জানা যায়। বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে।

ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন সেবাগ্রহীতা সদ্য অনুমোদিত নামজারী (খারিজ) করতে এলে রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দীন সেবাগ্রহীতাকে বলেন, ‘নামজারিতে একটি নাম ভুল হয়েছে, সেটি সংশোধন করতে হবে এবং সব মিলে ১ হাজার টাকা লাগবে, এর কম হবে না। কারণ সংশোধন করতে হলে এটি উপরে পাঠাতে হবে, সেখানে টাকা চাবে।’

এমতাবস্থায় সেবা গ্রহীতা ৭০০ টাকা দেন এবং বাকি টাকা কাজ হলে দেবেন বলে জানান। কিন্তু এই কাজের জন্য কোনো ফি নির্ধারণ করা নেই।


পিবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন খারিজ

পিবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন খারিজ
বাবুল আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বাবুলের কারাকক্ষে তল্লাশি ও নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনটিও খারিজ করে দেয়া হয়।

আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালত আবেদন দুটি খারিজ করে দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাবুল আক্তার একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। এর মধ্যে তিনি অনেকবার আদালতে এসেছেন। কিন্তু একবারও নির্যাতনের বিষয়ে আদালতে কোনো অভিযোগ করেননি। কিন্তু এখন অভিযোগ করে মামলার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। সবকিছু বিবেচনায় আদালত তার আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। তিনি বলেন, আদালত আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে চট্টগ্রামের আদালতে মামলার আবেদন করেন বাবুল আক্তার। এরপর আদালত শুনানি শেষে আদেশের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন।

আবেদনে বনজ কুমার মজুমদার ছাড়া যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন— পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

সে সময় মামলার শুনানিতে বাবুলের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, পিবিআই বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে মিতু হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতন করেছে। এই ঘটনায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ (১) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ৫ (২) ধারায় মামলার আবেদন করা হয়েছে। বাবুল আক্তার নিজেই আবেদনটি করেছেন।

এ ছাড়া, ১২ সেপ্টেম্বর বাবুল আক্তারের কারাকক্ষে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন তল্লাশি চালিয়েছেন অভিযোগ তুলে তদন্তের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে এই আবেদনটিও ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছিলেন। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর এই দুই আবেদনের আদেশের সময় পিছিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন আদালত।

১২ সেপ্টেম্বর আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ দাবি করেন— পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের পর আসামিরা মারমুখি আচরণ করছেন। তাদের নির্দেশে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জেল কোডের তোয়াক্কা না করে কারাগারে বাবুলের কক্ষে প্রবেশ করেন।

তিনি (ওসি) দীর্ঘ সময় ওই কক্ষে তল্লাশির নামে বাদীর জীবনের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। তবে তল্লাশির বিষয়টি ওসি এবং জেল সুপার আনোয়ারুল করিম অস্বীকার করেন। 

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় জঙ্গিরা জড়িত দাবি করে বাবুল আক্তার মামলা করেন পাঁচলাইশ থানায়। তদন্ত শেষে পিবিআই গত বছরের ১২ মে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

হত্যায় বাবুল জড়িত বলে সন্দেহ হলে একই দিন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন আরেকটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ এ মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখায়।

বাবুলের করা মামলায় পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৪ অক্টোবর আদালতে নারাজি দেন বাবুলের আইনজীবী। আদালত ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে আদালত বাবুলকে নিজের করা মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

এর মধ্যে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পিবিআই মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এতে ওই মামলায় গ্রেপ্তার বাবুলসহ অন্যদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। মামলাটিতে পাওয়া সব তথ্য-উপাত্ত বাবুল আক্তারের করা মামলায় একীভূত করতেও আবেদন জানানো হয়।

পিবিআইয়ের অধিকতর তদন্তে বাবুল আক্তারের করা মামলায় তাকেই আসামি করা হয়। 


জি কে শামীমের যাবজ্জীবন

জি কে শামীমের যাবজ্জীবন
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমসহ আটজনকে অস্ত্র আইনের এক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রাজধানীর গুলশান থানায় করা মামলাটিতে একই সঙ্গে সব আসামির লাইসেন্স করা অস্ত্র রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় জি কে শামীমকে। দণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. মুরাদ হোসেন। এরা জি কে শামীমের দেহরক্ষী।

২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেখান থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৯ হাজার আমেরিকান ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

এরপর জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে, মানি লন্ডারিং এবং মাদক মোট তিনটি মামলা করে।

অস্ত্র মামলায় র‌্যাব ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি একই আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে বিচার শুরু করে।