সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

৯০ বছর বয়সী সবাই পাবেন বিশেষ ভাতা

৯০ বছর বয়সী সবাই পাবেন বিশেষ ভাতা
সব প্রবীনই পাবেন বিশেষ ভাতা। ছবি: সংগৃহীত
শহীদুল ইসলাম
প্রকাশিত
  • ২০২৫ সালের মধ্যে ৯০ বছরের বেশি সব প্রবীণই পাবেন বিশেষ ভাতা

  • আগামী অর্থবছর থেকে বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বাড়বে

শহীদুল ইসলাম

৯০ বছরের বেশি বয়সী সব মানুষকে বিশেষ ভাতা দেবে সরকার। প্রথমে ২ লাখ ৫ হাজার প্রবীণকে এই ভাতার আওতায় আনা হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে ৯০ বছরের বেশি বয়সী সব মানুষকে দেয়া হবে বিশেষ বয়স্ক ভাতা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধি ঠিক করেছে দিয়েছে। সেখানে বয়স্ক ভাতাসংক্রান্ত বিষয়গুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, সেই পথরেখাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এখন ৫৭ লাখ মানুষকে মাসে ৫০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ২ লাখ ৫ হাজার জনের বয়স ৯০ বছরের বেশি। ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ ৫ হাজার প্রবীণকে বিশেষ বয়স্ক ভাতা হিসেবে মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। আর ২০২৫ সালের মধ্যে ৯০ বছরের বেশি বয়সী দেশের সব মানুষকে বিশেষ বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ গতকাল বুধবার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ৯০ বছরের বেশি বয়সী সব প্রবীণকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশেষ বয়স্ক ভাতা দেয়া হবে। এজন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।

নীতিমালা প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ৯০ বছর বয়স হওয়ার পর দেশের সব নাগরিকই বিশেষ বয়স্ক ভাতার আওতায় আসবেন। তবে কেউ এই ভাতা নিতে না চাইলে তাকে এর আওতাভুক্ত করা হবে না। নীতিমালার আওতায় বিশেষ বয়স্ক ভাতা বিতরণে কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে। যারা এই ভাতা নিতে চান সেই কর্মসূচিতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এখন যারা বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন তাদের মধ্যে থেকে ৯০ বছর বয়সীদের আলাদা করার পর তারা শুধু বিশেষ বয়স্ক ভাতা পাবেন।

এখন দেশের ২৫০ উপজেলায় শতভাগ মানুষকে মাসে ৫০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মপরিধি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মধ্যে দেশের সব উপজেলার শতভাগ মানুষকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এখন যারা বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন আগামী অর্থবছর থেকে তাদের ভাতার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। কত টাকা করে ভাতা বাড়ানো হবে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।

প্রবীণদের অবস্থার উন্নয়নে ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর থেকে সরকার বয়স্ক ভাতা দেয়া শুরু করে। প্রথমে মাসে ১০০ টাকা করে এই ভাতা দেয়া হলেও ১০ ধাপে তা বাড়িয়ে এখন ৫০০ টাকা করা হয়েছে।


করতোয়ায় নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩০

করতোয়ায় নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩০
নৌকাডুবির ঘটনায় করতোয়ার তীরে উৎসুক মানুষের ভিড়। ছবি : দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এক শিশুসহ আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩০ জনে।

সোমবার সকালে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আত্রাই নদীর জিয়া সেতুর নিচ থেকে একজনের, বীরগঞ্জ অংশে কাশিমনগর বাদলারঘাটে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগে রাতে বোদায় একজন ও দেবীগঞ্জে দুইজনের মরদহ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিক উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

দৈনিক বাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায়, খানসামা থানার ওসি চিত্তরঞ্জন, বীরগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার ও দেবীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার সোহেল রানা।

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে গতকাল রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। যার বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা শেষে ফিরছিলেন।

এ ঘটনায় রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়। সবগুলো মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সৎকারের জন্য পরিবারগুলোকে ২০ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে।

এ প্রাণহানির জন্য অতিরিক্ত যাত্রী বহনকে দায়ী করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

তিনি বলেন, ‘নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ঘটনাস্থলে মারওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পুলিশ ছিল। তারা সবাই ওই নৌকায় এত লোক উঠতে নিষেধ করেছিলেন।’


আবাদ থেকে বিক্রি সবই করেন সেরিনা

আবাদ থেকে বিক্রি সবই করেন সেরিনা
পাটের জমিতে বীজ লাগানো থেকে শুরু করে আবাদ ও বিক্রি সব কিছুই করেন চাষি সেরিনা বেগম। ছবি: দৈনিক বাংলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

আব্দুর রব নাহিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মর্দনা-বিরামপুর। সকালে গ্রামের রাস্তায় নারীরা ব্যস্ত পাটের আঁশ ছড়ানোর কাজে। তাদের সঙ্গেই কাজ করছিলেন এক নারী। তাকেই আবার দেখা গেল ছড়ানো পাটের আঁশ বিলের পানিতে ধুয়ে একসঙ্গে করে রাখতে। বলা যায়, একহাতেই যেন সব কাজ সামলাচ্ছেন তিনি।

কাছে গিয়ে নাম জিজ্ঞাসা করতে জানালেন, তিনি সেরিনা বেগম। অন্য সব নারীরা যেখানে অন্যের জমির পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছিলেন, সেরিনা সেখানে নিজের জমির পাটের আঁশই ছাড়াচ্ছিলেন নিজ হাতে। তিনি আরও জানালেন, পাটের জমিতে বীজ দেয়া থেকে শুরু করে আবাদ, আঁশ ছাড়ানো সবই তিনি নিজ হাতেই করেন। নিজেই পাট বিক্রি করতে চলে যান হাটে।

সেরিনা বেগমের সঙ্গে কথা হয় বেশ কিছুক্ষণ। জানালেন, একবিঘা জমি আধি ভাগে (ফসলের অর্ধেক জমির মালিকের) নিয়ে এবার পাটের আবাদ করেছেন। জমি চাষ দেয়া, বীজ বোনাসহ বিভিন্ন কাজ নিজেই করেছেন, কিছু শ্রমিকও নিয়েছিলেন সহায়তার জন্য। সার-বীজ কেনাসহ সব মিলিয়ে তার এক বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে সাত হাজার টাকার মতো। সেরিনা আশাবাদী, জমিতে এবার ১২ মণ পাট হবে। তাতে কিছু লাভ থাকবে তার।

সেরিনা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি নিজেই পাটচাষ করেছি প্যাট-মানুষ (শ্রমিক) লিয়্যা। খরচ হয়্যাছে সাত-সাড়ে সাত হাজার। আর নিজে খ্যাটাছি। এখন আশা করছি ১০-১২ মণ পাট যদি হয়, আর যদি ২৫০০ টাকা দাম প্যায়, তাইলে কিছু লাভ হবে।’ আধি ভাগের চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদিত পাটের অর্ধেক পাবেন জমির মালিক, বাকি অর্ধেকটা তার।

নিজেই কেন পাটচাষ করতে গেলেন- এমন প্রশ্নে সেরিনা জানান, ‘পাটে লাভ ভালো। তাই জমি বর্গা নিয়ে পাটচাষ করেছেন। এখন উৎপাদিত পাট বিক্রি করলে যা লাভ হবে, তা দিয়েই চলতে চান। সেরিনার কথায়, ‘বসে থাকলে তো কেউ খ্যাতে (খেতে) দিবে না। কর্মকরায় খ্যাতে হবে (কাজ করে খেতে হবে)। তাই জমি বর্গা লিয়্যাই কৃষিকাজ করছি।’

পাশেই ছিলেন সেরিনার মা বিবিজান বেগম। তিনি জানালেন, ‘সেরিনার স্বামী কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। এরপর থেকে সংসারের বোঝা পুরোটাই সেরিনার ওপর। তার চার মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে থাকেন সেরিনা।’

স্থানীয়রা বলছেন, ‘কৃষিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও বেশিরভাগ নারীই কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে থাকেন। সে ক্ষেত্রে সেরিনা বেগম একটু ব্যতিক্রম। তিনি নিজেই জমি বর্গা নিয়ে পাটের আবাদ করেছেন। চাষাবাদ থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রির সব ধাপই তিনি নিজে যুক্ত থেকে সম্পন্ন করেন। তার দেখাদেখি অন্য নারীরা এভাবে চাষাবাদে সরাসরি সম্পৃক্ত হলে আর্থসামাজিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন তারা।


পথ হারিয়ে ফেলা রেশম স্বপ্ন দেখাচ্ছে আবার

পথ হারিয়ে ফেলা রেশম স্বপ্ন দেখাচ্ছে আবার
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত
  • সম্প্রতি রেশমের ৩৫টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহী। এর মধ্যে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) গাছ ও ২০টি রেশম কীট।

এনায়েত করিম, রাজশাহী ব্যুরো

প্রাচীনকাল থেকেই রেশমের জন্য সুপরিচিত রাজশাহী। সেই সুখ্যাতি থেকেই রাজশাহীর প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে ‘সিল্কসিটি’। তবে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেছিল রেশমশিল্প। বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের হাত ধরে সেই রেশম আবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে সুদিন ফেরানোর। রেশম নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি রেশমের ৩৫টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) গাছ ও ২০টি রেশম কীট। নতুন এসব জাত রেশমশিল্পে সাড়া ফেলবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, আগের জাতের চেয়ে নতুন জাতে অন্তত ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি উৎপাদন আসবে। এতে চাষিদেরও সাশ্রয় হবে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর তথ্য অনুযায়ী, রেশমশিল্পের উন্নয়নে পাঁচ বছর আগে ‘রেশম প্রযুক্তি উন্নয়ন বিস্তার ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেশম বোর্ড। চলতি বছরের জুনে শেষ হয়েছে প্রকল্পটি। ৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে রেশমে যুক্ত হয়েছে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) জাতের গাছ ও ২০টি নতুন জাতের কীট। ফলে বর্তমানে মালবেরি জাতের গাছের সংখ্যা ৩৮টি ও রেশম কীটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ ও রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমানের যৌথ গবেষণায় নতুন এসব জাত উদ্ভাবন হয়। নতুন ৩৫টি জাত (১৫টি তুঁত ও ২০টি কীট) উদ্ভাবনের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীতে জার্মপ্লাজম ব্যাংকে তুঁত জাতের গাছের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮৪ ও রেশম কীট জাতের সংখ্যা ৮৫ থেকে ১১৪টিতে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি উচ্চফলনশীল রেশম কীটের জাত রয়েছে।

নতুন ২০টি রেশম কীট উদ্ভাবনের ফলে প্রতি ১০০টি রোগমুক্ত ডিমে ৭০ থেকে ৭৫ কেজি রেশমগুটি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। আগে এর পরিমাণ ছিল ৬০ থেকে ৬৫ কেজি। এ ছাড়া উচ্চফলনশীল ১৫টি তুঁতজাত উদ্ভাবনের ফলে বছরে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে প্রতি হেক্টরে রেশমের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৩০ থেকে ৩৭ মেট্রিক টন। ফলে স্বল্প সময়ে ও অল্প ব্যয়ে মানসম্পন্ন কাঁচা রেশম সুতা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘একটি নতুন জাত তৈরি করতে অন্তত ১০ বছর সময় লেগে যায়। এই গবেষণার কাজ আগেই কিছুটা এগিয়ে রাখায় পাঁচ বছরের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জার্মপ্লাজম থেকে গবেষণার মাধ্যমে নতুন এই ১৫টি জাতের মালবেরি (তুঁত) জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিএসআরএম-৬৪, বিএসআরএম-৬৫ ও বিএসআরএম ৭৪ জাতের ট্রায়াল শেষ হয়েছে। এগুলো রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে চাষিদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হবে। বাকি জাতগুলো ট্রায়ালের জন্য রাখা হয়েছে।’

এই গবেষক আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্বিতীয় পর্যায়ে এগুলোর ট্রায়াল শেষ করা হবে। এগুলো থেকে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হবে। তবে ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোর নামসহ বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’

ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবিত ২০টি নতুন রেশম কীটের জাতের সবগুলোই এখন ট্রায়াল পর্যায়ে আছে। এগুলো চাহিদা অনুযায়ী রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্রস হাইব্রিড জাত উৎপাদন করে সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর পরিচালক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান ফসল হিসেবে চাষিদের তুঁত চাষ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখন বাড়ির আনাচকানাচে, রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত জায়গায় বেশির ভাগ তুঁত চাষ হয়। রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকেও তুঁত চাষকে জনপ্রিয় করতে সাথি ফসল প্রবর্তন করা হয়েছে। চাষিরা এভাবে চাষাবাদ করলে লাভবান হবেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন এসব জাত উদ্ভাবনের পর সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন এলাকার কৃষক নিয়ে এখানে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এখন এগুলো ট্রায়ালে আছে। কিছু কিছু জাত রেশম সম্প্রসারণকে দেয়া হয়েছে। আর কিছু জাতের কাজ এখনো চলছে। সামান্য কিছু উন্নয়ন করতে হবে। এগুলো শেষ হলেই এই ৩৫টি নতুন জাত রেশম সম্প্রসারণ শাখার মাধ্যমে চাষিদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম কারখানা ২০০২ সালে বন্ধ করে দেয় তৎকালীন জোট সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের সচলের উদ্যোগ নিয়ে ২০১৮ সালে কারখানাটি চালু হয়। সে সময় রেশমের সুদিন ফেরাতে ১৫৩ কোটি টাকার চারটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরপর ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পায় রাজশাহীর ঐতিহ্য রেশম। স্বীকৃতি পাওয়ার পর রেশম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে রেশমচাষিদের উৎপাদিত রেশমগুটি থেকে কারখানার সামনের রেশম ডিসপ্লেতে মিলছে প্রিন্টেড শাড়ি, টু-পিস, থান কাপড়, ওড়না, স্কার্ফ, টাই ইত্যাদি খাঁটি রেশমপণ্য।


আট মাসেও চালু হয়নি লঞ্চ

আট মাসেও চালু হয়নি লঞ্চ
লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরী হাট এলাকায় নোঙর করে রাখা বিভিন্ন লঞ্চ। ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • লক্ষ্মীপুর-ঢাকা নৌরুট

লক্ষ্মীপুর-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচল শুরুর এক দিন পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আট মাসেও তা চালু হয়নি। মূলত, যাত্রীসংকটের কথা বলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়। নতুন করে আবার চালু হবে কি না, এ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা আছে।

আট মাস মাস আগে যখন লঞ্চ চালু হয় তখন জেলার মজু চৌধুরীর হাট থেকে লঞ্চ চলে ঢাকার সদরঘাট পর্যন্ত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেঘনা নদী হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম এটি। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানোর পর ২০১৯ সালের ৩ মার্চ বিআইডব্লিউটিএ চিঠি দিয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এমভি বোগদাদিয়া-৮ লঞ্চ চালুর অনুমতি দেয়। তখন বলা হয়, পরীক্ষামূলকভাবে এটি চলবে। এর মধ্যে নাব্যতাসংকটসহ অন্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার নির্দেশনা দিলেও তা আর হয়নি।

পরে ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আনুষ্ঠানিকভাবে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস চালুর উদ্বোধন করেন বিআইডব্লিউটির নৌ-ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম। চালুর এক দিনের মাথায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেন লঞ্চ মালিকরা। আট মাস পার হলেও এখনো চালু হয়নি এ রুটে লঞ্চ চলাচল।

লঞ্চ চালুর দাবিতে একটি পরিষদও গড়ে উঠেছে। ঢাকা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চাই পরিষদের আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, দাবি আদায়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু চালুর পর কী কারণে তা আবার বন্ধ হয়ে গেল তা অজানা।

সাত্তার পালোয়ান বলনে, দ্রুত সময়ে লঞ্চ চালু না হলে তারা আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, চালুর পর মূলত নাব্যতাসংকটের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়। এখন নাব্যতা দূর করতে নদীর ডুবোচরে জেগে ওঠা চরগুলো খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আশা করছেন, অল্প সময়ের মধ্যে লঞ্চ চলাচল শুরু করা হবে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী বলেন, লঞ্চ চালু করা গেলে যাত্রীরা সড়কপথের তুলনায় কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন। এই নৌপথ সচল থাকলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চল ও রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি প্রসার ঘটবে বাণিজ্যের।

সংসদ সদস্য বলেন, শিগগিরই এ নৌপথ চালু হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। পাশাপাশি খননের কাজ চলছে। সেটিও প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে।


সরকারি কলেজে শিক্ষকসংকট বিপাকে ১৯ হাজার শিক্ষার্থী

সরকারি কলেজে শিক্ষকসংকট বিপাকে ১৯ হাজার শিক্ষার্থী
পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • কলেজে চালু অনার্সের ৯ বিষয়সহ মোট ১৫টি বিষয়ের মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞান ও কৃষি বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া কোনোটিতেই পরিপূর্ণ শিক্ষক নেই

  • শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি মাসে প্রতিবেদন দেয়া হলেও শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন শিক্ষকসংকটে রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ। অধ্যক্ষসহ ৪৬ শিক্ষকের পদ থাকলেও কলেজটিতে কর্মরত আছেন ২১ জন শিক্ষক। শূন্যপদের সংখ্যা ২৫। এতে বিপাকে পড়েছেন এই কলেজের প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষকসংকটের কারণে যথাযথভাবে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ নেই বেশ কয়েক মাস ধরে। কলেজে চালু থাকা অনার্সের ৯ বিষয়সহ মোট ১৫টি বিষয়ের মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞান ও কৃষি বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া কোনোটিতেই পরিপূর্ণ শিক্ষক নেই। হিসাববিজ্ঞান, দর্শন, উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ চলছে একজন করে শিক্ষক দিয়ে। কলেজের অধ্যক্ষসহ অধ্যাপক পদে একজন, সহযোগী অধ্যাপক পদে চারজন, সহকারী অধ্যাপক পদে ৯ জন এবং প্রভাষক পদে ১১ জনের পদ শূন্য। প্রদর্শকের চার পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন।

শিক্ষকরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে অতিথি শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে চালানো হচ্ছে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি মাসে প্রতিবেদন দেয়া হলেও পাওয়া যাচ্ছে না কোনো শিক্ষক। শিক্ষকসংকটের কারণে কলেজের ১৯ হাজার শিক্ষার্থী স্বাভাবিক পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরকারি এই কলেজটির অধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকায় অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুল হাসান। তবে তিনি প্রশিক্ষণে থাকায় সহযোগী অধ্যাপক বদরুল হুদা বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বদরুল হুদা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কলেজে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রায় এক বছর কোনো শিক্ষক নেই। এ বিভাগে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুজন প্রভাষকের পদ শূন্য। বর্তমানে এ বিভাগে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন।’

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানান, গণিত বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮০০। কিন্তু মাসখানেক হলো এ বিভাগটিও শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে। এ বিভাগে একজন সহকারী অধ্যাপক এবং একজন প্রভাষকের পদ শূন্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাত্র একজন প্রভাষক ছিলেন। তিনিও গতকাল রোববার বদলি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ায় এই বিভাগেও এখন কোনো শিক্ষক নেই। বিভাগটিতে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুজন প্রভাষকের পদ অনুমোদিত রয়েছে। এ বিভাগে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০।

এদিকে পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। এ বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ড. হান্নান মিয়া কর্মরত থাকলেও তিনি নিয়মিত কলেজে আসেন না। এ অবস্থায় ২ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থীর বিভাগটি চলছে মাত্র দুজন প্রভাষক দিয়ে।

কলেজটির ইংরেজি বিভাগেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ জন। এ বিভাগে একজন সহযোগী অধ্যাপক এবং একজন প্রভাষক পদ শূন্য রয়েছে। একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক দিয়ে চলছে বিভাগটি। ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীর অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকের চার পদের মধ্যে প্রভাষকের একটি পদ শূন্য। ৯০০ শিক্ষার্থীর দর্শন বিভাগও চলছে একজন সহকারী অধ্যাপক দিয়ে। শূন্য আছে প্রভাষকের একটি পদ।

এ ছাড়া কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ৩০০, যা চলছে একজন প্রভাষক দিয়ে। শূন্য আছে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষকের পদ। ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর রসায়ন বিভাগে দুজন প্রভাষক ও একজন প্রদর্শক থাকলেও শূন্য রয়েছে একজন সহকারী অধ্যাপকের পদ। এক হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগও চলছে দুজন প্রভাষক দিয়ে। শূন্য রয়েছে একজন করে সহকারী অধ্যপক ও প্রদর্শকের পদ। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগেও একজন প্রভাষক ছাড়া সব পদ শূন্য। এ বিভাগে পড়ালেখা করছে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী। আর পূর্ণ শিক্ষক থাকা পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ৮০০ ও কৃষি বিজ্ঞান বিভাগে এক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

শিক্ষকরা বলছেন, কলেজে শিক্ষকসংকটের কারণে এক বিভাগের শিক্ষককে অন্য বিভাগের ক্লাস নিতে হচ্ছে। কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল আওয়াল জানান, তিনি দর্শনের শিক্ষক হলেও দর্শনের পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াতে হচ্ছে।

হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাশমুন আকতারসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক না থাকায় তাদের ঠিকমতো ক্লাস হচ্ছে না। বাইরে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিভাবক মাহাবুবুর রহমান বুলু বলেন, ‘এই কলেজে এত শিক্ষকসংকট আগে জানলে এখানে সন্তানকে ভর্তি করতাম না।’

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বদরুল হুদা বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের কথা আমরা বারবার বলে আসছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছি না। প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এই কলেজের ওপর নির্ভরশীল। অবিলম্বে এ সংকটের সমাধান হওয়া জরুরি।’

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ইকরামুল হক বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের কারণে কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কলেজে যেসব বিভাগে শিক্ষক নেই, সেসব বিভাগে স্থানীয়ভাবে অতিথি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের দিয়েই চালিয়ে নেয়া হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। তবে এ অঞ্চলের বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এখানে অবিলম্বে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ হওয়া দরকার।’

শিক্ষকসংকট বিষয়ে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, শিক্ষকসংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।