রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

পারিবারিক পুষ্টি বাগানে সচ্ছলতা আসছে গ্রামে

পারিবারিক পুষ্টি বাগানে সচ্ছলতা আসছে গ্রামে
সবজি তুলছেন ছানোয়ার হোসেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • শামীম আল মামুন, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী গ্রামের কৃষক ছানোয়ার হোসেনের বাড়ির উঠানটি ঠিক তিন বছর আগেও এ সময় খালি পড়েছিল। এবার গিয়ে দেখা গেল, সেখানে নেটের ঘের দিয়ে তিনি পুঁইশাক, লালশাক, ডাঁটা, মটরশুঁটির চারা লাগিয়েছেন। ছানোয়ার হোসেন জানালেন, স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে তাকে সার, নেট, ফলের চারা ও সাত ধরনের সবজি বীজ দেয়া হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি এখানে বাগান তৈরি করেছেন। গত বছর এখান থেকে কিছু শাকসবজি বিক্রি করে পাঁচ হাজার টাকাও আয় করেছেন।

দেউলী ইউনিয়নের অনেক কৃষকই এখন ছানোয়ার হোসেনের মতো বাড়ির আশপাশের ফাঁকা জায়গায় শাকসবজির চাষ করছেন। উৎপাদিত ফসলে নিজেদের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি উপার্জনেরও রাস্তা তৈরি হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, “দেশের এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকবে না’- প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনায় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ২০২০-২১ অর্থবছরে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী ‘পারিবারিক পুষ্টি বাগান’ স্থাপনের কাজ শুরু করে কৃষি বিভাগ। এ প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ১০০টি করে পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন করার কাজ চলছে। বর্তমানে প্রায় আট হাজার বাগান স্থাপন করেছে কৃষি বিভাগ।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, প্রত্যেক পরিবারকে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের সবজির বীজ, সার, ফলের চারা, নেট, বীজ সংরক্ষণের পত্র, বাগানে পানি দেয়ার ঝাঁঝরিসহ অন্যান্য উপকরণ বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে। পরিত্যক্ত জমিতে কৃষকরা মৌসুমের শুরুতে মুলাশাক, লালশাক, পাটশাক, পুঁইশাক, লাউ, পালংশাক, শিম, ডাঁটা, ধনিয়া ও ঘিমা কলমি শাকসহ নানা প্রজাতির সবজি চাষ করছেন।

কিষানি লাবণী আক্তার বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে কিছু জায়গা অনেক দিন ধরে পতিত ছিল। সেই পতিত জায়গায় আমি আর আমার মেয়ে মিলে সবজির বাগান করেছি। এই বাগান করার পর আমি বাজার থেকে আর কোনো শাকসবজি কিনি নাই। বরং অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করেছি। আমার সবজি বিষমুক্ত হওয়ায় বাজারে চাহিদাও অনেক বেশি। আশপাশের লোকজনও বাড়ি এসে সবজি কিনে নিয়ে যান।’

দেলদুয়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব মাহমুদ বলেন, ‘আমরা দেলদুয়ারের ৮টি ইউনিয়নে ৮০০টি বাগান স্থাপন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ইতিমধ্যে ২১৯টি বাগান স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি বাগানগুলো স্থাপন করা হবে। আমাদের মাঠ পযার্য়ের উপসহকারী কৃষি অফিসাররা কৃষকদের এ বাগান স্থাপন ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে সব সময় সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।’

টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আহসানুল বাসার বলেন, ‘যেসব বাড়িতে এক শতাংশ জমি খালি আছে, সেখানেই আমরা কালিকাপুর মডেলের বাগান স্থাপন করে দিচ্ছি। তাদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এতে কৃষকের নিজের যে পুষ্টি দরকার, বাগানে উৎপাদিত সবজি দিয়েই তা পূরণ হচ্ছে। সেই সঙ্গে অধিক যে শাকসবজি উৎপাদন করছে সেটা বিক্রি করে বেশকিছু মুনাফাও পাচ্ছেন।’ তিনি আরো বলেন, ২০২৩ সাল পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। প্রকল্প সফল হলে সরকারিভাবে আরো বড় প্রকল্প গৃহীত হবে। যদি তা নাও হয়, তবুও পতিত জমিতে চাষাবাদের যে চর্চা স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে, তার ফলে কৃষকরা নিজেরাই সবচি চাষ চালিয়ে যাবেন। আর কৃষি বিভাগ তাদের পাশে থাকবে সব সময়।


পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি
প্রতীকী ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকা ডুবে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন।

জেলা ফায়ার সার্ভিস থেকে নৌকাডুবির কথা বলা হলেও হতাহতের সঠিক তথ্য এখনও দিতে পারেননি।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় দৈনিক বাংলাকে ১৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


ঘুষ নেয়ায় নাজির বরখাস্ত

ঘুষ নেয়ায় নাজির বরখাস্ত
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।

একই সঙ্গে ঘটনা‌ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আজ রোববার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে চি‌ঠি পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এক‌টি ভাইরাল ভিডিওর বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দিনের ঘুষের বিনিময়ে কাজের সংবাদ তথ্য জানা যায়। বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে।

ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন সেবাগ্রহীতা সদ্য অনুমোদিত নামজারী (খারিজ) করতে এলে রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দীন সেবাগ্রহীতাকে বলেন, ‘নামজারিতে একটি নাম ভুল হয়েছে, সেটি সংশোধন করতে হবে এবং সব মিলে ১ হাজার টাকা লাগবে, এর কম হবে না। কারণ সংশোধন করতে হলে এটি উপরে পাঠাতে হবে, সেখানে টাকা চাবে।’

এমতাবস্থায় সেবা গ্রহীতা ৭০০ টাকা দেন এবং বাকি টাকা কাজ হলে দেবেন বলে জানান। কিন্তু এই কাজের জন্য কোনো ফি নির্ধারণ করা নেই।


পিবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন খারিজ

পিবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন খারিজ
বাবুল আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বাবুলের কারাকক্ষে তল্লাশি ও নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনটিও খারিজ করে দেয়া হয়।

আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালত আবেদন দুটি খারিজ করে দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাবুল আক্তার একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। এর মধ্যে তিনি অনেকবার আদালতে এসেছেন। কিন্তু একবারও নির্যাতনের বিষয়ে আদালতে কোনো অভিযোগ করেননি। কিন্তু এখন অভিযোগ করে মামলার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। সবকিছু বিবেচনায় আদালত তার আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। তিনি বলেন, আদালত আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে চট্টগ্রামের আদালতে মামলার আবেদন করেন বাবুল আক্তার। এরপর আদালত শুনানি শেষে আদেশের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন।

আবেদনে বনজ কুমার মজুমদার ছাড়া যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন— পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

সে সময় মামলার শুনানিতে বাবুলের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, পিবিআই বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে মিতু হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতন করেছে। এই ঘটনায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ (১) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ৫ (২) ধারায় মামলার আবেদন করা হয়েছে। বাবুল আক্তার নিজেই আবেদনটি করেছেন।

এ ছাড়া, ১২ সেপ্টেম্বর বাবুল আক্তারের কারাকক্ষে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন তল্লাশি চালিয়েছেন অভিযোগ তুলে তদন্তের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে এই আবেদনটিও ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছিলেন। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর এই দুই আবেদনের আদেশের সময় পিছিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন আদালত।

১২ সেপ্টেম্বর আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ দাবি করেন— পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের পর আসামিরা মারমুখি আচরণ করছেন। তাদের নির্দেশে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জেল কোডের তোয়াক্কা না করে কারাগারে বাবুলের কক্ষে প্রবেশ করেন।

তিনি (ওসি) দীর্ঘ সময় ওই কক্ষে তল্লাশির নামে বাদীর জীবনের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। তবে তল্লাশির বিষয়টি ওসি এবং জেল সুপার আনোয়ারুল করিম অস্বীকার করেন। 

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় জঙ্গিরা জড়িত দাবি করে বাবুল আক্তার মামলা করেন পাঁচলাইশ থানায়। তদন্ত শেষে পিবিআই গত বছরের ১২ মে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

হত্যায় বাবুল জড়িত বলে সন্দেহ হলে একই দিন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন আরেকটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ এ মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখায়।

বাবুলের করা মামলায় পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৪ অক্টোবর আদালতে নারাজি দেন বাবুলের আইনজীবী। আদালত ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে আদালত বাবুলকে নিজের করা মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

এর মধ্যে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পিবিআই মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এতে ওই মামলায় গ্রেপ্তার বাবুলসহ অন্যদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। মামলাটিতে পাওয়া সব তথ্য-উপাত্ত বাবুল আক্তারের করা মামলায় একীভূত করতেও আবেদন জানানো হয়।

পিবিআইয়ের অধিকতর তদন্তে বাবুল আক্তারের করা মামলায় তাকেই আসামি করা হয়। 


জি কে শামীমের যাবজ্জীবন

জি কে শামীমের যাবজ্জীবন
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমসহ আটজনকে অস্ত্র আইনের এক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রাজধানীর গুলশান থানায় করা মামলাটিতে একই সঙ্গে সব আসামির লাইসেন্স করা অস্ত্র রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় জি কে শামীমকে। দণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. মুরাদ হোসেন। এরা জি কে শামীমের দেহরক্ষী।

২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেখান থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৯ হাজার আমেরিকান ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

এরপর জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে, মানি লন্ডারিং এবং মাদক মোট তিনটি মামলা করে।

অস্ত্র মামলায় র‌্যাব ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি একই আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে বিচার শুরু করে।


‘চাহিদার অনুপাতে চালের উৎপাদন গতি কিছুটা পিছিয়ে’: কৃষিমন্ত্রী

‘চাহিদার অনুপাতে  চালের উৎপাদন গতি  কিছুটা পিছিয়ে’: কৃষিমন্ত্রী
রাজধানীর সচিবালয়ে আজ রোববার সকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

চালের চাহিদা যে গতিতে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল রেখে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণকর্মী ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, প্রতিবছর জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চালের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু চাহিদা বৃদ্ধির অনুপাতে চালের উৎপাদন বৃদ্ধির গতি কিছুটা পিছিয়ে আছে।

আজ রোববার রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষিসচিব মো. সায়েদুল ইসলাম। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংস্থাপ্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সেটাকে ধরে রাখতে হবে। প্রতিবছর যাতে চাল আমদানি করতে না হয়। সে জন্য চালের চাহিদার গতির সঙ্গে তাল রেখে উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে চালসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বৃহৎ ও নির্দিষ্ট কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জায়গা হলো দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকা। লবণাক্তসহিষ্ণু ফসলের জাত ও প্রযুক্তি আমাদের রয়েছে, সেখানে এসব জাত ও প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে।’

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসঙ্গে প্রকল্প এলাকার মানুষের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে কী প্রভাব পড়েছে ও সার্বিক উৎপাদন কতটা বেড়েছে- এসবও খতিয়ে দেখতে হবে। জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে বসে থাকলে হবে না। জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের অনুপাতে মাঠে কৃষকের কাছে কতগুলো পৌঁছেছে-তাও বিবেচনায় নিতে হবে।

পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২২-২৩ অর্থবছরের এডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৭২টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ৪ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। এ বছর সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ আছে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে, যার পরিমাণ ৬৬০ কোটি টাকা।