সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

পানি থইথই স্কুলের মাঠ

পানি থইথই স্কুলের মাঠ
মেহেরপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

দেশজুড়ে প্রচণ্ড গরমে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, ঠিক তখনই স্বস্তির নিশ্বাস এনে দিয়েছে বৃষ্টি। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে দেশের আবহাওয়া শীতল হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে অসুবিধায়ও পড়তে হয়েছে অনেক মানুষকে। টানা বৃষ্টিতে মেহেরপুরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানি থইথই করছে প্রতিষ্ঠান দুটির প্রবেশপথসহ খেলার মাঠ। বছরের পর বছর আলোচনা হলেও এ সমস্যা নিরসনে মেলেনি স্থায়ী কোনো সমাধান। এর ফলে ওই সব প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই পাঠদান ব্যাহত হয়।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার গাংনী উপজেলার ৩০ নম্বর বামন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয় ও বামন্দী নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে পানি থইথই করছে। একটু ভারী বর্ষণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির মাঠে হাঁটু পানি জমে যায়। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। আবার বামন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ের স্কুল মাঠের সঙ্গেই রয়েছে গভীর গর্তের একটি পুকুর। প্রতিষ্ঠানটির সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বৃষ্টির পানিতে মাঠ যখন একাকার হয়ে যায়, তখন কোনটি খেলার মাঠ আর কোনটি পুকুর, তা বোঝা যায় না। বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীর জন‍্য এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

মঙ্গলবার বামন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিরান নামের একজন শিক্ষার্থীই কেবল উপস্থিত হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বিদ‍্যালয়ের বাকি শিক্ষার্থীদের কেউ-ই আসতে পারেনি। তবে এর মধ্যেও উপস্থিত হয়েছেন সব শিক্ষক। শিক্ষার্থীরা না আসায় বসে বসে অলস সময় পার করছেন তারা। অন্যদিকে একই দিনে বামন্দী নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হাঁটু পানি পার হয়ে বইপত্র নিয়ে শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত পৌঁছাতে তাদের পোশাক ভিজে যায়।

অভিভাবকদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন‍্য আর্থিক বরাদ্দ এলেও তার সঠিক ব‍্যবহার হয় না। আর প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা বলছেন, তারা এ সমস্যা নিরসনে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অনেকবার লিখিত আবেদন করেও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি।

বামন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্র রাইয়ানের অভিভাবক নিলিমা পারভীন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পাশেই আমার বাড়ি। অথচ ছেলেকে আজ স্কুলে পাঠাতে পারিনি। স্কুল মাঠে এক হাঁটু পানি। আবার মাঠের পাশেই গর্ত। এখনকার ছেলেরা খুব চঞ্চল। তাই স্কুলে থাকাকালীন যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ একই কথা জানালেন প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী নূর বিশ্বাসের মা সুইটি আক্তার। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, যেহেতু মেয়েটা ছোট, হাঁটু জলের মধ‍্যে স্কুলে পাঠালে ঠাণ্ডা-জ্বরসহ অন্য যেকোনো সমস্যা হতে পারে।

বিদ‍্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি এক বছরের বেশি সময় হবে এই প্রতিষ্ঠানে এসেছি। বর্ষা এলেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক থেকে শুরু করে সবাই খুব আতঙ্কের মধ‍্যে থাকি। বিপদের আশঙ্কায় ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা পানির মধ‍্যে ক্লাসে আসে না। আমি স্কুলের পানি নিষ্কাশন ও মাটি ভরাটের জন‍্য স্থানীয় চেয়ারম্যান, সংসদ সদস‍্য, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সবার কাছেই লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছি। বিভিন্ন সময়ে তারা আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।’

নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক ছাত্র ও বর্তমানে একজনের অভিভাবক রাশিদুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, একটা সময় এ প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ আশপাশের তিনটি জেলার মধ‍্যে সেরা ছিল। বছর সাতেক আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ মাঠের পাশ দিয়ে দেড় শতাধিক দোকান তৈরি করে। ওই সময় তারা পানি নিষ্কাশনের ব‍্যবস্থা রাখেনি। এর ফলে এখানে অনেক আগেই খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গেছে। আর বর্তমানে মাঠে চলাচল করাটাই তো একটা ঝামেলা। আবার বিভিন্ন সময় শুনি, স্কুল মাঠ সংস্কারের জন‍্য লাখ লাখ টাকা আসছে। পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানের দোকান ভাড়াই ওঠে অনেক টাকা। এরপরও স্কুল মাঠের কোনো উন্নয়ন হয় না।

কলেজের সভাপতি মাসুম আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর এখনো এক বছর হয়নি। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের চলাফেরার জন‍্য কলেজের অভ্যন্তরে রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেছি। এ ছাড়া স্কুল মাঠ ও ড্রেনের সংস্কারের জন‍্য স্থানীয় সংসদ সদস‍্যসহ শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। তারা আমাকে এ ব্যাপারে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মীর হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমি সম্প্রতি নতুন এসে এ উপজেলায় যোগদান করেছি। বিদ‍্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার কথা শুনেছি। এ বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

এদিকে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সামাদুল হক জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে মঙ্গলবার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৩৯ মিলিমিটার, যা চলতি মৌসুমে এক দিনের সর্বোচ্চ।


পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশিত

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে দীঘিনালার কবাখালী ইউনিয়নের মুসলিম পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, মুসলিমপাড়ার কামাল হোসেনের ছেলে ফারহান হোসেন (২) ও নুর আলমের মেয়ে নুসরাত জাহান (২)। নিহতরা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি।

কবাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে দুই শিশু বসেছিল। কিছুক্ষণ পরে তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. প্রমেশ চাকমা জানান, হাসপাতালে আনার আগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


অনিয়মের অভিযোগ, মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

অনিয়মের অভিযোগ, মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি
পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন পৌরসভার কাউন্সিলর ও পৌরবাসীদের অনেকেই। এই অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। আজ সোমবার সকালে উপজেলা শহরের দোয়েল চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়।

ঘণ্টাব্যাপী চলা এ মানববন্ধনে ব্যানার, লিফলেট, ফেসটুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় পৌরসভার সাবেক মেয়র শাহীনুর রমান রিন্টু, বর্তমান কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন ও আবু আহসান রনুসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান মেয়র ফারুক হোসেন পৌরসভায় অবৈধভাবে নিয়োগ-বাণিজ্য করছেন। এ ছাড়া পৌরবাসী জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে নির্ধারিত ফি থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। যার রশিদও আছে। পৌরবাসী নাগরিক সেবা নিতে গেলে বিভিন্ন অনিয়ম করছে মেয়র। এ সময় মেয়রের এমন কর্মকাণ্ডের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।


একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র আর নেই

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র আর নেই
সাংবাদিক রণেশ মৈত্র । ছবি : সংগৃহীত
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র মারা গেছেন। আজ সোমবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ বলেন, তার সন্তান অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে আসছেন। তিনি এলেই পারিবারিক সিদ্ধান্তে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

১৯৩৩ সালে রাজশাহী জেলার ন’হাটা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন রণেশ মৈত্র। পৈত্রিক বাসস্থান পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া গ্রামে। তিনি ১৯৫৫ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৫৯ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫১ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নওবেলাল পত্রিকার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতার শুরু। এরপর কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সত্যযুগে তিন বছর সাংবাদিকতার পর ১৯৫৫ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৬১ সালে ডেইলি মর্নিং নিউজ এবং ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত দৈনিক অবজারভারে পাবনা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে দি নিউ নেশনের মফস্বল সম্পাদক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দি ডেইলি স্টারের পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পাবনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।

রণেশ মৈত্রের মৃত্যুতে পাবনার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকসহ নানা পেশাজীবি সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন।


এখন অপেক্ষা শুধু লাশের

এখন অপেক্ষা শুধু লাশের
নিখোঁজদের লাশের অপেক্ষায় করতোয়ার তীরে স্বজনরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

হোসেন রায়হান

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকেই। নিখোঁজদের লাশের অপেক্ষায় করতোয়ার পাড়ে অবস্থান করছেন স্বজনেরা।

মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারলেই নদীর পাড় থেকে স্বজনরা ছুটে আসছেন ইউনিয়ন পরিষদে। হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে মাড়েয়া ইউনিয়নে।

আজ সোমবার সকালে আউলিয়ার ঘাট এলাকায় দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস এবং ডুবুরি দলের তিনটি ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেখানে ভিড় করছে নিখোঁজদের স্বজনেরা।

ষাটোর্ধ্ব কৃষ্ণ চন্দ্র রায় ভাই এবং ভাতিজার খোঁজে এসেছেন আউলিয়া ঘাটে। তিনি জানান, নদীর অপর পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পুজায় যোগ দিতে তার ভাই নরেশ ও ভাতিজা সিন্টু বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেননি। নৌকাডুবির খবরে কাল থেকেই এখানে লাশের অপেক্ষা করছেন তিনি।

নাতির খোঁজে উপজেলার পাঁচপীর এলাকা থেকে এসেছেন বৃদ্ধ সুমল চন্দ্র। তিনি বলেন, নাতির মরদেহটা পেলে অন্তত নিজেরা সৎকারের কাজটা করতে পারতাম।

মাড়েয়া বটতলি এলাকার ধীরেন বাবুর দুই প্রতিবেশিসহ ৭ জন নিকটাত্মীয় এখনও নিখোঁজ। কাল থেকে তিনি নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পুজায় যোগ দিতে ভাতিজা, ভাতিজার বউ, ভাতিজার শ্বশুর, শ্যালিকা এবং আমার ভাতিজি নৌকায় ওঠে দুর্ঘটনায় পড়েন। এখন পর্যন্ত কারও খোঁজ পাইনি। এখন তাদের লাশের জন্য অপেক্ষা করছি।

এর আগে গতকাল রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরিদল। ভোর থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া মোট ৩২টি মরদেহের মধ্যে নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও নারী।

এদিকে ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। গভীর রাত পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলে। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। 


নিখোঁজ কৃষকের লাশ মিলল নদীতে

নিখোঁজ কৃষকের লাশ মিলল নদীতে
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ছাইদুর রহমান (৪০) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে উপজেলার গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের এক নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন ছাইদুর। উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের বলতৈল গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে তিনি।

উল্লাপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনামুল হক ছাইদুরের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে বের হন ছাইদুর। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। এর মধ্যে গতকাল রোববার ছাইদুরের মোবাইল নম্বর থেকে তার স্ত্রীর ফোনে কল করে এক ব্যক্তি দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। পরে এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ছাইদুরের স্ত্রী বুলবুলি খাতুন। এরপর সোমবার সকালে নদীতে ছাইদুরের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মোবাইল নম্বরের সূত্রধরে খুনিদের ধরার চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।