মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

‘একই পরিবারের’ ৫ শিক্ষক এক স্কুলে

‘একই পরিবারের’ ৫ শিক্ষক এক স্কুলে
দেবীগঞ্জের মাঝিয়ালী গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক এক পরিবারের। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার মাঝিয়ালী গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক এক পরিবারের। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষকরা শুধু স্কুলে আসেন আর চলে যান। কেউ ঘুমান, কেউ মোবাইল ফোনে, কেউবা ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

পড়ালেখা না হওয়ায় অনেক ছাত্রছাত্রী ঝরে পড়ছে আবার কেউ অন্য স্কুলে পড়ছে। স্কুলের পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম যাদু, তার বোন মুরশিদা পারভীন, ভাই আব্দুল মতিন, ভাইয়ের স্ত্রী আফরোজা সুলতানা ও প্রতিবেশী একজন চাচা কামাল আহসান হাবীব শিক্ষকতা করছেন।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, প্রথম শ্রেণিতে ১৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১৫, তৃতীয় শ্রেণিতে ১২, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩২ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ১৫ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। গত রোববার বেলা আড়াইটার দিকে স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় শ্রেণিতে ছয়জন, চতুর্থ শ্রেণিতে সাতজন, পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে কেউ না থাকলেও চারটি স্কুল ব্যাগ রয়েছে।

স্থানীয় মজিবর রহমান, কমলা, রাসেল জানান, ‘স্কুলটিতে একই পরিবারের সব শিক্ষক হওয়ায় মনমতো স্কুল চালান তারা। ফলে জবাবদিহি না থাকায় পড়ালেখা হয় না সেখানে।’

গত কয়েক মাসে অনেক ছাত্রছাত্রী ঝরে পড়ছে আবার কেউ অন্য স্কুলে (উপানুষ্ঠানিক) গিয়ে পড়ালেখা করছে। যে কয়েকজন স্কুলে আছে তারা পড়ালেখায় অনেক পিছিয়ে। পঞ্চম শ্রেণির নুর সাঈদ নামের এক ছাত্র স্কুলে পড়ালেখা না হওয়ায় তার পরিবার এ স্কুল বাদ দিয়ে তিস্তাপাড়া উপানুষ্ঠানিক শিখন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করে দেয়। মাসুদ ও নিলয় এ স্কুলে পড়ছে চতুর্থ শ্রেণিতে তবুও উপানুষ্ঠানিক স্কুলে তাদের পড়ানো হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। পরিবারের দাবি- এ স্কুলে পড়ে তারা কিছুই শিখেনি।

প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম যাদু জানান, ‘স্কুলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আছে লেখেন। এলাকার লোকজন বলতেই পারে পড়ালেখা হয় না স্কুলে; সেটা দেখার জন্য শিক্ষা বিভাগের লোকজন আছেন।’

দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম জানান, ‘সম্প্রতি স্কুলটি জাতীয়করণ হয়েছে। এ জন্য হয়তো সব শিক্ষক এক পরিবারের। কয়েক বছর ধরে শিক্ষক বদলি বন্ধ হয়ে আছে। আমরা কিছু দিন মনিটরিং করে দেখি কী করা যায়।’


পর্যটন খাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি : প্রতিমন্ত্রী

পর্যটন খাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি :  প্রতিমন্ত্রী
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

দেশের পর্যটন খাতকে টার্গেট নিয়ে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেন, আমরা যথাসম্ভব আমাদের টার্গেটে পৌঁছাব। এ জন্য একটা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেট খেলায় দেখা যায়, পাঁচটা বল ভালোভাবে ব্যাটিং করতে পারে না। কিন্তু শেষ বলে ছয় মারে। অনেক সময় মেডেনওভার যায়, যেখানে কোন রানই করতে পারে না। আবার এমনও পরিস্থিতি দাঁড়ায়, ছয় বলে ৩৬ রান করা যায়। সুতরাং আমাদের সামনে সেই সুযোগটা রয়েছে, ছয় বলে ৩৬ রান করার। আমাদের সমস্ত উপকরণ আছে, আমাদের ইচ্ছা আছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ পর্যটনকে কেন্দ্র করে অনেক দূর এগিয়েছে। আমাদের দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্যের আছে। সেগুলো তুলে ধরতে হবে।

পর্যটন দিবসের এই আয়োজন প্রতিটি শহরে ছড়িয়ে দিতে হবে জানিয়ে মাহবুব আলী বলেন, আমার মধ্যে প্রতিভা আছে, সেটাতো সবাইকে জানাতে হবে। নিজের মধ্যে রাখলে তো হবে না। আমাদের দেশে যে সম্পদ আছে, প্রতিভা আছে, এখন সবাইকে তা জানাতে হবে।

আলোচনা সভায় অনেকের বক্তব্যের সূত্র ধরে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেছেন পর্যটন করপোরেশনে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। বিষয়টি আমরা ক্যাবিনেট সেক্রেটারি সঙ্গে কথা বলব। একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে পর্যটনে দায়িত্ব দিতে প্রস্তাব দেব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটন স্পটে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে, এটা সংশ্লিষ্ট দেশের সংবাদমাধ্যম নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটা ঘটনা (কক্সবাজার) পর্যটন সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ একটা ঘটনায় যেন পুরো সেক্টরের ক্ষতি না হয়। আমরাও চাই একটি আপরাধও যেন দেশে না হয়।

এ সময় পর্যটন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা কোভিড পূর্ববর্তী যে অবস্থায় ছিলাম, সেখানে যেতে চাই না। তার চেয়ে অনেক এগিয়ে যেতে চাই। পর্যটনের উন্নয়নে মিডিয়া কিন্তু সরকার ও বেসরকারি খাতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেশি।

গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সচিব বলেন, আমি অনুরোধ করব, দেশের স্বার্থে যেন পজিটিভলি খবর প্রকাশ হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবার সঙ্গে আলোচনা করে পর্যটন নিয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডিসেম্বরে সেই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে যাব।

আলোচনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আলি কদর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. জাবের প্রমুখ।


অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ

অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ
পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নরসিংদীতে উদ্ধার হওয়া যুবকের অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ। আনুমানিক ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের পরনে ছিল হালকা আকাশি রঙের জিন্স প্যান্ট ও আকাশি ডোরাকাটা টি শার্ট। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মরদেহটি মর্গে রয়েছে।

শিবপুর থানা পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার মরদেহটি শিবপুরের বাহেরখোলা গ্রামের আসাদ মীরের বাড়ির পূর্ব পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।  

শিবপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া জানান, এখনও পর্যন্ত মরদেহটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরিচয় না পাওয়া গেলে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি দাফন করার জন্য আঞ্জুমানে দেয়া হবে।


গাড়ি চাপায় তরুণী নিহত

গাড়ি চাপায় তরুণী নিহত
প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গাড়ির চাপায় এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বেজগাঁও বাস স্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার নাম ঠিকানা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মাহফুজ রিবেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট বাহারুল সোহাগ জানান, ওই নারীকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই নারী। মরদেহ হাইওয়ে থানা পুলিশ হেফাজতে আছে।


কানাডা যাচ্ছেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার পরিবারের আরও ১৪ সদস্য

কানাডা যাচ্ছেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার পরিবারের আরও ১৪ সদস্য
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কক্সবাজারে শরণার্থী ক্যাম্পে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহর মাসহ তার দুই ভাইয়ের পরিবারের আরও ১৪ সদস্য জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) তত্ত্বাবধানে কানাডায় যাচ্ছেন।

গত রোববার তারা ঢাকার উদ্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়েন বলে আজ মঙ্গলবার জানান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮ এর সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ।
 
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র তত্ত্বাবধানে মুহিবুল্লাহর পরিবারের ১৪ সদস্যকে তাদের ব্যাটালিয়নের অধীনে ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

এপিবিএন জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে পরিবারের ১৪ সদস্যের দলটির কানাডার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। এই ১৪ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন, মুহিবুল্লাহর মা উম্মে ফজল (৬০), ছোট ভাই হাবিব উল্লাহর স্ত্রী আসমা বিবি (৩৫), সন্তান কয়কবা (১৫), বয়সারা (১৩), হুনাইসা (৯), আইমন (৮), ওরদা বিবি (৫), আশরাফ (৫) ও আরেক ভাই আহমদ উল্লাহর স্ত্রী শামছুন নাহার (৩৭), সন্তান হামদাল্লাহ (১১), হান্নানা বিবি (৯), আফসার উদ্দীন (৭), সোহানা বিবি (৫) ও মেজবাহ উল্লাহ (১)।

এর আগে, গত ৩১ মার্চ রোহিঙ্গা নেতার স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের ১১ জন সদস্য কানাডার উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন।

ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সময় সেখানে পুলিশসহ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), এবং জাতিসংঘের শরণার্থী হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সর্বশেষ রোহিঙ্গা নির্বাসনের দুই বছর পর্যবেক্ষণ উপলক্ষে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা সদস্য নিয়ে সমাবেশ করার পর নেতা হিসেবে লাইমলাইটে আসেন মুহিবুল্লাহ।

গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কুতুপালং-১ (ইস্ট) লম্বাশিয়া ক্যাম্পের ডি-৮ ব্লকে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ (৪৬)। মিয়ানমারের মংডুতে স্কুলে শিক্ষাকতা করতেন বলে রোহিঙ্গাদের কাছে তিনি ‘মুহিবুল্লাহ মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরদিন তার ভাই হাবিব উল্লাহর অভিযোগে হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ।

পরে ২০২১ সালের অক্টোবরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-১৪) সদস্যরা মহিবুল্লাহ হত্যাকারী দলের সদস্যসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এদের মধ্যে আসামি আজিজুল হক পরদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বাকি ৩ আসামি হলেন- কুতুপালং ক্যাম্পের ডি-ব্লকের মুহাম্মদ রশিদ ওরফে মুর্শিদ আমিন, ক্যাম্পের বি-ব্লকের মুহাম্মদ আনাস ও নুর মুহাম্মদ।


বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন
সাজাপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

লক্ষ্মীপুরে বড় ভাই আবদুল হান্নানকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছোট ভাই আবদুল মান্নানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামি উপস্থিত ছিলেন।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার এবং আদালত সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের চর পার্বতীনগর গ্রামের আনু মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা আবুল কালামের দুই ছেলে আবদুল হান্নান ও আবদুল মান্নান। হান্নানকে বিয়ে করানোর পর থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

২০১৯ সালের ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১২ টার দিকে হান্নান তার ছোট ভাইকে বসতঘরের জানালার পাশে দেখতে পেয়ে তার স্ত্রী সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় জানালার পাশে থাকা ছোট ভাই মান্নান একটি দা নিয়ে হান্নানের ঘরে ঢুকে। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মান্নান তার বড় ভাই হান্নানের ঘাড়ে কোপ দেন। দায়ের কোপে হান্নানের ঘাড়ে বেশিরভাগ অংশ আলাদা হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

পরদিন সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বাবা আবুল কালাম ছোট ছেলে হান্নানকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন পুলিশ মান্নানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রানা দাস আসামি মান্নানকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রায় সাড়ে চার বছর পর এই মামলার রায় দেয়া হয়।