বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২

চুরি গেছে কোটি টাকার যন্ত্রাংশ

চুরি গেছে কোটি টাকার যন্ত্রাংশ
দীর্ঘ দিন আগে বন্ধ হয়েছে মিলটি। অবহেলায় ধ্বংস হয়ে গেছে নানা স্থাপনা। ছবি: দৈনিক বাংলা
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • বিল্লাল হোসাইন, নারায়ণগঞ্জ

  • নারায়ণগঞ্জে মনোয়ার জুট মিল

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২৯ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ঐতিহ্যবাহী মনোয়ার জুট মিল। এখন শুধু জমি ও কিছু অবকাঠামো ছাড়া কিছুই নেই। চুরি ও লুটপাট হয়ে গেছে মিলের কোটি টাকার যন্ত্রাংশ।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৬৫ সালে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে সিদ্ধিরগঞ্জের আঁটি এলাকায় মনোয়ার জুট মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর মিলটি রাষ্ট্রায়ত্ত করা হলে এটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এ মিলের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হতো। মিলটিতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ করতেন।

১৯৯৩ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার লোকসানের অজুহাতে মিলটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে মিলটি।

চোখের সামনেই ঐহিত্যবাহী মিলটির ধ্বংস হতে দেখেছেন মিলের সাবেক শ্রমিক-কর্মচারীরা। আঁটি এলাকার বাসিন্দা ও মিলের প্রশাসন বিভাগের সাবেক কর্মচারী আলাউদ্দিন বলেন, একসময় পাটের পণ্যের কারণে এই এলাকা ছিল জাঁতজমকপূর্ণ। সব হারিয়ে গেছে।

আলাউদ্দিনের অভিযোগ, বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) অবহেলায় ধ্বংস হয়ে গেছে মিলের স্থাপনা।

মিলের তাঁত বিভাগের শ্রমিক ছিলেন বাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, ‘মিলটি বন্ধ হওয়ার পর আমি বিদেশ চলে যাই। ফিরে এসে দেখি মিলের যন্ত্রাংশ কিছুই নেই। এখন শুধু জমি আর পুরোনো অবকাঠামো ছাড়া মিলটি ফাঁকা।’

মিলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্যক্তি বলেন, বর্তমানে মিলের অবকাঠামোগুলো ধ্বংসের পথে। চুরি ও লুটপাট হয়ে গেছে কোটি টাকার যন্ত্রাংশ। প্রায় রাতে মুখোশ পরে অস্ত্র নিয়ে হানা দেয় চোর ও ডাকাতরা। তাদের ভয়ে রাতভর আতঙ্কে থাকতে হয়।

প্রায় ৩০ বছর ধরে মিলের নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করছেন দুলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, মিলে তো এখন কোনো যন্ত্রাংশ নেই। সব চুরি হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনিসহ মাত্র পাঁচজন নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। দুর্বৃত্তরা একসঙ্গে ৫০-৬০ জন এসে যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়। বাধা দিলে মারধর করে। তিনি নিজেও বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন।

দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘একবার দুর্বৃত্তরা আমাদের সবাইকে বেঁধে পানিতে ফেলে দিয়ে যায়। তারা নদীপথে ট্রলার ও সড়ক দিয়ে গাড়িতে এসে আক্রমণ করে। আমরা বিজেএমসি কর্তৃপক্ষকে অনেকবার ঘটনা জানিয়েছি। থানায় বেশ কয়েকটি অভিযোগও দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব কোনো কাজে আসেনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজেএমসির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) নাসিমুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগে বন্ধ গেছে মিলটি। তবে নিলামজনিত মামলা থাকায় মিলটি বিক্রির পর হস্তান্তর করা যায়নি।’

নাসিমুল ইসলাম বলেন, সেখানে শুধু চোর নয়, মাদকসেবীরাও আছে। একাধিকবার যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় মামলাও হয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরীও আছে। তবুও ঘটনাগুলো ঘটছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, মনোয়ার জুট মিলটি এখন পরিত্যক্ত। এটি প্রায় জঙ্গল হয়ে গেছে। যারা নিরাপত্তা প্রহরী আছেন তারও দায়িত্বে পালন করেন না। বিশাল এলাকা নিয়ে এ মিল। পাশে নদী, এ কারণে নানা ঘটনা ঘটছে।

ওসি বলেন, খবর পেলে পুলিশ টহল দেয়। তবে সার্বক্ষণিক তো পুলিশ সেখানে বসে থাকতে পারবে না। এসব বিষয় বিজেএমসিকেও জানানো হয়েছে।


এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস করলেন কেন্দ্রসচিব

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস করলেন কেন্দ্রসচিব
কেন্দ্রসচিব (বামে প্রথম) সহ আটক তিনজন । ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
  • দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত চার বিষয়ের পরীক্ষা

  • কেন্দ্রসচিবসহ তিন শিক্ষক আটক

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

কুড়িগ্রামের এক কেন্দ্র থেকে চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। যে কারণে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের গণিত, কৃষিশিক্ষা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কেন্দ্রসচিব লুৎফর রহমান এই প্রশ্ন ফাঁস করেছেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন। সচিবের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ সচিবসহ তিনজনকে আটক করেছে।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পরীক্ষা পরিচালক আদম মালিক চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ‍নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব মো. লুৎফর রহমান, অফিস সহকারী আবু হানিফ, ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবাইর হোসেন ও ইংরেজি শিক্ষক আমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অফিস সহকারী আবু হানিফ পলাতক।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে আমরা আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। প্রয়োজনে রিমান্ড আবেদন করা হবে।’

যেভাবে জানা গেল

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলা পরীক্ষা পরিচালক আদম মালিক চৌধুরী ও কেন্দ্রসচিব লুৎফর রহমান প্রশ্নপত্র আনতে থানায় যান। থানা থেকে পুলিশি পাহারায় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র বিষয়ের দুই প্যাকেট প্রশ্ন সিলমোহর করা অবস্থায় নিয়ে নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পৌঁছান। এরপর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের অফিসে তা সংরক্ষণ করা হয়।

পরে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বোর্ডের মেসেজ পেয়ে লুৎফর রহমানের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রের একটি প্যাকেট নেন আদম মালিক, যা পরে দায়িত্বরত শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরীক্ষা শেষে বেলা দেড়টার দিকে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব উঠলে আদম মালিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানান। পরে তারা লুৎফর রহমানকে তার অফিস কক্ষে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। একপর্যায়ে লুৎফর রহমান স্বীকার করেন, তার কাছে প্রশ্নপত্রের অতিরিক্ত সেট রয়েছে।

স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লুৎফর রহমানের অফিস কক্ষের বুক শেলফের নিচের তাক থেকে একটি কাপড়ের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যাগে গণিত (আবশ্যিক), উচ্চতর গণিত, কৃষিশিক্ষা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট পাওয়া যায়। সেখানে উচ্চতর গণিত ছাড়া বাকি প্যাকেটগুলোর মুখ খোলা ছিল। তখন ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা প্রশ্নপত্র জব্দ করে লুৎফর রহমানকে আটক করেন।

পরে আরও জিজ্ঞাসাবাদে লুৎফর রহমান জানান, অফিস সহকারী আবু হানিফের সহায়তায় কৌশলে তিনি চার বিষয়ের প্রশ্নপত্র নিয়ে আসেন। ওই প্রশ্ন অফিস সহকারী আবু হানিফ, ইসলাম শিক্ষার সহকারী শিক্ষক জোবাইর হোসেন ও ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমানের মাধ্যমে গোপনে ফাঁস করে দেন। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র মুহূর্তেই উত্তরপত্রসহ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নও ফাঁস

দিনাজপুর বোর্ডের পক্ষ থেকে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের কথা বলা হয়েছে। আর স্থগিতকৃত চার বিষয়ের প্রশ্নপত্রের সিলগালা প্যাকেট খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নও ফাঁস হয়েছিল। পরীক্ষার আগের রাতেই ইংরেজি প্রথম পত্রের উত্তরপত্রসহ প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীরা সামাজিক মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে পেয়ে যায়। পরদিন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়। ওই প্রশ্ন প্রতি কপি ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

পরীক্ষা স্থগিত

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) সকালের গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুর।

স্থগিতের অফিস আদেশে বলা হয়, ‘দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২২ সালের চলমান এসএসসি পরীক্ষার গণিত (১০৯), পদার্থবিজ্ঞান (১৩৬), কৃষিবিজ্ঞান (১৩৪) এবং রসায়ন (১৩৭) বিষয়ের পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো। স্থগিতকৃত বিষয়গুলোর পরীক্ষার তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। তবে বাকি বিষয়ের পরীক্ষাগুলো রুটিন অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।’

তদন্ত কমিটি গঠন

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুর। কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. ফারাজ উদ্দিন তালুকদারকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষাসচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে আগের প্রশ্ন ফাঁস ও এখনকার প্রশ্ন ফাঁসের পার্থক্য আছে। এবারের প্রশ্ন ফাঁস ফেসবুক বা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েনি। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

তবে শুধু দিনাজপুর নয়, চলমান এসএসসি পরীক্ষায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর যশোর বোর্ডের অধীনে নড়াইলে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্নপত্রও পরিবর্তন হয়ে যায়। ভুল করে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার দিনে দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। এটা জানার পর ওই পরীক্ষা স্থগিত করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।


এমপি-পুলিশের টাকার রক্ষক এখন ভক্ষক

এমপি-পুলিশের টাকার রক্ষক এখন ভক্ষক
জাকির চেয়ারম্যান । ছবি : দৈনিক বাংলা
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত

নুরুজ্জামান লাবু

বছর দশেক আগেও ঢাকায় লেগুনা চালাতেন তিনি। কিন্তু দশ বছরের মাথায় তিনি মালিক হয়েছেন কোটি কোটি টাকার। ১০০ গাড়ি নিয়ে শুরু করেছেন রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা। ক্ষমতাসীন দলের একটি ইউনিয়নে যুবলীগের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন শুরুতে। পরে নৌকা প্রতীক নিয়ে হয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানও।

আলোচিত এই ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন। তিনি কুমিল্লার মেঘনা থানাধীন ২ নম্বর মাইনকারচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।

কোনো আলাদিনের চেরাগ নয়, তার কোটিপতি হওয়ার নেপথ্যে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সদস্য আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শতাধিক কর্মকর্তা। অনেকেই অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন তার মাধ্যমে। এখন জাকির বেঁকে বসেছেন। লাভের টাকা দেয়া তো দূরের কথা, আসল টাকাই ফেরত দিচ্ছেন না। বিনিয়োগকারীদের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপপরিদর্শক পর্যায়ের কর্মকর্তা। এই টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে সেই আশঙ্কায় তারা বিষয়টি কাউকে বলতেও পারছেন না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর এ কে এম গোলাম রসুল নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত পরিদর্শক জাকিরের নামে রাজধানীর মুগদা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, পেনশন ও ইউএন মিশন থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে তিনি ছয়টি মাইক্রোবাস কিনে জাকিরের কাছে মাসিক ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়া দেন। শুরুতে প্রতি মাসে টাকা দিলেও গত ফেব্রুয়ারি থেকে টাকা দেয়া বন্ধ করে দেন। গোলাম রসুল গাড়ি ফেরত আনতে গিয়ে জানতে পারেন, জাল-কাগজপত্র তৈরি করে জাকির সেসব গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন।

জাকির হোসেনের বাড়ির গেট। ছবি: দৈনিক বাংলা

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘জাকির অনেক বড় একজন প্রতারক। তাকে আমরা অনেক দিন ধরেই গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু সে আত্মগোপনে রয়েছে। অবশেষে তাকে গোয়েন্দা জালের মধ্যে আনা হয়েছে। যে কোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকির হোসেনের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা থানাধীন ২ নম্বর মাইনকারচরের উজানচর নোয়াগাঁও এলাকায়। বাবা জজ মিয়া একজন কৃষক। এসএসসি পাস জাকির ২০০৮ সালে ঢাকায় এসে গাড়ি চালানো শেখেন। তারপর দুই বছর ঢাকায় লেগুনার চালক হিসেবে কাজ করেন। পরে নিজেই একটি প্রাইভেটকার কিনে ভাড়ায় চালানো শুরু করেন।

বছর দশেক আগে তার সঙ্গে কুমিল্লার মেঘনা থানায় কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় হয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে প্রথমে একটি গাড়ি কিনে দেন। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতেন সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে। সেই থেকে শুরু, এরপর থেকে যেন আলাদিনের চেরাগ নিজে এসে হাতে ধরা দেয় জাকিরের কাছে।

জাকিরের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, একজন-দুজন করে জাকিরের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় বাড়তে থাকে। পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা তাকে গাড়ি কিনে দেয়া শুরু করেন। জাকির সেসব গাড়ি নিয়ে রাজধানীর গোপীবাগে আর কে মটরস নামে একটি রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা চালু করেন। সর্বশেষ তার এই রেন্ট-এ-কারের ব্যবসায় ১০০ মাইক্রোবাস ছিল।

ওই সূত্র জানায়, জাকিরের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে কুমিল্লা এলাকার একজন সংসদ সদস্য আড়াই কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। একই এলাকার একজন সাবেক সংসদ সদস্যও বিনিয়োগ করেন দেড় কোটি টাকা। লক্ষ্মীপুর এলাকার সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্য বিনিয়োগ করেন দুই কোটি টাকা। এ ছাড়া পুলিশের ডিআইজি পদপর্যাদার এক কর্মকর্তা দুই কোটি টাকা জাকিরের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন। এর বাইরে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার অন্তত পাঁচজন কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগকারীর এই তালিকায় পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর, ট্রাফিক সার্জেন্ট, টিআই, বিভিন্ন থানার ওসি বা পরিদর্শক এবং এএসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাও আছেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জাকির প্রথমদিকে প্রত্যেকের গাড়ি ভাড়া নেয়ার বিনিময়ে মাসে ৭০ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতেন। যারা নগদ টাকা দিয়েছেন তাদের সঙ্গে গড়ে ১৫ লাখ টাকা করে একটি গাড়ির দাম ধরে ৭০ হাজার টাকা ভাড়া হিসাবে পরিশোধ করতেন। নগদ টাকা নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি এনে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এ ছাড়া ঢাকায় ফ্ল্যাটসহ ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় জমি কিনেছেন। নিজের এলাকায় তিনতলা আলিশান একটি বাড়িও বানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জাকির হঠাৎ করেই লভ্যাংশ দেয়া বন্ধ করে দেন। জাকির তাদের জানান, একটি মামলায় কারাগারে যাওয়ায় তার ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠানকে কিছু গাড়ি ভাড়া দেয়ার পর তারা তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ জন্য তিনি লাভের টাকা ফেরত দিতে পারছেন না।

তবে ভুক্তভোগীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার মাধ্যমে যেসব বিনিয়োগকারী গাড়িতে বিনিয়োগ করেছেন তাদের অনেকেই বিনিয়োগের টাকার উৎস সম্পর্কে যথাযথ হিসাব দিতে পারবেন না, তাই তাদের অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করেছেন জাকির।

এ বিষয়ে জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার একটি যৌথ সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তারা অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ একে অন্যের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে তা বৈধ করার চেষ্টা করেন। এ ধরনের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। তা না হলে এটি এক পাক্ষিক হয়ে যাবে, একইসঙ্গে তিনি আরেকটি আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। যেহেতু ঘটনার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক কর্মকর্তা জড়িত, তাই তাকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তার সুরক্ষা দেয়া জরুরি।


বিএনপির মিছিলে পুলিশের বাধা, সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ৫০

বিএনপির মিছিলে পুলিশের বাধা, সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ৫০
মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জে বিএনপির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এ সময় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক ও বিএনপির নেতা-কর্মীসহ ৫০ জনের মতো আহত হয়েছেন।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মুক্তারপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল বের করে বিএনপি। মিছিলগুলো ফেরিঘাট এলাকায় জড়ো হয়। সেখান থেকে বড় মিছিল বের হলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশও প্রায় অর্ধশত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসিসহ ১০ পুলিশ আহত হন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছাড়াও আহত হন সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া তিন সাংবাদিক।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ১০ পুলিশ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গুরুতর আহত হয়েছেন।

সদর থানা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে মিছিলে আসতে থাকলে পুলিশ বাধা দেয় এবং ব্যানার ছিড়ে ফেলে। এ কারণে নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে যায়। আমরা তাদেরকে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করি। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। আমাদের ৫০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।


উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে এমপির ‘পিস্তল তাক’

উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে এমপির ‘পিস্তল তাক’
পিস্তল হাতে এমপি রেজাউল করিম বাবলু। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

প্রকল্পের জন্য দেয়া টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রেজাউল করিম বাবলুর সঙ্গে উপজেলা যুবলীগ নেতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেই দ্বন্দ্ব থামাতে গেলে পাল্টা উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে নিজের পিস্তল তাক করেন এমপি। তবে এমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আত্মরক্ষায় পিস্তল বের করেছেন তিনি।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের বারান্দায় এই ঘটনা ঘটে। এদিন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলছিল।

এমপির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া যুবলীগ নেতার নাম আলমগীর বাদশা। তিনি শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।

আলমগীর বাদশা বলেন, ২০১৯ সালে এমপির নামে মসজিদ, রাস্তাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ আসে। ওই সময় অনেকের কাছে থেকে বরাদ্দ দেয়ার নামে টাকা নিয়েছিলেন এমপি। আমার কাছে থেকেও ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেন। আমিই তাকে দিয়েছিলাম। যাতে উন্নয়ন কাজগুলো হয়। কিন্তু সেই বরাদ্দ আজও দিতে পারেননি এমপি রেজাউল করিম। আমার দেয়া টাকাও ফেরত দেননি।

‘আজ সামনাসামনি দেখা হলে তাকে বললাম, আপনি যে টাকাটা নিলেন, ফেরত দিবেন না? এ কথা বলার পরেই তিনি আমার ওপর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। বলেন কিসের টাকা, কোনো টাকা নেই।’

যুবলীগ নেতার দাবি, এ সময় তাকে ধাক্কা মারতে থাকেন এমপি। ফারুক নামে তার এক সঙ্গী লাঠি দিয়ে আঘাত করেন তাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব হোসেন ছান্নু জানান, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা হচ্ছিল। বাইরে হট্টগোল শুনে তিনি বের হন। চার বছর আগের প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটি হচ্ছিল বলে শুনতে পান।

তবে এসব ঘটনার বিষয়ে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।

তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) রেজাউল করিম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে অংশ নিতে উপজেলা পরিষদে যাই। এ সময় সেখানে আলমগীর বাদশা এমপিকে দেখেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

চেয়ারম্যানও হামলা করতে আসলে এমপি আত্মরক্ষায় পিস্তল বের করেন। পিস্তল তো নেয়া হয়েছে আত্মরক্ষার জন্য।’

হট্টগোলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তবে বগুড়া জেলা প্রশাসনের জেএম শাখা থেকে এমপি বাবলুর নামে একটি পিস্তল নিবন্ধনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।


গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ
গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের বিক্ষোভ। ছবি: দৈনিক বাংলা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

বিএনপি ও জামায়াতের মদদে সারা দেশে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে গোপালগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করে তারা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গীতে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

সমাবেশে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, রাজু খান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামিম খান শাহানেওয়াজ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সামিউল হক তনু, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রকিবুল ইসলাম রানা, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু তাহের, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক খান রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বিএনপি ও জামায়াতের সৃষ্ট ‘নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি’ শক্ত হাতে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।