শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২

লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার। ছবি: পিএমও
বাসস
প্রকাশিত

ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথের অন্তেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে লন্ডন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) তিনি লন্ডন স্টানস্টেড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। রানির শেষকৃত্যে যোগ দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আশেকুন নবী চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইট স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় লন্ডন স্টানস্টেড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইটটি সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১৬ সেপ্টেম্বর কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অবস্থানকালীন হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এ দক্ষিণ এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা, জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী লর্ড আহমদ সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

তৃতীয় দিন ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের বিরোধীদলীয় ও লেবার পার্টির নেতা স্যার কেইর স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ১৮ সেপ্টেম্বর বাকিংহাম প্যালেসে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে যুক্তরাজ্যের রাজার এক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। ১৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবেতে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী লন্ডন ত্যাগ করবেন। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আব্দুল মুহিত।

২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত সংবর্ধনা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ ছাড়াও তিনি ইউএনএইচসিআরের ফিলিপো গ্র্যান্ডি এবং স্লোলোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট বরুত পাহোরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। একই দিন তিনি নারী নেত্রীদের ইউএনজিএ প্ল্যাটফর্মেও যোগ দেবেন। দিনের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত সংবর্ধনাতেও যোগ দেবেন তিনি।

২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ, বতসোয়ানা, স্লোভাক প্রজাতন্ত্র ও ইউএন হ্যাবিট্যাটের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের টেকসই আবাসন শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। একই দিন তিনি ডব্লিউইএফের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর শোয়াব ক্লাউসের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ (জিসিআরসি) চ্যাম্পিয়নস মিটিংয়ে যোগ দেবেন। বিকেলে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পদ্মা সেতুর আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি কসোভোর প্রেসিডেন্ট ড. ভজোসা ওসমানি-সাদ্রিউ, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট গুইলারমো লাসো মেন্ডোজা এবং রাবাব ফাতিমার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর দিনটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের (এএমআর) ওপর একটি প্রাতঃরাশ বৈঠকের মাধ্যমে শুরু করবেন এবং আইওএম মহাপরিচালক আন্তোনিও ভিটোরিনোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন। পরে তিনি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেচ আক্কা মোহা সেনা প্যাদেই তেকো হুন সেন এবং আইসিসির প্রসিকিউটর নিক ক্লেগ এবং করিম খানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে একটি নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।


অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে সড়কে প্রাণ গেল নারীর

অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে সড়কে প্রাণ গেল নারীর
লাশ। প্রতীকী ছবি
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

অসুস্থ মাকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় শাহনাজ খাতুন (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই নারীর স্বামী মোটরসাইকেল-চালক আনোয়ার হোসেন।

বগুড়া শেরপুরের মির্জাপুর বাজার এলাকায় আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শাহনাজ খাতুন সুঘাট ইউনিয়নের জয়লা সরকার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। 

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহত আনোয়ার হোসেন বলেন, শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সকালে তাকে দেখতে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে রওনা দেই। মির্জাপুর বাজার এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় শাহনাজ মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়। ওই সময় পেছন থেকে আসা কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়।

উপপরিদর্শক বাবুল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর কোনো গাড়ি পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

 


সন্ধ্যায় বের হয়ে সকালে ক্ষেতে মিলল কৃষকের মরদেহ

সন্ধ্যায় বের হয়ে সকালে ক্ষেতে মিলল কৃষকের মরদেহ
লাশ ঘিরে স্থানীয়দের ভিড়। ছবি : দৈনিক বাংলা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কুষ্টিয়া সদরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মফিজুর রহমান মফি (৬০) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার গজনবীপুর গ্রামের একটি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হন মফি। এরপর রাতে তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরে সকালে কৃষকরা ধান ক্ষেতে কাজ করতে গেলে তার মরদেহ দেখতে পান। মরদেহের গলা আর হাত রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আননুন জায়েদ বলেন, মরদেহের হাতে ও গলায় রশি বাঁধা ছিল। দাঁতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে কারা, কী কারণে হত্যা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

 


সরকারি দামে মিলছে না সার বাড়ছে আমন উৎপাদন খরচ

সরকারি দামে মিলছে না সার বাড়ছে আমন উৎপাদন খরচ
ইউরিয়ার খোঁজে লাইনে দাঁড়িয়েছেন কৃষকরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

পাবনায় সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে রাসায়নিক সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। আর কৃষি বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। ইউরিয়া সারের অতিরিক্ত বরাদ্দও দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কৃষকদের মাঝে গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

বর্তমানে আমনের ভরা মৌসুম চলছে। এ সময় সারের বাড়তি দামের কারণে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। তারা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিসিআইসির ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না। কেবল সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। একই চিত্র খুচরা বাজারেও। বেশি দামে যারা সার কিনছেন তাদের আমন উৎপাদনের খরচও বাড়ছে।

পাবনার সদর, আটঘরিয়া ও ঈশ্বরদী উপজেলায় সারের কয়েকটি খুচরা দোকানমালিকের সঙ্গে বলে জানা গেছে, সরকারনির্ধারিত প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ২২ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। এমওপি, পটাশ, টিএসপিসহ সব ধরনের সারের জন্য প্রতি কেজিতে কৃষককে সরকারনির্ধারিত দরের চেয়ে ১০-১২ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। দাম বাড়ার জন্য ডিলারদের দুষছেন খুচরা দোকানিরা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সদরের দাপুনিয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার আবু তালেবের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ইউরিয়া সার কিনতে ভিড় করেছেন আশপাশের গ্রামের কৃষকরা। বন্ধ দোকান না খুলেই ম্যানেজার জানালেন সার নেই। দীর্ঘ অপেক্ষায় সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান কৃষকরা। 

মির্জাপুর থেকে আসা কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, সার কিনতে গেলে বিক্রেতারা সংকটের কথা বলে দাম বেশি নিচ্ছেন। বিক্রয় রসিদ চাইলেও তা দেয়া হচ্ছে না। দর-কষাকষি করতে গেলে সার না দিয়েই অপমান করে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। দোকানে মূল্যতালিকা টাঙিয়ে রাখলেও সে দাম রাখা হচ্ছে না।

আটঘরিয়ার দিকশাইল গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে ইউরিয়া সারের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এখন যদি কৃষকদের সার পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখা হয়, তাহলে তারা আমন ধান চাষে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে ফলন কমে গিয়ে লোকসান বাড়বে। অন্যদিকে বাজারে চালের দামও বাড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক ও খুচরা সার দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সার ডিলারদের অধিকাংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। অভিযোগ রয়েছে, তারা মৌসুমে যে সার বরাদ্দ পান সেটা উত্তোলন না করে বরাদ্দপত্রটা একশ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। সেই বরাদ্দপত্র ক্রয়কারীরা গুদাম থেকে সার উত্তোলন করে বেশি দামে বিক্রির জন্য সার মজুত করেন। এ অবস্থায় কৃষকপর্যায়ে কৃত্রিম সারসংকট দেখা দেয় ও বেশি দামে কৃষকরা কিনতে বাধ্য হন। 

পাবনা সার ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া সার আশুগঞ্জ থেকে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এদিকে পাবনায় ইউরিয়াসহ কোনো সারেরই সংকট নেই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন। তিনি জানান, চলতি আমন মৌসুমে পাবনায় চাহিদার অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনের বেশি ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছে কৃষি বিভাগ। বিসিআইসির ১০১ জন অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে শিগগিরই তা কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ শুরু হবে। বাজার কারসাজি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।


দুর্গোৎসব আমেজের চেয়ে উদ্বেগ বেশি

দুর্গোৎসব আমেজের চেয়ে উদ্বেগ বেশি
তুমব্রু সীমান্তে চলমান গোলাগুলিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • তুমব্রু সীমান্তে গোলাগুলি

মুহিববুল্লাহ মুহিব, তুমব্রু সীমান্ত থেকে

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তে চলমান গোলাগুলিতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। এর ফলে আসন্ন দুর্গাপূজার উৎসবকে ঘিরে সীমান্ত এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতার থেকে ২০০ গজ ভেতরে তুমব্রু শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের অবস্থান। এর পাশেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৭টি পরিবার বাস করে। স্বাধীনতার পর থেকে এ মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছেন এখানকার বাসিন্দারা। কিন্তু মিয়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে গত এক মাস ধরে যে সংঘর্ষ চলছে, তার প্রভাব পড়ছে সীমান্ত এলাকায়। এর ফলে দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন সীমান্তবর্তী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

মন্দিরের পাশেই সুগন্ধা কর্মকারের বাড়ি। স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে নবনির্মিত প্রতিমার দিকে অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছেন। কয়েক যুগ ধরে চলমান তাদের এ উৎসব এবার আদৌ হবে কী হবে না, তিনি তা জানেন না।

সুগন্ধা কর্মকার বলেন, বড় করে না হোক, ছোট পরিসরে হলেও এবার যেন পূজা করতে দেয়া হয়। পূজা উপলক্ষে এরই মধ্যে সন্তানদের জন্য কেনাকাটা হয়েছে। উৎসব উপলক্ষে খরচও করে ফেলেছেন। এত কিছুর পরও উৎসব করতে না পারলে তা হবে কষ্টের।

তুমব্রু বাজারের পেছনের এলাকার বাসিন্দা সুমিতা রায়। তিনি বলেন, ‘৫০ বছর ধরে এ উৎসব চলছে। আমাদের বাবা-দাদারাও পূজা করেছেন। করোনা পরিস্থিতিতেও ছোট পরিসরে পূজা হয়েছে। এবার একেবারে করতে না পারাটা হতাশাজনক হবে।’

আরেক বাসিন্দা প্রদীপ ধর বলেন, ‘দেড়শতাধিক মানুষের একমাত্র উৎসবের কেন্দ্র এ মন্দির। সেখানে যদি উৎসব করতে না পারি, তাহলে কোথায় গিয়ে করব? অন্য জায়গায় করতে হলে তো প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে যেতে হবে। তারচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমরা সবকিছু কিনে ফেলেছি। প্রতিমা থেকে শুরু করে যাবতীয় সব।’

তুমব্রু শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের পূজা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রূপলা ধর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ব্যাপক গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। অতীতে কখনোই এমনটা হয়নি। এর ফলে আসন্ন দুর্গাউৎসব নিয়ে তিনিসহ সবাই চিন্তায় আছেন।’

রূপলা ধর বলেন, ‘ডিসি, এসপি ও ইউএনও মহোদয় ডেকেছিলেন। তাদের কাছে জানতে চেয়েছি, কীভাবে কী করা যায়? তারা এবারের আয়োজন অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু অর্ধশত বছরের এ উৎসব, এ ব্যাপারে এলাকার লোকজনও তেমন রাজি না। প্রশাসনের অনুমতি না মিললে আমরা উৎসব করব না।’

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘উৎসবকালীন বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সময় যদি মিয়ানমার থেকে কোনো গোলা এসে পড়ে, তাহলে ঝুঁকি আছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এবারের আয়োজন অন্যত্র নেয়ার পরিকল্পনা।’

এ বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভিন মুঠোফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি আমরা এখনো নজরদারিতে রেখেছি। তুমব্রু সীমান্তের মন্দিরে দুর্গাপূজা উদযাপন নিয়ে বৈঠকে আছি। এখান থেকে বেরিয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।’

১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলে সীমান্তের শূন্যরেখায় এক রোহিঙ্গা নিহত হন। ওই দিন দুপুরেই সীমান্তের হেডম্যানপাড়ার ৩৫ নম্বর পিলারের ৩০০ মিটার মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাদেশি এক যুবক। এরপর থেকে তুমব্রু সীমান্তে আরও জোরালোভাবে গোলার শব্দ শোনা যাচ্ছে। গতকাল সকাল থেকে অন্তত ৫০টি গোলার শব্দ ভেসেছে তুমব্রুর পশ্চিমকুল, উত্তরপাড়া ও দক্ষিণপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়। এমন অবস্থায় চরম আতঙ্কে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রায় এক মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এপারের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বেশ কয়েকবার মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। গত ২৮ আগস্ট তুমব্রু উত্তরপাড়ায় একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। সে দিনই সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি গোলা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসে পড়ে। সেগুলো অবিস্ফোরিত থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর তিন দিন পর আবার ওই সীমান্তে ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ ভেসে আসে।


ভোলায় বিদ্যুৎহীন ভুতুড়ে সড়ক

ভোলায় বিদ্যুৎহীন ভুতুড়ে সড়ক
বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বন্ধ সড়কবাতি। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • ​৯ বছরে বকেয়া ৭ কোটি টাকা

  • পৌর এলাকার মানুষ বিশেষ করে নারীরা নানা আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন। অন্ধকারে চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কও বেড়েছে।

ভোলা প্রতিনিধি

সাত কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় ভোলা পৌরসভার সড়কবাতির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সড়কে আলো না থাকায় রাতে চলাচলে বিপাকে পড়েছেন শহরের বাসিন্দারা।

ভোলা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ জানিয়েছে, বকেয়া পরিশোধের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিয়েও কাজ হয়নি। এ কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় পৌরসভার সব সড়কবাতির সংযোগ গত তিন দিন ধরে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ভোলা পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে ৯ হাজার ৬৩৫ পরিবারে ৮৭ হাজার ২৪৩ জন নাগরিক বসবাস করেন।

বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ভোলা পৌরসভা মূলত ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে। শহরের মানুষ বিশেষ করে নারীরা নানা আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন। অন্ধকারে চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিয়মিত কর পরিশোধ করা হয় পৌর কর্তৃপক্ষকে। এর পরও এমন দুরবস্থা।

ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব বাহাউদ্দিন বলেন, ভোলা পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির। কিন্তু সেই পৌরসভায় রাতে সড়কে আলো জ্বলছে না, এটা বেমানান।

বিলকিছ জাহান নামে পৌরসভার একজন বাসিন্দা বলেন, ‘সন্ধ্যার পর সড়কে বাতি না জ্বলায় নারীরা বাজারে কেনাকাটা করতে, শিশুদের কোচিং করাতে নিতে ভয় পাচ্ছেন।’ কয়েকটি ওয়ার্ডের সড়কে খানাখন্দ থাকায় অন্ধকারে দুর্ঘটনার শঙ্কাও আছে। কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি দ্রুত এর সমাধানের দাবি জানান।

ভোলার বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন-অর-রশীদ বলেন, ভোলা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কাছে ভোলা পৌরসভার গত ৯ বছরে বেকেয়া বিল প্রায় ৭ কোটি টাকা। বিল পরিশোধের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিলেও কোনো ফল হয়নি।

মামুন-আল-রশীদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ওজোপাডিকোর আওতায় পৌরসভার আওতাভুক্ত সড়কবাতির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিল পরিশোধ করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার বলেন, নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা হবে। আর ভোলা পৌরসভার মেয়র মো. মনিরুজ্জামান বলেন, যে পরিমাণ বিল বকেয়া আছে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে ধাপে ধাপে তা পরিশোধ করা হবে। পৌরসভার সড়কে শিগগিরই বাতি জ্বলবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন মেয়র।