সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

সিন্ডিকেটবিরোধীরাই ঢুকল সিন্ডিকেটে

সিন্ডিকেটবিরোধীরাই ঢুকল সিন্ডিকেটে
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা। ছবি: সংগৃহীত
জেসমিন পাপড়ি
প্রকাশিত
  • মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

  • নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ২৫টি প্রতিষ্ঠান

জেসমিন পাপড়ি

মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠাতে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির একচেটিয়া কর্তৃত্বকে ‘সিন্ডিকেট’ আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর একটি বড় অংশ। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীরাই ওই সিন্ডিকেটে যুক্ত হচ্ছেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ও জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রা সূত্রে জানা গেছে, আগের ২৫টি এজেন্সির সঙ্গে আরও ২৫টি এজেন্সি এখন থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে।

এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বাড়ছে। এখন তালিকাভুক্ত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে আরও ২৫টি যুক্ত হচ্ছে। এই সংখ্যা ধীরে ধীরে এক শ পর্যন্ত হতে পারে। গত সপ্তাহে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

মালয়েশিয়া থেকে একাধিক সূত্র দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, এখনো প্রথমে প্রস্তাবিত ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেয়ার প্রস্তাব মালয়েশিয়া সরকারিভাবে অনুমোদন দেয়নি। আবার আন্দোলন শুরু হওয়ার কারণে তারা কিছু ধীরে চলো নীতিও অনুসরণ করেছে। তারা এখন চাইছে, নতুন করে আরও ২৫ থেকে ৫০টি এজেন্সিকে যুক্ত করে পুরো তালিকা একসঙ্গে অনুমোদন দিতে।

এ বিষয়ে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এবং উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় সাধারণত কর্মী পাঠায় ২০০ থেকে ২৫০ প্রতিষ্ঠান। এদের সবার জন্য কর্মী পাঠানোর সুযোগ থাকা দরকার ছিল। এই মুহূর্তে মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীর অভাবে অচল হয়ে আছে, আবার আমাদের কর্মীরাও সেখানে যেতে উদগ্রীব। কিন্তু কয়েকজন স্বার্থান্বেষী মানুষের কারণে প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে আছে।’

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নতুন তালিকায় প্রভাবশালী রিক্রুটিং এজেন্সি ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড ও সরকার রিক্রুটিং এজেন্সি লিমিটেডের নাম রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মালয়েশিয়ার একটি সূত্র। এ ছাড়া বায়রার নতুন মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমানের সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াজ উল ইসলামের রিয়াজ ওভারসিজ, সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য আলী হায়দার চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট হিউম্যান রিসোর্চ সেন্টারও এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা মালয়েশিয়া সরকারকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার কারণে বাকিরা নানা ধরনের আন্দোলন শুরু করেছে। তাই তারা যেন বায়রার নির্বাচনে অংশ নেয়া তিনটি প্যানেলের রিক্রুটিং এজেন্সিকে এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করে। তারা কথাটা বুঝতে পেরেছে। এর ফলে কর্মী পাঠানোর তালিকা সম্প্রসারণ হয়েছে। নতুনরা ইতিমধ্যে যুক্ত হয়ে গেছেন। তারা এখন কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ।

সরকারি মালিকানাধীন রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেল এবং ট্রাস্ট ওভারসিজ রিক্রুটিং এজেন্সিও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তারক্ষীর চাহিদা রয়েছে। সেনা কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠানটি (ট্রাস্ট ওভারসিজ রিক্রুটিং এজেন্সি) সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে আশা করি।’

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সিন্ডিকেট বলে তো কিছু নেই। মাত্র ২৫টি এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাচ্ছে এটাও আমরা জানি না। আমরা চাই সব রিক্রুটিং এজেন্সি যেন কর্মী পাঠানোর সুযোগ পায়। সেখানে বোয়েসেল ও সেনা কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠানও থাকবে।’

সূত্র জানায়, এই সিন্ডিকেটে যুক্ত হতে মালয়েশিয়া ও দেশের উচ্চ মহলে নানা ধরনের তদবির করে আসছিল প্রভাবশালীরা। তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরপরই সিন্ডিকেটবিরোধীদের সিন্ডিকেটে যুক্ত হওয়াকে ভালোভাবে নিচ্ছে না বায়রার অন্যান্য সদস্য।

বেশ কয়েকটি এজেন্সির মালিক অভিযোগ করেন, ‘সিন্ডিকেটবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ের পরে নেতারা সিন্ডিকেটে প্রবেশ করেছেন। এটা সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা। কারণ, তারা বলেছিলেন লাইসেন্স যার, ব্যবসা তার। কিন্তু এখন লাইসেন্সধারী হাজারো রিক্রুটিং এজেন্সিকে রেখে তারা সিন্ডিকেটে ঢুকছেন। এটা অন্যায়।’

বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা চাই না মালয়েশিয়াতে কর্মী পাঠানো মাত্র ২৫টি এজেন্সিতে সীমাবদ্ধ থাকুক। তাই এজেন্সির সংখ্যা বাড়ানো আমাদের জন্য ‍সুখবর। সব রিক্রুটিং এজেন্সি যাতে এই সুযোগ পায় সে জন্য চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। তবে আমরা জানি না সম্প্রসারিত তালিকায় নতুন কোন কোন এজেন্সির নাম আছে।’

নতুন তালিকায় যুক্ত হওয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ইস্ট ওয়েস্ট হিউম্যান রিসোর্চ সেন্টারের কর্ণধার আলী হায়দার চৌধুরীর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা শুনেছি আরও কিছু এজেন্সি মালয়েশিয়াতে কর্মী পাঠানোর তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। এটা এমন একটি শ্রমবাজার যেখানে কারা যুক্ত হচ্ছে সেটা আগে থেকে আঁচ করা যায় না। তাই সঠিকভাবে বলতে পারছি না। তবে পুরাতন সিন্ডিকেট যেভাবে, যত খরচে কর্মী পাঠাচ্ছিল সেভাবে হলে আমি এই দলে থাকব না।’

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর কর্মী পাঠানোর জন্য মালয়েশিয়ার সরকারকে ১ হাজার ৫২০ এজেন্সির তালিকা দেয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। 

দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক অনুসারে কর্মী পাঠানোর জন্য এজেন্সির তালিকা চূড়ান্ত করবে মালয়েশিয়া। দেড় হাজার সদস্যদের তালিকা পাঠানোর পর দেশটি তখন মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে অনুমোদন দেয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা সমালোচনা হয়। আন্দোলনে নামে বায়রার সদস্যদের একটি বড় অংশ। সবার জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখার দাবিতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যানারে আন্দোলন করেন এজেন্সি মালিকেরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মালয়েশিয়ার দাতো আমিন এবং বাংলাদেশের রুহুল আমিন স্বপনের কারসাজিতে মোটা অর্থের বিনিময়ে মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট করা হয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া বায়রার নির্বাচনেও সিন্ডিকেটবিরোধী প্রচারণা গুরুত্ব পায়। নির্বাচনে জয়ী হয় সিন্ডিকেটবিরোধী প্যানেল। যার নেতৃত্বে ছিলেন বায়রার সাবেক সভাপতি নুর আলী ও সাবেক সভাপতি আবুল বাশার।

নির্বাচনে বাকি যে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তার মধ্যে একটার নেতৃত্বে ছিলেন বায়রার সাবেক সভাপতি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেনজির আহমেদ ও বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন। আরেক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন বায়রার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মো. ফারুক ও সাবেক মহাসচিব রিয়াজ উদ্দিন।

দীর্ঘদিন পর চালু হলেও মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার সংখ্যা খুব কম। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, বাজার চালুর ঘোষণার পর গত ৮ আগস্ট প্রথমবারের মতো ৫৩ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যায়। আগস্ট মাসে মালয়েশিয়া যেতে বিএমইটি থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন মাত্র ৫৭৩ জন। জুলাই মাসে এই সংখ্যা ছিল ৪১ জন। অথচ বাজার চালুর ঘোষণার সময় ৫ লাখ কর্মী যাওয়ার সুযোগ আছে বলে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়।

এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার বাজার বন্ধের আগে সে বছর প্রায় পৌনে ২ লাখ কর্মী মালয়েশিয়া যায়। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বৈধভাবে মালয়েশিয়া গেছেন সাড়ে ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী।

এ বিষয়ে বিএমইটির মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নিয়োগের অনুমতি পাওয়ার পরও কর্মী যেতে কিছুটা সময় লেগে যায়। আশা করছি এ মাস থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার সংখ্যা বাড়তে পারে।’

এর আগে ১০ এজেন্সির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অভিযোগে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শ্রমিক শোষণসহ নানা অভিযোগে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার কিছু কোম্পানি থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এসব কোম্পানি এখন আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দিতে চায় না। বরং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড মেনে কর্মী নিতে চায় তারা।

গত ডিসেম্বরে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরে কয়েকটি এজেন্সির তালিকা চেয়ে মালয়েশিয়া সরকার চিঠি পাঠালে তাতে রাজি হননি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। পরে বাংলাদেশের ২৫টি মূল এজেন্সি ও প্রতিটির সহযোগী (সাব-এজেন্ট) হিসেবে ১০টি করে এজেন্সি রাখার সিদ্ধান্ত জানায় মালয়েশিয়া। বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপনের এজেন্সিসহ ২৫টির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। এসব এজেন্সি মালিকের মধ্যে তিনজন সংসদ সদস্যও আছেন।

এর আগে ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের অনলাইন কাঠামোর কাজ পায় সিনারফ্ল্যাক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান নাগরিক দাতো সেরি আবদুল বিন আমিন নূরের সহযোগিতায় দেশের ১০টি এজেন্সি মিলে তৈরি হয় সিন্ডিকেট। ৩৩ হাজার ৩৭৫ টাকায় কর্মী পাঠানোর কথা থাকলেও চক্রের কারণে ২ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ করতে বাধ্য হন মালয়েশিয়াগামীরা। এই সুযোগে দুই বছরে চক্রটি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বলে গণমাধ্যমে খবর আসে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারও মালয়েশিয়ায় বসেই সিন্ডিকেট তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন দাতো আমিন।


সাজেদা চৌধুরীর আসনে উপনির্বাচন ৫ নভেম্বর

সাজেদা চৌধুরীর আসনে উপনির্বাচন ৫ নভেম্বর
সোমবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর প্রয়াত সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুর-২ শূন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ নভেম্বর।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আজ সোমবার এই তফসিল ঘোষণা করেছে।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১০ অক্টোবর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১২ অক্টোবর ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ১৩ থেকে ১৫ অক্টোবর এবং আপিল নিষ্পত্তি ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা গেছেন।

 


ট্রেন আসতেই লাইনে শুয়ে পড়েন নারী, অতঃপর…

ট্রেন আসতেই লাইনে শুয়ে পড়েন নারী, অতঃপর…
প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে শিরিনা বেগম (৫৩) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার উপজেলার বারইয়ারহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিরিনা বেগম ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজকুঞ্জরা এলাকার নুরুল হুদার স্ত্রী।

সীতাকুণ্ড রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক জহিরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপপরিদর্শক জহিরুল বলেন, ‘রেলে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এসেছি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস যাওয়ার সময় হঠাৎ সামনে শুয়ে পড়েন ওই নারী। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ওই নারীর পরিবার লাশ নিয়ে যায়।’


রমেক হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবি চিকিৎসকদের

রমেক হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবি চিকিৎসকদের
রমেক হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধনে চিকিৎসকরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন খোদ হাসপাতালটির চিকিৎসকরা। চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে হাসপাতাল থেকে অসাধু চক্রকে বিতাড়িত ও চক্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা cbWfv দাবি জানিয়েছেন তারা।

আজ সোমবার দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে ‘রংপুরের সম্মিলিত চিকিৎসক সমাজ’ এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান।

এর আগে এসব অনিয়মের কথা উল্লেখ করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন হাসপাতালের অর্থো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এবিএম রাশেদুল আমীর।

মানববন্ধনে রমেকের অধ্যক্ষ ডা. বিমল চন্দ্র রায় বলেন, এখানে এতো অনিয়ম হচ্ছে যে, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ কারণে রাস্তায় নেমেছি। দ্রুত হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ হোক। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যাব।

এ সময় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়শেনের নেতা ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত পদে পদে টাকা দিতে হচ্ছে। এখানে রোগী নিয়ে আসলে ভোগান্তির শেষ থাকে না।

মামুনুর রশীদ আরও বলেন, দুর্নীতিবাজদের কোনো দল নেই, সমাজ নেই। রংপুরের সব স্তরের মানুষকে আহ্বান করছি, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নুরুন্নবী লাইজু বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা একটি অসাধু সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এখানে কেউ মারা গেলে ওই চক্রকে টাকা দিতে হয়, তা না হলে হয়রানির শিকার হতে হয়। এই অব্যবস্থাপনা বন্ধ করতে হবে।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মাহফুজার রহমান ও বিএমএ’র সহ-সভাপতি ডা. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।


পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশিত

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে দীঘিনালার কবাখালী ইউনিয়নের মুসলিম পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, মুসলিমপাড়ার কামাল হোসেনের ছেলে ফারহান হোসেন (২) ও নুর আলমের মেয়ে নুসরাত জাহান (২)। নিহতরা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি।

কবাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে দুই শিশু বসেছিল। কিছুক্ষণ পরে তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. প্রমেশ চাকমা জানান, হাসপাতালে আনার আগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


অনিয়মের অভিযোগ, মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

অনিয়মের অভিযোগ, মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি
পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন পৌরসভার কাউন্সিলর ও পৌরবাসীদের অনেকেই। এই অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। আজ সোমবার সকালে উপজেলা শহরের দোয়েল চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়।

ঘণ্টাব্যাপী চলা এ মানববন্ধনে ব্যানার, লিফলেট, ফেসটুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় পৌরসভার সাবেক মেয়র শাহীনুর রমান রিন্টু, বর্তমান কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন ও আবু আহসান রনুসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান মেয়র ফারুক হোসেন পৌরসভায় অবৈধভাবে নিয়োগ-বাণিজ্য করছেন। এ ছাড়া পৌরবাসী জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে নির্ধারিত ফি থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। যার রশিদও আছে। পৌরবাসী নাগরিক সেবা নিতে গেলে বিভিন্ন অনিয়ম করছে মেয়র। এ সময় মেয়রের এমন কর্মকাণ্ডের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।