বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২

সারা দেশে শান্তির বার্তা বয়ে বেড়াচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সারা দেশে শান্তির বার্তা বয়ে বেড়াচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নাগরিক সম্মিলনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: দৈনিক বাংলা
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অবদানে সারা দেশে শান্তির বার্তা বয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘আজ সারা দেশে শান্তির বার্তা বয়ে বেড়াচ্ছে। আর এর পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অবদান।’

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সম্মিলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশের পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনীগুলোকে আরও শক্তিশালী ও দক্ষ করে তোলার জন্য সরকার কাজ করছে। ১৫-২০ বছর আগের পুলিশ আর এখনকার পুলিশের মধ্যে অনেক পার্থক্য। এখনকার পুলিশ যেমন জীবন উৎসর্গ করতে জানে, তেমনি বুদ্ধিমত্তা দিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করতেও দ্রুত কাজ করে।

দেশে সাইবার অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধ এত বেশি বিস্তার লাভ করেছে যে সবাই অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আমাদের দেশের মেয়েরা সবচেয়ে বেশি এ ধরনের অপরাধের শিকার হচ্ছে। এ নিয়ে তারা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকে। তাই আমরা সাইবার ক্রাইম ইউনিট গঠন করেছি।

এর আগে বিকেলে বর্ণিল শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে  জেলা পুলিশ লাইনসে বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ আখতার হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ।


জানালা দিয়ে ঘরে আগুন, দম্পতি দগ্ধ

জানালা দিয়ে ঘরে আগুন, দম্পতি দগ্ধ
পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি : সংগৃহীত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নওগাঁর পত্নীতলায় দুর্বৃত্তের আগুনে দগ্ধ হয়েছেন এক দম্পতি। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আমদাদপুর কমলাবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন, কমলাবাড়ী গ্রামের রিপন মিয়া (২৪) ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তার মিষ্টি (২০)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপন মিয়া ও তার স্ত্রী হালিমা রাতের খাওয়া শেষে ঘুমাতে যান। এ সময় বাড়ির পেছন থেকে ঘরের জানালা দিয়ে দুর্বৃত্তরা আগুনের কুণ্ডলি ছুড়ে মারে। আগুন মূহুর্তের মধ্যে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের শরীরে আগুন ধরলে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  এবং পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ঝলসে গেছে।

এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


কুড়িগ্রামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৩

কুড়িগ্রামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৩
প্রতীকী ছবি
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কুড়িগ্রামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ‍কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম, বাংলা বিষয়ের শিক্ষক সোহেল চৌধুরী ও পিয়ন সুজন মিয়া।

দুই শিক্ষককে গতকাল সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে রাতে মামলার আসামি করা হয়। এদিকে রাতে পিয়ন সুজনকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ মামলায় সব মিলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গতকাল প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচীব লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল এবং ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবায়ের ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে এজাহার নামীয় আসামি অফিস সহকারী আবু হানিফ পলাতক রয়েছেন।

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার বলেন, এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত থাকবেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।


ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকার ২৭ ওয়ার্ড

ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকার ২৭ ওয়ার্ড
ডেঙ্গু রোগের বাহকি এডিস মশা। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ঢাকার ২৭টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির ১৩টি আর দক্ষিণ সিটির ১৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব এলাকার শতকরা ১২ শতাংশ বাসাবাড়িতেই এডিস মশার বিস্তার সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মনসুন জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এদিকে অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৩১ জন। মারা গেছেন আরও একজন। ৪৩১ জনের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২৮ জন আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৩ জন। বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আছেন ১ হাজার ৫৫৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে আছেন ১ হাজার ১৯০ জন আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে আছেন ৩৬৭ জন।

গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে মনসুন জরিপ ২০২২-এর ফলাফল উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সমীক্ষা চালানো বাসাগুলোর মধ্যে ২ হাজার ৭৫৮টিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি না পেলেও ৩৯২টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। শতকরা হারে এটি ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। মোট পজিটিভ আসা বাড়িগুলোর মধ্যে ৬৩টি ডিএনসিসির এবং ৯৬টি বাড়ি ডিএসসিসির।

তিনি জানান, ডিএনসিসির ৪০টি ওয়ার্ডের ৪৮টি এলাকা এবং ডিএসসিসির ৫৮টি ওয়ার্ডের ৬২টি এলাকাসহ মোট ১১০টি এলাকার ৩ হাজার ১৫০টি বাড়িতে ১১ থেকে ২৩ আগস্ট এ সমীক্ষা চালানো হয়।

জরিপে দেখা গেছে, দুই সিটিতে পড়ে থাকা বা ফেলে রাখা ভেজা পাত্রে সবচেয়ে বেশি ২১ দশমিক ৬১ শতাংশ মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঘর বা ভবনের মেঝে প্লাস্টিকের ড্রাম বা প্লাস্টিকের নানা ধরনের পাত্রেও এই লার্ভা পাওয়া যায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ শতাংশ এ ধরনের পাত্রে ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২২ শতাংশ পাত্রে মশার এই লার্ভা পাওয়া গেছে।

মশার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ৮ নম্বর ওয়ার্ড (কমলাপুর ও মতিঝিল), ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড (নবাবপুর ও বংশাল) এবং ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে (ওয়ারী ও নারিন্দা)।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘ডেঙ্গু তো আমরাই লালন-পালন করছি। প্লাস্টিক তো আছেই। তা ছাড়া যেখানে-সেখানে কনটেইনার, পানির বোতল ফেলে রাখি। পানি জমে থাকে। পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।’

২০১৯ সালে যে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা বলার মতো নয় মন্তব্য করে আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘ডেঙ্গু নিরসনে সিটি করপোরেশন কাজ করছে, ভূমিকা রয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়েরও। সেই সঙ্গে প্রয়োজন জনসাধারণের সচেতনতা।’

বিশেষ করে আবাসিক এলাকাগুলোর বাগানের ছাদে যাতে পানি না জমে সেটি কমিউনিটিকে দায়িত্ব দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘কোভিডকালীন যেসব নন-কোভিড রোগীকে আমরা সেবা দিতে পারিনি, তারা এখন বেশি আসছেন। ফলে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়াটা অনেক চ্যালেঞ্জের। কোনো মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে কাজ করতে হবে।’

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১২ হাজার ৪৩৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর এখন পর্যন্ত মারা গেলেন ৪৬ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় মারা গেছেন ২১ জন, কক্সবাজার জেলায় ১৮ জন আর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন আর বরিশালে মারা গেছেন ৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানাচ্ছে, চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট ১২ হাজার ৪৩৮ জনের মধ্যে ৬ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন চলতি মাসের প্রথম ২১ দিনেই। ৬ হাজার ২৫৭ জন ভর্তি হয়েছেন গেল ২১ দিনে। আর মারা যাওয়া ৪৬ জনের মধ্যে ২৪ জন মারা গেছেন এ সময়ে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২৬ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। যদিও ফেব্রুয়ারি ও মার্চে প্রকোপ বেশ কমে আসে। ওই দুই মাসে ২০ জন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এপ্রিলে হাসপাতালে ভর্তি হন ২৩ জন রোগী। এর পরই বাড়তে থাকে রোগী সংখ্যা, মে মাসে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১৬৩ জন। পরের মাস অর্থাৎ জুনে রোগী সংখ্যা প্রায় তিন গুণের বেশি হয়, ৭৩৭ জন। এ মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মারা যান একজন।

জুলাইয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ৫৭১ জন, মারা যান ৯ জন। আর আগস্ট মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ হাজার ৫২১ জন আর মারা যান ১১ জন।


সেনাবাহিনীসহ সবাই প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সেনাবাহিনীসহ সবাই প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
  • বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধের মতো অবস্থা তৈরি না হলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যসব বাহিনী প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে বারবার বাংলাদেশে পড়ছে মিয়ানমারের মর্টার শেল। আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে মিয়ানমারের সামরিক হেলিকপ্টার। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধান, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা ওই বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশে নেই। আমরা একটা পরিস্থিতি দেখছি, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আরাকান আর্মির সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। সেই যুদ্ধের গোলাবারুদ আমাদের সীমান্ত ক্রস করে এসে মাঝে মাঝেই আমাদের দেশে পড়ছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। আমাদের জনগণ আতঙ্কিত যে, কী ঘটছে। সে জন্য আজ (বুধবার) আমরা সভাটি করেছি।’

‘দীর্ঘ আলোচনার পরে আমরা এ সিদ্ধান্তে এসেছি, আমাদের জাতীয় পলিসি যেটা- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। আমরা সেখানে যুদ্ধকে কখনোই উৎসাহিত করি না। আর যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিও এখনো আসেনি। মিয়ানমার তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে যুক্ত। জোর করে রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশে পাঠানো ছাড়া এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে তাদের সঙ্গে আর কোনো বৈরী আচরণ নেই। সেনাবাহিনীসহ আমাদের সবাই জানিয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সবাই যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য যে রকম সব সময় প্রস্তুত থাকে এখনো তারা প্রস্তুত আছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, কাজেই আমরা কাউকে আর কাউন্ট করি না। এসব ইস্যুর বিষয়ে আমরা কিছু মনে করি না। আমরা বীরের জাতি, আমরা সব সময় প্রস্তুত আছি। উসকানি দেয়ার অনেক চেষ্টা করছে, মানে কে বা কারা করে এগুলো আমাদের জানা নেই। আমরা যেটুকু দেখছি সেটা হলো তারা তারা নিজেরা নিজেরাই যুদ্ধ করছে। আরাকান আর্মির সঙ্গে বড় ধরনের ফাইট হচ্ছে। তাদের সীমান্তে যেটা হচ্ছে, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, সেখানে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই।’

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রাখাইনদের সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে। এই সংঘাতের মধ্যে মিয়ানমারের গোলা ও মর্টার শেল বাংলাদেশের ভেতরে এসে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে সেনাবাহিনীর যেকোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হলেও বাংলাদেশ সীমান্তে মাইন পুঁতে রেখেছে মিয়ানমার। আকাশসীমা লঙ্ঘন করে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার বাংলাদেশ সীমায় ঢুকে গুলি করেছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে চারবার তলব করে এসবের কড়া প্রতিবাদ জানানো হলেও প্রতিকার মেলেনি। ফলে মিয়ানমারের এসব কর্মকাণ্ডে কোনো উসকানি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ সরকার।

এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে ঢাকা। মিয়ানমারকে বারবার অনুরোধ করেছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে। পাশাপাশি মিয়ানমার যাতে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ফায়দা লুটতে না পারে সে বিষয়ে কূটনীতিকদের সাহায়তা চেয়েছে ঢাকা।

গত মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিং শেষে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি করে প্রতিনিয়ত যুদ্ধের উসকানি দিয়ে যাচ্ছে। তবে সেই ফাঁদে পা দেবে না বাংলাদেশ। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সীমান্ত ইস্যুর সমাধানের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চায় ঢাকা। প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্ম।

আগের দিন আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মিশনপ্রধানদেরও ব্রিফ করে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের গোলা যাতে কোনোভাবেই আর বাংলাদেশে এসে না পড়ে, সে বিষয়ে দেশটিকে বোঝাতে আসিয়ান দেশগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেখানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে এলে তার কাছেও বিষয়টি তুলে ধরেন। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিষয়টি তুলে ধরে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।


এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস করলেন কেন্দ্রসচিব

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস করলেন কেন্দ্রসচিব
কেন্দ্রসচিব (বামে প্রথম)সহ আটক তিনজন । ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
  • দিনাজপুর বোর্ডে স্থগিত চার বিষয়ের পরীক্ষা

  • কেন্দ্রসচিবসহ তিন শিক্ষক আটক

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

কুড়িগ্রামের এক কেন্দ্র থেকে চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। যে কারণে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের গণিত, কৃষিশিক্ষা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন  বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কেন্দ্রসচিব লুৎফর রহমান এই প্রশ্ন ফাঁস করেছেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন। সচিবের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ সচিবসহ তিনজনকে আটক করেছে।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পরীক্ষা পরিচালক আদম মালিক চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ‍নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব মো. লুৎফর রহমান, অফিস সহকারী আবু হানিফ, ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবাইর হোসেন ও ইংরেজি শিক্ষক আমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অফিস সহকারী আবু হানিফ পলাতক।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে আমরা আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। প্রয়োজনে রিমান্ড আবেদন করা হবে।’

যেভাবে জানা গেল

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলা পরীক্ষা পরিচালক আদম মালিক চৌধুরী ও কেন্দ্রসচিব লুৎফর রহমান প্রশ্নপত্র আনতে থানায় যান। থানা থেকে পুলিশি পাহারায় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র বিষয়ের দুই প্যাকেট প্রশ্ন সিলমোহর করা অবস্থায় নিয়ে নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পৌঁছান। এরপর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের অফিসে তা সংরক্ষণ করা হয়।

পরে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বোর্ডের মেসেজ পেয়ে লুৎফর রহমানের কাছ থেকে প্রশ্নপত্রের একটি প্যাকেট নেন আদম মালিক, যা পরে দায়িত্বরত শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরীক্ষা শেষে বেলা দেড়টার দিকে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব উঠলে আদম মালিক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানান। পরে তারা লুৎফর রহমানকে তার অফিস কক্ষে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। একপর্যায়ে লুৎফর রহমান স্বীকার করেন, তার কাছে প্রশ্নপত্রের অতিরিক্ত সেট রয়েছে।

স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লুৎফর রহমানের অফিস কক্ষের বুক শেলফের নিচের তাক থেকে একটি কাপড়ের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যাগে গণিত (আবশ্যিক), উচ্চতর গণিত, কৃষিশিক্ষা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট পাওয়া যায়। সেখানে উচ্চতর গণিত ছাড়া বাকি প্যাকেটগুলোর মুখ খোলা ছিল। তখন ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা প্রশ্নপত্র জব্দ করে লুৎফর রহমানকে আটক করেন।

পরে আরও জিজ্ঞাসাবাদে লুৎফর রহমান জানান, অফিস সহকারী আবু হানিফের সহায়তায় কৌশলে তিনি চার বিষয়ের প্রশ্নপত্র নিয়ে আসেন। ওই প্রশ্ন অফিস সহকারী আবু হানিফ, ইসলাম শিক্ষার সহকারী শিক্ষক জোবাইর হোসেন ও ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমানের মাধ্যমে গোপনে ফাঁস করে দেন। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র মুহূর্তেই উত্তরপত্রসহ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নও ফাঁস

দিনাজপুর বোর্ডের পক্ষ থেকে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের কথা বলা হয়েছে। আর স্থগিতকৃত চার বিষয়ের প্রশ্নপত্রের সিলগালা প্যাকেট খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নও ফাঁস হয়েছিল। পরীক্ষার আগের রাতেই ইংরেজি প্রথম পত্রের উত্তরপত্রসহ প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীরা সামাজিক মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে পেয়ে যায়। পরদিন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়। ওই প্রশ্ন প্রতি কপি ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

পরীক্ষা স্থগিত

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) সকালের গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুর।

স্থগিতের অফিস আদেশে বলা হয়, ‘দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২২ সালের চলমান এসএসসি পরীক্ষার গণিত (১০৯), পদার্থবিজ্ঞান (১৩৬), কৃষিবিজ্ঞান (১৩৪) এবং রসায়ন (১৩৭) বিষয়ের পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো। স্থগিতকৃত বিষয়গুলোর পরীক্ষার তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। তবে বাকি বিষয়ের পরীক্ষাগুলো রুটিন অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।’

তদন্ত কমিটি গঠন

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড দিনাজপুর। কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. ফারাজ উদ্দিন তালুকদারকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কামরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষাসচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে আগের প্রশ্ন ফাঁস ও এখনকার প্রশ্ন ফাঁসের পার্থক্য আছে। এবারের প্রশ্ন ফাঁস ফেসবুক বা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েনি। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

তবে শুধু দিনাজপুর নয়, চলমান এসএসসি পরীক্ষায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর যশোর বোর্ডের অধীনে নড়াইলে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্নপত্রও পরিবর্তন হয়ে যায়। ভুল করে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার দিনে দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। এটা জানার পর ওই পরীক্ষা স্থগিত করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।