মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২

সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টারশেল বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা কিশোর নিহত

সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টারশেল বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা কিশোর নিহত
বান্দরবানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মর্টারশেল। ফাইল ছবি
বান্দরবান ও কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত

বান্দরবানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্যরেখায় মিয়ানমার থেকে আসা একটি মর্টারশেল বিস্ফোরণে মো. ইকবাল (১৭) নামে এক রোহিঙ্গা কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। তারাও রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মিয়ানমারের গোলায় একজনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও কোণাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে মর্টারশেলটি বিস্ফোরিত হয়। পরে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছ‌মিন পারভীন তিবরী‌জি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নো-ম্যান্স ল্যান্ডে মর্টারশেল বি‌স্ফোর‌ণে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন।’

নিহত ইকবাল শূন্যরেখার আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা মুনির আহমদের ছেলে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহত ইকবালের চাচাতো ভাই এরফানুল হক দৈনিক বাংলাকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ঘুমধুম নো-ম্যান্স ল্যান্ডের কোনাপাড়া ক্যাম্পের পাশেই মর্টারশেলটি বিস্ফোরিত হয়। এতে ইকবাল (১৭) গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথেই সে মারা গেছে। তার লাশ কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে এমএসএফ (ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস) হাসপাতালে রাখা হয়েছে।’

মর্টারশেল বিস্ফোরণে আহত বাকি পাঁচজন হলেন— সাদিয়া জান্নাত (১০), সাবেকুন নাহার, নবী হোসেন, ভুলু ও আনাছ।

স্থানীয়রা জানান, মর্টারশেলটি বিস্ফোরিত হলে এক শিশুসহ কয়েকজন রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন। ঘুমধুমের কোনারপাড়ার শাহ আলমের বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে একটি গুলি গিয়ে পড়ে। এরপর থেকেই কোনারপাড়া এলাকা থেকে লোকজন পালাতে শুরু করেন। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তর ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুপলা ধর বলেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকে সীমান্তের ওপারে প্রচণ্ড গোলাগুলি হচ্ছে। মিনিটে ৮-১০টি করে মর্টারশেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। রাতে একটি মর্টারশেল বিস্ফোরণে বাংলাদেশের ভেতর তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া শিশুসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’

তুমব্রু রোহিঙ্গা ক্যাম্প কমিটির চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মিয়ানমার থেকে চারটি মর্টারশেল এসে পড়ে। এর মধ্যে তিনটি শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও আরেকটি বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে পড়েছে। এতে এক রোহিঙ্গা শিশুসহ ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।’ এই ছয়জনের মধ্যে মো. ইকবাল হাসপাতালে নেয়ার পথেই মারা গেছেন।

এর আগে, এই সীমান্তেই হেডম্যানপাড়ার ৩৫ নম্বর পিলার থেকে মিয়ানমার সীমান্তের ৩০০ মিটার অভ্যন্তরে শুক্রবার দুপুরে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন অন্নথাইং তঞ্চঙ্গ্যা। বাংলাদেশি এই তরুণের তার বাড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তুমব্রু হেডম্যানপাড়ায়।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম জানান, শুক্রবার দুপুরে অন্নথাইং তঞ্চঙ্গ্যা তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় ৩৫ নম্বর পিলারের কাছাকাছি কাঁটাতার পেরিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যান। সেখানে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।


আলো ছড়াচ্ছে সেলিম আল দীন পাঠাগার

আলো ছড়াচ্ছে সেলিম আল দীন পাঠাগার
সেলিম আল দীন পাঠাগার। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

শামীম আল মামুন, টাঙ্গাইল

আধুনিক সময়ে কিশোর, তরুণদের মধ্যে মোবাইলপ্রীতির কারণে বই যখন ছিটকে পড়ছে, তখন টাঙ্গাইলের সখীপুরে দেখা গেল অন্যরকম দৃশ্য। কয়েকজন কিশোর স্কুল থেকে ফিরে পাঠাগারে বসে বইয়ের জগতে ডুবে গিয়েছে। বইয়ের মধ্যে দিয়েই তারা চলে যাচ্ছে অতীত কিংবা ভবিষ্যতে। দর্শন, রাজনীতি, সাহিত্য নানা বিষয়ের জ্ঞানে ঋদ্ধ করছে নিজেদের।

আর তাদের বইয়ের জগতে ফিরিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে সেলিম আল দীন পাঠাগার। বাংলা নাটকের গৌড়জন সেলিম আল দীনের নামে ‘বই পড়ি নিজেকে গড়ি’ স্লোগানে টাঙ্গাইলের সখীপুরের কচুয়া গ্রামে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাঠাগারটি।  

তবে ২০২১ সালে নিজস্ব জমিতে টিনের আধাপাকা ঘরে স্থানান্তর করা হয় পাঠাগারটি। সপ্তাহে সাতদিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি।

রবীন্দ্র রচনাবলিসহ পাঠাগারে রয়েছে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, সাময়িকীসহ কয়েক হাজার বই। গ্রামীণ মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে পাঠাগারটি গড়ে উঠেছে। খেলাধুলাসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে পাঠকের জন্য। দেশ-বিদেশের খবরাখবর, অনুষ্ঠানাদি দেখার জন্য পাঠাগারে আছে টেলিভিশন। পাশেই রয়েছে একটি কফি হাউস, খোলাপ্রান্তর। সম্পূর্ণ বিনা খরচে পাঠক এখানে বই পড়তে পারবেন। এমনকি বাড়িতেও নিয়ে যাওয়া যাবে। তবে নির্দিষ্ট সময়মতো তা ফেরত দিতে হবে।

স্কুলছাত্রী সুমাইয়া শিমু বলেন, ‘স্কুলে যখন ক্লাস থাকে না, তখন আমরা এই পাঠাগারে চলে আসি। এখানে এসে গল্পের বই পড়ি। খুব ভালো লাগে। আগে তো অবসর সময়ে শুধু টিভি দেখতাম। তবে এখন এখানে এসে বই পড়ে অনেক জ্ঞানার্জন করতে পারছি।’

স্কুলপড়ুয়া কুশল জানান, ‘আগে স্কুল থেকে ফিরে মোবাইলে গেমস খেলতাম। কিন্তু এখন পাঠাগারে এসে বই পড়ি, ক্যারাম খেলি আর টিভিও দেখি। খুব ভালো লাগে। এখন আর মোবাইল গেমস খেলতে তেমন ভালো লাগে না।’

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরাও অনেক খুশি হয়েছেন পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হওয়াতে। স্থানীয় টুটুল মিয়া বলেন, লাইব্রেরিটা দেয়াতে খুবই ভালো হয়েছে। আগে পোলাপান এলোমেলো ঘুরত, মোবাইলে গেমস খেলত। এখন দেখি আবার ওরাই এই লাইব্রেরিতে এসে বই পড়ে, গল্পগুজব করে। দেখতে ভালোই লাগে। হরেকরকমের বই আছে এখানে। মুক্তিযুদ্ধের বই, ছড়ার বই, উপন্যাস, নাটক আরও অনেক বই। উঠতি বয়সের পোলাপানই বেশি আসে। অনেক শান্তি হয়েছে গ্রামটাতে এখন।

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মামুন হায়দার বলেন, সেলিম আল দীন পাঠাগারে রয়েছে নানা মত ও পথের বই। বই ছাড়া প্রকৃত মনুষ্যত্ব লাভ করা যায় না। একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার সব ধরনের পাঠকের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করে; মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনে অবদান রাখে। পাঠাগারের মাধ্যমেই একটি জাতি উন্নত, শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান জাতি হিসেবে গড়ে ওঠে। জাতীয় জীবনে তাই পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম।

তিনি আরও জানান, বই পড়ার যে আনন্দ, তার কোনো তুলনা হয় না। পাঠাগার মানুষের ক্লান্ত, বুভুক্ষু মনকে আনন্দ দেয়। তার জ্ঞান প্রসারে, রুচিবোধ জাগ্রত করতে সহায়তা করে। সুস্থ সংস্কৃতির বিস্তার ঘটাতে, প্রকৃত জ্ঞানার্জন ও প্রাণশক্তি বৃদ্ধির জন্য পাঠাগার সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ লক্ষ্যকে ব্রত করেই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক ও কলামিস্ট ড. হারুন রশীদ বলেন, “আমরা এখানে একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলব। তারই অংশ হিসেবে একটি সাংস্কৃতিক বলয় তৈরির চেষ্টা হচ্ছে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও রবীন্দ্রোত্তর কালের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার সেলিম আল দীনের নামে এই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি এ এলাকায় এসেছেন। এখানকার মান্দাই নৃগোষ্ঠী নিয়ে ‘বনপাংশুল’ নামে নাটক লিখেছেন। আমরা পাঠাগারের মাধ্যমে তার স্মৃতি ধরে রাখতে চাই। তথ্যপ্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে নতুন প্রজন্ম মোবাইল ও ফেসবুকমুখী হচ্ছে। তাদেরকে বইমুখী করার চ্যালেঞ্জ নিয়েই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।”

পাঠাগার থেকে মেধাবৃত্তি, ‘রোদ্দুর’ নামে সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশসহ নানামুখী সৃজনশীল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এর কর্মপরিধি আরও বাড়বে বলে জানান পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ড. হারুন রশীদ।


অজ্ঞাতদের নিয়ে চাপে পুলিশ

অজ্ঞাতদের নিয়ে চাপে পুলিশ
পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
শাহরিয়ার হাসান
প্রকাশিত
  • ১২৪ মামলায় আসামি ২২ হাজার ৩০৭ জন, অজ্ঞাত ২০ হাজারের বেশি

  • সবচেয়ে বেশি মামলা নোয়াখালীতে। ৩২ মামলার ৩টিতে চার্জশিট

শাহরিয়ার হাসান

গুজব ছড়িয়ে গত বছর কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে স্থানীয়দের হামলার ঘটনার পর সেটা কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় চার মহানগর ও ২৮ জেলায় ১২৪টি মামলা হয়েছিল। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছিল ২২ হাজার ৩০৭ জনকে। কিন্তু ঘটনার এক বছর হতে চললেও মামলাগুলোর তদন্তে বলার মতো অগ্রগতি নেই।

কারণ হিসেবে তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব মামলায় বেশির ভাগ আসামিই অজ্ঞাতনামা। অজ্ঞাতনামাদের চিহ্নিত করতে না পারায় মামলার তদন্তে ধীরগতি। তাই কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হতে পারে সেটাও স্পষ্ট নয়। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুরুতে তৎপর থাকলেও পরে এসে তদন্তে আন্তরিকতা হারিয়ে ফেলে পুলিশ।

সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় হওয়া এসব মামলা তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি, জেলা গোয়েন্দা পলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই এবং সংশ্লিষ্ট কিছু থানার পুলিশ। 

সম্প্রতি মামলাগুলোর তদন্তে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এম খুরশীদ হোসেন বলেছেন, শুধু মামলার তদন্ত না, আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরি ও পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক মামলার ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্তে ধীরগতি নিয়ে ২৬টি মামলার তদারক কর্মকর্তা সিআইডির চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ডিআইজি হাবিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, কিছু কিছু মামলার অগ্রগতি ভালো হলেও কয়েকটি মামলার থমকে রয়েছে। এতে জ্ঞাত-অজ্ঞাত আসামিদের সঙ্গে হামলার সংশ্লিষ্টতা খুঁজতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তাই সময় লাগছে।

দেশজুড়ে দুর্গাপূজা চলার সময় গত বছরের ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে মন্দিরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে তা আরও কয়েকটি জেলায় ছড়ায়। কুমিল্লার পর চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নোয়াখালী ও ফেনীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আক্রান্ত হয়। এসব ঘটনায় সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হন। কিছু দিন পর রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ায় হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেয়া হয় ফেসবুকে এক তরুণের ধর্ম অবমাননার কথিত পোস্টকে কেন্দ্র করে। জেলেপল্লীর ২৯টি বাড়ি ও গোয়ালঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় মন্দিরও।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র বলছে, সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় করা ১২৪টি মামলায় নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ৫৫৯ জনকে। অজ্ঞাত আসামি ২০ হাজার ৭৪৮ জন। মোট আসামির ৯৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা মোট আসামির এক শতাংশেরও কম। গ্রেপ্তার হওয়াদের অধিকাংশই আবার জামিনে বেরিয়ে গেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ ধরনের ঘটনা যখনই ঘটেছে, তখনই আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছি। মামলা হয়েছে, কয়েকটি ঘটনায় চার্জশিট হয়েছে, কোনোটা বিচার পর্যায়ে রয়েছে।

কুমিল্লার মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা

কুমিল্লায় ঘটনার দিন নগরের চারটি মন্দির, সাতটি পূজামণ্ডপ ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। আহত হন অন্তত ৩০ জন। আহতদের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই দিন জেলার সদর দক্ষিণ, দেবীদ্বার ও দাউদকান্দিতে প্রতিমা ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এ সব ঘটনায় মামলা হয় ৯টি।

থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, ওই সব হামলার ঘটনায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান ও সাবেক তিন কাউন্সিলর ও বিএনপির কয়েকজন কর্মীসহ ৯২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭০০ জনকে আসামি করা হয়। কোরআন অবমাননা মামলার প্রধান আসামি ইকবাল হোসেনসহ শতাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় কারাগারে আছেন জামায়াতের সাবেক ও বর্তমান তিনজন কাউন্সিলর।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন রায় বলেন, ১১ মাসেও কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের কোনো বিচার হয়নি। সরকারি দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন হয়নি।

নোয়াখালীর ৩২ মামলার ৩টিতে চার্জশিট

কুমিল্লার ঘটনার পরপর বিভিন্ন জেলায় যে সংঘর্ষ হয় তার মধ্যে নোয়খালীতে সবচেয়ে বেশি ৩২টি মামলা হয়। এর মধ্যে সিআইডি তদন্ত করছে ১১টি, পিবিআই ১১টি, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ৫টি, হাতিয়া থানা ৩টি, বেগমগঞ্জ থানা ১টি এবং কোম্পানীগঞ্জ থানা ১টি মামলা তদন্ত করছে।

এদের মধ্যে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ৩ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে যাতে আসামি মাত্র তিনজন। নোয়াখালীর বাকি ২৯টি মামলার এখনো তদন্ত চলছে। সেখানে সব মামলায় আসামি ১০ হাজার। ৩০১ জন গ্রেপ্তার হলেও প্রায় সবাই জামিনে বেরিয়ে গেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নোয়াখালী জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী পাপ্পু সাহা বলেছেন, সেই হামলার এত দিন পরও ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলো পুরোপুরি পুনর্গঠন সম্ভব হয়নি।

চাঁদপুরে অর্ধেকের বেশি আসামি জামিনে

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ১০টি মামলার একটিরও অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি। এসব মামলার মধ্যে পুলিশের কাছে দুটি, ডিবির কাছে দুটি, সিআইডির কাছে তিনটি এবং পিবিআইয়ের কাছে তিনটি মামলা আছে।

থানা-পুলিশ জানায়, এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয় ১১৭ জন আসামি। তাদের মধ্যে অর্ধশতাধিক জামিনে আছেন। বাকি ৭৯ জন আসামি কারাগারে।

এসব হামলার ঘটনায় তিন জেলায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এসব কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও ‘তদন্তের স্বার্থে’ প্রতিবেদন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাননি কমিটির সদস্যরা।

পিবিআইয়ের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, মামলাগুলোতে এত জ্ঞাত-অজ্ঞাত আসামি থাকায় পুরোপরি তদন্ত না করে আসামি গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। তবে পিবিআইর হাতে থাকা বেশ কয়েকটি মামলায় অগ্রগতি আছে। আসামিদের জবানবন্দিও পাওয়া গেছে। আমাদের কাজ এগিয়ে চলছে।

 তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্য মানতে নারাজ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। তার মতে, এসব মামলার তদন্তে পুলিশের আন্তরিকতা শুরুর তুলনায় কমে গেছে। তাই দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্তে তাদের এই ঢিমেতাল অবস্থান। অভিযোগপত্র তো দূরে থাক যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারাই জামিনে বের হতে শুরু করেছেন। আবার কাউকে কাউকে তো ধরার সাহসই পায় না পুলিশ।

 


‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নির্বিচার ব্যবহার ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে’

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নির্বিচার ব্যবহার ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে আর্টিকেল নাইনটিন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • আর্টিকেল নাইনটিনের বিবৃতি

ভিন্নমত ও সরকারের সমালোচনা দমনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটির নজিরবিহীন অপপ্রয়োগ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন। পাশাপাশি এই আইনের বিতর্কিত ধারা সংস্কার করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আর্টিকেল নাইনটিন এসব কথা জানায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের চার বছর হলো আজ।

আর্টিকেল নাইনটিন বলছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নির্বিচার ব্যবহার বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে দূর্বল করে একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। গত চার বছরে ভিন্নমত ও সরকারের সমালোচনা দমনে এই আইনের নজিরবিহীন অপপ্রয়োগ হয়েছে।

সংস্থাটি মনে করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত আইন কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় থাকতে পারে না। সরকার এই আইনের বিতর্কিত ধারা সংশোধনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছে। আর্টিকেল নাইনটিন গণতন্ত্রের স্বার্থে এই আইনের বিতর্কিত ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাশ হওয়ার পর থেকে আর্টিকেল নাইনটিন আইনটির নিবর্তনমূলক ধারা সংশোধনের কথা বলে আসছে। কিন্ত বাস্তবতা হলো এ আইনে মামলা দায়ের ও গ্রেফতার হচ্ছে অব্যাহত গতিতে।

ফারুখ ফয়সল বলেন, সর্বশেষ, অনলাইনে একটি অনুষ্ঠান সঞ্চালন করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী এই আইনে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক মাস ধরে কারাগারে আছেন। এই সময়ে তিনবার আবেদন করেও জামিন পাননি ওই শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে মামলা দায়েরের সময় তাঁর বয়স ছিলো সতেরো বছর। তিনি আরও বলেন, ‘এই আইনে দায়ের হওয়া বেশিরভাগ মামলার মতো, ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ভিত্তিও নড়বড়ে। এর আগে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও এই আইনে দায়ের হওয়া মামলায় জড়ানোর অনুরূপ উদাহরণ দেখা গেছে।’

আর্টিকেল নাইনটিন বলছে, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটির অপপ্রয়োগ হয়েছে স্বীকার করে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী আইনটির প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া এবং সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।’


বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা

বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা
আটক ফিরোজ আলী খন্দকার। ছবি: দৈনিক বাংলা
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সরকারিভাবে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ফিরোজ আলী খন্দকার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার গভীর রাতে বাগেরহাট পৌরসভার সোনাতলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক ৪৫ বছর বয়সী ফিরোজ আলী খন্দকার গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার নোয়াদা এলাকার বাসিন্দা।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাট পৌরসভার সোনাতলা এলাকায় একটি বাড়িতে থাকতেন। সে নিজেকে বাগেরহাট সদর উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বলে পরিচয় দিত।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহামুদ হাসান জানান, আটক ব্যক্তি বাগেরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তিকে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে কানাডা, রোমানিয়া ও মালয়শিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেওয়ার কথা বলে ডাক্তারি পরীক্ষা করান। এজ    ন্য ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া তিনি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য বাগেরহাট থেকে ২২০ জনকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশ নেয়া হবে বলে প্রচার-প্রচারণা চালাতে থাকেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে ফাঁকা চেক জমা দিতে বলেন। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীদের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দেন।

সদর উপজেলার মুক্ষাইট এলাকার চা দোকানি আলামিন হোসেন জনি নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, কিছুদিন আগে ফিরোজ খন্দকারের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি হলে অনলাইন আবেদন, মেডিকেল টেস্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাবদ আমার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেয়। পরে তার দেওয়া একটি অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে বললে আমার সন্দেহ হয়। বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। আমাদের এলাকার আরও অনেকের সঙ্গে এমন প্রতারণা করেছে সে।


সাকিবকাণ্ডে বিব্রত দুদক

সাকিবকাণ্ডে বিব্রত দুদক
সাকিব আল হাসান। ছবি : সংগৃহীত
মোর্শেদ নোমান
প্রকাশিত

মোর্শেদ নোমান

শেয়ারবাজার কারসাজিতে নাম আসা এবং জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনলাইন নিউজ সাইটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘটনায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। কারণ সাকিব আল হাসান দুদকের শুভেচ্ছা দূত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্নীতিতে নাম আসায় সাকিবের বিষয়টি নিয়ে যেখানে দুদকের অনুসন্ধানে নামার কথা সেখানে সাকিব এখনও সংস্থাটির শুভেচ্ছা দূত হিসেবে বহাল আছেন। দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি এখনও সাকিবের সঙ্গে ওই চুক্তি বাতিল করেনি।

বিষয়টি নিয়ে দুদকের অবস্থান জানতে সংস্থাটির শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করলেও কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, সাকিব দুদকের শুভেচ্ছা দূত থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে সাকিবের নাম এসেছে। যদিও বিষয়টি এখনও প্রমাণিত না তারপরও বিষয়টি দৃষ্টিকটূ।’

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, দুদকের কাজের যে ধারা তাতে আরও আগেই তাদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল। বেটউইনারের সঙ্গে সাকিবের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। এটি বাংলাদেশের আইন ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রীতিনীতির পরিপন্থী। দুদক তখনও ব্যবস্থা নেয়নি। এখন শেযারকারসাজির সঙ্গে তার নাম এসেছে। তাই দেরি না করে দ্রুত এ চুক্তি বাতিল করা উচিত।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় ‘বিজ্ঞাপন’ সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে ২০১৮ সালে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে দুদক। বিনা পারিশ্রমিকে দুদকের শুভেচ্ছা দূত হয়ে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনেও অংশ নেন সাকিব। ওইসব বিজ্ঞাপনে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা তুলে ধরেন বিশ্ব ক্রিকেটের এই পোস্টারবয়।

অথচ গত কয়েক মাসে সাকিবকে নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়াসহ গণমাধ্যমে। বাংলাদেশের আইনে জুয়া এবং এ সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি বেআইনি হলেও গত ২ আগস্ট সাকিব আল হাসান তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটা পোস্ট দিয়ে বেটউইনার নিউজের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার ঘোষণা দেন। বেটউইনার একটি অনলাইন বেটিং ও ক্যাসিনোর ওয়েবসাইট। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

সাকিবের ঘোষণার পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান সাফ জানিয়ে দেন, সাকিবকে বেটউইনারের সঙ্গে চুক্তি অথবা বাংলাদেশের পক্ষে খেলার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। বিসিবি প্রধানের ওই হুমকির পর সাকিব বেটউইনার নিউজের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানান। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টও সরিয়ে ফেলেন। তারপর সাকিবকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপের জন্য টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা করে ক্রিকেট বোর্ড।

ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে তার নাম উঠে আসে। অথচ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই অধিনায়কের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কাজে লাগাতে কয়েক বছর আগে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীদের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে তাকে দিয়ে বানানো হয় টেলিভিশন বিজ্ঞাপনও।

সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানির শেয়ারে কারসাজি করে যে চক্রটি ১৩৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে বলে বিএসইসির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সেই চক্রের সঙ্গে নাম এসেছে সাকিব আল হাসানেরও। বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ কারসাজির ঘটনায় যে সাতটি প্রতিবেদন করেছে, সেখানে কমপক্ষে দুটিতে সাকিবের বিও হিসাবের কথা উল্লেখ আছে। আর কয়েকটির মধ্যে তার মালিকানাধীন কোম্পানি মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেডের নাম এসেছে।

এসব কারসাজিতে মূল অভিযুক্ত পুঁজিবাজারে বহুল আলোচিত-সমালোচিত মুখ আবুল খায়ের হিরু। সমবায় অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির এই কর্মকর্তার ব্যবসায়িক পার্টনার সাকিব আল হাসান।

শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে সাকিবের নাম জড়িয়ে পড়া নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্রিকেটারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এখনও আসেনি। প্রতিদিনই গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় চলছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের শুভেচ্ছা দুত হিসেবে সাকিব থাকছেন কিনা এটা নিয়ে আলোচনা আছে।

সাকিব আল হাসানের সঙ্গে দুদকের যে চুক্তি হয় তার সমন্বয় করেছিলেন সংস্থাটির সাবেক পরিচালক নাসিম আনোয়ার। দুদকের অবসরে থাকা এই কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, সাধারণত চুক্তিগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলেও সাকিবের সঙ্গে দুদকের ওই চুক্তি কোনো সময়াবদ্ধ বিষয় ছিল না। চুক্তিতে বলা ছিল, কোনো পক্ষ চাইলে তিন মাসের নোটিশে চুক্তি বাতিল করতে পারবে।