রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ছেলের মরদেহ নিল পরিবার

চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ছেলের মরদেহ নিল পরিবার
বি এম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে নিহত মাইনুদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
  • সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ

আরাফাত বিন হাসান, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বি এম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের পর থেকে ছেলে মাইনুদ্দিন নিখোঁজ। গাড়িচালক বাবা চাকরি-বাকরি ছেড়ে তিন মাস হন্যে হয়ে খুঁজেছেন ছেলেকে। অবশেষে ছেলের খোঁজ পেয়েছেন তিনি। তবে জীবিত নয়, ছেলের মরদেহের খোঁজ পাওয়া গেছে। এই তিন মাসে ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে জমানো টাকা সব গেছে। চড়া সুদে টাকা ধার করেছেন। তারপরও ছেলের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে নিতে পারেননি। বাধ্য হয়ে পিকআপ ভ্যানে করেই নিতে হয়েছে মাইনুদ্দিনের মরদেহ বাবা হেদায়েত উল্লাহকে।

বি এম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে নিহত মাইনুদ্দিনসহ দুজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেছে গত বৃহস্পতিবার। অপরজন হলেন মো. জুয়েল।

২১ বছর বয়সী মাইনুদ্দিনের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায়। তিনি কাভার্ড ভ্যান চালাতেন। তার বাবা হেদায়েত উল্লাহও গাড়িচালক।

হেদায়েত উল্লাহ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ছেলেকে খুঁজতেছি গত তিন মাস ধরে। সব মিলিয়ে ১০২ দিন। এর মধ্যে বিএম ডিপোতে গেছি অন্তত ৫০ দিন। চট্টগ্রাম মেডিকেলে অনেক খুঁজছি। চট্টগ্রামের ডিসি অফিসে গেছি তিনবার, থানায় গেছি, আমাদের (নোয়াখালীর) ডিসির কাছে গেছি, এমপির কাছে গেছি- সবাই বলছেন, দেখব। নিজের জমানো যা ছিল খরচ করে ফেলছি ছেলেকে খুঁজতে খুঁজতে। সুদের ওপর নিছি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মতো।’

হেদায়েত উল্লাহ বলেন, ‘এত টাকা গেছে, তবু আমার আপসোস নাই। ছেলের মরদেহটা অন্তত পাইছি, জানাজা পড়তে পারছি, কবর দিতে পারছি।’

সুদে টাকা নিয়ে ছেলের মরদেহ বাড়িতে নেয়ার বিষয়ে হেদায়েত বলেন, ‘আমার তো সব শেষ, টাকা-পয়সা আর নাই। আসার সময় খবর নিছি, অ্যাম্বুলেন্স ২০ হাজার ছাড়া আনবে না। একজনের কাছ থেকে ১০ দিন মেয়াদে ১৫ হাজার টাকা নিছি, ফেরত দিতে ১০ দিনের বেশি সময় লাগলে ৫ হাজার টাকা এক্সট্রা দিতে হবে।’

মাইনুদ্দিনের সঙ্গে বিস্ফোরণের প্রায় এক মাস আগে দেখা হয়েছিল উল্লেখ করে তার বাবা হেদায়েত বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল ঈদের পরের দিন, মানে ৩ মে। এরপর সে বাড়িতে গিয়েছিল, আমি যাইনি আর। যে দিন ঘটনা, ওই দিন রাত ১০টায় ইমুতে কল দিয়ে আমাকে দেখিয়েছিল আগুন, আমি বলছি দূরে থাক। আমি ব্যস্ত ছিলাম, আর কথা হয়নি। পরে ১২টার দিকে কল দিয়ে তারে আর পাই না। চট্টগ্রামে আরেকজনকে কল দিয়ে শুনি ডিপোতে বিস্ফোরণ হয়েছে। আমি তখনই রওনা দিই, সকালে চট্টগ্রাম পৌঁছাই। তখন থেকে তারে খোঁজা শুরু করছি।’

মইনুদ্দিনের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে কি না জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের এনডিসি মো. তৌহিদুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যাদের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে, তাদের সবাইকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। কিছু মরদেহ এখনো ডিএনএ টেস্টের ফলাফলের জন্য আটকে আছে, তাদের দেয়া হয়নি।’

শুরুতে নিহতদের দাফনের জন্য কিছু অর্থ দেয়া হলেও নতুন শনাক্তদের পরিবারকে তা কেন দেয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুরুতে যে রকম পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, এখনো সেটা অনুসরণ করা হচ্ছে।’ মাইনুদ্দিনের পরিবারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে মরদেহ গেছে, আমরা জানতাম না। আমাদের কেউ জানাননি। এই বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ভালো জানবেন।’

তবে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ বা নতুন পরিচয় শনাক্ত মরদেহের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে জানতে জানতে স্মার্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী এবং বি এম ডিপোর মহাব্যবস্থাপক নাজমুল আক্তার খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাদেরও কোনো সাড়া মেলেনি।

অগ্রগতি নেই পুলিশের মামলার

বি এম কনটেইনার ডিপোর বিস্ফোরণের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশের দায়ের করা মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। ঘটনার তিন দিন পর ডিপোর আট কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ সিদ্দিকী। সেই মামলায় তিন মাসেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আসামিরা পলাতক। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন।’

নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের যৌথ মালিকানাধীন (জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি) প্রতিষ্ঠান বি এম কনটেইনার ডিপো সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায়। বাংলাদেশে এর মালিকানা স্মার্ট গ্রুপের। গ্রুপের চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমানই ডিপোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। পরিচালক হিসেবে রয়েছেন তার ছোট ভাই মুজিবুর রহমান। এই ডিপোতে গত ৪ জুন রাত ৯টার দিকে আগুন লাগে। রাত ১১টার দিকে প্রথম বড় বিস্ফোরণ ঘটে। একে একে ছুটে যায় চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা থেকেও পরে যোগ দেয় কয়েকটি ইউনিট। ৫ জুন সকাল পর্যন্ত আগুন নেভাতে আসা ইউনিটের সংখ্যা বেড়ে হয় ২৫টি। কিন্তু কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক পদার্থের কারণে দফায় দফায় বিস্ফোরণে বাড়ে আগুনের ভয়াবহতা।

আগুন লাগার ৮৭ ঘণ্টা পর ৮ জুন দুপুরে বি এম কনটেইনার ডিপোর আগুন নেভে। আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনার প্রথম ২ দিনে ৪১টি মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চারজন। ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময় দেহাবশেষ পাওয়া গেছে ছয়জনের। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৫১ জন হিসাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন করে আরো তিন মরদেহের পরিচয় শনাক্তের কথা জানায় পুলিশ। তারা হলেন আবুল হাশেম, মাইনুদ্দিন ও মো. জুয়েল। এর মধ্যে আবুল হাশেমের এক পা বিহীন মরদেহ ঘটনার পরপরই শনাক্ত করে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পা পেয়ে তা একটি মরদেহ ধরেই ডিএনএ পরীক্ষা করে সিআইডি। সেই হিসাবে একটি মরদেহ বাদ দিলে এখন পর্যন্ত বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫০ জন।

প্রথম ২ দিনে উদ্ধার ৪১টি মরদেহের মধ্যে পরিচয় পাওয়া যায় ২৫ জনের। এরপর ঢাকা ও চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনজন। ৬ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয় ৬টি। এরপর প্রথম দফায় ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় মেলে ১৪টি মরদেহের। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুজন শনাক্ত হন। সেই হিসাবে এখন পর্যন্ত পরিচয় মেলেনি ছয়টি মরদেহের।  


ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত

ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত
ছবি : দৈনিক বাংলা
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে সানারুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন। আজ রোববার সকাল ১০ টার দিকে রেল জগন্নাথপুর গ্রামে রেল লাইনের ওপর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ। নিহত সানারুল উপজেলার পারকুলা গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে।

স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, আজ ভোরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়েন সানারুল। তার ডান হাত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মাসুদ রানা বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


ময়লার ভাগাড় যেন ‘টাকার খনি’

ময়লার ভাগাড় যেন ‘টাকার খনি’
মহাসড়কে ময়লা ও আবর্জনা ফেলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ জানিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বিলবোর্ডে ঘেঁষেই ফেলা হচ্ছে ময়লা। ছবি: দৈনিক বাংলা
সাভার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • বাইপাইলের ময়লার ভাগাড়ে গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা চাঁদা নেয়ার অভিযোগ।

  • ভাগাড় করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।

ইমতিয়াজ উল ইসলাম, সাভার

নগরায়ণের ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। কিন্তু ঢাকার কাছেই সাভারে সড়ক-মহাসড়কের পাশে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি উৎকট গন্ধে পথচারী ও স্থানীয়দের নাজেহাল অবস্থা।

বছরের পর বছর এভাবে চললেও কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এসব ময়লার ভাগাড়কেন্দ্রিক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে উঠেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত। একেকটি ময়লার ভাগাড় থেকে বছরে চাঁদা সংগ্রহ হয় কোটি টাকার কাছাকাছি। শুধু তা-ই নয়, ময়লার ভাগাড় গড়ে জমি দখলেরও চেষ্টা চলছে বলে খোদ দায়িত্বশীলরা অভিযোগ করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের চক্রবর্তী, শ্রীপুর, বাইপাইল, পলাশবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বাসাবাড়ির উচ্ছিষ্ট ফেলা হচ্ছে। দিন-রাত ছোট ছোট গাড়িতে করে এসব ময়লা ফেলা হয়। ময়লা সংগ্রহকারীরা বাসাপ্রতি ১০০ টাকা করে নেন। গাড়িতে করে এসব ময়লা সড়কের পাশের ভাগাড়ে ফেলতে তাদের আবার চাঁদা গুনতে হয়।

আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় শাহরিয়ার গার্মেন্টেসের বিপরীতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে একটি ময়লার ভাগাড় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, এখানে ময়লা ফেলতে গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা চাঁদা আদায় করে একটি চক্র। প্রতিদিন ৪০-৪৫টি গাড়ি ময়লা ফেলে। সে হিসাবে বছরে এই একটি ভাগাড় থেকেই প্রায় ৮১ লাখ টাকার চাঁদা আদায় করছে চক্রটি।

এ ছাড়া চক্রবর্তী, শ্রীপুর ও পলাশবাড়ী ময়লার স্পটগুলো থেকেও চাঁদাবাজির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ময়লা ব্যবসায়ী। তাদের অভিযোগ, হকার্স লীগের এক নেতা ও স্থানীয় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।

সাভারের একটি মহল্লায় বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ করেন মো. বাবুল। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পাবলিকের কাছ থাইকে আমরা আগে নিছি ৬০ ট্যাকা রুমপ্রতি। এখন সব জিনিসের দাম বাইড়া গেছে। তাই ১০০ ট্যাকা কইরা নিই। ওহানে মাল ফালাইলে হ্যাগো কিছু ট্যাকা দেয়া লাগে। তিন গাড়ি মাল ফালাইলে ৫০০ ট্যাকা কইরা মোট ১ হাজার ৫০০ ট্যাকা দেয়া লাগে। জুয়েল আর ওবায়দুল। ৪০-৪৫টা গাড়ির ময়লা পড়ে।’

অভিযোগের বিষয়ে আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. ওবায়দুল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যদি ভাই আমারে দেহেন, আমারে পান, তহন আমারে ধইরা নিয়া যাইয়েন। আমার এলাকায় আমি ময়লার ব্যবসা করি। আমার একটা গাড়ি আছে। ওখানে বাধা দেয়ার পর আমার গাড়িগুলার ময়লা চক্রবর্তীতে পড়ে। আমি এটার মধ্যে জড়িত না ভাই। যারা নেয়, তাদের নামে নিউজ করেন। আমার কাছে আগে শরিফ নামে একজন নিত। আমি আগে মাসে ১১ হাজার ট্যাকা দিয়া ফালাইতাম। হকার্স লীগের ওই শরিফরে দিতাম। ঢাকা জেলা হকার্স লীগের আহ্বায়ক।’

আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন তাহলে এমন প্রশ্নে ওবায়দুল বলেন, ‘আমার অবস্থান ভালো তো, হয়তো বা আমার নাম দিয়া বেইচা যায় আরকি। আমি আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির সহসভাপতি ছিলাম।’

চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠা মো. জুয়েল নামের অপরজনের রাজনৈতিক কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঢাকা জেলা হকার্স লীগের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম সবুজ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি এটার সঙ্গে জড়িত না ভাই। আমি এটার বিপক্ষে। আমি আরও ওখানে শাহরিয়ার গার্মেন্টেসের সিকিউরিটি গার্ডরে বইলা রাখছি, একটা গাড়ি এখানে যদি ফেলতে দেখ, আমারে ফোন দিবা, আমি আসুম।’

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওবায়দুল আপনাকে টাকা দিয়ে এখানে ময়লা ফেলতেন বলে জানিয়েছেন- এমন অভিযোগের জবাবে শরিফুল বলেন, ‘না না, ওবায়দুল নামে কাউকে চিনি না তো। যদি আমার নাম কেউ বলে থাকে আমাকে ফোন দিবেন।’

ময়লা ফেলে জমি দখলের চেষ্টা

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি দখলের উদ্দেশ্যেই মূলত ময়লার ভাগাড়গুলো গড়ে তুলেছেন প্রভাবশালীরা। আর সেই ভাগাড় থেকে এখন নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করছেন তারা।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নয়ারহাট শাখার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাখার প্রকৌশলী আরাফাত সাকলায়েন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি পুরোটা পরিষ্কার করছি। পরিষ্কার করে ময়লাগুলো ঠেলে দিয়ে একটা ব্যানার দিয়েছি বড়। আমাকে এলাকার লোকজন ফোন দিচ্ছিল। পাশাপাশি আমি জিডির কাগজ পৌঁছাইছি পুলিশের কাছে। পুলিশ এখনো জিডি করে নাই। ওনারা না কী এখন সরেজমিনে পরিদর্শন করে জিডি করে। আমি লোক পাঠায়ে জিডিটা এনশিওর (নিশ্চিত) করব।’

ভাগাড়কেন্দ্রিক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে উঠেছে- এমন প্রশ্নে আরাফাত সাকলায়েন বলেন, ‘আমরা ওই জায়গায় একটা বড় ড্রেন করে বাস যেন দাঁড়াতে পারে এ রকম একটা কিছু করতে চাচ্ছি। যেহেতু জায়গাটা আমাদের হাত থেকে ছুটেই যাচ্ছে। ওরা বারবার ময়লা ফালাচ্ছে, এই করতেছে সেই করতেছে। একটা পার্মানেন্ট সলুশন চাচ্ছি আর কী।’

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘অনেক দিন আগে ওই স্থানটি বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে আমাদের জানানো হয়েছিল। তবে জিডি বা অভিযোগ দায়ের হয়নি। নতুন করে ময়লার ভাগাড় থেকে চাঁদা তোলার বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


সাপের কামড়ে স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু

সাপের কামড়ে স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু
নিহত শিক্ষক বদিউজ্জামান এপো । ছবি : দৈনিক বাংলা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ঝিনাইদহ সদরে সাপের কামড়ে বদিউজ্জামান এপো (৫১) নামে এক স্কুলশিক্ষক মারা গেছেন। তার বাড়ি পোড়াহাটি ইউনিয়নের ইস্তেফাপুর গ্রামে। গতকাল শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। বদিউজ্জমান সদর উপজেলার মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

স্বজনরা জানান, এপো রাত ১০ টার দিকে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে যান। এ সময় বিষাক্ত সাপ তাকে ছোবল দেয়। পরিবারে লোকজন তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. লিমন পারভেজ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটলে এক ঘন্টার মধ্যে হাসপাতালে নিতে হয়।


নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই: প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে, কখনও কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। তারা (বিএনপি) জানে যে, সঠিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা হত্যা, অভ্যুত্থান ও ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসতে অভ্যস্ত। এটাই বাস্তবতা।

জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চেয়েছিলেন তারা কারা? আওয়ামী লীগ সব সময় দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে।

শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলেছেন, জনগণ নির্বাচনে অবাধে তাদের ভোট দেবে এবং বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছেন যে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

‘আমি মনে করি, তারা (বিএনপি) সত্যিই চিন্তিত যে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। কারণ, তারা ভোট কারচুপি এবং ভোটার তালিকায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার রাখার সুযোগ পাচ্ছে না। অন্যথায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই,’ উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নির্বাচনে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দেবে। ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন এমন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, এটা তাদের দলের সিদ্ধান্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে। যদি কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারায় তাহলে কার কি করার আছে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএম একটি আধুনিক পদ্ধতি এবং বিশ্বের অনেক দেশেই এটি ব্যবহৃত হয়। আমরা দেখেছি, যেখানে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে দ্রুত নির্বাচনের ফলাফল পাওয়া যায় এবং মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে।


‘ওরা আমার ছেলেকে মেরেই ফেলল’

‘ওরা আমার ছেলেকে মেরেই ফেলল’
শ্রীপুর থানা। ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

গাজীপুরের শ্রীপুরে রানা মিয়া (৩০) নামে এক যুবককে চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার ভোর রাতে তাকে মারধর করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। পরে স্বজনরা স্থানীয়দের সহায়তায় রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ছেলেকে বাঁচাতে না পেরে রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে থানায় হাজির রানার বাবা।

রানা মিয়া উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের মো. আমিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলো, কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী শিপন মিয়া (২৫), আকাশ মিয়া (২২), উজ্বল মিয়া (২৫) ও আবুল কাশেমের ছেলে ইমন (২৬)।

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি শিপনের ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি ভ্যানগাড়ি চুরি হয়। শনিবার ভোর রাত তিনটার দিকে রানাকে ভ্যানগাড়ি চুরির অভিযোগ এনে আটকে রাখে শিপন। পরে রাত থেকে দিনভর মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মারধরে তিনটি ভ্যানগাড়ি চুরির কথা স্বীকার করে রানা। পরে স্থানীয়রা রানাকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে সবার সামনেই রানাকে মারধর করে অভিযুক্তরা। পরে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেয়া হয় রানাকে।

নিহতের বাবা আমিরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের হাত থেকে ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরে তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি বারবার অনুরোধ করলেও আমার ছেলেকে তারা ছাড়লো না, আমি তাদের পায়ে পর্যন্ত ধরেছি। আমার ছেলেকে ওরা মেরেই ফেলল।’

আমিরুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে দফায় দফায় নির্যাতন করে বুকের পাজর, দুই হাত ও পা ভেঙে দেয়। ছেলের শরীরের এক ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা নেই যে ওই স্থানে আঘাত করেনি।’

তবে এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী শিপনের বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার মা রোকেয়া আক্তার বলেন, শিপন ব্যবসার কাজে এলাকার বাইরে আছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ কাজ করছে।