রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

বন্ধ হয়নি ইয়াবা আসা, সংকটে জেলেজীবন

বন্ধ হয়নি ইয়াবা আসা, সংকটে জেলেজীবন
ছবি : দৈনিক বাংলা
শাহরিয়ার হাসান
প্রকাশিত
  • মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

শাহরিয়ার হাসান, টেকনাফ থেকে ফিরে

‘আমরা জলদাস, নোনা জল খেয়েই বেঁচে থাকি। কিন্তু সে বেঁচে থাকা আমাদের জন্য দিনকে দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। একবেলা খাবার পাই তো অন্য বেলায় উপোস থাকি। ক্ষুধার জ্বালায় স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। কিস্তির টাকা শোধ করতে ভিটামাটিও বিক্রি করেছি। তার পরও আমাদের দিকে কারো চোখ পড়ছে না। এক ইয়াবার বিষে গোটা জেলেপাড়া আক্রান্ত।’

কথাগুলো নিজের ভাষায় বলেছিলেন টেকনাফের নাফ নদীর তীরে জেলেপাড়ার নন্দলালের স্ত্রী কাজলী দাশ। তিনি বলেন, দুই ছেলে আর তিন মেয়ের পরিবার নিয়ে তাদের মরে যাওয়া আর বেঁচে থাকা একই হয়ে গেছে।

সম্প্রতি নাফ নদীর পাড়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় কাজলী দাশের। তার গল্পে শুধু তার পরিবারের কথা না ফুটে ওঠে আরও ১০ হাজার জেলে পরিবারের কথা। যাদের কেউই ভালো নেই। দু’বেলা দু’মুঠো ভাত তাদের জুটছে না।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও ইয়াবা পাচার বন্ধে ২০১৭ সালে নাফ নদীতে মাছ শিকারসহ সব ধরনের যাতায়াত বন্ধ করে দেয় সরকার। নিষেধাজ্ঞায় নাফ নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকা নির্বাহ করা টেকনাফ উপজেলার ছয় ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার তিনটি ইউনিয়ন এবং এক পৌরসভার ১০ হাজার জেলে পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকার। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে এ নদীতে মাছ শিকার করে নিজেদের জীবন-জীবিকা, সংসার, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছিলেন নদী পারের মানুষেরা। যদিও এই নিষেধাজ্ঞার ৫ বছর পরও থেমে নেই নাফ দিয়ে ইয়াবা পাচার। উল্টো বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রশাসনের এই ব্যর্থতার দায় গুনতে হচ্ছে সেখানকার জেলেদের।

যাদের সুপারিশে জেলেদের জন্য এই নাফ নদী বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, সেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল ফয়জুল রহমান বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, নাফ নদীতে মাছ ধরা নিয়ে আগের মতো তেমন কঠোরতা নেই। চাইলে জেলেরা নাফ নদীতে নামতে পারে। তবে সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা বা অন্য যেকোনো মাদক চালান পাচার বন্ধে যা যা করার প্রয়োজন তা বিজিবি করে আসছে। কিন্তু টেকনাফের জেলেপাড়ায় গিয়ে বিজিবি পরিচালকের কথার মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

টেকনাফে বেশ কয়েকটি জেলেপাড়া আছে। এর মধ্যে হোয়াইক্যংয়ের উত্তরপাড়া, খারাইংগ্যাঘোনা, বালুখালী লম্বাবিল, হ্নীলার হোয়াব্রাং, নাটমুড়ার জেলেপাড়া, জাদীমুরা, খারাংখালী, টেকনাফের জাইল্যাপাড়া, কায়ুকখালীপাড়া, নাজিরপাড়া, সাবরাংয়ের চৌধুরীপাড়া, নয়াপাড়া, শাহপরীর দ্বীপের জাইল্যাপাড়া, খারিয়াখালী এবং মাঝেরপাড়া অন্যতম।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন নাফ নদীর তীরে নোঙর করে রাখা মাছ ধরার কয়েক হাজার নৌকা ও জাল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতি কোটি কোটি টাকা। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জীবন চালাতে যারা নৌকা ও জাল কিনেছিলেন, নদীতে যেতে না পেরে সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। ঋণের টাকার জন্য বাড়ি পাড়িয়ে নামাচ্ছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। আবার অসহায়ত্বের কারণে অনেক জেলে নিজেদের ভিটেমাটি বিক্রি করে পথে বসেছেন। চাপ সামলাতে না পেরে কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জীবিকার একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে আবার বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজেছেন। কিন্তু স্থানীয় বিভিন্ন প্রকল্পে রোহিঙ্গারা শ্রমিক হিসাবে কাজ করায় সে কাজ পেতেও জেলেদের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই বলছেন, যদি জেলেদের মাধ্যমে ইয়াবা পাচার হয়ে থাকে, তাহলে রাতের বেলায় না হলেও অন্তত দিনের বেলায় নাফ নদীতে মাছ শিকারের অনুমতি দেয়া হলে জেলেরা খেয়ে-পরে বাঁচতে পারত।

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি মাঝি বলেন, ‘নাফ নদী আমাদের একমাত্র জীবন-জীবিকার ঠিকানা। সেখানে জাল ফেলতে পারছি না আমরা। নদী বন্ধের পাঁচ বছরে জেলেপল্লির হাজার হাজার মানুষ কী কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছে তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না।’

হ্নীলার জেলেপল্লির বগির দাশ বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এ নদীতে মাছ আহরণ করে চলছে আমাদের সংসার। কিন্তু এ রকম সংকট কখনো দেখিনি। শুকনো খাবার খেয়ে দিন যাচ্ছে আমাদের। কিন্তু সেটা কত দিন। শরীরের ভারে এখন আর কষ্ট করেও খেতে পারি না।

শামপদ দাসের বসবাস শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায়। তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ বছর সময় ধরে নাফ নদীতে মাছ শিকার করতে পারছি না। হাজার হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নৌকা ও জাল তৈরি করেছিলাম। ওই টাকাও শোধ করতে পারছি না। নৌকা ও জাল অর্ধেক নষ্ট হয়ে গেছে। রুজি-রোজগারের উপকরণ নষ্ট হলে আত্মহত্যা ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী দৈনিক বাংলাকে জানান, রোহিঙ্গা আসাকে কেন্দ্র করে নাফ নদী বন্ধ হওয়ায় আমার এলাকার হাজার হাজার জেলে পরিবার সীমাহীন দুর্ভোগে দিন পার করছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের কারণে পাহাড়েও যেতে পারছে তারা না। তাই প্রয়োজনবোধে বিজিবির সহায়তায় নির্দিষ্ট একটি পয়েন্টে চেকিংয়ের মাধ্যমে নাফ নদীতে মাছ শিকারের অনুমতি দিয়ে নদীকেন্দ্রিক জীবিকা হারানো জেলেদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।

স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধি আরও বলেন, এই জেলেদের যে সরকার খুব সহায়তা করতে পারছে সেটাও না। মাছ ধরা বন্ধ থাকার মৌসুমে তাদের বছরে ৩০ কেজি চাল দিতে পারি। এর বাইরে আমারও কিছু করার থাকে না।

নাফ নদীতে যেভাবে ইয়াবা

১৯৯৭ সালে নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রথম ইয়াবার চালান ঢোকে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়। সেই চালানটি আনেন ইয়াবা সাম্রাজ্যের অন্যতম গডফাদার হিসেবে পরিচিত সাইফুল করিম। তার তৈরি ইয়াবা নেটওয়ার্কটি নাটকীয়ভাবে বাড়তে থাকে। তিনি বনে যান ইয়াবা সাম্রাজ্যের অধিপতিদের দলে। যদিও ২০১৯ সালে কথিত এক বন্দুকযুদ্ধে মারা যান সাইফুল।

সরকারি বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসা শুরুর পর থেকে তাদের সঙ্গে অবাধে আসতে শুরু করে ইয়াবা। পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযান ছাড়াই চেকপোস্ট বসিয়ে ২০১৭ সালে কক্সবাজারে প্রায় ৮৬ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার সবগুলো প্রবেশ করেছিল নাফ নদী দিয়ে। মাদকের দেশীয় গডফাদাররা বহনকারী হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন রোহিঙ্গাদের। এরপর সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নাফ নদীতে চলাচল বন্ধ কেরে দেয়।

তারপরও ইয়াবার চালান আসা কমেনি। উল্টো বছর বছর বেড়েছে। ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিশেষ অভিযান শুরুর পরে ২০১৮ সালে উদ্ধার করা হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ইয়াবা বড়ি। সর্বশেষ গত বছর উদ্ধার হয় আড়াই কোটির বেশি ইয়াবা। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে ৭ কোটি ৮৫ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। পাঁচ বছরে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১০ হাজার ৪৭৮টি। গ্রেপ্তার ১৪ হাজার ১৭৩ জন।

মাদকবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নোঙরের কক্সবাজার জেলার নির্বাহী পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, মাদকের ব্যবসার শিকড়ে হাত না দেয়া এবং শীর্ষ কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় মাদক চোরাচালান কমছে না, বরং বেড়েছে।

যে কারণে ইয়াবা ব্যবসায় ঝুঁকেছেন কারবারিরা

কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও র্যাবে দেয়া তথ্য বলছে, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বেশির ভাগ ইয়াবা আসে টেকনাফ হয়ে। টেকনাফে মাদক ঢোকার অন্যতম পথ হিসেবে পরিচিত নাফ নদীর তীরবর্তী হ্নীলা, দমদমিয়া, জাদিমোড়া এবং বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন টেকনাফ সদরের মহেশখালিয়া পাড়া, তুলাতলী, হাবিবছড়া ও নোয়াখালী পাড়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তালিকাভু্ক্ত এক মাদক ব্যবসায়ী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ইয়াবা ব্যবসায় কাঁচা টাকা। লাভও অনেক। শুরুর দিকে শুধু টাকার জন্যই এই কারবারে নেমেছিলাম। তারপর ফিরতে চাইলেও পরিনি এ কারবার থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে গড়ে ২৫ থেকে ৪০ টাকায় কিনে প্রতিটি ইয়াবা ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয় টেকনাফে। যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ব্যাপক নজরদারির মধ্যেও টেকনাফ দিয়ে দেশের ভেতরে মাদক ঢুকছে। আমরা মাদকের চালান ঠেকাতে চেকপোস্ট বাড়াচ্ছি। 

যেভাবে সমাধানের পথ দেখছে সরকার

নাফ নদী জেলেদের জন্য খুলে দেয়ার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিকবার আবেদন করেছিলেন স্থানীয় জেলেরা। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এ প্রস্তাবে রাজি হয়নি। সম্প্রতি বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির পঞ্চম সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে মাদক আনা-নেয়ার রুট হিসেবে নাফ নদী ব্যবহৃত হওয়ায় এই নদীতে মাছ ধরার ট্রলারের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে অন্য দেশের নৌযান বাংলাদেশের জলসীমায় এসে মাছ আহরণ করলে সহজেই তাদের শনাক্ত করা যাবে।

সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সমুদ্রে যত নৌযান মাছ ধরে, সেগুলোকে শিগগিরই নিবন্ধনের আওতায় আনা কঠিন হবে। তাই নৌযানগুলোকে রং করে নম্বর দিয়ে দেয়া হবে, যাতে নৌযানগুলো চিহ্নিত করা যায়। এটা দ্রুত করতে বলা হয়েছে, না হলে মিয়ানমারের কিছু নৌকা আমাদের মধ্যে ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সমুদ্রে মাছ ধরার নৌযানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা যাবে নৌযানের সার্বিক তথ্য। এমনকি কোনো নৌযান দুর্ঘটনায় পড়লে তার অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত উদ্ধার করা যাবে জেলেদের। প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার নৌযানে বসানো হবে এসব প্রযুক্তি। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে এসব ডিভাইসের কার্যকারিতা।

মানবাধিকারকর্মী আইন সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিচালক নীনা গোস্বামী দৈনিক বাংলাকে বলেন, কয়েক পুরুষ ধরে এই পেশায় আছেন ওই সব জেলেরা। ওনারা এই কাজ ছাড়া আর কিছুই জানেন না। দীর্ঘদিন নদী বন্ধ করে রাখলে তাদের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা উচিত ছিল। এত দিনেও সেটা হয়নি, আর ইয়াবা আসাও বন্ধ করা যায়নি। সরকারের উচিত তাদের জন্য কিছু ভাবা। স্বাধীন দেশে তারা নিজেদের যেন পরাধীন মনে না করেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক বুধবার দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা এর আগেও অনেকবার চেষ্টা করেছি আমাদের জেলেদের জন্য নাফ নদী সম্পূর্ণভাবে খুলে দিতে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। গত ৫ বছরে জেলা প্রশাসন থেকেও মনে হয় সেভাবে সুপারিশ করা হয়নি। তবে সম্প্রতি আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি আগামীতে যেকোনো মিটিংয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে এই বিষয়টি সমাধান করা হবে।


সাপের কামড়ে স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু

সাপের কামড়ে স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু
নিহত শিক্ষক বদিউজ্জামান এপো । ছবি : দৈনিক বাংলা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ঝিনাইদহ সদরে সাপের কামড়ে বদিউজ্জামান এপো (৫১) নামে এক স্কুলশিক্ষক মারা গেছেন। তার বাড়ি পোড়াহাটি ইউনিয়নের ইস্তেফাপুর গ্রামে। গতকাল শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। বদিউজ্জমান সদর উপজেলার মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

স্বজনরা জানান, এপো রাত ১০ টার দিকে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে যান। এ সময় বিষাক্ত সাপ তাকে ছোবল দেয়। পরিবারে লোকজন তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. লিমন পারভেজ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটলে এক ঘন্টার মধ্যে হাসপাতালে নিতে হয়।


নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই: প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে, কখনও কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। তারা (বিএনপি) জানে যে, সঠিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা হত্যা, অভ্যুত্থান ও ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসতে অভ্যস্ত। এটাই বাস্তবতা।

জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চেয়েছিলেন তারা কারা? আওয়ামী লীগ সব সময় দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে।

শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলেছেন, জনগণ নির্বাচনে অবাধে তাদের ভোট দেবে এবং বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছেন যে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

‘আমি মনে করি, তারা (বিএনপি) সত্যিই চিন্তিত যে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। কারণ, তারা ভোট কারচুপি এবং ভোটার তালিকায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার রাখার সুযোগ পাচ্ছে না। অন্যথায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই,’ উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নির্বাচনে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দেবে। ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন এমন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, এটা তাদের দলের সিদ্ধান্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে। যদি কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারায় তাহলে কার কি করার আছে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএম একটি আধুনিক পদ্ধতি এবং বিশ্বের অনেক দেশেই এটি ব্যবহৃত হয়। আমরা দেখেছি, যেখানে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে দ্রুত নির্বাচনের ফলাফল পাওয়া যায় এবং মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে।


‘ওরা আমার ছেলেকে মেরেই ফেলল’

‘ওরা আমার ছেলেকে মেরেই ফেলল’
শ্রীপুর থানা। ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

গাজীপুরের শ্রীপুরে রানা মিয়া (৩০) নামে এক যুবককে চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার ভোর রাতে তাকে মারধর করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। পরে স্বজনরা স্থানীয়দের সহায়তায় রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ছেলেকে বাঁচাতে না পেরে রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে থানায় হাজির রানার বাবা।

রানা মিয়া উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের মো. আমিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলো, কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী শিপন মিয়া (২৫), আকাশ মিয়া (২২), উজ্বল মিয়া (২৫) ও আবুল কাশেমের ছেলে ইমন (২৬)।

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি শিপনের ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি ভ্যানগাড়ি চুরি হয়। শনিবার ভোর রাত তিনটার দিকে রানাকে ভ্যানগাড়ি চুরির অভিযোগ এনে আটকে রাখে শিপন। পরে রাত থেকে দিনভর মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মারধরে তিনটি ভ্যানগাড়ি চুরির কথা স্বীকার করে রানা। পরে স্থানীয়রা রানাকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে সবার সামনেই রানাকে মারধর করে অভিযুক্তরা। পরে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেয়া হয় রানাকে।

নিহতের বাবা আমিরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের হাত থেকে ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরে তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি বারবার অনুরোধ করলেও আমার ছেলেকে তারা ছাড়লো না, আমি তাদের পায়ে পর্যন্ত ধরেছি। আমার ছেলেকে ওরা মেরেই ফেলল।’

আমিরুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে দফায় দফায় নির্যাতন করে বুকের পাজর, দুই হাত ও পা ভেঙে দেয়। ছেলের শরীরের এক ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা নেই যে ওই স্থানে আঘাত করেনি।’

তবে এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী শিপনের বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার মা রোকেয়া আক্তার বলেন, শিপন ব্যবসার কাজে এলাকার বাইরে আছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ কাজ করছে।


রহস্যে ঘেরা মরিয়ম মান্নানের মায়ের হারিয়ে যাওয়া

রহস্যে ঘেরা মরিয়ম মান্নানের মায়ের হারিয়ে যাওয়া
মা রহিমা বেগম (বাঁয়ে), মায়ের সন্ধান চেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্নার ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত

খুলনার মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুরে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মায়ের নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে প্রায় এক মাস ধরে তার সন্ধান করছিলেন তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান। মরিয়মের কান্নার ছবি ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

মরিয়ম মান্নানের মায়ের এই ঘটনা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের এ নিয়ে কৌতূহলের সীমা নেই। এর মধ্যেই রহিমা বেগমকে উদ্ধারের পর পুলিশ বলছে, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা খুলনার দৌলতপুর থানার এসআই লুৎফুল হায়দার তাকে উদ্ধারের বিষয়টি দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেন।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার ওসি আব্দুল ওহাব জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করা হয়। তাকে খুলনায় পাঠানো হচ্ছে।

পুলিশের একটি দল রাত ২টার দিকে রহিমা বেগমকে নিয়ে খুলনার দৌলতপুর থানায় পৌঁছায়।

খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন দৌলতপুর থানায় রহিমা বেগমকে
নিয়ে আসার পর উদ্ধার অভিযান বিষয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে যান এবং সেখানেই ছিলেন।

 মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'আপাতত তাকে ভিকটিম সেন্টারে রাখবো, এবং পিআইবি চাইলে তাদের কাছে হস্তান্তর করব। রহিমা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। উনি আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। কথা বললে হয়তো আমরা জানতে পারতাম তিনি কীভাবে সেখানে গেলেন বা কী ঘটনা ঘটেছে। আরো জিজ্ঞাসা করে ঘটনার আদ্যপ্রান্ত জানা যাবে।'

 পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৮ বছর আগে খুলনার সোনালী জুট মিলে চাকরি করতেন কুদ্দুস মোল্লা। তখন তিনি পরিবার নিয়ে রহিমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। ওই সময় রহিমার পরিবারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে কুদ্দুসের পরিবারের। কয়েক বছর আগে কুদ্দুস পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ হতো।
পুলিশ রহিমা বেগমের নিখোঁজ হওয়ার আগের কল রেকর্ডের সূত্র ধরেই তদন্তে নামে। সেখান থেকেই জানতে পারে কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে তার অবস্থান। তবে এই সময় তিনি পরিবারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।

দৌলতপুর থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রহিমা ও তার মেয়েরা অপহরণের নাটক সাজান। রহিমা আত্মগোপনে যাওয়ার পর অজ্ঞাতপরিচয় যেকোনো নারীর মরদেহকে মায়ের বলে দাবি করার পরিকল্পনাও সাজিয়ে রেখেছিলেন তার মেয়েরা।’

এর আগে গত শুক্রবার ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার করা একটি মরদেহকে মায়ের বলে দাবি করেছিলেন মরিয়ম মান্নানসহ রহিমা বেগমের তিন মেয়ে।

খুলনার দৌলতপুর মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়া থেকে গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিখোঁজ হন রহিমা। সে সময় রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হাওলাদার ওই বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন রহিমা।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই অপহরণ মামলা করেন রহিমা বেগমের মেয়ে আদুরী।

খোঁজ না পাওয়ায় পরদিন রহিমার ছেলে মো. মিরাজ আল সাদী দৌলতপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

রহিমা অপহৃত হয়েছেন দাবি করে ১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারের সদস্যরা।

রহিমার সঙ্গে জমি নিয়ে স্থানীয়দের মামলা চলছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল। রহিমার করা সেই মামলায় আসামিরা হলেন প্রতিবেশী মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিুকল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল ও হেলাল শরীফ।

আদালত ১৪ সেপ্টেম্বর রহিমা অপহরণ মামলা পিবিআইতে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই।

এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার করা এক নারীর মরদেহকে রহিমা বেগমের বলে দাবি করেন তার মেয়েরা। এদিন রাত পৌনে ১২টার দিকে মরিয়ম মান্নান ফেসবুক এক পোস্টে বলেন, ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি আমি এই মাত্র।’

পরদিন সকালে নিখোঁজ রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, মাহফুজা আক্তার ও আদুরী আক্তার ফুলপুর থানায় পৌঁছান।

এ সময় পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় ওই নারীর ছবিসহ পরনে থাকা আলামতগুলো মেয়েদের দেখান। মরিয়ম মান্নান তার মায়ের ছবিসহ সালোয়ার-কামিজ দেখে দাবি করেন, এটিই তার মায়ের মরদেহ।

মরিয়ম মান্নান সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘২৭ দিন ধরে আমার মা নিখোঁজ। আমরা প্রতিনিয়ত মাকে খুঁজছি। এরই মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও ছবিতে আমার মায়ের শরীর, কপাল ও হাত দেখে মনে হয়েছে এটাই আমার মা।’

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মরিয়মকে জানানো হয়, ডিএনএ টেস্ট ছাড়া মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ফুলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মোতালেব চৌধুরী শুক্রবার বলেন, ‘মরিয়মের মায়ের বয়স ৫৫ বছর। আমরা যে গলিত মরদেহটি উদ্ধার করেছি, তার আনুমানিক বয়স ২৮ থেকে ৩২ বছর মনে হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনায় মরদেহটি তার মায়ের নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।’

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বওলা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটির পরনে তখন গোলাপি রঙের সালোয়ার; গায়ে সুতির ছাপা গোলাপি, কালো-বেগুনি ও কমলা রঙের কামিজ এবং গলায় গোলাপি রঙের ওড়না প্যাঁচানো ছিল। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে না পেরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ১২ সেপ্টেম্বর দাফন করা হয়। ডিএনএ টেস্ট করতে প্রয়োজনীয় আলামতও সংরক্ষণ করা হয়েছে।’

ওসি বলেন, ‘মরিয়ম মান্নান ওই মরদেহটি তার মা রহিমার দাবি করলেও নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। চূড়ান্তভাবে মরদেহ শনাক্তে মরিয়মের ডিএনএ টেস্ট করা প্রয়োজন।’


তালসড়কে তালপিঠা উৎসব

তালসড়কে তালপিঠা উৎসব
সড়কের দুপাশে সারি সারি তালগাছ। সৌন্দর্যমণ্ডিত এ তালসড়কে চলছে তালপিঠা উৎসব। গতকাল নওগাঁর নিয়ামতপুরের ঘুঘুডাঙ্গা তালসড়কে। ছবি: দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

প্রথম দেখায় মনে হবে এ যেন তালগাছের রাজ্য! সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ। যেন মন জুড়ানো দৃশ্য। প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত এই স্থানে তালপিঠার মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল থেকে তিন দিনব্যাপী এই মেলা চলবে। মেলায় সমাগম ঘটেছে হাজারও মানুষের।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা তালসড়কে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রতি বছরই এ তালপিঠা মেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে দর্শনার্থীরা সড়কটির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্বাদ নিতে পারেন বাহারি তালপিঠারও। এ বছর মেলায় তালের পাটিসাপটা, তালের জিলাপি, তালের বড়া, তালের ক্ষীর, তালের কফি, তালের আমতা, তালের নাড়ুসহ অন্তত ২০ ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। বদলগাছীতে থেকে আসা দোকানি জাহেরা খাতুন বলেন, ‘আমার স্টলে ১০ থেকে ১২ রকমের পিঠা আছে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। অনেক মানুষের সমাগমও ঘটেছে এই পিঠামেলায়।’

সাপাহার উপজেলা থেকে আসা মীনা বেগম পিঠার স্টল দিয়েছেন মেলায়। এ সময় মিনা বেগম বলেন, ‘আমার স্টলে ১০-১৫ রকমের তালের পিঠা আছে। কেউ স্টল ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ কিনে খাচ্ছেন পছন্দের পিঠাগুলো। সবমিলে অন্য রকম এক উৎসব বিরাজ করছে।’

বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন অনেক দর্শনার্থী। এমন মেলায় আয়োজন করায় তারাও খুশি। জেলা শহর থেকে মেলায় আসা লতিফুর রহমান বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মেলায় এসেছি। অনেক দিন ঘোরাফেরা করা হয় না। অনেক রকমের তালপিঠা পসরা সাজানো। সব মিলে খুব ভালো লাগছে।’

সাবরিনা আক্তার নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবী মিলে মেলায় এসেছি। অনেক তালগাছ আবার তালপিঠার মেলা। চমৎকার আয়োজন। আমাদের খুবই ভালো লাগছে।’

পিঠামেলায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের আমন্ত্রণে এসেছেন সাংবাদিক, কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। এ সময় তিনি বলেন, ‘খুবই চমৎকার একটি স্থান। দুই পাশে অসংখ্য তালগাছ। এখানেই বসেছে রকমারি পিঠার মেলা। পিঠাগুলোর অন্য রকম স্বাদ। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। আমাদের সবার উচিত, বেশি করে গাছ লাগানো ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা।’

১৯৮৬ সালের দিকে স্থানীয় হাজীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন এই তালগাছগুলো রোপণ করেছিলেন বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। উদ্দেশ্য ছিল বজ্রপাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি যোগ হবে বাড়তি সৌন্দর্যও।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘প্রতি বছর ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে আয়োজন করা হয় এই মেলার। মেলাকে উপলক্ষ করে জামাই-মেয়ে আর স্বজনরা আসেন প্রতিটি বাড়িতে। মূলত, নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালের পিঠা পরিচিত করে দেয়ার জন্যই এমন আয়োজন। একটা সময় আমি থাকব না, তবে এমন আয়োজন যুগের পর যুগ থাকবে। এমটাই আশা আমার।’