শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২

জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১২ জেলায় বিদ্রোহী

জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১২ জেলায় বিদ্রোহী
প্রতীকী ছবি
আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত

আমানউল্লাহ আমান

৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচনে অন্তত ১২ জেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। যারা স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ-পদবিতে আছেন। সে হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বলা হচ্ছে।

তবে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, গতবারের তুলনায় বিদ্রোহী প্রার্থী অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রথমবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩৮ জেলায় দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন দলের নেতারা। এবার ১২ জেলায়।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিলেন ২৪ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান ১৪ প্রার্থী। এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পদ-পদবিধারী স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন অন্তত ১২ জেলায়। ছয় জেলায় একই ব্যক্তি আবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। নীলফামারী ও শেরপুরে দল-সমর্থিত প্রার্থী আবারও একই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ২২ জেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার অন্তত ১৯ জেলায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। একই ব্যক্তি আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আট জেলায়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ১১ নতুন মুখ।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিনে ৬১ জেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৬২ জন। এ ছাড়া সাধারণ সদস্যপদে ১ হাজার ৯৮৩ জন ও সংরক্ষিত সদস্যপদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৭১৫ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে একজন করে প্রার্থী আছেন ১৯ জেলায়।

তফসিল অনুযায়ী, ৬১টি জেলা পরিষদে ১৭ অক্টোবর নির্বাচন হবে। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তির পর বৈধ প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) বাদে বাকি ৬১ জেলা পরিষদে ভোট হবে ১৭ অক্টোবর।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য একদম স্পষ্ট। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয়বার নির্বাচিত

মুন্সীগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মোমিন টুলু, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এ কে এম ফজলে রাব্বী, ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মু সাদেক কুরাইশী, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল বাশার মজুমদার, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান টুকু দ্বিতীয়বারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মুখ

প্রথমবার অংশ নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি চন্দন শীল, গোপালগঞ্জে আইনজীবী মুন্সী মো. আতিয়ার রহমান, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাবেদুর রহমান, মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুনির চৌধুরী, ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনির, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবির, লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মতিয়ার রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রুহুল আমিন, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. শাহজাহান, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান এবং সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন খান।

 

১২ জেলায় বিদ্রোহী

পাবনায় চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ স ম আব্দুর রহিম পাকন। তার বিরুদ্ধে আবারও স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন।

খুলনায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী শেখ হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস এম মোর্তজা রশিদী দারা, বিএমএর জেলা সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. শেখ বাহারুল আলম।

জয়পুরহাটে সরকারি দল-সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ শামছুল আলমের বিরুদ্ধে প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া প্রার্থী হয়েছেন দল থেকে বহিষ্কৃত জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মোল্লা।

মেহেরপুর আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী আব্দুস সালামের বিপক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক গোলাম রসুল প্রার্থী হয়েছেন। গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন গোলাম রসূল। এ ছাড়া মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. জয়নাল আবেদিনও আছেন প্রার্থী হিসেবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের বিপক্ষে আবারও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক শফিকুল আলম। তিনিও গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন।

নড়াইলে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী জেলা সভাপতি সুভাস বোসের প্রতিদ্বন্দ্বী লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু, জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক শেখ শাহ সুলতান বিপ্লব, কালিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান খান শামীমুর রহমান ওসি।

নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আলাবক্স তাহের টিটু ও আওয়ামী লীগের সমর্থক মুশফিকুর রহমান।

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক খলিলুর রহমান মোহন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জেলা যুবলীগের সাবেক নেতা মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের বিপক্ষে যুবলীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক শাহদাত হোসেন প্রার্থী হয়েছেন। তিনি ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী-সমর্থিত প্রার্থী বলে দাবি করেছেন।

নীলফামারীতে আবারও দলের সমর্থন পাওয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হককে মোকাবিলা করতে হচ্ছে সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনকে। জয়নাল আবেদীন গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মমতাজুল হককে পরাজিত করেছিলেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সমর্থন পাওয়া একমাত্র নারী প্রার্থী পিরোজপুরের সালমা রহমান। তার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দীন মহারাজ। গত নির্বাচনে দল-সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেছিলেন মহারাজ।

শেরপুরে পুনরায় বিদ্রোহী প্রার্থীর মুখে পড়েছেন দল-সমর্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল। বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবীর রুমান আবারও প্রার্থী হয়েছেন। গত নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী চন্দন কুমার পালকে পরাজিত করেছিলেন হুমায়ুন কবীর রুমান।


ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দপ্তরি আহত

ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দপ্তরি আহত
গ্রেপ্তার শাফি তালুকদার। ছবি : দৈনিক বাংলা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তর প্রতিবাদ করায় স্কুলের দপ্তরিকে কাটার দিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হবে।

আহত সুলতান মাহমুদ ওই একই স্কুলের দপ্তরি হিসেবে কাজ করেন।

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অভিযুক্ত শাফি তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুলতানের বাবা তাড়াশ থানায় ইভটিজিং ও হত্যা উদ্দেশ্য উল্লেখ করে মামলা করেছেন। শুক্রবার শফিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর কথা।

স্থানীয়রা জানান, সুলতানকে আঘাত করে শাফি। পরে শিক্ষকসহ এলাকার লোকজন শাফিকে আটক করে তাড়াশ থানা পুলিশের কাছে দেয়। আহত সুলতানকে উদ্ধার করে তাড়াশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওই স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বোয়ালিয়া গ্রামের শাফি তালুকদার প্রায় সময়ই স্কুলের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করত। বৃহস্পতিবার দুপুরে শাফি ওই ছাত্রীকে উক্ত করতে স্কুলে যায় এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বাজে কথা বলে । এ সময় একই ক্যাম্পাসের মধ্যে স্কুলের দপ্তরি সুলতান প্রতিবাদ করলে শাফি ক্ষীপ্ত হয়ে তার প্যান্টের পকেট থেকে ছোট এন্টিকাটার দিয়ে সুলতানের পেটের মাঝে আঘাত করে। এতে তার পেটের কাছে কেটে যায়।’

সুলতানের বাবা বলেন, ‘শফি আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। শিক্ষক ও ছাত্ররা আমার ছেলেকে বাঁচিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’


অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে সড়কে প্রাণ গেল নারীর

অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে সড়কে প্রাণ গেল নারীর
লাশ। প্রতীকী ছবি
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

অসুস্থ মাকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় শাহনাজ খাতুন (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই নারীর স্বামী মোটরসাইকেল-চালক আনোয়ার হোসেন।

বগুড়া শেরপুরের মির্জাপুর বাজার এলাকায় আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শাহনাজ খাতুন সুঘাট ইউনিয়নের জয়লা সরকার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। 

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহত আনোয়ার হোসেন বলেন, শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সকালে তাকে দেখতে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে রওনা দেই। মির্জাপুর বাজার এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় শাহনাজ মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়। ওই সময় পেছন থেকে আসা কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়।

উপপরিদর্শক বাবুল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর কোনো গাড়ি পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

 


সন্ধ্যায় বের হয়ে সকালে ক্ষেতে মিলল কৃষকের মরদেহ

সন্ধ্যায় বের হয়ে সকালে ক্ষেতে মিলল কৃষকের মরদেহ
লাশ ঘিরে স্থানীয়দের ভিড়। ছবি : দৈনিক বাংলা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কুষ্টিয়া সদরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মফিজুর রহমান মফি (৬০) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার গজনবীপুর গ্রামের একটি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হন মফি। এরপর রাতে তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরে সকালে কৃষকরা ধান ক্ষেতে কাজ করতে গেলে তার মরদেহ দেখতে পান। মরদেহের গলা আর হাত রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আননুন জায়েদ বলেন, মরদেহের হাতে ও গলায় রশি বাঁধা ছিল। দাঁতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে কারা, কী কারণে হত্যা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

 


সরকারি দামে মিলছে না সার বাড়ছে আমন উৎপাদন খরচ

সরকারি দামে মিলছে না সার বাড়ছে আমন উৎপাদন খরচ
ইউরিয়ার খোঁজে লাইনে দাঁড়িয়েছেন কৃষকরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

পাবনায় সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে রাসায়নিক সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। আর কৃষি বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। ইউরিয়া সারের অতিরিক্ত বরাদ্দও দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কৃষকদের মাঝে গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

বর্তমানে আমনের ভরা মৌসুম চলছে। এ সময় সারের বাড়তি দামের কারণে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। তারা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিসিআইসির ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না। কেবল সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। একই চিত্র খুচরা বাজারেও। বেশি দামে যারা সার কিনছেন তাদের আমন উৎপাদনের খরচও বাড়ছে।

পাবনার সদর, আটঘরিয়া ও ঈশ্বরদী উপজেলায় সারের কয়েকটি খুচরা দোকানমালিকের সঙ্গে বলে জানা গেছে, সরকারনির্ধারিত প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ২২ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। এমওপি, পটাশ, টিএসপিসহ সব ধরনের সারের জন্য প্রতি কেজিতে কৃষককে সরকারনির্ধারিত দরের চেয়ে ১০-১২ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। দাম বাড়ার জন্য ডিলারদের দুষছেন খুচরা দোকানিরা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সদরের দাপুনিয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার আবু তালেবের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ইউরিয়া সার কিনতে ভিড় করেছেন আশপাশের গ্রামের কৃষকরা। বন্ধ দোকান না খুলেই ম্যানেজার জানালেন সার নেই। দীর্ঘ অপেক্ষায় সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান কৃষকরা। 

মির্জাপুর থেকে আসা কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, সার কিনতে গেলে বিক্রেতারা সংকটের কথা বলে দাম বেশি নিচ্ছেন। বিক্রয় রসিদ চাইলেও তা দেয়া হচ্ছে না। দর-কষাকষি করতে গেলে সার না দিয়েই অপমান করে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। দোকানে মূল্যতালিকা টাঙিয়ে রাখলেও সে দাম রাখা হচ্ছে না।

আটঘরিয়ার দিকশাইল গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে ইউরিয়া সারের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এখন যদি কৃষকদের সার পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখা হয়, তাহলে তারা আমন ধান চাষে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে ফলন কমে গিয়ে লোকসান বাড়বে। অন্যদিকে বাজারে চালের দামও বাড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক ও খুচরা সার দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সার ডিলারদের অধিকাংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। অভিযোগ রয়েছে, তারা মৌসুমে যে সার বরাদ্দ পান সেটা উত্তোলন না করে বরাদ্দপত্রটা একশ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। সেই বরাদ্দপত্র ক্রয়কারীরা গুদাম থেকে সার উত্তোলন করে বেশি দামে বিক্রির জন্য সার মজুত করেন। এ অবস্থায় কৃষকপর্যায়ে কৃত্রিম সারসংকট দেখা দেয় ও বেশি দামে কৃষকরা কিনতে বাধ্য হন। 

পাবনা সার ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া সার আশুগঞ্জ থেকে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এদিকে পাবনায় ইউরিয়াসহ কোনো সারেরই সংকট নেই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন। তিনি জানান, চলতি আমন মৌসুমে পাবনায় চাহিদার অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনের বেশি ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছে কৃষি বিভাগ। বিসিআইসির ১০১ জন অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে শিগগিরই তা কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ শুরু হবে। বাজার কারসাজি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।


দুর্গোৎসব আমেজের চেয়ে উদ্বেগ বেশি

দুর্গোৎসব আমেজের চেয়ে উদ্বেগ বেশি
তুমব্রু সীমান্তে চলমান গোলাগুলিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • তুমব্রু সীমান্তে গোলাগুলি

মুহিববুল্লাহ মুহিব, তুমব্রু সীমান্ত থেকে

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তে চলমান গোলাগুলিতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। এর ফলে আসন্ন দুর্গাপূজার উৎসবকে ঘিরে সীমান্ত এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতার থেকে ২০০ গজ ভেতরে তুমব্রু শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের অবস্থান। এর পাশেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৭টি পরিবার বাস করে। স্বাধীনতার পর থেকে এ মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছেন এখানকার বাসিন্দারা। কিন্তু মিয়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে গত এক মাস ধরে যে সংঘর্ষ চলছে, তার প্রভাব পড়ছে সীমান্ত এলাকায়। এর ফলে দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন সীমান্তবর্তী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

মন্দিরের পাশেই সুগন্ধা কর্মকারের বাড়ি। স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে নবনির্মিত প্রতিমার দিকে অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছেন। কয়েক যুগ ধরে চলমান তাদের এ উৎসব এবার আদৌ হবে কী হবে না, তিনি তা জানেন না।

সুগন্ধা কর্মকার বলেন, বড় করে না হোক, ছোট পরিসরে হলেও এবার যেন পূজা করতে দেয়া হয়। পূজা উপলক্ষে এরই মধ্যে সন্তানদের জন্য কেনাকাটা হয়েছে। উৎসব উপলক্ষে খরচও করে ফেলেছেন। এত কিছুর পরও উৎসব করতে না পারলে তা হবে কষ্টের।

তুমব্রু বাজারের পেছনের এলাকার বাসিন্দা সুমিতা রায়। তিনি বলেন, ‘৫০ বছর ধরে এ উৎসব চলছে। আমাদের বাবা-দাদারাও পূজা করেছেন। করোনা পরিস্থিতিতেও ছোট পরিসরে পূজা হয়েছে। এবার একেবারে করতে না পারাটা হতাশাজনক হবে।’

আরেক বাসিন্দা প্রদীপ ধর বলেন, ‘দেড়শতাধিক মানুষের একমাত্র উৎসবের কেন্দ্র এ মন্দির। সেখানে যদি উৎসব করতে না পারি, তাহলে কোথায় গিয়ে করব? অন্য জায়গায় করতে হলে তো প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে যেতে হবে। তারচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমরা সবকিছু কিনে ফেলেছি। প্রতিমা থেকে শুরু করে যাবতীয় সব।’

তুমব্রু শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের পূজা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রূপলা ধর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ব্যাপক গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। অতীতে কখনোই এমনটা হয়নি। এর ফলে আসন্ন দুর্গাউৎসব নিয়ে তিনিসহ সবাই চিন্তায় আছেন।’

রূপলা ধর বলেন, ‘ডিসি, এসপি ও ইউএনও মহোদয় ডেকেছিলেন। তাদের কাছে জানতে চেয়েছি, কীভাবে কী করা যায়? তারা এবারের আয়োজন অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু অর্ধশত বছরের এ উৎসব, এ ব্যাপারে এলাকার লোকজনও তেমন রাজি না। প্রশাসনের অনুমতি না মিললে আমরা উৎসব করব না।’

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘উৎসবকালীন বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সময় যদি মিয়ানমার থেকে কোনো গোলা এসে পড়ে, তাহলে ঝুঁকি আছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এবারের আয়োজন অন্যত্র নেয়ার পরিকল্পনা।’

এ বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভিন মুঠোফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি আমরা এখনো নজরদারিতে রেখেছি। তুমব্রু সীমান্তের মন্দিরে দুর্গাপূজা উদযাপন নিয়ে বৈঠকে আছি। এখান থেকে বেরিয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।’

১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলে সীমান্তের শূন্যরেখায় এক রোহিঙ্গা নিহত হন। ওই দিন দুপুরেই সীমান্তের হেডম্যানপাড়ার ৩৫ নম্বর পিলারের ৩০০ মিটার মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাদেশি এক যুবক। এরপর থেকে তুমব্রু সীমান্তে আরও জোরালোভাবে গোলার শব্দ শোনা যাচ্ছে। গতকাল সকাল থেকে অন্তত ৫০টি গোলার শব্দ ভেসেছে তুমব্রুর পশ্চিমকুল, উত্তরপাড়া ও দক্ষিণপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়। এমন অবস্থায় চরম আতঙ্কে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রায় এক মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এপারের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বেশ কয়েকবার মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। গত ২৮ আগস্ট তুমব্রু উত্তরপাড়ায় একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। সে দিনই সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি গোলা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসে পড়ে। সেগুলো অবিস্ফোরিত থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর তিন দিন পর আবার ওই সীমান্তে ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ ভেসে আসে।