রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

ডিএনসির ইউনিফর্মে বাদ সেধেছে পুলিশ

ডিএনসির ইউনিফর্মে  বাদ সেধেছে পুলিশ
ছবি : সংগৃহীত
শাহরিয়ার হাসান
প্রকাশিত

শাহরিয়ার হাসান

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইউনিফর্ম বদলে নতুন পোশাক বানানো হয়েছে। খাকি রঙের পোশাকের পরিবর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশের পোশাকের আদলে ‘টার্কিশ ব্লু’ রঙের ইউনিফর্ম হাতেও পেয়েছেন সবাই। শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে পরার অপেক্ষা। কিন্তু নিজেদের ইউনিফর্মের সঙ্গে রঙ কিছুটা মিলে যাওয়ায় ওই পোশাক নিয়ে আপত্তি দিয়েছে পুলিশ। ফলে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে নতুন পোশাক তৈরি করেও ইউনিফর্ম বদলের সিদ্ধান্ত এখন স্থগিত হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এমন মৌখিক আপত্তির মুখে নতুন পোশাক গায়ে তুলতে পারছেন না অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ডিএনসির দাবি, দুই বাহিনীর পোশাকের রঙ ভিন্ন হওয়ার পরও এমন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশ চাইলে শুরুতেই আপত্তি তুলতে পারত। এখন ইউনিফর্ম বদলানোর জন্য পোশাক তৈরিতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা গচ্চা যাবে। সঙ্গে নতুন পোশাক হাতে পাওয়া নিয়েও করতে হবে দীর্ঘ অপেক্ষা। জানতে চাইলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আজিজুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি এখন যে পর্যায়ে আছে তাতে আমার কোনো কথা বলা ঠিক হবে না। আমরা বরং মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।’

মাদকদ্রব্য ‍নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র জানা যায়, চলতি মাসের ১ সেপ্টেম্বরে নতুন পোশাক পরে মাঠে নামার কথা ছিল ডিএনসির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের। তার আগে পোশাক নির্ধারণের বিষয়ে পুলিশসহ অন্য বাহিনীর সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করা হয়। সর্বশেষ পোশাক চূড়ান্ত হওয়ার পর ২০২০ সালে নভেম্বর ভেটিংয়ের জন্য কাপড় পাঠানো হয় সব দপ্তরে। কিন্তু কোনো সংস্থাই সে সময় আপত্তি দেয়নি। যার ওপর ভিত্তি করে ২০২১ সালের ২৩ মে ডিএনসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘টার্কিশ ব্লু’ রঙের পোশাক নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সব কিছু ঠিকঠাকই ছিল। ১ সেপ্টেম্বর থেকে পোশাক পরার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও দিয়েছিল অধিদপ্তর। সে অনুযায়ী ১২৪৫ জন সদস্যের কাছে পোশাক পৌঁছানো হয় গত ২৬ আগস্ট। নতুন পোশাক পেয়ে অনেকে সেদিন পোশাক পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি আপলোড করেন, যা চোখে পড়ে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কমিটির।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, সেটা দেখার একদিন পর ২৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন তারা। মৌখিক সেই আপত্তির ফলে সাময়িকভাবে নতুন এই পোশাক পরা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে তাদের।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান গত বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নতুন পোশাকটি দেখার পর পরই আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনি। কেননা, দুটি ভিন্ন ভিন্ন বাহিনীর পোশাক কাছাকাছি হলে মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি হবে।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, তাদের পোশাক নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে পুলিশের মতো রঙ হওয়াতেই আমাদের আপত্তি। অবশ্য এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারেননি তিনি।

তবে পুলিশের এমন অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে যাচ্ছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, টার্কিশ ব্লু আর ব্লু কখনো এক নয়। তা ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তারা সরাসরি পোশাকটিও দেখেননি।

অধিদপ্তরের এই পোশাকের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে, জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি প্রশ্ন শুনলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, পোশাকের রঙ নিয়ে একটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।

অধিদপ্তরের বিধিমালা খুঁজে দেখা যায়, অধিদপ্তরের নতুন এই পোশাকে রয়েছে টার্কিশ ব্লু রঙের সেলুলার কাপড়ের বুকখোলা ফুল ও হাফ হাতা শার্ট, ডিপ নেভি ব্লু রঙের প্যান্ট এবং অধিদপ্তরের লোগো সংবলিত টুপি। আর নারী সদস্যরা টার্কিশ ব্লু রঙের বুশ শার্ট ও ডিপ নেভি ব্লু রঙের প্যান্ট পরবেন।

যদিও এর আগে ২০১৪ সাল থেকে প্রজ্ঞাপন অনুসারে অধিদপ্তরের সিপাহি থেকে পরিদর্শক পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খাকি রঙের পোশাক পরতেন। তবে সেই পোশাক নিয়ে তাদের অসন্তোষও ছিল।

বর্তমান প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত পরিচালকদের র‌্যাঙ্ক ব্যাজে থাকবে একটি শাপলার সঙ্গে অ্যালমুনিয়ামের তৈরি শাপলা সংবলিত চারকোনা বিশিষ্ট দুটি পিপস ও কলার রিবন। উপপরিচালকদের র‌্যাঙ্ক ব্যাজ হবে এক শাপলার। তবে ওই পদে চাকরির বয়স চার বছর পূর্ণ হলে শাপলার সঙ্গে অ্যালমুনিয়ামের তৈরি শাপলা সংবলিত চারকোনা একটি পিপস যুক্ত হবে।

সহকারী পরিচালকদের র‌্যাঙ্ক ব্যাজ হবে অ্যালমুনিয়ামের তৈরি শাপলা সংবলিত চারকোনা দুটি পিপস। চাকরির বয়স চার বছর অতিক্রম করলে সে ক্ষেত্রে আরেকটি পিপস যুক্ত হবে।

পরিদর্শক ও প্রসিকিউটরের র‌্যাঙ্ক ব্যাজে থাকবে অ্যালমুনিয়ামের তৈরি শাপলা সংবলিত চারকোনা একটি পিপস। সহকারী পরিদর্শক ও প্রসিকিউটরের র‌্যাঙ্ক ব্যাজে চার ডানাযুক্ত দুটি এবং উপ-সহকারী পরিদর্শকের ব্যাজে থাকবে একটি স্টার এবং কালো রঙের রিবন।

সিপাহি এবং ওয়ার্লেস অপারেটরদের পোশাকে থাকবে ডিএনসি লেখা শোল্ডার স্ট্রিপ, আর গাড়ি চালকের থাকবে শোল্ডার স্ট্রিপের সঙ্গে কালো রঙের রিবন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত পরিচালক পর্যন্ত পদে বিভাগীয় সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। তবে পরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং মহাপরিচালকরা আসেন বিসিএস অ্যাডমিন ও পুলিশ সার্ভিস থেকে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থেকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পর্যন্ত সব মিলিয়ে মোট জনবল ৩ হাজার ৫৯ জন। তবে কর্মরত ১ হাজার ৮৫০ জন। এ জনবল নিয়ে ২০২০ সালে সংস্থাটি ২৩ হাজার ১৯৩টি অভিযান, ১০ হাজার ৪৭১টি মামলা, ১০ হাজার ৪৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো তারা অর্থপাচার এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার সরাসরি তদন্ত করতে পারে। বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বাহিনী জাতিসংঘের ইউএনওডিসি’র (ইউনাইটেড ন্যাশনস অন ড্রাগ অ্যান্ড ক্রাইম) সদস্য।

কর্মকর্তাদের আদালতের ভর্ৎসনা

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এটা জারি হওয়ার পর থেকে পুরোনো খাকি রঙের পোশাক আর পরতে পারবেন না মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তারপর থেকে প্রায় গত ১ বছর ধরে সাদা পোশাক পরছেন সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তারা। কিন্তু নানা রকম মামলা আর গ্রেপ্তারকৃত আসামি নিয়ে আদালতে গিয়ে বিব্রত হতে হচ্ছে তাদের। আদালত তাদের পোশাক পরে আসতে বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে করছেন ভর্ৎসনাও। নতুন করে এই পোশাক জটিলতার কারণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন এতে আরও বেশ কিছু দিন তাদের এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।


মরিয়মের সাথে দেখা করার পর মুখ খুললেন রহিমা

মরিয়মের সাথে দেখা করার পর মুখ খুললেন রহিমা
মা রহিমা বেগম (বাঁয়ে), মায়ের সন্ধান চেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্নার ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
  • একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সাথে ওষুধ, পোষাক থাকতে পারে না : পিবিআই

  • প্রতিবেশিরা আমাকে অপহরণ করে ব্লাংক স্ট্যাম্পে সাক্ষর নিয়েছে : রহিমা বেগম

খুলনা মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগম উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই অনেকটা নিশ্চুপ ছিলেন। প্রথমবার মরিয়মের সাথে দেখা করতে না চাইলেও পবর্তীতে মরিয়ম তাকে জড়িয়ে ধরলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে পুলিশের কাছে তুলেন অপহরণের অভিযোগ।

শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে পৌনে ১১ টায় খুলনার উদ্দেশ্য রওনা হয় পুলিশ। রাত ২ টা ১০ মিনিটে তাকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে রাখা হয় সোনাডাঙায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে।

দৌলতপুর থানার উপ পরিদর্শক দোলা দে বলেন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকা অবস্থায় তার মেয়েরা দেখা করতে এসেছিল। তবে তিনি কোন ভাবেই রাজি হচ্ছিলেন না। পরে আমার অনুরোধে জানালার কাছে এসেছিলেন। মরিয়ম মা বলে ডাক দিলে তিনি ভেতরে চলে যান। পরে তাকে আমরা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) খুলনা জেলা কার্যালয়ে হস্তান্তর করি।

পিবিআই কার্যালয়েও তাকে নানা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রথমদিকে তিনি একেবারে নিশ্চুপ ছিলেন।

খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, আমরা নানাভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম। তবে কোন ভাবেই তিনি মুখ খুলতে চাননি।

তবে দুপুরের পরে তার মেয়ে মরিয়মসহ অন্যরা পিবিআই কার্যালয়ে এসে মা রহিমা বেগমকে জড়িয়ে ধরেন। তখন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রহিমা বেগম।

সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, মেয়েদের সাথে দেখা হওয়ার পরে রহিমা বেগম মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন প্রতিবেশি কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনসহ তিন জন তাকে অপহরণ করেছিল। তাকে কোথাও আটকে রেখে ব্লাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন তারা। পরে তারা এক হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘রহিমা বেগমের দাবি, তিনি কিছুই চিনতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে গোপালগঞ্জের মুকছেদপুর হয়ে পূর্ব পরিচিত ভাড়াটিয়ার ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে যান। কিন্তু তার কাছে কোনো মোবাইল নম্বর না থাকায় কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রহিমা বেগমের বক্তব্য খতিয়ে দেখছি। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী সবকিছু করা হবে।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, রহিমা বেগমকে উদ্ধারের সময়ে তার কাছ থেকে একটি সাদা ব্যাগ পাওয়া গেছে। তাতে ওষুধ ছিল, পোষাকসহ অন্যান্যা মালামাল ছিল। একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সাথে এগুলি থাকতে পারে না। তাই এটা অপহরণ নাও হতে পারে।



পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি
প্রতীকী ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকা ডুবে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন।

জেলা ফায়ার সার্ভিস থেকে নৌকাডুবির কথা বলা হলেও হতাহতের সঠিক তথ্য এখনও দিতে পারেননি।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় দৈনিক বাংলাকে ১৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


ঘুষ নেয়ায় নাজির বরখাস্ত

ঘুষ নেয়ায় নাজির বরখাস্ত
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।

একই সঙ্গে ঘটনা‌ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আজ রোববার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে চি‌ঠি পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এক‌টি ভাইরাল ভিডিওর বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দিনের ঘুষের বিনিময়ে কাজের সংবাদ তথ্য জানা যায়। বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে।

ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন সেবাগ্রহীতা সদ্য অনুমোদিত নামজারী (খারিজ) করতে এলে রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দীন সেবাগ্রহীতাকে বলেন, ‘নামজারিতে একটি নাম ভুল হয়েছে, সেটি সংশোধন করতে হবে এবং সব মিলে ১ হাজার টাকা লাগবে, এর কম হবে না। কারণ সংশোধন করতে হলে এটি উপরে পাঠাতে হবে, সেখানে টাকা চাবে।’

এমতাবস্থায় সেবা গ্রহীতা ৭০০ টাকা দেন এবং বাকি টাকা কাজ হলে দেবেন বলে জানান। কিন্তু এই কাজের জন্য কোনো ফি নির্ধারণ করা নেই।


পিবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন খারিজ

পিবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন খারিজ
বাবুল আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বাবুলের কারাকক্ষে তল্লাশি ও নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনটিও খারিজ করে দেয়া হয়।

আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালত আবেদন দুটি খারিজ করে দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাবুল আক্তার একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। এর মধ্যে তিনি অনেকবার আদালতে এসেছেন। কিন্তু একবারও নির্যাতনের বিষয়ে আদালতে কোনো অভিযোগ করেননি। কিন্তু এখন অভিযোগ করে মামলার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। সবকিছু বিবেচনায় আদালত তার আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। তিনি বলেন, আদালত আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে চট্টগ্রামের আদালতে মামলার আবেদন করেন বাবুল আক্তার। এরপর আদালত শুনানি শেষে আদেশের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন।

আবেদনে বনজ কুমার মজুমদার ছাড়া যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন— পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

সে সময় মামলার শুনানিতে বাবুলের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, পিবিআই বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে মিতু হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতন করেছে। এই ঘটনায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ (১) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ৫ (২) ধারায় মামলার আবেদন করা হয়েছে। বাবুল আক্তার নিজেই আবেদনটি করেছেন।

এ ছাড়া, ১২ সেপ্টেম্বর বাবুল আক্তারের কারাকক্ষে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন তল্লাশি চালিয়েছেন অভিযোগ তুলে তদন্তের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে এই আবেদনটিও ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছিলেন। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর এই দুই আবেদনের আদেশের সময় পিছিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন আদালত।

১২ সেপ্টেম্বর আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ দাবি করেন— পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের পর আসামিরা মারমুখি আচরণ করছেন। তাদের নির্দেশে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জেল কোডের তোয়াক্কা না করে কারাগারে বাবুলের কক্ষে প্রবেশ করেন।

তিনি (ওসি) দীর্ঘ সময় ওই কক্ষে তল্লাশির নামে বাদীর জীবনের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। তবে তল্লাশির বিষয়টি ওসি এবং জেল সুপার আনোয়ারুল করিম অস্বীকার করেন। 

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় জঙ্গিরা জড়িত দাবি করে বাবুল আক্তার মামলা করেন পাঁচলাইশ থানায়। তদন্ত শেষে পিবিআই গত বছরের ১২ মে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

হত্যায় বাবুল জড়িত বলে সন্দেহ হলে একই দিন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন আরেকটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ এ মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখায়।

বাবুলের করা মামলায় পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৪ অক্টোবর আদালতে নারাজি দেন বাবুলের আইনজীবী। আদালত ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে আদালত বাবুলকে নিজের করা মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

এর মধ্যে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পিবিআই মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এতে ওই মামলায় গ্রেপ্তার বাবুলসহ অন্যদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। মামলাটিতে পাওয়া সব তথ্য-উপাত্ত বাবুল আক্তারের করা মামলায় একীভূত করতেও আবেদন জানানো হয়।

পিবিআইয়ের অধিকতর তদন্তে বাবুল আক্তারের করা মামলায় তাকেই আসামি করা হয়। 


জি কে শামীমের যাবজ্জীবন

জি কে শামীমের যাবজ্জীবন
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমসহ আটজনকে অস্ত্র আইনের এক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রাজধানীর গুলশান থানায় করা মামলাটিতে একই সঙ্গে সব আসামির লাইসেন্স করা অস্ত্র রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় জি কে শামীমকে। দণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. মুরাদ হোসেন। এরা জি কে শামীমের দেহরক্ষী।

২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেখান থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৯ হাজার আমেরিকান ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

এরপর জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে, মানি লন্ডারিং এবং মাদক মোট তিনটি মামলা করে।

অস্ত্র মামলায় র‌্যাব ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি একই আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে বিচার শুরু করে।