মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২

তিন কোটি মানুষ চিকিৎসা নেয় না টাকার অভাবে

তিন কোটি মানুষ চিকিৎসা নেয় না টাকার অভাবে
প্রতীকী ছবি
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত

জাকিয়া আহমেদ

দেশের ৫৮ শতাংশ মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে ধারদেনা করেন, জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন, অনেক সময় নিঃস্ব হয়ে পড়েন। আর তিন কোটি মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে চিকিৎসাসেবাই নেন না।

গবেষণার তথ্য বলছে, শুধু চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতি বছর চার শতাংশের বেশি পরিবার দারিদ্র্য থেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকারা আরও নিচে নামছেন। দরিদ্ররা হয়ে পড়ছেন হতদরিদ্র।

বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে বলছেন, চিকিৎসা ব্যয়ের একটি বড় অংশ চলে যায় শুধুই ওষুধের পেছনে। এর পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ের জন্য নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয়ও আছে এই খাতে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এবং  বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট গত বছরের নভেম্বরে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তার তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে চিকিৎসার পেছনে মানুষের যে খরচ তার ৬৯ শতাংশই ব্যক্তি নিজেই বহন করেন। আর স্বাস্থ্য ব্যয় বহন করতে গিয়ে প্রতি বছর ৮৬ লাখেরও বেশি মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছেন।

সরকারের হিসাবেই চিকিৎসা ব্যয় বেশি হওয়ার এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে ১৬ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারেন না বা নেন না। এ হিসাবে প্রায় তিন কোটি মানুষ প্রয়োজন হলেও চিকিৎসা নিচ্ছেন না।

গত মাসে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এক যৌথ গবেষণায় জানিয়েছে, গত ১ বছরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ২৬ শতাংশ পরিবার বিপর্যয়মূলক ব্যয় করেছে। ২৬ শতাংশের মধ্যে ৫৮ শতাংশ চিকিৎসাসেবা মেটাতে গিয়ে ধারদেনা করেছে, সম্পত্তি বিক্রি করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এর মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে, আর্থিকভাবে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর চিকিৎসাব্যয় মেটাতে গিয়ে নতুন করে ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যর শিকার হচ্ছে। আর ৭৩ শতাংশ মানুষ নিজের পকেট থেকেই চিকিসা ব্যয় মেটান।

বিআইডিএসের পরিচালক ড. আব্দুর রাজ্জাক সরকার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা যে গবেষণা করেছি তার উদ্দেশ্যই ছিল, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসা খরচের জন্য নিজের পকেট থেকে কত টাকা খরচ হয় এবং সেটা তাদের জন্য বিপর্যয়মূলক কিনা- সেটা দেখা। আমাদের গবেষণায় পরিষ্কারভাবে দেখেছি যে, চিকিৎসাখরচ জোগাতে গিয়ে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে চরম বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে নিজেদের আয় থেকে খরচ, পরে সঞ্চয় থেকে খরচ করেছেন তারা। পরে বন্ধু-স্বজনদের কাছ থেকে ধার করা এবং শেষে বাধ্য হয়ে সম্পত্তি বিক্রি করতে হচ্ছে।’

গবেষণাটি ৪৫ হাজার ৪২৩টি পরিবারের ওপর পরিচালিত হয়, যেখানে ৩৩ হাজার ৬৩১টি পরিবার ছিল গ্রামের।

এই প্রতিবেদক গত তিন মাসে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। চিকিৎসা নিতে এসে আর্থিক দৈন্যে পড়ে পরিবারগুলোর দীর্ঘশ্বাস চোখে পড়েছে সে সময়।

ফুসফুসের জটিলতায় অসুস্থ লক্ষ্মীপুরের ১৯ বছর বয়সী সিহাব হোসেনকে নিয়ে গত আড়াই মাস ধরে তার পরিবার ছুটছে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। শুরুতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে সাতদিন চিকিৎসা নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে সিহাবকে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার চিকিৎসা হয় ১৮ দিন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

সিহাবকে আনা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে। হাসপাতালে প্রতি দিন সকালে ওষুধের লম্বা ফর্দ তাকে করে তোলে দিশেহারা। টাকায় টান পড়ায় এক সময় অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বাড়ি চলে যেতে বাধ্য হন তিনি।

‘হাত যে একেবারেই ফাঁকা, কী দিয়ে ছেলের চিকিৎসা করাব? আল্লার নামে বাড়ি চললাম, যা থাকে কপালে’- এ প্রতিবেদককে গত ২৭ আগস্ট বলেছিলেন সিহাবের বাবা আব্দুর রহিম।

‘যা থাকে কপালে’ মুখে বলে বাড়ি ফিরে গেলেও ছেলের অবস্থা বিচলিত করে তোলে তাকে। ফের ঢাকায় এসে ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে আছেন গত এক সপ্তাহ ধরে।

গত আড়াই মাস ধরে অসুস্থ ছেলের চিকিৎসায় প্রায় আড়াই লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে গ্রামের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের এই মানুষটির। গত ১৩ সেপ্টেম্বর এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রথমে ধারদেনা করেছি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে। গোয়ালে তিনটা গাভি ছিল-সেগুলো বিক্রি করেছি, বিক্রি করেছি একখণ্ড জমি। সবই শেষ করেছি। এখন বাকি চিকিৎসা কীভাবে চালাব জানি না। যতদিন টাকা ছিল বা কোনো উপায় ছিল ততদিন তো চেষ্টা করলাম, এখন আর কোনো উপায় নেই। হয়তো টাকার অভাবে ছেলেটার চিকিৎসা শেষ করতে পারব না।

একই অবস্থা মানিকগঞ্জের শাহজাহান হাওলাদারেরও। স্ত্রী রহিমা বেগমকে নিয়ে তার যুদ্ধ গত আড়াই বছরের। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের কারণে প্রথমে চোখে সমস্যা, এরপর কিডনি জটিলতা এবং সবশেষ ক্যানসার। গত নভেম্বর থেকে যুদ্ধটা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে এসেছেন গত ২১ জুলাই। প্রথমে ওয়ার্ড, পরে আইসিইউ, তারপর কেবিন- এখন ফের আইসিইউ।

চিকিৎসায় কত খরচ হলো জানতে চাইলে শাহজাহান হাওলাদার বলেন, গত দুই মাসেই খরচ হয়েছে ছয় লাখ, তার আগের হিসাব তো এখন আর করিই না। তবে সেখানেও প্রায় পাঁচ লাখের মতো গেছে। জমানো টাকা, আর ধারদেনা করে এতদিন খরচ চালিয়েছি। এখন বোধ হয় আর সেটা সম্ভব হবে না… সব শেষ করেছি এই কয় বছরে, অবশিষ্ট আর কিছুই নেই।

আব্দুর রহিম কিংবা শাহজাহান হাওলাদারের মতো হাজারও মানুষ চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে প্রতিনিয়তই নানা জটিলতায় পড়ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হলে ‘আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার’ কমানোর উদ্যোগ নেয়া এখন সময়ের দাবি।

চিকিৎসা ব্যয়ের বেশির ভাগ চলে যাচ্ছে শুধুই ওষুধের পেছনে জানিয়ে বিআইডিএসের পরিচালক ড. আব্দুর রাজ্জাক ৫৪ থেকে ৬৪ শতাংশ খরচ হচ্ছে কেবল ওষুধ কেনার জন্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আবদুল হামিদ বলেন, বিত্তশালীরা যাচ্ছেন দেশের বাইরে অথবা বেসরকারি হাসপাতালে। আর নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন সরকারি হাসপাতালে। ফলে ব্যক্তির আউট অব পকেট এক্সপেনডিচার বাড়ছে, সরকারি হিসেবে ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ আর বেসরকারি হিসেবে সেটা আরও বেশি হবে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের গবেষণা পরিচালক মো. নুরুল আমিনও বলেন, রোগীদের ব্যয়ের বড় খাতই ওষুধ। ওষুধের পেছনেই খরচ হয় ৬৪ শতাংশ। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সরকারি ওষুধ দেয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টির ওপর নজর দিতে হবে, যদিও সব ওষুধ সবসময় দেয়া সম্ভব হয় না।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বাকিদের মধ্যে আবার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ১৪ দশমিক ৪১ শতাংশ, মহল্লার ভেতরে থাকা ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে খান ৩৩ দশমিক ১১ শতাংশ আর হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে যান ২৫ দশমিক ৫১ শতাংশ মানুষ।

মো. নুরুল আমিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আউট অব পকেট এক্সপেনডিচার’ কেন বাড়ছে- সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা উচিত সবার আগে। সরকারি হাসপাতালে ‘আউট অব পকেট এক্সপেনডিচার’ কম, কিছুটা ‘নমিনাল’ হলেও বেসরকারি হাসপাতালে সেটা শতভাগ।

‘কিন্তু সরকারি হাপসাতালগুলোর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্সগুলো ততটা কার্যকর নয় যতটা আমরা আশা করি। অথচ সেগুলো যদি কার্যকর হতো তাহলে জেলা এবং তার পরের ধাপের হাসপাতালগুলোতে এত চাপ পড়ত না, মানুষ বেসরকারি হাপসাতালেও যেত না,’ বলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে সাড়ে চার শতাংশের বেশি পরিবার দারিদ্র্য থেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দেশে অন্য কোনো সেক্টর বা বিভাগ নেই যেখানে মানুষ সেবা নিতে গিয়ে দরিদ্র হচ্ছে। কেবল হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে, আর এখানে যদি গুরুত্বারোপ করা হতো তাহলে দেশের দরিদ্রজনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে আসত।’

চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের জন্য সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার চাহিদা রয়েছে, তবে সীমাবদ্ধতাও রয়েছে আমাদের, এটা অস্বীকার করা যাবে না।’

দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সেবার মান উন্নত করার বিষয়ে সুপারিশ করতে মন্ত্রণালয় থেকে চারটি কমিটি করা হয়েছে। তারা চলতি মাসের মধ্যেই প্রতিবেদন দেবে, বলেন তিনি।

সচিব বলেন, ‘আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি, দেখা যাক কতদূর যেতে পারি। তবে সরকারি হাসপাতালের পাশে বেসরকারি ক্লিনিক নেই- এমন কোনো জায়গা নেই বাংলাদেশে। আর এসব করছেনই হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যরা। চিকিৎসকদের হাসপাতালের কাজে মনোযোগী করে হাসপাতালের ভেতরেই রোগীদের সেবা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে চেষ্টা করা হচ্ছে।’


‘রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়ার অজুহাতের সুযোগ মিয়ানমারকে দিতে চাই না’

‘রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়ার অজুহাতের সুযোগ মিয়ানমারকে দিতে চাই না’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সৃষ্ট উত্তেজনা নিয়ে ঢাকায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফ করেছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খোরশেদ আলম। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আজ মঙ্গলবার সকালে এই ব্রিফ করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা কূটনীতিকদের সাহায্য চেয়েছি। যাতে মিয়ানমার এ অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে না পারে। আমরা কোনোভাবেই এখানে জড়িত হতে চাই না। রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়ার অজুহাতের সুযোগ মিয়ানমারকে দিতে চাই না।’

তবে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিল না চীনের কোনো প্রতিনিধি। এর আগের দিন আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর কূটনীতিকদের ব্রিফ করে ঢাকা।

খোরশেদ আলম সাংবাদিকদের জানান, সীামান্তে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যে প্রাণহানি ঘটছে এবং যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটি আগেই মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছিল।

খোরশেদ আলম বলেন, ‘প্রথমেই ওনাকে ডেকে বলেছিলাম যে আপনারা অ্যাকশন নেন যাতে কোনো ধরনের গোলা আমাদের পাশে না আসে। পরে আমরা আসিয়ান দেশগুলোকে একইভাবে অনুরোধ করেছি আপনারা চেষ্টা করেন মিয়ানমারের গোলা যাতে বাংলাদেশের ওপরে না আসে। আজকে যারা এসেছিলেন অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূতেরা, তাদেরকেও বলেছি, গত পাঁচ বছরে তারা একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি। আমরা ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করছি। এমন কিছু করিনি যার জন্য মিয়ানমারের গোলা এসে আমাদের জনগণের নিরাপত্তা ব্যাহত করবে। তারা গরু-বাছুর নিয়ে বাইরে যেতে পারবে না, ধানখেতে যেতে পারবে না, ঘর-বাড়িতে থাকতে পারবে না- এটা তো চলতে দেওয়া যায় না।’

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, যারা এসেছিলেন তারা সবাই বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। আমরা যে চরম ধৈর্য দেখাচ্ছি, কোনো উসকানিতে পা দিচ্ছি না, এটাকে তারা অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন। তারা বলেছেন, নিজেদের কর্তৃপক্ষকে তারা বিষয়গুলো জানাবেন। ভবিষ্যতে যদি কিছু করণীয় থাকে বিশেষ করে যদি জাতিসংঘে কোন কিছু করণীয় থাকে তাহলে এ বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

এক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিয়ানমাররের আচরণ এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করবে। বাংলাদেশ পশ্চিমে, দক্ষিণে মিয়ানমার আর্মি, উত্তরে আরকান আর্মি। তাদের গোলা কোনোভাবেই বাংলাদেশে আসার কথা নয়। যদি কেউ ইচ্ছে করে না করে থাকে। ইচ্ছাপূর্বক এই কনফ্লিক্টে আমাদের জড়ানোর যে প্রচেষ্টা তাতে জড়িত হব না।

খোরশেদ আলম বলেন, আমরা সব ক্ষেত্রেই মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। যাতে করে মিয়ানমার বুঝতে পারে এরকম একটা অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করা তাদের জন্য যেমন বিপজ্জনক তেমনি বাংলাদেশও এটা ভালভাবে নেবে না।


ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ, ডিবির ৭ সদস্যের কারাদণ্ড

ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ, ডিবির ৭ সদস্যের কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কক্সবাজারের টেকনাফে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ‘ক্রসফায়ার’র হুমকি দিয়ে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় কক্সবাজারের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বহিস্কৃত সাত সদস্যকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা দায়রা ও জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, তৎকালীন ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান ও আবুল কালাম আজাদ, এএসআই ফিরোজ, গোলাম মোস্তফা ও আলাউদ্দিন এবং দুই কনস্টেবল আল আমিন ও মোস্তফা আজম। রায় ঘোষণাকালে আসামিরা সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, টেকনাফে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় ৩৬৫ ধারায় প্রত্যেককে ৫ বছর ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড। অপর ৩৮৬ ধারায় প্রত্যেককে ৭ বছর করে কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। উভয় সাজা একসঙ্গে ভোগ করতে হবে। ফলে সাজা ৭ বছর হিসেবে গণ্য হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার শহরের থানার পেছনের রোড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফের ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দেনদরবারের পর ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় পরিবার। টাকা পৌঁছে দেওয়া হলে পরদিন ভোররাতে আবদুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি গফুরের স্বজনেরা সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাচৌকির কর্মকর্তাকে জানান। পরে মেরিন ড্রাইভ সড়কে মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যদের মাইক্রোবাস তল্লাশি করে ১৭ লাখ টাকা পান। এ সময় ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাকি ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন সেনাসদস্যরা।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আবদুল গফুর বাদী হয়ে এই সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর ২০১৮ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত ৫ সেপ্টেম্বর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ ২০ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করার দিন ধার্য করেছিলেন বিজ্ঞ বিচারক।


শৈলকুপায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত

শৈলকুপায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত
প্রতীকী ছবি।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দোকানে মোবাইল রাখাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চর গোলকনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন, একই গ্রামের কোরবান আলী (৫৯), উম্বাত আলী (৫৫), মামুন হোসেন (১৬), ইউনুস আলী (৩৫), শিপন হোসেন, গফুর মোল্লা (৪৫), আব্দুল মজিদ (৫০), রহিম মোল্লা (৫৫), নজির মোল্লা (৫২) ও রাশেদ আলীসহ (২৭) ১৫ জন।

স্থানীয়রা জানান, গত রোববার সন্ধ্যায় ওই গ্রামের ইউনুস মন্ডলের চায়ের দোকানে ভুলে মোবাইল রেখে বাড়ি চলে যান একই গ্রামের ইউসুফ মোল্লা। পরে মোবাইল নিতে এলে ইউনুস তা নিজের দাবি করেন। এ নিয়ে ওইদিন ইউনুস ও ইউসুফের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সোমবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংষর্ঘে বেশ কয়েকজন আহত হন। এর জেরে আজ সকালে আবারও উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শৈলকুপা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত আভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।


প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর মামলায় ১০ বছরের জেল

প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর মামলায় ১০ বছরের জেল
নারায়ণগঞ্জের আদালত চত্বর। ছবি : সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের মামলায় সোহাগ আলী নামে এক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক সাবিনা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর মো. সোহাগ আলী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসের সামনের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে রেখে ভাঙচুর। পরে আশপাশের লোকজন তাকে আটকে মারধর করে।

পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান।

পরে আশরাফুল ইসলাম বাদি হয়ে সোনারগাঁও থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন।


রাজশাহী মেডিকেলে করোনায় নারীর মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেলে করোনায় নারীর মৃত্যু
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত

রাজশাহীতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মারা যাওয়া ওই নারী ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দা। তার বয়স ৪৭ বছর।

শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেকের করোনা ইউনিটে ওই নারীর মৃত্যু হয়। তিনি হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে (মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) ২৪ শয্যাবিশিষ্ট এই ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি রয়েছেন ১১ জন। যেখানে সোমবারও ১১ জন রোগীই চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদের মধ্যে করোনা সংক্রমিত হয়ে ভর্তি রয়েছেন ৬ জন। করোনা নেগেটিভ হয়েও অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ জন ও করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ২ জন। গত একদিনে কোনো রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার তথ্য মেলেনি।

এদিকে গতকাল সোমবার রামেক হাসপাতালের আরটি পিসিআর ল্যাবে ২২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ জেলায় করোনা শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ।