সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২২

নো ম্যান্স ল্যান্ডেও নিরাপদ নয় রোহিঙ্গারা

নো ম্যান্স ল্যান্ডেও নিরাপদ নয় রোহিঙ্গারা
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

এস বাসু দাশ

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুমের নো ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নওেয়া রোহিঙ্গ নিরাপদ নয়। প্রায় প্রতিদিন মিয়ানমারের যুদ্ধ বিমান থেকে হামলা, গুলি ও মর্টারশেল নিক্ষেপের ঘটনা হচ্ছ। এতে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় রোহঙ্গিাতরে মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।

মিয়ানমারে আরকান আর্মি (এএ) ও সেই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের ঘটনা এমন পরস্থিতিি তরৈি হয়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের একটি গ্রাম তুমব্রু, জনসংখ্যা প্রায় ১২ হাজার, যেখান থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরত্বের নো ম্যান্স ল্যান্ডে বসবাস করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা। সরকারী আগের হিসাবে প্রায় ১১শ পরিবার সেখানে বসবাস করলেও বর্তমান হিসাবে ৬ থেকে ৭শ পরিবারের প্রায় ৫ হাজার মানুষ বসবাস করছে, আতংকে তারা বিভিন্ন এলাকায় পরিবার নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

১নং উত্তর ঘুমধুম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রূপলাল ধর জানান, মিয়ানমারের সংঘাতের ঘটনায় শুধু নোম্যান্স ল্যান্ডে বসবাস করা রোহিঙ্গা নয়, সীমান্তবর্তী তুমব্রুর স্থানীয়রাও চরম আতংকে আছে এখন। রোাহিঙ্গাদের জন্য খাদ্যের যোগান বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা দিয়ে থাকলে শিক্ষার ব্যবস্থা বলতে আছে কবেল মাদ্রাসা শিক্ষা। আয়ের উৎস বলতে ইয়াবা,স্বর্ণ, মদ, গরুসহ বিভিন্ন চোরাচালান। আর এই আয় দিয়ে তারা পরিবার নিয়ে কোন ভাবে নোম্যান্স ল্যান্ডে পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও গত ২৮ আগষ্ট থেকে মর্টার শেল নিক্ষেপ ও গুলির ঘটনায় সেখানেও তারা আর নিরাপদ মনে করছে না।

এই ব্যাপারে গত শুক্রবার রাতে মর্টার শেল হামলায় নিহত ইকবালের চাচাত ভাই এরফানুল হক ফোনে বলেন, ঘুমধুম নোম্যান্স ল্যান্ড এর কোনাপাড়া ক্যাম্প এর পাশে মর্টার শেল বিস্ফোরণের পর থেকে সেখানে আমরা বসবাস করতে আর নিরাপদ বোধ করছি না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তরে ওপারে মিয়ানমার ভূখন্ডে মাইন বিস্ফোরণে গত শুক্রবার দুপুরে অথোয়াইং তংচঙ্গ্যা (২২) নামে এক বাংলাদেশী যুবকের পা উড়ে যায় এবং সন্ধ্যার পর নোম্যান্স ল্যান্ড এর কোনাপাড়া ক্যাম্প এর পাশে মর্টার শেল বিস্ফোরণে আহত রোহিঙ্গা মো : ইকবাল (১৭) মারা যায়। এসময় গুলি ও মর্টার সেল নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয় রোহিঙ্গা নাগরিক নবী হোসাইন (২২), ভুলু (৪০), সাবিকুন নাহার (৪৫), আনাস (১০), সাদিয়া (৯)।

ঘুমধুম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি বোরহান আজিজ জানান, গত শুক্রবারের রাতের ঘটনার পর জীবন শংখায়, আতংকে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে, আবার কেউ কেউ রাতেই নো ম্যান্স ল্যান্ড থেকে পালিয়ে গেছে, আর কেউ পালাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর রাতেই মিয়ানমারের চলমান হামলার একের পর এক ঘটনায় শুধু রোহিঙ্গা নয়, দেশের ঘুমধুমের সীমান্তবর্তী স্থানীয়রাও এখন নির্ঘুম রাত পার করছে। তারা সীমান্তের নিজেদের কৃষি জমিতে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।

এই ব্যাপারে শনিবার সকালে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছ‌মিন পারভীন তিবরী‌জি বলেন, সরকার এখানে কঠোর অবস্থানে আছে এবং জনগনের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরত্ব দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ, আইনশৃংখলা বাহিনীদেরকে এলার্ট করেছি, তারা যেন জনগনকে নিরাপদে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ আগষ্ট মিয়ানমার থেকে নিক্ষেপ করা ২টি মর্টার শেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় ঘুমধুমের তমব্রু’র উত্তর মসজিদের কাছে পড়ে। গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘুমধুম এলাকায় গোলা দুটি পড়ে এবং ৯ সেপ্টেম্বর একে ৪৭ এর গুলি এসে পড়ে। তবে গত শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মাইন বিস্ফোরণ ও গুলি-মর্টার শেল নিক্ষেপে হতাহতের ঘটনায় নো ম্যান্স ল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।


বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদ, মিয়ানমারের উল্টো সুর

বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদ, মিয়ানমারের উল্টো সুর
সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছোড়া মর্টারের গোলা। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
  • সীমান্ত থেকে সরিয়ে নেয়া হবে ৩০০ পরিবার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সীমান্তে মিয়ামারের দফায় দফায় উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের পরও পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে বাংলাদেশ সীমায় একজন রোহিঙ্গা নাগরিকের মৃত্যুর পর রোববার দেশটির রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে ফের তলব করে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে যাওয়ার চিন্তার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে ঢাকা।

তবে বাংলাদেশের প্রতিবাদের মুখে ভিন্ন কৌশল নিয়েছে নেপিডো। তারা বান্দরবান সীমান্তে গোলাবর্ষণের দায় ঠেলে দিয়েছে রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দিকে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের দাবি, আরাকান আর্মি সে দেশের সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ চুরি করে বাংলাদেশে গুলি করছে, যাতে করে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। আর এই সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যরা বাংলাদেশ থেকেই মিয়ানমার সীমান্তে প্রবেশ করছেন বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রদূত।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার ওপারে বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াই চলছে মিয়ানমার সেনাদের। এরই মধ্যে বেশ কিছু মর্টার শেল বাংলাদেশের ভেতরে এসে পড়ে। সবশেষ শুক্রবার রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু কোনারপাড়া সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছোড়া চারটি মর্টার শেল এসে পড়ে। এতে শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক যুবক নিহত হন। আহত হন পাঁচজন। ওই দিন সকালেই ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবকের পা উড়ে যায়।

এর আগে প্রথমে ২০ আগস্ট, এরপর ২৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে মর্টারের গোলা এসে পড়ে বাংলাদেশের সীমানায়। প্রতিবারই দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। দেয়া হয় কূটনৈতিক পত্রও। গত ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি হেলিকপ্টার থেকে বান্দরবানে বাংলাদেশের সীমানায় গোলাবর্ষণ করা হয়। তারপর আবারও রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সবশেষ শুক্রবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকালে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে এক মাসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো তলব করা হয়। এ সময় তার কাছে প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করা হয়।

মিয়ানমারের রাষ্ট্ররের রাধ্যেের দুর্ শূন্যরেখারদূতকে করণীয় নির্ধারণে এদিন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ প্রায় সব বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল এবং শান্তিকামী রাষ্ট্র। আমরা ধৈর্য ধরে এটি সহ্য করে যাচ্ছি। আমরা তাদের বলেছি বিষয়টি সমাধান করুন, আমাদের এখানে যেন রক্তারক্তি না হয়, কোনো প্রাণহানি না হয়।’

বারবার প্রতিবাদলিপি দেয়ার পরও মিয়ানমার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না- এমন প্রশ্নে খুরশেদ আলম বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশীকে যতটুকু সম্মান করা সম্ভব, ততটুকু আমরা করছি। আমাদের বক্তব্যে কোনো ধরনের দুর্বলতা নেই। শক্তভাবেই প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

উল্টো বাংলাদেশকে দুষছে মিয়ানমার

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে প্রতিবাদলিপি দেয়ার পর তার কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, মিয়ানমারের কিছু গতানুগতিক বক্তব্য আছে। তারা সীমান্তে গোলাগুলির বিয়য়টি অস্বীকার করেনি। তবে দাবি করেছে, তাদের সেনারা গুলি করেনি। উনি বলেছেন, এগুলো হয়তো আরাকান আর্মির গুলি হতে পারে।

এর জবাবে বাংলাদেশের বক্তব্য ছিল, ‘মিয়ানমারের ভেতর থেকে বাংলাদেশে যা-ই আসুক না কেন, সেটা মিয়ানমারের দায়িত্ব। সেটা মিয়ানমারকেই দেখতে হবে। আমাদের এপারে যাতে কিছু না আসে, সেটা মিয়ানমারকে নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য যা যা করা দরকার মিয়ানমারকে করতে হবে।’

তাহলে বাংলাদেশে হতাহতের ঘটনায় দায় কার- এমন প্রশ্নের জবাবে খুরশেদ আলম বলেন, ‘গুলির গায়ে লেখা আছে মিয়ানমার আর্মি। কিন্তু মিয়ানমার বলছে, এগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। তারা বলছে আরাকান আর্মি গুলি করেছে, যাতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। এ রকম একটা জায়গায় অ্যাকচুয়ালি কে দায়িত্ব নেবে, সেটা নিরূপণ করা খুবই কঠিন কাজ। তবে আমরা চেষ্টা করছি।’

গোলা খারাপ উদ্দেশ্যে পাঠালেও নিশ্চিত করার উপায় নেই মন্তব্য করে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর সমাধানে সময় লাগবে। ধৈর্য ধরতে হবে। তবে আমরা যদি নিজেরা শক্ত থাকি সমাধান আসবে।’

সৌজন্যতাও দেখানো হয়নি মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তলবের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বেলা ১১টা ২০ মি‌নি‌টে পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে আসেন মিয়ানমা‌রের রাষ্ট্রদূত উ অং কিয়াউ মোয়েকেসহ দুজন। তাদের অন্তত ১৫‌ থে‌কে ১৭ মি‌নিট অপেক্ষা করতে হয় অভ্যর্থনা কেন্দ্রে। এরপর মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. নাজমুল হুদ‌ার দপ্ত‌রে ডে‌কে নেয়া হয়। তিনি তাদের সঙ্গে আধা ঘণ্টার মতো কথা বলেন।

এই পুরোটা সময়ে রাষ্ট্রদূতকে এক কাপ চাও দেয়া হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো কূটনীতিককে আপ্যায়ন করা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ একটি প্রথা বা রেওয়াজ। আপ্যায়নের মাধ্যমে কূটনৈতিক হৃদ্যতার বিষয়টিও বোঝা যায়। কিন্তু মিয়ানমার সীমান্তে চলমান ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ। তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এটা হয়েছে।

এ বিষয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, কূটনীতিককে নানাভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়। আপ্যায়ন না করার অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশ এ বিষয়ে চরম অখুশি।

এখনই সেনা মোতায়েন নয়

আরেক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব খুরশেদ আলম জানান, বাংলাদেশ এখনই সীমান্তে সেনা মোতায়েন করতে চায় না। তিনি বলেন, ‘আমরা উচ্চপর্যায়ে একটি বৈঠক করেছি বাংলাদেশের সব এজেন্সিকে নিয়ে। বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে বলেছি সীমান্তে সজাগ থাকতে। সাগর দিয়ে রোহিঙ্গারা যেন ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে জানাবে বাংলাদেশ

মিয়ানমারের এই আচরণ নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানেও যাবে বাংলাদেশ।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আসিয়ানের যে রাষ্ট্রদূতরা ঢাকায় আছেন, তাদের ডেকে এ ঘটনার ব্রিফ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বারবার প্রতিবাদে মিয়ানমার গা করছে না- এ বিষয়টি সবার কাছে তুলে ধরা হবে। মিয়ানমার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এটা প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের জন্য খুব দুঃখজনক। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতকে বিষয়টি নিয়ে অবহিত করে বাংলাদেশ।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবের পর দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, এভাবে যদি এটা চলতেই থাকে, তাহলে জাতিসংঘে গিয়ে আমাদের বিষয়টি তুলব যে আমাদের মানুষদের ওপর গোলাবারুদ পড়ছে, যেখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা আমাদের কাজ করছি। তারা যদি না মানে, তাহলে দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাব। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের কথা যদি না শোনে, তাহলে আমরা সেখানে যাব।’

জাতিসংঘকে কবে জানানো হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কবে জানানো হবে তা প্রধানমন্ত্রী জানেন।’

সীমান্ত থেকে ৩০০ পরিবারকে সরিয়ে নেবে বাংলাদেশ

এদিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি বাংলাদেশ সীমানায় পড়ে হতাহতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করায় সীমান্ত এলাকা থেকে অন্তত ৩০০ বাংলাদেশি পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চিন্তাভাবনা করছে প্রশাসন। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

গতকাল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে উপজেলা প্রশাসনের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয়দের সরিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। আমরা বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

গতকালও দিনভর মিয়ানমার থেকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়ায় যায়। তারই প্রেক্ষিতে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াসংলগ্ন ঘুমধুম, তুমব্রু, হেডম্যানপাড়া, ফাতরা ঝিরি, রেজু আমতলী এলাকায় বসবাসকারী ৩০০ পরিবারের প্রায় দেড় হাজার স্থানীয় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে ঘুমধুম ইউনিয়নে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় সীমান্তবর্তী পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি কঠিন হবে।’

সীমান্ত থেকে স্থানীয়দের সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখছি। তাদের নিরাপদ রাখতে, যা যা করণীয় সব করা হবে।’


মোটরসাইকেলে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কা, যুবক নিহত

মোটরসাইকেলে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কা, যুবক নিহত
ছবি : সংগৃহীত
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ময়মনসিংহের ভালুকায় গাড়ির চাপায় মো. নাঈম (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন সঙ্গে থাকা আরেকজন আরোহী।

আজ সোমবার সকাল আটটার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার কলেজ গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাঈম গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুরাইল গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে।

বিষয়টি দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. রিয়াদ মাহমুদ।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সকালে মোটরসাইকেলে শ্রীপুর থেকে সজিব নামের একজনকে সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহের দিকে আসছিলেন নাঈম। আটটার দিকে ভালুকার কলেজ গেটের সামনে আসতেই পিছন দিক থেকে বেপরোয়া গতির অজ্ঞাত এক গাড়ি মোটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে চালক নাঈম মহাসড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা গুরুতর আহত সজিবকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। নিহতের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা আসলে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক চালকসহ গাড়ীটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান রিয়াদ মাহমুদ।


বাসচাপায় মাদ্রাসাশিক্ষক ও মুয়াজ্জিন নিহত

বাসচাপায় মাদ্রাসাশিক্ষক ও মুয়াজ্জিন নিহত
প্রতীকী ছবি
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত

খুলনার হরিণটানা থানার হোগলাডাঙ্গা এলাকায় বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, হরিণটানার রাজবাঁধ এলাকার মোস্তফার ছেলে বেল্লাল হোসেন (২৫) ও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কাটাবুনিয়া গ্রামের কাউসারের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২২)। 

এর মধ্যে শরিফুল ইসলাম রাজবাঁধ হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও বেল্লাল ওই এলাকার আয়েশাবাদ জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন। মসজিদ ও মাদ্রাসার দূরত্ব প্রায় আধা কিলোমিটার।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক জানান, ফজরের নামাজ পড়ে দুইজন এক সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে যাচ্ছিলেন। হোগলাডাঙ্গার ভেতর থেকে মহাসড়কে ওঠার সময় খুলনা থেকে সাতক্ষীরার দিকে যাওয়া একটি বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান।

তিনি আরও জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।


৬ সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা সাবেক এমপির মেয়ের

৬ সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা সাবেক এমপির মেয়ের
রাঙামাটিতে ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা। ছবি: ফেসবুক
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির তিন সাংবাদিকসহ ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন রাঙামাটির সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর মেয়ে নাজনীন আনোয়ার। গত বুধবার চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলাটি করেন তিনি। সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আগামী ১৩ নভেম্বরে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

যে ছয়জনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এই মামলায় আসামি করা হয়েছে তারা হলেন— ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিবেদক অনির্বাণ শাহরিয়ার, রাঙ্গামাটির দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক ফজলে এলাহী, জাগো নিউজের রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি সাইফুল হাসান, দীপ্ত টিভির বিশেষ প্রতিনিধি বায়েজিদ আহমেদ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি দিদারুল আলম ও বণিক বার্তার রাঙামাটি প্রতিনিধি প্রান্ত রনি। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার কারণে বাদী ও তার মা (সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু) সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অপদস্থ হয়ে মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ কারণে মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ২৩, ২৫, ২৬, ২৯, ৩১, ৩৪, ৩৫ ও ৩৭ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনলাইন দৈনিক পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকমে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ডিসি বাংলো পার্কে অবস্থিত ‘পাইরেটস’ রেস্টুরেন্ট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিক ফজলে এলাহীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুর মেয়ে নাজনীন আনোয়ার। এই মামলায় গত ৭ জুন ফজলে এলাহীকে গ্রেপ্তার করে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পরদিন ৮ জুন রাঙামাটির আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান তিনি। এরপর ১৪ জুন চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত থেকে তিনি স্থায়ী জামিন পান। ফজলে এলাহীকে গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও জামিনের দাবিতে সরব থাকার জের ধরেই এবার ফজলে এলাহীসহ আরও পাঁচ সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে নাজনীন আনোয়ার মামলা করেছেন বলে ধারণা করছেন অভিযুক্তরা।


চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্বে আঞ্চলিক কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্বে আঞ্চলিক কর্মকর্তা
নির্বাচন কমিশন
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামানকে চট্টগ্রামের জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এ টি এম পেয়ারুল ইসলামের বিজয় কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেয়ায় তাকে সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন থেকে জারি করা এক সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য ও সদস্য পদের নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ১ সেপ্টেম্বর ১২৮৭৮ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত কলামে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের (মমিনুর রহমান) নাম ছিল। তার পরিবর্তে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে (হাসানুজ্জামান) রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো।

এর আগে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিজয় কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেয়ায় রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমানকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।

রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, দুদিন আগে আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখেছি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে একটি দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা নিয়ে তার বিজয় কামনা করে দলীয় নেতাদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন। আরও কিছু পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এগুলো আমাদের নজরে এসেছে। একজন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এটা করতে পারেন না। তাই তাকে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে।