সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

সীমান্তে মিয়ানমার উসকানি দিচ্ছে

সীমান্তে মিয়ানমার উসকানি দিচ্ছে
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত। ছবি: সংগৃহীত
মোর্শেদ নোমান
প্রকাশিত
  • একের পর এক বেআইনি কর্মকাণ্ডকে ভুল বলতে নারাজ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা

  • বিষয়টি জাতিসংঘে তুলে ধরা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোর্শেদ নোমান

সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে সেনাবাহিনীর যেকোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হলেও তা না মেনে মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমান্তে মাইন পুঁতে রেখেছে। বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার বাংলাদেশ সীমায় ঢুকে গুলি করেছে। মিয়ানমার থেকে মর্টারশেল এসে বাংলাদেশে পড়েছে এবং তাতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

সর্বশেষ গত শুক্রবার মিয়ামারের মর্টারশেলের আঘাতে শূন্যরেখায় একজন মারা যান। শনিবারও দফায় দফায় সীমান্তে বিকট গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন স্থানীয়রা। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন রোহিঙ্গাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

ধারাবাহিক এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, মিয়ানমারের এমন কর্মকাণ্ড উসকানিমূলক কি না। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন মনে করেন, এটা তাদের ভুল। অবশ্য মিয়ানমার পাল্টা চিঠি দিয়ে ভুল স্বীকার করা দূরে থাক, বরং সম্প্রতি বাংলাদেশকে জানিয়েছে, সীমান্তে এমন কিছু ঘটেইনি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের এসব কর্মকাণ্ড ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তারা মনে করেন, মিয়ানমার চায়, বাংলাদেশ তাদের উসকানির ফাঁদে পা দিক।

এ প্রেক্ষাপটে তাদের মত হচ্ছে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের উচিত সীমান্তে শক্তি বাড়ানো। মিয়ানমারকে বাংলাদেশের শক্তির জানান না দিলে তারা এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, যা বাংলাদেশের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির নতুন খোরাক জোগাবে। একই সঙ্গে সীমান্তে মিয়ানমারের এই আচরণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেয়া উচিত বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা।

যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। যদি তাতে কাজ না হয়, তাহলে বিষয়টি জাতিসংঘে তুলে ধরা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি তারা তাদের ভেতরে যে কনফ্লিক্ট (সংঘর্ষ), সেটা তাদের ভেতরেই থাকতে হবে। আমাদের দিকে যাতে না আসে, সে জন্য আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও স্ট্রংলি বিষয়টি উত্থাপন করবে।’

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি লুইস গুয়েন। গতকাল গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, জাতিসংঘ প্রতিনিয়ত ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে, মিয়ানমারের মিশনের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সত্যি বলতে পুরো ঘটনা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। যদিও ঘটনাস্থলে দেখার অনুমতি নেই। তাই উভয় দেশকে শান্তি বজায় রাখতে অনুরোধ করেন লুইস গুয়েন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নিজ দেশের ভেতরে বিব্রতকর অবস্থায় আছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। আন্তর্জাতিকভাবেও অনেকটা কোণঠাসা। তবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারত-চীনের মতো দেশ মিয়ানমারকে সহায়তা করছে। আর ভারত-চীনের বিপরীতে মার্কিন বলয় সেখানে ক্রিয়াশীল।

নানামুখী চাপে মিয়ানমারের জান্তা সরকার বাংলাদেশকে উসকানি দিচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটা উসকানি নয়, দুর্ঘটনা। তবে সবাই একটি বিষয়ে একমত, তা হলো মিয়ানামরকে নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় দেয়ার পাশাপাশি কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে তারা উসকানি দিতে চায়, যাতে আমরাও সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করি।’ তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ যদি মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে যায়, তাতে মিয়ানমারেরই লাভ। তারা এ ইস্যুটি ব্যবহার করে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথ আটকে দিতে পারবে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার বিচার চলছে। অন্যদিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার জোরালো বক্তব্য তুলে ধরবেন বলে সরকারের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশের বেলায় মিয়ানমারের দুঃখ নেই

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্য দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা কিংবা সীমানায় ঢুকে পড়া মিয়ানমারের জন্য নতুন নয়। কিন্তু সেসব ঘটনায় জোর প্রতিবাদের মুখে তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেনি।

২০১৫ সালে মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান চীন সীমান্তে ঢুকে গোলবর্ষণ করলে চার কৃষক মারা যান। মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের তীব্র প্রতিবাদের মুখে মিয়ানমার দুঃখ প্রকাশ করে।

কারেন বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ চালাতে গিয়ে থাইল্যান্ডের আকাশসীমাও বেশ কয়েকবার লঙ্ঘন করে মিয়ানমার। সবশেষ গত ৩০ জুন থাইল্যান্ডের আকাশসীমায় মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান মিগ-২৯ ঢুকে পড়ে। প্রতিবারই থাইল্যান্ড জোর প্রতিবাদ জানায় এবং মিয়ানমার দুঃখ প্রকাশ করে।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর সীমান্ত অতিক্রম করে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আগে আসা রোহিঙ্গাসহ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ঠাঁই হয় কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে।

অথচ ২০১৭ সালের পর থেকে মিয়ানমার বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করলেও একবারের জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেনি। একই বছর বান্দরবানের থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে দুবার মিয়ানমারের হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। ২০১৮ সালে বান্দরবান জেলার আলীকদম সীমান্তে মিয়ানমারের একটি হেলিকপ্টার বাংলাদেশের অন্তত দুই কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রতিবারই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়।

গত এক মাসে কয়েকটি ঘটনার পর বাংলাদেশ প্রতিবাদ জানালেও মিয়ানমার নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। প্রথমে ২০ আগস্ট, এরপর ২৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে মর্টারের গোলা এসে পড়ে বাংলাদেশের সীমানায়। প্রতিবারই দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। দেয়া হয় কূটনৈতিক পত্রও। গত ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি হেলিকপ্টার থেকে বান্দরবানে বাংলাদেশের সীমানায় গোলাবর্ষণ করা হয়। তারপর আবারও রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে ভুলবশত বাংলাদেশ সীমানায় তাদের গুলি এসে পড়েছে। এর পেছনে তাদের কোনো উদ্দেশ্য নেই বা তারা উসকানি দিচ্ছে না বলেও গত ৪ সেপ্টেম্বর মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান।

কিন্তু গত শুক্রবার বড় দুটি ঘটনার পর মন্ত্রীর এই বক্তব্যের ওপর বিশেষজ্ঞরা আস্থা রাখতে পারছেন না। কারণ ওই দিন নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টারশেলের আঘাতে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হন, আহত হন পাঁচজন। এ ছাড়া তুমব্রু সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে অথোয়াইং তংচঙ্গ্যা নামে এক বাংলাদেশি যুবকের পা উড়ে যায়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, ‘এভাবে গুলি, মর্টারশেল, হেলিকপ্টার আসা অব্যাহত থাকলে আমাদের জন্য হুমকির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তা ছাড়া আমরা সর্বোচ্চ ঝুঁকিতেই রয়েছি, যা চলতে দেয়া যায় না।’

আরেকজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামান মনে করেন, ‘প্রতিক্রিয়া কূটনৈতিকভাবে দেখানো উচিত। তাতে কাজ না হলে আমাদের সীমায় প্রবেশ করা দুই একটা হেলিকপ্টার গুলি করে ফেলে দেয়া উচিত। আমাদের মনে রাখতে, মিয়ানমার কিন্তু শক্তের ভক্ত নরমের যম।’

তুমব্রু সীমান্তে ফের গোলার শব্দ, আতঙ্ক

তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টারশেলের আঘাতে গত শুক্রবার এক রোহিঙ্গা যুবক মারা যাওয়ার পর শনিবারও দফায় দফায় বিকট গোলার শব্দ শোনা গেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিরাপত্তার কারণে গ্রাম ছেড়ে অন্য জায়গায় ৩৫টি পরিবার আশ্রয় নেয়ার গুঞ্জন উঠলেও তা নিশ্চিত করতে পারেননি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তবে ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় চলাফেরায় কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বিজিবি।

গতকাল দুপুরে এসব তথ্য জানিয়ে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম জানান, গতকাল সকাল থেকে থেমে থেমে কয়েকটি গোলার বিকট শব্দ হয়েছে।

গতকাল বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি দৈনিক বাংলাকে বলেন, সরকার কঠোর অবস্থানে আছে এবং জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরত্ব দিচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা প্রথমত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অ্যালার্ট করেছি তারা যেন জনগণকে নিরাপদে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়।’

উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট থেকে তুমব্রু সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি পাহাড়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) যুদ্ধ চলছে, যা থামার লক্ষণ নেই। 

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার প্রতিবেদক শাহরিয়ার হাসান, বান্দরবান প্রতিনিধি এস বাসু দাশ এবং কক্সবাজার প্রতিনিধি মুহিববুল্লাহ মুহিব]


সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু

সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে নিজ বাসার সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন তুষভান্ডার মহিলা কলেজের শিক্ষক পারুল বেগম। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) গুলফামুল ইসলাম মন্ডল কলেজ শিক্ষক পারুলের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, রোজা রাখতে রোববার ভোরে ঘুম থেকে উঠে সেহেরি রান্নার জন্য গ্যাসের চুলা চালু করতে যান পারুল। এ সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সে আগুনে দগ্ধ হন পারুল। ধোঁয়া ও পারুলের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে নিয়ে যান। বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মারা যান তিনি।

পারুল বানু উপজেলার তুষভান্ডার মহিলা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তার স্বামী একই কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক। তাদের দুজনের বাড়ি রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলায়। কলেজে শিক্ষকতার সুবাদে তারা উপজেলা সদরে ভাড়া থাকতেন। তাদের একটি সন্তান রয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) গুলফামুল ইসলাম মন্ডল বলেন, প্রভাষক পারুলের লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। মেডিকেল কলেজ থেকে আগুন লাগার বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। আমাদের কাছে যেসব তথ্য ছিল, আমরা জানিয়েছি।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম গোলাম রসুল বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। ওই শিক্ষকের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ রাজশাহীতে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’


ফুটবলার আঁখির জমি নিষ্কণ্টক, মামলা প্রত্যাহার

ফুটবলার আঁখির জমি নিষ্কণ্টক, মামলা প্রত্যাহার
আঁখিকে বরাদ্দ দেয়া জমি, ইনসেটে আঁখি খাতুন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনূর্ধ্ব-১৫ গোল্ডেন বুট জয়ী ও সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি জয়ী নারী ফুটবলার আঁখি খাতুনকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ৮ শতাংশ জমির ওপর করা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার বাদী হাজী মকরম প্রামানিক সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফুন নাহার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাদীপক্ষ মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। ফলে এ মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। বর্তমানে ফুটবলার আঁখিকে বরাদ্দ দেওয়া ওই জমিটি এখন সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ফুটবলার আঁখির জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ জমির একটি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ৪ জুন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার জমির দলিল হস্তান্তর করেন। সম্প্রতি হাজী মকরম প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি ওই জমির তাদের দখলে রয়েছে দাবি করে মামলা করেন। তবে মামলার তফসিলে তিনি খতিয়ান উল্লেখ বা জমিটির মালিকানা দাবি করেননি। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বাদী নিজেই মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করলে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

ফুটবলে অবদান ও পরিবারের দারিদ্র্য অবস্থা বিবেচনায় তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় আঁখিকে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জমির মালিকানা দাবি করে শাহজাদপুরের একজন ব্যবসায়ী মামলা করেন। আঁখির জমি নিয়ে সমস্যার কথা বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ নতুন জমি আঁখির নামে বরাদ্দ দেয়। গত ৪ জুন এই জমির দলিল আঁখির পরিবারের কাছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার জমির দলিল হস্তান্তর করেন। সম্প্রতি আঁখি খাতুনকে বরাদ্দ দেয়া সেই জমির দখল নিয়ে হাজী মকরম প্রামানিক আদালতে মামলা করেছিলেন।

গত বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলার নোটিশ নিয়ে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুনুর রশিদ ও কনস্টেবল আবু মুসা আঁখির গ্রামের বাড়িতে গেলে তার বাবার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আঁখির বাবাকে পুলিশ শাসায় এবং থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সমালোচনা হলে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেন। এ ঘটনার পাঁচদিন পর বাদী স্বেচ্ছায় মামলাটি প্রত্যাহার করে নিলেন।


মুক্তিপণ দিতে না পারায় খুন হলেন কৃষক

মুক্তিপণ দিতে না পারায় খুন হলেন কৃষক
মরদেহ। প্রতীকী ছবি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মুক্তিপণ দিতে না পারায় খুন হয়েছেন কৃষক ছাইদুর রহমান (৪০)। তিনি উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের বলতৈল গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের নদী থেকে ছাইদুর রহমানের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে। এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি অপহৃত হন।

ছাইদুরের পরিবারের বরাত দিয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনামুল হক জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর ছাইদুর সন্ধ্যার আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। ২৫ সেপ্টেম্বর ছাইদুরের পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তার মুক্তির জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। একাধিকবার এই টাকার দাবিতে মোবাইল করে অপহরণকারীরা। কিন্তু ছাইদুরের পরিবারের পক্ষে এই টাকা দেয়া সম্ভব না বলে জানানো হয়।

এনামুল হক বলেন, ‘আজ (সোমবার) সকালে স্থানীয় লোকজন গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের নদীতে ছাইদুরের ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় খবর দেয়। পুলিশ নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করেছে। ছাইদুরের মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে।’

ছাইদুরের স্ত্রী বুলবুলি খাতুন বলেন, ‘গত শনিবার সন্ধায় আমার স্বামী এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়। রাত ১০টাতেও তার কোনো খোঁজখবর পাইনি। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আত্মীয়ের বাড়িতে ফোন দিলে তারা জানায়, ছাইদুর দাওয়াত খেতে যায়নি।’

বুলবুলি বলেন, ‘রোববার দুপুরে একটা ফোন আসে আমার স্বামীর মোবাইল নম্বর থেকে। বলে, স্বামীকে ফিরে পেতে হলে আমাদের টাকা দিতে হবে। এরপর টাকা গোছানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু টাকা গোছাতে পারিনি। আমার স্বামীকে ওরা মেরে নদীতে ফেলে দিয়েছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খুনিদের শনাক্ত এবং তাদের ধরার চেষ্টা শুরু করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’


রংপুর মেডিকেলের অব্যবস্থাপনা বন্ধে রাজপথে চিকিৎসকরা

রংপুর মেডিকেলের অব্যবস্থাপনা বন্ধে রাজপথে চিকিৎসকরা
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন। ছবি: দৈনিক বাংলা
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন চিকিৎসকরা। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে প্রতিবাদস্বরূপ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মানববন্ধন করেন তারা।

‘রংপুরের সম্মিলিত চিকিৎসক সমাজ’-এর ব্যানারে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীর।

মানববন্ধনে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বিমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘এত অনিয়ম হচ্ছে যে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ কারণে আমরা রাস্তায় নেমেছি, প্রতিবাদ করছি। আমরা চাই এই হাসপাতালের সব অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধ হোক। এরপরও যদি দাবি আদায় না হয় তাহলে আমরা পরামর্শ করে কঠোর আন্দোলনে যাব।’

বিএমএ নেতা মামুনুর রশীদ বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত অনিয়ম চলে। পদে পদে টাকা দিতে হয়। আমরা এতদিন নীরব ছিলাম। এখানে চিকিৎসকের মাকে নিয়ে এলেও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।’

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায় তখন সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। যে-ই দুর্নীতি করুক তার কোনো দল নেই, সমাজ নেই, তার পরিচয় সে দুর্নীতিবাজ। আমি রংপুরের সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’

রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক নুরুন্নবী লাইজু বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা একটি অসাধু সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এখানে কেউ মৃত্যুবরণ করলেও ওই চক্রকে টাকা দিতে হয়, তা না হলে হয়রানির শিকার হতে হয়।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অসাধু চক্রকে বিতাড়িত, এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে চিকিৎসা ও শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি জানান বক্তারা।

এ সময় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ মাহফুজার রহমান, বিএমএ-এর সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন, জামাল উদ্দিন প্রমুখ।


সাফজয়ী নীলাকে বরণ করতে উন্মুখ কুষ্টিয়া

সাফজয়ী নীলাকে বরণ করতে উন্মুখ কুষ্টিয়া
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাফজয়ী নীলা। ফাইল ছবি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সাফ ফুটবল শিরোপাজয়ী নারী দলের খেলোয়াড় কুষ্টিয়ার মেয়ে নিলুফা ইয়াসমিন নীলাকে সংবর্ধনা দেবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা। নীলা যে দিন কুষ্টিয়া পৌঁছবেন, সে দিনই তাকে নিয়ে খোলা গাড়িতে করে সারা শহর ঘোরানো হবে। ওই দিনই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে শিল্পকলা একাডেমিতে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে রোববার দুপুরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে এক সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ সাইদুল ইসলাম এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। জানা গেছে, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা কুষ্টিয়া পৌঁছলে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেবেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যরা। এরপর খোলা গাড়িতে করে ব্যান্ড বাজিয়ে কুষ্টিয়া শহরের প্রদক্ষিণ করানো হবে। সঙ্গে থাকবে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পোশাকি দল ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা। শহর প্রদক্ষিণ শেষে কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে সংবর্ধনা দেয়া হবে নীলাকে।

জেলা প্রশাসক জানান, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের জন্যও সংবর্ধনা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পক্ষ থেকে নিলুফা ইয়াসমিন নীলাকে কেউ উপহার দিতে চাইলে সেই সুযোগও রাখা হয়েছে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য সাব্বির মোহাম্মদ কাদেরী সবুর বলেন, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা যেদিন কুষ্টিয়ায় আসবেন, তাকে সে দিনই একই আয়োজনে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

এর আগে গত শুক্রবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ সাইদুল ইসলাম কুষ্টিয়া শহরের নীলার বাড়িতে গিয়ে নীলার মাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি নীলাকে সংবর্ধনা ও এক লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন। পরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যরা নীলার বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এর আগে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র শাহিন উদ্দিন নিজ উদ্যোগে ও ব্যক্তিগত খরচে নিলুফা ইয়াসমিন নীলার কুষ্টিয়া জুগিয়া পালপাড়া সবজি ফার্ম এলাকার বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা পরিষ্কার করান এবং বাড়ির উঠানে বালু দিয়ে ভরাট করে দেন। তিনিও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আলাদা সংবর্ধনার আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন।

নিলুফা ইয়াসমিন নীলা কুষ্টিয়া পৌর এলাকার জুগিয়া পালপাড়া এলাকার বাছিরন শাম্মী আক্তারের মেয়ে। ছোটবেলায় তার বাবার কাছ থেকে মা আলাদা হয়ে যান। পরবর্তী সময়ে তার মা বাছিরন আক্তার শাম্মী অনেক সংগ্রাম ও কষ্ট করে নীলা ও তার ছোট বোন সুরভী আক্তারকে বড় করেছেন। মেয়র এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছেন নীলার মাসহ পরিবারের সবাই।

মা বাছিরন আক্তার শাম্মী বলেন, ‘মেয়ে এত বড় সাফল্য নিয়ে আসবে, আমরা কেউ ভাবিনি। আমরা খুব খুশি। মেয়েকে নিয়ে গর্বিত।’ তিনি জানান, নিলুফা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর আন্তবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন তিনি। ওই খেলা শেষ করে তিনি কুষ্টিয়া ফিরবেন।