মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২

পাটে ক্ষতি, কাঠিতে লাভ

পাটে ক্ষতি, কাঠিতে লাভ
পাটকাঠি। ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • অনেক কৃষক পাটের দাম আশানুরূপ না পেলেও পাটকাঠির দাম দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

  • দেশ থেকে এখন পাটখড়ি বা পাটকাঠির ছাই রপ্তানি হচ্ছে। ব্যতিক্রম এ পণ্যের রপ্তানি দিন দিন বাড়ছে। আর সে কারণে বাড়ছে ছাই উৎপাদনের কারখানাও।

রাশেদুল হাসান কাজল, ফরিদপুর 

ফরিদপুরে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে পাটের। কিন্তু পাটের রং ভালো না হওয়ায় কৃষককে লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তবে হাসি ফুটিয়েছে পাটকাঠি। ফরিদপুরে একাধিক কার্বন ফ্যাক্টরি গড়ে ওঠায় পাটকাঠির ভালো দর পাওয়া যাচ্ছে। পাটিকাঠি শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হলেও এখন কদর বেড়েছে বিভিন্ন কাজে।

 বাড়ি, পাকা সড়ক, মাঠ-ঘাট যেখানে চোখ যায় সেখানেই চোখে পড়ে পাটকাঠি শুকানো ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। অনেক কৃষক এবার পাটের দাম আশানুরূপ না পেলেও পাটকাঠির দাম দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

দেশ থেকে এখন পাটখড়ি বা পাটকাঠির ছাই রপ্তানি হচ্ছে। ব্যতিক্রম এ পণ্যের রপ্তানি দিন দিন বাড়ছে। আর সে কারণে বাড়ছে ছাই উৎপাদনের কারখানাও। পাটকাঠির ছাই চারকোল নামেও পরিচিত।

ফরিদপুরে গড়ে উঠেছে ডজন খানেক চারকোল ফ্যাক্টরি। পাটকাঠি পুড়িয়ে তৈরি করা হয় চারকোল পাউডার বা কার্বন। কার্বন থেকে তৈরি হয় কার্বন পেপার, কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ারের টোনার বা কালি, আতশবাজি, মোবাইলের ব্যাটারি, প্রসাধনীপণ্য প্রভৃতি। চীনই মূলত এর আমদানিকারক।

ফরিদপুরের ৯ উপজেলার মধ্যে সালথাকে বলা হয় পাটের রাজধানী। এছাড়াও নগরকান্দা, আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী, নগরকান্দা, ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাটের আবাদ বেশি হয়।

এসব এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাটকাঠি আগের মতো অবহেলায় ফেলে না রেখে যত্ন করে শুকিয়ে মাচান তৈরি করে রাখছেন চাষিরা।

স্থানীয়রা জানান, ভালো মানের পাটকাঠি পানের বরজ আর ঘরের বেড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন আর অবহেলায় পড়ে থাকে না পাটকাঠি। বিশ্ববাজারে পাটকাঠির চাহিদা বাড়ায় আঁশের পাশাপাশি কাঠির দামও ভালো পাওয়া যায়।

বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের টোংরাইল গ্রামের পাটচাষি কালি কুমার বালা বলেন, ‘গত কয়েক বছর আগেও পাটখড়ির তেমন চাহিদা ছিল না। কিন্তু এখন বেশ চাহিদা। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাটকাঠি কিনছেন, ভালো দামও দিচ্ছেন। একশ মোঠা পাটকাঠি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। শুধু পাট বিক্রি করেই নয়, এবার পাটকাঠিও আমাদের এলাকায় কৃষকের আশা জাগিয়েছে।’

সালথা উপজেলার বাসিন্দা বিধানচন্দ্র মণ্ডল জানান, পাটকাঠি এক সময় শুধু রান্না-বান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া ও ছাউনির কাজে ব্যবহার করা হতো। কার্বন ফ্যাক্টরির কারণে পাটকাঠির চাহিদা ও মূল্য বেড়েছে।

মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ব্যাসদি গ্রামের শাহজাহান হেলাল বলেন, ‘পাটকাঠির ছাই বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তাই ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। পাটকাঠিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কিছু কারখানা গড়ে উঠেছে। একদিকে সোনালি আঁশ অন্যদিকে পাটকাঠি দুটি মিলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে পাট আবাদে।’

বোয়ালমারী উপজেলা কৃষক লীগের সদস্য, শিক্ষক ও সাংবাদিক কাজী আমিনুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন দেশে পাটকাঠির ছাই কার্বন পেপার এয়ারকুলার, পানির ফিল্টার, বিষ ধ্বংসকারী ওষুধ, দাঁত পরিষ্কারের ওষুধ ও ক্ষেতের সার উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত পাটকাঠির চাহিদা দেশের পাশাপাশি বাড়ছে বিশ্ববাজারেও।

যশোর, সাতক্ষীরা এলাকা থেকে আসা পাটকাঠি ব্যবসায়ী কাদের সেখ, সিদ্দিকুর রহমান জানান, তারা ৮/১০ বছর ধরে পাটকাঠির ব্যবসা করছেন। আগে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাটকাঠি কিনে বেশি দামে বিক্রি করতেন তারা। এই অঞ্চলের পাটকাঠি দিয়ে এসব ফ্যাক্টরির চাহিদা মেটানোই কষ্টসাধ্য। তাই তারা আর আগের মতো পাটকাঠি কিনতে পারেন না। অনেকেই এখন পাটকাঠির ব্যবসা করে জীবকা নিবার্হ করছেন।

ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, জেলায় এবার মোট ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাটের রং ভালো না আসায় এবং বড় কিছু মিল বন্ধ থাকার কারণে পাটের বাজারে দাম কম। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে এই পাটকাঠি।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, গুণে ও মানে ফরিদপুরের পাট দেশসেরা। এ কারণে জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে পাটকেই বেছে নেয়া হয়েছে। পাটের সোনালি আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিরও বেশ চাহিদা রয়েছে।


পাহাড় থেকে বেড়ে ওঠা রুপনা চাকমার

পাহাড় থেকে বেড়ে ওঠা রুপনা চাকমার
রুপনা চাকমাদের বাড়ি। ইনসেটে রুপনা। ছবি: দৈনিক বাংলা
সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙামাটি
প্রকাশিত

নারীদের সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। গোলের বন্যা বইয়ে দেয়ার বিপরীতে গোটা টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের, তাও ফাইনাল ম্যাচে। টুর্নামেন্টজুড়ে দলের গোলবার এমন নিখুঁতভাবে সামলানোর কারিগর রুপনা চাকমা। তার পাহাড়ি গ্রামে তাই বইছে আনন্দের ধারা। সারা দেশের মানুষের প্রশংসাও ছুঁয়ে যাচ্ছে রুপনাকে। আর গ্রামের মানুষ অপেক্ষায়, কখন রুপনা বাড়িতে আসবে।

পাহাড়ি এই মেয়ের ফুটবলার হিসেবে উঠে আসাটা যেন গল্পের মতো। রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভূঁইয়ো আদাম এলাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা। জন্মের আগেই পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছিলেন বাবা গাছা মনি চাকমা। প্রান্তিক এলাকার পরিবার হওয়ায় তাই সেই ছোটবেলা থেকেই মুখোমুখি ভীষণ চ্যালেঞ্জের। তারপরও ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় আগ্রহ ছিল। হাজাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে নানিয়ারচরে ফুটবল খেলতে গেলে তার নৈপুণ্য চোখে পড়ে শিক্ষক বীরসেন চাকমার। রুপনা যখন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, বীরসেন চাকমার সূত্র ধরে তাকে ঘাগড়াতে নিয়ে যান শান্তি মনি চাকমা। সেখানেই গোলরক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণের শুরু। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তো রুপনা দক্ষিণ এশিয়ারই সেরা গোলরক্ষক।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রুপনার ফুটবল ক্যারিয়ার বদলালেও তার ঘরবাড়ি আর এলাকার চেহারা কিন্তু বদলায়নি। ভূঁইয়ো আদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রুপনার বাড়িতে ভাঙা একটি কুঁড়ে ঘর। সেটিই রুপনাদের একমাত্র ঘর। সেখানেই বসবাস রুপনা, তার মা আর বাকি তিন ভাই-বোনের। আর ভূঁইয়ো আদামের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে রুপনাদের বাড়ি পৌঁছানোর আগে পার হতে হয় কাঠের একটি ব্রিজ। সেটি দেখলেই ভয় হয়, কখন যেন ভেঙে পড়ে। অবশ্য গতকালের ম্যাচের পর প্রশাসনের কাছ থেকে আশ্বাস মিলেছে, গ্রামবাসীর জন্য একটি সেতু করে দেয়া হবে সেখানে। রুপনাদের বাড়ি করে দেয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।

রুপনাদের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। রুপনার মা কালা সোনা চাকমা জানালেন মেয়ের বেড়ে ওঠার কথা। বীরসেন চাকমা ও শান্তিমনি চাকমার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানালেন মেয়েকে এই পর্যায়ে তুলে নিয়ে আসতে সহযোগিতা করার জন্য। কালা সোনা চাকমা বলেন, ছোটবেলা থেকেই রুপনা খেলত। শরীরে জ্বর নিয়েও ফুটবল খেলা বাদ দিত না। ২০১২ সালের দিকে সে নানিয়ারচরে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল। সেখান থেকে তাকে বীরসেন চাকমা ও শান্তি মনি চাকমা নিয়ে যান ঘাগড়াতে। সেখান থেকেই আজ মেয়ে দেশের জন্য গৌরব নিয়ে এসেছে।

রুপনার বড় ভাই জীবন চাকমা বলেন, রুপনা ছোটবেলা থেকে খেলা পছন্দ করত। আমরাও খুব একটা না করিনি। বিকেলে কাজ থেকে ফিরে মায়ের থেকে শুনি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গ্রামের লোকেরা রুপনাকে নিয়ে প্রশংসা করছে। তার এত দূর আসার পেছনে মূল কারিগর হলেন ঘাগড়ার শান্তি মনি চাকমা ও বীরসেন চাকমা। রুপনা ছোটবেলায় হাজাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সব খরচ দিয়ে তারাই রুপনাকে ঘাগড়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের কারণেই রুপনা আজ এত দূর আসতে পেরেছে।

তবে আক্ষেপও রয়েছে রুপনার মায়ের। তিনি বলেন, গতবারও অনূর্ধ্ব ১৪-তে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু সরকার, প্রশাসন বা কোনো সংস্থা কেউই দেখতে আসেনি রুপনা কীভাবে লড়াই করে বেঁচে আছে। রুপনার প্রতিভা ধরে রাখতে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। এখন তো সবাই খুব প্রশংসা করছে। দোয়া করি, আমার মেয়ে আরও এগিয়ে যাক।

এই পথ পেরিয়েই যেতে হয় রুপনাদের বাড়ি। ছবি: দৈনিক বাংলা
এই পথ পেরিয়েই যেতে হয় রুপনাদের বাড়ি। ছবি: দৈনিক বাংলা

রুপনাসহ ঘাগড়া এলাকার পাঁচ নারী ফুটবলারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন শান্তি মনি চাকমা। কথা হয় তার সঙ্গেও। শিষ্যের সাফল্যে অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোবাইলে খেলাটি উপভোগ করেছি। তাদের এ বিজয়ের অনুভূতি মুখে বলা সম্ভব নয়। তাদের বিজয় মানে আমার বিজয়। কেননা তাদের আমিই প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এ ছাড়া বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপির কোচ সুইলা মং মারমা ও শিক্ষক বীরসেন চাকমারও অনেক অবদান রয়েছে।

মগাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমা বলেন, ২০১২ ও ২০১৩ সালেই রুপনাকে ঘাগড়াতে আনতে চেয়েছিলাম। তখন রাজি হয়নি। ২০১৪ সালে যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত, তখন ঘাগড়াতে নিয়ে আসি। এখন তো সে সেরা গোলরক্ষক হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেছে। তার এ অর্জন শুধু তার নয়, এ অর্জন পুরো দেশবাসীর।

গ্রামের মানুষরাও রুপনাদের সাফল্য উদযাপন করতেই ব্যস্ত। রুপনাদের দেখে ফুটবল ঘিরে আগ্রহও বাড়ছে স্থানীয় মেয়েদের মধ্যে। রিপনা চাকমা নামের এক কিশোরী জানাচ্ছে, রুপনা এখন তাদের কাছে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। সেও ফুটবল খেলতে চায়।

ভূঁইয়ো আদাম গ্রামের বাসিন্দা আলো বিকাশ চাকমা বলেন, রুপনা অসহায় এক মায়ের সন্তান। বাবাকে দেখেনি। সেই রুপনা আজ আমাদের গ্রামের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে। সে এখন দেশের গর্ব, আগামী প্রজন্মের পথপ্রদর্শক। সে দেশ ও জাতিকে সম্মান এনে দিয়েছে। তাই জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সবার উচিত রুপনা ও তার পরিবারকে সহযোগিতা করা।

ওই এলাকার গ্রামপ্রধান সুদত্ত বিকাশ চাকমা বলেন, রুপনা চাকমা সম্পর্কে ভাগনি হয়। সে ছোটবেলা থেকে খেলাধুলাপ্রেমী। গ্রামের মানুষ তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছে। তবে তার পরিবারের ও তাকে এ পর্যন্ত সাহায্য-সহযোগিতা করতে কাউকে দেখিনি। সরকার চাইলে রুপনাদের জন্য অনেক কিছু করতে পারে।

ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মহিলা প্যানেল চেয়ারম্যান বাসন্তী চাকমা বলেন, রুপনা আমাদের ইউনিয়নের মেয়ে। তার জন্য আমরা গর্ববোধ করছি। কেননা সে আমাদের গ্রামের মেয়ে হয়ে বাংলাদেশের জন্য শিরোপা এনে দিয়েছে। মেয়েটির জন্মের আগেই বাবা মারা গেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সহায়তা করা প্রয়োজন।

সবার কাছ থেকেই রুপনাদের জন্য সরকারি সহায়তার তাগিদের কথা এসেছে। এরই মধ্যে সেই সহায়তাপ্রাপ্তির উদ্যোগও দৃশ্যমান। মঙ্গলবার বিকেলে রুপনা ও একই এলাকার আরেক ফুটবলার রিতুপর্ণা চাকমার বাড়িতে যান রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তাদের দুজনের পরিবারের হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন দেড় লাখ টাকা করে। এ মসয় শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুল রহমানসহ জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, রুপনা ও রিতু আমাদের রাঙামাটির গর্ব। তাদের এ অর্জন পুরো বাংলাদেশের মানুষ গর্বিত। তাদের এ কৃতিত্বের জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এ ছাড়াও এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য একটি ব্রিজ নির্মাণ ও রুপনা চাকমাকে একটি বাড়ি নির্মাণের আশ্বাসও দেন তিনি।


নিরাপত্তা চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের

নিরাপত্তা চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের
তুমব্রু সীমান্ত। ছবি: দৈনিক বাংলা
বান্দরবান ও কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • পালংখালী সীমান্তেও গোলার শব্দ

  • তুমব্রু জিরো পয়েন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদ সমাবেশ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, তুমব্রু, বাইশফাঁড়ির পর এবার কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে মিয়ানমারের ওপারে গোলার শব্দ এপারে ভেসে আসছে। এতে করে আতঙ্কে দিন পার করছে সীমান্ত এলাকার মানুষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিয়ানমারের ভেতরে চলা সংঘর্ষ বিস্তৃত হচ্ছে বলেই এবার পালংখালী সীমান্ত থেকেও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

তবে কয়েক দিন আগে ওই সীমান্ত থেকে ৭০ পরিবারকে নিরাপদে সরানোর পরিকল্পনার কথা জানায় প্রশাসন। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়ার সীমান্তে বসবাসকারীরা ভারী অস্ত্রের গোলার শব্দ শোনা যায় বলে জানান।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে জানান, তুমব্রুর পর এবার উখিয়া পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়ার সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে। তবে সীমান্তের মানুষজন যেন ভয় না পায়, সে বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, ‘সকালে উখিয়া সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া কথা স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এখানে সীমান্তের ৩০০ মিটারের ভেতরে প্রায় ১০০ পরিবার রয়েছে। আমরা তাদের খোঁজখবর রাখছি। পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে তুমব্রু সীমান্তেও গোলাগুলি চলার খবর পাওয়া যায়। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের এই সীমান্তে গত মাসখানেক ধরেই গোলাগুলি চলছে। ফলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তের ৩০০ পরিবারকে অন্যত্রে সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছে প্রশাসন।

তুমব্রু জিরো পয়েন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদে সমাবেশ। ছবি: দৈনিক বাংলা
তুমব্রু জিরো পয়েন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদে সমাবেশ। ছবি: দৈনিক বাংলা

এদিকে, মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে রোহিঙ্গা নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে তুমব্রু জিরো পয়েন্টে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে লেখা একটি চিঠিও সেখানে পাঠ করে তারা।

গতকাল সোমবার বিকেলে অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মর্টার শেল হামলায় রোহিঙ্গা কিশোর ইকবাল হত্যার প্রতিবাদ জানায় সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা।

এ সময় বক্তব্যে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, শুরুর দিকে মিয়ানমার নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) গোলাগুলি-সংঘর্ষ শুরু হলেও এখন তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী পুলিশ (বিজিপি) গোলাগুলি করে পরিস্থিতি অশান্ত করছে। এ অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটছে গত পাঁচ বছর ধরে সেখানে বসবাসকারী ৬২১টি পরিবারের চার হাজারের বেশি রোহিঙ্গার।

সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘গত শুক্রবার রাতে শূন্যরেখায় পরিকল্পিতভাবে মর্টার শেল হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের মিলিটারিরা। তারা চায় আমরা এখান থেকে সরে যাই, আমরা যাব না। যদি যেতেই হয় শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা হেঁটে পাহাড়ের অপর প্রান্তে রাখাইনে নিজেদের ভিটায় ফিরব।’

জাতিসংঘকে লেখা চিঠি সম্পর্কে শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মুখপাত্র দিল মোহাম্মদ সমাবেশে বলেন, ‘২০১৭ সালে সামরিক জান্তা আট লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত করেছে। আমরা চিঠিতে জাতিসংঘকে জানিয়েছি সামরিক জান্তা বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে আমাদের ওপর আরও বড় আক্রমণ করতে পারে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিসংঘকে শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান করা হয়েছে। এই চিঠি জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।’

সম্প্রতিকালে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল ও গোলার আঘাতে শূন্যরেখার একজন রোহিঙ্গা নিহতসহ ছয়জন আহত হয়েছে। এর আগে মর্টার শেল ও গোলার ছোড়ার ঘটনায় ঢাকাস্থ মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত উ অং কিয়াউ মোয়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চারবার তলব করা হয় এবং এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপরও গোলাগুলি বন্ধ হয়নি এখনো।


নিভৃত পালিচড়া এখন নারী ফুটবলারদের গ্রাম

নিভৃত পালিচড়া এখন নারী ফুটবলারদের গ্রাম
সদ্যপুস্কুরুনী পালিচড়ায় ফুটবল খেলছে মেয়েরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
রফিকুল ইসলাম, রংপুর
প্রকাশিত

কিশোরী বয়স পেরোনোর আগেই সেই গ্রামের মেয়েরা বিয়ের পিঁড়িতে বসত, পাঠশালার বই-খাতার পরিবর্তে হাতে থাকত হাড়ি-পাতিল। সেই গ্রামের মেয়েরা স্বপ্ন দেখছিল বিশ্বজয়ের। গতকাল সোমবার সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। নেপালে ইতিহাস গড়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। সেই দলে অংশ নিয়েছে রংপুরের সদ্যপুস্কুরুনী পালিচড়ার মেয়ে সিরাত জাহান স্বপ্না। তাই এখানকার আমেজের রং একটু আলাদা।

একসময়ে এই গ্রামের মানুষজনের নানা ধরনের নেতিবাচক কথাও থামাতে পারেনি এখানকার মেয়েদের ফুটবল খেলা। সব মন্দ কথা উড়িয়ে দিয়ে কিশোরীদের পায়ে এগিয়ে চলা ফুটবলের নতুন দিন এনে দিয়েছে স্বপ্না। তাই সারাদেশের উৎসবের রঙের সঙ্গে রঙিন হয়েছে রংপুরের নিভৃত এই পল্লী গ্রাম ‘পালিচড়া’ও। স্বপ্নার জন্য গর্বিত রংপুরের মানুষজন। তার পরিবারকে শুভেচ্ছা ও উষ্ণতা জানিয়েছেন বিভিন্ন মানুষ ও ক্রীড়া সংগঠন।

এই নারী ফুটবলারদের একসময়ের কোচ হারুণ অর রশিদ জানান, রংপুরে সদ্যপুস্কুরিনী ইউনিয়নের পালিচড়া গ্রামের মেয়েদের ফুটবল খেলা শুরু হয় ১১-১২ বছর আগে। এ সময়েই দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা। গ্রামের মেয়েদের জন্যই পালিচড়ার নতুন নাম হয়েছে ‘ফুটবলারদের গ্রাম’। এই গ্রামের মেয়েরা গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে তারা খেলছে ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে।

হারুণ অর রশিদ বলেন, ২০১১ সালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্নামেন্ট চালু হয়। ওই টুর্নামেন্টে পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তাদের ছাত্রীদের নাম লেখায়। সেবার জাতীয় পর্যায়ে রানার্স-আপ হয় পালিচড়ার মেয়েরা। ওই টুর্নামেন্টের পর গ্রামের মেয়েদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গত বছরের ক্রীড়া পরিদপ্তর বিচ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।

জানা যায়, ২০১৫ সালে কেএফসি জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠে পালিচড়া বিদ্যালয়। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও জিতেছিল ফেয়ার প্লে ট্রফি। ২০১৬ সালে কেএফসি সিনিয়র ন্যাশনাল উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে তারা অর্জন করে তৃতীয় স্থান। ২০১৭ সালে জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টে তারা রানার্স-আপ ও ২০১৮ সালে ৪৭তম গ্রীষ্মকালীন ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়।

পালিচাড়া গ্রামে মেয়েদের ফুটবল প্র্যাকটিস। ছবি: দৈনিক বাংলা
পালিচাড়া গ্রামে মেয়েদের ফিটনেস ট্রেনিং। ছবি: দৈনিক বাংলা

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়ন ও এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে কৃতিত্বের জন্য এই গ্রামের সুলতানা, লাভলী, রত্নাসহ কয়েকজন ফুটবলার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আর্থিক সম্মাননা পেয়েছেন। বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে পরপর দুই বছর সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বুট জিতেছেন পালিচড়ার রোকসানা পারভীন।

হারুণ অর রশিদ আরও বলেন, ২০১০ সালে এই গ্রামের মেয়েরা অনেক বাধা উপেক্ষা করে ফুটবল খেলা শুরু করে। আমরা স্বপ্ন দেখছিলাম বিশ্বজয়ের। সেটি পূরণ হতে চলেছে। এই গ্রামের মেয়েদের জন্যই পালিচড়া নতুন নাম পেয়েছে, সেটি হলো-নারী ফুটবলারদের গ্রাম।

মঙ্গলবার  (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বপ্নার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাড়িতে মানুষের ভিড়। বাজারে, দোকানে, পাড়ামহল্লায় তাকে নিয়ে আলোচনা করছেন মানুষজন। গর্বের অন্ত নেই তাদের। অনেকে মিষ্টি এনে স্বপ্নার মাকে খাওয়াচ্ছেন। আনন্দে মেতে উঠছেন গ্রামের মানুষ।

স্বপ্নার বাবা মোকছার আলী একজন কৃষক। মেয়ের এই সাফল্যে তিনি বলেন, আমি কৃষক মানুষ। খুব আনন্দ লাগছে। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল জয়ী হয়েছে। এতে আমার মেয়ে খেলেছে। আমরা সবাই খুব খুশি। আমার মেয়ের জন্য সকলে দোয়া করবেন।

স্বপ্নার মা লিপি বেগম বলেন, আমি পুরো খেলা দেখছি। রাত ১২টায় খুশিতে ঘুমাইছি। সকাল থাকি মেলা মানুষ আসছে। আমার খুব ভালো লাগছে। আমার মেয়ে বড় হোক আমি এটা চাই। আমার মেয়ে যখন ক্লাস ফোরে পড়ে তখন স্কুল থাকি বাড়ি আসি বলে, ‘আমি ফুটবল খেলব।’ তখন রাগ হইসি। পরে আমার ভাই আব্দুল লতিফ এসে তাকে নিয়া যায়। সেই থেকে সে খেলে।

স্বপ্নার মামা আব্দুল লতিফ বলেন, আমার বড় বোন স্বপ্নাকে খেলতে দেবেই না। আমি হাত ধরে ধরে তাকে মাঠে নিয়ে যেতাম। আজ আমার চেয়ে বেশি কেউ খুশি হয়নি। আমি চাই সে আরও বড় হোক।

সদ্যপুস্কুরুনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ মিলন খান বলেন, এই গ্রাম নারী ফুটবলারদের গ্রাম। এর আগে বাংলাদেশ কখনো সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এবারই প্রথম স্বপ্নাদের হাত ধরে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। স্বপ্না ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছে। তার এই সফলতায় আমরা খুশি।

সদ্যপুষ্কুরনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানা বলেন, আমরা আজ গর্বিত। তার সফলতা আমাদেরও সফলতা। আরও কীভাবে এই পালিচড়াকে এগিয়ে নেয়া যায়, সেটা নিয়ে কাজ করব আমরা।

রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আমরা তাকে সংবর্ধনা দেব। আমি ইউএনওকে বলছি তার পরিবারের খোঁজখবর নিতে। তাছাড়া আমরা সেখানে স্টেডিয়াম করছি। সেখানকার নারী ফুটবলারদের জন্য যা যা করার দরকার, সবই চেষ্টা করব।


নববধূকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

নববধূকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মো. শামীম
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নববধূ শিউলি আক্তারকে গলা কেটে হত্যা মামলার একমাত্র আসামি তার স্বামী মো. শামীমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুন্সি মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মো. শামীম রূপগঞ্জের পচাইখাঁ এলাকার মনির মিয়ার ছেলে।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, ২০১৮ সালের ২৩ আগস্ট শিউলির সঙ্গে বিয়ে হয় শামীমের। বিয়ের সাত দিন পর ৩১ আগস্ট রাতে শিউলিকে গলা কেটে হত্যা করেন শামীম। এ ঘটনায় শিউলির মা আমেনা খাতুন মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তারের পর শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই বছরই প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পারিবারিক কলহের জেরে শিউলির হাতের মেহেদির রং শুকানোর আগেই তাকে গলা কেটে হত্যা করেন শামীম।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত রায় দিয়েছেন। মামলার একমাত্র আসামি শামীমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী আমেনা খাতুন। তিনি আসামির সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন বলে জানান।

আমেনা খাতুন বলেন, ‘আমার মেয়েকে রাতে ঘুমের মধ্যে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে শামীম। আমরা আদালতের কাছে তার ফাঁসি চেয়েছিলাম। কিন্তু আদালত তার যাবজ্জীবন দিলেন।’ অর্থাভাবে উচ্চ আদালতে যেতে সক্ষম হবেন না বলেও জানান তিনি।


গাজীপুরে ১২ কোটি, চট্টগ্রামে ১০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার

গাজীপুরে ১২ কোটি, চট্টগ্রামে ১০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার
গাজীপুরে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

গাজীপুর ও চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের রথখোলা এলাকায় ১২ কোটি টাকা এবং চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ১০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুই জেলায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গাজীপুরে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মারুফ দস্তগীর। তিনি জানান, মহানগরীর রথখোলা এলাকায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রোডে জয়দেবপুর মৌজার ৩৬ শতাংশ সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল ছিল। জমিতে অবৈধ দখলদাররা একটি দোতলা ভবন, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বেশকিছু দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করে অবৈধভাবে ভোগদখল করছিলেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সরকারি জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

অভিযান তত্ত্বাবধান করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস এম সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, সব আইনি প্রক্রিয়া মেনে অবৈধ দখলদারদের নোটিশ দিয়ে তাদের দখল ছেড়ে যাওয়ার জন্য সময় দেয়া হয়েছিল। কিছু দখলদার দখল ছেড়েও দেন। বাকিদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা সম্পত্তির আনুমানিক বাজারদর প্রায় ১২ কোটি টাকা।