শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২

এতিম শিশু দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাটের অভিযোগ

এতিম শিশু দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাটের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নাজমুল হোসেন, কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে এতিম ও দুস্থ শিশুদের নামে সরকারি বরাদ্দ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতিম শিশুর সংখ্যা বেশি দেখিয়ে কিংবা এতিম নয়- এমন শিশুদেরও এতিমখানায় রেখে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে এসব অর্থ। বছরের পর বছর ধরে এই অবস্থা চললেও নজরদারি নেই প্রশাসনের। উল্টো এ বিষয়ে প্রতিবেদন না করে জেলার কর্মসংস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রতিবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুড়িগ্রামের আটটি উপজেলায় নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানা রয়েছে ২১টি। আর সরকারি এতিমখানা রয়েছে একটি। বেসরকারি এতিমখানায় শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ২ হাজার ৭২ জন। এর মধ্যে ক্যাপিটেশন বা সরকারি সুযোগ-সুবিধাভোগী শিক্ষার্থী ৯২৬ জন। এই এতিম শিশুদের জন্য চিকিৎসা, খাওয়া এবং পোশাক বাবদ প্রতি মাসে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে দেয় সরকার। এর মধ্যে খাবার বাবদ ১ হাজার ৬০০ টাকা, পোশাক ২০০ টাকা, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনে ২০০ টাকা ব্যয় করার শর্ত রয়েছে। জেলার সরকারি একটি এতিমখানার ৫৫ জন শিশুর জন্য মাসে জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা বরাদ্দ। সব মিলিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে কুড়িগ্রামের ওই ৯৮১ জন এতিম শিশুর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ২ কোটি ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

বিধিমোতাবেক এতিমখানায় ন্যূনতম ১০ জন নিবাসী থাকতে হবে। তাদের বয়স হতে হবে ৬ বছর থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। শতভাগ নিবাসী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত সাপেক্ষে শতকরা ৫০ ভাগ শিশু এ সেবার আওতায় আসবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করছেন না বেসরকারি এতিমখানাগুলোর শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা। এতিম শিশুদের খাবারের বরাদ্দ টাকা শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়মানুযায়ী যেসব শর্তে বরাদ্দ আসে, তার ছিটেফোঁটাও নেই বেশির ভাগ বেসরকারি এতিমখানায়।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার সমশের আলী শিশু সদনে নিবাসী ১১০ জন। এর মধ্যে ৫০ জন এতিম শিশুর জন্য বছরে বরাদ্দ দেয়া হয় ১২ লাখ টাকা। তবে সম্প্রতি এই শিশু সদনে গিয়ে ১৫ জন শিশুর দেখা পাওয়া যায়। সরকারিভাবে ৫০ জনের বরাদ্দ পেলেও কাগজ-কলমে রয়েছে ৩৫ জন নিবাসী।

সমশের আলী শিশু সদনের ছাত্র আল আমিন বলে, ‘আমরা এখানে ৩৫ জন ছাত্র থাকি। তবে ১৫ জন রাতে থাকা-খাওয়া হয়। সকালে ও রাতে ভাত, ডাল, আলু ভর্তা, সবজি দেয়। দুপুরে মাঝেমধ্যে ব্রয়লার মুরগির গোশত, পাঙাশ মাছ ও ডিম দেয়।’

এই এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক খবির উদ্দিন আহমেদ দৈনিক বাংলার কাছে স্বীকার করেন, তাদের ৫০ জনের বরাদ্দ আসে। তবে নিয়মিত ৩৫ জন এতিম শিশু খাওয়ানো হয়। আগামীতে এমন অনিয়ম না করার শর্তে তিনি এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।

এ ছাড়া নাগেশ্বরী উপজেলার পূর্ব সাপখাওয়া আজিজিয়া হাফিজিয়া লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে কাগজ-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩০ জন। এর মধ্যে ৫৫ জনের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসে। তবে কাগজ-কলমের হিসাবের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

রৌমারী উপজেলার টাপুরচর দারুল উলুম এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১৮০ জন নিবাসী। এর মধ্যে ১০০ জনের জন্য বছরে বরাদ্দ আসে ২২ লাখ ৮০ হাজার। কিন্তু সরেজমিনে সেখানে গিয়ে ১৫ জন শিশুকে পাওয়া যায়। তবে তাদের কেউ-ই এতিম নয়।

টাপুরচর দারুল উলুম এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার কয়েকজন শিশু নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, ‘আমাদের এই এতিমখানায় ৩০-৩৫ জন আছি। কেউ এতিম না। সবারই বাবা-মা আছে। এ ছাড়া এই এতিমখানার শিশুদের দিয়ে গ্রামে গ্রামে চাঁদা তোলা হয়। চাল, টাকা ইত্যাদি তুলে এতিমখানায় দেয়া হয়। তাই দিয়ে এতিমখানা চলে।’

উপজেলার বায়তুল ক্বারার গোলাম হাবিব শিশু সদনে নিবাসী ১৫০ জন। এর মধ্যে ৭০ জনের জন্য বছরে ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। সেখানে গিয়ে উপস্থিত শিশু পাওয়া যায় ২৫ জন। ওই শিশুদের জিজ্ঞাসা করে জানা যায়, তাদের সবারই মা-বাবা বেঁচে আছেন। বায়তুল ক্বারার গোলাম হাবিব শিশু সদনের ছাত্র হৃদয় বলে, ‘আমাদের এখানে প্রায় ২৫ জনকে খাওয়া-দাওয়া করানো হয়। এতিমখানা থেকে বছরে দুইবার পাঞ্জাবি-পায়জামা দেয়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একটি বেসরকারি এতিমখানার এক শিক্ষক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এতিম শিশু না থাকলেও সমাজসেবা অফিসের ফিল্ড সুপারভাইজার আব্দুল্লাহেল কাফিকে প্রতি বিলের সময় ৪০-৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ট্রেজারিসহ সবকিছু সমন্বয় করেন। এভাবেই চলছে। এতিম শিশু না থাকলেও থাকা, খাওয়া এবং কমিটি, শিক্ষকসহ বাকি টাকা খরচ হয়ে যায়।’

এ বিষয়ে জানতে আব্দুল্লাহেল কাফির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি সামান্য কর্মচারী। আমার পক্ষে এসব করা সম্ভব না।’

উলিপুর উপজেলার জুম্মাহাট হাফিজিয়া কারিয়ানা মাদ্রাসা আদর্শ এতিমখানায়ও একই চিত্র। সেখানে ৮৬ জন নিবাসীর মধ্যে ৫৪ জনের জন্য বছরে বরাদ্দ আসে ১২ লাখ ২৪ হাজার টাকা। তবে সেখানে গিয়ে পাওয়া যায় ৩০-৩৫ জন শিশুকে। এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র মিল্লাদ ইসলাম বলে, এই এতিমখানায় ৩০-৩৫ জন নিয়মিত থাকা-খাওয়া করে। খাবারের তালিকায় রয়েছে গোশত, ডিম, সবজি।

জুম্মাহাট হাফিজিয়া কারিয়ানা মাদ্রাসা আদর্শ এতিমখানা কমিটির সাবেক সদস্য আবু বকর সিদ্দিক দৈনিক বাংলাকে বলেন, তছরুপের পদ্ধতিটা হলো এতিমখানায় কিছু ভাড়াটিয়া ছাত্র আছে। এদের সমাজসেবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। পরিদর্শনে আসার আগে খবর দিয়ে আসেন। সে সময় এই ভাড়াটিয়া ছাত্রদের দেখানো হয়। খোঁজ নিলে দেখা যাবে বর্তমান যারা আছে তাদের মধ্যে ১২-১৩ জনের বেশি এতিম নেই এখানে।

এদিকে উপজেলার ঠুটা পাইকর ইদ্রিসিয়া জামানিয়া শিশু সদনে ৭০ জন নিবাসীর মধ্যে ৩৫ জন ক্যাপিটেশন পায়। বজরা হোসাইনিয়া শিশু সদনের ৯০ জনের মধ্যে ৩০ জন, সাতঘড়ি নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় নিবাসী ১০০ জনের মধ্যে ৫০ জন ক্যাপিটেশন পায়। খোঁজ নিয়ে সেখানেও কাগজ-কলমের হিসাবের সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যায়নি।

চিলমারী উপজেলায় গোলাম হাবীব শিশু সদনে ৬৬ জনের মধ্যে ৩০ জন এবং থানাহাট হাফিজিয়া আদর্শ ইসলামিয়া শিশু সদনে ৭২ জনের মধ্যে ৫৬ জন ক্যাপিটেশন পায়। রাজারহাট উপজেলায় সিরাজী এতিমখানায় ৩০ জনের মধ্যে ১৫ জন, বরকতিয়া ইসলামিয়া বালিকা শিশু সদনে ৭৮ জনের মধ্যে ৩৫ জনের নামে সরকারি বরাদ্দ আসে।

ফুলবাড়ী উপজেলায় আব্দুল আজিজ সরকার ও সামিয়া আজিজ এতিমখানায় ৬০ জনের মধ্যে ৩০ জন, মরহুম ডা. নজির হোসেন খন্দকার এতিমখানায় ৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জন, খড়িবাড়ি ফাতেমা এতিমখানায় ৬৩ জনের মধ্যে ৪০ জন, দাশিয়ারছড়া কালিরহাট এতিমখানায় ৭০ জনের মধ্যে ৩০ জনের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মোহাম্মদিয়া আল আবিব আল ফজরিয়া এতিমখানায় ৮০ জনের মধ্যে ৪০ জন এবং কুড়িগ্রাম সদরের এছহাকিয়া শিশু সদনে ৩০০ জনের মধ্যে ৪০ জন সরকারি বরাদ্দ পায়। ইউসিডি মহিউচ্ছুন্নৎ নাছিরিয়া এতিমখানায় ১০০ জনের মধ্যে ৬০ জন ক্যাপিটেশনের তালিকাভুক্ত। এ ছাড়া জেলায় একমাত্র সরকারি শিশু পরিবারে (বালক) ১০০ জনের মধ্যে ৫৫ জন ক্যাপিটেশনের আওতায় রয়েছে।

তবে কাগজ-কলমে এসব শিশুর সংখ্যা শতভাগ ঠিক রাখা হলেও সরেজমিনে গিয়ে কোনো বেসরকারি এতিমখানায়ই তালিকার সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

কুড়িগ্রাম সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রোকোনুল ইসলাম অনিয়মের কথা স্বীকার করে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, কুড়িগ্রাম সদরসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি এতিমখানায় অনিয়ম হচ্ছে। এর ওপর আবার প্রতি এতিমখানায় এতিম শিশুর সংখ্যা ৮-১০ জন করে বেশি দেখাতে সচিবের (সমাজসেবা অধিদপ্তর) পিএস লুকাস কিবরিয়া এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের চাপ রয়েছে। স্থানীয় এমপির এতিমখানায়ও আমরা ঘাপলা পেয়েছি। খবর পেয়ে এমপি আমার এখানে এসেছিলেন।’

এরপর রোকোনুল ইসলাম আর কথা না বাড়িয়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন না করে কুড়িগ্রাম জেলার কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রতিবেদন করার পরামর্শ দেন।


বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন, অর্থনৈতিক অঞ্চল পাবেন

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন, অর্থনৈতিক অঞ্চল পাবেন
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পলিসি গোলটেবিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল এবং ফার্মাসিউটিক্যালসসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ তাদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রদানের প্রস্তাব দিতে পেরে সন্তুষ্ট। খবর বাসসের।

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকালীন হোটেলে বৃহস্পতিবার ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত উচ্চস্তরের পলিসি গোলটেবিলে দেয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ওষুধ, ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ, জাহাজ নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরিতে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগনীতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষা, কর অবকাশ, রয়্যালটির রেমিট্যান্স, অনিয়ন্ত্রিত প্রস্থাননীতি এবং পুরোপুরি প্রস্থানের সময় লভ্যাংশ ও মূলধন নিয়ে যাওয়ার সুবিধা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (এসইজেড) এবং বেশ কয়েকটি হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ৬ লাখেরও বেশি ফ্রি-ল্যান্সিং আইটি পেশাদার রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ আইটি বিনিয়োগের জন্য সঠিক গন্তব্য। তিনি বলেন, ‘তা ছাড়া, প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতে দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশে একটি অতিরিক্ত সুবিধা। এমনকি যদি প্রয়োজন হয়, আমরা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ডেডিকেটেড “বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের” প্রস্তাব করতে পারলে খুশি হব।’ তিনি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রগামী এবং বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হওয়ার অভূতপূর্ব সম্ভাবনা প্রদান করেছে।

ভারত, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ ৪০০ কোটি মানুষের সম্মিলিত বাজারের মাঝখানে রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন হচ্ছে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি। বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক, তৃতীয় বৃহত্তম সবজি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে, চতুর্থ বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী এবং বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনকারী হয়েছে। বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে তার প্রতিবেশী দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি চালিয়ে যাবে। আমরা ক্রমাগত আমাদের ভৌত, আইনি ও আর্থিক অবকাঠামো উন্নত করছি এবং দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা বহুমুখী সেতুর সমাপ্তি অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ উভয়ই উন্নত করেছে, যেখানে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দ্রুত অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা যোগ করবে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি মর্যাদা থেকে স্নাতক হতে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং রপ্তানি বাস্কেট বাড়ানোর জন্য তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা প্রয়োজন। আমি নিশ্চিত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চ্যালেঞ্জিং প্রচেষ্টায় আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার হতে পারে।’

বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে সম্মত ঢাকা-নমপেন

বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে উভয় দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরে সম্মত হয়েছে। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সম্মত হওয়ায় এটি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেক আক্কা মোহা সেনা পাদেই টেকো হুন সেন গত বৃহস্পতিবার রাতে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতে সম্মত হন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রমের ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। 
বৈঠকে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার দেশ থেকে বাংলাদেশে চাল রপ্তানির ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তিনি কম্বোডিয়ায় কৃষি এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ করার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানান। হুন সেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, আসিয়ানের সভাপতি দেশ হিসেবে কম্বোডিয়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

আইওএম মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) কার্যকর সুপারিশমালা প্রণয়নের মাধ্যমে অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোকে সহায়তা করতে পারে। এসব দেশ মহামারি করোনাভাইরাস ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নানা সমস্যা মোকাবিলা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকালীন হোটেলে আইওএম মহাপরিচালক অ্যান্টোনিও ভিটোরিনোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া বাংলাদেশি ভুক্তভোগীদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করার জন্য আইওএমকে ধন্যবাদ জানান।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধীরে ধীরে মিয়ানমারের নতুন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের দিকে সরে যাওয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল তার হোটেলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব ইভেন্টে ভাষণ দেয়ার সময় বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে বাস্তব পদক্ষেপ এবং প্রকল্প গ্রহণ করা দরকার।’
প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ এবং মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আদালত, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আইসিজেতে গাম্বিয়াকে সমর্থন করাসহ আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকাজের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে সমর্থন করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অব্যাহত দমন-পীড়ন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং মিয়ানমারকে আসিয়ানের পাঁচ-দফা ঐকমত্যের অধীনে তার অঙ্গীকার মেনে চলার জন্য জোর দিয়ে মিয়ানমার যাতে বাধাহীন মানবিক অ্যাক্সেস দিতে সম্মত হয় সে জন্য প্রচেষ্টা চালানোর অনুরোধ করেন।


টাকা হলেই মিলত সব সার্টিফিকেট, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

টাকা হলেই মিলত সব সার্টিফিকেট, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার
র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে শিক্ষা সনদ, স্কুল-কলেজের প্রশংসাপত্র, বিভিন্ন কোম্পানির পরিচয়পত্র- সবকিছুই মিলত তার কাছে। শুধু লাগত টাকা। এভাবেই ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রতারণা করে আসছিলেন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ছোটনা (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৪)। শেষ পর্যন্ত র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি। মামলা করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‍্যাব-১১ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মো. সাকিব হোসেন তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার ইপিজেড এলাকার একটি ছবি তোলার স্টুডিও দোকান থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাইফুলকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে গতকাল দুপুরে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

মেজর সাকিব জানান, আটকের সময় সাইফুলের কাছ থেকে বিভিন্ন ভুয়া সনদ ও জন্মনিবন্ধন সনদসহ বিভিন্ন ধরনের নথিপত্র জব্দ করা হয়। ভুয়া সনদ তৈরিতে তার ব্যবহৃত কম্পিউটার সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাবের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্বীকার করেছেন, ওই দোকানে বসেই তিনি ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া সনদ তৈরি করে দিতেন। এর মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী জানান, মামলা দায়েরের পর গতকাল দুপুরে সাইফুলকে আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।


৩ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিন পরিবারের ছয়জন

৩ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিন পরিবারের ছয়জন
সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতীকী ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

কক্সবাজার, জয়পুরহাট ও গাজীপুরে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন। প্রতিটি দুর্ঘটনাতেই নিহত হয়েছেন দুজন করে। প্রতিটি স্থানেই নিহত দুজন একই পরিবারের সদস্য। দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় মিনি ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে মা-ছেলে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টায় উপজেলার হোয়াইক্যং লম্বাবিল এলাকায় সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

নিহতরা হলেন- টেকনাফ পৌরসভার পুরোনো পল্লানপাড়ার আবুল কালামের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (১৯) ও তার দুই মাস বয়সী ছেলে মো. আসওয়াত। আহত হয়েছেন একই এলাকার রেহেনা ও খোরশিদা বেগম।

হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলান ভূঁইয়া জানান, দুপুরে অটোরিকশায় কক্সবাজার শহরের দিকে যাচ্ছিলেন ফাতেমা ও তার ছেলেসহ কয়েকজন। লম্বাবিল এলাকায় পৌঁছলে পেছন দিকে থেকে আসা একটি মিনি ট্রাক ওই অটোরিকশার পেছনে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পালংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ফাতেমা ও তার ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

মনিরুল বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনের পর লাশ হাসপাতালে রয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে আলাপের পর হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দুর্ঘটনার পর মিনি ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। তবে গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে।

জয়পুরহাটের কালাইয়ে ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহিরুম গ্রামের মাথায় সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় নিহত দুজন সম্পর্কে দাদা-নাতি। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম (৫৫) কালাই উপজেলার শিকটা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত তছির উদ্দিনের ছেলে। নিহত শিশু শাকিব হোসেন (৫) তার নাতি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চারজন যাত্রী নিয়ে মোলামগাড়ীহাট থেকে পাঁচগ্রাম যাচ্ছিল একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান। ভ্যানটি মহিরুম গ্রামের মাথায় পৌঁছলে পেছনে থেকে একটি ট্রাক এসে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দাদা নজরুল ও নাতি শাকিবের মৃত্যু হয়। অটোভ্যানের চালককে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, অটোভ্যানকে ধাক্কা দেয়া ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে নানি ও নাতনির মৃত্যু হয়েছে। ইজিবাইকের চালক ও নিহত শিশুর মা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে শিলমুন ক্যাথারসিস হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রওশন আরা বেগম (৫০) ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার চরকমর গ্রামের আব্দুল বারেকের স্ত্রী। তার কোলে থাকা ছয় মাস বয়সী নাতনি রাইসা ইসলামও প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া রওশন আরার মেয়ে ও শিশু রাইসার মা রিতা আক্তার (২৩) ও ইজিবাইকের চালক রুবেলকে (৩২) আহত অবস্থায় ক্যাথারসিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, জয়দেবপুর থেকে ইজিবাইকে করে টঙ্গীর মরকুন এলাকায় মেয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন রওশন আরা বেগম। তার সঙ্গে ছিলেন মেয়ে রিতা আক্তার ও নাতনি রাইসা। বিকেল ৪টার দিকে তাদের বহনকারী ইজিবাইকটি নিমতলী লেভেল ক্রসিং পার হয়ে শিলমুন ক্যাথারসিস হাসপাতালের সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা মিরেরবাজারগামী আকিজ সিমেন্টের একটি মিক্সার ট্রাক সেটিকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনাস্থলেই দুজন প্রাণ হারান। ঘাতক ট্রাকটি আটক করা গেলেও এর চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।


অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, আটক ৩

অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, আটক ৩
অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের অভিযোগে আটক ৩। ছবি: দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা থেকে অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জয়পুরহাট ক্যাম্পের সদস্যরা। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-৫ এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নজিপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ হরিরামপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয় এই তিনজনকে।

আটক তিনজন হলেন- উপজেলার বাবনাবাজ গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে আতা রাব্বী (২৯), গসাইপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে রাসেল হোসেন (২১) ও পাবনা জেলার আমিনপুর থানার খানপুর গ্রামের হরিদাস কর্মকারের ছেলে মিঠুন কর্মকার (৩০)।

র‌্যাব জানিয়েছে, আটক তিন তরুণ ডিজিটাল মাধ্যমে  টেন্ডারসহ বিভিন্ন ডেটিং ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে অনলাইনে অবৈধ আর্থিক লেনদেন করে আসছিলেন। তারা অবৈধভাবে বিদেশিদের কাছ থেকে ডলার কিনে টাকায় রূপান্তরের পাশাপাশি কমিশন রেখে বিদেশিদের কাছে পাঠাতেন। এভাবে তারা অন্যান্য পেশাদার ক্রিপ্টোকারেন্সি ডিলারের সঙ্গে অবৈধভাবে ডলার কেনাবেচার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অভিযানে ওই তিন তরুণের কাছ থেকে ১৪টি স্মার্টফোন, পাঁচটি সিম, দুটি ল্যাপটপ, পাঁচটি মাউস, পাঁচটি কিবোর্ড, ১৫টি ক্যাবল, একটি ব্যাংকের চেকবই ও একটি স্ট্যাম্পসহ বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পত্নীতলা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮-এর ৩০/৩৫ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ বলেন, অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের ঘটনায় তিন সাইবার অপরাধীকে র‌্যাব আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় এই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।


ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রহরীকে মারধরের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রহরীকে মারধরের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি
ইউএনও সমর কুমার পাল। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে নৈশপ্রহরীকে মারধরের অভিযোগে জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। বগুড়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ডিসি জিয়াউল হক জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনা জানার পর মৌখিকভাবে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন আহমেদকে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সদর ইউএনওর ওপর অভিযোগের বিষয়ে আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এখনো লিখিত কোনো নির্দেশনা আসেনি। লিখিত আসার পরই আমি যথাযথ নিয়ম মেনে প্রতিবেদন জমা দেব।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরের ইউএনও সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে আলমগীর হোসেন নামের এক নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে গুরুতর আহতের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের পর তাকে উপজেলা পরিষদের ক্যাম্পাসে ফেলে রাখা হয়। তবে ইউএনওর দাবি, ‘তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। সে সিমপ্যাথি নেয়ার জন্য এমন অজুহাত দেখাচ্ছে।’

আলমগীর হোসেন সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের নৈশপ্রহরী। তিনি সিরাজগঞ্জ সদরের মেহের আলীর ছেলে। বর্তমানে চাকরির সুবাদে উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের কোয়ার্টারে থাকেন।

বৃহস্পতিবার শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর বলেন, ‘আমার স্ত্রী বগুড়ায় আমার সঙ্গে থাকতে চায়। এ নিয়ে ১৫ দিন আগেও উপজেলা প্রকৌশলী স্যারের কাছে কমপ্লেইন দিয়েছে। এইটা নিয়ে স্যার আমাকে তিনবার শোকজ করছেন। আমি জবাব দিছি। আজ ইউএনও স্যারের কাছে বউ গিয়ে আবার কমপ্লেইন দেয়।’

আলমগীর হোসেন আরও জানান, ‘এই কমপ্লেইনে ইউএনও স্যার আমাকে তার অফিসে ডাকে। আমি গেলে আনসার সদস্যরা আমাকে ধরে তার (ইউএনও) কাছে নিয়ে আসে। আর লাঠিও আনে তারা। ইউএনও স্যার এসে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে। ওই সময় তার দেহরক্ষী দুই আনসার সদস্য আমাকে ধরে রেখেছিল। আমি অনেক কাকুতি-মিনতি করেছি, আমাকে যেন না মারে। বলছি, স্যার আমি আপনার স্টাফ। কিন্তু স্যার আমাকে মারতেই থাকে। একবার অচেতনও হয়ে পড়ি।’

তবে মারধরের ঘটনা সত্য নয় বলে দাবি করেন সদর ইউএনও সমর কুমার পাল। তিনি বলেন, ‘আলমগীর সদর উপজেলা প্রকৌশল অফিসের নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরি করে। কিছুদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝামেলা চলছে। আলমগীর তার বউকে উপজেলা ক্যাম্পাসে এনেছে। রাত্রিযাপন করেছে। কিন্তু বউকে এখানে রেখে সে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়টি গত বুধবার জানতে পারি।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে আলমগীরের স্ত্রীকে উপজেলার সিঁড়ির মধ্যে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখি। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি তার মেয়ের বাড়ি মাঝিড়াতে। এ কথা শুনে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সেখানে পাঠিয়ে দিই। এখন এ ঘটনার পরে আজ (শুক্রবার) বিকেলে আলমগীর দেখি কোথা থেকে আসে। আমি তাকে ডেকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছি। আর তাকে বলেছি তুমি এই সমস্যা সমাধান না করে এখানে আসবা না। এ ছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীকেও বলে দিয়েছি, ভাই এই ছেলেকে আপনি বদলি করেন।’

সমর কুমার পাল আরও বলেন, ‘এরপর দেখি সিমপ্যাথি নেয়ার জন্য আলমগীর আমগাছের নিচে শুয়ে পড়ে। সবাইকে বলছে তাকে মারধর করা হয়েছে। অনেকেই তার এ কাজে ইন্ধন দিচ্ছে। কিন্তু আমার দিক থেকে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

আলমগীরের স্ত্রী শহীদা বেগম কোনো অভিযোগ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, ‘তাকে তো আলমগীর ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল। আমি পরিষদের নিরাপত্তার কারণে, সুনাম রক্ষার জন্য তাকে মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। কোনো অভিযোগের বিষয় নেই।’