রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিলারে ধাক্কা, দুই যুবক নিহত

মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিলারে ধাক্কা, দুই যুবক নিহত
প্রতীকী ছবি
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কুমিল্লার লাকসামে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। সড়কের পাশের একটি পিলারে ধাক্কা খেয়েছিল বাইকটি।

গতকাল শনিবার রাত ৯ টার দিকে লাকসাম পৌসরভার ১ নং ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, চয়ন সিংহ (২০) ও শান্ত সিংহ (২০)। তাদের বাড়ি লালমাই উপজেলার আলিশ্বরে। 

লালমাই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) কাইয়ুম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম।  মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’


তালসড়কে তালপিঠা উৎসব

তালসড়কে তালপিঠা উৎসব
সড়কের দুপাশে সারি সারি তালগাছ। সৌন্দর্যমণ্ডিত এ তালসড়কে চলছে তালপিঠা উৎসব। গতকাল নওগাঁর নিয়ামতপুরের ঘুঘুডাঙ্গা তালসড়কে। ছবি: দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

প্রথম দেখায় মনে হবে এ যেন তালগাছের রাজ্য! সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ। যেন মন জুড়ানো দৃশ্য। প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত এই স্থানে তালপিঠার মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল থেকে তিন দিনব্যাপী এই মেলা চলবে। মেলায় সমাগম ঘটেছে হাজারও মানুষের।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা তালসড়কে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রতি বছরই এ তালপিঠা মেলার আয়োজন করা হয়। যেখানে দর্শনার্থীরা সড়কটির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্বাদ নিতে পারেন বাহারি তালপিঠারও। এ বছর মেলায় তালের পাটিসাপটা, তালের জিলাপি, তালের বড়া, তালের ক্ষীর, তালের কফি, তালের আমতা, তালের নাড়ুসহ অন্তত ২০ ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। বদলগাছীতে থেকে আসা দোকানি জাহেরা খাতুন বলেন, ‘আমার স্টলে ১০ থেকে ১২ রকমের পিঠা আছে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। অনেক মানুষের সমাগমও ঘটেছে এই পিঠামেলায়।’

সাপাহার উপজেলা থেকে আসা মীনা বেগম পিঠার স্টল দিয়েছেন মেলায়। এ সময় মিনা বেগম বলেন, ‘আমার স্টলে ১০-১৫ রকমের তালের পিঠা আছে। কেউ স্টল ঘুরে দেখছেন, আবার কেউ কিনে খাচ্ছেন পছন্দের পিঠাগুলো। সবমিলে অন্য রকম এক উৎসব বিরাজ করছে।’

বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন অনেক দর্শনার্থী। এমন মেলায় আয়োজন করায় তারাও খুশি। জেলা শহর থেকে মেলায় আসা লতিফুর রহমান বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মেলায় এসেছি। অনেক দিন ঘোরাফেরা করা হয় না। অনেক রকমের তালপিঠা পসরা সাজানো। সব মিলে খুব ভালো লাগছে।’

সাবরিনা আক্তার নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবী মিলে মেলায় এসেছি। অনেক তালগাছ আবার তালপিঠার মেলা। চমৎকার আয়োজন। আমাদের খুবই ভালো লাগছে।’

পিঠামেলায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের আমন্ত্রণে এসেছেন সাংবাদিক, কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। এ সময় তিনি বলেন, ‘খুবই চমৎকার একটি স্থান। দুই পাশে অসংখ্য তালগাছ। এখানেই বসেছে রকমারি পিঠার মেলা। পিঠাগুলোর অন্য রকম স্বাদ। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। আমাদের সবার উচিত, বেশি করে গাছ লাগানো ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা।’

১৯৮৬ সালের দিকে স্থানীয় হাজীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন এই তালগাছগুলো রোপণ করেছিলেন বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। উদ্দেশ্য ছিল বজ্রপাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি যোগ হবে বাড়তি সৌন্দর্যও।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘প্রতি বছর ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে আয়োজন করা হয় এই মেলার। মেলাকে উপলক্ষ করে জামাই-মেয়ে আর স্বজনরা আসেন প্রতিটি বাড়িতে। মূলত, নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালের পিঠা পরিচিত করে দেয়ার জন্যই এমন আয়োজন। একটা সময় আমি থাকব না, তবে এমন আয়োজন যুগের পর যুগ থাকবে। এমটাই আশা আমার।’


শহরের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে কীর্তিনাশা

শহরের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে কীর্তিনাশা
শরীয়তপুরের নড়িয়াবাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে কীর্তিনাশা নদীতে।ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • পৌরসভার বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্ধারিত স্থান না থাকায় শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের আবর্জনা কীর্তিনাশা নদীতে ফেলা হচ্ছে।

নুরুল আমীন, শরীয়তপুর

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় কীর্তিনাশা নদীর লঞ্চঘাট এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌরসভার বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্ধারিত স্থান বা ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ময়লা ও আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে জেলা শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত গুরুত্বপূর্ণ নদীটি দূষণের পাশাপাশি ভরাট হওয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদী দূষণ বন্ধে শিগগির ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের সুবিধা নিশ্চিত করতে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নড়িয়া পৌরসভা। পৌরসভায় প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষের বসবাস। উপজেলা সদর ও পৌরশহর হওয়ায় নড়িয়াবাজারে গড়ে উঠেছে দেড় হাজারেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া বাজার ও আশপাশে রয়েছে হাসপাতাল, ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিভিন্ন পণ্য তৈরির কারখানা, মাছ-মাংস, সার, কীটনাশক এবং ওষুধের দোকান।

নড়িয়াবাজারের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কীর্তিনাশা নদী। ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কীর্তিনাশা নদীটি পদ্মা নদীর নড়িয়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে মাদারীপুরের আড়িয়াল খাঁ নদের সঙ্গে মিশেছে। নড়িয়াবাজারের সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এই কীর্তিনাশা নদীতে।

নড়িয়া পৌরসভার স্থায়ী বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও তাদের সংগ্ৰহ করা ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন নদীতে। ফলে নড়িয়ার পুরোনো লঞ্চঘাট এলাকার কীর্তিনাশা নদীতীরের অন্তত ২০০ মিটার এলাকা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরে ফেলা ময়লা-আবর্জনা নদীর স্রোতে পানিতে মিশে দূষিত হচ্ছে পরিবেশও। এ ছাড়া ময়লার স্তূপে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীতীরবর্তী ওই সব এলাকা।

নড়িয়াবাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, আবর্জনা ফেলার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে নদীর তীরে ফেলতে হচ্ছে। এখানে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে আশপাশের দোকানে ক্রেতারা আসতে চান না। ব্যবসায়ীরাও দুর্গন্ধ আর মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ। 

পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করা বিডিক্লিনের জেলা কমিটির সহসমন্বয়ক পলাশ খান বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। আর এ জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে পৌরসভাকে। নড়িয়াতে শিগগির বিডিক্লিন টিমের সদস্যরা পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্রচারণা চালাবেন। বিশেষ করে বাসিন্দাদের নদীতে ময়লা ফেলা থেকে বিরত রাখতে জোর প্রচারণা চালানো হবে।

নদী পরিব্রাজক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নুরুজ্জামান শিপন দৈনিক বাংলাকে, প্রতিনিয়তই নদী দখল ও দূষণ বেড়েই চলছে। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নদী দখল ও দূষণরোধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। নদী দূষণের পরিমাণ কী হতে পারে তা সরকারের ভেবে দেখা উচিত। নড়িয়া পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কীর্তিনাশা নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে নদীর পানি দূষণ হচ্ছে। অন্যদিকে নদী ভরাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

নড়িয়া পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ দৈনিক বাংলাকে জানান, স্থায়ীভাবে বর্জ্য অপসারণের জন্য ডাম্পিং ইয়ার্ড না থাকায় নদীতে আবর্জনা ফেলছেন স্থানীয়রা। নদী রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হবে। ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ করার জন্য পৌর শহরের বাঁশতলা এলাকায় এক একর পরিমাণ জমি ক্রয় করা হয়েছে। সেটি নির্মাণ হলে এ সমস্যা থাকবে না। ইয়ার্ড নির্মাণে কমপক্ষে তিন একর জমি প্রয়োজন। ক্রয়কৃত জমির পাশে আরও দুই একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উপকারের বদলে বেড়েছে দুর্ভোগ

উপকারের বদলে বেড়েছে দুর্ভোগ
খালের পাড় খাড়াভাবে কাটায় পাশের বিভিন্ন স্থাপনাসহ পৌরসভার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নড়াইলের সদরের গারোচোরা গ্রামে। ছবি: দৈনিক বাংলা
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • নড়াইলে খাল খনন

ভরাট হয়ে যাওয়া খালে পানিপ্রবাহ ও জমিতে সেচ দেয়ার জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে নড়াইল সদর উপজেলার গারোচোরা থেকে চানপুর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার খাল পুনর্খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। উপকারের বদলে তা এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খাল খননের পর দুই পাড়সহ পাকা রাস্তা ভেঙে পড়ায় এলাকার মানুষ এখন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। আট মাস পার হলেও ভেঙে যাওয়া পাড় ও রাস্তা সংস্কার করা হয়নি।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে খালটির ১ হাজার ৭০০ মিটার পুনর্খননের কাজ শুরু হয়। মেসার্স নাজমুল হক নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান খালের উপরিভাগে ৪০ থেকে ৫০ ফুট এবং তলদেশ ১০ ফুট চওড়া করে খাল পুনর্খননের কাজ পায়।

গত ২২ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহাবাদ ইউনিয়নের চারটি বিলের কৃষিকাজে সেচ সুবিধার জন্য খালটি পুনর্খনন করে চিত্রা নদীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। খালের উপরিভাগে ৪০ থেকে ৫০ ফুট এবং তলদেশ ১০ ফুট চওড়া করে কাটার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু উপরিভাগ কাটা হয়েছে ১৫ থেকে ১৬ ফুট এবং তলদেশ ১০ থেকে ১২ ফুট চওড়া করে কাটা হয়েছে। নদীর কাছাকাছি এলাকায় খালের মতো করে না কেটে সরু আকারে কাটা হয়েছে। এতে নদীর পানি খালে প্রবেশ করতে পারছে না। অনেক স্থানে ঢালু না করে খাড়াভাবে খাল খনন করা হয়েছে। এতে এসব স্থানে দুই পাড়ের মাটি ধসে পড়ে খাল পাড়ের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। ভেঙে গেছে পৌরসভার পাকা রাস্তা।

গারোচোরা গ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লুতফুন্নেছাসহ কয়েকজন বলেন, ‘ঝুড়ি-কোদাল দিয়ে খাল কাটা হলে পাড়ের বাসিন্দাদের এত ক্ষতি হতো না। খননযন্ত্র দিয়ে খাল কাটা হয়েছে। এতে পাড়ে কোনো ঢাল তৈরি হয়নি। খালের পাড় খাড়াভাবে কাটায় পাশের বিভিন্ন স্থাপনাসহ পৌরসভার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে উদ্দেশ্যে খাল খনন করা হয়েছে তা পূরণ হয়নি।

ভ্যানচালক রোস্তম আলী বলেন, ‘রাতে ভ্যান চালানো যায় না। অনেক সময় অন্য ভ্যানকে সাইড দিতে গেলে খাদে পড়ে যেতে হয়। এক সপ্তাহ আগে খাদে পড়ে গিয়ে নয়নপুর গ্রামের ভ্যানচালক হরিপদ বিশ্বাসের পা ভেঙে গেছে।’

জানতে চাইলে ঠিকাদার এনামুল হক বলেন, ৪০-৪৫ বছর সংস্কার না করায় খালের বেশির ভাগ অংশ ভরাটসহ বেদখল হয়ে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মেপে দেয়া জায়গায় খাল খননের কাজ করেছি।

এনামুল হক আরও বলেন, দরপত্রে খননযন্ত্র দিয়ে খাল কাটার নির্দেশনা আছে। খাল কাটতে গিয়ে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়েছি। ঠিকমতো খাল কাটতে পারিনি।

নড়াইল পৌরসভার মেয়র আনজুমান আরা বলেন, খাল খননের পর ১১ ফুট চওড়াবিশিষ্ট প্রায় ১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ভেঙে যায়। ভেঙে যাওয়া রাস্তাটি মেরামতের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পাউবোকে চিঠি দেয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙা রাস্তার পাশ দিয়ে বাঁশের খুঁটি ও গাছের গুঁড়ি পুঁতে কিছু বালুর বস্তা দিয়ে দায়সারাভাবে রাস্তা ভরাট করে। তিনি দ্রুত এই ভাঙা স্থান ভরাটের জন্য পাউবো কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, প্রায় চার যুগ ভরাট খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেয়ায় এলাকাবাসীর বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কাজ করতে সমস্যা হয়েছে। অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


জালিয়াতি, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

জালিয়াতি, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
নওগাঁ সাব রেজিস্ট্রি অফিস। ছবি: দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • নওগাঁ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

  • দলিল সম্পাদনের সময় সরকারি ফি ছাড়াও দলিলপ্রতি বাড়তি ১ হাজার ২০০ টাকা নজরানা দিতে হয়, না হলে সম্পাদন হয় না।

নওগাঁয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু কর্মচারীর যোগসাজশে একটি চক্র অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই চক্র জাল দলিল, সম্পাদনে অতিরিক্ত টাকা ও নকল প্রস্তুতে অতিরিক্ত ফি আদায় করে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি সাত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে গত বছর ৯ হাজার দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। চলতি বছরেও প্রায় একইসংখ্যক দলিল সম্পাদনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রতি মাসে একই হারে দলিল সম্পাদন হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জমির ক্রেতা বলেন, দলিল সম্পাদনের সময় সরকারি ফি ছাড়াও দলিলপ্রতি বাড়তি ১ হাজার ২০০ টাকা নজরানা দিতে হয়। তা না হলে সম্পাদন হয় না। এ ছাড়া দলিলের ভুলত্রুটি ধরেও টাকার বিনিময়ে রফা করা হয়।

সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা প্রকাশ পেলে এসব জালিয়াতির তদন্ত শুরু হয়। ঘটনাটি প্রকাশিত হলে নওগাঁর জেলা রেজিস্ট্রার ব্যবস্থা নেন। এতে প্রাথমিকভাবে সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একটি দলিল সম্পাদনের সময় কয়েকজন কর্মচারী যাচাই-বাছাইয়ের পর সাব-রেজিস্ট্রার দলিল সম্পাদন করেন। এ নিয়ে নওগাঁ শহরের কোমাইগাড়ি মহল্লার সোহেল রানা জেলা রেজিস্ট্রার ও পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের সূত্র ধরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র ধরা পড়ে।

সোহেল রানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুলাই ১৯৮৩ সালের ৮৩৫১ নম্বর দলিলের মাধ্যমে শহরের কোমাইগাড়ি মৌজার ৮ জন দাতা মিলে কিছু সম্পত্তি খলিসাকুড়ি মহল্লার তাছের উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে এ কে এম আজাদ হোসেনকে কবলা রেজিস্ট্রি করে দেন। সম্প্রতি সোহেল রানা ওই সম্পত্তির ৮৩৫১/১৯৮৩ নম্বরের দলিলের জাবেদা নকল ওঠান। নকল উত্তোলনের পরে তিনি দেখতে পান, মূল দলিলের সঙ্গে জাবেদা নকলের কোনো মিল নেই। দাতা-গ্রহীতা সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দলিলের ভেতরে দাতা-গ্রহীতার নাম পরিবর্তন করে তফশিল সংযোজন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগ করেন। পরে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে ১৬৩ নম্বর ভলিউম বইয়ের ওই পাতাগুলো পুরোপুরি বদলে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া ওই দলিলটি একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সম্পাদিত হয়েছে। এ ঘটনায় নওগাঁ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আলোচনা শুরু হলে জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য নওগাঁর বদলগাছীর সাব-রেজিস্ট্রার পারভেজ মাসুদকে দায়িত্ব দেন। তার তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনায় সম্পৃক্ত নকলনবিশ শামিমা সিদ্দিকা, আবুল কালাম আজাদ, জুলকার ফাইন, রাশেদুল ইসলাম, নকল তুলনাকারী রাশেদুল ইসলাম রাজু, মৌসুমী আকতার, নকল পাঠক ফারহানা ইয়াসমিনকে দোষী করে জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। জেলা রেজিস্ট্রার ওই সাতজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। সাময়িক বরখাস্তদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অভিযোগ উঠেছে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার গোলাম সামদানীর দলিলসূচি তৈরির দায়িত্ব থাকলেও তিনি তা করেন না। বরং দলিল সম্পাদনের তদারকি করেন। এ কারণে দলিলের জালিয়াতি তার নজরে আসার কথা, কিন্তু তিনি তদন্তে ছাড় পেয়ে যান।

গোলাম সামদানীর দলিলপ্রতি টাকা লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। বলেন, দলিল সম্পাদনের জন্য বাড়তি কোনো টাকা নেয়া হয় না।

একপর্যায়ে প্রতিবেদককে বলেন, ‘সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে জেলের ঘানি টানতে হবে।’

তদন্তের বিষয়ে নওগাঁ সদর সাব-রেজিস্ট্রার রবিউল ইসলাম বলেন, সারা দিন দলিল, জাবেদা নকলসহ প্রচুর কাগজে স্বাক্ষর করতে হয়। এত কিছু দেখার পরিস্থিতি থাকে না। শুধু সরকারি রাজস্ব জমা হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও রেকর্ডকিপারের স্বাক্ষর আছে কি না তা দেখে তিনি স্বাক্ষর করেন।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম মুঠোফোনে জানান, আপাতত সাময়িকভাবে সাত নকলনবিশকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে মোহরার, রেকর্ডকিপার (মোহরার) জড়িত থাকেলও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল নকলনবিশদের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। রেকর্ডরুমে কেবল অফিস সহায়ক যেতে পারেন কিন্তু উমেদারি পিওন বেআইনিভাবে রেকর্ডরুমে প্রবেশ করার অভিযোগের কোনো সমাধান হয়নি। তাই সংশ্লিষ্টরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


দুই হাত নেই, পা দিয়ে ছবি এঁকেই বাজিমাত

দুই হাত নেই, পা দিয়ে ছবি এঁকেই বাজিমাত
আব্দুল্লাহ আল মোনায়েম। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

অদম্য ইচ্ছা আর কঠিন অধ্যবসায় থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই কারো জন্য বাধা হতে পারে না। এমন উদাহরণ অনেক আছে পৃথিবীতে। পৃথিবীতে এমন অনেকেই আছেন, যারা শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজেদের নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তাদেরই একজন ফেনীর দাগনভূঞা একাডেমির ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মোনায়েম। ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকিতে আগ্রহ তার। কিন্তু জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। তারপরও দমে যায়নি শিশু মোনায়েম। নিজের অদম্য ইচ্ছায় পা দিয়েই ছবি এঁকে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম হয়েছে সে। আর পুরস্কারস্বরূপ উপহারের ঘরসহ নগদ এক লাখ টাকা পেয়েছে মোনায়েম।

চট্টগ্রাম জেলার শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা নুরুল আবছার ভূঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চিত্রাঙ্কন ‘ঘ’ বিভাগে (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু) প্রথম হয়েছে দাগনভূঞা একাডেমির ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মোনায়েম। সে দাগনভূঞা উজ্জীবক আর্ট স্কুলের শিক্ষার্থী।

এ নিয়ে দাগনভূঞার বাসিন্দা কাজী ইফতেখার বলেন, ‘শিশু মোনায়েমের এমন সফলতায় আমরা আনন্দিত। আগামীতে সে আরও বড় পরিসরে জায়গা করে নেবে। আমরা আশা করি, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মোনায়েম পড়ালেখা শেষ করে কর্মক্ষেত্রেও সফল হবে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে কোনো বাধা নয়, তার উজ্জ্বল উদাহরণ মোনায়েম।’

দাগনভূঞা উজ্জীবক আর্ট স্কুলের প্রশিক্ষক গিয়াস উদ্দিন ভূঞা বলেন, ‘মোনায়েম বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম হয়েছে জেনে আমরা অনেক খুশি হয়েছি। আমরা আশা করি, সে জাতীয় পর্যায়েও সফল হবে।’

মোনায়েম দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুপুর ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে। বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০২২ উপলক্ষে গত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর  ওই প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেখানে বিভাগীয় পর্যায়ে পা দিয়ে ছবি এঁকে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করে মোনায়েম। এর আগে মোনায়েমের আঁকা ছবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ কার্ডেও স্থান পায়।