শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২

জবির প্রধান ফটকে বাসচাপায় নিহত ১

জবির প্রধান ফটকে বাসচাপায় নিহত ১
যাত্রীবাহী বাসের চাপায় রিকশার যাত্রী নিহত। ছবি: দৈনিক বাংলা
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রধান ফটকের সামনে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় রিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুইজন। আজ রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিচয় জানা যায়নি। আর আহতদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী। তার নাম আকাশ। অপরজন রিকশাচালক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে সাভার পরিবহনের একটি বাস একটি রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশার যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় রিকশাচালক এবং  বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী আকাশকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে সূত্রাপুর থানার ডিউটি অফিসার হাসান মিয়া জানান, আমরা বাসটি থানায় এনেছি। তবে চালক ও হেল্পার পলাতক রয়েছে।


সরকারি দামে মিলছে না সার বাড়ছে আমন উৎপাদন খরচ

সরকারি দামে মিলছে না সার বাড়ছে আমন উৎপাদন খরচ
ইউরিয়ার খোঁজে লাইনে দাঁড়িয়েছেন কৃষকরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

পাবনায় সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে রাসায়নিক সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। আর কৃষি বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। ইউরিয়া সারের অতিরিক্ত বরাদ্দও দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কৃষকদের মাঝে গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

বর্তমানে আমনের ভরা মৌসুম চলছে। এ সময় সারের বাড়তি দামের কারণে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। তারা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিসিআইসির ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না। কেবল সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। একই চিত্র খুচরা বাজারেও। বেশি দামে যারা সার কিনছেন তাদের আমন উৎপাদনের খরচও বাড়ছে।

পাবনার সদর, আটঘরিয়া ও ঈশ্বরদী উপজেলায় সারের কয়েকটি খুচরা দোকানমালিকের সঙ্গে বলে জানা গেছে, সরকারনির্ধারিত প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ২২ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। এমওপি, পটাশ, টিএসপিসহ সব ধরনের সারের জন্য প্রতি কেজিতে কৃষককে সরকারনির্ধারিত দরের চেয়ে ১০-১২ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। দাম বাড়ার জন্য ডিলারদের দুষছেন খুচরা দোকানিরা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সদরের দাপুনিয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার আবু তালেবের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ইউরিয়া সার কিনতে ভিড় করেছেন আশপাশের গ্রামের কৃষকরা। বন্ধ দোকান না খুলেই ম্যানেজার জানালেন সার নেই। দীর্ঘ অপেক্ষায় সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান কৃষকরা। 

মির্জাপুর থেকে আসা কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, সার কিনতে গেলে বিক্রেতারা সংকটের কথা বলে দাম বেশি নিচ্ছেন। বিক্রয় রসিদ চাইলেও তা দেয়া হচ্ছে না। দর-কষাকষি করতে গেলে সার না দিয়েই অপমান করে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। দোকানে মূল্যতালিকা টাঙিয়ে রাখলেও সে দাম রাখা হচ্ছে না।

আটঘরিয়ার দিকশাইল গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে ইউরিয়া সারের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এখন যদি কৃষকদের সার পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখা হয়, তাহলে তারা আমন ধান চাষে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে ফলন কমে গিয়ে লোকসান বাড়বে। অন্যদিকে বাজারে চালের দামও বাড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক ও খুচরা সার দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সার ডিলারদের অধিকাংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। অভিযোগ রয়েছে, তারা মৌসুমে যে সার বরাদ্দ পান সেটা উত্তোলন না করে বরাদ্দপত্রটা একশ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। সেই বরাদ্দপত্র ক্রয়কারীরা গুদাম থেকে সার উত্তোলন করে বেশি দামে বিক্রির জন্য সার মজুত করেন। এ অবস্থায় কৃষকপর্যায়ে কৃত্রিম সারসংকট দেখা দেয় ও বেশি দামে কৃষকরা কিনতে বাধ্য হন। 

পাবনা সার ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া সার আশুগঞ্জ থেকে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এদিকে পাবনায় ইউরিয়াসহ কোনো সারেরই সংকট নেই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন। তিনি জানান, চলতি আমন মৌসুমে পাবনায় চাহিদার অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনের বেশি ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছে কৃষি বিভাগ। বিসিআইসির ১০১ জন অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে শিগগিরই তা কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ শুরু হবে। বাজার কারসাজি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।


ভোলায় বিদ্যুৎহীন ভুতুড়ে সড়ক

ভোলায় বিদ্যুৎহীন ভুতুড়ে সড়ক
বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বন্ধ সড়কবাতি। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • ​৯ বছরে বকেয়া ৭ কোটি টাকা

  • পৌর এলাকার মানুষ বিশেষ করে নারীরা নানা আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন। অন্ধকারে চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কও বেড়েছে।

ভোলা প্রতিনিধি

সাত কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় ভোলা পৌরসভার সড়কবাতির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সড়কে আলো না থাকায় রাতে চলাচলে বিপাকে পড়েছেন শহরের বাসিন্দারা।

ভোলা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ জানিয়েছে, বকেয়া পরিশোধের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিয়েও কাজ হয়নি। এ কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় পৌরসভার সব সড়কবাতির সংযোগ গত তিন দিন ধরে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ভোলা পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে ৯ হাজার ৬৩৫ পরিবারে ৮৭ হাজার ২৪৩ জন নাগরিক বসবাস করেন।

বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ভোলা পৌরসভা মূলত ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে। শহরের মানুষ বিশেষ করে নারীরা নানা আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন। অন্ধকারে চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিয়মিত কর পরিশোধ করা হয় পৌর কর্তৃপক্ষকে। এর পরও এমন দুরবস্থা।

ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব বাহাউদ্দিন বলেন, ভোলা পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির। কিন্তু সেই পৌরসভায় রাতে সড়কে আলো জ্বলছে না, এটা বেমানান।

বিলকিছ জাহান নামে পৌরসভার একজন বাসিন্দা বলেন, ‘সন্ধ্যার পর সড়কে বাতি না জ্বলায় নারীরা বাজারে কেনাকাটা করতে, শিশুদের কোচিং করাতে নিতে ভয় পাচ্ছেন।’ কয়েকটি ওয়ার্ডের সড়কে খানাখন্দ থাকায় অন্ধকারে দুর্ঘটনার শঙ্কাও আছে। কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি দ্রুত এর সমাধানের দাবি জানান।

ভোলার বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন-অর-রশীদ বলেন, ভোলা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কাছে ভোলা পৌরসভার গত ৯ বছরে বেকেয়া বিল প্রায় ৭ কোটি টাকা। বিল পরিশোধের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিলেও কোনো ফল হয়নি।

মামুন-আল-রশীদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ওজোপাডিকোর আওতায় পৌরসভার আওতাভুক্ত সড়কবাতির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিল পরিশোধ করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার বলেন, নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা হবে। আর ভোলা পৌরসভার মেয়র মো. মনিরুজ্জামান বলেন, যে পরিমাণ বিল বকেয়া আছে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে ধাপে ধাপে তা পরিশোধ করা হবে। পৌরসভার সড়কে শিগগিরই বাতি জ্বলবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন মেয়র।


জালিয়াতি করে ৮৭ কোটি টাকা আয়, সম্পদ গড়েছেন স্ত্রীর নামে

জালিয়াতি করে ৮৭ কোটি টাকা আয়, সম্পদ গড়েছেন স্ত্রীর নামে
স্ত্রী মুক্তা আক্তারের সঙ্গে মোবারক হোসেন।
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত
  • তারা দুবাইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করার পরিকল্পনা করছিলেন। ছয় মাস আগে পরিবারের সবাই মিলে দুবাই ঘুরে আসেন

নুরুজ্জামান লাবু

একটি দুটি নয়, রাজধানীর পূর্বাচল এলাকায় অন্তত দশটি প্লট অভিনব জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় এক শ’ কোটি টাকা। আর এই টাকায় বিপুল সম্পদ গড়েছেন তার গৃহিণী স্ত্রী মুক্তা আক্তারের নামে। দুবাইয়ে কিনেছেন ফ্ল্যাট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও খুলেছেন ব্যবসা।

মোবারকের এই জালিয়াতি চক্রে জড়িত আছেন রাজউকের অসাধু কয়েকজন কর্মকর্তা। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের ভূমি অফিসের এক কর্মচারীও এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পুরো চক্রটিকে গ্রেপ্তারের জন্য অনুসন্ধান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) একটি দল।

সিটিটিসির ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের ইকোনমিক ক্রাইম সূত্র জানায়, গত ২৭ জুলাই রাজধানীর কাফরুল থানায় আকবর হায়দার নামে এক ব্যক্তি জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, আগে থেকে পরিচিত মোবারক হোসেনের মাধ্যমে তারা পূর্বাচল এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন চারটি প্লট কিনেন। পরে মোবারক আরও কয়েকটি প্লট বিক্রি হবে জানালে তিনি কিনতে সম্মত হন। এই সুযোগে মোবারক ভুয়া দলিলপত্রসহ রাজউক থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বানিয়ে আলাদা আলাদা ব্যক্তিকে বিক্রেতা সাজিয়ে বিক্রি করে।

২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে জালিয়াতি করে এভাবে ১০টি প্লট বিক্রির মাধ্যমে মোবারক মোট ৮৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

জালিয়াতির এই মামলাটি তদন্তের জন্য কাফরুল থানা থেকে ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের কাছে পাঠানো হলে সম্প্রতি মোবারকের স্ত্রী মুক্তা আক্তার ও তুষার নামে এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রথম দফায় তিন দিনের রিমান্ড ও দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো জালিয়াত চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। মোবারকসহ এই চক্রের সব সদস্যকে গ্রেপ্তারের জন্য ইতোমধ্যে একাধিক অভিযানও চালানো হয়েছে।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মোবারকের নেতৃত্বে এই চক্রটি একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতি করেছে। এই চক্রের সঙ্গে রাজউক ও ভূমি অফিসের যারা জড়িত, তাদের বিষয়েও খোঁজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মোবারককে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

মোবারকের জালিয়াতির ধরন

তদন্তসংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, মামলার বাদীর বিশ্বাস অর্জনের পর মোবারক তার সঙ্গে যুক্ত রাজউকে কর্মরত সহযোগীদের মাধ্যমে পূর্বাচলের বিভিন্ন প্লট মালিকের জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করত। এরপর জালিয়াতি করে প্লট বিক্রির জন্য রাজউকের বিক্রয় অনুমতিপত্র, মালিকানা ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে। পরে জমির আসল মালিকের নামেই শুধু ছবি পরিবর্তন করে একটি নকল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, জালিয়াতচক্রটি সব কাগজপত্র তৈরি করে নিজেদের এক সদস্যকে প্লটের মালিক সাজিয়ে ক্রেতার সামনে হাজির করে। ক্রেতা কাগজপত্রের কপি নিজের কাছে রেখে রাজউকে খোঁজ নিলে সেখান থেকেও ইতিবাচক তথ্য পান। শেষ পর্যন্ত জমি কেনার জন্য রাজি হলে চক্রের সদস্যরা নিজেদের লোকজনকে ভূমি রেজিস্ট্রার সাজিয়ে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করায়। জমির প্রকৃত দলিলের মতো দলিলের একটি অনুলিপিও দেয়া হয় ক্রেতাকে। অথচ ওই দলিলের কোনো কিছুই ভূমি অফিসের বালাম বইয়ে থাকে না।

জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার আকবর হায়দার দৈনিক বাংলাকে বলেন, মোবারক আগে থেকে পরিচিত হওয়ার কারণে তার মাধ্যমে কেনা প্লটগুলোতে আগে কখনো যাননি। চলতি বছরের শুরুর দিকে তার অফিসের একজন কর্মকর্তা পূর্বাচল এলাকায় গিয়ে দেখতে পান তার কেনা প্লটে বাউন্ডারি অন্য একজন দেয়াল তৈরি করছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজে  যোগাযোগ করলে বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তা নিজেকে ওই জমির মালিক দাবি করেন। ওই ঘটনার পরপরই তিনি তার কেনা অন্য প্লটগুলোতে গিয়ে দেখতে পান সেখানে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নামে সাইনবোর্ড টাঙানো। দ্রুত দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে তিনি রাজউক ও রূপগঞ্জ ভূমি অফিসে খোঁজ নিলে জানতে পারেন সেগুলো ভুয়া দলিল।

জালিয়াতির টাকায় স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পদ

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, জালিয়াতচক্রের মূল হোতা মোবারকের বাড়ি পূর্বাচলের পাশে রূপগঞ্জের ইউসুফগঞ্জে। তার বাবার নাম মোজাফফর আলী। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া মোবারক দীর্ঘদিন রূপগঞ্জ এলাকায় বালু শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে বালু সরবরাহের পাশাপাশি জমি বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত হন মোবারক। এ সময় রাজউক ও ভূমি অফিসের কিছু অসাধু লোকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জালিয়াতির একটি চক্র গড়ে তোলেন।

ইছাপুরা এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোবারকের বাবা মোজাফফর আগে বিদেশে থাকতেন। তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। অন্যদিকে মুক্তার বাবা নজরুল ইসলাম আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সাত বছরে হঠাৎ করেই বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। তবে কৌশলী মোবারক জালিয়াতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকায় নিজের পরিবর্তে স্ত্রী মুক্তার নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন। ভুক্তভোগীরা মামলা করলেও কোনো সম্পদ যাতে বেহাত না হয় সে জন্য নিজের নামে সম্পদ রাখেননি মোবারক।

সিটিটিসির কাছে রিমান্ডে থাকা মুক্তা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, কোনো পেশায় যুক্ত না থাকায় তার নিজের কোনো আয় নেই। মুক্তা জানান, গত বছরের নভেম্বরে প্রায় ৮০ লাখ টাকায় গ্লোরি ও হ্যাভলস ব্র্যান্ডের দুটি জিপ গাড়ি কিনে স্বামী মোবারক তার নামে রেজিস্ট্রেশন করে দেন।

এ ছাড়া বছর তিনেক আগে মোবারক এমভি মাইশা নামে দুটি বাল্কহেড কিনেছেন মুক্তার নামে। মাইশা পরিবহন নামে একটি বালুবাহী ট্রাকও আছে। পূর্বাচলের পাশে দাউদপুর ইউনিয়নে ১২ শতাংশ জমি, ইছাপুরা বাজার মসজিদের পাশে দশ কাঠার একটি জমিও আছে। ইছাপুরা বাজারের ওই জমিতে একটি দশ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। বর্তমানে ছয় তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। সব সম্পদই স্বামী তাকে দিয়েছে বলে জানান মুক্তা।

জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তা আক্তার আরও জানান, ইছাপুরা এলাকায় একটি গরুর খামারে তাদের অর্ধশতাধিক গরু, দুবাইয়ের দেরাই এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ও যুক্তরাষ্ট্রে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে একটি পেট্রোল পাম্প ও দোকান কিনেছেন। মুক্তা জানান, তার স্বামী দুবাইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করার পরিকল্পনা করছিলেন। ছয় মাস আগে পরিবারের সবাই মিলে দুবাই ঘুরেও আসেন।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, তারা তদন্ত করছেন প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি মানিলন্ডারিং আইনে অনুসন্ধানের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ  সিআইডিকে বলা হয়। সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ-খবর করবে।


ট্যাংক ফেটে কৃষিজমিতে ডিজেল, ক্ষতির আশঙ্কা

ট্যাংক ফেটে কৃষিজমিতে ডিজেল, ক্ষতির আশঙ্কা
সীতাকুণ্ডে জ্বালানির ট্যাংক ফেটে প্রায় তিন হাজার লিটার ডিজেল ছড়িয়ে পড়ে ফসলি জমিতে। ছবি: দৈনিক বাংলা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি কারখানার জেনারেটরের জ্বালানির ট্যাংক ফেটে প্রায় তিন হাজার লিটার ডিজেল ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ওই জমিতে থাকা ধানের বীজতলা ও ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

গতকাল বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার টেরিয়াল বাজার এলাকায় সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড নামের ওই কারখানার (চট্টগ্রাম হ্যাচারি) একটি জ্বালানি ট্যাংক ফেটে যায়। ওই দিন রাতেই বিষয়টি জানাজানি হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওই কারখানায় জেনারেটরের জ্বালানির একটি ট্যাংক ফেটে কৃষিজমিতে ডিজেল ছড়িয়ে পড়েছে।’

আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ওই ডিজেলের নমুনা সংগ্রহ করেছি। ছড়িয়ে পড়া ডিজেলের কিছু কিছু কারখানা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা সংগ্রহ করেছেন। তবু আমরা তাদের শুনানির জন্য ডেকেছি।’

তেল ছড়িয়ে পড়া জমির একাংশে বর্গা চাষ করেন স্থানীয় কৃষক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘ওই জমিতে আমরা বীজতলা তৈরি করেছি। আমাদের জালা (ধানের চারা) নষ্ট হয়ে গেছে। চারাগুলো রোপণের জন্য পাশে ১০ শতকের মতো জমি তৈরি করেছি, ওই জমিতেও তেল গেছে। এখন আর চারা রোপণের উপযোগী নেই জমি। এ ছাড়া শিমের খেত ছিল, সেটিও নষ্ট হয়ে গেছে।’

দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘আমিসহ আরও চার থেকে পাঁচজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই আমরা ক্ষতিপূরণ দাবির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন বলেন, ‘আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে বৃহস্পতিবার অফিসে যাওয়ার সময় বেশ কিছু মানুষকে ওই জমি থেকে তেল সংগ্রহ করতে দেখেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে তেল ছড়িয়ে পড়া জমির পরিমাণ অন্তত এক একর হবে।’

এদিকে, কৃষিজমিতে ডিজেল ছড়িয়ে পড়লেও এ কারণে খুব বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন না সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিব উল্লাহ। তিনি বলেন, কৃষিজমিতে ডিজেল গেলে দুটো ঘটনা ঘটতে পারে। একটা হলো- এর ফলে মাটিতে থাকা পোকামাকড় চলে যাবে। আর দ্বিতীয়টি হলো- গাছের ক্ষতি হতে পারে। তবে সেটা পর্যবেক্ষণের পর বলা যাবে। কারণ, জমির পরিমাণ এক একর হলে প্রভাব খুব বেশি হওয়ার কথা না। যদি এমন হতো যে এক শতাংশ জমিতে তেলগুলো পড়েছে, তাহলে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি ছিল।

ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়া তেল নিষ্কাশনের উপায় নিয়েও কথা বলেছেন এই কৃষি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ওই জমিতে যদি পানি কমও থাকে, পরে পানি দিলে ডিজেল ভেসে উঠবে। সেগুলো সংগ্রহ করে ফের ব্যবহার করা যাবে। এদিকে জেনারেটরের জন্য মজুত করা ৩ হাজার লিটার তেল কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ার কথা স্বীকার করেছেন সিপি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক গাজী বিল্লাল হোসেন।’

গাজী বিল্লাল বলেন, ‘ট্যাংক ফাটেনি, পাইপলাইনের লিকেজের কারণেই এটা হয়েছে। আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর আমরা ডিজেল সংগ্রহ করে নিয়েছি। আমরা ওই জমিতে চাষ করা কৃষকদের সঙ্গে আলোচনাও করেছি। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অফিশিয়ালি বিষয়টি ডিল করব। ক্ষতিপূরণ চাইলে দেয়া হবে।’


বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ: মুন্সীগঞ্জে আহত যুবদল কর্মী শাওনের মৃত্যু

বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ: মুন্সীগঞ্জে আহত যুবদল কর্মী শাওনের মৃত্যু
ঢামেক হাসপাতালে মারা যান যুবদল কর্মী শাওন। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর পুরোনো ফেরিঘাটে পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত যুবদল কর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল বুধবার মুক্তারপুরে পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে শাওন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে এবং জাহাঙ্গীর মাদবর ও তারেক হোসেন নামে আরও দুজনকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকি দুজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিএনপির দাবি, পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন শাওন। মুন্সীগঞ্জ জেলার মীর কাদিম পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেন। তার এক বছরের একটি শিশু রয়েছে।

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, শাওনের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কান্নায় ভেঙে পড়েন দলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও জেলার সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, ড্যাব সদস্য ডা. পারভেজ রেজা কাঁকনসহ অন্যরা।

এ সময়ে যুবদল সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, হত্যা, গুলি আর নির্যাতন করে কোনো স্বৈরাচারী সরকারই টিকে থাকতে পারেনি। এই সরকারও পারবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সরকারের পতন ঘটবে। সেদিন এই জুলুমের বিচার হবে। প্রতিটি ফোটা রক্তের হিসেব কড়ায় গণ্ডায় নেওয়া হবে। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে শাওনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই সরকার পতনের আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে।

দৈনিক বাংলার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির দেড় হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে আসামি করে থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ২৪ জনকে। বৃহস্পতিবার রাতে সদর থানায় ওই দুটি মামলা হয়।

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অর্থ) সুমন দেব জানান, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র লুটের চেষ্টা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় সদর থানায় এসআই মাঈনউদ্দিন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান রতনকে প্রধান করে বিএনপির ৩১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১ হাজার ২০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, অন্য মামলাটি করেন মুক্তারপুর এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক লীগ কর্মী আব্দুল মালেক। দোকানপাট ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের এই মামলায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের ছোট ভাই ও সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় ৫২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ২০০ জনকে।

সংঘর্ষের ঘটনায় বুধবার রাতেই মুক্তারপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২৪ জনকে আটক করে। তাদের পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের ওপর বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।

সংঘর্ষের জেরে বিএনপি নেতার ফ্যাক্টরিসহ ৫ ঘরে আগুন

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়ন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হাইয়ের ভাগনে বিএনপি নেতা মো. নিজামুদ্দিনের সুতার ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই অগ্নিকাণ্ডে ফ্যাক্টরির পাশে থাকা অন্তত আরও পাঁচটি ঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতার অভিযোগ, বুধবার বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনার জেরে পঞ্চসার ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফার লোকজন এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মুক্তারপুর ফেরিঘাট এলাকায় বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। স্থানীয় মানুষজন যে যার বাড়িতে রাতে ঘুমিয়ে ছিল। রাত দেড়টার দিকে আগুনে পোড়া গন্ধে ঘুম ভাঙে। তখন বিএনপি নেতা নিজামের সুতা তৈরির ফ্যাক্টরিতে আগুন জ্বলছিল। সে আগুন মুহূর্তে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি। ভোর ৪টার পর্যন্ত আগুন জ্বলে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন উপস্থিত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিএনপি নেতা মোহাম্মদ নিজাম অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরেই রাতে পঞ্চসার ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফার লোকজন আমার ফ্যাক্টরিতে ঢোকে। তাদের সঙ্গে পুলিশের পোশাক পরা তিনজন ছিল। এ সময় ওই লোকগুলো আমার ফ্যাক্টরিতে সুতা তৈরির কাঁচামাল কেনার ২০ লাখ টাকা লুটপাট করে। সেই সঙ্গে ফ্যাক্টরির দামি মোটর ও মালামাল নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ফ্যাক্টরিতে তারা আগুন দিয়ে অন্তত পক্ষে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে।’

নিজাম আরও বলেন, মুক্তারপুর এলাকার প্রতিটি ঘরে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষও এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

ঘটনায় ভুক্তভোগী রমজান মিয়া বলেন, বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলো। আমরা আমাদের বাড়িতে ছিলাম। বিএনপি নেতার ফ্যাক্টরিতে আগুন দিল। সে আগুনে আমাদের বাড়িঘর সব পুড়ে শেষ হলো। আমাদের এখন খাবার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই। যারা আগুন দিল আমরা তাদের বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চসার ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা চিন্তিত। আগুন দেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমাদের পুলিশ প্রশাসন সব ধরনের ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে নিষেধ করেছেন। আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থানে আছি। আজকে জেলা পার্টি অফিসে আমাদের একটি সভা রয়েছে। সেখান থেকে আমাদের পরবর্তী করণীয় আলোচনা করা হবে।’