বুধবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২

কালাইয়ে দুই মাদক কারবারি আটক

কালাইয়ে দুই মাদক কারবারি আটক
আটক। প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

জয়পুরহাটের কালাইয়ে ১ হাজার পিস ইয়াবা ও ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে থানা পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের আটক করা হয়। 

গ্রেপ্তাররা হলেন, উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে সাহারুল ইসলাম (৩০) ও ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা এলাকার মজিদের ছেলে মেহেদুল ইসলাম (৪০)।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কালাই উপজেলার হাজীপাড়া গ্রামে মোহাম্মাদ আলীর বাগানে এক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রির জন্য অবস্থান করছে। এ সময় অভিযান চালিয়ে সাহারুল ইসলামের দেহ তল্লাশি করে ১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। 

অপরদিকে, উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের ওহেদ আলী মন্ডলের বালকা পাথার মাঠে মাদকদ্রব্য বিক্রি করতে একজন অবস্থান করছে। পরে ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে মেহেদুল ইসলামের কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। 

এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। 


মাদকসহ যুবদল নেতা আটক

মাদকসহ যুবদল নেতা আটক
ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাট পৌর এলাকার একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ এরশাদুল নামে এক যুবদল নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি ৫ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে লালমনিরহাট পৌরসভা এলাকার আদর্শপাড়ার ওই বাড়িতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়।  এ সময় কবুতরের বাসা, কাঠের স্তূপ ও বাড়ির বিভিন্ন জায়গা থেকে ১৪ গ্রাম হিরোইন, ৭৫ পিস ইয়াবা, ৬৩ বোতল ফেন্সিডিল, ৩ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ৪ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। তখনই আটক হন এরশাদুল।

লালমনিরহাট থানায় এসআই মো. নুর আলম বাদী হয়ে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফা জামাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, এরশাদুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।


চিঠি চালাচালিতেই ২০ বছর পার

চিঠি চালাচালিতেই ২০ বছর পার
বান্দরবান জেলা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • বান্দরবান শিল্পনগরী

  • বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার জন্য ২০০১ সালে ৭২ লাখ টাকা চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু জমির দাম বেশি হওয়ার কারণ দেখিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি ফেরত পাঠায়।

এস বাসু দাশ, বান্দরবান

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও গড়ে ওঠেনি কোনো শিল্পকারখানা। বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার জন্য গত ২০ বছর ধরে চিঠি চালাচালি হলেও অবকাঠামোগত কোনো কাজ হয়নি।

জেলার সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এ এলাকায় শিল্পনগরী গড়ে উঠলে কৃষিজাত ও হস্তশিল্পজাত পণ্যের বিরাট বাজার গড়ে তোলা যেত। সেই সঙ্গে এসব পণ্য রপ্তানিরও সুযোগ তৈরি হতো।

বান্দরবানে প্রতি মৌসুমে আনারস, কলা, কমলা, মালটা, পেঁপে, কাজুবাদামসহ বিভিন্ন ফলের ফলন হয়। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর বান্দরবানে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য অল্প দামে বিক্রি করে দেয়ায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এতে পরের বছর তারা কৃষিপণ্য উৎপাদনের আগ্রহও হারিয়ে ফেলেন। এ ছাড়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তৈরি তাঁতবস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের কুটিরশিল্প পণ্যেরও প্রসার ঘটছে না।

জেলায় শিল্পের সম্ভাবনার কথা ভেবে ২০০১ সালে শহরের বালাঘাটা এলাকায় ১০ একর জমির ওপর ফুড প্রসেসিং কারখানা, ফল সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার, কুটিরশিল্প উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়। বান্দরবান ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এরপর থমকে যায় পুরো প্রক্রিয়া।

করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার জন্য ৭২ লাখ টাকা চেয়ে তৎকালীন সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু জমির দাম বেশি হওয়ার কারণ দেখিয়ে মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি ফেরত পাঠায়। এরপর দীর্ঘদিন ফাইলটি লাল ফিতায় বন্দি থাকার পর ২০১৯ সাল থেকে ফের চিঠি চালাচালি শুরু হয়। কিন্তু ওই পর্যন্তই।

বান্দরবান উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লালচানি লুসাই বলেন, বান্দরবানে শিল্পনগরী করা এখন সময়ের দাবি। এটা হলে জেলায় বেকারত্ব কমবে।

২০১৯ সালের ৬ মার্চ শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। সেই চিঠিতে বলা হয়, বান্দরবানে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার পাহাড়ি মেয়েদের তাঁতশিল্প খুবই বিখ্যাত। এ ছাড়া বাঁশ, বেত ও কাঠ উৎপাদন হয়। আনারস, কলা, আম, লিচু, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফল উৎপাদন হয়। এখানে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন হলে উৎপাদিত পণ্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হবে এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এখানকার অধিকাংশ জনগণ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন হলে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়ে বেকারত্ব দূর হবে। এ ছাড়া বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনে অধিগ্রহণের জন্য জেলায় পর্যাপ্ত জমিও আছে।

এমন অবস্থায় স্থানীয়ভাবে বড় ব্যবসায়ী না থাকাকে সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন বান্দরবান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এ কে এম জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, অন্যান্য জেলার তুলনায় এখানে বড় ব্যবসায়ীর অভাব আছে। স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাও তেমন ভালো না। সরকার নগরী গড়ে দিলেও ব্যবসা তো করবেন স্থানীয়রা। এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে।

আর কুটির শিল্প করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত উপব্যবস্থাপক শামীম আলম বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, কিন্তু ভূমি না পাওয়ার কারণে শিল্পনগরী করা যাচ্ছে না।’

জমি নির্ধারণ

২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর তৎকালীন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নোমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেখা যায়, বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের জন্য ৩১৩ নম্বর বান্দরবান মৌজার (হোল্ডিং নম্বর ১৩৭ ও ৫৭৬) ৮ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি তদন্ত করা হয়।

এ ছাড়া তৎকালীন জেলা প্রশাসকের অফিস আদেশে তিনটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে সমীক্ষা পাঠানোর জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়। ওই কমিটির সদস্যরা সদরের গোয়ালিয়া খোলায় জমি দেখলেও শিল্পনগরীর জন্য স্থান নির্ধারণ করতে পারেননি।

এ বিষয়ে বর্তমান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি দৈনিক বাংলাকে বলেন, শিল্পনগরী করার বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি নেই। মন্ত্রণালয় থেকেও কোনো পত্র দেয়া হয়নি।

জমির বিষয়ে বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসন থেকে কুটির শিল্পনগরীর জন্য জায়গা বন্দোবস্ত চেয়ে কোনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে জায়গার ব্যবস্থা করে দেব।’


সেবা নিতে এসে দুর্ভোগে রোগীরা

সেবা নিতে এসে দুর্ভোগে রোগীরা
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় ওয়ার্ড ও বারান্দার মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। ছবি: দৈনিক বাংলা
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় দুর্ভোগ সহ্য করে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। পুরো জেলার রোগীদের ভরসাস্থল হওয়ায় হাসপাতালটির শয্যাও বেশিরভাগ সময় খালি থাকে না। বাধ্য হয়ে ওয়ার্ড ও বারান্দার মেঝেতে শুয়ে সেবা নিতে হয় রোগীদের।

গত কয়েকদিন হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি হয়ে আছেন। ফলে চিকিৎসকরাও সেবা দিতে সমস্যায় পড়ছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা মশিউর নামে এক রোগী বলেন, সাত দিন ধরে হাসপাতালে থাকলেও শয্যা পাননি। আরেক রোগী সুজন মিয়া বলেন, ‘এক বিছানার মধ্যে দুজন থাকছি। হাসপাতালে খুব কষ্টে কাটছে। মন চাইলেও একটু শুইতে পারি না, বসতে পারি না। এভাবে কী থাকা যায়।’

সম্প্রতি হাসপাতালটিতে সেবা নিতে এসেছিলেন বকুল মিয়া নামে এক রোগী। সেদিন তিনি বলেন, প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কেউ তার খোঁজ নেননি, চিকিৎসকের পরামর্শ পাননি।

পেটের ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগী শাওন মোল্লা বলেন, এখানে কোনো পরিবেশ নেই। পাশে কুকুর-বিড়াল বসে থাকে। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে তিনি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ২৫০ শয্যা হলেও হাসপাতালে জনবল আছে ১০০ শয্যার। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, নার্স নেই, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীও নেই। এ হাসপাতালের অবস্থা বেগতিক।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে অস্থায়ীভাবে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। এ কারণে রোগীর চাপ অনেক বেড়ে গেছে।

মাহফুজুর রহমান বলেন, শুধু জামালপুর নয়, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও শেরপুরের রোগীরাও এ হাসপাতালে সেবার জন্য আসেন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী আসা সত্ত্বেও সেবা দেয়া হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতির জন্য হাসপাতালের অবকাঠামোগত সমস্যাকে প্রধান হিসেবে দায়ি করেন মাহফুজুর রহমান। বলেন, রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্সদের বসার কক্ষেরও সংকট আছে। হাসপাতালের ভবন সম্প্রসারিত হলে সব রোগীকে আরও ভালো মানের সেবা দেয়া সম্ভব হবে।


শিক্ষক আছেন, শিক্ষার্থী নেই

শিক্ষক আছেন, শিক্ষার্থী নেই
সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা। ছবি: দৈনিক বাংলা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • কুড়িগ্রামের নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা

উত্তরবঙ্গের একমাত্র ইসলামী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসংকটে ভুগছে। গভর্নিং বডি গঠন, নিয়োগে অনিয়মসহ নানা অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পড়ালেখার গুণগত মান ঠিক না থাকায় অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন।

নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের সাতদরগাহতে অবস্থিত। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছয় শতাধিক দাবি করলেও কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩১ জন। করোনা-পরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হলে মাদ্রাসা থেকে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয় সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০৪ জন দেখানো হয়েছে।

সাতদরগাহ গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুন্নাছির পীর সাহেব কেবলাসহ স্থানীয় কয়েকজন ইসলামী শিক্ষানুরাগীকে নিয়ে ১৯৪২ সালে কয়েক একর জমির ওপর এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা মতিয়ার রহমান অধ্যক্ষ থাকাকালীন প্রতিষ্ঠানটি ভালোই চলছিল। কিন্তু তার অবসরের পর অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে নানা জটিলতা শুরু হয়। ২০১২ সালে মাওলানা আবুল কাশেম অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। এ নিয়ে শিক্ষক ও কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যা মামলা-মোকাদ্দমায় পর্যন্ত গড়ায়।

স্থানীয়রা বলছেন, উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা এই বিদ্যাপীঠটি অতীত ঐতিহ্য হারিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের এমন দুরবস্থার জন্য অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করছেন অভিভাবকরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে মাদ্রাসায় মোট ৫৮ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে চারজন, পঞ্চম শ্রেণিতে তিনজন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১৩ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ২৩ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ১১ জন, নবম শ্রেণিতে ১০ জন, দশম শ্রেণিতে চারজন এবং আলিমের একজন শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। আর ইবতেদায়ি, ফাজিল, কামিল শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা শূন্য। যদিও এসব শ্রেণিসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে পাঠদানের জন্য মোট ৫৩ জন শিক্ষক রয়েছেন এই মাদ্রাসায়। প্রতি মাসে শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনবাবদ ব্যয় হয় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।

আলিম শাখায় উপস্থিত একমাত্র শিক্ষার্থী নাজমুল হুদা জানান, তার আরও পাঁচজন সহপাঠী ছিলেন। কিন্তু তারা কেউ মাদ্রাসায় আসেন না। কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী জানান, মাদ্রাসায় শিক্ষক সংকট নেই, আছে শিক্ষার্থী সংকট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, আলিম থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে যত শিক্ষার্থী ভর্তি দেখানো হয়েছে তার অধিকাংশই ভুয়া। অধ্যক্ষের পকেট কমিটি, নিয়োগবাণিজ্য, মাদ্রাসার জমি-পুকুর লিজের টাকা আত্মসাৎ এবং শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কয়েকজন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন।

মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতার ছেলে মুহেব্বলুল হাসান করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘অধ্যক্ষ নিজের স্বার্থের জন্য শিক্ষক শফিকুর রহমানকে সভাপতি এবং ছোট ভাই আব্দুস সালামকে বিধিবহির্ভূতভাবে সহসভাপতি করে একটি পকেট কমিটি করেছেন। দাতা সদস্য জীবিত থাকার পরেও শূন্য দেখানো হয়েছে। অথচ ২০১২ সালের ১২ নভেম্বর সংশোধিত ও প্রতিস্থাপিত গেজেট অনুযায়ী কোনো শিক্ষক কিংবা শিক্ষক শ্রেণির সদস্য গভর্নিং বডির সভাপতি পদে মনোনীত হবেন না।’

মুহেব্বলুল হাসান করিম আরও বলেন, ‘আমরা অধ্যক্ষের দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতাসহ অনিয়ম বন্ধ চাই। কর্তৃপক্ষ ঐতিহ্যবাহী এই মাদ্রাসার সুনাম ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, সেই প্রত্যাশা করি।’

মাদ্রাসার সভাপতি এবং উলিপুর আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী, আমি সভাপতি হয়েছি। আমি অসুস্থতার জন্য ঢাকায় আছি। পরে সরাসরি কথা হবে।’

নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাশেম শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, ‘পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী আছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত না আসার কারণে অনুপস্থিতির হার বেশি।’ গভর্নিং বডি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী গভর্নিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ্ মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘কর্মরত অবস্থায় গভর্নিং বডিতে শিক্ষক থাকতে পারবেন কি না, বিধিতে বিষয়টি অস্পষ্ট। নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক পদে থাকতে পারবেন কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা বোর্ডের গভর্নিং বডি গঠন নিয়েও কনট্রাডিকশন (অসংগতি) আছে।’



তালগাছের পর ‘দণ্ড’ প্রকল্প

তালগাছের পর ‘দণ্ড’ প্রকল্প
তথ্য উপাত্তে বজ্রপাত।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো

আহমেদ দীপ্ত

বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সরকারের ১৩ লাখ তালগাছ লাগানোর প্রকল্পটি ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে আরও দুটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে বজ্রনিরোধক দণ্ড (লাইটনিং অ্যারেস্টার) বসানো হবে। প্রাথমিক ও পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি জেলায় এই  দণ্ড বসানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে বজ্রপাতে মারা গেছেন অন্তত ১৯ জন।

গত ১২ বছরে দেশে বজ্রপাতে মারা গেছেন ২ হাজার ৮৫৪ জন। আর চলতি বছরের সাড়ে ৯ মাসে মারা গেছেন ২৬৪ জন। এই প্রেক্ষাপটে বজ্রপাত ঠেকাতে সরকারের করণীয় কী, তা আবারও আলোচনায় এসেছে।

বজ্রপাতের ক্ষেত্রে একটি অস্বাভাবিক বছর ছিল ২০১৬ সাল। ওই বছর প্রায় ৪৩ লাখ বজ্রপাতে মারা যান প্রায় ২৬৩ জন মানুষ। সে বছর বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।

বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এর এক বছর পর সারাদেশে প্রথমে ১৩ লাখ তালগাছ রোপণের উদ্যোগ নেয় সরকার। তখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তালগাছ ও নারকেল গাছ রোপণ করা হলে সেগুলো বজ্রনিরোধক দণ্ড হিসেবে কাজ করবে। অবশ্য এই প্রকল্প নিয়ে সরকারকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় ।

চলতি বছরের ১১ মে সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে তালগাছ লাগিয়ে বজ্রপাত মোকাবিলার কৌশলে ইতি টানার কথা সাংবাদিকদের জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। এনামুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, তখন তালগাছ লাগানোর পরে দেখা গেল, যত্নের অভাবে সেগুলো মারা যাচ্ছে। তাই শেষ পর্যন্ত এটি বাতিল করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের কোন কোন অঞ্চলে বজ্রপাত বেশি হয় (হটস্পট), তা বের করতে অধিদপ্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনটির আলোকে বজ্রপাতের হটস্পটগুলোতে বজ্র নিরোধক দণ্ড বসানোর প্রকল্প নেয়া হবে। ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে (পাইলট প্রকল্প) ১৫টি জেলায় ৩২০টি বজ্রনিরোধক দণ্ড বসানো হয়েছে। এ ছাড়া আবহাওয়ার পরিস্থিতি বুঝে সতর্ক সংকেত (আর্লি ওয়ার্নিং) দেয়ার কথাও ভাবছে অধিদপ্তর।

রোপণ করা তালগাছগুলো কী ভূমিকা রেখেছে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আতিকুল হক বলেন, ২০১৭ সালে রাস্তার দুই পাশে তালগাছ রোপণ করা হয়েছিল। তালগাছ বড় হতে অনেক সময় নেয়, ৩০ থেকে ৪০ বছর লাগে। তাই, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব ছিল না। তাঁর মতে, বজ্রনিরোধক দণ্ড বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত।

দুই মন্ত্রণালয়ের দুই প্রকল্প

বজ্রপাতের কারণে হতাহতের সংখ্যা কমাতে সরকারের দুই মন্ত্রণালয় দুটি আলাদা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের হাওরাঞ্চলের বজ্রপাতপ্রবণ ২৩ জেলায় বজ্রপাত-নিরোধক কংক্রিটের ছাউনি (শেল্টার) নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের খরচ ৩০০ কোটি টাকা। একেকটি ছাউনি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এসব ছাউনিতেও বজ্র নিরোধক দণ্ড বসানো হচ্ছে।

অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘হাওরাঞ্চলে কৃষকদের জীবনের সুরক্ষায় বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় ২৩১ কোটি টাকা। এর আওতায় হাওরাঞ্চলের সাতটি জেলার ৫৮টি উপজেলায় ১০০ থেকে ১২০ বর্গমিটার ব্যাসার্ধের ১৬টি আর্লি স্টিমার ইমিটার (ইএসই) নামে বজ্রনিরোধক যন্ত্র বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি ‘আর্থ নেটওয়ার্কস লাইটিং অ্যান্ড সিভিয়ার ওয়েদার আর্লি ওয়ার্নিং সল্যুশন’-এর মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপ, ভয়েস ও খুদেবার্তার আকারে স্থানীয়দের সতর্কবার্তা দেয়া হবে।

বাংলাদেশের বজ্রপাত নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্লানেটারি সায়েন্সেসের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আশরাফ দেওয়ান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখন অ্যারেস্টার, ছাউনি এবং আর্লি ওয়ার্নিং পদ্ধতির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। অ্যারেস্টারের গুণগত মান ও ব্যবহারের আগে কার্যকারিতার সম্ভাব্যতা যাচাই অপরিহার্য। সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে এগুলো মৃত্যু কমানোর বিপরীতে বাড়াতে পারে।

বজ্রপাত কমলেও তা শক্তিশালী

দেশে বজ্রপাতের সংখ্যা অবশ্য কমলেও সেটা উদ্বেগ কমানোর মতো নয়। কারণ, এখনও বছরে প্রায় ২৩৮ জন মানুষের মৃত্যু হয় ভূমিতে নেমে আসা বজ্রপাতে। আর মারা যাওয়াদের প্রায় অধিকাংশই কৃষক বা মাঠে কাজ করার সময়।

ফিনল্যান্ডের বজ্রপাতবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ভাইসালারের হিসাবে বাংলাদেশে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৪০ লাখ বা তার বেশি বজ্রপাত হয়। ২০১৯ সালে তা প্রায় ১০ লাখ কমে যায়। ২০২০ সালে বজ্রপাতের সংখ্যাটি দাঁড়ায় ২৫ লাখের কিছু কম।

ভাইসালারের সাত বছরের তথ্য বলছে, দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর ৭০ শতাংশ ঘটনা ঘটে কৃষিকাজ করার সময়। এ ছাড়া বাড়ি ফেরার পথে সাড়ে ১৪ শতাংশ এবং গোসল করা ও মাছ ধরার সময় ১৩ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এই তথ্যের মিল পাওয়া গেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এক হিসাবে। অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রপাতে মারা যাওয়া ২৬৪ জনের মধ্যে ২৬০ জনই পেশায় কৃষক বা মাঠে কাজ করার সময় মারা গেছেন।

২০২১ বজ্রপাতে মৃত্যুর জেলাওয়ারী হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৬ জন। ১৬ থেকে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, দিনাজপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলায়। ১২ থেকে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, রাজশাহী ও বগুড়ায়।

গবেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে সংখ্যাটা কমলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে হতাহতের সংখ্যা বেশি হতে দেখা যাচ্ছে। গাছপালা কমে যাওয়া, মাঠে উঁচু গাছ না থাকা এবং পানির কাছাকাছি থাকার কারণে বাহক হিসেবে মানুষ বজ্রপাতের শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া মৌসুমী বজ্রপাতের কারণ মূলত মৌসুমী বায়ুর প্রভাব।

গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের ভূমিরূপের কারণেও বজ্রঝড় বেশি হয়। প্রাক-মৌসুমে দেশে অন্য মৌসুমের তুলনায় বজ্রপাত বেশি হয়। যার মূল কারণ কৃষিতে সেচকাজ- যা ভূমি ও বায়ুমণ্ডলের এনার্জি এক্সচেঞ্জকে প্রভাবিত করে। গাণিতিক ও আবহাওয়ার মডেল অনুযায়ী, প্রাক-মৌসুমে বজ্রপাত ও ঝড়ের তীব্রতা বাড়ে, অন্য সময়ে কমে। আর প্রাক-মৌসুমে যে বজ্রপাত হয়, তার তীব্রতা অনেক বেশি থাকে। ফলে প্রাণহানির আশঙ্কাও বেশি।

আশরাফ দেওয়ান দৈনিক বাংলাকে বলেন, মূলত বজ্রপাতগুলো বৃহৎ শক্তি (ভোল্টেজ) নিয়ে ভূমিতে আছড়ে পড়ছে। ভূমিতে নামার সময় বজ্রপাত উঁচু বাহক খোঁজে। মাঠে উঁচু গাছ কম এবং ওই পরিবেশে গাছপালাও কমে যাচ্ছে। ফলে বজ্রপাত বাহক হিসেবে বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, হতাহতও বাড়ছে।

উদাহরণ দিতে গিয়ে এই গবেষক বলেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মা নদীর তেলিখাড়ি ঘাটে বজ্রপাতে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৬ জন। তাঁরা সবাই ঘাটে পানির কাছাকাছি ছিলেন। আবার এ বছর ৮ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বজ্রপাতে একই পরিবারের ৫ জনসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। তারা সবাই মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। ফলে একসঙ্গে এতগুলো বাহক পেয়ে বজ্রপাত তার পূর্ণ শক্তি নিয়ে আঘাত হানে।