রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

ইলিশবঞ্চনার ইতিকথা

ইলিশবঞ্চনার ইতিকথা
বালেশ্বর-বিষখালী-পায়রা এই তিন নদ-নদী থেকে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। ছবি: দৈনিক বাংলা
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

রুদ্র রুহান, বরগুনা

বরিশাল অঞ্চলের প্রধান তিনটি নদ-নদী বলেশ্বর-বিষখালী-পায়রা। উপকূলীয় বরগুনা জেলা তথা বাংলাদেশের ইলিশের অন্যতম ইলিশের ভাণ্ডার। মৌসুমে এই তিন নদী ও মোহনায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতাদের কাছে নদীর ইলিশের চাহিদা বেশি। দাম বেশির কারণে বরগুনার বাসিন্দাদের কাছে এলাকার ইলিশই কিনে খাওয়া দুষ্কর। ক্রেতাদের অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণেই ইলিশের এত দাম।

দেশের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটার বিক্রয় ও বিপণ কেন্দ্র পাথরঘাটার বিক্রয় ও বিপনন কর্মকর্তা রিপন মিয়া জানান, ১ কেজি ২০০ থেকে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের প্রতিকেজি ইলিশ সর্বনিম্ন ১ হাজার ৩৭৫ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, ১ কেজি আকারের ইলিশ প্রতিকেজি সর্বনিম্ন ১ হাজার ১২৫ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম থেকে ৯০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের ইলিশ সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম সাইজের ইলিশের কেজি সর্বনিম্ন ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ৮৭৫ টাকা কেজি পাইকারি বিক্রি করা হয়।

এই দামে ইলিশ আড়তদার ও পাইকাররা কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চালান করে দেন। মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) পাইকার সমিতির সভাপতি সাফায়েত হোসেন মুন্সী বলেন, ‘বিএফডিসি অকশন শেড থেকে ইলিশ কেনার পর আমরা প্রতি দেড় মণ (৬০ কেজি) ইলিশের আড়তদারি বাবদ ৪০০ টাকা নেন। এরপর চালানের জন্য ককশিড প্রস্তুত করতে বরফ, বস্তা ও লেবার খরচ বাবদ পাইকার ৩০০ টাকার বরফ, লেবার বাবদ ৩৪০ টাকা মোট ৭০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এরপর পরিবহনে প্রতিটি ককশিডের জন্য খুলনা পাঠাতে ৩০০ ও ঢাকার জন্য ৪০০ টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ বিএফডিসি থেকে কেনার পর প্রতি দেড় মণ ইলিশ চালান করতে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়। এরপর খুলনা বা ঢাকার আড়তে পৌঁছার পর সেখানের আড়তদাররা শতকরা তিন টাকা কমিশন নিয়ে বাজারে ইলিশ ছাড়েন।’

সাফায়েত মুন্সী আরও জানান, কোনো ক্রেতা চাইলেই বিএফডিসি থেকে সরাসরি মাছ কিনতে পারবেন না। কারণ, এখানে ইলিশ আসার পরই চালানের জন্য ইলিশ কিনে নেন পাইকার আড়তদাররা। কেউ ইলিশ নিতে চাইলে পাইকার ও আড়তদারদের কাছ থেকে কিনতে হবে।

জাহাঙ্গীর জমাদ্দার পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার সমিতির সভাপতি। মণপ্রতি ৪০০ টাকা কমিশন নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার না করে তিনি এর পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর লাখ লাখ টাকা ট্রলারে দাদন দিয়ে রাখি। ওই টাকার বিপরীতে আমরা মণপ্রতি ৪০০ টাকা করে আড়তদারি রাখি।’

জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল খালেক জানান, পাইকার আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারণে ইলিশ ন্যায্যমূল্যে স্থানীয়রা কিনে খেতে পারেন না। তিনটি নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনাসহ এলাকার সব মাছ বিএফডিসি পাথরঘাটায় অবতরণ হয়। বিএফডিসিতে অবতরণ হওয়া ইলিশের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে ইলিশ সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রির নিয়ম করা হলে এই সমস্যা আর থাকবে না।

দেশের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসি পাথরঘাটার ব্যবস্থাপক লে. এম লুৎফর রহমান (বিএন) বলেন, ‘মাছ অবতরণের পর অকশন শেডে নিলাম হয়। পাইকাররা নিলামে ইলিশ কিনে নেন। আমরা শুধু হিসাব রাখি কত টন ইলিশ অবতরণ হয় ও কত টাকার ইলিশ বিক্রি হলো। সেই হিসাবে আমরা সরকারের পক্ষে রাজস্ব আদায় করে থাকি। আমরা শুধু এখানে অবতরণ ও বিপণনের কাজ করি, বাজার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়।’ তবে বিএফডিসিতে অবতরণ হওয়া ইলিশের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে ইলিশ সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রির যদি বিধান করা হয় তবে স্থানীয় ক্রেতারা ইলিশ ন্যায্যমূল্যে কিনে খেতে পারবেন বলে তিনি জানান।


পার্বত্য অঞ্চলে হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প: আইজিপি

পার্বত্য অঞ্চলে হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প: আইজিপি
রিসোর্ট উদ্বোধন করছেন আইজিপি। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বান্দরবান প্রতিনিধি

পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শিগগিরই প্রস্তাবিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্প স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদ। পাশাপাশি পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) থান‌চি থানা ভবন সংলগ্ন এলাকায়‌ পুলিশের একটি রিসোর্ট উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় বেনজির আহমেদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় দুর্গম থানচিতে আজ রাস্তা ঘাটের  অনেক উন্নয়ন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকেরা থানচির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে একটি মনোরম পরিবেশে হাইল্যান্ডার্স পা‌র্ক অ্যান্ড রি‌সোর্ট গড়ে তুলতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, থানচি থানার কাছেই বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাষ্টি বোর্ডের অর্থায়নে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি কটেজ সম্বলিত হাইল্যান্ডার্স পা‌র্ক অ্যান্ড রি‌সোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এই রিসোর্টের মধ্যে সুইমিং পুল, পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, পাহাড়িদের আদলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মাচাংঘর, কটেজ, ক্যাফে হাউস, রেস্টুরেন্ট, পিকনিক স্পট, ঝরনা গড়ে তোলা হবে হবে।

রিসোর্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি কবির আহমেদ, বান্দরবানের পুলিশ সুপার ‌মো. তারিকুল ইসলাম ও থানচি থানার ওসি সুদীপ রায়।


মসজিদে জমি দান করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা

মসজিদে জমি দান করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা
নিহত আরশেদ আলী। ছবি: দৈনিক বাংলা
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

মানিকগঞ্জ সদরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আরশেদ আলীকে (৬৫) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে খবির হোসেনের (৪০) বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আরশেদ আলী মসজিদে জমি দান করলে তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন খবির।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের চর-উকিয়ারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরশেদ আলী সদরের জাগীর ইউনিয়নের চর-উকিয়ারা এলাকার মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন।

পুলিশ বলছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত খবির হোসেন পলাতক রয়েছেন। তবে নিহত আরশেদ আলীর বড় ছেলের স্ত্রী সাহেরা বেগম (৩০), ছোট ছেলে খোরশেদ আলী (৩৫), ছোট ছেলের বউ রুমা আক্তার (২৫) ও নাতি আহাদ মিয়াকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে জমিসংক্রান্ত বিষয়ে ছেলেদের সঙ্গে আরশেদের বিরোধ চলছিল। ১৫-২০ দিন আগে তিনি বাড়ির পাশের চর-উকিয়ারা জামে মসজিদের নামে মৌখিকভাবে ১০ শতাংশ জমি দান করেন। এ খবরে ছেলে ও পুত্রবধূরা ক্ষুব্ধ হন। ওই ঘটনার জের ধরেই খবির হোসেন তার বাবাকে বাড়ির পাশের মেহগনি গাছের বাগানে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।

ওসি বলেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলে ও ছেলের বউ এবং নাতিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক বড় ছেলে খবির হোসেনকে ধরতে অভিযান চলছে।


নীলফামারীতে স্কুল দাবায় সেরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

নীলফামারীতে স্কুল দাবায় সেরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
বিজয়ী দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দিচ্ছেন অতিথিরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নীলফামারীতে স্কুলভিত্তিক দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছে সৈয়দপুরের লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে জেলা শহরের কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) চূড়ান্ত খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি খন্দকার ইয়াসির আরেফীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার ও জেলা দাবা ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

আবুল খায়ের গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতা ও জেলা পুলিশের সহযোগিতায় জেলা দাবা ফেডারেশনের আয়োজনে গত শনিবার সকালে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। জেলা ক্রীড়া সংস্থা এই প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন করে।

জেলা দাবা ফেডারেশনের সভাপতি ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগামীর গ্র্যান্ডমাস্টার গড়ে তোলার অনুপ্রেরণায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় জেলার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২টি দল অংশ নেয়। প্রতিটি দলে ছিল ছয়জন করে প্রতিযোগী। সবার আগ্রহ-উদ্দীপনায় চমৎকার একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি প্রকৌশলী সফিকুল আলম ডাবলু ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ বক্তব্য দেন।


বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে নিখোঁজ, যশোর থেকে উদ্ধার

বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে নিখোঁজ, যশোর থেকে উদ্ধার
নিখোঁজের পর উদ্ধার শিক্ষক বিভূতি মোহন সরকার। ছবি: দৈনিক বাংলা
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত শুক্রবার ভারতে প্রবেশের পরপরই নিখোঁজ হয়েছিলেন মাগুরার স্কুলশিক্ষক বিভূতি মোহন সরকার (৫৩)। এক দিন পর গত শনিবার রাত ১টার দিকে তার সন্ধান মিলেছে যশোরের চাচড়া মোড় এলাকায়। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ‍দুপুরে ফের তাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে গেছেন স্ত্রী ববিতা রানী।

বিভূতি মোহন সরকার মাগুরা সদর থানার নান্দুয়ালী পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত নবকুমার সরকারের ছেলে। তিনি মাগুরা শ্রীপুর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। গত শুক্রবার বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকা থেকে তিনি ‘নিখোঁজ’ হন।

বিভূতি মোহনের স্ত্রী ববিতা রানী জানান, শুক্রবার বিকেলে স্বামীকে নিয়ে তিনি ভারতে যাচ্ছিলেন। বাংলাদেশ অংশে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে তারা ভারতে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে অসুস্থ স্বামীকে এক জায়গায় বসিয়ে রেখে করোনা পরীক্ষার ভ্যাকসিনের কাগজ ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে জমা দিতে যান। ফিরে এসে দেখেন তার স্বামী নেই।

ববিতা রানী বলেন, পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের সিসি ক্যামেরায় (ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা) দেখতে পাই, তিনি (বিভূতি মোহন সরকার) আবার বাংলাদেশে ফিরে গেছেন। পরে পেট্রাপোল থেকে ভারতে ইমিগ্রেশনের সিল বাতিল করে দেশে ফিরে আসি। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ চেক করে দেখতে পাই, তিনি (বিভূতি মোহন সরকার) দেশে ফিরে এসেছেন। পরে বেনাপোলের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আত্মীয়-স্বজনদের খবর দিই।

বিভূতি মোহন সরকারের স্ত্রী আরও বলেন, আত্মীয়দের সহযোগিতায় ওই দিনই বেনাপোল বন্দর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত যশোর চাচড়া ফাঁড়ি পুলিশ তাকে যশোরের চাচড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করে সকালে (রোববার) আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। উনাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আবার ভারতে যাচ্ছি।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়া শিক্ষককে যশোরের চাচড়া ফাঁড়ি পুলিশ চাচড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আজ (রোববার) দুপুর ১২টার দিকে ওই শিক্ষককে চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে গেছেন তার স্ত্রী।’ তবে ওই শিক্ষক কীভাবে নিখোঁজ হলেন, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি ওসি।


মরিয়মের সাথে দেখা করার পর মুখ খুললেন রহিমা

মরিয়মের সাথে দেখা করার পর মুখ খুললেন রহিমা
মা রহিমা বেগম (বাঁয়ে), মায়ের সন্ধান চেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্নার ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
  • একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সাথে ওষুধ, পোষাক থাকতে পারে না : পিবিআই

  • প্রতিবেশিরা আমাকে অপহরণ করে ব্লাংক স্ট্যাম্পে সাক্ষর নিয়েছে : রহিমা বেগম

খুলনা মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগম উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই অনেকটা নিশ্চুপ ছিলেন। প্রথমবার মরিয়মের সাথে দেখা করতে না চাইলেও পবর্তীতে মরিয়ম তাকে জড়িয়ে ধরলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে পুলিশের কাছে তুলেন অপহরণের অভিযোগ।

শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে পৌনে ১১ টায় খুলনার উদ্দেশ্য রওনা হয় পুলিশ। রাত ২ টা ১০ মিনিটে তাকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে রাখা হয় সোনাডাঙায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে।

দৌলতপুর থানার উপ পরিদর্শক দোলা দে বলেন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকা অবস্থায় তার মেয়েরা দেখা করতে এসেছিল। তবে তিনি কোন ভাবেই রাজি হচ্ছিলেন না। পরে আমার অনুরোধে জানালার কাছে এসেছিলেন। মরিয়ম মা বলে ডাক দিলে তিনি ভেতরে চলে যান। পরে তাকে আমরা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) খুলনা জেলা কার্যালয়ে হস্তান্তর করি।

পিবিআই কার্যালয়েও তাকে নানা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রথমদিকে তিনি একেবারে নিশ্চুপ ছিলেন।

খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, আমরা নানাভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম। তবে কোন ভাবেই তিনি মুখ খুলতে চাননি।

তবে দুপুরের পরে তার মেয়ে মরিয়মসহ অন্যরা পিবিআই কার্যালয়ে এসে মা রহিমা বেগমকে জড়িয়ে ধরেন। তখন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রহিমা বেগম।

সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, মেয়েদের সাথে দেখা হওয়ার পরে রহিমা বেগম মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন প্রতিবেশি কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনসহ তিন জন তাকে অপহরণ করেছিল। তাকে কোথাও আটকে রেখে ব্লাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন তারা। পরে তারা এক হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘রহিমা বেগমের দাবি, তিনি কিছুই চিনতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে গোপালগঞ্জের মুকছেদপুর হয়ে পূর্ব পরিচিত ভাড়াটিয়ার ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে যান। কিন্তু তার কাছে কোনো মোবাইল নম্বর না থাকায় কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রহিমা বেগমের বক্তব্য খতিয়ে দেখছি। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী সবকিছু করা হবে।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, রহিমা বেগমকে উদ্ধারের সময়ে তার কাছ থেকে একটি সাদা ব্যাগ পাওয়া গেছে। তাতে ওষুধ ছিল, পোষাকসহ অন্যান্যা মালামাল ছিল। একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সাথে এগুলি থাকতে পারে না। তাই এটা অপহরণ নাও হতে পারে।