রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

৩৩ বছরেও হয়নি তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন

৩৩ বছরেও হয়নি তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন
জেলা পরিষদ নির্বাচন। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙামাটি

দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে আগামী ১৭ অক্টোবর। তফসিল অনুযায়ী এবারও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে জেলা পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে না। পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দাদের জোর দাবি- জেলা পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমেই এখানকার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে।

পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন প্রথম ও শেষবার অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালের ২৫ জুন। এতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদের (বর্তমান পার্বত্য জেলা পরিষদ) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন গৌতম দেওয়ান। এর পর থেকে গত ৩৩ বছরেও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে কোনো নির্বাচন হয়নি। নির্বাচন না হওয়ায় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সই হওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সেই সঙ্গে ভূমি কমিশন আইনের প্রয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

১৯৯৬ সালের ৫ আগস্ট নির্বাচিত তিনটি পরিষদ ভেঙে দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এর পর প্রত্যেক পরিষদে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য মনোনয়ন দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন ‘পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ’ গঠন করে সরকার। পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে ১৯৯৮ সালে আইন সংশোধন করে ‘পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ’ থেকে ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ’ নামকরণ হয়। সেই সঙ্গে এই তিন জেলা পরিষদে নিজ দলীয় লোক মনোনয়ন দিয়ে আসছে সরকার।

জেলা পরিষদ আইনে বলা আছে, জেলা পরিষদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। পর্ষদে জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের প্রত্যক্ষ ভোটে একজন চেয়ারম্যান ও ৩৩ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন। এতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একজন চেয়ারম্যান ও ২০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন। বাকি ১০ জন বাঙালি। সংরক্ষিত তিনটি মহিলা আসনে দুজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ও একজন বাঙালি সদস্য নির্বাচিত হবেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন না হওয়ার অর্থ ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বরের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির আলোকে গঠিত জেলা পরিষদ আইনকে অমান্য করা। আর এই আইন অমান্য করায় সরকারদলীয় কর্মীরা লাভবান হচ্ছেন। অন্যদিকে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জেলা পরিষদের কাছ থেকে যে ধরনের সেবা তাদের পাওয়ার কথা, তা তারা পাচ্ছে না। জেলা পরিষদ নির্বাচন না হওয়ায় কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি হলেও জবাবদিহি নিশ্চিতে কাজ করতে পারছে না দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা পরিষদের পর্ষদেরা।

রাঙামাটির সচেতন নাগরিক যুব সমাজের রিন্টু চাকমা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি অনুযায়ী, জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের ভূমি সমস্যা নিষ্পত্তি করার মধ্য দিয়ে। এক কথায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলা পরিষদের নির্বাচন হতে হবে। জেলা পরিষদ নির্বাচন না করা সরকারের একটি ষড়যন্ত্র।’

জেলা পরিষদ নির্বাচন না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা জানান বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি তালুকদার। তিনি বলেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচন না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কেননা, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে জেলা পরিষদের আইন প্রণীত হয়েছে। এখন চুক্তি অনুযায়ী যদি জেলা পরিষদ নির্বাচন না হয়, তার মানে হলো এই চুক্তিকে মানছে না সরকার।’

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হাজী মো. মুসা মাতব্বর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এগুলো সরকারের বিষয়, আমাদের কোনো বিষয় না। সরকারের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ নির্বাচনের কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি। তবে নির্বাচন হওয়ার দরকার।’

হাইলাইটস (কমেন্ট)

# পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে জেলা পরিষদের আইন প্রণীত হয়েছে। এখন চুক্তি অনুযায়ী যদি জেলা পরিষদ নির্বাচন না হয়, তার মানে হলো এই চুক্তিকে মানছে না সরকার।

-     ইন্টুমনি তালুকদার

সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য অঞ্চল)


জি কে শামীমের যাবজ্জীবন

জি কে শামীমের যাবজ্জীবন
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমসহ আটজনকে অস্ত্র আইনের এক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রাজধানীর গুলশান থানায় করা মামলাটিতে একই সঙ্গে সব আসামির লাইসেন্স করা অস্ত্র রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় জি কে শামীমকে। দণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. মুরাদ হোসেন। এরা জি কে শামীমের দেহরক্ষী।

২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেখান থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৯ হাজার আমেরিকান ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

এরপর জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে, মানি লন্ডারিং এবং মাদক মোট তিনটি মামলা করে।

অস্ত্র মামলায় র‌্যাব ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি একই আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে বিচার শুরু করে।


‘চাহিদার অনুপাতে চালের উৎপাদন গতি কিছুটা পিছিয়ে’: কৃষিমন্ত্রী

‘চাহিদার অনুপাতে  চালের উৎপাদন গতি  কিছুটা পিছিয়ে’: কৃষিমন্ত্রী
রাজধানীর সচিবালয়ে আজ রোববার সকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

চালের চাহিদা যে গতিতে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল রেখে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণকর্মী ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, প্রতিবছর জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চালের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু চাহিদা বৃদ্ধির অনুপাতে চালের উৎপাদন বৃদ্ধির গতি কিছুটা পিছিয়ে আছে।

আজ রোববার রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষিসচিব মো. সায়েদুল ইসলাম। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংস্থাপ্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ সেটাকে ধরে রাখতে হবে। প্রতিবছর যাতে চাল আমদানি করতে না হয়। সে জন্য চালের চাহিদার গতির সঙ্গে তাল রেখে উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে চালসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বৃহৎ ও নির্দিষ্ট কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জায়গা হলো দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকা। লবণাক্তসহিষ্ণু ফসলের জাত ও প্রযুক্তি আমাদের রয়েছে, সেখানে এসব জাত ও প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে।’

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসঙ্গে প্রকল্প এলাকার মানুষের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে কী প্রভাব পড়েছে ও সার্বিক উৎপাদন কতটা বেড়েছে- এসবও খতিয়ে দেখতে হবে। জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে বসে থাকলে হবে না। জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের অনুপাতে মাঠে কৃষকের কাছে কতগুলো পৌঁছেছে-তাও বিবেচনায় নিতে হবে।

পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২২-২৩ অর্থবছরের এডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৭২টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ৪ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। এ বছর সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ আছে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে, যার পরিমাণ ৬৬০ কোটি টাকা।


এবার মোংলায় মিলল পাতিহাঁসের কালো ডিম

এবার মোংলায় মিলল পাতিহাঁসের কালো ডিম
মোংলার ঠোটেরডাঙ্গা গ্রামের নাজমা বেগমের একটি হাঁস কালো ডিম পেড়েছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ভোলার পর এবার বাগেরহাটের মোংলায় মিলল পাতিহাঁসের কালো ডিম। উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের ঠোটেরডাঙ্গা গ্রামের নাজমা বেগমের দাবি, তার একটি পাতিহাঁস প্রায় ১৭ দিন ধরে কালো ডিম পেড়ে যাচ্ছে। ডিমটি দেখতে স্থানীয়রা তার বাড়িতে ভিড় করেছেন।

নাজমা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাড়িতে হাঁস পালন করলেও কখনও এমন দেখেননি। ১৭ দিন আগে হাঁসের খোপে অন্যান্য ডিমের সঙ্গে একটি কালো ডিম দেখতে পান। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তিনি কালো ডিম পাচ্ছেন। সর্বশেষ গতকাল শনিবার সকালেও একটি কালো ডিম পান তিনি। যদিও আজ রোববার এমন কোনো ডিম পাননি। ডিমটি কালো হলেও এর ভেতরের সাদা অংশ ও কুসুম অন্যান্য ডিমের মতোই।

নবিরুল আলম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, মানুষের কাছে কালো ডিমের গল্প শুনে আমিও দেখতে গেছিলাম, ঘটনা সত্যি। কয়েকটি ডিমের সঙ্গে একটি কালো ডিমও রয়েছে।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান বলেন, মোংলায় একটি হাঁস কালো ডিম পেড়েছে, এমনটি আমরা জেনেছি। হাঁস বা মুরগির কালো ডিম পাড়া অসম্ভব কোনো বিষয় না। ডিমের খোসায় ক্যালসিয়াম ও এক ধরনের পিগমেন্ট যুক্ত আবরণ থাকে। খাবার এবং পরিবেশের কারণে কিছু হাঁস বা মুরগির পিগমেন্ট কালো হয়ে যায়। ফলে কালো হওয়া পিগমেন্টধারী হাঁস বা মুরগির ডিম কালো হতে পারে।


মসজিদে জমি দান করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা

মসজিদে জমি দান করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা
হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা। ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

মানিকগঞ্জের সদরে মসজিদে জমি দান করায় আরশেদ আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে খবির হোসেনের বিরুদ্ধে (৪০)। আজ রোববার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের চর-উকিয়ারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত খবির হোসেন পলাতক রয়েছেন।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার জানান, কয়েক বছর ধরে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ছেলেদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল আরশেদ আলীর। এর মধ্যে ১৫-২০ দিন আগে আরশেদ আলী বাড়ির পাশের চর-উকিয়ারা জামে মসজিদের নামে মৌখিকভাবে ১০ শতক জমি দান করেন। এতে ছেলে ও ছেলের বউরা ক্ষিপ্ত হয়ে যান। ওই ঘটনার জেরে খবির হোসেন আরশেদ আলীকে বাড়ির পাশের মেহগনি বাগানে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরশেদ আলীর ছেলে, ছেলের বউ ও নাতিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।


মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে দেখা করতে ‘রাজি নন’ মা রহিমা

মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে দেখা করতে ‘রাজি নন’ মা রহিমা
ছবি : দৈনিক বাংলা
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

খুলনার মহেশ্বরপাশায় নিখোঁজ রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি উদ্ধার হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কোন কথা বলেননি। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতেও রাজি হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে রাত পৌনে ১১ টায় খুলনার উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ। রাত সোয়া ২ টার দিকে তাকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। ওই রাতেই তাকে রাখা হয় সোনাডাঙায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে।

সেখানে রোববার সকালে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান মরিয়ম ও তার ভাই বোনরা। তবে কোনভাবেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হচ্ছিলেন না তিনি।

পরে পুলিশের অনুরোধ ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে জানালার কাছে এসে দাঁড়ান রহিমা বেগম। তখন মরিয়ম মা বলে ডাক দিলে তার দিকে কোনভাবেই তাকাইনি, বরং মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে পিছন দিকে হেঁটে চলে যান।

ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রহিমা বেগমকে বুঝে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তাকে জিজ্ঞেসাবাদ শেষে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে একটি ব্রিফ করেন পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা রহিমাকে আনার পর তেমন কোন কথা তিনি বলেননি। সকালে তিনি তার পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে চান নি। কী কারণে তিনি এমন করছেন কিছু বুঝতে পারছি না।’

মরিয়মের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, ‘মরিয়ম বারবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। ময়মনসিংহের একটি লাশ নিজের মায়ের বলে দাবি করেছেন। এসব করে আমাদের বিভ্রান্ত করেছেন। এটা তার ঠিক হয়নি।’

রহিমা বেগম আত্মগোপন ছিলেন নাকি তাকে অপহরণ করা হয়েছিল­­­– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘রহিমা বেগমের কাছে জামাকাপড় ছিল। ওষুধ ছিল। এটাকে অপহরণ বলা যায় না।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘আমরা এখন রহিমাকে আদালতে সোপর্দ করবে। আদালত যেখানে রাখার নির্দেশ দেয় রহিমাকে সেখানে রাখা হবে।’

খুলনার দৌলতপুর মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়া থেকে গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিখোঁজ হন রহিমা। সে সময় রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হাওলাদার ওই বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন রহিমা।

এ ঘটনায় পরেরদিন অপহরণ মামলা করেন রহিমা বেগমের মেয়ে আদুরী।

রহিমা অপহৃত হয়েছেন দাবি করে ১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারের সদস্যরা।

রহিমার সঙ্গে জমি নিয়ে স্থানীয়দের মামলা চলছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল। রহিমার করা সেই মামলায় আসামিরা হলেন প্রতিবেশী মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিুকল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল ও হেলাল শরীফ। বর্তমানে তারাসহ স্বামী বিল্লাল হাওলাদার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

আদালত ১৪ সেপ্টেম্বর অপহরণ মামলাটি পিবিআইতে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই।