বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২

বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদ, মিয়ানমারের উল্টো সুর

বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদ, মিয়ানমারের উল্টো সুর
সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছোড়া মর্টারের গোলা। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
  • সীমান্ত থেকে সরিয়ে নেয়া হবে ৩০০ পরিবার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সীমান্তে মিয়ামারের দফায় দফায় উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের পরও পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে বাংলাদেশ সীমায় একজন রোহিঙ্গা নাগরিকের মৃত্যুর পর রোববার দেশটির রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে ফের তলব করে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে যাওয়ার চিন্তার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে ঢাকা।

তবে বাংলাদেশের প্রতিবাদের মুখে ভিন্ন কৌশল নিয়েছে নেপিডো। তারা বান্দরবান সীমান্তে গোলাবর্ষণের দায় ঠেলে দিয়েছে রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দিকে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের দাবি, আরাকান আর্মি সে দেশের সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ চুরি করে বাংলাদেশে গুলি করছে, যাতে করে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। আর এই সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যরা বাংলাদেশ থেকেই মিয়ানমার সীমান্তে প্রবেশ করছেন বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রদূত।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার ওপারে বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াই চলছে মিয়ানমার সেনাদের। এরই মধ্যে বেশ কিছু মর্টার শেল বাংলাদেশের ভেতরে এসে পড়ে। সবশেষ শুক্রবার রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু কোনারপাড়া সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছোড়া চারটি মর্টার শেল এসে পড়ে। এতে শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক যুবক নিহত হন। আহত হন পাঁচজন। ওই দিন সকালেই ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবকের পা উড়ে যায়।

এর আগে প্রথমে ২০ আগস্ট, এরপর ২৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে মর্টারের গোলা এসে পড়ে বাংলাদেশের সীমানায়। প্রতিবারই দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। দেয়া হয় কূটনৈতিক পত্রও। গত ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি হেলিকপ্টার থেকে বান্দরবানে বাংলাদেশের সীমানায় গোলাবর্ষণ করা হয়। তারপর আবারও রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সবশেষ শুক্রবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকালে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে এক মাসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো তলব করা হয়। এ সময় তার কাছে প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করা হয়।

মিয়ানমারের রাষ্ট্ররের রাধ্যেের দুর্ শূন্যরেখারদূতকে করণীয় নির্ধারণে এদিন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ প্রায় সব বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল এবং শান্তিকামী রাষ্ট্র। আমরা ধৈর্য ধরে এটি সহ্য করে যাচ্ছি। আমরা তাদের বলেছি বিষয়টি সমাধান করুন, আমাদের এখানে যেন রক্তারক্তি না হয়, কোনো প্রাণহানি না হয়।’

বারবার প্রতিবাদলিপি দেয়ার পরও মিয়ানমার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না- এমন প্রশ্নে খুরশেদ আলম বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশীকে যতটুকু সম্মান করা সম্ভব, ততটুকু আমরা করছি। আমাদের বক্তব্যে কোনো ধরনের দুর্বলতা নেই। শক্তভাবেই প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

উল্টো বাংলাদেশকে দুষছে মিয়ানমার

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে প্রতিবাদলিপি দেয়ার পর তার কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, মিয়ানমারের কিছু গতানুগতিক বক্তব্য আছে। তারা সীমান্তে গোলাগুলির বিয়য়টি অস্বীকার করেনি। তবে দাবি করেছে, তাদের সেনারা গুলি করেনি। উনি বলেছেন, এগুলো হয়তো আরাকান আর্মির গুলি হতে পারে।

এর জবাবে বাংলাদেশের বক্তব্য ছিল, ‘মিয়ানমারের ভেতর থেকে বাংলাদেশে যা-ই আসুক না কেন, সেটা মিয়ানমারের দায়িত্ব। সেটা মিয়ানমারকেই দেখতে হবে। আমাদের এপারে যাতে কিছু না আসে, সেটা মিয়ানমারকে নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য যা যা করা দরকার মিয়ানমারকে করতে হবে।’

তাহলে বাংলাদেশে হতাহতের ঘটনায় দায় কার- এমন প্রশ্নের জবাবে খুরশেদ আলম বলেন, ‘গুলির গায়ে লেখা আছে মিয়ানমার আর্মি। কিন্তু মিয়ানমার বলছে, এগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। তারা বলছে আরাকান আর্মি গুলি করেছে, যাতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। এ রকম একটা জায়গায় অ্যাকচুয়ালি কে দায়িত্ব নেবে, সেটা নিরূপণ করা খুবই কঠিন কাজ। তবে আমরা চেষ্টা করছি।’

গোলা খারাপ উদ্দেশ্যে পাঠালেও নিশ্চিত করার উপায় নেই মন্তব্য করে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর সমাধানে সময় লাগবে। ধৈর্য ধরতে হবে। তবে আমরা যদি নিজেরা শক্ত থাকি সমাধান আসবে।’

সৌজন্যতাও দেখানো হয়নি মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তলবের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বেলা ১১টা ২০ মি‌নি‌টে পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে আসেন মিয়ানমা‌রের রাষ্ট্রদূত উ অং কিয়াউ মোয়েকেসহ দুজন। তাদের অন্তত ১৫‌ থে‌কে ১৭ মি‌নিট অপেক্ষা করতে হয় অভ্যর্থনা কেন্দ্রে। এরপর মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. নাজমুল হুদ‌ার দপ্ত‌রে ডে‌কে নেয়া হয়। তিনি তাদের সঙ্গে আধা ঘণ্টার মতো কথা বলেন।

এই পুরোটা সময়ে রাষ্ট্রদূতকে এক কাপ চাও দেয়া হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো কূটনীতিককে আপ্যায়ন করা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ একটি প্রথা বা রেওয়াজ। আপ্যায়নের মাধ্যমে কূটনৈতিক হৃদ্যতার বিষয়টিও বোঝা যায়। কিন্তু মিয়ানমার সীমান্তে চলমান ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ। তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এটা হয়েছে।

এ বিষয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, কূটনীতিককে নানাভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়। আপ্যায়ন না করার অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশ এ বিষয়ে চরম অখুশি।

এখনই সেনা মোতায়েন নয়

আরেক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব খুরশেদ আলম জানান, বাংলাদেশ এখনই সীমান্তে সেনা মোতায়েন করতে চায় না। তিনি বলেন, ‘আমরা উচ্চপর্যায়ে একটি বৈঠক করেছি বাংলাদেশের সব এজেন্সিকে নিয়ে। বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে বলেছি সীমান্তে সজাগ থাকতে। সাগর দিয়ে রোহিঙ্গারা যেন ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে জানাবে বাংলাদেশ

মিয়ানমারের এই আচরণ নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানেও যাবে বাংলাদেশ।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আসিয়ানের যে রাষ্ট্রদূতরা ঢাকায় আছেন, তাদের ডেকে এ ঘটনার ব্রিফ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বারবার প্রতিবাদে মিয়ানমার গা করছে না- এ বিষয়টি সবার কাছে তুলে ধরা হবে। মিয়ানমার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এটা প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের জন্য খুব দুঃখজনক। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতকে বিষয়টি নিয়ে অবহিত করে বাংলাদেশ।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবের পর দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, এভাবে যদি এটা চলতেই থাকে, তাহলে জাতিসংঘে গিয়ে আমাদের বিষয়টি তুলব যে আমাদের মানুষদের ওপর গোলাবারুদ পড়ছে, যেখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা আমাদের কাজ করছি। তারা যদি না মানে, তাহলে দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাব। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের কথা যদি না শোনে, তাহলে আমরা সেখানে যাব।’

জাতিসংঘকে কবে জানানো হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কবে জানানো হবে তা প্রধানমন্ত্রী জানেন।’

সীমান্ত থেকে ৩০০ পরিবারকে সরিয়ে নেবে বাংলাদেশ

এদিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি বাংলাদেশ সীমানায় পড়ে হতাহতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করায় সীমান্ত এলাকা থেকে অন্তত ৩০০ বাংলাদেশি পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চিন্তাভাবনা করছে প্রশাসন। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

গতকাল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে উপজেলা প্রশাসনের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয়দের সরিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। আমরা বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

গতকালও দিনভর মিয়ানমার থেকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়ায় যায়। তারই প্রেক্ষিতে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াসংলগ্ন ঘুমধুম, তুমব্রু, হেডম্যানপাড়া, ফাতরা ঝিরি, রেজু আমতলী এলাকায় বসবাসকারী ৩০০ পরিবারের প্রায় দেড় হাজার স্থানীয় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে ঘুমধুম ইউনিয়নে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় সীমান্তবর্তী পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি কঠিন হবে।’

সীমান্ত থেকে স্থানীয়দের সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখছি। তাদের নিরাপদ রাখতে, যা যা করণীয় সব করা হবে।’


কালীগঞ্জের উপজেলা আ.লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান, সম্পাদক মিজু

কালীগঞ্জের উপজেলা আ.লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান, সম্পাদক মিজু
সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও মিজানুর রহমান মিজু
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ সভাপতি ও মিজানুর রহমান মিজু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কালীগঞ্জ কেইউপি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে আলোচনা সভা শেষে রাত ৮টার দিকে শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। এই অধিবেশনে কাউন্সিলরদের নিয়ে ভোটগ্রহণ হয়। পরে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি পদে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু নির্বাচিত হন।

সম্মেলনে উদ্বোধক ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শফিক, দলের কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া ও অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান। সম্মেলনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নতুন আইজিপি মামুন, র‌্যাবের দায়িত্বে খুরশীদ

নতুন আইজিপি মামুন, র‌্যাবের দায়িত্বে খুরশীদ
দুই পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও এম খুরশীদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের (র‌্যাব) দায়িত্বে থাকা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি সদ্য অবসরে যাওয়া আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এদিকে, র‌্যাব মহাপরিচালক পদে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ অধিদপ্তরে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক এম খুরশীদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস প্রজ্ঞাপনে সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এর আগে, একই শাখা থেকে জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় আইজিপি বেনজীর আহমেদকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে অবসরে পাঠাচ্ছে সরকার। তাকে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ‘ল্যাম্প গ্রান্ট’সহ আগামী ১ অক্টোবরের থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরের অবসর ও অবসরোত্তর ছুটিও দেয়া হয়েছে।

নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পেতে যাওয়া অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে র‌্যাব মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। র‌্যাবের প্রধান হওয়ার আগে তিনি সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের শ্রীহেলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি ১৯৮২ সালে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৯৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট (এএসপি) হিসেবে যোগ দেন। ২০১৯ সালের মে মাসে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন।

এদিকে, র‌্যাব মহাপরিচালক পদে নতুন নিয়োগ পাওয়া এম খুরশীদ হোসেন ১২তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খুরশীদ হোসেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জন্মগ্রহণ করেন।


অবসরে যাচ্ছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর

অবসরে যাচ্ছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর
পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে অবসরে পাঠাচ্ছে সরকার। বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে এই অবসর দেওয়া হচ্ছে।

তাকে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ‘ল্যাম্প গ্রান্ট’সহ আগামী ১ অক্টোবরের থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরের অবসর ও অবসরোত্তর ছুটিও দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নং আইন) এর ধারা ৪৩(১) (ক) অনুযায়ী এই অবসর দেয়া হয়েছে।


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ

বিজয় নিশান উড়ছে ঐ
ছাদখোলা বাসে সাফজয়ী মেয়েরা। ছবি : দৈনিক বাংলা
তরিকুল ইসলাম সজল
প্রকাশিত

তরিকুল ইসলাম সজল

অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন। কবিতা লেখার অপেক্ষা নয়,  সেটা আগেই লেখা হয়ে গেছে। সবাই অপেক্ষায় কবির। একজন নয়, দুজন নয়, ২৩ জন কবির অপেক্ষায় সকাল থেকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে ভিড় করে দাঁড়িয়ে শ্রোতারা।

আগেই জানা ছিল, তাদের দেখা মিলবে বেলা দুইটার পর। কিন্তু তীব্র রোদ উপেক্ষা করে সহস্র মুখ হাজির কাল। বাংলাদেশের আনসারের বাদক দল তাল তুলল বাদ্যযন্ত্রে। ‘মাগো ভাবনা কেন?’- পাশ থেকে হর্ষধ্বনি আর উল্লাস। ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ স্লোগানে মুখরিত বিমানবন্দর এলাকা। সে আবেগের রেণু ছড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশে।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী দলকে বরণের দৃশ্যে বারবার এমন আবেগই ধরা পড়ল।

২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির পর ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। দুই বছর আগে এমনই এক বিজয় উল্লাসের দেখা মিলেছিল। সে দিন ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরেছিল আকবর আলীর দল। কাল মেয়েদের সাফের শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরলেন সাবিনা খাতুনরা।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু; সেটা কাকলী, মহাখালী, জাহাঙ্গীরগেট, বিজয় স্মরণী, তেজগাঁও, আরামবাগ হয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে। ছাদখোলা বাসে সাবিনা-তহুরা-মারিয়াদের বাফুফেতে পৌঁছাতে প্রায় ৪ ঘণ্টা। কিন্তু এ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফুটবলারদের মনে তেমন কোনো অনুযোগ অবশ্য দেখা যায়নি। পুরোটা পথ যে সমর্থকদের ভালোবাসা ও আদর মাখতে মাখতে এগিয়েছে তারা।

এই ভালোবাসা আগে থেকেই ছিল। তবে সুপ্ত আগ্নেয়গিরিতে বিস্ফোরণ ধরিয়ে দিয়েছিলেন সানজিদা আকতার। ফাইনালের আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিমান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে। সমাজের টিপ্পনীকে একপাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছে, তাদের জন্য এই ট্রফিটি জিততে চাই।’

সানজিদারা ট্রফি নিয়ে ফিরেছেন কাল, আর ভালোবেসে তাদের বরণ করে নিতে ছুটে গেছেন সমর্থকরা। ২১ সেপ্টেম্বর ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার আঞ্চলিক শিরোপার স্বাদ পেল বাংলাদেশের মেয়েরা।

সকাল থেকে গোটা এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা, সংবাদকর্মীদের ভিড়। ভিড়ের কারণে বিমান থেকে নেমে লোকচক্ষুর সম্মুখে আসতে সাফজয়ীদের লেগে গেল প্রায় ৫০ মিনিট। বাধ্য হয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বাতিল হয়ে যায়।

ঋতুপর্ণা চাকমা অবাক হয়ে বললেন, ‘আমরা মনে করেছিলাম মানুষ থাকবে। কিন্তু এত বেশি মানুষ আসবে এটা একেবারে অপ্রত্যাশিত।’ তাতে অবশ্য আনন্দে কমতি পড়েনি কারও। টুর্নামেন্টসেরা গোলকিপার রুপনা চাকমার উচ্ছ্বাস বাঁধনহারা, ‘অনেক, অনেক, অনেক ভালো লাগছে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরতে পেরে।’ অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও তৃপ্ত, ‘অনেক ভালো লাগছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অনেক বড় অর্জন আমাদের।’

এমন এক অর্জন সঙ্গী হয়ে গেল আব্দুল কালামের। ছাদখোলা বাস চালানোর দায়িত্ব যে বিআরটিসির এই চালকের, ‘২৪ বছরে সবচেয়ে আনন্দ অনুভব করছি আজকে। চ্যাম্পিয়নদের গাড়ি আমি চালাব। নারী ফুটবলারদের সৌজন্যে সে দিনটা এল।’ সর্বশেষ ১২ বছর ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চালান কালাম, সেখানকার শিক্ষার্থীরা তাকে ফোন দিচ্ছেন, ‘সবাই বলছে, কালাম ভাই, আপনি তো সেলিব্রিটি হয়ে যাচ্ছেন। সবাই আপনাকে দেখছে। খুব আনন্দ অনুভব করছি।’

ওমরাহ্‌ থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে পেসার তাসকিন আহমেদও জানিয়ে গেলেন কতটা খুশি মেয়েদের এমন অর্জনে, ‘অনেক বড় পাওয়া আসলে এটা, অনেক খুশির বিষয় আলহামদুলিল্লাহ। আশা করি আরও ভালো খেলবে।’

সাবিনা-ঋতুপর্ণাদের নিয়ে ছাদখোলা বাস এরপর শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছে। সমর্থকরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িবহর নিয়ে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে পতাকা উড়িয়ে সাফজয়ীদের সঙ্গী হয়েছেন। দুপুর পেরিয়ে বিকেল, বিকেল থেকে সন্ধ্যা- ভালোবাসা মেখে মেখেই কাল মতিঝিলের বাফুফে ভবনে হাজির হয়েছেন মেয়েরা।

বাফুফে ততক্ষণে লোকে লোকারণ্য। অধীর ব্যাকুল মুখগুলো সাবিনাদের আরেকটু কাছ থেকে দেখতে চায়, জানাতে চায় ভালোবাসা। দিনটা যে বিজয়ের দীপ্তি মাখার। বিজয়ী শব্দটা নিজেদের করে পাওয়ার।

সৌদিতে নির্যাতন : প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরতে চান তানিয়া

সৌদিতে নির্যাতন : প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরতে চান তানিয়া
বাগেরহাটের তানিয়া সৌদিতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ছবি : দৈনিক বাংলা
জেসমিন পাপড়ি
প্রকাশিত

কথায় কথায় মারধর। দিনে কখনো দুইবেলা, কখনো-বা একবেলা খাবার জোটে। দিনভর একটি কক্ষে বন্দি রাখা হয়। কোনো কোনো দিন আবার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেয়া হয়। আসরের নামাজের পর দরজা খুলে ঘর-গৃহস্থালির কাজ করানো হয়। চলে ভোর রাত পর্যন্ত। অথচ মাসের পর মাস বেতনও দেয়া হয় না।

সৌদি আরবে এভাবেই দিন কাটছে বাগেরহাটের তানিয়ার। সাত মাস আগে ভাগ্য বদলাতে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব পাড়ি দিয়েছিলেন। আর এখন প্রাণ নিয়ে কোনো রকমে দেশে ফিরতে পারলেই বাঁচেন।

গৃহকর্তার নিপীড়নের কথা রিক্রুটিং এজেন্সিকে জানালেও তারা এর দায় এড়াতে চাইছেন। তাদের কাছ থেকে উপেক্ষার শিকার হয়ে স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তানিয়ার স্বামী মাহফুজ শেখ।

তানিয়ার সঙ্গে ভিডিও কলে আলাপ হয় এই প্রতিবেদকের। দেখা যায়, তানিয়াকে একটি কক্ষে দরজা বন্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছে। কক্ষটিতে একটি বিছানা পাতা আছে। আশপাশে নানা জিনিসের স্তূপ। তানিয়া জানালেন, এই ঘরেই তার সারা দিন কাটে।

তানিয়া দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আসর নামাজের পর ঘরের দরজা খুলে দেয়। তখন একবার খাবার খেয়ে কাজ শুরু করি। রাতভর কাজ করে ফজরের আজানের সময় আরেকবার খাবার খাইয়ে এই ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পান থেকে চুন খসলেই মারধর করে। ফোন কেড়ে নেয়।’

মাসের পর মাস অতিরিক্ত কাজ করে আর অনাহার-অর্ধাহারে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তানিয়া।

কয়েক দিন আগে সৌদি গৃহকর্তার চড়ে তার কান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে জানিয়ে তানিয়া বলেন, ‘শুধু মারধরেই শেষ নয়। সাত মাস হলো এখানে এসেছি, কিন্তু বেতন দিয়েছে মাত্র তিন মাসের। প্রথম এক মাস ভালোই ছিলাম। কিন্তু বেতন চাওয়ার পর থেকেই এভাবে মারধর শুরু করে।’

তানিয়ার অভিযোগ, মারধরের পর কান্নাকাটি করলে গৃহকর্তা তাকে চুরির অভিযোগে পুলিশে দেয়ার হুমকি দেন। আবার কখনো বলেন, ‘পুলিশে দেব না, দেশে পাঠাব না, পাহাড়ে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলব।’

ভাষাগত কারণে সব কথা বুঝতে পারেন না তানিয়া। তাই তারা মোবাইলে গুগল ট্রান্সলেটরে লিখে সেগুলো তাকে পড়তে দেন।

তানিয়া জানালেন, দুই সন্তানসহ স্বামী নিয়ে বেশ সুখের সংসারই ছিল তার। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে স্বামী মাহফুজ শেখ উপার্জন ক্ষমতা হারালে ঋণগ্রস্ত হয়ে বিদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তানিয়ার স্বামী মাহফুজ শেখ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্ত্রীকে বিদেশ পাঠিয়েছি। কিন্তু প্রতিদিন তার কান্নাকাটি আর সইতে পারি না। এখন আমি আমার স্ত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই।’

মাহফুজ জানালেন, তানিয়াকে সৌদি আরবে পাঠানো এজেন্সির কাছে এসব কথা জানানোর পরও কোনো লাভ হয়নি।

‘তারা এখন আর ফোন ধরে না। ফকিরাপুলে তাদের অফিসে গিয়েও অভিযোগ করে এসেছি। তারা এখন বলছে, নিজের টাকা দিয়ে স্ত্রীকে ফেরত আনতে। কিন্তু সেই টাকা পাব কোথায়?’ আর্তনাদের মতো শোনায় অসহায় মাহফুজের কণ্ঠ।

তানিয়াকে বিদেশে পাঠিয়েছে রিক্রুটিং এজেন্সি আল-নূর ইন্টারন্যাশনাল। এজেন্সির মালিক মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক সৌদি নিয়োগকর্তারই সাফাই গাইলেন। তিনি বলেন, ‘তানিয়া যে বাসায় কাজ করেন সেখানে কাজ কম। ছোট পরিবার। তারা সারা দিন বাইরে থাকে। এজন্য তাকে বাসায় তালা দিয়ে রেখে যায়। আর ওখানে রাতে কাজ করতে হয়, এটাই হয়তো ওই বাসার সিস্টেম। এটা মেনে নিতে হবে।’

তার দাবি, মারধরের কথা তাকে জানানো হয়নি। চার মাস বেতন না পাওয়ার কথাও জানানো হয়নি। বললেন, ‘এখন আপনার কাছে শুনলাম। আমি সৌদিতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে কথা বলব।’

আবু বকর উল্টো তানিয়ার পরিবারের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, ‘তানিয়া একবার স্বামীর অ্যাকাউন্টে, আরেকবার বোনের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলেন। এতে নিয়োগকর্তা বিরক্ত হন। এ কারণেই হয়তো কয়েক মাস তার টাকা আসেনি।’

তানিয়া যে দেশে ফিরতে চান সে কথাও তিনি জানেন না বলে দাবি করেন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক।

অভিবাসন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রিক্রুটিং এজেন্সির নেই। কারণ, যে কর্মীকে তিনি বিদেশে নিয়ে যাবেন, তার ভালো-মন্দের দায়িত্ব সম্পূর্ণ তার এজেন্সির।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রকল্পের (ওকাপ) প্রোগ্রাম সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিদেশ যাওয়ার পর একজন নারীকর্মী ছয় মাসের মধ্যে যদি ব্যক্তিগত কারণে দেশে ফিরতে চান তাহলে তাকে নিজ খরচে ফিরতে হয়। কিন্তু তিনি যদি গৃহকর্তার কাছে নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে চুক্তি অনুযায়ী তিনবার গৃহকর্তা পরিবর্তন করবে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি। এরপরও ওই কর্মী যদি থাকতে না পারেন বা দেশে ফিরতে চান তাহলে রিক্রুটিং এজেন্সি তাকে ফেরত আনতে বাধ্য। সেক্ষেত্রে কর্মীর কাছে কোনো টাকা দাবি করতে পারবে না।

এ বিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক শহীদুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের ক্ষেত্রে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনগত প্রতিকার করে থাকি। অনিয়ম পেলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে জরিমানাও করা হয়।’