সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২২

বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা

বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা
আটক ফিরোজ আলী খন্দকার। ছবি: দৈনিক বাংলা
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সরকারিভাবে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ফিরোজ আলী খন্দকার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার গভীর রাতে বাগেরহাট পৌরসভার সোনাতলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক ৪৫ বছর বয়সী ফিরোজ আলী খন্দকার গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার নোয়াদা এলাকার বাসিন্দা।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাট পৌরসভার সোনাতলা এলাকায় একটি বাড়িতে থাকতেন। সে নিজেকে বাগেরহাট সদর উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বলে পরিচয় দিত।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহামুদ হাসান জানান, আটক ব্যক্তি বাগেরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তিকে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে কানাডা, রোমানিয়া ও মালয়শিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেওয়ার কথা বলে ডাক্তারি পরীক্ষা করান। এজ    ন্য ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া তিনি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য বাগেরহাট থেকে ২২০ জনকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশ নেয়া হবে বলে প্রচার-প্রচারণা চালাতে থাকেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে ফাঁকা চেক জমা দিতে বলেন। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগীদের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দেন।

সদর উপজেলার মুক্ষাইট এলাকার চা দোকানি আলামিন হোসেন জনি নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, কিছুদিন আগে ফিরোজ খন্দকারের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি হলে অনলাইন আবেদন, মেডিকেল টেস্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাবদ আমার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেয়। পরে তার দেওয়া একটি অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে বললে আমার সন্দেহ হয়। বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। আমাদের এলাকার আরও অনেকের সঙ্গে এমন প্রতারণা করেছে সে।


‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নির্বিচার ব্যবহার ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে’

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নির্বিচার ব্যবহার ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে আর্টিকেল নাইনটিন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • আর্টিকেল নাইনটিনের বিবৃতি

ভিন্নমত ও সরকারের সমালোচনা দমনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটির নজিরবিহীন অপপ্রয়োগ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন। পাশাপাশি এই আইনের বিতর্কিত ধারা সংস্কার করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আর্টিকেল নাইনটিন এসব কথা জানায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের চার বছর হলো আজ।

আর্টিকেল নাইনটিন বলছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নির্বিচার ব্যবহার বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে দূর্বল করে একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। গত চার বছরে ভিন্নমত ও সরকারের সমালোচনা দমনে এই আইনের নজিরবিহীন অপপ্রয়োগ হয়েছে।

সংস্থাটি মনে করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত আইন কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় থাকতে পারে না। সরকার এই আইনের বিতর্কিত ধারা সংশোধনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছে। আর্টিকেল নাইনটিন গণতন্ত্রের স্বার্থে এই আইনের বিতর্কিত ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাশ হওয়ার পর থেকে আর্টিকেল নাইনটিন আইনটির নিবর্তনমূলক ধারা সংশোধনের কথা বলে আসছে। কিন্ত বাস্তবতা হলো এ আইনে মামলা দায়ের ও গ্রেফতার হচ্ছে অব্যাহত গতিতে।

ফারুখ ফয়সল বলেন, সর্বশেষ, অনলাইনে একটি অনুষ্ঠান সঞ্চালন করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী এই আইনে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক মাস ধরে কারাগারে আছেন। এই সময়ে তিনবার আবেদন করেও জামিন পাননি ওই শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে মামলা দায়েরের সময় তাঁর বয়স ছিলো সতেরো বছর। তিনি আরও বলেন, ‘এই আইনে দায়ের হওয়া বেশিরভাগ মামলার মতো, ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ভিত্তিও নড়বড়ে। এর আগে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও এই আইনে দায়ের হওয়া মামলায় জড়ানোর অনুরূপ উদাহরণ দেখা গেছে।’

আর্টিকেল নাইনটিন বলছে, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটির অপপ্রয়োগ হয়েছে স্বীকার করে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী আইনটির প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া এবং সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।’


সাকিবকাণ্ডে বিব্রত দুদক

সাকিবকাণ্ডে বিব্রত দুদক
সাকিব আল হাসান। ছবি : সংগৃহীত
মোর্শেদ নোমান
প্রকাশিত

মোর্শেদ নোমান

শেয়ারবাজার কারসাজিতে নাম আসা এবং জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনলাইন নিউজ সাইটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘটনায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। কারণ সাকিব আল হাসান দুদকের শুভেচ্ছা দূত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্নীতিতে নাম আসায় সাকিবের বিষয়টি নিয়ে যেখানে দুদকের অনুসন্ধানে নামার কথা সেখানে সাকিব এখনও সংস্থাটির শুভেচ্ছা দূত হিসেবে বহাল আছেন। দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি এখনও সাকিবের সঙ্গে ওই চুক্তি বাতিল করেনি।

বিষয়টি নিয়ে দুদকের অবস্থান জানতে সংস্থাটির শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করলেও কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, সাকিব দুদকের শুভেচ্ছা দূত থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে সাকিবের নাম এসেছে। যদিও বিষয়টি এখনও প্রমাণিত না তারপরও বিষয়টি দৃষ্টিকটূ।’

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, দুদকের কাজের যে ধারা তাতে আরও আগেই তাদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল। বেটউইনারের সঙ্গে সাকিবের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। এটি বাংলাদেশের আইন ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রীতিনীতির পরিপন্থী। দুদক তখনও ব্যবস্থা নেয়নি। এখন শেযারকারসাজির সঙ্গে তার নাম এসেছে। তাই দেরি না করে দ্রুত এ চুক্তি বাতিল করা উচিত।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় ‘বিজ্ঞাপন’ সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে ২০১৮ সালে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে দুদক। বিনা পারিশ্রমিকে দুদকের শুভেচ্ছা দূত হয়ে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনেও অংশ নেন সাকিব। ওইসব বিজ্ঞাপনে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা তুলে ধরেন বিশ্ব ক্রিকেটের এই পোস্টারবয়।

অথচ গত কয়েক মাসে সাকিবকে নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়াসহ গণমাধ্যমে। বাংলাদেশের আইনে জুয়া এবং এ সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি বেআইনি হলেও গত ২ আগস্ট সাকিব আল হাসান তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটা পোস্ট দিয়ে বেটউইনার নিউজের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার ঘোষণা দেন। বেটউইনার একটি অনলাইন বেটিং ও ক্যাসিনোর ওয়েবসাইট। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

সাকিবের ঘোষণার পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান সাফ জানিয়ে দেন, সাকিবকে বেটউইনারের সঙ্গে চুক্তি অথবা বাংলাদেশের পক্ষে খেলার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। বিসিবি প্রধানের ওই হুমকির পর সাকিব বেটউইনার নিউজের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানান। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টও সরিয়ে ফেলেন। তারপর সাকিবকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপের জন্য টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা করে ক্রিকেট বোর্ড।

ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে তার নাম উঠে আসে। অথচ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই অধিনায়কের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কাজে লাগাতে কয়েক বছর আগে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীদের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে তাকে দিয়ে বানানো হয় টেলিভিশন বিজ্ঞাপনও।

সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানির শেয়ারে কারসাজি করে যে চক্রটি ১৩৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে বলে বিএসইসির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সেই চক্রের সঙ্গে নাম এসেছে সাকিব আল হাসানেরও। বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ কারসাজির ঘটনায় যে সাতটি প্রতিবেদন করেছে, সেখানে কমপক্ষে দুটিতে সাকিবের বিও হিসাবের কথা উল্লেখ আছে। আর কয়েকটির মধ্যে তার মালিকানাধীন কোম্পানি মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেডের নাম এসেছে।

এসব কারসাজিতে মূল অভিযুক্ত পুঁজিবাজারে বহুল আলোচিত-সমালোচিত মুখ আবুল খায়ের হিরু। সমবায় অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির এই কর্মকর্তার ব্যবসায়িক পার্টনার সাকিব আল হাসান।

শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে সাকিবের নাম জড়িয়ে পড়া নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্রিকেটারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এখনও আসেনি। প্রতিদিনই গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় চলছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের শুভেচ্ছা দুত হিসেবে সাকিব থাকছেন কিনা এটা নিয়ে আলোচনা আছে।

সাকিব আল হাসানের সঙ্গে দুদকের যে চুক্তি হয় তার সমন্বয় করেছিলেন সংস্থাটির সাবেক পরিচালক নাসিম আনোয়ার। দুদকের অবসরে থাকা এই কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, সাধারণত চুক্তিগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলেও সাকিবের সঙ্গে দুদকের ওই চুক্তি কোনো সময়াবদ্ধ বিষয় ছিল না। চুক্তিতে বলা ছিল, কোনো পক্ষ চাইলে তিন মাসের নোটিশে চুক্তি বাতিল করতে পারবে।


বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদ, মিয়ানমারের উল্টো সুর

বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদ, মিয়ানমারের উল্টো সুর
সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছোড়া মর্টারের গোলা। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
  • সীমান্ত থেকে সরিয়ে নেয়া হবে ৩০০ পরিবার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সীমান্তে মিয়ামারের দফায় দফায় উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের পরও পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে বাংলাদেশ সীমায় একজন রোহিঙ্গা নাগরিকের মৃত্যুর পর রোববার দেশটির রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে ফের তলব করে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে যাওয়ার চিন্তার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে ঢাকা।

তবে বাংলাদেশের প্রতিবাদের মুখে ভিন্ন কৌশল নিয়েছে নেপিডো। তারা বান্দরবান সীমান্তে গোলাবর্ষণের দায় ঠেলে দিয়েছে রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দিকে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের দাবি, আরাকান আর্মি সে দেশের সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ চুরি করে বাংলাদেশে গুলি করছে, যাতে করে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। আর এই সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যরা বাংলাদেশ থেকেই মিয়ানমার সীমান্তে প্রবেশ করছেন বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রদূত।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার ওপারে বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াই চলছে মিয়ানমার সেনাদের। এরই মধ্যে বেশ কিছু মর্টার শেল বাংলাদেশের ভেতরে এসে পড়ে। সবশেষ শুক্রবার রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু কোনারপাড়া সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছোড়া চারটি মর্টার শেল এসে পড়ে। এতে শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক যুবক নিহত হন। আহত হন পাঁচজন। ওই দিন সকালেই ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবকের পা উড়ে যায়।

এর আগে প্রথমে ২০ আগস্ট, এরপর ২৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে মর্টারের গোলা এসে পড়ে বাংলাদেশের সীমানায়। প্রতিবারই দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। দেয়া হয় কূটনৈতিক পত্রও। গত ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি হেলিকপ্টার থেকে বান্দরবানে বাংলাদেশের সীমানায় গোলাবর্ষণ করা হয়। তারপর আবারও রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সবশেষ শুক্রবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকালে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে এক মাসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো তলব করা হয়। এ সময় তার কাছে প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করা হয়।

মিয়ানমারের রাষ্ট্ররের রাধ্যেের দুর্ শূন্যরেখারদূতকে করণীয় নির্ধারণে এদিন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ প্রায় সব বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল এবং শান্তিকামী রাষ্ট্র। আমরা ধৈর্য ধরে এটি সহ্য করে যাচ্ছি। আমরা তাদের বলেছি বিষয়টি সমাধান করুন, আমাদের এখানে যেন রক্তারক্তি না হয়, কোনো প্রাণহানি না হয়।’

বারবার প্রতিবাদলিপি দেয়ার পরও মিয়ানমার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না- এমন প্রশ্নে খুরশেদ আলম বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিবেশীকে যতটুকু সম্মান করা সম্ভব, ততটুকু আমরা করছি। আমাদের বক্তব্যে কোনো ধরনের দুর্বলতা নেই। শক্তভাবেই প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

উল্টো বাংলাদেশকে দুষছে মিয়ানমার

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে প্রতিবাদলিপি দেয়ার পর তার কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, মিয়ানমারের কিছু গতানুগতিক বক্তব্য আছে। তারা সীমান্তে গোলাগুলির বিয়য়টি অস্বীকার করেনি। তবে দাবি করেছে, তাদের সেনারা গুলি করেনি। উনি বলেছেন, এগুলো হয়তো আরাকান আর্মির গুলি হতে পারে।

এর জবাবে বাংলাদেশের বক্তব্য ছিল, ‘মিয়ানমারের ভেতর থেকে বাংলাদেশে যা-ই আসুক না কেন, সেটা মিয়ানমারের দায়িত্ব। সেটা মিয়ানমারকেই দেখতে হবে। আমাদের এপারে যাতে কিছু না আসে, সেটা মিয়ানমারকে নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য যা যা করা দরকার মিয়ানমারকে করতে হবে।’

তাহলে বাংলাদেশে হতাহতের ঘটনায় দায় কার- এমন প্রশ্নের জবাবে খুরশেদ আলম বলেন, ‘গুলির গায়ে লেখা আছে মিয়ানমার আর্মি। কিন্তু মিয়ানমার বলছে, এগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। তারা বলছে আরাকান আর্মি গুলি করেছে, যাতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। এ রকম একটা জায়গায় অ্যাকচুয়ালি কে দায়িত্ব নেবে, সেটা নিরূপণ করা খুবই কঠিন কাজ। তবে আমরা চেষ্টা করছি।’

গোলা খারাপ উদ্দেশ্যে পাঠালেও নিশ্চিত করার উপায় নেই মন্তব্য করে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর সমাধানে সময় লাগবে। ধৈর্য ধরতে হবে। তবে আমরা যদি নিজেরা শক্ত থাকি সমাধান আসবে।’

সৌজন্যতাও দেখানো হয়নি মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তলবের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বেলা ১১টা ২০ মি‌নি‌টে পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে আসেন মিয়ানমা‌রের রাষ্ট্রদূত উ অং কিয়াউ মোয়েকেসহ দুজন। তাদের অন্তত ১৫‌ থে‌কে ১৭ মি‌নিট অপেক্ষা করতে হয় অভ্যর্থনা কেন্দ্রে। এরপর মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. নাজমুল হুদ‌ার দপ্ত‌রে ডে‌কে নেয়া হয়। তিনি তাদের সঙ্গে আধা ঘণ্টার মতো কথা বলেন।

এই পুরোটা সময়ে রাষ্ট্রদূতকে এক কাপ চাও দেয়া হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো কূটনীতিককে আপ্যায়ন করা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ একটি প্রথা বা রেওয়াজ। আপ্যায়নের মাধ্যমে কূটনৈতিক হৃদ্যতার বিষয়টিও বোঝা যায়। কিন্তু মিয়ানমার সীমান্তে চলমান ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ। তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এটা হয়েছে।

এ বিষয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, কূটনীতিককে নানাভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়। আপ্যায়ন না করার অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশ এ বিষয়ে চরম অখুশি।

এখনই সেনা মোতায়েন নয়

আরেক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব খুরশেদ আলম জানান, বাংলাদেশ এখনই সীমান্তে সেনা মোতায়েন করতে চায় না। তিনি বলেন, ‘আমরা উচ্চপর্যায়ে একটি বৈঠক করেছি বাংলাদেশের সব এজেন্সিকে নিয়ে। বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে বলেছি সীমান্তে সজাগ থাকতে। সাগর দিয়ে রোহিঙ্গারা যেন ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রয়োজনীয় সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে জানাবে বাংলাদেশ

মিয়ানমারের এই আচরণ নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানেও যাবে বাংলাদেশ।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আসিয়ানের যে রাষ্ট্রদূতরা ঢাকায় আছেন, তাদের ডেকে এ ঘটনার ব্রিফ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বারবার প্রতিবাদে মিয়ানমার গা করছে না- এ বিষয়টি সবার কাছে তুলে ধরা হবে। মিয়ানমার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এটা প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের জন্য খুব দুঃখজনক। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতকে বিষয়টি নিয়ে অবহিত করে বাংলাদেশ।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবের পর দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, এভাবে যদি এটা চলতেই থাকে, তাহলে জাতিসংঘে গিয়ে আমাদের বিষয়টি তুলব যে আমাদের মানুষদের ওপর গোলাবারুদ পড়ছে, যেখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা আমাদের কাজ করছি। তারা যদি না মানে, তাহলে দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাব। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের কথা যদি না শোনে, তাহলে আমরা সেখানে যাব।’

জাতিসংঘকে কবে জানানো হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কবে জানানো হবে তা প্রধানমন্ত্রী জানেন।’

সীমান্ত থেকে ৩০০ পরিবারকে সরিয়ে নেবে বাংলাদেশ

এদিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি বাংলাদেশ সীমানায় পড়ে হতাহতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করায় সীমান্ত এলাকা থেকে অন্তত ৩০০ বাংলাদেশি পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চিন্তাভাবনা করছে প্রশাসন। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

গতকাল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে উপজেলা প্রশাসনের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌস দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয়দের সরিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। আমরা বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

গতকালও দিনভর মিয়ানমার থেকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়ায় যায়। তারই প্রেক্ষিতে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াসংলগ্ন ঘুমধুম, তুমব্রু, হেডম্যানপাড়া, ফাতরা ঝিরি, রেজু আমতলী এলাকায় বসবাসকারী ৩০০ পরিবারের প্রায় দেড় হাজার স্থানীয় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে ঘুমধুম ইউনিয়নে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় সীমান্তবর্তী পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি কঠিন হবে।’

সীমান্ত থেকে স্থানীয়দের সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখছি। তাদের নিরাপদ রাখতে, যা যা করণীয় সব করা হবে।’


মোটরসাইকেলে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কা, যুবক নিহত

মোটরসাইকেলে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কা, যুবক নিহত
ছবি : সংগৃহীত
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ময়মনসিংহের ভালুকায় গাড়ির চাপায় মো. নাঈম (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন সঙ্গে থাকা আরেকজন আরোহী।

আজ সোমবার সকাল আটটার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার কলেজ গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাঈম গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুরাইল গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে।

বিষয়টি দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. রিয়াদ মাহমুদ।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সকালে মোটরসাইকেলে শ্রীপুর থেকে সজিব নামের একজনকে সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহের দিকে আসছিলেন নাঈম। আটটার দিকে ভালুকার কলেজ গেটের সামনে আসতেই পিছন দিক থেকে বেপরোয়া গতির অজ্ঞাত এক গাড়ি মোটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে চালক নাঈম মহাসড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা গুরুতর আহত সজিবকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। নিহতের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা আসলে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক চালকসহ গাড়ীটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান রিয়াদ মাহমুদ।


বাসচাপায় মাদ্রাসাশিক্ষক ও মুয়াজ্জিন নিহত

বাসচাপায় মাদ্রাসাশিক্ষক ও মুয়াজ্জিন নিহত
প্রতীকী ছবি
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত

খুলনার হরিণটানা থানার হোগলাডাঙ্গা এলাকায় বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, হরিণটানার রাজবাঁধ এলাকার মোস্তফার ছেলে বেল্লাল হোসেন (২৫) ও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কাটাবুনিয়া গ্রামের কাউসারের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২২)। 

এর মধ্যে শরিফুল ইসলাম রাজবাঁধ হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও বেল্লাল ওই এলাকার আয়েশাবাদ জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন। মসজিদ ও মাদ্রাসার দূরত্ব প্রায় আধা কিলোমিটার।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক জানান, ফজরের নামাজ পড়ে দুইজন এক সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে যাচ্ছিলেন। হোগলাডাঙ্গার ভেতর থেকে মহাসড়কে ওঠার সময় খুলনা থেকে সাতক্ষীরার দিকে যাওয়া একটি বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান।

তিনি আরও জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।