শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২

অজ্ঞাতদের নিয়ে চাপে পুলিশ

অজ্ঞাতদের নিয়ে চাপে পুলিশ
পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
শাহরিয়ার হাসান
প্রকাশিত
  • ১২৪ মামলায় আসামি ২২ হাজার ৩০৭ জন, অজ্ঞাত ২০ হাজারের বেশি

  • সবচেয়ে বেশি মামলা নোয়াখালীতে। ৩২ মামলার ৩টিতে চার্জশিট

শাহরিয়ার হাসান

গুজব ছড়িয়ে গত বছর কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে স্থানীয়দের হামলার ঘটনার পর সেটা কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় চার মহানগর ও ২৮ জেলায় ১২৪টি মামলা হয়েছিল। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছিল ২২ হাজার ৩০৭ জনকে। কিন্তু ঘটনার এক বছর হতে চললেও মামলাগুলোর তদন্তে বলার মতো অগ্রগতি নেই।

কারণ হিসেবে তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব মামলায় বেশির ভাগ আসামিই অজ্ঞাতনামা। অজ্ঞাতনামাদের চিহ্নিত করতে না পারায় মামলার তদন্তে ধীরগতি। তাই কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হতে পারে সেটাও স্পষ্ট নয়। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুরুতে তৎপর থাকলেও পরে এসে তদন্তে আন্তরিকতা হারিয়ে ফেলে পুলিশ।

সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় হওয়া এসব মামলা তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি, জেলা গোয়েন্দা পলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই এবং সংশ্লিষ্ট কিছু থানার পুলিশ। 

সম্প্রতি মামলাগুলোর তদন্তে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এম খুরশীদ হোসেন বলেছেন, শুধু মামলার তদন্ত না, আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরি ও পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক মামলার ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্তে ধীরগতি নিয়ে ২৬টি মামলার তদারক কর্মকর্তা সিআইডির চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ডিআইজি হাবিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, কিছু কিছু মামলার অগ্রগতি ভালো হলেও কয়েকটি মামলার থমকে রয়েছে। এতে জ্ঞাত-অজ্ঞাত আসামিদের সঙ্গে হামলার সংশ্লিষ্টতা খুঁজতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তাই সময় লাগছে।

দেশজুড়ে দুর্গাপূজা চলার সময় গত বছরের ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে মন্দিরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে তা আরও কয়েকটি জেলায় ছড়ায়। কুমিল্লার পর চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নোয়াখালী ও ফেনীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আক্রান্ত হয়। এসব ঘটনায় সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হন। কিছু দিন পর রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ায় হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেয়া হয় ফেসবুকে এক তরুণের ধর্ম অবমাননার কথিত পোস্টকে কেন্দ্র করে। জেলেপল্লীর ২৯টি বাড়ি ও গোয়ালঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় মন্দিরও।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র বলছে, সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় করা ১২৪টি মামলায় নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ৫৫৯ জনকে। অজ্ঞাত আসামি ২০ হাজার ৭৪৮ জন। মোট আসামির ৯৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা মোট আসামির এক শতাংশেরও কম। গ্রেপ্তার হওয়াদের অধিকাংশই আবার জামিনে বেরিয়ে গেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ ধরনের ঘটনা যখনই ঘটেছে, তখনই আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছি। মামলা হয়েছে, কয়েকটি ঘটনায় চার্জশিট হয়েছে, কোনোটা বিচার পর্যায়ে রয়েছে।

কুমিল্লার মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা

কুমিল্লায় ঘটনার দিন নগরের চারটি মন্দির, সাতটি পূজামণ্ডপ ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। আহত হন অন্তত ৩০ জন। আহতদের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই দিন জেলার সদর দক্ষিণ, দেবীদ্বার ও দাউদকান্দিতে প্রতিমা ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এ সব ঘটনায় মামলা হয় ৯টি।

থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, ওই সব হামলার ঘটনায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান ও সাবেক তিন কাউন্সিলর ও বিএনপির কয়েকজন কর্মীসহ ৯২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৭০০ জনকে আসামি করা হয়। কোরআন অবমাননা মামলার প্রধান আসামি ইকবাল হোসেনসহ শতাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় কারাগারে আছেন জামায়াতের সাবেক ও বর্তমান তিনজন কাউন্সিলর।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন রায় বলেন, ১১ মাসেও কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের কোনো বিচার হয়নি। সরকারি দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন হয়নি।

নোয়াখালীর ৩২ মামলার ৩টিতে চার্জশিট

কুমিল্লার ঘটনার পরপর বিভিন্ন জেলায় যে সংঘর্ষ হয় তার মধ্যে নোয়খালীতে সবচেয়ে বেশি ৩২টি মামলা হয়। এর মধ্যে সিআইডি তদন্ত করছে ১১টি, পিবিআই ১১টি, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ৫টি, হাতিয়া থানা ৩টি, বেগমগঞ্জ থানা ১টি এবং কোম্পানীগঞ্জ থানা ১টি মামলা তদন্ত করছে।

এদের মধ্যে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ৩ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে যাতে আসামি মাত্র তিনজন। নোয়াখালীর বাকি ২৯টি মামলার এখনো তদন্ত চলছে। সেখানে সব মামলায় আসামি ১০ হাজার। ৩০১ জন গ্রেপ্তার হলেও প্রায় সবাই জামিনে বেরিয়ে গেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নোয়াখালী জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী পাপ্পু সাহা বলেছেন, সেই হামলার এত দিন পরও ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলো পুরোপুরি পুনর্গঠন সম্ভব হয়নি।

চাঁদপুরে অর্ধেকের বেশি আসামি জামিনে

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ১০টি মামলার একটিরও অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি। এসব মামলার মধ্যে পুলিশের কাছে দুটি, ডিবির কাছে দুটি, সিআইডির কাছে তিনটি এবং পিবিআইয়ের কাছে তিনটি মামলা আছে।

থানা-পুলিশ জানায়, এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয় ১১৭ জন আসামি। তাদের মধ্যে অর্ধশতাধিক জামিনে আছেন। বাকি ৭৯ জন আসামি কারাগারে।

এসব হামলার ঘটনায় তিন জেলায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এসব কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও ‘তদন্তের স্বার্থে’ প্রতিবেদন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাননি কমিটির সদস্যরা।

পিবিআইয়ের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, মামলাগুলোতে এত জ্ঞাত-অজ্ঞাত আসামি থাকায় পুরোপরি তদন্ত না করে আসামি গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। তবে পিবিআইর হাতে থাকা বেশ কয়েকটি মামলায় অগ্রগতি আছে। আসামিদের জবানবন্দিও পাওয়া গেছে। আমাদের কাজ এগিয়ে চলছে।

 তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্য মানতে নারাজ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। তার মতে, এসব মামলার তদন্তে পুলিশের আন্তরিকতা শুরুর তুলনায় কমে গেছে। তাই দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্তে তাদের এই ঢিমেতাল অবস্থান। অভিযোগপত্র তো দূরে থাক যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারাই জামিনে বের হতে শুরু করেছেন। আবার কাউকে কাউকে তো ধরার সাহসই পায় না পুলিশ।

 


ফের আকাশসীমা লঙ্ঘন মিয়ানমারের

ফের আকাশসীমা  লঙ্ঘন মিয়ানমারের
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত । ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

এস বাসু দাশ, বান্দরবান

দফায় দফায় সতর্ক আর প্রতিবাদ জানানোও কাজে আসছে না। আকাশসীমা লঙ্ঘন করেই চলেছে মিয়ানমার। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে  শনিবার সকাল পর্যন্ত অন্তত দুবার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে দেশটির বাহিনী।

এদিকে সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘর্ষে মুহুর্মুহু গোলা ও গুলির আওয়াজ ভেসে আসছে এপারে। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের। গোলার কম্পনের জেরে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু ও বাইশফাঁড়ি এলাকায় ফাটল ধরেছে বিভিন্ন বাড়িঘরে।

গত ২৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে নিক্ষেপ করা দুটি মর্টার শেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় ঘুমধুমের তমব্রুর উত্তর মসজিদের কাছে পড়ে। এ ঘটনায় ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর ঘুমধুম এলাকায় দুটি গোলা পড়ে। এ ঘটনায়ও প্রতিবাদ জানানো হয়। কিন্তু তার পরও পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেনি। ৯ সেপ্টেম্বর আবার গুলি এসে পড়ে। ১৬ সেপ্টেম্বর মাইন বিস্ফোরণ ও গুলি-মর্টার শেল নিক্ষেপে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় মিয়ানমারের কূটনীতিককে আবারও তলব ও কড়া প্রতিবাদ জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুধু তা-ই নয়, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলেছে মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলেছেন। এর পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই।

মিয়ানমারের দাবি, তাদের ভূখণ্ডে আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে লড়ছে সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়া গোলাগুলো আরাকান আর্মির ছোড়া। তবে বাংলাদেশে এসে পড়া গুলির কোনো ব্যাখ্যা তারা দেয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত নামলেই সীমান্তের ওপারে বেড়ে যায় গোলাগুলির আওয়াজ। সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারের গর্জন আর গোলা ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে স্থানীয়দের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। শেলের কম্পনে তুমব্রু উত্তরপাড়ায় কয়েকটি বাড়িতে ফাটল ধরেছে।

তুমব্রু বাজারের ব্যবসায়ী বদিউল আলম বলেন, গত শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে রাখাইনের মংডুর উত্তরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পিলার ৩৭, ৩৮, ৩৯ নম্বর এলাকায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার থেকে ভারী অস্ত্রের গোলা বর্ষণ করা হয় সে দেশে। এর একটি হেলিকপ্টার মিয়ানমার থেকে এসে তুমব্রু পয়েন্টের জিরো লাইনের সোজা ওপর দিয়ে মর্টার শেল ছুড়ে মিয়ানমারে ফিরে যায়। এতে তুমব্রু বাজার, কোনারপাড়া, মধ্যমপাড়া ও উত্তরপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সীমান্তে টহলরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক কর্মকর্তা বলেন, গতকাল সকাল ৭টার দিকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার ৪০-৪১ সীমান্ত পিলার এলাকার ওপর চক্কর দিয়ে গোলা নিক্ষেপ করে।

তুমব্রু বাজার সর্বজনীন দুর্গামন্দির কমিটির সভাপতি রুপলা ধর বলেন, মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা তুমব্রুর ওপারের ক্যাম্প থেকে গতকাল সকাল ১০টায় সে দেশের অভ্যন্তরে একটি মর্টার শেল নিক্ষেপ করা হয়। এই আওয়াজে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাইশফাঁড়ির উত্তরপাড়ার এসএসসি পরীক্ষার্থী আয়শা বেগম বলে, ‘শুক্রবার রাতে মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান থেকে গোলার শব্দে আতঙ্ক ছড়ালেও কিছুটা সহনীয় ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে গোলাগুলির আওয়াজ বেড়ে গেছে। এর মধ্যে পরীক্ষা দিতে যেতে হয়েছে। ভয়ে ভয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি।’

নো ম্যানস ল্যান্ডে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্তও গুলির শব্দ পাওয়া গেছে।


বাথরুমে স্বামীর, ঘরের মেঝেতে পড়েছিল স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ

বাথরুমে স্বামীর, ঘরের মেঝেতে পড়েছিল স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ
বৃদ্ধ দম্পতির মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়রা ভিড় জমায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় বৃদ্ধ দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার পুরাতন বাজার পাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন, আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার পুরাতন বাজার পাড়ার বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী নজির উদ্দিন ও তার স্ত্রী ৬০ বছর বয়সী ফরিদা খাতুন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। নজির উদ্দিনের লাশ পড়েছিল বাথরুমে আর তার স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ ছিল ঘরের মেঝেতে। তাদের দুজনের হাত ও মুখ বাঁধা ছিল। মরদেহ দুটির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ পিবিআই’র একটি টিম ও চুয়াডাঙ্গা সিআইডি’র একটি টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, নজির উদ্দিন জমি জালিয়াতি চক্রের হোতা ছিলেন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।


বাবার সামনে পা পিছলে ট্রেনের নিচে ছেলে

বাবার সামনে পা পিছলে ট্রেনের নিচে ছেলে
নিহত হাসানুজ্জামান ইমতিয়াজ। ছবি: সংগৃহীত
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নাটোরের আব্দুলপুর রেলওয়ে জংশনে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে হাসানুজ্জামান ইমতিয়াজ নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

২১ বছর বয়সী ইমতিয়াজ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর এলাকার অ্যাডভোকেট ইসাহাক আলীর ছেলে। তিনি রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার শেখ জিয়াউদ্দিন বাবলু জানান, শনিবার সকালে ঈশ্বরদী থেকে ছেলেকে নিয়ে কমিউটার ট্রেনে চড়ে রাজশাহী যাচ্ছিলেন অ্যাডভোকেট ইসাহাক আলী। ট্রেনটি আব্দুলপুর জংশনে দাঁড়ালে ইমতিয়াজ নাশতা করতে ট্রেন থেকে নামেন। পরে ট্রেনটি ছেড়ে দিলে ইমতিয়াজ দৌড়ে ট্রেনের হাতল ধরে উঠতে গিয়ে পা পিছলে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা যান। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


নানা হত্যার অভিযোগে নাতি আটক

নানা হত্যার অভিযোগে নাতি আটক
প্রতীকী ছবি
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক নাতি তার নানাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নাতি আব্দুল খালেককে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের মশাখালী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে শ্রীপুর উপজেলার বড়চালা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য গিয়াস উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহত আব্দুল হক মাদবরের ছেলে হারুন মাদবর মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে ঢুকতেই পেছন থেকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান খালেক। 

পরে পরিবারের লোকজন হারুনকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে রাত ৩টায় বাড়িতে নিয়ে আসেন। সকালে আব্দুল হক মাদবরকে ঘরে না পেয়ে সবাই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের ঘরের মেঝেতে বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় আব্দুল হকের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়া হয়। নিহতের মাথা ও নাকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, আব্দুল খালেক তার নানাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তা দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়েছেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে নানাকে হত্যা করে পালিয়ে যান আব্দুল খালেক। এ ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।


চট্টগ্রামে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

চট্টগ্রামে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত
ভাটিয়ারীতে ময়মনসিংহগামী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে ময়মনসিংহগামী যাত্রীবাহী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিজয় এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান।

মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধারে কাজ চলছে। অন্য লাইন সচল আছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

লাইন পরিবর্তনের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।