সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

বৈদেশিক মুদ্রা আনছে পাটকাঠির ছাই

বৈদেশিক মুদ্রা আনছে পাটকাঠির ছাই
পাটকাঠির ছাই বা চারকেলের চাহিদা বাড়ায় ফরিদপুরে গড়ে উঠেছে ডজনখানেক কার্বন কারখানা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

রাশেদুল হাসান কাজল, ফরিদপুর

সোনালি আঁশের রুপালি কাঠি পাটখড়ি বা পাটকাঠি পোড়ানো ছাইও এখন বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিচ্ছে। কারণ, দেশ থেকে এখন পাটকাঠির ছাই বা চারকোল বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। ব্যতিক্রমধর্মী এ পণ্যের রপ্তানি দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ থেকে চারকোলের প্রধান আমদানিকারক দেশ চীন। তবে তাইওয়ান এবং ব্রাজিলেও এটি রপ্তানি হচ্ছে।

চাহিদা বাড়ায় ফরিদপুরে গড়ে উঠেছে ডজনখানেক কার্বন কারখানা। এসব কারখানায় পাটকাঠি পুড়িয়ে তৈরি করা হয় চারকোল পাউডার বা কার্বন। আর সেই কার্বন থেকে তৈরি হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিস।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের জয়নগরে গড়ে উঠেছে গোল্ডেন কার্বন ফ্যাক্টরি ও কে এইচ কার্বন ফ্যাক্টরি নামের দুটি কারখানা। ময়না ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে রুইজানি গ্রামে রয়েছে আরও একটি কারখানা।

বর্তমানে তিনটি ফ্যাক্টরিই উৎপাদনে রয়েছে। পাটকাঠির জোগান থাকা সাপেক্ষে প্রতি বছর কমপক্ষে ছয় মাস এ ফ্যাক্টরিগুলো চালু থাকে। আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে পাটকাঠি ওঠা শুরু হয়। এরপর অক্টোবর থেকে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত মিলগুলো উৎপাদনে থাকে। প্রায় এক যুগ আগে চীনারা জয়নগরে গোল্ডেন কার্বন ফ্যাক্টরিটি নির্মাণ করেন। মূলত এটিই এ অঞ্চলের প্রথম ফ্যাক্টরি। বর্তমানে এটির মালিক স্থানীয় বাসিন্দা হীরু মুন্সি। তিনি জানান, কার্বনের কাঁচামাল পাটকাঠি ও শ্রমিক সহজলভ্য হওয়ায় এ অঞ্চলে কার্বন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। পাশের মধুখালী, আলফাডাঙ্গা ও সালথায়ও একাধিক কার্বন ফ্যাক্টরি রয়েছে। এ এলাকার কার্বন মূলত চীনে রপ্তানি হয়।

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর কার্বন উৎপাদন শুরু করে কে এইচ কার্বন ফ্যাক্টরি। এখানে দায়িত্বে থাকা সবুজ মিয়া জানান, নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মিল চালু থাকে। প্রতিদিন ৪০০ মণ পাটকাঠির প্রয়োজন হয় এখানে। প্রতি মণ পাটকাঠি থেকে প্রায় ১০ কেজি কার্বন উৎপন্ন হয়। প্রতি কেজি কার্বন ৫৫ টাকায় বিক্রি করা হয়।

রুইজানিতে অবস্থিত ফ্যাক্টরির ম্যানেজার খোরশেদ আলম জানান, এখানে কার্বনের ৯৫ ভাগ আমদানি করে চীন। বাকি ৫ ভাগ অন্যান্য দেশ আমদানি করে। এখানে চারকোল পাউডার থেকে কার্বন পেপার, কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ারের কালি, আতশবাজি, ফেসওয়াশের উপকরণ, মোবাইলের ব্যাটারি, প্রসাধনী পণ্য, দাঁত পরিষ্কারের ওষুধ ও খেতের সারসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়।

তিনি আরও জানান, পাটখড়ি বিশেষ চুল্লিতে লোড করে ১০-১২ ঘণ্টা জ্বালানোর পর চুল্লির মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে কোনোভাবেই ভেতরে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না। এভাবে চারদিন রাখার পর সেখান থেকে ক্র্যাশিং করে কার্বন প্যাক করা হয়।

খোরশেদ আলম জানান, প্রতি চালানে সাড়ে ১২ কেজির ৬ হাজার বস্তা কার্বন উৎপাদন করা হয়। এ কার্বন উৎপাদনে পাটখড়ি লাগে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ মণ। প্রতি চার কেজি পাটখড়ি থেকে এক কেজি কার্বন উৎপন্ন হয়। প্রতি মণ পাটখড়ি বর্তমানে ২৫০ টাকা করে কেনা হয়। প্রতি মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে কমপক্ষে দুই লাখ টাকা তাদের লাভ থাকে।

এদিকে, মধুখালীর দিঘলিয়ায় জিনসিং ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড নামে গড়ে উঠেছে একটি কার্বন ফ্যাক্টরি। এর মালিক চীনা নাগরিক ওয়াং চুয়াং লি। ১৮টি চুল্লির মাধ্যমে পাটখড়ি পুড়িয়ে এখানে কার্বন তৈরি করা হয়। এ মিলে প্রতিদিন ৩০ টন পাটকাঠির প্রয়োজন হয় বলে জানান ফ্যাক্টরির ম্যানেজার আব্দুর রহিম। তবে এই ব্যবসায় মালিকরা লাভ করলেও ফ্যাক্টরিতে কাজ করা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে ফ্যাক্টরির ভেতরে যারা কাজ করেন তাদের কারও মুখে মাস্ক নেই। মাথায় মাথাল কিংবা তাদের পরনেও নেই বিশেষ কোনো পোশাক। শ্রমিকদের সারা শরীর ছাই আর ময়লায় মাখামাখি থাকে। তাই শ্বাসকষ্টসহ নানা রকম রোগের ঝুঁকি রয়েছে তাদের।

অন্যদিকে, চুল্লির পাইপ ছোট হওয়ায় ফ্যাক্টরির পাশের ফসলি জমির ক্ষতি করছে পাটকাঠি পোড়ানো ছাই। আর সে জন্য বোয়ালমারীর গুনবহা গ্রামের কাজী সাকলায়েন আজিজ রথি গুনবহা মাঠে একটি কার্বন ফ্যাক্টরি স্থাপনের কাজ শুরু করলেও পরিবেশ দূষণের কথা বলে সেটি বন্ধ করে দেন এলাকাবাসী।

বাংলাদেশ চারকোল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিসিএমইএ) তথ্য মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে চারকোল রপ্তানি হয় ৪ হাজার ১৮২ দশমিক ২৭ টন। প্রতি টনের মূল্য ৭০০ ডলার। সে হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা আসে ২৯ লাখ ২৭ হাজার ৫৮৯ ডলার বা ২৪ কোটি ৮১ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্র মতে, চারকোল রপ্তানি করে বছরে ৩২ কোটি ২৫ লাখ ডলার আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার এ খাত থেকে বছরে রাজস্ব পেতে পারে ৪০ কোটি টাকা। এছাড়া এ খাতে প্রত্যক্ষভাবে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।

ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম জানান, কার্বন ফ্যাক্টরি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি স্থানীয় আর্থসামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখছে। আমাদের দেশে পাটখড়ি রান্নার জ্বালানি আর বেড়া দেয়া ছাড়া আর কোনো কাজে লাগত না। এখন পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষক টাকা পাচ্ছে।

ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, জেলায় এবার মোট ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ অঞ্চলে প্রায় ১৩০ কোটি টাকার শুধু পাটকাঠি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, পাটের সোনালি আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিরও বেশ চাহিদা রয়েছে। পাটকাঠির ছাই এখন বৈদেশিক মুদ্রা আনছে।


একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র আর নেই

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র আর নেই
সাংবাদিক রণেশ মৈত্র । ছবি : সংগৃহীত
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র মারা গেছেন। আজ সোমবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ বলেন, তার সন্তান অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে আসছেন। তিনি এলেই পারিবারিক সিদ্ধান্তে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

১৯৩৩ সালে রাজশাহী জেলার ন’হাটা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন রণেশ মৈত্র। পৈত্রিক বাসস্থান পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া গ্রামে। তিনি ১৯৫৫ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৫৯ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫১ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নওবেলাল পত্রিকার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতার শুরু। এরপর কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সত্যযুগে তিন বছর সাংবাদিকতার পর ১৯৫৫ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৬১ সালে ডেইলি মর্নিং নিউজ এবং ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত দৈনিক অবজারভারে পাবনা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে দি নিউ নেশনের মফস্বল সম্পাদক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দি ডেইলি স্টারের পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পাবনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।

রণেশ মৈত্রের মৃত্যুতে পাবনার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকসহ নানা পেশাজীবি সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন।


এখন অপেক্ষা শুধু লাশের

এখন অপেক্ষা শুধু লাশের
নিখোঁজদের লাশের অপেক্ষায় করতোয়ার তীরে স্বজনরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৬০ জন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের লাশের অপেক্ষায় করতোয়ার পাড়ে অবস্থান করছেন স্বজনেরা।

মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারলেই নদীর পাড় থেকে স্বজনরা ছুটে আসছেন ইউনিয়ন পরিষদে। হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে মাড়েয়া ইউনিয়নে।

আজ সোমবার সকালে আউলিয়ার ঘাট এলাকায় দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস এবং ডুবুরি দলের তিনটি ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেখানে ভিড় করছে নিখোঁজদের স্বজনেরা।

ষাটোর্ধ্ব কৃষ্ণ চন্দ্র রায় ভাই এবং ভাতিজার খোঁজে এসেছেন আউলিয়া ঘাটে। তিনি জানান, নদীর অপর পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পুজায় যোগ দিতে তার ভাই নরেশ ও ভাতিজা সিন্টু বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেননি। নৌকাডুবির খবরে কাল থেকেই এখানে লাশের অপেক্ষা করছেন তিনি।

নাতির খোঁজে উপজেলার পাঁচপীর এলাকা থেকে এসেছেন বৃদ্ধ সুমল চন্দ্র। তিনি বলেন, নাতির মরদেহটা পেলে অন্তত নিজেরা সৎকারের কাজটা করতে পারতাম।

মাড়েয়া বটতলি এলাকার ধীরেন বাবুর দুই প্রতিবেশিসহ ৭ জন নিকটাত্মীয় এখনও নিখোঁজ। কাল থেকে তিনি নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পুজায় যোগ দিতে ভাতিজা, ভাতিজার বউ, ভাতিজার শ্বশুর, শ্যালিকা এবং আমার ভাতিজি নৌকায় ওঠে দুর্ঘটনায় পড়েন। এখন পর্যন্ত কারও খোঁজ পাইনি। এখন তাদের লাশের জন্য অপেক্ষা করছি।

এর আগে গতকাল রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরিদল। ভোর থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া মোট ৩২টি মরদেহের মধ্যে নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও নারী।

এদিকে ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। গভীর রাত পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলে। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। 


নিখোঁজ কৃষকের লাশ মিলল নদীতে

নিখোঁজ কৃষকের লাশ মিলল নদীতে
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ছাইদুর রহমান (৪০) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে উপজেলার গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের এক নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন ছাইদুর। উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের বলতৈল গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে তিনি।

উল্লাপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনামুল হক ছাইদুরের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে বের হন ছাইদুর। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। এর মধ্যে গতকাল রোববার ছাইদুরের মোবাইল নম্বর থেকে তার স্ত্রীর ফোনে কল করে এক ব্যক্তি দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। পরে এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ছাইদুরের স্ত্রী বুলবুলি খাতুন। এরপর সোমবার সকালে নদীতে ছাইদুরের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মোবাইল নম্বরের সূত্রধরে খুনিদের ধরার চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


স্বামীর বটির কোপে প্রাণ গেল স্ত্রীর

স্বামীর বটির কোপে প্রাণ গেল স্ত্রীর
লাশ। প্রতীকী ছবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে স্বামীর বটির কোপে রিনা খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান ওই গৃহবধূ।

রিনা উপজেলার ছাত্রাজিতপুর ইউনিয়নের কমলাকান্তপুর গ্রামে মনিরুল ইসলামের স্ত্রী।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবায়ের আহমেদ জানান, রিনা খাতুনের সঙ্গে স্বামী মনিরুল ইসলামের রোববার বিকালে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে মনিরুল রিনার পেটে ও মাথায় বটি দিয়ে কোপায়। স্থানীয়রা রিনাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী পাঠায়। পরে রাজশাহী নেওয়ার পথে মারা যান রিনা।

জুবায়ের আহমেদ আরও জানান, ঘটনার পর থেকে মনিরুল ইসলাম পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।


স্কুলড্রেসে বাইরে ঘোরাফেরা করলে আটক: এসপি

স্কুলড্রেসে বাইরে ঘোরাফেরা করলে আটক: এসপি
নীলফামারীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত

স্কুল চলাকালীন কোন শিক্ষার্থী পার্ক বা বিভিন্ন জায়গায় স্কুলড্রেস পরে ঘোরাফেরা করলে তাকে আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়া স্কুল-কলেজের সামনে বা পাড়া-মহল্লায় কোন বখাটে ঘোরাফেরা করলে তাদেরও আটক করে গোয়েন্দা কার্যালয়ে (ডিবি) নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার বিকেলে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠে অনুষ্ঠিত ‘ওপেন হাউজ ডে’-এর অনুষ্ঠানে এসব ঘোষণা দেন নবাগত পুলিশ সুপার।

সৈয়দপুর থানার আয়োজনে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আমিরুল ইসলাম, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসাইন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল হক, সৈয়দপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিন হোসেন।

মাদকের বিস্তার রোধে আগামী এক মাসের মধ্যে সবাইকে নিয়ে সৈয়দপুরকে মাদক মুক্ত করার ঘোষণাও দেন এসপি।