শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২

শৈলকুপায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত

শৈলকুপায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত
প্রতীকী ছবি।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দোকানে মোবাইল রাখাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চর গোলকনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন, একই গ্রামের কোরবান আলী (৫৯), উম্বাত আলী (৫৫), মামুন হোসেন (১৬), ইউনুস আলী (৩৫), শিপন হোসেন, গফুর মোল্লা (৪৫), আব্দুল মজিদ (৫০), রহিম মোল্লা (৫৫), নজির মোল্লা (৫২) ও রাশেদ আলীসহ (২৭) ১৫ জন।

স্থানীয়রা জানান, গত রোববার সন্ধ্যায় ওই গ্রামের ইউনুস মন্ডলের চায়ের দোকানে ভুলে মোবাইল রেখে বাড়ি চলে যান একই গ্রামের ইউসুফ মোল্লা। পরে মোবাইল নিতে এলে ইউনুস তা নিজের দাবি করেন। এ নিয়ে ওইদিন ইউনুস ও ইউসুফের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সোমবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংষর্ঘে বেশ কয়েকজন আহত হন। এর জেরে আজ সকালে আবারও উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শৈলকুপা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত আভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।


সেতুর অভাবে ভোগান্তি

সেতুর অভাবে ভোগান্তি
সেতুর অভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দুই হাজার মানুষকে। ছবি: দৈনিক বাংলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ও নাসিরনগরের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কান্তা খাল। খালের এক পাড়ে নাসিরনগর উপজেলার সর্ববৃহৎ প্রাচীন বাজার চাতলপাড় এবং অপর পাড়ে রয়েছে সরাইলের অরুয়াইল বাজার। খাল পার হয়ে প্রতিদিন অন্তত দুই হাজার মানুষকে এই দুই পাড়ের বাজারগুলোতে যাতায়াতে ব্যবহার করতে হয় নৌকা। খালটিতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েও সুফল পাননি স্থানীয় বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাতলপাড় বাজারের আশপাশের অর্ধশতাধিক গ্রাম নাসিরনগর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। এসব গ্রাম তাদের উপজেলা সদর থেকে অন্তত ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাই এসব গ্রামের মানুষ যাতায়াতের সুবিধার্থে আর নিকটস্থ এলাকা হওয়ায় নৌকা দিয়ে পার হয়ে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে কেনাকাটা থেকে শুরু করে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনে চলে আসে। তা ছাড়া নাসিরনগরের সেসব গ্রামের মানুষের অনেকেই সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন। এ অবস্থায় একটি সেতুর অভাবে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরাইলের অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘এই একটি সেতুর জন্য দুটি উপজেলার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কয়েক বছর আগে এই খালে সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। দুই পাড়ে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কাজে আসেনি ওই এলাকার মানুষের। আস্তে আস্তে সেতুটি ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। দুই উপজেলার মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য খালে সেতু নির্মাণ জরুরি।’

নাসিনগরের চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুর দাবি জানাতে জানাতে এখন সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছেন। রাতের বেলা কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেয়ার পথে এই খালের কাছে আটকে যান মানুষ। কারণ, তখন খেয়াঘাটে নৌকা থাকে না। এমনও হয়েছে খেয়া ভাড়া দেয়ার অভাবে অনেক বাচ্চা স্কুলে নিয়মিত যায় না।’

নাসিরনগরে বাসিন্দা কামাল হোসেন, সরাইলের বাসিন্দা খোদেজা বেগম, অরুয়াইল-চাতলপাড় সড়কে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলচালক সুজন মিয়া বলেন, ‘দুইপাড়ের যাতায়াতের সুবিধার্থে সেতুর একটি বিশেষ প্রয়োজন। প্রতিদিন পাঁচ টাকা ভাড়া দিয়ে এপার-ওপার যাতায়াত করতে হয়। কান্তার খালে ব্রিজ না থাকায় আমরা ভাটি এলাকার দুই উপজেলাবাসী চরম দুর্ভোগে আছি। দুই পাশে রাস্তা আছে ব্রিজ নাই। ব্রিজটি নির্মাণ হলে শুধু দুর্ভোগ থেকে রেহাই নয়, সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলাবাসীর মধ্যে একটা বন্ধন সৃষ্টি হবে।’

সরাইল উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘সরাইলে যোগদান করেছি কয়ক দিন হলো। কান্তার খালে কোনো সেতু না থাকায় দুই উপজেলার মানুষ কষ্ট করছেন এটা দুঃখের বিষয়। আমি কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে যাব। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’


দেবীকে রাঙিয়ে তুলতে ব্যস্ত শিল্পীরা

দেবীকে রাঙিয়ে তুলতে ব্যস্ত শিল্পীরা
দুর্গাপূজা ঘিরে রাজধানীর পুরান ঢাকায় চলছে সাজসাজ রব। এখানকার মণ্ডপগুলোর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। ছবি: দৈনিক বাংলা
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

প্রকৃতিতে এখন শরতের শুভ্রতা। শিশিরভেজা ভোর আর শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা ‍দুয়ারে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যই স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর শারদীয় উৎসব হিসেবে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করে আসছেন। দুর্গাপূজা ঘিরে রাজধানীর পুরান ঢাকায় চলছে সাজ সাজ রব। এরই মাঝে এখানকার মণ্ডপগুলোয় প্রতিমা তৈরিতে কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দুর্গোৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ হলো দেবীদুর্গার প্রতিমা। উৎসব সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। মৃৎশিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় মাটির মূর্তিগুলো হয়ে উঠছে অপরূপ। খড় আর কাদামাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি শেষে এখন চলছে মূর্তির ওপর প্রলেপ ও রঙের কাজ। একই সঙ্গে দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে দিনরাত মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পূজা শুরুর আগেই মা দুর্গাকে তুলতে হবে মণ্ডপে। এরই মধ্যে প্রতিমার কাঠামোর মাটির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপর শুরু হবে রং ও সাজসজ্জার কাজ।

পুরান ঢাকার কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদামাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। সুনিপুণ হাতে মাটি ও রংতুলির ছোঁয়ায় দেবীকে রাঙিয়ে তুলতে ব্যস্ত শিল্পীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেউ কাদা তৈরি করছেন, কেউ কাদা থেকে হাত-পা বানাচ্ছেন, আবার কেউ ব্যস্ত রং করায়।

ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কারিগররা প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। ব্যস্ততায় যেন দম ফেলার ফুরসত নেই প্রতিমা শিল্পীদের। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি। দেবীদুর্গা ও তার বাহন সিংহের প্রতিমাসহ তৈরি করা হচ্ছে যাকে বধের জন্য দেবীর আগমন সেই মহিষাসুরের প্রতিমা। এ ছাড়া তৈরি হচ্ছে দেবীলক্ষ্মী, দেবতা কার্তিক, গণেশ, এবং তাদের বাহন পেঁচা, হাঁস, ইঁদুর আর ময়ূর। প্রতিমা তৈরির মাঠগুলো ঘুরে এমনটাই লক্ষ করা যায়।

এদিকে বাংলাবাজারের নর্থব্রুক হল রোডের জমিদার বাড়িতে দুর্গার বাহকসহ প্রতিমার শাড়ি ও অলংকার পরানোর কাজও ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। আলোকসজ্জা ও রঙিন কাগজ দিয়ে সাজানো হচ্ছে প্রতিটি মণ্ডপ। প্রতিমা দেখতে এখনই দর্শনার্থীরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয় ষষ্ঠীর আগে থেকেই। এবারের দুর্গাপূজা ১ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজা দিয়ে শুরু করে ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী দিয়ে শেষ হবে। এর আগে পঞ্চমী থেকেই শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ। তবে ষষ্ঠী থেকেই কার্যত উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয়। শাস্ত্রমতে, দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর দিন বোধন হয়।

রাজধানীতে বেশি পূজা উদ্‌যাপন হয় পুরান ঢাকায়। এবার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, প্যারীদাস রোড, কলতাবাজার, মুরগিটোলা, মদনমোহন দাস লেন, বাংলাবাজার গোয়ারনগর, জমিদারবাড়ী, গেণ্ডারিয়া, ডালপট্টি এলাকার অলিগলিতে পূজার আয়োজন করা হবে। ছোট-বড় বিভিন্ন মণ্ডপে শুরু হয়েছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ ও প্রতিমা নির্মাণের কাজ। এ বছর পুরান ঢাকায় নবকল্লোল পূজা কমিটি, শ্রীশ্রী শিবমন্দির, প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব, সংঘমিত্র পূজা কমিটি, শ্রীশ্রী রাধা মাধবজিউ দেব মন্দির, নতুন কুঁড়ি পূজা কমিটি, নববাণী পূজা কমিটি, রমাকান্ত নন্দীলেন পূজা কমিটিসহ আরও বেশকিছু ক্লাব পূজা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।

মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতি বছরই তারা অধীর আগ্রহে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজের অপেক্ষায় থাকেন। শুধু জীবিকার জন্যই নয়, দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের ধর্মীয় অনুভূতি, ভক্তি আর ভালোবাসা। দুর্গা মাকে মায়ের মতোই তৈরি করা হচ্ছে।

শাঁখারীবাজারের সংঘমিত্র পূজা কমিটির মণ্ডপে দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরি করছেন মানিকগঞ্জের সুকুমার পাল। এবারের দুর্গোৎসবে এখানকার ছয়টি প্রতিমাসহ বনানীতে আরও ছয়টি বানাচ্ছেন তিনি। দৈনিক বাংলাকে সুকুমার পাল জানান, সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকায় এসব প্রতিমা বানানো হচ্ছে।

শাঁখারীবাজার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী বলাই পাল। তিনি বলেন, ‘এখনই বছরের সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছি। পূজার আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। তাই দম ফেলার সময়ও নেই। এর মধ্যেই দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির সব কাজ শেষ করতে হবে।’

শাঁখারীবাজারের প্রতিমাশিল্পী সুশীল নন্দী মারা যাওয়ায় এবার এ মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব নিয়েছেন তার মেয়ে অনামিকা নন্দী। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই বাবার কাছে এই কাজ দেখে ও শিখে আসছি। প্রাথমিকভাবে খড়, কাঠ, বাঁশ, সুতা, তারকাটার প্রয়োজন হয়। মূর্তি শুকানোর পর রং করা হয়।’

কাজ শেষে বিশ্রামের ফাঁকে প্রতিমাশিল্পী পল্টন পাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যত কষ্টই করি না কেন, যখন দেবীকে তার স্বরূপে মণ্ডপে বসানো হবে তখন সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে যখন আমাদের তৈরি প্রতিমাকে সবাই পূজা করেন। তখন নিজেকে আমার সফল, সার্থক মনে হয়।’

দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে শিবমন্দির পূজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ গগণ বলেন, ‘পূজায় সর্বস্তরের মানুষের সমাগম ঘটবে। এটি যেমন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব, তেমনি এতে অন্য ধর্মের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। তাই সবার কথা মাথায় রেখে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


প্রতিমা গড়ে জীবন পার

প্রতিমা গড়ে জীবন পার
৮০ বছর বয়সেও সুনিপুণ দক্ষতায় প্রতিমা নির্মাণ করে চলেছেন মন্টু চন্দ্র পাল। ছবি: দৈনিক বাংলা
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

১৫ বছর বয়সে প্রতিমা নির্মাণে হাতেখড়ি। তখন অবশ্য বাবা-দাদাকে সহায়তাতেই সীমাবদ্ধ ছিল কাজ। বয়স ২০ বছর হলে নিজেই শুরু করেন প্রতিমা নির্মাণ। দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে ৬০ বছর। শেরপুর সদরের বয়ড়া পরাণপুর পালপাড়ার মন্টুচন্দ্র পালের বয়স এখন ৮০। বংশপরম্পরায় কৈশোরে যে কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, বয়োবৃদ্ধ হয়েও যে কাজ ছেড়ে দেননি। অভিজ্ঞ আঙুলের কারুকাজে এখনো নিপুণ প্রতিমা নির্মাণ করে চলেছেন তিনি। তার হাতে নির্মিত দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী-সরস্বতী-কার্তিক-গণেশের প্রতিমা যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে ভক্তদের কাছে।

শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে ফের ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন মন্টু চন্দ্র পাল। বয়ড়া পরাণপুর পালপাড়ার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, এই বয়সেও কাদামাটি দিয়ে একটু একটু করে নিপুণ হাতে গড়ে তুলছেন দেবী প্রতিমা। সেই কাজ করতে গিয়ে শরীরে ক্লান্তি এলেও মনের আনন্দ তাকে ভুলিয়ে দেয় সেই ক্লান্তি।

৬০ বছর ধরে নিজ হাতে পালপাড়ার প্রতিমা তৈরির কারিগর মন্টুচন্দ্র পাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাপ-দাদারা সবাই প্রতিমা বানাতেন। তাদের হাত ধরেই প্রতিমা বানানো শুরু। মা দুর্গার প্রতিমা তৈরি করে খুব আনন্দ পাই।’

মন্টুচন্দ্রের মতো তার ছেলেরাও বেছে নিয়েছেন প্রতিমা তৈরির কাজ। একই কাজে সহায়তা করে থাকেন পুত্রবধূরাও। কিন্তু বর্তমান সময়ে খরচের সঙ্গে কুলিয়ে এই পেশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য।

মন্টু চন্দ্র বলেন, ‘এখন তো প্রতিমা তৈরিতে খরচ অনেক। কিন্তু প্রতিমার দাম তো আগের মতোই আছে। তাই লাভ খুব কম। এই লাভে প্রতিমা তৈরি করে কোনোভাবেই পোষায় না। তবে এ পেশা পূর্বপুরুষের পরম্পরার পেশা। তাই ছাড়তেও পারি না। এই বুড়ো বয়সে অন্য কিছু তো করতেও পারব না।’

প্রতিমা তৈরিতে শ্বশুরকে সহযোগিতা করছিলেন রেখা রানী পাল। তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুর ৬০ বছর ধরে এই কাজ করছেন। শ্বশুরের মতো আমরাও সবাই এ কাজ করছি। সব জিনিসের দাম বেশি। তাই এখন পোষায় না। সরকার আমাদের কিছু সাহায্য করলে খুব ভালো হয়।’

কদিন পরই ‍শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেবীদুর্গার আগমন ঘিরে তাই মন্টুচন্দ্র এবং তার ছেলে ও পুত্রবধূদের কাটছে ব্যস্ত সময়। একই চিত্র শেরপুরের অন্য কারিগরদেরও। তবে মন্টু চন্দ্রের মতো তাদেরও অভিযোগ, প্রতিমা তৈরি উপকরণের দাম বাড়ায় প্রতিমার খরচ বাড়লেও তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।

প্রতিমা কারিগর আদিত্য কুমার পাল বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে এ কাজ করছি। সব জিনিষের দাম বেশি। যে মজুরি পাই, এ টাকা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। এর আগে যে দামে প্রতিমা তৈরি করতাম, এখনো একই দামে করতে হচ্ছে। কিন্তু সব জিনিসের দাম তো বেড়ে গেছে। সেটা কেউ বোঝেন না।’

প্রতিমা কারিগরদের বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, কাদামাটি দিয়ে দুর্গাসহ কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী আর সরস্বতীর অবয়ব অনেকটাই তৈরি এখন। এখন শুরু হবে রঙের আঁচড় দেয়ার কাজ। তারপর অলংকরণের মাধ্যমে মণ্ডপে যাওয়ার প্রস্তুত হবে প্রতিমাগুলো।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য থেকে জানা যায়, এ বছর শেরপুর জেলায় ১৬৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছে। এর মধ্যে শেরপুর সদরে ৭৭টি, নালিতাবাড়ীতে ৩৬টি, নকলায় ২১টি, ঝিনাইগাতীতে ১৯টি ও শ্রীবরদী উপজেলায় ১০টি মণ্ডপ রয়েছে। ১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসব।


সরঞ্জাম নষ্ট, ব্যাহত দাঁতের চিকিৎসা

সরঞ্জাম নষ্ট, ব্যাহত দাঁতের চিকিৎসা
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল

মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বেশ কিছু দিন ধরে প্রচণ্ড দাঁতের ব্যথায় ভুগছেন রাজিব মিয়া। কিন্তু তার জানা মতে, দাঁতের চিকিৎসা মানেই অনেক টাকার ব্যাপার। আক্ষেপ করে রাজিব মিয়া বলেন, ‘গরিব হয়ে এত টাকা খরচ করার সামর্থ্য আমার নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে যদি দাঁতের চিকিৎসা হত তাহলেও করতে পারতাম। কিন্তু হাসপাতালে তো চিকিৎসা নেই। আমরা কই যাব?’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাজিব মিয়ার মতো নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা দাঁতের চিকিৎসা নিয়ে এমন বিপাকে পড়েছেন। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে অধিকাংশ সরঞ্জামই নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় মিলছে না দাঁতের চিকিৎসা। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দাঁতের সমস্যা নিয়ে রোগী এলেও ফিরে যেতে হচ্ছে চিকিৎসা না পেয়ে।

জানা গেছে, গত বছরের ৩১ অক্টোবর ডেন্টাল সার্জন মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে ডেন্টাল ইউনিটের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অটোক্লেভ মেশিনের জন্য আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটের যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ অটোক্লেভ মেশিন দরকার।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান গত ৬ জানুয়ারি ডেন্টাল ইউনিটের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের চিফ টেকনিক্যাল ম্যানেজার (উপসচিব) এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর চিঠি দেন।

হাসপাতালের ডেন্টাল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিমিউ অ্যান্ড টিসি বিভাগের সিনিয়র টেকনিশিয়ান (যান্ত্রিক) মো. হাফিজুর রহমান ২ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে যান। তিনি ডেন্টাল ইউনিটের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তিনি দেখতে পান, ডেন্টাল কক্ষের এয়ার কম্প্রেসর পাওয়ার কাজ করে না, মোটরটি পুড়ে গেছে, প্রেশার কন্টোল সুইচ ও পাওয়ার সার্কিট নষ্ট।

জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ২১০ নম্বর কক্ষে দেখা গেছে, রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার ডেন্টাল চেয়ার, বাতি ও কম্প্রেসর অকেজো হয়ে গেছে। তবে রুট ক্যানেল, দাঁত ফিলিং ও দাঁত তোলার সেবা দেয়া হয়, সেটিও সীমিত পরিসরে। সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার কেবল শিশু ও বয়স্ক রোগীদের দাঁত তোলা হয়।

জানতে চাইলে ডেন্টাল সার্জন ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় ডেন্টাল ইউনিটটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে রয়েছে। নেই তেমন জনবল। শুধু শিশু ও বয়স্কদের দাঁত তোলার পাশাপাশি অন্য রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকি।’

ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, ‘ডেন্টাল ইউনিটে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলে এখান থেকেই দাঁতের সব ধরনের সেবা দেয়া সম্ভব হতো। যন্ত্রপাতির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।’

জানতে চাইলে ‘ডেন্টাল ইউনিটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে’ জানিয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান।


শৌচাগারসংকটে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে জামালপুরের পাহাড়িরা

শৌচাগারসংকটে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে জামালপুরের পাহাড়িরা
জামালপুরের গারো সম্প্রদায় এখনো এ রকম অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার ব্যবহার করে। ছবি: দৈনিক বাংলা
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সাইমুম সাব্বির শোভন, জামালপুর

প্রাচীন অনেক সভ্যতা পেরিয়ে পৃথিবী আজ একবিংশ শতাব্দীতে। এ শতাব্দীর বিগত ২১ বছরেও বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে। এ সময়ে মানুষ আরও ভালোভাবে বেঁচে থাকার কৌশল রপ্ত করেছেন। বিজ্ঞানের এ অগ্রযাত্রার ফলে শহরের মতো গ্রামেও মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে। অথচ এই যুগেও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের সংকটে রয়েছে জামালপুরের পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা। এ জন্য খোলা জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মলত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অথচ যিশু খ্রিষ্টের জন্মের তিন হাজার বছর পূর্বে শৌচাগার ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আবির্ভাব ঘটেছিল।

ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা নয়নাভিরাম পাহাড়ি অঞ্চল বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউনিয়ন। জেলা সদর থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার উত্তরে এই পাহাড়ি জনপদে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন গারো সম্প্রদায়ের প্রায় তিন হাজার সদস্য। তাদেরই একজন মনিকা মারাক। উপজেলার দিঘলাকোনা এলাকার ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সদস্য তিনি। স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে টানাপোড়েনের ছোট সংসার তার। অর্থের অভাবে শৌচাগার নির্মাণ করতে পারেননি মারাকের স্বামী। তাই খোলা আকাশের নিচে অথবা অন্যের শৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে এ পরিবারের সদস্যদের।

মনিকা মারাক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘হাতের ওপর সংসার। কেমনে টাকা-পয়সা হইব? যখন টাকা-পয়সা হয়, তখন টয়লেট আনতে চাইলেও আরেক ভেজাল বাইজে যায়গা। এই জন্য আনা হয় না। সরকার থেকে তো অনেক কিছুই দিতাছে। কিন্তু আমরা তো পাইতাছি না। আমরা তো চাই যে, সরকার থেকে একটা কল বা একটা বাথরুম যাতে পাই। এইডেই তো আমগোরে দরকার বেশি। আমরা আর বেশি কিছু আশা করি না।’

মনিকা আরও বলেন, ‘আমরা যখন ছোট আছিলাম, তখন তো পাহাড়ে-জঙ্গলে পায়খানা করছি। এহন এই যে মাসিগোরে বাথরুম আছে, ওখানে যাই। এইভাবে কত দিন চলব, জানি না।’

দিঘলাকোনা এলাকার আরেক বাসিন্দা দিলিপ সাংমা বলেন, ‘আমাদের এখানে বাথরুম নাই। তাই পায়খানা-প্রস্রাবের জন্য অসুবিধায় আছি। আমাদের এখন বাথরুম নাই বলে এখন পাহাড়েই বাথরুম, মানে ওখানে পায়খানা করি। সমস্যা একটাই, টাকা-পয়সা হাতে নাই। যেগুলা টাকা-পয়সা আসে, বাচ্চা পুলাপান পড়াই। সংসারটা এইভাবেই চলছে আর কী।’

দিঘলাকোনা এলাকার সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা ফরলা সাংমা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। টাকা-পয়সা নাই হাতে। ঘরবাড়িই ঠিক নাই। বাথরুম কেমনে করমু? কেরা কইরে দিব?’ আরেক বাসিন্দা মারগেট সাংমা বলেন, ‘সরকার তো বাথরুম দিছে। কিন্তু এক বছর না যাইতে নষ্ট হয়ে গেছে। কেমনে ঠিক করব? কামাই তো নাই, টেকাও নাই হাতো। সংসারে খাওয়ার চাল-ডাল কিনব, না এইগুলা ঠিক করব?’

এদিকে পাহাড়ি অঞ্চলে যে কয়েকটি শৌচাগার রয়েছে, তাদের অধিকাংশই অস্বাস্থ্যকর ও ভঙ্গুর। আর্থিক সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে না পারায় ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন গারো সম্প্রদায়ের এসব বাসিন্দা। তাই পিছিয়ে থাকা এসব জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ও পরিবেশ রক্ষায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।

বকশীগঞ্জ ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি পিটিশন সাংমা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এই পাহাড়ি এলাকায় আমাদের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীদের এখন পর্যন্ত ভালো টয়লেট নাই। এখানের লোকেরা এখনো পাহাড়ে, খালে ও জঙ্গলে পায়খানা-প্রস্রাব করে। সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীরা যদি পদক্ষেপ নেন, তাহলে আমাদের জন্য উপকার হতো। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীরা এসব এলাকায় এসে সচেতনতা বিষয়ক বৈঠক করলেও অনেক উপকার হতো।’

জামালপুরের মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘২০১৫ সালে সারা দেশে শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন (টয়লেট) থাকার ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো- এখনো ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় প্রতিটি পরিবারের ল্যাট্রিন নেই। একটি ল্যাট্রিন থাকলেও একাধিক পরিবার সেটা ব্যবহার করে এবং সেটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন একটি সার্ভে করে যাদের বাড়িতে ল্যাট্রিন নাই। শিগগিরই তাদের ল্যাট্রিন দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’

এ বিষয়ে জামালপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমানে জামালপুরের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ নেই। পয়ঃনিষ্কাশন তথা টয়লেটের জন্য অনেক বড় আকারে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। সেটি পাস হলে তখন নিয়মিত বরাদ্দ থাকবে। সেটি দিয়ে তাদের জন্য আমরা অনেক কিছু করতে পারব।’