বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২

সার বিতরণে অনিয়মে ছাড় নয়: খাদ্যমন্ত্রী

সার বিতরণে অনিয়মে ছাড় নয়: খাদ্যমন্ত্রী
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ছবি: দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ওএমএস, খাদ্যবান্ধব ও সার বিতরণে কেউ অনিয়ম-দুর্নীতি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

তিনি বলেন, অনিয়ম করলে প্রয়োজনে জেল-জরিমানা ও ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে নওগাঁর মহাদেবপুরের ভিমপুর এলাকায় প্রস্তাবিত রাইস সাইলো নির্মাণের মাটি ভরাট কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন মন্ত্রী।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সারের সংকট নিয়ে মিথ্যা রটিয়ে একটি গোষ্ঠী আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে। তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। সার নিয়ে অহেতুক অস্থিরতা তৈরি করলে কেউই রেহাই পাবে না।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গত বছর থেকে এবার সারের বরাদ্দ এক টনও কমেনি, কিন্তু জমির পরিমাণ কমেছে। এ অবস্থায় সার সংকট হওয়ার সুযোগ নেই। এখানে সার নিয়ে প্যানিক সৃষ্টি করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, যাদের সার প্রয়োজন নেই, তারাও ডিলারের কাছে গিয়ে দীর্ঘ লাইন ধরে একটা ঝামেলা তৈরি করে অঘটন ঘটনার চেষ্টা করছে। নওগাঁয় সারের সংকট যাতে না হয়; এজন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। কোথাও সারের কোনো সংকট নেই।

নওগাঁয় প্রস্তাবিত অত্যাধুনিক সাইলো সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নওগাঁয় ১৫ একর জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার একটি অত্যাধুনিক সাইলো। ইতিমধ্যে সেখানে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে।

সাইলোটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে খাদ্যশস্য ও নিরাপদ মজুতের পাশাপাশি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে। অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া এই সাইলোতে দুই বছর পর্যন্ত চাল মজুত রাখলে গুনগত মান নষ্ট হবে না।

এ সময় রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটোয়ারী, খাদ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব সহিদুজ্জামান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলমগীর কবিরসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


অবসরে যাচ্ছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর

অবসরে যাচ্ছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর
পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে অবসরে পাঠাচ্ছে সরকার। বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে এই অবসর দেওয়া হচ্ছে।

তাকে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ‘ল্যাম্প গ্রান্ট’সহ আগামী ১ অক্টোবরের থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরের অবসর ও অবসরোত্তর ছুটিও দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নং আইন) এর ধারা ৪৩(১) (ক) অনুযায়ী এই অবসর দেয়া হয়েছে।


বিজয় নিশান উড়ছে ঐ

বিজয় নিশান উড়ছে ঐ
ছাদখোলা বাসে সাফজয়ী মেয়েরা। ছবি : দৈনিক বাংলা
তরিকুল ইসলাম সজল
প্রকাশিত

তরিকুল ইসলাম সজল

অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন। কবিতা লেখার অপেক্ষা নয়,  সেটা আগেই লেখা হয়ে গেছে। সবাই অপেক্ষায় কবির। একজন নয়, দুজন নয়, ২৩ জন কবির অপেক্ষায় সকাল থেকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে ভিড় করে দাঁড়িয়ে শ্রোতারা।

আগেই জানা ছিল, তাদের দেখা মিলবে বেলা দুইটার পর। কিন্তু তীব্র রোদ উপেক্ষা করে সহস্র মুখ হাজির কাল। বাংলাদেশের আনসারের বাদক দল তাল তুলল বাদ্যযন্ত্রে। ‘মাগো ভাবনা কেন?’- পাশ থেকে হর্ষধ্বনি আর উল্লাস। ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ স্লোগানে মুখরিত বিমানবন্দর এলাকা। সে আবেগের রেণু ছড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশে।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী দলকে বরণের দৃশ্যে বারবার এমন আবেগই ধরা পড়ল।

২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির পর ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। দুই বছর আগে এমনই এক বিজয় উল্লাসের দেখা মিলেছিল। সে দিন ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরেছিল আকবর আলীর দল। কাল মেয়েদের সাফের শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরলেন সাবিনা খাতুনরা।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু; সেটা কাকলী, মহাখালী, জাহাঙ্গীরগেট, বিজয় স্মরণী, তেজগাঁও, আরামবাগ হয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে। ছাদখোলা বাসে সাবিনা-তহুরা-মারিয়াদের বাফুফেতে পৌঁছাতে প্রায় ৪ ঘণ্টা। কিন্তু এ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফুটবলারদের মনে তেমন কোনো অনুযোগ অবশ্য দেখা যায়নি। পুরোটা পথ যে সমর্থকদের ভালোবাসা ও আদর মাখতে মাখতে এগিয়েছে তারা।

এই ভালোবাসা আগে থেকেই ছিল। তবে সুপ্ত আগ্নেয়গিরিতে বিস্ফোরণ ধরিয়ে দিয়েছিলেন সানজিদা আকতার। ফাইনালের আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিমান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে। সমাজের টিপ্পনীকে একপাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছে, তাদের জন্য এই ট্রফিটি জিততে চাই।’

সানজিদারা ট্রফি নিয়ে ফিরেছেন কাল, আর ভালোবেসে তাদের বরণ করে নিতে ছুটে গেছেন সমর্থকরা। ২১ সেপ্টেম্বর ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার আঞ্চলিক শিরোপার স্বাদ পেল বাংলাদেশের মেয়েরা।

সকাল থেকে গোটা এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা, সংবাদকর্মীদের ভিড়। ভিড়ের কারণে বিমান থেকে নেমে লোকচক্ষুর সম্মুখে আসতে সাফজয়ীদের লেগে গেল প্রায় ৫০ মিনিট। বাধ্য হয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বাতিল হয়ে যায়।

ঋতুপর্ণা চাকমা অবাক হয়ে বললেন, ‘আমরা মনে করেছিলাম মানুষ থাকবে। কিন্তু এত বেশি মানুষ আসবে এটা একেবারে অপ্রত্যাশিত।’ তাতে অবশ্য আনন্দে কমতি পড়েনি কারও। টুর্নামেন্টসেরা গোলকিপার রুপনা চাকমার উচ্ছ্বাস বাঁধনহারা, ‘অনেক, অনেক, অনেক ভালো লাগছে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরতে পেরে।’ অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও তৃপ্ত, ‘অনেক ভালো লাগছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অনেক বড় অর্জন আমাদের।’

এমন এক অর্জন সঙ্গী হয়ে গেল আব্দুল কালামের। ছাদখোলা বাস চালানোর দায়িত্ব যে বিআরটিসির এই চালকের, ‘২৪ বছরে সবচেয়ে আনন্দ অনুভব করছি আজকে। চ্যাম্পিয়নদের গাড়ি আমি চালাব। নারী ফুটবলারদের সৌজন্যে সে দিনটা এল।’ সর্বশেষ ১২ বছর ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চালান কালাম, সেখানকার শিক্ষার্থীরা তাকে ফোন দিচ্ছেন, ‘সবাই বলছে, কালাম ভাই, আপনি তো সেলিব্রিটি হয়ে যাচ্ছেন। সবাই আপনাকে দেখছে। খুব আনন্দ অনুভব করছি।’

ওমরাহ্‌ থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে পেসার তাসকিন আহমেদও জানিয়ে গেলেন কতটা খুশি মেয়েদের এমন অর্জনে, ‘অনেক বড় পাওয়া আসলে এটা, অনেক খুশির বিষয় আলহামদুলিল্লাহ। আশা করি আরও ভালো খেলবে।’

সাবিনা-ঋতুপর্ণাদের নিয়ে ছাদখোলা বাস এরপর শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছে। সমর্থকরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িবহর নিয়ে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে পতাকা উড়িয়ে সাফজয়ীদের সঙ্গী হয়েছেন। দুপুর পেরিয়ে বিকেল, বিকেল থেকে সন্ধ্যা- ভালোবাসা মেখে মেখেই কাল মতিঝিলের বাফুফে ভবনে হাজির হয়েছেন মেয়েরা।

বাফুফে ততক্ষণে লোকে লোকারণ্য। অধীর ব্যাকুল মুখগুলো সাবিনাদের আরেকটু কাছ থেকে দেখতে চায়, জানাতে চায় ভালোবাসা। দিনটা যে বিজয়ের দীপ্তি মাখার। বিজয়ী শব্দটা নিজেদের করে পাওয়ার।

সৌদিতে নির্যাতন : প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরতে চান তানিয়া

সৌদিতে নির্যাতন : প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরতে চান তানিয়া
বাগেরহাটের তানিয়া সৌদিতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ছবি : দৈনিক বাংলা
জেসমিন পাপড়ি
প্রকাশিত

কথায় কথায় মারধর। দিনে কখনো দুইবেলা, কখনো-বা একবেলা খাবার জোটে। দিনভর একটি কক্ষে বন্দি রাখা হয়। কোনো কোনো দিন আবার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেয়া হয়। আসরের নামাজের পর দরজা খুলে ঘর-গৃহস্থালির কাজ করানো হয়। চলে ভোর রাত পর্যন্ত। অথচ মাসের পর মাস বেতনও দেয়া হয় না।

সৌদি আরবে এভাবেই দিন কাটছে বাগেরহাটের তানিয়ার। সাত মাস আগে ভাগ্য বদলাতে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব পাড়ি দিয়েছিলেন। আর এখন প্রাণ নিয়ে কোনো রকমে দেশে ফিরতে পারলেই বাঁচেন।

গৃহকর্তার নিপীড়নের কথা রিক্রুটিং এজেন্সিকে জানালেও তারা এর দায় এড়াতে চাইছেন। তাদের কাছ থেকে উপেক্ষার শিকার হয়ে স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তানিয়ার স্বামী মাহফুজ শেখ।

তানিয়ার সঙ্গে ভিডিও কলে আলাপ হয় এই প্রতিবেদকের। দেখা যায়, তানিয়াকে একটি কক্ষে দরজা বন্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছে। কক্ষটিতে একটি বিছানা পাতা আছে। আশপাশে নানা জিনিসের স্তূপ। তানিয়া জানালেন, এই ঘরেই তার সারা দিন কাটে।

তানিয়া দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আসর নামাজের পর ঘরের দরজা খুলে দেয়। তখন একবার খাবার খেয়ে কাজ শুরু করি। রাতভর কাজ করে ফজরের আজানের সময় আরেকবার খাবার খাইয়ে এই ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পান থেকে চুন খসলেই মারধর করে। ফোন কেড়ে নেয়।’

মাসের পর মাস অতিরিক্ত কাজ করে আর অনাহার-অর্ধাহারে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তানিয়া।

কয়েক দিন আগে সৌদি গৃহকর্তার চড়ে তার কান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে জানিয়ে তানিয়া বলেন, ‘শুধু মারধরেই শেষ নয়। সাত মাস হলো এখানে এসেছি, কিন্তু বেতন দিয়েছে মাত্র তিন মাসের। প্রথম এক মাস ভালোই ছিলাম। কিন্তু বেতন চাওয়ার পর থেকেই এভাবে মারধর শুরু করে।’

তানিয়ার অভিযোগ, মারধরের পর কান্নাকাটি করলে গৃহকর্তা তাকে চুরির অভিযোগে পুলিশে দেয়ার হুমকি দেন। আবার কখনো বলেন, ‘পুলিশে দেব না, দেশে পাঠাব না, পাহাড়ে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলব।’

ভাষাগত কারণে সব কথা বুঝতে পারেন না তানিয়া। তাই তারা মোবাইলে গুগল ট্রান্সলেটরে লিখে সেগুলো তাকে পড়তে দেন।

তানিয়া জানালেন, দুই সন্তানসহ স্বামী নিয়ে বেশ সুখের সংসারই ছিল তার। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে স্বামী মাহফুজ শেখ উপার্জন ক্ষমতা হারালে ঋণগ্রস্ত হয়ে বিদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তানিয়ার স্বামী মাহফুজ শেখ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্ত্রীকে বিদেশ পাঠিয়েছি। কিন্তু প্রতিদিন তার কান্নাকাটি আর সইতে পারি না। এখন আমি আমার স্ত্রীকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই।’

মাহফুজ জানালেন, তানিয়াকে সৌদি আরবে পাঠানো এজেন্সির কাছে এসব কথা জানানোর পরও কোনো লাভ হয়নি।

‘তারা এখন আর ফোন ধরে না। ফকিরাপুলে তাদের অফিসে গিয়েও অভিযোগ করে এসেছি। তারা এখন বলছে, নিজের টাকা দিয়ে স্ত্রীকে ফেরত আনতে। কিন্তু সেই টাকা পাব কোথায়?’ আর্তনাদের মতো শোনায় অসহায় মাহফুজের কণ্ঠ।

তানিয়াকে বিদেশে পাঠিয়েছে রিক্রুটিং এজেন্সি আল-নূর ইন্টারন্যাশনাল। এজেন্সির মালিক মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক সৌদি নিয়োগকর্তারই সাফাই গাইলেন। তিনি বলেন, ‘তানিয়া যে বাসায় কাজ করেন সেখানে কাজ কম। ছোট পরিবার। তারা সারা দিন বাইরে থাকে। এজন্য তাকে বাসায় তালা দিয়ে রেখে যায়। আর ওখানে রাতে কাজ করতে হয়, এটাই হয়তো ওই বাসার সিস্টেম। এটা মেনে নিতে হবে।’

তার দাবি, মারধরের কথা তাকে জানানো হয়নি। চার মাস বেতন না পাওয়ার কথাও জানানো হয়নি। বললেন, ‘এখন আপনার কাছে শুনলাম। আমি সৌদিতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে কথা বলব।’

আবু বকর উল্টো তানিয়ার পরিবারের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, ‘তানিয়া একবার স্বামীর অ্যাকাউন্টে, আরেকবার বোনের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলেন। এতে নিয়োগকর্তা বিরক্ত হন। এ কারণেই হয়তো কয়েক মাস তার টাকা আসেনি।’

তানিয়া যে দেশে ফিরতে চান সে কথাও তিনি জানেন না বলে দাবি করেন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক।

অভিবাসন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রিক্রুটিং এজেন্সির নেই। কারণ, যে কর্মীকে তিনি বিদেশে নিয়ে যাবেন, তার ভালো-মন্দের দায়িত্ব সম্পূর্ণ তার এজেন্সির।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রকল্পের (ওকাপ) প্রোগ্রাম সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিদেশ যাওয়ার পর একজন নারীকর্মী ছয় মাসের মধ্যে যদি ব্যক্তিগত কারণে দেশে ফিরতে চান তাহলে তাকে নিজ খরচে ফিরতে হয়। কিন্তু তিনি যদি গৃহকর্তার কাছে নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে চুক্তি অনুযায়ী তিনবার গৃহকর্তা পরিবর্তন করবে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি। এরপরও ওই কর্মী যদি থাকতে না পারেন বা দেশে ফিরতে চান তাহলে রিক্রুটিং এজেন্সি তাকে ফেরত আনতে বাধ্য। সেক্ষেত্রে কর্মীর কাছে কোনো টাকা দাবি করতে পারবে না।

এ বিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক শহীদুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের ক্ষেত্রে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনগত প্রতিকার করে থাকি। অনিয়ম পেলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে জরিমানাও করা হয়।’

 


জানালা দিয়ে ঘরে আগুন, দম্পতি দগ্ধ

জানালা দিয়ে ঘরে আগুন, দম্পতি দগ্ধ
পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি : সংগৃহীত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নওগাঁর পত্নীতলায় দুর্বৃত্তের আগুনে দগ্ধ হয়েছেন এক দম্পতি। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আমদাদপুর কমলাবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন, কমলাবাড়ী গ্রামের রিপন মিয়া (২৪) ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তার মিষ্টি (২০)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিপন মিয়া ও তার স্ত্রী হালিমা রাতের খাওয়া শেষে ঘুমাতে যান। এ সময় বাড়ির পেছন থেকে ঘরের জানালা দিয়ে দুর্বৃত্তরা আগুনের কুণ্ডলি ছুড়ে মারে। আগুন মূহুর্তের মধ্যে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের শরীরে আগুন ধরলে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  এবং পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ঝলসে গেছে।

এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


কুড়িগ্রামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৩

কুড়িগ্রামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৩
প্রতীকী ছবি
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কুড়িগ্রামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ‍কৃষি বিজ্ঞানের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম, বাংলা বিষয়ের শিক্ষক সোহেল চৌধুরী ও পিয়ন সুজন মিয়া।

দুই শিক্ষককে গতকাল সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে রাতে মামলার আসামি করা হয়। এদিকে রাতে পিয়ন সুজনকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ মামলায় সব মিলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গতকাল প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচীব লুৎফর রহমান, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল এবং ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক জোবায়ের ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে এজাহার নামীয় আসামি অফিস সহকারী আবু হানিফ পলাতক রয়েছেন।

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার বলেন, এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত থাকবেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।