শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২

নিভৃত পালিচড়া এখন নারী ফুটবলারদের গ্রাম

নিভৃত পালিচড়া এখন নারী ফুটবলারদের গ্রাম
সদ্যপুস্কুরুনী পালিচড়ায় ফুটবল খেলছে মেয়েরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
রফিকুল ইসলাম, রংপুর
প্রকাশিত

কিশোরী বয়স পেরোনোর আগেই সেই গ্রামের মেয়েরা বিয়ের পিঁড়িতে বসত, পাঠশালার বই-খাতার পরিবর্তে হাতে থাকত হাড়ি-পাতিল। সেই গ্রামের মেয়েরা স্বপ্ন দেখছিল বিশ্বজয়ের। গতকাল সোমবার সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। নেপালে ইতিহাস গড়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। সেই দলে অংশ নিয়েছে রংপুরের সদ্যপুস্কুরুনী পালিচড়ার মেয়ে সিরাত জাহান স্বপ্না। তাই এখানকার আমেজের রং একটু আলাদা।

একসময়ে এই গ্রামের মানুষজনের নানা ধরনের নেতিবাচক কথাও থামাতে পারেনি এখানকার মেয়েদের ফুটবল খেলা। সব মন্দ কথা উড়িয়ে দিয়ে কিশোরীদের পায়ে এগিয়ে চলা ফুটবলের নতুন দিন এনে দিয়েছে স্বপ্না। তাই সারাদেশের উৎসবের রঙের সঙ্গে রঙিন হয়েছে রংপুরের নিভৃত এই পল্লী গ্রাম ‘পালিচড়া’ও। স্বপ্নার জন্য গর্বিত রংপুরের মানুষজন। তার পরিবারকে শুভেচ্ছা ও উষ্ণতা জানিয়েছেন বিভিন্ন মানুষ ও ক্রীড়া সংগঠন।

এই নারী ফুটবলারদের একসময়ের কোচ হারুণ অর রশিদ জানান, রংপুরে সদ্যপুস্কুরিনী ইউনিয়নের পালিচড়া গ্রামের মেয়েদের ফুটবল খেলা শুরু হয় ১১-১২ বছর আগে। এ সময়েই দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা। গ্রামের মেয়েদের জন্যই পালিচড়ার নতুন নাম হয়েছে ‘ফুটবলারদের গ্রাম’। এই গ্রামের মেয়েরা গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে তারা খেলছে ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে।

হারুণ অর রশিদ বলেন, ২০১১ সালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্নামেন্ট চালু হয়। ওই টুর্নামেন্টে পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তাদের ছাত্রীদের নাম লেখায়। সেবার জাতীয় পর্যায়ে রানার্স-আপ হয় পালিচড়ার মেয়েরা। ওই টুর্নামেন্টের পর গ্রামের মেয়েদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গত বছরের ক্রীড়া পরিদপ্তর বিচ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।

জানা যায়, ২০১৫ সালে কেএফসি জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠে পালিচড়া বিদ্যালয়। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও জিতেছিল ফেয়ার প্লে ট্রফি। ২০১৬ সালে কেএফসি সিনিয়র ন্যাশনাল উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে তারা অর্জন করে তৃতীয় স্থান। ২০১৭ সালে জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টে তারা রানার্স-আপ ও ২০১৮ সালে ৪৭তম গ্রীষ্মকালীন ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়।

পালিচাড়া গ্রামে মেয়েদের ফুটবল প্র্যাকটিস। ছবি: দৈনিক বাংলা
পালিচাড়া গ্রামে মেয়েদের ফিটনেস ট্রেনিং। ছবি: দৈনিক বাংলা

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়ন ও এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে কৃতিত্বের জন্য এই গ্রামের সুলতানা, লাভলী, রত্নাসহ কয়েকজন ফুটবলার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আর্থিক সম্মাননা পেয়েছেন। বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে পরপর দুই বছর সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বুট জিতেছেন পালিচড়ার রোকসানা পারভীন।

হারুণ অর রশিদ আরও বলেন, ২০১০ সালে এই গ্রামের মেয়েরা অনেক বাধা উপেক্ষা করে ফুটবল খেলা শুরু করে। আমরা স্বপ্ন দেখছিলাম বিশ্বজয়ের। সেটি পূরণ হতে চলেছে। এই গ্রামের মেয়েদের জন্যই পালিচড়া নতুন নাম পেয়েছে, সেটি হলো-নারী ফুটবলারদের গ্রাম।

মঙ্গলবার  (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বপ্নার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাড়িতে মানুষের ভিড়। বাজারে, দোকানে, পাড়ামহল্লায় তাকে নিয়ে আলোচনা করছেন মানুষজন। গর্বের অন্ত নেই তাদের। অনেকে মিষ্টি এনে স্বপ্নার মাকে খাওয়াচ্ছেন। আনন্দে মেতে উঠছেন গ্রামের মানুষ।

স্বপ্নার বাবা মোকছার আলী একজন কৃষক। মেয়ের এই সাফল্যে তিনি বলেন, আমি কৃষক মানুষ। খুব আনন্দ লাগছে। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল জয়ী হয়েছে। এতে আমার মেয়ে খেলেছে। আমরা সবাই খুব খুশি। আমার মেয়ের জন্য সকলে দোয়া করবেন।

স্বপ্নার মা লিপি বেগম বলেন, আমি পুরো খেলা দেখছি। রাত ১২টায় খুশিতে ঘুমাইছি। সকাল থাকি মেলা মানুষ আসছে। আমার খুব ভালো লাগছে। আমার মেয়ে বড় হোক আমি এটা চাই। আমার মেয়ে যখন ক্লাস ফোরে পড়ে তখন স্কুল থাকি বাড়ি আসি বলে, ‘আমি ফুটবল খেলব।’ তখন রাগ হইসি। পরে আমার ভাই আব্দুল লতিফ এসে তাকে নিয়া যায়। সেই থেকে সে খেলে।

স্বপ্নার মামা আব্দুল লতিফ বলেন, আমার বড় বোন স্বপ্নাকে খেলতে দেবেই না। আমি হাত ধরে ধরে তাকে মাঠে নিয়ে যেতাম। আজ আমার চেয়ে বেশি কেউ খুশি হয়নি। আমি চাই সে আরও বড় হোক।

সদ্যপুস্কুরুনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ মিলন খান বলেন, এই গ্রাম নারী ফুটবলারদের গ্রাম। এর আগে বাংলাদেশ কখনো সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এবারই প্রথম স্বপ্নাদের হাত ধরে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। স্বপ্না ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছে। তার এই সফলতায় আমরা খুশি।

সদ্যপুষ্কুরনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানা বলেন, আমরা আজ গর্বিত। তার সফলতা আমাদেরও সফলতা। আরও কীভাবে এই পালিচড়াকে এগিয়ে নেয়া যায়, সেটা নিয়ে কাজ করব আমরা।

রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আমরা তাকে সংবর্ধনা দেব। আমি ইউএনওকে বলছি তার পরিবারের খোঁজখবর নিতে। তাছাড়া আমরা সেখানে স্টেডিয়াম করছি। সেখানকার নারী ফুটবলারদের জন্য যা যা করার দরকার, সবই চেষ্টা করব।


ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দপ্তরি আহত

ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দপ্তরি আহত
গ্রেপ্তার শাফি তালুকদার। ছবি : দৈনিক বাংলা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তর প্রতিবাদ করায় স্কুলের দপ্তরিকে কাটার দিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হবে।

আহত সুলতান মাহমুদ ওই একই স্কুলের দপ্তরি হিসেবে কাজ করেন।

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অভিযুক্ত শাফি তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুলতানের বাবা তাড়াশ থানায় ইভটিজিং ও হত্যা উদ্দেশ্য উল্লেখ করে মামলা করেছেন। শুক্রবার শফিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর কথা।

স্থানীয়রা জানান, সুলতানকে আঘাত করে শাফি। পরে শিক্ষকসহ এলাকার লোকজন শাফিকে আটক করে তাড়াশ থানা পুলিশের কাছে দেয়। আহত সুলতানকে উদ্ধার করে তাড়াশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওই স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বোয়ালিয়া গ্রামের শাফি তালুকদার প্রায় সময়ই স্কুলের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করত। বৃহস্পতিবার দুপুরে শাফি ওই ছাত্রীকে উক্ত করতে স্কুলে যায় এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বাজে কথা বলে । এ সময় একই ক্যাম্পাসের মধ্যে স্কুলের দপ্তরি সুলতান প্রতিবাদ করলে শাফি ক্ষীপ্ত হয়ে তার প্যান্টের পকেট থেকে ছোট এন্টিকাটার দিয়ে সুলতানের পেটের মাঝে আঘাত করে। এতে তার পেটের কাছে কেটে যায়।’

সুলতানের বাবা বলেন, ‘শফি আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। শিক্ষক ও ছাত্ররা আমার ছেলেকে বাঁচিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’


অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে সড়কে প্রাণ গেল নারীর

অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে সড়কে প্রাণ গেল নারীর
লাশ। প্রতীকী ছবি
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

অসুস্থ মাকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় শাহনাজ খাতুন (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই নারীর স্বামী মোটরসাইকেল-চালক আনোয়ার হোসেন।

বগুড়া শেরপুরের মির্জাপুর বাজার এলাকায় আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শাহনাজ খাতুন সুঘাট ইউনিয়নের জয়লা সরকার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। 

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহত আনোয়ার হোসেন বলেন, শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সকালে তাকে দেখতে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে রওনা দেই। মির্জাপুর বাজার এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় শাহনাজ মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়। ওই সময় পেছন থেকে আসা কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়।

উপপরিদর্শক বাবুল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর কোনো গাড়ি পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

 


সন্ধ্যায় বের হয়ে সকালে ক্ষেতে মিলল কৃষকের মরদেহ

সন্ধ্যায় বের হয়ে সকালে ক্ষেতে মিলল কৃষকের মরদেহ
লাশ ঘিরে স্থানীয়দের ভিড়। ছবি : দৈনিক বাংলা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কুষ্টিয়া সদরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মফিজুর রহমান মফি (৬০) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার গজনবীপুর গ্রামের একটি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হন মফি। এরপর রাতে তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরে সকালে কৃষকরা ধান ক্ষেতে কাজ করতে গেলে তার মরদেহ দেখতে পান। মরদেহের গলা আর হাত রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আননুন জায়েদ বলেন, মরদেহের হাতে ও গলায় রশি বাঁধা ছিল। দাঁতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে কারা, কী কারণে হত্যা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

 


সরকারি দামে মিলছে না সার বাড়ছে আমন উৎপাদন খরচ

সরকারি দামে মিলছে না সার বাড়ছে আমন উৎপাদন খরচ
ইউরিয়ার খোঁজে লাইনে দাঁড়িয়েছেন কৃষকরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

পাবনায় সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে রাসায়নিক সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। আর কৃষি বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। ইউরিয়া সারের অতিরিক্ত বরাদ্দও দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কৃষকদের মাঝে গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

বর্তমানে আমনের ভরা মৌসুম চলছে। এ সময় সারের বাড়তি দামের কারণে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। তারা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিসিআইসির ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না। কেবল সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। একই চিত্র খুচরা বাজারেও। বেশি দামে যারা সার কিনছেন তাদের আমন উৎপাদনের খরচও বাড়ছে।

পাবনার সদর, আটঘরিয়া ও ঈশ্বরদী উপজেলায় সারের কয়েকটি খুচরা দোকানমালিকের সঙ্গে বলে জানা গেছে, সরকারনির্ধারিত প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ২২ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। এমওপি, পটাশ, টিএসপিসহ সব ধরনের সারের জন্য প্রতি কেজিতে কৃষককে সরকারনির্ধারিত দরের চেয়ে ১০-১২ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। দাম বাড়ার জন্য ডিলারদের দুষছেন খুচরা দোকানিরা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সদরের দাপুনিয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার আবু তালেবের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ইউরিয়া সার কিনতে ভিড় করেছেন আশপাশের গ্রামের কৃষকরা। বন্ধ দোকান না খুলেই ম্যানেজার জানালেন সার নেই। দীর্ঘ অপেক্ষায় সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান কৃষকরা। 

মির্জাপুর থেকে আসা কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, সার কিনতে গেলে বিক্রেতারা সংকটের কথা বলে দাম বেশি নিচ্ছেন। বিক্রয় রসিদ চাইলেও তা দেয়া হচ্ছে না। দর-কষাকষি করতে গেলে সার না দিয়েই অপমান করে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। দোকানে মূল্যতালিকা টাঙিয়ে রাখলেও সে দাম রাখা হচ্ছে না।

আটঘরিয়ার দিকশাইল গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে ইউরিয়া সারের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এখন যদি কৃষকদের সার পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখা হয়, তাহলে তারা আমন ধান চাষে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে ফলন কমে গিয়ে লোকসান বাড়বে। অন্যদিকে বাজারে চালের দামও বাড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক ও খুচরা সার দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সার ডিলারদের অধিকাংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। অভিযোগ রয়েছে, তারা মৌসুমে যে সার বরাদ্দ পান সেটা উত্তোলন না করে বরাদ্দপত্রটা একশ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। সেই বরাদ্দপত্র ক্রয়কারীরা গুদাম থেকে সার উত্তোলন করে বেশি দামে বিক্রির জন্য সার মজুত করেন। এ অবস্থায় কৃষকপর্যায়ে কৃত্রিম সারসংকট দেখা দেয় ও বেশি দামে কৃষকরা কিনতে বাধ্য হন। 

পাবনা সার ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া সার আশুগঞ্জ থেকে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এদিকে পাবনায় ইউরিয়াসহ কোনো সারেরই সংকট নেই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন। তিনি জানান, চলতি আমন মৌসুমে পাবনায় চাহিদার অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনের বেশি ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছে কৃষি বিভাগ। বিসিআইসির ১০১ জন অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে শিগগিরই তা কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ শুরু হবে। বাজার কারসাজি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।


দুর্গোৎসব আমেজের চেয়ে উদ্বেগ বেশি

দুর্গোৎসব আমেজের চেয়ে উদ্বেগ বেশি
তুমব্রু সীমান্তে চলমান গোলাগুলিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • তুমব্রু সীমান্তে গোলাগুলি

মুহিববুল্লাহ মুহিব, তুমব্রু সীমান্ত থেকে

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তে চলমান গোলাগুলিতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। এর ফলে আসন্ন দুর্গাপূজার উৎসবকে ঘিরে সীমান্ত এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতার থেকে ২০০ গজ ভেতরে তুমব্রু শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের অবস্থান। এর পাশেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৭টি পরিবার বাস করে। স্বাধীনতার পর থেকে এ মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছেন এখানকার বাসিন্দারা। কিন্তু মিয়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে গত এক মাস ধরে যে সংঘর্ষ চলছে, তার প্রভাব পড়ছে সীমান্ত এলাকায়। এর ফলে দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন সীমান্তবর্তী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

মন্দিরের পাশেই সুগন্ধা কর্মকারের বাড়ি। স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে নবনির্মিত প্রতিমার দিকে অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছেন। কয়েক যুগ ধরে চলমান তাদের এ উৎসব এবার আদৌ হবে কী হবে না, তিনি তা জানেন না।

সুগন্ধা কর্মকার বলেন, বড় করে না হোক, ছোট পরিসরে হলেও এবার যেন পূজা করতে দেয়া হয়। পূজা উপলক্ষে এরই মধ্যে সন্তানদের জন্য কেনাকাটা হয়েছে। উৎসব উপলক্ষে খরচও করে ফেলেছেন। এত কিছুর পরও উৎসব করতে না পারলে তা হবে কষ্টের।

তুমব্রু বাজারের পেছনের এলাকার বাসিন্দা সুমিতা রায়। তিনি বলেন, ‘৫০ বছর ধরে এ উৎসব চলছে। আমাদের বাবা-দাদারাও পূজা করেছেন। করোনা পরিস্থিতিতেও ছোট পরিসরে পূজা হয়েছে। এবার একেবারে করতে না পারাটা হতাশাজনক হবে।’

আরেক বাসিন্দা প্রদীপ ধর বলেন, ‘দেড়শতাধিক মানুষের একমাত্র উৎসবের কেন্দ্র এ মন্দির। সেখানে যদি উৎসব করতে না পারি, তাহলে কোথায় গিয়ে করব? অন্য জায়গায় করতে হলে তো প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে যেতে হবে। তারচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমরা সবকিছু কিনে ফেলেছি। প্রতিমা থেকে শুরু করে যাবতীয় সব।’

তুমব্রু শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের পূজা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রূপলা ধর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ব্যাপক গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। অতীতে কখনোই এমনটা হয়নি। এর ফলে আসন্ন দুর্গাউৎসব নিয়ে তিনিসহ সবাই চিন্তায় আছেন।’

রূপলা ধর বলেন, ‘ডিসি, এসপি ও ইউএনও মহোদয় ডেকেছিলেন। তাদের কাছে জানতে চেয়েছি, কীভাবে কী করা যায়? তারা এবারের আয়োজন অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু অর্ধশত বছরের এ উৎসব, এ ব্যাপারে এলাকার লোকজনও তেমন রাজি না। প্রশাসনের অনুমতি না মিললে আমরা উৎসব করব না।’

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘উৎসবকালীন বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সময় যদি মিয়ানমার থেকে কোনো গোলা এসে পড়ে, তাহলে ঝুঁকি আছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এবারের আয়োজন অন্যত্র নেয়ার পরিকল্পনা।’

এ বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভিন মুঠোফোনে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি আমরা এখনো নজরদারিতে রেখেছি। তুমব্রু সীমান্তের মন্দিরে দুর্গাপূজা উদযাপন নিয়ে বৈঠকে আছি। এখান থেকে বেরিয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।’

১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলে সীমান্তের শূন্যরেখায় এক রোহিঙ্গা নিহত হন। ওই দিন দুপুরেই সীমান্তের হেডম্যানপাড়ার ৩৫ নম্বর পিলারের ৩০০ মিটার মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে মাইন বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাদেশি এক যুবক। এরপর থেকে তুমব্রু সীমান্তে আরও জোরালোভাবে গোলার শব্দ শোনা যাচ্ছে। গতকাল সকাল থেকে অন্তত ৫০টি গোলার শব্দ ভেসেছে তুমব্রুর পশ্চিমকুল, উত্তরপাড়া ও দক্ষিণপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়। এমন অবস্থায় চরম আতঙ্কে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রায় এক মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল, গোলাগুলিসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এপারের ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বেশ কয়েকবার মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের পাহাড় থেকে ছোড়া মর্টার শেল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। গত ২৮ আগস্ট তুমব্রু উত্তরপাড়ায় একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। সে দিনই সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানকে চক্কর দিতে দেখা যায়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও ফাইটিং হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া দুটি গোলা ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসে পড়ে। সেগুলো অবিস্ফোরিত থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর তিন দিন পর আবার ওই সীমান্তে ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ ভেসে আসে।