সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

পাহাড় থেকে বেড়ে ওঠা রুপনা চাকমার

পাহাড় থেকে বেড়ে ওঠা রুপনা চাকমার
রুপনা চাকমাদের বাড়ি। ইনসেটে রুপনা। ছবি: দৈনিক বাংলা
সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙামাটি
প্রকাশিত

নারীদের সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। গোলের বন্যা বইয়ে দেয়ার বিপরীতে গোটা টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের, তাও ফাইনাল ম্যাচে। টুর্নামেন্টজুড়ে দলের গোলবার এমন নিখুঁতভাবে সামলানোর কারিগর রুপনা চাকমা। তার পাহাড়ি গ্রামে তাই বইছে আনন্দের ধারা। সারা দেশের মানুষের প্রশংসাও ছুঁয়ে যাচ্ছে রুপনাকে। আর গ্রামের মানুষ অপেক্ষায়, কখন রুপনা বাড়িতে আসবে।

পাহাড়ি এই মেয়ের ফুটবলার হিসেবে উঠে আসাটা যেন গল্পের মতো। রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভূঁইয়ো আদাম এলাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা। জন্মের আগেই পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছিলেন বাবা গাছা মনি চাকমা। প্রান্তিক এলাকার পরিবার হওয়ায় তাই সেই ছোটবেলা থেকেই মুখোমুখি ভীষণ চ্যালেঞ্জের। তারপরও ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় আগ্রহ ছিল। হাজাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে নানিয়ারচরে ফুটবল খেলতে গেলে তার নৈপুণ্য চোখে পড়ে শিক্ষক বীরসেন চাকমার। রুপনা যখন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, বীরসেন চাকমার সূত্র ধরে তাকে ঘাগড়াতে নিয়ে যান শান্তি মনি চাকমা। সেখানেই গোলরক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণের শুরু। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তো রুপনা দক্ষিণ এশিয়ারই সেরা গোলরক্ষক।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রুপনার ফুটবল ক্যারিয়ার বদলালেও তার ঘরবাড়ি আর এলাকার চেহারা কিন্তু বদলায়নি। ভূঁইয়ো আদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রুপনার বাড়িতে ভাঙা একটি কুঁড়ে ঘর। সেটিই রুপনাদের একমাত্র ঘর। সেখানেই বসবাস রুপনা, তার মা আর বাকি তিন ভাই-বোনের। আর ভূঁইয়ো আদামের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে রুপনাদের বাড়ি পৌঁছানোর আগে পার হতে হয় কাঠের একটি ব্রিজ। সেটি দেখলেই ভয় হয়, কখন যেন ভেঙে পড়ে। অবশ্য গতকালের ম্যাচের পর প্রশাসনের কাছ থেকে আশ্বাস মিলেছে, গ্রামবাসীর জন্য একটি সেতু করে দেয়া হবে সেখানে। রুপনাদের বাড়ি করে দেয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।

রুপনাদের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। রুপনার মা কালা সোনা চাকমা জানালেন মেয়ের বেড়ে ওঠার কথা। বীরসেন চাকমা ও শান্তিমনি চাকমার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানালেন মেয়েকে এই পর্যায়ে তুলে নিয়ে আসতে সহযোগিতা করার জন্য। কালা সোনা চাকমা বলেন, ছোটবেলা থেকেই রুপনা খেলত। শরীরে জ্বর নিয়েও ফুটবল খেলা বাদ দিত না। ২০১২ সালের দিকে সে নানিয়ারচরে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল। সেখান থেকে তাকে বীরসেন চাকমা ও শান্তি মনি চাকমা নিয়ে যান ঘাগড়াতে। সেখান থেকেই আজ মেয়ে দেশের জন্য গৌরব নিয়ে এসেছে।

রুপনার বড় ভাই জীবন চাকমা বলেন, রুপনা ছোটবেলা থেকে খেলা পছন্দ করত। আমরাও খুব একটা না করিনি। বিকেলে কাজ থেকে ফিরে মায়ের থেকে শুনি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গ্রামের লোকেরা রুপনাকে নিয়ে প্রশংসা করছে। তার এত দূর আসার পেছনে মূল কারিগর হলেন ঘাগড়ার শান্তি মনি চাকমা ও বীরসেন চাকমা। রুপনা ছোটবেলায় হাজাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সব খরচ দিয়ে তারাই রুপনাকে ঘাগড়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের কারণেই রুপনা আজ এত দূর আসতে পেরেছে।

তবে আক্ষেপও রয়েছে রুপনার মায়ের। তিনি বলেন, গতবারও অনূর্ধ্ব ১৪-তে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু সরকার, প্রশাসন বা কোনো সংস্থা কেউই দেখতে আসেনি রুপনা কীভাবে লড়াই করে বেঁচে আছে। রুপনার প্রতিভা ধরে রাখতে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। এখন তো সবাই খুব প্রশংসা করছে। দোয়া করি, আমার মেয়ে আরও এগিয়ে যাক।

এই পথ পেরিয়েই যেতে হয় রুপনাদের বাড়ি। ছবি: দৈনিক বাংলা
এই পথ পেরিয়েই যেতে হয় রুপনাদের বাড়ি। ছবি: দৈনিক বাংলা

রুপনাসহ ঘাগড়া এলাকার পাঁচ নারী ফুটবলারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন শান্তি মনি চাকমা। কথা হয় তার সঙ্গেও। শিষ্যের সাফল্যে অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোবাইলে খেলাটি উপভোগ করেছি। তাদের এ বিজয়ের অনুভূতি মুখে বলা সম্ভব নয়। তাদের বিজয় মানে আমার বিজয়। কেননা তাদের আমিই প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এ ছাড়া বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপির কোচ সুইলা মং মারমা ও শিক্ষক বীরসেন চাকমারও অনেক অবদান রয়েছে।

মগাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমা বলেন, ২০১২ ও ২০১৩ সালেই রুপনাকে ঘাগড়াতে আনতে চেয়েছিলাম। তখন রাজি হয়নি। ২০১৪ সালে যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত, তখন ঘাগড়াতে নিয়ে আসি। এখন তো সে সেরা গোলরক্ষক হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেছে। তার এ অর্জন শুধু তার নয়, এ অর্জন পুরো দেশবাসীর।

গ্রামের মানুষরাও রুপনাদের সাফল্য উদযাপন করতেই ব্যস্ত। রুপনাদের দেখে ফুটবল ঘিরে আগ্রহও বাড়ছে স্থানীয় মেয়েদের মধ্যে। রিপনা চাকমা নামের এক কিশোরী জানাচ্ছে, রুপনা এখন তাদের কাছে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। সেও ফুটবল খেলতে চায়।

ভূঁইয়ো আদাম গ্রামের বাসিন্দা আলো বিকাশ চাকমা বলেন, রুপনা অসহায় এক মায়ের সন্তান। বাবাকে দেখেনি। সেই রুপনা আজ আমাদের গ্রামের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে। সে এখন দেশের গর্ব, আগামী প্রজন্মের পথপ্রদর্শক। সে দেশ ও জাতিকে সম্মান এনে দিয়েছে। তাই জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সবার উচিত রুপনা ও তার পরিবারকে সহযোগিতা করা।

ওই এলাকার গ্রামপ্রধান সুদত্ত বিকাশ চাকমা বলেন, রুপনা চাকমা সম্পর্কে ভাগনি হয়। সে ছোটবেলা থেকে খেলাধুলাপ্রেমী। গ্রামের মানুষ তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছে। তবে তার পরিবারের ও তাকে এ পর্যন্ত সাহায্য-সহযোগিতা করতে কাউকে দেখিনি। সরকার চাইলে রুপনাদের জন্য অনেক কিছু করতে পারে।

ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মহিলা প্যানেল চেয়ারম্যান বাসন্তী চাকমা বলেন, রুপনা আমাদের ইউনিয়নের মেয়ে। তার জন্য আমরা গর্ববোধ করছি। কেননা সে আমাদের গ্রামের মেয়ে হয়ে বাংলাদেশের জন্য শিরোপা এনে দিয়েছে। মেয়েটির জন্মের আগেই বাবা মারা গেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সহায়তা করা প্রয়োজন।

সবার কাছ থেকেই রুপনাদের জন্য সরকারি সহায়তার তাগিদের কথা এসেছে। এরই মধ্যে সেই সহায়তাপ্রাপ্তির উদ্যোগও দৃশ্যমান। মঙ্গলবার বিকেলে রুপনা ও একই এলাকার আরেক ফুটবলার রিতুপর্ণা চাকমার বাড়িতে যান রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তাদের দুজনের পরিবারের হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন দেড় লাখ টাকা করে। এ মসয় শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুল রহমানসহ জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, রুপনা ও রিতু আমাদের রাঙামাটির গর্ব। তাদের এ অর্জন পুরো বাংলাদেশের মানুষ গর্বিত। তাদের এ কৃতিত্বের জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এ ছাড়াও এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য একটি ব্রিজ নির্মাণ ও রুপনা চাকমাকে একটি বাড়ি নির্মাণের আশ্বাসও দেন তিনি।


বনানী কবরস্থানে মেয়ের কবরে শায়িত তোয়াব খান

বনানী কবরস্থানে মেয়ের কবরে শায়িত তোয়াব খান
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তোয়াব খানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দৈনিক বংলার সম্পাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক তোয়াব খান।


আজ সোমবার বাদ আসর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মেয়ে এষা খানের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হন এই কিংবদন্তি।  

এ সময় দৈনিক বাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শরিফুজ্জামান পিন্টু, নিউজবাংলার নির্বাহী সম্পাদক হাসান ইমাম রুবেল, আজকের পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক তোয়াব খানের ভাগ্নে সেলিম খান, তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবীর খানসহ আত্মীয় স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বাদ আসর গুলশান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তোয়াব খানের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে দশটায় দৈনিক বাংলার কার্যালয়ে প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে  দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।


‘আলেশা মার্ট’ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা

‘আলেশা মার্ট’ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা
আলেশা মার্ট’ এর চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম শিকদারের স্বাক্ষর করা চেক ডিজঅনার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘আলেশা মার্ট’ এর চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম শিকদারের বিরুদ্ধে নীলফামারীতে চেক জালিয়াতির মামলা করেছেন এক ভুক্তভোগী গ্রাহক।

গতকাল রোববার নীলফামারী আদালতে এ মামলা করেন সাকিব উল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি জেলা শহরের শহীদ তিতুমীর সড়ক এলাকার বাসিন্দা।

সাকিবের অভিযোগ, অফারে প্রলুব্ধ হয়ে তিনি একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা পরিশোদ করলেও পণ্য পাননি। পরে তাকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য একটি চেক দেওয়া হলেও তিনি তা তুলতে পারেননি।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, অফারে প্রলুব্ধ হয়ে আলেশা মার্ট থেকে একটি পালসার মোটরসাইকেল কেনার জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪৫ টাকা পরিশোধ করেন ভুক্তভোগী সাকিব। চলতি বছরের ২০ জুন ওই টাকা পরিশোধ করেন। ৪৫ দিনের মধ্যে বাইকটি ডেলিভারির কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের পরও ডেলিভারি দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে সাকিব টাকা ফের চেয়ে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা এক লাখ ৬৩ হাজার টাকার চেক দেন সাকিবকে। টাকা তুলতে চেকটি অগ্রণী ব্যাংক নীলফামারী শাখায় কয়েক দফায় জমা দেওয়া হলেও ওই ব্যাংক হিসাবে টাকা না থাকায় সাকিব টাকা তুলতে পারেননি।

একপর্যায়ে গত ২৪ জুলাই অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ‘ডিজঅনার স্লিপ’ দেয় সাকিবকে। পরবর্তীতে আলেশা মার্ট চেয়ারম্যানের কয়েকটি বাণিজ্যিক দপ্তরে উকিল নোটিশ পাঠানো হলেও একটি গ্রহণ করেন নাসির নামে এক ব্যক্তি। বাকিগুলো ফেরত আসে। বাধ্য হয়ে প্রতারণার শিকার সাকিব নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় নীলফামারী আদালতে মামলা করেন।

সাকিব দৈনিক বাংলাকে বলে, ‘এই প্রতিষ্ঠানে অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তির ছবি দেখা গিয়েছিল। গ্রাহক টানতে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছিল। জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়ারকেও স্পন্সর হিসেবে দেখা গেছে অথচ গ্রাহকের সঙ্গে তারা প্রতারণা করছে। যার শিকার হয়েছি আমি। আমি মোটরসাইকেল চাই না, টাকা ফেরত চাই। এ জন্য মামলা করেছি।’

মামলার আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, ‘আদালত থেকে বিবাদীর প্রতি সমন নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশ গ্রহণ করলে তাকে হাজির হতে হবে। এনআই এ্যাক্টে আসামির সর্বোচ্চ সাজা এক বছর এবং তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান রয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে আলেশা মার্ট এর হটলাইন নম্বরে ১৬৭৩১ কয়েক দফা চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা, শ্রদ্ধায় সিক্ত তোয়াব খান

প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা, শ্রদ্ধায় সিক্ত তোয়াব খান
জাতীয় প্রেসক্লাবে তোয়াব খানের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

জাতীয় প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন একুশে পদক পাওয়া বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খান। জানাজা আর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে সোমবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে চিরদিনের জন্য সেই প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ ছাড়লেন তিনি।

সোমবার দুপুর ১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে দৈনিক বাংলা ও নিউজবাংলা২৪ ডটকমের সম্পাদক তোয়াব খানের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানে মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সাংবাদিক নেতা, সাংবাদিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তোয়াব খানের জানাজা শেষে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। এ সময় তিনি বলেন, তোয়াব খান বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি সাংবাদিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযুদ্ধের জন্য কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব হিসেবে কাজ করেছেন, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন এবং পিআইবির (প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ) মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দৈনিক পাকিস্তান যখন নাম পরিবর্তন করে দৈনিক বাংলা হলো, সেটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। আজকের দিনে দৈনিক বাংলার সম্পাদক থাকা অবস্থায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তার হাত ধরে বাংলাদেশের বহু প্রথিতযশা সাংবাদিকের জন্ম হয়েছে। তিনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একজন পথিকৃত। তার মৃত্যু আমাদের সাংবাদিকতা জগতের জন্য শুধু নয়, পুরো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’

আরও পড়ুন- ‘তোয়াব খান স্মৃতি পুরস্কার’ ঘোষণা

তোয়াব খানের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তোয়াব খান বাংলাদেশের বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃত ছিলেন। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। তিনি সাহসী সাংবাদিকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। আজ যারা সাংবাদিকতা পেশায় আছেন, ভবিষ্যতে আসবেন, তারা যেন তার এই আদর্শ অনুসরণ করেন। তার এই চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি।

তোয়াব খানকে শ্রদ্ধা জানানো শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘যেকোনো পরিবেশ-পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার অনন্য এক ক্ষমতা ছিল তোয়াব খানের। তার সাংবাদিকতা, কর্মজীবন আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।’

প্রেসক্লাবে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত তোয়াব খান। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রেসক্লাবে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত তোয়াব খান। ছবি: দৈনিক বাংলা

শ্রদ্ধা জানানো শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আজ আমরা শোকে ভারাকান্ত। আমাদের সঙ্গে হয়তো প্রকৃতিও আজ কাঁদছে। প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য তোয়াব ভাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার মৃত্যুতে সাংবাদিকতা আজকে শূন্যস্থানে গিয়ে পৌঁছেছে। তোয়াব ভাই চলে যাওয়া মানে সাংবাদিকতার একটি ইতিহাসের অধ্যায় শেষ হওয়া।’

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘চিন্তা ও মননে তোয়াব খান আজীবন একজন সক্রিয় সাংবাদিক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সরকারের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি তার কর্মের মধ্যেই বেঁচে ছিলেন, কর্মের মধ্য দিয়েই আমাদের মাঝে থাকবেন।’

আরও পড়ুন- তোয়াব খানকে গার্ড অব অনার

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, ‘সম্পাদকদের সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। আমরা প্রতিনিয়ত তার কাছ থেকে শিখেছি। তার চলে যাওয়া বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’

প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজার নামাজের আগে তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবির খান বলেন, ‘গত শনিবার দুপুরে আমার বড় ভাই মৃত্যুবরণ করেন। যদি উনি কখনো আপনাদের সঙ্গে ভুল ব্যবহার বা অন্য কোনো কিছু করে থাকে তবে তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন। একই সঙ্গে তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া রাখবেন।’

জানাজা শেষে প্রেসক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে রাখা অস্থায়ী বেদিতে তোয়াব খানের মরদেহ রাখা হয়। এ সময় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় প্রেসক্লাব, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ সাব-এডিটর কাউন্সিল, প্রথম আলো, কালেরকণ্ঠ, জনকণ্ঠ, সমকাল, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, নারী সাংবাদিক কেন্দ্র, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক ফোরাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি।

আরও পড়ুন- দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে তোয়াব খানের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

প্রেসক্লাব থেকে তোয়াব খানের মরদেহ নেয়া হবে গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে বিকেল ৪টার দিকে তার তৃতীয় জানাজা হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে মেয়ে এশা খানের কবরে সমাহিত করা হবে তোয়াব খানকে।

এর আগে, সকাল ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে কিংবদন্তিতুল্য এ সাংবাদিকের শেষ কর্মস্থল দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে প্রথম জানাজা হয়। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে তার মরদেহ রাখা হয় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।


দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বাগে এসেছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বাগে এসেছে: পরিকল্পনামন্ত্রী
বিআইডিএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

‘দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া নিয়ন্ত্রণে এসেছে’ উল্লেখ করে আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তবে দেশে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জন্য ভালো সংবাদ আছে। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বাগে এসেছে এই মাসে। সবাই আমাদের কাছে ফোন করে জানার জন্য। গত মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল। এই মাসে নেমেছে এবং ভালোভাবে নেমেছে। আমি যদিও অর্থনীতিবিদ নই তবুও আমি বলছি, আগামী মাসে মূল্যস্ফীতি আরও কমবে।’

সোমবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সরকার ব্যবস্থা নেয়ায় দ্রব্যমূল্য কমেছে জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘কেন (দ্রব্যমূল্য) কমেছে? কারণ আমাদের সরকার কৌশলগত ব্যবস্থা নিয়েছে। তেলের দাম বেড়েছিল। কিন্তু এখন কমেছে। কারণ এক কোটি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সেখানে কম দমে বিক্রি হচ্ছে চাল, তেল। এর মাধ্যমে আমরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ওপর সরাসরি আঘাত করতে পেরেছি। ফলে দাম কমে এসেছে। শুধু কমেনি, ভালো পরিমাণে কমেছে। বিশ্ববাজারেও কমেছে। কয়েক দিনের মধ্যে আপনারা মূল্যস্ফীতির পুরোটা তথ্যও পেয়ে যাবেন।’

মন্ত্রী মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য জানালেও পরিমাণটি বলেননি অনুষ্ঠানে। এর আগে, গত জুনে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশে পৌঁছায়, যা ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরের মাস জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে। তবে অগাস্টের তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি পরিসংখ্যান ব্যুরো।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’ পরিচালনা করেছে, তার প্রাথমিক ফলাফলের ওপর শুমারি পরবর্তী যাচাই করবে বিআইডিএস। আগামী ১০ থেকে ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এই যাচাই কার্যক্রম চলবে ট্যাবের মাধ্যমে, কম্পিউটার অ্যাসিসটেড পারসোনাল ইন্টারভিউয়িং (সিএপিআই) পদ্ধতিতে। ৯ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিটে নির্ধিারিত এলাকার অবস্থান করা সব দেশি-বিদেশি নাগরিককে গণণার আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া ছয় মাসের কম সময়ের জন্য সাময়িকভাবে বিদেশে অবস্থান করা নির্দিষ্ট এলাকার সব বাংলাদেশি নাগরিককে ফের গণনা করা হবে। এরপর নতুন তথ্যের সঙ্গে আগে পাওয়া শুমারির তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। তারপর ওই তথ্য সমন্বয় করে জনশুমারির মূল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গেস্ট অব অনার ড. শামসুল আলম বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বিবিএস একটি ভালো শুমারি করেছে। এখন সেটির পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিবিএসকে আরও একটু স্বাধীনতা দেয়া উচিত। ভারতে পরিসংখ্যান সংস্থান যেভাবে স্বাধীনতা ভোগ করে বাংলাদেশে সেটি হচ্ছে না। পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আরও হালনাগাদ তথ্য দিতে হবে।

রাজধানীর আগরগাঁওয়ে বিআইডিএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন। বক্তব্য দেন জনশুমারি ও গৃহণ গণনা প্রকল্পের পরিচালক মো. দিলদার হোসেন, পিইসি কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ড. ইউনূস।


নারায়ণগঞ্জে হত্যার দায়ে এক জনের ফাঁসি, ২ জনের যাবজ্জীবন

নারায়ণগঞ্জে হত্যার দায়ে এক জনের ফাঁসি, ২ জনের যাবজ্জীবন
নারায়ণগঞ্জে এক জনের ফাঁসি, ২ জনের যাবজ্জীবন। ছবি: দৈনিক বাংলা
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নারায়ণগঞ্জে তিন বছর আগে মিজান সিকদার মিশর নামের এক যুবককে হত্যার দায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান সোমবার সকাল ১০টার দিকে এই রায় দেন। এসময় তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জেলার বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার দেলোয়ার হোসনের ছেলে মো. মিঠু। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, বন্দর উপজেলার নোয়াদ্দা এলাকার মঞ্জুর হকের ছেলে মো. মুন্না এবং একই এলাকার বংগার ছেলে শয়ন।

পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, ২০১৯ সালে ২৩ জুলাই রাতে মশার কয়েল কিনতে দোকানে গেলে মিঠু ও অন্য আসামিরা মিশরকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, মিশর বন্দরের কাইতাখালী এলাকার মৃত শফিউদ্দিন সিকদারের ছেলে। পাওনা ৫০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় মিঠুর।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, ঘটনার পর দিন নিহতের ভাই সানি সিকদার বাদী হয়ে ওই আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১২ জনের সাক্ষ্য শেষে আদালত মিঠুকে মৃত্যুদণ্ড, মুন্না ও শয়নকে যাবজ্জীবনের রায় দেন। পাশাপাশি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের আরও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড  অনাদায়ে আরও এক বছর সাজা দেওয়া হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মো.সানি বলেন, ‘দ্রুত বিচার কার্যকর করার মাধ্যমে বিচারের শেষ দেখতে চাই। যাতে করে আর কোনো মায়ের বুক খালি করার সাহস কেউ না পায়। এ জন্য রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।