মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

তালগাছের পর ‘দণ্ড’ প্রকল্প

তালগাছের পর ‘দণ্ড’ প্রকল্প
তথ্য উপাত্তে বজ্রপাত।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো

আহমেদ দীপ্ত

বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সরকারের ১৩ লাখ তালগাছ লাগানোর প্রকল্পটি ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে আরও দুটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে বজ্রনিরোধক দণ্ড (লাইটনিং অ্যারেস্টার) বসানো হবে। প্রাথমিক ও পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি জেলায় এই  দণ্ড বসানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশে বজ্রপাতে মারা গেছেন অন্তত ১৯ জন।

গত ১২ বছরে দেশে বজ্রপাতে মারা গেছেন ২ হাজার ৮৫৪ জন। আর চলতি বছরের সাড়ে ৯ মাসে মারা গেছেন ২৬৪ জন। এই প্রেক্ষাপটে বজ্রপাত ঠেকাতে সরকারের করণীয় কী, তা আবারও আলোচনায় এসেছে।

বজ্রপাতের ক্ষেত্রে একটি অস্বাভাবিক বছর ছিল ২০১৬ সাল। ওই বছর প্রায় ৪৩ লাখ বজ্রপাতে মারা যান প্রায় ২৬৩ জন মানুষ। সে বছর বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।

বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এর এক বছর পর সারাদেশে প্রথমে ১৩ লাখ তালগাছ রোপণের উদ্যোগ নেয় সরকার। তখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তালগাছ ও নারকেল গাছ রোপণ করা হলে সেগুলো বজ্রনিরোধক দণ্ড হিসেবে কাজ করবে। অবশ্য এই প্রকল্প নিয়ে সরকারকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় ।

চলতি বছরের ১১ মে সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে তালগাছ লাগিয়ে বজ্রপাত মোকাবিলার কৌশলে ইতি টানার কথা সাংবাদিকদের জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। এনামুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, তখন তালগাছ লাগানোর পরে দেখা গেল, যত্নের অভাবে সেগুলো মারা যাচ্ছে। তাই শেষ পর্যন্ত এটি বাতিল করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের কোন কোন অঞ্চলে বজ্রপাত বেশি হয় (হটস্পট), তা বের করতে অধিদপ্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনটির আলোকে বজ্রপাতের হটস্পটগুলোতে বজ্র নিরোধক দণ্ড বসানোর প্রকল্প নেয়া হবে। ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে (পাইলট প্রকল্প) ১৫টি জেলায় ৩২০টি বজ্রনিরোধক দণ্ড বসানো হয়েছে। এ ছাড়া আবহাওয়ার পরিস্থিতি বুঝে সতর্ক সংকেত (আর্লি ওয়ার্নিং) দেয়ার কথাও ভাবছে অধিদপ্তর।

রোপণ করা তালগাছগুলো কী ভূমিকা রেখেছে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আতিকুল হক বলেন, ২০১৭ সালে রাস্তার দুই পাশে তালগাছ রোপণ করা হয়েছিল। তালগাছ বড় হতে অনেক সময় নেয়, ৩০ থেকে ৪০ বছর লাগে। তাই, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব ছিল না। তাঁর মতে, বজ্রনিরোধক দণ্ড বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত।

দুই মন্ত্রণালয়ের দুই প্রকল্প

বজ্রপাতের কারণে হতাহতের সংখ্যা কমাতে সরকারের দুই মন্ত্রণালয় দুটি আলাদা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের হাওরাঞ্চলের বজ্রপাতপ্রবণ ২৩ জেলায় বজ্রপাত-নিরোধক কংক্রিটের ছাউনি (শেল্টার) নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের খরচ ৩০০ কোটি টাকা। একেকটি ছাউনি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এসব ছাউনিতেও বজ্র নিরোধক দণ্ড বসানো হচ্ছে।

অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘হাওরাঞ্চলে কৃষকদের জীবনের সুরক্ষায় বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় ২৩১ কোটি টাকা। এর আওতায় হাওরাঞ্চলের সাতটি জেলার ৫৮টি উপজেলায় ১০০ থেকে ১২০ বর্গমিটার ব্যাসার্ধের ১৬টি আর্লি স্টিমার ইমিটার (ইএসই) নামে বজ্রনিরোধক যন্ত্র বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি ‘আর্থ নেটওয়ার্কস লাইটিং অ্যান্ড সিভিয়ার ওয়েদার আর্লি ওয়ার্নিং সল্যুশন’-এর মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপ, ভয়েস ও খুদেবার্তার আকারে স্থানীয়দের সতর্কবার্তা দেয়া হবে।

বাংলাদেশের বজ্রপাত নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্লানেটারি সায়েন্সেসের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আশরাফ দেওয়ান। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখন অ্যারেস্টার, ছাউনি এবং আর্লি ওয়ার্নিং পদ্ধতির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। অ্যারেস্টারের গুণগত মান ও ব্যবহারের আগে কার্যকারিতার সম্ভাব্যতা যাচাই অপরিহার্য। সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে এগুলো মৃত্যু কমানোর বিপরীতে বাড়াতে পারে।

বজ্রপাত কমলেও তা শক্তিশালী

দেশে বজ্রপাতের সংখ্যা অবশ্য কমলেও সেটা উদ্বেগ কমানোর মতো নয়। কারণ, এখনও বছরে প্রায় ২৩৮ জন মানুষের মৃত্যু হয় ভূমিতে নেমে আসা বজ্রপাতে। আর মারা যাওয়াদের প্রায় অধিকাংশই কৃষক বা মাঠে কাজ করার সময়।

ফিনল্যান্ডের বজ্রপাতবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ভাইসালারের হিসাবে বাংলাদেশে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৪০ লাখ বা তার বেশি বজ্রপাত হয়। ২০১৯ সালে তা প্রায় ১০ লাখ কমে যায়। ২০২০ সালে বজ্রপাতের সংখ্যাটি দাঁড়ায় ২৫ লাখের কিছু কম।

ভাইসালারের সাত বছরের তথ্য বলছে, দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর ৭০ শতাংশ ঘটনা ঘটে কৃষিকাজ করার সময়। এ ছাড়া বাড়ি ফেরার পথে সাড়ে ১৪ শতাংশ এবং গোসল করা ও মাছ ধরার সময় ১৩ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এই তথ্যের মিল পাওয়া গেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এক হিসাবে। অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রপাতে মারা যাওয়া ২৬৪ জনের মধ্যে ২৬০ জনই পেশায় কৃষক বা মাঠে কাজ করার সময় মারা গেছেন।

২০২১ বজ্রপাতে মৃত্যুর জেলাওয়ারী হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৬ জন। ১৬ থেকে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, দিনাজপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলায়। ১২ থেকে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, রাজশাহী ও বগুড়ায়।

গবেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে সংখ্যাটা কমলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে হতাহতের সংখ্যা বেশি হতে দেখা যাচ্ছে। গাছপালা কমে যাওয়া, মাঠে উঁচু গাছ না থাকা এবং পানির কাছাকাছি থাকার কারণে বাহক হিসেবে মানুষ বজ্রপাতের শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া মৌসুমী বজ্রপাতের কারণ মূলত মৌসুমী বায়ুর প্রভাব।

গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের ভূমিরূপের কারণেও বজ্রঝড় বেশি হয়। প্রাক-মৌসুমে দেশে অন্য মৌসুমের তুলনায় বজ্রপাত বেশি হয়। যার মূল কারণ কৃষিতে সেচকাজ- যা ভূমি ও বায়ুমণ্ডলের এনার্জি এক্সচেঞ্জকে প্রভাবিত করে। গাণিতিক ও আবহাওয়ার মডেল অনুযায়ী, প্রাক-মৌসুমে বজ্রপাত ও ঝড়ের তীব্রতা বাড়ে, অন্য সময়ে কমে। আর প্রাক-মৌসুমে যে বজ্রপাত হয়, তার তীব্রতা অনেক বেশি থাকে। ফলে প্রাণহানির আশঙ্কাও বেশি।

আশরাফ দেওয়ান দৈনিক বাংলাকে বলেন, মূলত বজ্রপাতগুলো বৃহৎ শক্তি (ভোল্টেজ) নিয়ে ভূমিতে আছড়ে পড়ছে। ভূমিতে নামার সময় বজ্রপাত উঁচু বাহক খোঁজে। মাঠে উঁচু গাছ কম এবং ওই পরিবেশে গাছপালাও কমে যাচ্ছে। ফলে বজ্রপাত বাহক হিসেবে বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, হতাহতও বাড়ছে।

উদাহরণ দিতে গিয়ে এই গবেষক বলেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মা নদীর তেলিখাড়ি ঘাটে বজ্রপাতে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৬ জন। তাঁরা সবাই ঘাটে পানির কাছাকাছি ছিলেন। আবার এ বছর ৮ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বজ্রপাতে একই পরিবারের ৫ জনসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। তারা সবাই মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। ফলে একসঙ্গে এতগুলো বাহক পেয়ে বজ্রপাত তার পূর্ণ শক্তি নিয়ে আঘাত হানে।


সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু

সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে নিজ বাসার সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন তুষভান্ডার মহিলা কলেজের শিক্ষক পারুল বেগম। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) গুলফামুল ইসলাম মন্ডল কলেজ শিক্ষক পারুলের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, রোজা রাখতে রোববার ভোরে ঘুম থেকে উঠে সেহেরি রান্নার জন্য গ্যাসের চুলা চালু করতে যান পারুল। এ সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সে আগুনে দগ্ধ হন পারুল। ধোঁয়া ও পারুলের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে নিয়ে যান। বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মারা যান তিনি।

পারুল বানু উপজেলার তুষভান্ডার মহিলা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তার স্বামী একই কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক। তাদের দুজনের বাড়ি রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলায়। কলেজে শিক্ষকতার সুবাদে তারা উপজেলা সদরে ভাড়া থাকতেন। তাদের একটি সন্তান রয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) গুলফামুল ইসলাম মন্ডল বলেন, প্রভাষক পারুলের লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। মেডিকেল কলেজ থেকে আগুন লাগার বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। আমাদের কাছে যেসব তথ্য ছিল, আমরা জানিয়েছি।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম গোলাম রসুল বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। ওই শিক্ষকের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ রাজশাহীতে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’


ফুটবলার আঁখির জমি নিষ্কণ্টক, মামলা প্রত্যাহার

ফুটবলার আঁখির জমি নিষ্কণ্টক, মামলা প্রত্যাহার
আঁখিকে বরাদ্দ দেয়া জমি, ইনসেটে আঁখি খাতুন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনূর্ধ্ব-১৫ গোল্ডেন বুট জয়ী ও সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি জয়ী নারী ফুটবলার আঁখি খাতুনকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ৮ শতাংশ জমির ওপর করা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার বাদী হাজী মকরম প্রামানিক সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফুন নাহার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাদীপক্ষ মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। ফলে এ মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। বর্তমানে ফুটবলার আঁখিকে বরাদ্দ দেওয়া ওই জমিটি এখন সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ফুটবলার আঁখির জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ জমির একটি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ৪ জুন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার জমির দলিল হস্তান্তর করেন। সম্প্রতি হাজী মকরম প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি ওই জমির তাদের দখলে রয়েছে দাবি করে মামলা করেন। তবে মামলার তফসিলে তিনি খতিয়ান উল্লেখ বা জমিটির মালিকানা দাবি করেননি। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বাদী নিজেই মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করলে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

ফুটবলে অবদান ও পরিবারের দারিদ্র্য অবস্থা বিবেচনায় তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় আঁখিকে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জমির মালিকানা দাবি করে শাহজাদপুরের একজন ব্যবসায়ী মামলা করেন। আঁখির জমি নিয়ে সমস্যার কথা বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ নতুন জমি আঁখির নামে বরাদ্দ দেয়। গত ৪ জুন এই জমির দলিল আঁখির পরিবারের কাছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার জমির দলিল হস্তান্তর করেন। সম্প্রতি আঁখি খাতুনকে বরাদ্দ দেয়া সেই জমির দখল নিয়ে হাজী মকরম প্রামানিক আদালতে মামলা করেছিলেন।

গত বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলার নোটিশ নিয়ে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুনুর রশিদ ও কনস্টেবল আবু মুসা আঁখির গ্রামের বাড়িতে গেলে তার বাবার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আঁখির বাবাকে পুলিশ শাসায় এবং থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সমালোচনা হলে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেন। এ ঘটনার পাঁচদিন পর বাদী স্বেচ্ছায় মামলাটি প্রত্যাহার করে নিলেন।


মুক্তিপণ দিতে না পারায় খুন হলেন কৃষক

মুক্তিপণ দিতে না পারায় খুন হলেন কৃষক
মরদেহ। প্রতীকী ছবি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মুক্তিপণ দিতে না পারায় খুন হয়েছেন কৃষক ছাইদুর রহমান (৪০)। তিনি উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের বলতৈল গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের নদী থেকে ছাইদুর রহমানের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে। এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি অপহৃত হন।

ছাইদুরের পরিবারের বরাত দিয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনামুল হক জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর ছাইদুর সন্ধ্যার আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। ২৫ সেপ্টেম্বর ছাইদুরের পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তার মুক্তির জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। একাধিকবার এই টাকার দাবিতে মোবাইল করে অপহরণকারীরা। কিন্তু ছাইদুরের পরিবারের পক্ষে এই টাকা দেয়া সম্ভব না বলে জানানো হয়।

এনামুল হক বলেন, ‘আজ (সোমবার) সকালে স্থানীয় লোকজন গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের নদীতে ছাইদুরের ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানায় খবর দেয়। পুলিশ নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করেছে। ছাইদুরের মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে।’

ছাইদুরের স্ত্রী বুলবুলি খাতুন বলেন, ‘গত শনিবার সন্ধায় আমার স্বামী এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়। রাত ১০টাতেও তার কোনো খোঁজখবর পাইনি। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আত্মীয়ের বাড়িতে ফোন দিলে তারা জানায়, ছাইদুর দাওয়াত খেতে যায়নি।’

বুলবুলি বলেন, ‘রোববার দুপুরে একটা ফোন আসে আমার স্বামীর মোবাইল নম্বর থেকে। বলে, স্বামীকে ফিরে পেতে হলে আমাদের টাকা দিতে হবে। এরপর টাকা গোছানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু টাকা গোছাতে পারিনি। আমার স্বামীকে ওরা মেরে নদীতে ফেলে দিয়েছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খুনিদের শনাক্ত এবং তাদের ধরার চেষ্টা শুরু করেছি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’


রংপুর মেডিকেলের অব্যবস্থাপনা বন্ধে রাজপথে চিকিৎসকরা

রংপুর মেডিকেলের অব্যবস্থাপনা বন্ধে রাজপথে চিকিৎসকরা
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে চিকিৎসকদের মানববন্ধন। ছবি: দৈনিক বাংলা
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন চিকিৎসকরা। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে প্রতিবাদস্বরূপ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মানববন্ধন করেন তারা।

‘রংপুরের সম্মিলিত চিকিৎসক সমাজ’-এর ব্যানারে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীর।

মানববন্ধনে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বিমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘এত অনিয়ম হচ্ছে যে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ কারণে আমরা রাস্তায় নেমেছি, প্রতিবাদ করছি। আমরা চাই এই হাসপাতালের সব অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধ হোক। এরপরও যদি দাবি আদায় না হয় তাহলে আমরা পরামর্শ করে কঠোর আন্দোলনে যাব।’

বিএমএ নেতা মামুনুর রশীদ বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত অনিয়ম চলে। পদে পদে টাকা দিতে হয়। আমরা এতদিন নীরব ছিলাম। এখানে চিকিৎসকের মাকে নিয়ে এলেও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।’

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায় তখন সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। যে-ই দুর্নীতি করুক তার কোনো দল নেই, সমাজ নেই, তার পরিচয় সে দুর্নীতিবাজ। আমি রংপুরের সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’

রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক নুরুন্নবী লাইজু বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা একটি অসাধু সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এখানে কেউ মৃত্যুবরণ করলেও ওই চক্রকে টাকা দিতে হয়, তা না হলে হয়রানির শিকার হতে হয়।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অসাধু চক্রকে বিতাড়িত, এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে চিকিৎসা ও শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি জানান বক্তারা।

এ সময় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ মাহফুজার রহমান, বিএমএ-এর সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন, জামাল উদ্দিন প্রমুখ।


সাফজয়ী নীলাকে বরণ করতে উন্মুখ কুষ্টিয়া

সাফজয়ী নীলাকে বরণ করতে উন্মুখ কুষ্টিয়া
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাফজয়ী নীলা। ফাইল ছবি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সাফ ফুটবল শিরোপাজয়ী নারী দলের খেলোয়াড় কুষ্টিয়ার মেয়ে নিলুফা ইয়াসমিন নীলাকে সংবর্ধনা দেবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা। নীলা যে দিন কুষ্টিয়া পৌঁছবেন, সে দিনই তাকে নিয়ে খোলা গাড়িতে করে সারা শহর ঘোরানো হবে। ওই দিনই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে শিল্পকলা একাডেমিতে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে রোববার দুপুরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে এক সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ সাইদুল ইসলাম এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। জানা গেছে, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা কুষ্টিয়া পৌঁছলে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেবেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যরা। এরপর খোলা গাড়িতে করে ব্যান্ড বাজিয়ে কুষ্টিয়া শহরের প্রদক্ষিণ করানো হবে। সঙ্গে থাকবে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পোশাকি দল ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা। শহর প্রদক্ষিণ শেষে কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে সংবর্ধনা দেয়া হবে নীলাকে।

জেলা প্রশাসক জানান, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের জন্যও সংবর্ধনা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পক্ষ থেকে নিলুফা ইয়াসমিন নীলাকে কেউ উপহার দিতে চাইলে সেই সুযোগও রাখা হয়েছে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য সাব্বির মোহাম্মদ কাদেরী সবুর বলেন, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা যেদিন কুষ্টিয়ায় আসবেন, তাকে সে দিনই একই আয়োজনে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

এর আগে গত শুক্রবার জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ সাইদুল ইসলাম কুষ্টিয়া শহরের নীলার বাড়িতে গিয়ে নীলার মাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি নীলাকে সংবর্ধনা ও এক লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন। পরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যরা নীলার বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এর আগে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র শাহিন উদ্দিন নিজ উদ্যোগে ও ব্যক্তিগত খরচে নিলুফা ইয়াসমিন নীলার কুষ্টিয়া জুগিয়া পালপাড়া সবজি ফার্ম এলাকার বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা পরিষ্কার করান এবং বাড়ির উঠানে বালু দিয়ে ভরাট করে দেন। তিনিও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আলাদা সংবর্ধনার আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন।

নিলুফা ইয়াসমিন নীলা কুষ্টিয়া পৌর এলাকার জুগিয়া পালপাড়া এলাকার বাছিরন শাম্মী আক্তারের মেয়ে। ছোটবেলায় তার বাবার কাছ থেকে মা আলাদা হয়ে যান। পরবর্তী সময়ে তার মা বাছিরন আক্তার শাম্মী অনেক সংগ্রাম ও কষ্ট করে নীলা ও তার ছোট বোন সুরভী আক্তারকে বড় করেছেন। মেয়র এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছেন নীলার মাসহ পরিবারের সবাই।

মা বাছিরন আক্তার শাম্মী বলেন, ‘মেয়ে এত বড় সাফল্য নিয়ে আসবে, আমরা কেউ ভাবিনি। আমরা খুব খুশি। মেয়েকে নিয়ে গর্বিত।’ তিনি জানান, নিলুফা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর আন্তবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন তিনি। ওই খেলা শেষ করে তিনি কুষ্টিয়া ফিরবেন।