সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

শিক্ষক আছেন, শিক্ষার্থী নেই

শিক্ষক আছেন, শিক্ষার্থী নেই
সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা। ছবি: দৈনিক বাংলা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • কুড়িগ্রামের নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা

উত্তরবঙ্গের একমাত্র ইসলামী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসংকটে ভুগছে। গভর্নিং বডি গঠন, নিয়োগে অনিয়মসহ নানা অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পড়ালেখার গুণগত মান ঠিক না থাকায় অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন।

নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের সাতদরগাহতে অবস্থিত। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছয় শতাধিক দাবি করলেও কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩১ জন। করোনা-পরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হলে মাদ্রাসা থেকে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয় সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০৪ জন দেখানো হয়েছে।

সাতদরগাহ গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুন্নাছির পীর সাহেব কেবলাসহ স্থানীয় কয়েকজন ইসলামী শিক্ষানুরাগীকে নিয়ে ১৯৪২ সালে কয়েক একর জমির ওপর এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা মতিয়ার রহমান অধ্যক্ষ থাকাকালীন প্রতিষ্ঠানটি ভালোই চলছিল। কিন্তু তার অবসরের পর অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে নানা জটিলতা শুরু হয়। ২০১২ সালে মাওলানা আবুল কাশেম অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। এ নিয়ে শিক্ষক ও কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যা মামলা-মোকাদ্দমায় পর্যন্ত গড়ায়।

স্থানীয়রা বলছেন, উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা এই বিদ্যাপীঠটি অতীত ঐতিহ্য হারিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের এমন দুরবস্থার জন্য অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করছেন অভিভাবকরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে মাদ্রাসায় মোট ৫৮ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে চারজন, পঞ্চম শ্রেণিতে তিনজন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১৩ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ২৩ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ১১ জন, নবম শ্রেণিতে ১০ জন, দশম শ্রেণিতে চারজন এবং আলিমের একজন শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। আর ইবতেদায়ি, ফাজিল, কামিল শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা শূন্য। যদিও এসব শ্রেণিসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে পাঠদানের জন্য মোট ৫৩ জন শিক্ষক রয়েছেন এই মাদ্রাসায়। প্রতি মাসে শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনবাবদ ব্যয় হয় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।

আলিম শাখায় উপস্থিত একমাত্র শিক্ষার্থী নাজমুল হুদা জানান, তার আরও পাঁচজন সহপাঠী ছিলেন। কিন্তু তারা কেউ মাদ্রাসায় আসেন না। কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী জানান, মাদ্রাসায় শিক্ষক সংকট নেই, আছে শিক্ষার্থী সংকট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, আলিম থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে যত শিক্ষার্থী ভর্তি দেখানো হয়েছে তার অধিকাংশই ভুয়া। অধ্যক্ষের পকেট কমিটি, নিয়োগবাণিজ্য, মাদ্রাসার জমি-পুকুর লিজের টাকা আত্মসাৎ এবং শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কয়েকজন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন।

মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতার ছেলে মুহেব্বলুল হাসান করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘অধ্যক্ষ নিজের স্বার্থের জন্য শিক্ষক শফিকুর রহমানকে সভাপতি এবং ছোট ভাই আব্দুস সালামকে বিধিবহির্ভূতভাবে সহসভাপতি করে একটি পকেট কমিটি করেছেন। দাতা সদস্য জীবিত থাকার পরেও শূন্য দেখানো হয়েছে। অথচ ২০১২ সালের ১২ নভেম্বর সংশোধিত ও প্রতিস্থাপিত গেজেট অনুযায়ী কোনো শিক্ষক কিংবা শিক্ষক শ্রেণির সদস্য গভর্নিং বডির সভাপতি পদে মনোনীত হবেন না।’

মুহেব্বলুল হাসান করিম আরও বলেন, ‘আমরা অধ্যক্ষের দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতাসহ অনিয়ম বন্ধ চাই। কর্তৃপক্ষ ঐতিহ্যবাহী এই মাদ্রাসার সুনাম ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, সেই প্রত্যাশা করি।’

মাদ্রাসার সভাপতি এবং উলিপুর আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী, আমি সভাপতি হয়েছি। আমি অসুস্থতার জন্য ঢাকায় আছি। পরে সরাসরি কথা হবে।’

নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাশেম শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, ‘পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী আছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত না আসার কারণে অনুপস্থিতির হার বেশি।’ গভর্নিং বডি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী গভর্নিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ্ মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘কর্মরত অবস্থায় গভর্নিং বডিতে শিক্ষক থাকতে পারবেন কি না, বিধিতে বিষয়টি অস্পষ্ট। নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক পদে থাকতে পারবেন কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা বোর্ডের গভর্নিং বডি গঠন নিয়েও কনট্রাডিকশন (অসংগতি) আছে।’



পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশিত

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে দীঘিনালার কবাখালী ইউনিয়নের মুসলিম পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, মুসলিমপাড়ার কামাল হোসেনের ছেলে ফারহান হোসেন (২) ও নুর আলমের মেয়ে নুসরাত জাহান (২)। নিহতরা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি।

কবাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে দুই শিশু বসেছিল। কিছুক্ষণ পরে তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. প্রমেশ চাকমা জানান, হাসপাতালে আনার আগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


অনিয়মের অভিযোগ, মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

অনিয়মের অভিযোগ, মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি
পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন পৌরসভার কাউন্সিলর ও পৌরবাসীদের অনেকেই। এই অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। আজ সোমবার সকালে উপজেলা শহরের দোয়েল চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়।

ঘণ্টাব্যাপী চলা এ মানববন্ধনে ব্যানার, লিফলেট, ফেসটুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় পৌরসভার সাবেক মেয়র শাহীনুর রমান রিন্টু, বর্তমান কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন ও আবু আহসান রনুসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান মেয়র ফারুক হোসেন পৌরসভায় অবৈধভাবে নিয়োগ-বাণিজ্য করছেন। এ ছাড়া পৌরবাসী জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে নির্ধারিত ফি থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। যার রশিদও আছে। পৌরবাসী নাগরিক সেবা নিতে গেলে বিভিন্ন অনিয়ম করছে মেয়র। এ সময় মেয়রের এমন কর্মকাণ্ডের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।


একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র আর নেই

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র আর নেই
সাংবাদিক রণেশ মৈত্র । ছবি : সংগৃহীত
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র মারা গেছেন। আজ সোমবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ বলেন, তার সন্তান অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে আসছেন। তিনি এলেই পারিবারিক সিদ্ধান্তে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

১৯৩৩ সালে রাজশাহী জেলার ন’হাটা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন রণেশ মৈত্র। পৈত্রিক বাসস্থান পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া গ্রামে। তিনি ১৯৫৫ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৫৯ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫১ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নওবেলাল পত্রিকার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতার শুরু। এরপর কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সত্যযুগে তিন বছর সাংবাদিকতার পর ১৯৫৫ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৬১ সালে ডেইলি মর্নিং নিউজ এবং ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত দৈনিক অবজারভারে পাবনা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে দি নিউ নেশনের মফস্বল সম্পাদক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দি ডেইলি স্টারের পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পাবনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।

রণেশ মৈত্রের মৃত্যুতে পাবনার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকসহ নানা পেশাজীবি সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন।


এখন অপেক্ষা শুধু লাশের

এখন অপেক্ষা শুধু লাশের
নিখোঁজদের লাশের অপেক্ষায় করতোয়ার তীরে স্বজনরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

হোসেন রায়হান

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকেই। নিখোঁজদের লাশের অপেক্ষায় করতোয়ার পাড়ে অবস্থান করছেন স্বজনেরা।

মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারলেই নদীর পাড় থেকে স্বজনরা ছুটে আসছেন ইউনিয়ন পরিষদে। হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে মাড়েয়া ইউনিয়নে।

আজ সোমবার সকালে আউলিয়ার ঘাট এলাকায় দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস এবং ডুবুরি দলের তিনটি ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেখানে ভিড় করছে নিখোঁজদের স্বজনেরা।

ষাটোর্ধ্ব কৃষ্ণ চন্দ্র রায় ভাই এবং ভাতিজার খোঁজে এসেছেন আউলিয়া ঘাটে। তিনি জানান, নদীর অপর পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পুজায় যোগ দিতে তার ভাই নরেশ ও ভাতিজা সিন্টু বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেননি। নৌকাডুবির খবরে কাল থেকেই এখানে লাশের অপেক্ষা করছেন তিনি।

নাতির খোঁজে উপজেলার পাঁচপীর এলাকা থেকে এসেছেন বৃদ্ধ সুমল চন্দ্র। তিনি বলেন, নাতির মরদেহটা পেলে অন্তত নিজেরা সৎকারের কাজটা করতে পারতাম।

মাড়েয়া বটতলি এলাকার ধীরেন বাবুর দুই প্রতিবেশিসহ ৭ জন নিকটাত্মীয় এখনও নিখোঁজ। কাল থেকে তিনি নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পুজায় যোগ দিতে ভাতিজা, ভাতিজার বউ, ভাতিজার শ্বশুর, শ্যালিকা এবং আমার ভাতিজি নৌকায় ওঠে দুর্ঘটনায় পড়েন। এখন পর্যন্ত কারও খোঁজ পাইনি। এখন তাদের লাশের জন্য অপেক্ষা করছি।

এর আগে গতকাল রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরিদল। ভোর থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া মোট ৩২টি মরদেহের মধ্যে নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও নারী।

এদিকে ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। গভীর রাত পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলে। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। 


নিখোঁজ কৃষকের লাশ মিলল নদীতে

নিখোঁজ কৃষকের লাশ মিলল নদীতে
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ছাইদুর রহমান (৪০) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে উপজেলার গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের এক নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন ছাইদুর। উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের বলতৈল গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে তিনি।

উল্লাপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনামুল হক ছাইদুরের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে বের হন ছাইদুর। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। এর মধ্যে গতকাল রোববার ছাইদুরের মোবাইল নম্বর থেকে তার স্ত্রীর ফোনে কল করে এক ব্যক্তি দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। পরে এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ছাইদুরের স্ত্রী বুলবুলি খাতুন। এরপর সোমবার সকালে নদীতে ছাইদুরের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মোবাইল নম্বরের সূত্রধরে খুনিদের ধরার চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।