সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্ডে পৌর মেয়রের ছবি

টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্ডে পৌর মেয়রের ছবি
টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্ডে পৌর মেয়র তফাজ্জল হোসেনের ছবি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুরে টিসিবির পণ্য বিতরণের কার্ডে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার মেয়র মো. তোফাজ্জল হোসেনের ছবি দিয়ে তা বিতরণ করার অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতারা বলছেন, কার্ডে মেয়রের ছবি না থাকলে তাদের পণ্য দেয়া হচ্ছে না। সরকারি একটি সেবায় ছবি ছাপানো নিয়ে সমালোচনা করছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদরা। আর মেয়র বলছেন, তার সম্মানহানি করতেই কে বা কারা টিসিবির কার্ডে তার ছবি ছাপিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে টিসিবির স্বল্পমূল্যে পণ্য বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মেয়রের ছবিসংবলিত টিসিবির কার্ড দেখালে ক্রেতাদের পণ্য দেয়া হচ্ছে। কার্ডে মেয়রের ছবি না থাকলে পণ্য দেয়া হচ্ছে না।

টিসিবির পণ্য নিতে আসা মহছেনা বেগম বলেন, ‘মেয়রের ছবি ছাড়া কার্ড নিয়ে এলে পণ্য দেয়া হয় না। তাই তার ছবিসহ কার্ড নিয়ে আসছি। সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রও ছিল।’

টিসিবির কার্ডে মেয়রের ছবি যুক্ত করার সমালোচনা করে বাঞ্ছারামপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আল আমিন বলেন, ‘এটি তো সরকারি সেবা। এই কার্ডে মেয়রের ছবি থাকার বিষয়টি শোভন নয়। কার্ডে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি থাকলেও হতো। মেয়রের ছবি কেন থাকবে?’

বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘টিসিবির কার্ডে ছবি দেয়ার বিষয়ে মন্তব্য করে কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না। আমাকে মেয়রের ছবিসহ কার্ড দিয়েছে, আমি তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আর কিছু জানি না।’

এদিকে টিসিবির কার্ডে ছবি থাকলেও বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার মেয়র তফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, ‘কার্ডে আমার ছবি ও নাম কীভাবে এল, জানি না। আমার সম্মানহানির একটি পাঁয়তারা হতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঞ্ছারামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কি মিত্র চাকমা বলেন, ‘টিসিবি পণ্যের কার্ডে কোনো জনপ্রতিনিধি নিজের ছবি ব্যবহার করতে পারেন না। এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। সরকারের দেয়া কার্ড ব্যবহার করেই টিসিবির পণ্য নিতে হবে। আমরা বিষয়টি দেখছি।’


পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশিত

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে দীঘিনালার কবাখালী ইউনিয়নের মুসলিম পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, মুসলিমপাড়ার কামাল হোসেনের ছেলে ফারহান হোসেন (২) ও নুর আলমের মেয়ে নুসরাত জাহান (২)। নিহতরা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি।

কবাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে দুই শিশু বসেছিল। কিছুক্ষণ পরে তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. প্রমেশ চাকমা জানান, হাসপাতালে আনার আগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


অনিয়মের অভিযোগ, মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

অনিয়মের অভিযোগ, মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি
পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু পৌরসভার মেয়র ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন পৌরসভার কাউন্সিলর ও পৌরবাসীদের অনেকেই। এই অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। আজ সোমবার সকালে উপজেলা শহরের দোয়েল চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়।

ঘণ্টাব্যাপী চলা এ মানববন্ধনে ব্যানার, লিফলেট, ফেসটুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় পৌরসভার সাবেক মেয়র শাহীনুর রমান রিন্টু, বর্তমান কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন ও আবু আহসান রনুসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান মেয়র ফারুক হোসেন পৌরসভায় অবৈধভাবে নিয়োগ-বাণিজ্য করছেন। এ ছাড়া পৌরবাসী জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে নির্ধারিত ফি থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। যার রশিদও আছে। পৌরবাসী নাগরিক সেবা নিতে গেলে বিভিন্ন অনিয়ম করছে মেয়র। এ সময় মেয়রের এমন কর্মকাণ্ডের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।


একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র আর নেই

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র আর নেই
সাংবাদিক রণেশ মৈত্র । ছবি : সংগৃহীত
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্র মারা গেছেন। আজ সোমবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ বলেন, তার সন্তান অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে আসছেন। তিনি এলেই পারিবারিক সিদ্ধান্তে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

১৯৩৩ সালে রাজশাহী জেলার ন’হাটা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন রণেশ মৈত্র। পৈত্রিক বাসস্থান পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া গ্রামে। তিনি ১৯৫৫ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৫৯ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫১ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নওবেলাল পত্রিকার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতার শুরু। এরপর কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সত্যযুগে তিন বছর সাংবাদিকতার পর ১৯৫৫ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৬১ সালে ডেইলি মর্নিং নিউজ এবং ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত দৈনিক অবজারভারে পাবনা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে দি নিউ নেশনের মফস্বল সম্পাদক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দি ডেইলি স্টারের পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পাবনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।

রণেশ মৈত্রের মৃত্যুতে পাবনার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকসহ নানা পেশাজীবি সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন।


এখন অপেক্ষা শুধু লাশের

এখন অপেক্ষা শুধু লাশের
নিখোঁজদের লাশের অপেক্ষায় করতোয়ার তীরে স্বজনরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

হোসেন রায়হান

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৬০ জন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের লাশের অপেক্ষায় করতোয়ার পাড়ে অবস্থান করছেন স্বজনেরা।

মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারলেই নদীর পাড় থেকে স্বজনরা ছুটে আসছেন ইউনিয়ন পরিষদে। হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে মাড়েয়া ইউনিয়নে।

আজ সোমবার সকালে আউলিয়ার ঘাট এলাকায় দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস এবং ডুবুরি দলের তিনটি ইউনিট উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেখানে ভিড় করছে নিখোঁজদের স্বজনেরা।

ষাটোর্ধ্ব কৃষ্ণ চন্দ্র রায় ভাই এবং ভাতিজার খোঁজে এসেছেন আউলিয়া ঘাটে। তিনি জানান, নদীর অপর পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পুজায় যোগ দিতে তার ভাই নরেশ ও ভাতিজা সিন্টু বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেননি। নৌকাডুবির খবরে কাল থেকেই এখানে লাশের অপেক্ষা করছেন তিনি।

নাতির খোঁজে উপজেলার পাঁচপীর এলাকা থেকে এসেছেন বৃদ্ধ সুমল চন্দ্র। তিনি বলেন, নাতির মরদেহটা পেলে অন্তত নিজেরা সৎকারের কাজটা করতে পারতাম।

মাড়েয়া বটতলি এলাকার ধীরেন বাবুর দুই প্রতিবেশিসহ ৭ জন নিকটাত্মীয় এখনও নিখোঁজ। কাল থেকে তিনি নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পুজায় যোগ দিতে ভাতিজা, ভাতিজার বউ, ভাতিজার শ্বশুর, শ্যালিকা এবং আমার ভাতিজি নৌকায় ওঠে দুর্ঘটনায় পড়েন। এখন পর্যন্ত কারও খোঁজ পাইনি। এখন তাদের লাশের জন্য অপেক্ষা করছি।

এর আগে গতকাল রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরিদল। ভোর থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া মোট ৩২টি মরদেহের মধ্যে নিহতদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও নারী।

এদিকে ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। গভীর রাত পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলে। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। 


নিখোঁজ কৃষকের লাশ মিলল নদীতে

নিখোঁজ কৃষকের লাশ মিলল নদীতে
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ছাইদুর রহমান (৪০) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে উপজেলার গুনাইগাঁতী গ্রামের পাশের এক নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন ছাইদুর। উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের বলতৈল গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে তিনি।

উল্লাপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনামুল হক ছাইদুরের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে বের হন ছাইদুর। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। এর মধ্যে গতকাল রোববার ছাইদুরের মোবাইল নম্বর থেকে তার স্ত্রীর ফোনে কল করে এক ব্যক্তি দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। পরে এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ছাইদুরের স্ত্রী বুলবুলি খাতুন। এরপর সোমবার সকালে নদীতে ছাইদুরের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মোবাইল নম্বরের সূত্রধরে খুনিদের ধরার চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।