রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

বিজয় নিশান উড়ছে ঐ

বিজয় নিশান উড়ছে ঐ
ছাদখোলা বাসে সাফজয়ী মেয়েরা। ছবি : দৈনিক বাংলা
তরিকুল ইসলাম সজল
প্রকাশিত

তরিকুল ইসলাম সজল

অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন। কবিতা লেখার অপেক্ষা নয়,  সেটা আগেই লেখা হয়ে গেছে। সবাই অপেক্ষায় কবির। একজন নয়, দুজন নয়, ২৩ জন কবির অপেক্ষায় সকাল থেকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে ভিড় করে দাঁড়িয়ে শ্রোতারা।

আগেই জানা ছিল, তাদের দেখা মিলবে বেলা দুইটার পর। কিন্তু তীব্র রোদ উপেক্ষা করে সহস্র মুখ হাজির কাল। বাংলাদেশের আনসারের বাদক দল তাল তুলল বাদ্যযন্ত্রে। ‘মাগো ভাবনা কেন?’- পাশ থেকে হর্ষধ্বনি আর উল্লাস। ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ স্লোগানে মুখরিত বিমানবন্দর এলাকা। সে আবেগের রেণু ছড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশে।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী দলকে বরণের দৃশ্যে বারবার এমন আবেগই ধরা পড়ল।

২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির পর ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। দুই বছর আগে এমনই এক বিজয় উল্লাসের দেখা মিলেছিল। সে দিন ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরেছিল আকবর আলীর দল। কাল মেয়েদের সাফের শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরলেন সাবিনা খাতুনরা।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু; সেটা কাকলী, মহাখালী, জাহাঙ্গীরগেট, বিজয় স্মরণী, তেজগাঁও, আরামবাগ হয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে। ছাদখোলা বাসে সাবিনা-তহুরা-মারিয়াদের বাফুফেতে পৌঁছাতে প্রায় ৪ ঘণ্টা। কিন্তু এ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফুটবলারদের মনে তেমন কোনো অনুযোগ অবশ্য দেখা যায়নি। পুরোটা পথ যে সমর্থকদের ভালোবাসা ও আদর মাখতে মাখতে এগিয়েছে তারা।

এই ভালোবাসা আগে থেকেই ছিল। তবে সুপ্ত আগ্নেয়গিরিতে বিস্ফোরণ ধরিয়ে দিয়েছিলেন সানজিদা আকতার। ফাইনালের আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিমান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে। সমাজের টিপ্পনীকে একপাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছে, তাদের জন্য এই ট্রফিটি জিততে চাই।’

সানজিদারা ট্রফি নিয়ে ফিরেছেন কাল, আর ভালোবেসে তাদের বরণ করে নিতে ছুটে গেছেন সমর্থকরা। ২১ সেপ্টেম্বর ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। দেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার আঞ্চলিক শিরোপার স্বাদ পেল বাংলাদেশের মেয়েরা।

সকাল থেকে গোটা এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা, সংবাদকর্মীদের ভিড়। ভিড়ের কারণে বিমান থেকে নেমে লোকচক্ষুর সম্মুখে আসতে সাফজয়ীদের লেগে গেল প্রায় ৫০ মিনিট। বাধ্য হয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বাতিল হয়ে যায়।

ঋতুপর্ণা চাকমা অবাক হয়ে বললেন, ‘আমরা মনে করেছিলাম মানুষ থাকবে। কিন্তু এত বেশি মানুষ আসবে এটা একেবারে অপ্রত্যাশিত।’ তাতে অবশ্য আনন্দে কমতি পড়েনি কারও। টুর্নামেন্টসেরা গোলকিপার রুপনা চাকমার উচ্ছ্বাস বাঁধনহারা, ‘অনেক, অনেক, অনেক ভালো লাগছে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরতে পেরে।’ অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও তৃপ্ত, ‘অনেক ভালো লাগছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অনেক বড় অর্জন আমাদের।’

এমন এক অর্জন সঙ্গী হয়ে গেল আব্দুল কালামের। ছাদখোলা বাস চালানোর দায়িত্ব যে বিআরটিসির এই চালকের, ‘২৪ বছরে সবচেয়ে আনন্দ অনুভব করছি আজকে। চ্যাম্পিয়নদের গাড়ি আমি চালাব। নারী ফুটবলারদের সৌজন্যে সে দিনটা এল।’ সর্বশেষ ১২ বছর ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চালান কালাম, সেখানকার শিক্ষার্থীরা তাকে ফোন দিচ্ছেন, ‘সবাই বলছে, কালাম ভাই, আপনি তো সেলিব্রিটি হয়ে যাচ্ছেন। সবাই আপনাকে দেখছে। খুব আনন্দ অনুভব করছি।’

ওমরাহ্‌ থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে পেসার তাসকিন আহমেদও জানিয়ে গেলেন কতটা খুশি মেয়েদের এমন অর্জনে, ‘অনেক বড় পাওয়া আসলে এটা, অনেক খুশির বিষয় আলহামদুলিল্লাহ। আশা করি আরও ভালো খেলবে।’

সাবিনা-ঋতুপর্ণাদের নিয়ে ছাদখোলা বাস এরপর শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছে। সমর্থকরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িবহর নিয়ে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে পতাকা উড়িয়ে সাফজয়ীদের সঙ্গী হয়েছেন। দুপুর পেরিয়ে বিকেল, বিকেল থেকে সন্ধ্যা- ভালোবাসা মেখে মেখেই কাল মতিঝিলের বাফুফে ভবনে হাজির হয়েছেন মেয়েরা।

বাফুফে ততক্ষণে লোকে লোকারণ্য। অধীর ব্যাকুল মুখগুলো সাবিনাদের আরেকটু কাছ থেকে দেখতে চায়, জানাতে চায় ভালোবাসা। দিনটা যে বিজয়ের দীপ্তি মাখার। বিজয়ী শব্দটা নিজেদের করে পাওয়ার।

মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে দেখা করতে ‘রাজি নন’ মা রহিমা

মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে দেখা করতে ‘রাজি নন’ মা রহিমা
ছবি : দৈনিক বাংলা
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

খুলনার মহেশ্বরপাশায় নিখোঁজ রহিমা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি উদ্ধার হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কোন কথা বলেননি। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতেও রাজি হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে রাত পৌনে ১১ টায় খুলনার উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ। রাত সোয়া ২ টার দিকে তাকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। ওই রাতেই তাকে রাখা হয় সোনাডাঙায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে।

সেখানে রোববার সকালে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান মরিয়ম ও তার ভাই বোনরা। তবে কোনভাবেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হচ্ছিলেন না তিনি।

পরে পুলিশের অনুরোধ ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে জানালার কাছে এসে দাঁড়ান রহিমা বেগম। তখন মরিয়ম মা বলে ডাক দিলে তার দিকে কোনভাবেই তাকাইনি, বরং মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে পিছন দিকে হেঁটে চলে যান।

ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রহিমা বেগমকে বুঝে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তাকে জিজ্ঞেসাবাদ শেষে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে একটি ব্রিফ করেন পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা রহিমাকে আনার পর তেমন কোন কথা তিনি বলেননি। সকালে তিনি তার পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে চান নি। কী কারণে তিনি এমন করছেন কিছু বুঝতে পারছি না।’

মরিয়মের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, ‘মরিয়ম বারবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। ময়মনসিংহের একটি লাশ নিজের মায়ের বলে দাবি করেছেন। এসব করে আমাদের বিভ্রান্ত করেছেন। এটা তার ঠিক হয়নি।’

রহিমা বেগম আত্মগোপন ছিলেন নাকি তাকে অপহরণ করা হয়েছিল­­­– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘রহিমা বেগমের কাছে জামাকাপড় ছিল। ওষুধ ছিল। এটাকে অপহরণ বলা যায় না।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘আমরা এখন রহিমাকে আদালতে সোপর্দ করবে। আদালত যেখানে রাখার নির্দেশ দেয় রহিমাকে সেখানে রাখা হবে।’

খুলনার দৌলতপুর মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়া থেকে গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিখোঁজ হন রহিমা। সে সময় রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হাওলাদার ওই বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন রহিমা।

এ ঘটনায় পরেরদিন অপহরণ মামলা করেন রহিমা বেগমের মেয়ে আদুরী।

রহিমা অপহৃত হয়েছেন দাবি করে ১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারের সদস্যরা।

রহিমার সঙ্গে জমি নিয়ে স্থানীয়দের মামলা চলছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল। রহিমার করা সেই মামলায় আসামিরা হলেন প্রতিবেশী মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিুকল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল ও হেলাল শরীফ। বর্তমানে তারাসহ স্বামী বিল্লাল হাওলাদার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

আদালত ১৪ সেপ্টেম্বর অপহরণ মামলাটি পিবিআইতে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই।


ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত

ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত
ছবি : দৈনিক বাংলা
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে সানারুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন। আজ রোববার সকাল ১০ টার দিকে রেল জগন্নাথপুর গ্রামে রেল লাইনের ওপর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ। নিহত সানারুল উপজেলার পারকুলা গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে।

স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, আজ ভোরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়েন সানারুল। তার ডান হাত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মাসুদ রানা বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


ময়লার ভাগাড় যেন ‘টাকার খনি’

ময়লার ভাগাড় যেন ‘টাকার খনি’
মহাসড়কে ময়লা ও আবর্জনা ফেলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ জানিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বিলবোর্ডে ঘেঁষেই ফেলা হচ্ছে ময়লা। ছবি: দৈনিক বাংলা
সাভার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • বাইপাইলের ময়লার ভাগাড়ে গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা চাঁদা নেয়ার অভিযোগ।

  • ভাগাড় করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।

ইমতিয়াজ উল ইসলাম, সাভার

নগরায়ণের ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। কিন্তু ঢাকার কাছেই সাভারে সড়ক-মহাসড়কের পাশে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি উৎকট গন্ধে পথচারী ও স্থানীয়দের নাজেহাল অবস্থা।

বছরের পর বছর এভাবে চললেও কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এসব ময়লার ভাগাড়কেন্দ্রিক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে উঠেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত। একেকটি ময়লার ভাগাড় থেকে বছরে চাঁদা সংগ্রহ হয় কোটি টাকার কাছাকাছি। শুধু তা-ই নয়, ময়লার ভাগাড় গড়ে জমি দখলেরও চেষ্টা চলছে বলে খোদ দায়িত্বশীলরা অভিযোগ করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের চক্রবর্তী, শ্রীপুর, বাইপাইল, পলাশবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বাসাবাড়ির উচ্ছিষ্ট ফেলা হচ্ছে। দিন-রাত ছোট ছোট গাড়িতে করে এসব ময়লা ফেলা হয়। ময়লা সংগ্রহকারীরা বাসাপ্রতি ১০০ টাকা করে নেন। গাড়িতে করে এসব ময়লা সড়কের পাশের ভাগাড়ে ফেলতে তাদের আবার চাঁদা গুনতে হয়।

আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় শাহরিয়ার গার্মেন্টেসের বিপরীতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে একটি ময়লার ভাগাড় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, এখানে ময়লা ফেলতে গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা চাঁদা আদায় করে একটি চক্র। প্রতিদিন ৪০-৪৫টি গাড়ি ময়লা ফেলে। সে হিসাবে বছরে এই একটি ভাগাড় থেকেই প্রায় ৮১ লাখ টাকার চাঁদা আদায় করছে চক্রটি।

এ ছাড়া চক্রবর্তী, শ্রীপুর ও পলাশবাড়ী ময়লার স্পটগুলো থেকেও চাঁদাবাজির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ময়লা ব্যবসায়ী। তাদের অভিযোগ, হকার্স লীগের এক নেতা ও স্থানীয় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।

সাভারের একটি মহল্লায় বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ করেন মো. বাবুল। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পাবলিকের কাছ থাইকে আমরা আগে নিছি ৬০ ট্যাকা রুমপ্রতি। এখন সব জিনিসের দাম বাইড়া গেছে। তাই ১০০ ট্যাকা কইরা নিই। ওহানে মাল ফালাইলে হ্যাগো কিছু ট্যাকা দেয়া লাগে। তিন গাড়ি মাল ফালাইলে ৫০০ ট্যাকা কইরা মোট ১ হাজার ৫০০ ট্যাকা দেয়া লাগে। জুয়েল আর ওবায়দুল। ৪০-৪৫টা গাড়ির ময়লা পড়ে।’

অভিযোগের বিষয়ে আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. ওবায়দুল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যদি ভাই আমারে দেহেন, আমারে পান, তহন আমারে ধইরা নিয়া যাইয়েন। আমার এলাকায় আমি ময়লার ব্যবসা করি। আমার একটা গাড়ি আছে। ওখানে বাধা দেয়ার পর আমার গাড়িগুলার ময়লা চক্রবর্তীতে পড়ে। আমি এটার মধ্যে জড়িত না ভাই। যারা নেয়, তাদের নামে নিউজ করেন। আমার কাছে আগে শরিফ নামে একজন নিত। আমি আগে মাসে ১১ হাজার ট্যাকা দিয়া ফালাইতাম। হকার্স লীগের ওই শরিফরে দিতাম। ঢাকা জেলা হকার্স লীগের আহ্বায়ক।’

আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন তাহলে এমন প্রশ্নে ওবায়দুল বলেন, ‘আমার অবস্থান ভালো তো, হয়তো বা আমার নাম দিয়া বেইচা যায় আরকি। আমি আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির সহসভাপতি ছিলাম।’

চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠা মো. জুয়েল নামের অপরজনের রাজনৈতিক কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঢাকা জেলা হকার্স লীগের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম সবুজ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি এটার সঙ্গে জড়িত না ভাই। আমি এটার বিপক্ষে। আমি আরও ওখানে শাহরিয়ার গার্মেন্টেসের সিকিউরিটি গার্ডরে বইলা রাখছি, একটা গাড়ি এখানে যদি ফেলতে দেখ, আমারে ফোন দিবা, আমি আসুম।’

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওবায়দুল আপনাকে টাকা দিয়ে এখানে ময়লা ফেলতেন বলে জানিয়েছেন- এমন অভিযোগের জবাবে শরিফুল বলেন, ‘না না, ওবায়দুল নামে কাউকে চিনি না তো। যদি আমার নাম কেউ বলে থাকে আমাকে ফোন দিবেন।’

ময়লা ফেলে জমি দখলের চেষ্টা

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি দখলের উদ্দেশ্যেই মূলত ময়লার ভাগাড়গুলো গড়ে তুলেছেন প্রভাবশালীরা। আর সেই ভাগাড় থেকে এখন নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করছেন তারা।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নয়ারহাট শাখার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাখার প্রকৌশলী আরাফাত সাকলায়েন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি পুরোটা পরিষ্কার করছি। পরিষ্কার করে ময়লাগুলো ঠেলে দিয়ে একটা ব্যানার দিয়েছি বড়। আমাকে এলাকার লোকজন ফোন দিচ্ছিল। পাশাপাশি আমি জিডির কাগজ পৌঁছাইছি পুলিশের কাছে। পুলিশ এখনো জিডি করে নাই। ওনারা না কী এখন সরেজমিনে পরিদর্শন করে জিডি করে। আমি লোক পাঠায়ে জিডিটা এনশিওর (নিশ্চিত) করব।’

ভাগাড়কেন্দ্রিক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে উঠেছে- এমন প্রশ্নে আরাফাত সাকলায়েন বলেন, ‘আমরা ওই জায়গায় একটা বড় ড্রেন করে বাস যেন দাঁড়াতে পারে এ রকম একটা কিছু করতে চাচ্ছি। যেহেতু জায়গাটা আমাদের হাত থেকে ছুটেই যাচ্ছে। ওরা বারবার ময়লা ফালাচ্ছে, এই করতেছে সেই করতেছে। একটা পার্মানেন্ট সলুশন চাচ্ছি আর কী।’

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘অনেক দিন আগে ওই স্থানটি বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে আমাদের জানানো হয়েছিল। তবে জিডি বা অভিযোগ দায়ের হয়নি। নতুন করে ময়লার ভাগাড় থেকে চাঁদা তোলার বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


সাপের কামড়ে স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু

সাপের কামড়ে স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু
নিহত শিক্ষক বদিউজ্জামান এপো । ছবি : দৈনিক বাংলা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ঝিনাইদহ সদরে সাপের কামড়ে বদিউজ্জামান এপো (৫১) নামে এক স্কুলশিক্ষক মারা গেছেন। তার বাড়ি পোড়াহাটি ইউনিয়নের ইস্তেফাপুর গ্রামে। গতকাল শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। বদিউজ্জমান সদর উপজেলার মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

স্বজনরা জানান, এপো রাত ১০ টার দিকে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে যান। এ সময় বিষাক্ত সাপ তাকে ছোবল দেয়। পরিবারে লোকজন তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. লিমন পারভেজ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটলে এক ঘন্টার মধ্যে হাসপাতালে নিতে হয়।


নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই: প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে, কখনও কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। তারা (বিএনপি) জানে যে, সঠিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা হত্যা, অভ্যুত্থান ও ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসতে অভ্যস্ত। এটাই বাস্তবতা।

জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চেয়েছিলেন তারা কারা? আওয়ামী লীগ সব সময় দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছে।

শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলেছেন, জনগণ নির্বাচনে অবাধে তাদের ভোট দেবে এবং বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছেন যে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

‘আমি মনে করি, তারা (বিএনপি) সত্যিই চিন্তিত যে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। কারণ, তারা ভোট কারচুপি এবং ভোটার তালিকায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার রাখার সুযোগ পাচ্ছে না। অন্যথায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই,’ উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নির্বাচনে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দেবে। ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন এমন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, এটা তাদের দলের সিদ্ধান্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে। যদি কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারায় তাহলে কার কি করার আছে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএম একটি আধুনিক পদ্ধতি এবং বিশ্বের অনেক দেশেই এটি ব্যবহৃত হয়। আমরা দেখেছি, যেখানে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে দ্রুত নির্বাচনের ফলাফল পাওয়া যায় এবং মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে।