বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২

নতুন আইজিপি মামুন, র‌্যাবের দায়িত্বে খুরশীদ

নতুন আইজিপি মামুন, র‌্যাবের দায়িত্বে খুরশীদ
দুই পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও এম খুরশীদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের (র‌্যাব) দায়িত্বে থাকা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি সদ্য অবসরে যাওয়া আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এদিকে, র‌্যাব মহাপরিচালক পদে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ অধিদপ্তরে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক এম খুরশীদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস প্রজ্ঞাপনে সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এর আগে, একই শাখা থেকে জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় আইজিপি বেনজীর আহমেদকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে অবসরে পাঠাচ্ছে সরকার। তাকে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ‘ল্যাম্প গ্রান্ট’সহ আগামী ১ অক্টোবরের থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরের অবসর ও অবসরোত্তর ছুটিও দেয়া হয়েছে।

নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পেতে যাওয়া অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে র‌্যাব মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। র‌্যাবের প্রধান হওয়ার আগে তিনি সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের শ্রীহেলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি ১৯৮২ সালে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৯৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট (এএসপি) হিসেবে যোগ দেন। ২০১৯ সালের মে মাসে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন।

এদিকে, র‌্যাব মহাপরিচালক পদে নতুন নিয়োগ পাওয়া এম খুরশীদ হোসেন ১২তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খুরশীদ হোসেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জন্মগ্রহণ করেন।


ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, সাত ঘন্টায়ও শুরু হয়নি উদ্ধারকাজ

ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, সাত ঘন্টায়ও শুরু হয়নি উদ্ধারকাজ
লাইনচ্যুত ট্রেন। ছবি : দৈনিক বাংলা
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

গাজীপুরের টঙ্গীতে মালবাহী ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মধুমিতা রেললাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় সাত ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি। ফলে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।

টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক নুর মোহাম্মদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মালবাহী কন্টেইনারের একটি বগি ভোরে মধুমিতা এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। এতে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। তবে অপর লাইনে চলাচল করছে। এতে ট্রেন চলাচলে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’

তিনি আর বলেন, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এদিকে, বিলম্বে ট্রেন চলাচল করায় শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে সকালে বিপাকে পড়েন বিভিন্ন স্টেশনে অপেক্ষমান অফিসগামী যাত্রীরা।

রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম বলেন, কন্টেইনার বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা খায়রুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


সমুদ্রের কোলজুড়ে বর্ণিল আয়োজন

সমুদ্রের কোলজুড়ে বর্ণিল আয়োজন
পর্যটন দিবস উপলক্ষে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচি বিচ কার্নিভাল ও পর্যটন মেলা হাতে নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি।
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত

মুহিববুল্লাহ মুহিব, কক্সবাজার

এখানে যতদূর দৃষ্টি যায়, কেবল নীল জলরাশি। এখানে সূর্য তার শেষ রক্তিম আভাটুকু আকাশে ছড়িয়ে দিয়ে টুপ করে ডুব দেয় সেই নীল জলে। এখানে বাতাসে ভেসে বেড়ায় ভালোবাসা। তাই তো প্রেমিক মন বারবার ছুটে যায় সমুদ্রের টানে।

প্রতিবছর এখানে সমুদ্র আর ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি হয় লাখো পর্যটকের। তবে আগামী কয়েক দিন যেসব পর্যটক আসবেন, তাদের জন্য সমুদ্র তার গভীরতার ঐশ্বর্য ছাড়াও আরও অনেক আনন্দ নিয়ে অপেক্ষা করছে। কেননা পর্যটন দিবস উপলক্ষে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচি বিচ কার্নিভাল ও পর্যটন মেলা হাতে নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ। তার আগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বিচ কার্নিভাল উপলক্ষে হোটেল-মোটেলে দেয়া হচ্ছে ৩০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড়। তুলে ধরা হচ্ছে স্থানীয় সংস্কৃতির নানান আয়োজন।

সাগরের কোল ঘেঁষে ইতিমধ্যেই বসেছে রকমারি পণ্যের মেলা। সাগর থেকে কুড়িয়ে নেয়া শামুক, ঝিনুকের মালা, দৃষ্টিনন্দন উপহারসামগ্রী, শুঁটকি, পিঠা, আচার, আদিবাসীদের তৈরি তাঁতবস্ত্র থেকে শুরু করে নানা ধরনের শৌখিন পণ্য কিনতে পারবেন পর্যটকরা মেলার ২০০টি স্টল ঘুরে। ঘুড়ি উৎসব, ফানুস উৎসব, বালু ভাস্কর্য, বিচ ভলিবল, ক্রিকেট, ম্যাজিক শো, আতশবাজি রাঙিয়ে দেবে তাদের অবকাশের দিন আর রাতগুলোকে।

এ ছাড়া থাকবে পর্যটনবিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফানগেম, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক উৎসব, ডিজে শো, কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে এসব আয়োজন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ বলেন, ‘বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত উপভোগে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। পর্যটকরা যেন তাদের ছুটির দিনগুলো পরিপূর্ণভাবে, আনন্দের মধ্যে কাটাতে পারেন, সে জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে।’

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান বলেন, ‘পর্যটনে কক্সবাজার নেতৃত্ব দেয়। তাই কক্সবাজারকে আরও ব্র্যান্ডিং করতে এ আয়োজন। কার্নিভালকে স্থায়ীভাবে আন্তর্জাতিক মানের রূপ দেয়া এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

তিনি আরও বলেন, উৎসব চলাকালীন সব হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁয় রয়েছে ৩০-৭০ শতাংশ মূল্য ছাড়। পর্যটক তথা অতিথিদের দেয়া হচ্ছে বিশেষ কিছু সুবিধা। এ ছাড়া সব রেস্তোরাঁয় ৫০ শতাংশ, ওয়াটার বাইক ও বিচ বাইকে ২০, প্যারাসেইলিংয়ে ৩০, গাড়ি পার্কিংয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হবে। এসব বাস্তবায়নে নজরদারি করবেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার বলেন, ‘ইতিমধ্যে এসব বিশেষ ঘোষণা বাস্তবায়নের নির্দেশনা পেয়েছি আমরা। চেষ্টা থাকবে অতিথিদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার।’

অন্যদিকে কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, এ উৎসবের সাত দিন কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে দুই দিনের ভাড়ায় তিন দিন থাকতে পারবেন পর্যটকরা। এদিনগুলোতে আরও অফারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।  

হোটেল দি কক্সটুডের পরিচালক আবু তালেব শাহ বলেন, ‘বড় উৎসবকে আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছি। যারাই আসবে, তারাই বিভিন্ন ছাড় পাবে।’

পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলছেন, ‘এ মেলায় যত ধরনের বর্জ্য বা ময়লা তৈরি হবে, তা অপসারণে পৌরসভার বিশেষ টিম কাজ করবে। সমুদ্র ঘিরে আমাদের উৎসব। সেই সমুদ্রকে দূষণমুক্ত রাখতে পৌর কর্তৃপক্ষের এ বিশেষ উদ্যোগ।’

নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, এই সাত দিন সৈকত ও আশপাশের এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সাদাপোশাকধারী সদস্যরাও নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করা হয়েছে।

‘এই সাত দিন শুধু পর্যটকরা জিতবেন। সব সংকট কাটিয়ে এ বড় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সমুদ্র দর্শনের বর্ণিল আর আনন্দময় স্মৃতি নিয়ে ফিরে যাবেন পর্যটকরা,’ বললেন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ।


নৌকাডুবি: তিন বছরের ভাতিজিকে নিয়ে বেঁচে ফেরেন মানিক

নৌকাডুবি: তিন বছরের ভাতিজিকে নিয়ে বেঁচে ফেরেন মানিক
ছোট্ট ভাতিজিকে নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন মানিক। ছবি : দৈনিক বাংলা
হোসেন রায়হান, পঞ্চগড়
প্রকাশিত

তিন বছর বয়সী ভাতিজি অঙ্কিতা রানীকে নিয়ে মহালয়া ধর্মসভায় যাচ্ছিলেন মানিক চন্দ্র রায় (২৮)। করতোয়ার ওপারের বদেশ্বরী মন্দিরের ওই অনুষ্ঠানে যেতে চড়ে বসেন নৌকায়। অপরপ্রান্তে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি তলিয়ে যায় মাঝ নদীতে। এ ঘটনায় করতোয়ার পাড় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হলেও ভাতিজিকে নিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন মানিক।

এখনো আতঙ্ক কাটেনি তার। গত রোববারের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়লেই গা শিউরে ওঠে। সে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন দৈনিক বাংলার সঙ্গে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের পাশাপাশি নৌকার শ্যালো ইঞ্জিনের ত্রুটি ছিল বলে দাবি করছেন তিনি।

মানিক চন্দ্রের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের বটতলী এলাকায়। তিনি গুরুদাস চন্দ্র রায়ের ছেলে।

তিনি বলেন, ‘বড় ভাই সন্তোষ রায়ের মেয়ে অঙ্কিতাকে নিয়ে ধর্মসভায় যাচ্ছিলাম। ঘাটে গিয়ে দেখি শতাধিক মানুষ নদী পার হওয়ার জন্য নৌকার অপেক্ষায়। শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ওই নৌকাটি ঘাটে ভিড়লে অঙ্কিতাকে নিয়ে নৌকার সামনে চলে যাই। আমার পেছনে থাকা সবাই উঠে বসে নৌকায়। শ্যালো ইঞ্জিন চালু করে ঘাট ত্যাগ করে নৌকাটি। কিন্তু প্রায় ১০০ মিটার যাওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় শ্যালো ইঞ্জিন। পুনরায় ইঞ্জিন চালু করলে মাঝ নদীতে গিয়ে আবারও বন্ধ হয়। এভাবে একে একে তিনবার ইঞ্জিন বন্ধ হলে থেমে যায় নৌকা। এক পর্যায়ে নৌকাটি দুলতে থাকে। দেরি না করে সবার আগেই ভাতিজিকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি পানিতে। সাঁতরে পাড়ে আসার চেষ্টা করি। পরে স্থানীয়রা ডিঙ্গি নৌকায় করে আমাদের উদ্ধার করেন।’

তিনি আরও বলেন, প্রাণে বেঁচে ফিরলেও সেদিনের ঘটনা ভোলার মত নয়। বারবার কানে ভাসছে মানুষের আহাজারি। তবে মাঝ নদীতে নৌকার ইঞ্জিন বারবার বন্ধ না হলে না-ও ঘটতে পারত এমন দুর্ঘটনা।

জানা গেছে, ৪০ থেকে ৫০ জনের ধারণ ক্ষমতার নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী উঠেছিল। একদিকে অতিরিক্ত যাত্রী, অপরদিকে ইঞ্জিনের ত্রুটি- এই দুই কারণে নদীর মাঝে গিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। সে সময় অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নারী ও শিশুরা পানিতে ডুবে যায়।

মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আনসার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমিও নদী পারাপারের জন্য নৌকার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী উঠায় আমি নৌকার জন্য অপেক্ষায় থাকি। তবে নৌকাটি ঘাট ছেড়ে কিছু দূর যাওয়ার পর শ্যালো ইঞ্জিন বন্ধ হয় এবং পুনরায় চালু করার সময় ঘাট থেকে কিছু একটা ভাঙার শব্দ শুনতে পাই।’

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘আমরা নৌকাডুবির ভিডিও সংগ্রহ করেছি। প্রত্যক্ষদর্শী এবং বেঁচে ফেরাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সব ধরণের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার আগে কিছু বলতে চাচ্ছি না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ব্রিফ করবেন।’


বেনাপোল সীমান্তে ৫ কেজি স্বর্ণসহ আটক ৩

বেনাপোল সীমান্তে ৫ কেজি স্বর্ণসহ আটক ৩
আটক তিনজনের একজন। ছবি : সংগৃহীত
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে প্রায় ৫ কেজি ওজনের স্বর্ণ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তিনটি অভিযানে স্বর্ণগুলো জব্দ করা হয়। এ সময় একটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেলসহ তিন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে পাচারের তথ্য পেয়ে বেনাপোলের পুটখালী সীমান্তে অভিযান চালানো হয়। একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে ১ কেজি ৬০ গ্রাম ওজনের ১ পিচ বড় স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে রাতেই যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বেনাপোল সীমান্তের মালিপুতা এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের ১৮ পিচ স্বর্ণের বার উদ্ধার করেন।

আটকরা হলো বেনাপোল পৌর এলাকার ছোট আঁচড়া গ্রামের আঁশা (২৮), বেনাপোল নামাজ গ্রামের সোহানুর রহমান বিশাল (২৭) ও বেনাপোল গোগা গ্রামের সাকিব হোসেন। সবাইকে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

২১ ও ৪৯ বিজিবি সূত্র জানায়, আসন্ন দূর্গাপুজা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতে কোন স্বর্ণ যেতে না পারে সে জন্য কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

এর আগে দুপুরের দিকে ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বেনাপোলের রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউরিয়া সারের মধ্যে থেকে  ১ কেজি ২৩৩ গ্রাম স্বর্ণসহ একজনকে আটক করে।


চাঁদপুরে ৯ মাসে ‘নিখোঁজ’ ৪ শতাধিক

চাঁদপুরে ৯ মাসে ‘নিখোঁজ’  ৪ শতাধিক
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্কের টানে ঘর ছাড়ছেন কেউ। প্রবাসী ব্যক্তির স্ত্রী কিংবা নিঃসঙ্গতার শিকার ব্যক্তিরাও নিখোঁজ তালিকায় আছেন।

  • জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুর সদর মডেল থানায় ৪০০-এর বেশি নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। খোঁজ মিলেছে দুই শতাধিকের।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর

চাঁদপুরে গত ৯ মাসে চার শতাধিক ব্যক্তি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। সদর থানায় এসব জিডি করেছেন নিখোঁজ নারী-শিশু ও কলেজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা।

জিডির বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, পরকীয়া, প্রেম ও পারিবারিক কলহে ঘর ছাড়ার সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া মানসিক ভারসাম্যহীন, বৃদ্ধা ও শিশুরা আছেন।

চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা আহমদ উল্লাহ নিখোঁজ হয়েছেন কয়েক মাস আগে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করে ঘর ছেড়েছেন আহমদ। তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।

নিখোঁজ আহমদের বাবা আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমার ছেলে মাস্টার্স পাস করার পড়ে কোনো চাকরি পাচ্ছিল না। তার মা ও বোনসহ আমি বিভিন্ন সময় তাকে চাকরির জন্য বলতাম। এই নিয়ে আমার ছেলে মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকত। হঠাৎ করে সে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও তার খোঁজ পাইনি। আমরা এখনো তার অপেক্ষায় আছি।’

প্রায় দুই মাস আগে চাঁদপুর সদরের বাসিন্দা মনসুরের স্ত্রী নিখোঁজ হন। মনসুর বলেন, ‘দুই মাস হয়েছে বিয়ে করেছি। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে স্ত্রী কলেজে আসা-যাওয়া করত। হঠাৎ করে কলেজে যাওয়ার পর সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। তার সঙ্গে ওই এলাকার এক ছেলের সম্পর্ক ছিল।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘর ছেড়েছে কথিত প্রেমিক যুগল। উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্কের টানে ঘর ছাড়ছে। এ ছাড়া প্রবাসী ব্যক্তির স্ত্রী কিংবা নিঃসঙ্গতার শিকার হয়েও কেউ কেউ ঘর ছেড়েছেন বলে জিডিতে বলা হয়েছে।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইয়াহইয়া খান বলেন, শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ে এ ব্যাপারে পরিবারের লোকজনের অধিক সচেতন হতে হবে। তারা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অসিত বরণ দাশ বলেন, ইদানীং হঠাৎ করেই তরুণ-তরুণীদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না সে বিষয়ে স্বজনদের নজর রাখতে হবে। তারা চাইলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও জানিয়ে রাখতে পারেন। তাহলে শিক্ষকরাও পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রশিদ বলেন, চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুর সদর মডেল থানায় ৪০০-এর বেশি নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ২ শতাধিক। বাকিগুলো তদন্তাধীন।