মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২

জালিয়াতি করে ৮৭ কোটি টাকা আয়, সম্পদ গড়েছেন স্ত্রীর নামে

জালিয়াতি করে ৮৭ কোটি টাকা আয়, সম্পদ গড়েছেন স্ত্রীর নামে
স্ত্রী মুক্তা আক্তারের সঙ্গে মোবারক হোসেন।
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত
  • তারা দুবাইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করার পরিকল্পনা করছিলেন। ছয় মাস আগে পরিবারের সবাই মিলে দুবাই ঘুরে আসেন

নুরুজ্জামান লাবু

একটি দুটি নয়, রাজধানীর পূর্বাচল এলাকায় অন্তত দশটি প্লট অভিনব জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় এক শ’ কোটি টাকা। আর এই টাকায় বিপুল সম্পদ গড়েছেন তার গৃহিণী স্ত্রী মুক্তা আক্তারের নামে। দুবাইয়ে কিনেছেন ফ্ল্যাট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও খুলেছেন ব্যবসা।

মোবারকের এই জালিয়াতি চক্রে জড়িত আছেন রাজউকের অসাধু কয়েকজন কর্মকর্তা। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের ভূমি অফিসের এক কর্মচারীও এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পুরো চক্রটিকে গ্রেপ্তারের জন্য অনুসন্ধান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) একটি দল।

সিটিটিসির ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের ইকোনমিক ক্রাইম সূত্র জানায়, গত ২৭ জুলাই রাজধানীর কাফরুল থানায় আকবর হায়দার নামে এক ব্যক্তি জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, আগে থেকে পরিচিত মোবারক হোসেনের মাধ্যমে তারা পূর্বাচল এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন চারটি প্লট কিনেন। পরে মোবারক আরও কয়েকটি প্লট বিক্রি হবে জানালে তিনি কিনতে সম্মত হন। এই সুযোগে মোবারক ভুয়া দলিলপত্রসহ রাজউক থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বানিয়ে আলাদা আলাদা ব্যক্তিকে বিক্রেতা সাজিয়ে বিক্রি করে।

২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে জালিয়াতি করে এভাবে ১০টি প্লট বিক্রির মাধ্যমে মোবারক মোট ৮৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

জালিয়াতির এই মামলাটি তদন্তের জন্য কাফরুল থানা থেকে ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের কাছে পাঠানো হলে সম্প্রতি মোবারকের স্ত্রী মুক্তা আক্তার ও তুষার নামে এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রথম দফায় তিন দিনের রিমান্ড ও দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো জালিয়াত চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। মোবারকসহ এই চক্রের সব সদস্যকে গ্রেপ্তারের জন্য ইতোমধ্যে একাধিক অভিযানও চালানো হয়েছে।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মোবারকের নেতৃত্বে এই চক্রটি একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতি করেছে। এই চক্রের সঙ্গে রাজউক ও ভূমি অফিসের যারা জড়িত, তাদের বিষয়েও খোঁজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মোবারককে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

মোবারকের জালিয়াতির ধরন

তদন্তসংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, মামলার বাদীর বিশ্বাস অর্জনের পর মোবারক তার সঙ্গে যুক্ত রাজউকে কর্মরত সহযোগীদের মাধ্যমে পূর্বাচলের বিভিন্ন প্লট মালিকের জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করত। এরপর জালিয়াতি করে প্লট বিক্রির জন্য রাজউকের বিক্রয় অনুমতিপত্র, মালিকানা ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে। পরে জমির আসল মালিকের নামেই শুধু ছবি পরিবর্তন করে একটি নকল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, জালিয়াতচক্রটি সব কাগজপত্র তৈরি করে নিজেদের এক সদস্যকে প্লটের মালিক সাজিয়ে ক্রেতার সামনে হাজির করে। ক্রেতা কাগজপত্রের কপি নিজের কাছে রেখে রাজউকে খোঁজ নিলে সেখান থেকেও ইতিবাচক তথ্য পান। শেষ পর্যন্ত জমি কেনার জন্য রাজি হলে চক্রের সদস্যরা নিজেদের লোকজনকে ভূমি রেজিস্ট্রার সাজিয়ে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করায়। জমির প্রকৃত দলিলের মতো দলিলের একটি অনুলিপিও দেয়া হয় ক্রেতাকে। অথচ ওই দলিলের কোনো কিছুই ভূমি অফিসের বালাম বইয়ে থাকে না।

জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার আকবর হায়দার দৈনিক বাংলাকে বলেন, মোবারক আগে থেকে পরিচিত হওয়ার কারণে তার মাধ্যমে কেনা প্লটগুলোতে আগে কখনো যাননি। চলতি বছরের শুরুর দিকে তার অফিসের একজন কর্মকর্তা পূর্বাচল এলাকায় গিয়ে দেখতে পান তার কেনা প্লটে বাউন্ডারি অন্য একজন দেয়াল তৈরি করছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজে  যোগাযোগ করলে বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তা নিজেকে ওই জমির মালিক দাবি করেন। ওই ঘটনার পরপরই তিনি তার কেনা অন্য প্লটগুলোতে গিয়ে দেখতে পান সেখানে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নামে সাইনবোর্ড টাঙানো। দ্রুত দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে তিনি রাজউক ও রূপগঞ্জ ভূমি অফিসে খোঁজ নিলে জানতে পারেন সেগুলো ভুয়া দলিল।

জালিয়াতির টাকায় স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পদ

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, জালিয়াতচক্রের মূল হোতা মোবারকের বাড়ি পূর্বাচলের পাশে রূপগঞ্জের ইউসুফগঞ্জে। তার বাবার নাম মোজাফফর আলী। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া মোবারক দীর্ঘদিন রূপগঞ্জ এলাকায় বালু শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে বালু সরবরাহের পাশাপাশি জমি বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত হন মোবারক। এ সময় রাজউক ও ভূমি অফিসের কিছু অসাধু লোকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জালিয়াতির একটি চক্র গড়ে তোলেন।

ইছাপুরা এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোবারকের বাবা মোজাফফর আগে বিদেশে থাকতেন। তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। অন্যদিকে মুক্তার বাবা নজরুল ইসলাম আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সাত বছরে হঠাৎ করেই বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। তবে কৌশলী মোবারক জালিয়াতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকায় নিজের পরিবর্তে স্ত্রী মুক্তার নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন। ভুক্তভোগীরা মামলা করলেও কোনো সম্পদ যাতে বেহাত না হয় সে জন্য নিজের নামে সম্পদ রাখেননি মোবারক।

সিটিটিসির কাছে রিমান্ডে থাকা মুক্তা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, কোনো পেশায় যুক্ত না থাকায় তার নিজের কোনো আয় নেই। মুক্তা জানান, গত বছরের নভেম্বরে প্রায় ৮০ লাখ টাকায় গ্লোরি ও হ্যাভলস ব্র্যান্ডের দুটি জিপ গাড়ি কিনে স্বামী মোবারক তার নামে রেজিস্ট্রেশন করে দেন।

এ ছাড়া বছর তিনেক আগে মোবারক এমভি মাইশা নামে দুটি বাল্কহেড কিনেছেন মুক্তার নামে। মাইশা পরিবহন নামে একটি বালুবাহী ট্রাকও আছে। পূর্বাচলের পাশে দাউদপুর ইউনিয়নে ১২ শতাংশ জমি, ইছাপুরা বাজার মসজিদের পাশে দশ কাঠার একটি জমিও আছে। ইছাপুরা বাজারের ওই জমিতে একটি দশ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। বর্তমানে ছয় তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। সব সম্পদই স্বামী তাকে দিয়েছে বলে জানান মুক্তা।

জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তা আক্তার আরও জানান, ইছাপুরা এলাকায় একটি গরুর খামারে তাদের অর্ধশতাধিক গরু, দুবাইয়ের দেরাই এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ও যুক্তরাষ্ট্রে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে একটি পেট্রোল পাম্প ও দোকান কিনেছেন। মুক্তা জানান, তার স্বামী দুবাইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করার পরিকল্পনা করছিলেন। ছয় মাস আগে পরিবারের সবাই মিলে দুবাই ঘুরেও আসেন।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, তারা তদন্ত করছেন প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি মানিলন্ডারিং আইনে অনুসন্ধানের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ  সিআইডিকে বলা হয়। সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ-খবর করবে।


বনানী কবরস্থানে মেয়ের কবরে শায়িত তোয়াব খান

বনানী কবরস্থানে মেয়ের কবরে শায়িত তোয়াব খান
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তোয়াব খানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দৈনিক বাংলার সম্পাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক তোয়াব খান। সোমবার (৩ অক্টোবর) বাদ আসর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মেয়ে এষা খানের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হন এই কিংবদন্তি।

এ সময় দৈনিক বাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শরিফুজ্জামান পিন্টু, নিউজবাংলার নির্বাহী সম্পাদক হাসান ইমাম রুবেল, আজকের পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক তোয়াব খানের ভাগ্নে সেলিম খান, তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবীর খানসহ আত্মীয় স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোডে তোয়াব খানের শেষ কর্মস্থল দৈনিক বাংলা ও নিউজবাংলার কার্যালয়ে তার প্রথম জানাজা হয়। সেখান থেকে তার মরদেহ নেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। ঢাকার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

শহীদ মিনার থেকে তোয়াব খানের মরদেহ নেয়া হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজার পর তার মরদেহ রাখা হয় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। সেখানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকদের সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হন তিনি।

জাতীয় প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন তোয়াব খান। সেখানে শেষবারের মতো তাকে শ্রদ্ধা জানানোর পর তার মরদেহ নেয়া হয় গুলশানের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। বাদ আসর তৃতীয় জানাজার পর তার মরদেহ দাফন করা হয় বনানী কবরস্থানে।


‘আলেশা মার্ট’ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা

‘আলেশা মার্ট’ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা
আলেশা মার্ট’ এর চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম শিকদারের স্বাক্ষর করা চেক ডিজঅনার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘আলেশা মার্ট’ এর চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম শিকদারের বিরুদ্ধে নীলফামারীতে চেক জালিয়াতির মামলা করেছেন এক ভুক্তভোগী গ্রাহক।

গতকাল রোববার নীলফামারী আদালতে এ মামলা করেন সাকিব উল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি জেলা শহরের শহীদ তিতুমীর সড়ক এলাকার বাসিন্দা।

সাকিবের অভিযোগ, অফারে প্রলুব্ধ হয়ে তিনি একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা পরিশোদ করলেও পণ্য পাননি। পরে তাকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য একটি চেক দেওয়া হলেও তিনি তা তুলতে পারেননি।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, অফারে প্রলুব্ধ হয়ে আলেশা মার্ট থেকে একটি পালসার মোটরসাইকেল কেনার জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪৫ টাকা পরিশোধ করেন ভুক্তভোগী সাকিব। চলতি বছরের ২০ জুন ওই টাকা পরিশোধ করেন। ৪৫ দিনের মধ্যে বাইকটি ডেলিভারির কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের পরও ডেলিভারি দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে সাকিব টাকা ফের চেয়ে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা এক লাখ ৬৩ হাজার টাকার চেক দেন সাকিবকে। টাকা তুলতে চেকটি অগ্রণী ব্যাংক নীলফামারী শাখায় কয়েক দফায় জমা দেওয়া হলেও ওই ব্যাংক হিসাবে টাকা না থাকায় সাকিব টাকা তুলতে পারেননি।

একপর্যায়ে গত ২৪ জুলাই অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ‘ডিজঅনার স্লিপ’ দেয় সাকিবকে। পরবর্তীতে আলেশা মার্ট চেয়ারম্যানের কয়েকটি বাণিজ্যিক দপ্তরে উকিল নোটিশ পাঠানো হলেও একটি গ্রহণ করেন নাসির নামে এক ব্যক্তি। বাকিগুলো ফেরত আসে। বাধ্য হয়ে প্রতারণার শিকার সাকিব নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় নীলফামারী আদালতে মামলা করেন।

সাকিব দৈনিক বাংলাকে বলে, ‘এই প্রতিষ্ঠানে অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তির ছবি দেখা গিয়েছিল। গ্রাহক টানতে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছিল। জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়ারকেও স্পন্সর হিসেবে দেখা গেছে অথচ গ্রাহকের সঙ্গে তারা প্রতারণা করছে। যার শিকার হয়েছি আমি। আমি মোটরসাইকেল চাই না, টাকা ফেরত চাই। এ জন্য মামলা করেছি।’

মামলার আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, ‘আদালত থেকে বিবাদীর প্রতি সমন নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশ গ্রহণ করলে তাকে হাজির হতে হবে। এনআই এ্যাক্টে আসামির সর্বোচ্চ সাজা এক বছর এবং তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান রয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে আলেশা মার্ট এর হটলাইন নম্বরে ১৬৭৩১ কয়েক দফা চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা, শ্রদ্ধায় সিক্ত তোয়াব খান

প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা, শ্রদ্ধায় সিক্ত তোয়াব খান
জাতীয় প্রেসক্লাবে তোয়াব খানের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

জাতীয় প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন একুশে পদক পাওয়া বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খান। জানাজা আর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে সোমবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে চিরদিনের জন্য সেই প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ ছাড়লেন তিনি।

সোমবার দুপুর ১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে দৈনিক বাংলা ও নিউজবাংলা২৪ ডটকমের সম্পাদক তোয়াব খানের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানে মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সাংবাদিক নেতা, সাংবাদিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তোয়াব খানের জানাজা শেষে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। এ সময় তিনি বলেন, তোয়াব খান বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি সাংবাদিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযুদ্ধের জন্য কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব হিসেবে কাজ করেছেন, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন এবং পিআইবির (প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ) মহাপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দৈনিক পাকিস্তান যখন নাম পরিবর্তন করে দৈনিক বাংলা হলো, সেটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। আজকের দিনে দৈনিক বাংলার সম্পাদক থাকা অবস্থায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তার হাত ধরে বাংলাদেশের বহু প্রথিতযশা সাংবাদিকের জন্ম হয়েছে। তিনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একজন পথিকৃত। তার মৃত্যু আমাদের সাংবাদিকতা জগতের জন্য শুধু নয়, পুরো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’

আরও পড়ুন- ‘তোয়াব খান স্মৃতি পুরস্কার’ ঘোষণা

তোয়াব খানের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তোয়াব খান বাংলাদেশের বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃত ছিলেন। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। তিনি সাহসী সাংবাদিকতা ও দেশপ্রেমের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। আজ যারা সাংবাদিকতা পেশায় আছেন, ভবিষ্যতে আসবেন, তারা যেন তার এই আদর্শ অনুসরণ করেন। তার এই চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি।

তোয়াব খানকে শ্রদ্ধা জানানো শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘যেকোনো পরিবেশ-পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার অনন্য এক ক্ষমতা ছিল তোয়াব খানের। তার সাংবাদিকতা, কর্মজীবন আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।’

প্রেসক্লাবে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত তোয়াব খান। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রেসক্লাবে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত তোয়াব খান। ছবি: দৈনিক বাংলা

শ্রদ্ধা জানানো শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আজ আমরা শোকে ভারাকান্ত। আমাদের সঙ্গে হয়তো প্রকৃতিও আজ কাঁদছে। প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য তোয়াব ভাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার মৃত্যুতে সাংবাদিকতা আজকে শূন্যস্থানে গিয়ে পৌঁছেছে। তোয়াব ভাই চলে যাওয়া মানে সাংবাদিকতার একটি ইতিহাসের অধ্যায় শেষ হওয়া।’

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘চিন্তা ও মননে তোয়াব খান আজীবন একজন সক্রিয় সাংবাদিক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সরকারের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি তার কর্মের মধ্যেই বেঁচে ছিলেন, কর্মের মধ্য দিয়েই আমাদের মাঝে থাকবেন।’

আরও পড়ুন- তোয়াব খানকে গার্ড অব অনার

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, ‘সম্পাদকদের সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। আমরা প্রতিনিয়ত তার কাছ থেকে শিখেছি। তার চলে যাওয়া বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’

প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজার নামাজের আগে তোয়াব খানের ছোট ভাই ওবায়দুল কবির খান বলেন, ‘গত শনিবার দুপুরে আমার বড় ভাই মৃত্যুবরণ করেন। যদি উনি কখনো আপনাদের সঙ্গে ভুল ব্যবহার বা অন্য কোনো কিছু করে থাকে তবে তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন। একই সঙ্গে তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া রাখবেন।’

জানাজা শেষে প্রেসক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে রাখা অস্থায়ী বেদিতে তোয়াব খানের মরদেহ রাখা হয়। এ সময় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় প্রেসক্লাব, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ সাব-এডিটর কাউন্সিল, প্রথম আলো, কালেরকণ্ঠ, জনকণ্ঠ, সমকাল, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, নারী সাংবাদিক কেন্দ্র, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক ফোরাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি।

আরও পড়ুন- দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে তোয়াব খানের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

প্রেসক্লাব থেকে তোয়াব খানের মরদেহ নেয়া হবে গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে বিকেল ৪টার দিকে তার তৃতীয় জানাজা হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে মেয়ে এশা খানের কবরে সমাহিত করা হবে তোয়াব খানকে।

এর আগে, সকাল ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে কিংবদন্তিতুল্য এ সাংবাদিকের শেষ কর্মস্থল দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে প্রথম জানাজা হয়। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে তার মরদেহ রাখা হয় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।


দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বাগে এসেছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বাগে এসেছে: পরিকল্পনামন্ত্রী
বিআইডিএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

‘দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া নিয়ন্ত্রণে এসেছে’ উল্লেখ করে আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তবে দেশে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জন্য ভালো সংবাদ আছে। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বাগে এসেছে এই মাসে। সবাই আমাদের কাছে ফোন করে জানার জন্য। গত মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল। এই মাসে নেমেছে এবং ভালোভাবে নেমেছে। আমি যদিও অর্থনীতিবিদ নই তবুও আমি বলছি, আগামী মাসে মূল্যস্ফীতি আরও কমবে।’

সোমবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সরকার ব্যবস্থা নেয়ায় দ্রব্যমূল্য কমেছে জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘কেন (দ্রব্যমূল্য) কমেছে? কারণ আমাদের সরকার কৌশলগত ব্যবস্থা নিয়েছে। তেলের দাম বেড়েছিল। কিন্তু এখন কমেছে। কারণ এক কোটি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সেখানে কম দমে বিক্রি হচ্ছে চাল, তেল। এর মাধ্যমে আমরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ওপর সরাসরি আঘাত করতে পেরেছি। ফলে দাম কমে এসেছে। শুধু কমেনি, ভালো পরিমাণে কমেছে। বিশ্ববাজারেও কমেছে। কয়েক দিনের মধ্যে আপনারা মূল্যস্ফীতির পুরোটা তথ্যও পেয়ে যাবেন।’

মন্ত্রী মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য জানালেও পরিমাণটি বলেননি অনুষ্ঠানে। এর আগে, গত জুনে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশে পৌঁছায়, যা ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরের মাস জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে। তবে অগাস্টের তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি পরিসংখ্যান ব্যুরো।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’ পরিচালনা করেছে, তার প্রাথমিক ফলাফলের ওপর শুমারি পরবর্তী যাচাই করবে বিআইডিএস। আগামী ১০ থেকে ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এই যাচাই কার্যক্রম চলবে ট্যাবের মাধ্যমে, কম্পিউটার অ্যাসিসটেড পারসোনাল ইন্টারভিউয়িং (সিএপিআই) পদ্ধতিতে। ৯ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিটে নির্ধিারিত এলাকার অবস্থান করা সব দেশি-বিদেশি নাগরিককে গণণার আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া ছয় মাসের কম সময়ের জন্য সাময়িকভাবে বিদেশে অবস্থান করা নির্দিষ্ট এলাকার সব বাংলাদেশি নাগরিককে ফের গণনা করা হবে। এরপর নতুন তথ্যের সঙ্গে আগে পাওয়া শুমারির তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। তারপর ওই তথ্য সমন্বয় করে জনশুমারির মূল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গেস্ট অব অনার ড. শামসুল আলম বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও বিবিএস একটি ভালো শুমারি করেছে। এখন সেটির পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিবিএসকে আরও একটু স্বাধীনতা দেয়া উচিত। ভারতে পরিসংখ্যান সংস্থান যেভাবে স্বাধীনতা ভোগ করে বাংলাদেশে সেটি হচ্ছে না। পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আরও হালনাগাদ তথ্য দিতে হবে।

রাজধানীর আগরগাঁওয়ে বিআইডিএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন। বক্তব্য দেন জনশুমারি ও গৃহণ গণনা প্রকল্পের পরিচালক মো. দিলদার হোসেন, পিইসি কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ড. ইউনূস।


নারায়ণগঞ্জে হত্যার দায়ে এক জনের ফাঁসি, ২ জনের যাবজ্জীবন

নারায়ণগঞ্জে হত্যার দায়ে এক জনের ফাঁসি, ২ জনের যাবজ্জীবন
নারায়ণগঞ্জে এক জনের ফাঁসি, ২ জনের যাবজ্জীবন। ছবি: দৈনিক বাংলা
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নারায়ণগঞ্জে তিন বছর আগে মিজান সিকদার মিশর নামের এক যুবককে হত্যার দায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান সোমবার সকাল ১০টার দিকে এই রায় দেন। এসময় তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জেলার বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার দেলোয়ার হোসনের ছেলে মো. মিঠু। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, বন্দর উপজেলার নোয়াদ্দা এলাকার মঞ্জুর হকের ছেলে মো. মুন্না এবং একই এলাকার বংগার ছেলে শয়ন।

পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, ২০১৯ সালে ২৩ জুলাই রাতে মশার কয়েল কিনতে দোকানে গেলে মিঠু ও অন্য আসামিরা মিশরকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, মিশর বন্দরের কাইতাখালী এলাকার মৃত শফিউদ্দিন সিকদারের ছেলে। পাওনা ৫০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় মিঠুর।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, ঘটনার পর দিন নিহতের ভাই সানি সিকদার বাদী হয়ে ওই আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১২ জনের সাক্ষ্য শেষে আদালত মিঠুকে মৃত্যুদণ্ড, মুন্না ও শয়নকে যাবজ্জীবনের রায় দেন। পাশাপাশি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের আরও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড  অনাদায়ে আরও এক বছর সাজা দেওয়া হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মো.সানি বলেন, ‘দ্রুত বিচার কার্যকর করার মাধ্যমে বিচারের শেষ দেখতে চাই। যাতে করে আর কোনো মায়ের বুক খালি করার সাহস কেউ না পায়। এ জন্য রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।