বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

ভোলায় বিদ্যুৎহীন ভুতুড়ে সড়ক

ভোলায় বিদ্যুৎহীন ভুতুড়ে সড়ক
বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বন্ধ সড়কবাতি। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • ​৯ বছরে বকেয়া ৭ কোটি টাকা

  • পৌর এলাকার মানুষ বিশেষ করে নারীরা নানা আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন। অন্ধকারে চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কও বেড়েছে।

ভোলা প্রতিনিধি

সাত কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় ভোলা পৌরসভার সড়কবাতির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সড়কে আলো না থাকায় রাতে চলাচলে বিপাকে পড়েছেন শহরের বাসিন্দারা।

ভোলা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ জানিয়েছে, বকেয়া পরিশোধের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিয়েও কাজ হয়নি। এ কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় পৌরসভার সব সড়কবাতির সংযোগ গত তিন দিন ধরে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ভোলা পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে ৯ হাজার ৬৩৫ পরিবারে ৮৭ হাজার ২৪৩ জন নাগরিক বসবাস করেন।

বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ভোলা পৌরসভা মূলত ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে। শহরের মানুষ বিশেষ করে নারীরা নানা আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন। অন্ধকারে চুরি-ছিনতাইয়ের আতঙ্কও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিয়মিত কর পরিশোধ করা হয় পৌর কর্তৃপক্ষকে। এর পরও এমন দুরবস্থা।

ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব বাহাউদ্দিন বলেন, ভোলা পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির। কিন্তু সেই পৌরসভায় রাতে সড়কে আলো জ্বলছে না, এটা বেমানান।

বিলকিছ জাহান নামে পৌরসভার একজন বাসিন্দা বলেন, ‘সন্ধ্যার পর সড়কে বাতি না জ্বলায় নারীরা বাজারে কেনাকাটা করতে, শিশুদের কোচিং করাতে নিতে ভয় পাচ্ছেন।’ কয়েকটি ওয়ার্ডের সড়কে খানাখন্দ থাকায় অন্ধকারে দুর্ঘটনার শঙ্কাও আছে। কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি দ্রুত এর সমাধানের দাবি জানান।

ভোলার বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন-অর-রশীদ বলেন, ভোলা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কাছে ভোলা পৌরসভার গত ৯ বছরে বেকেয়া বিল প্রায় ৭ কোটি টাকা। বিল পরিশোধের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিলেও কোনো ফল হয়নি।

মামুন-আল-রশীদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ওজোপাডিকোর আওতায় পৌরসভার আওতাভুক্ত সড়কবাতির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিল পরিশোধ করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার বলেন, নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা হবে। আর ভোলা পৌরসভার মেয়র মো. মনিরুজ্জামান বলেন, যে পরিমাণ বিল বকেয়া আছে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে ধাপে ধাপে তা পরিশোধ করা হবে। পৌরসভার সড়কে শিগগিরই বাতি জ্বলবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন মেয়র।


পুলিশের আপত্তি টেকেনি, নতুন ইউনিফর্ম পরবে ডিএনসি

পুলিশের আপত্তি টেকেনি, নতুন ইউনিফর্ম পরবে ডিএনসি
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

পুলিশের আপত্তিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন ইউনিফর্ম পরা আটকে গেলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে তার সমাধান হয়েছে। পুলিশ এবং ডিএনসি কর্মকর্তাদের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর ডিএনসির নতুন ইউনিফর্মের ওপর থেকে আপত্তি তুলে নেয় পুলিশ।

জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ ও এনটিএমসি) মো. জাহাংগীর আলম পুলিশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর ডিএনসি কর্মীদের নতুন ইউনিফর্ম পরতে আর কোনো বাধা নেই বলে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়।

বৈঠকে অংশ নেয়া একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, নতুন ইউনিফর্ম পরে যশোরের কয়েকজন ডিএনসিকর্মী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেন। ওই ছবিতে পোশাকের যে রঙ দেখা যায় তার সঙ্গে পুলিশের পোশাকে অনেক মিল পাওয়া যায়। ছবিতে পোশাকের রঙ বদলে যাওয়ায় সেই ছবি দেখে ডিএনসিকর্মীদের নতুন ইউনিফর্মে আপত্তি জানায় পুলিশ।

‘বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা ডিএনসির নতুন ইউনিফর্ম দেখে তাদের অনাপত্তির কথা জানান। এখন তারা নতুন ইউনিফর্ম পরতে পারবেন।’

একজন কর্মকর্তা বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীদের পোশাক কেমন হবে, সে বিষয়ে তাদের বিধিমালা আছে। ওই বিধিমালার আলোকেই তারা নতুন ইউনিফর্ম তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে কোনো বাহিনীর পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। ফেসবুকে পাওয়া ছবি ধরে ডিএনসি কর্মীদের নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে আপত্তি দিয়েছিল পুলিশ।

খাকি রঙের পোশাকের পরিবর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশের পোশাকের আদলে ‘টার্কিশ ব্লু’ রঙের ইউনিফর্ম তৈরি করে ডিএনসি। ওই পোশাক অধিদপ্তরের সব কর্মীর কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ইউনিফর্ম পরার আগ মুহূর্তে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আপত্তি জানায়। ফলে গত ১ সেপ্টেম্বর নতুন পোশাক পরে ডিএনসিকর্মীদের মাঠে নামার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়ে যায়।


মাদক কারবারি দুই ছেলের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে বাবা

মাদক কারবারি দুই ছেলের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে বাবা
মানববন্ধনে দুই মাদক ব্যবসায়ীর বাবা আবেদ আলীও উপস্থিত আছেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
সাভার প্রতিনিধি
প্রকাশিত

ঢাকার ধামরাইয়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। ওই মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ী দুই ছেলের বাবা আবেদ আলী। তার দাবি, দুই ছেলে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছেন তিনি। এবার সুযোগ পেয়ে এলাকাবাসীর ডাকা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তার দুই ছেলের নাম আতাউর ও খোকন।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা বেলা ১২টার দিকে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম বাজারে এই মানববন্ধন হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় সেলিম, মালেক ও খালেক নামের তিন ব্যক্তিও মাদক ব্যবসায় জড়িত।

মানববন্ধনে ছেলেদের শাস্তি দাবি করে আবেদ আলী বলেন, ‘আমার দুই ছেলে আতাউর ও খোকন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমি তাদের সঙ্গে পারি না।  তাই আইনের সাহায্য নিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। এলাকাবাসীও অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। তারা আমার কোন কথা মানে না। তাদের শাস্তি দাবি করছি আর আমি।’

মানববন্ধনে গোমগ্রাম বাজার কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই বাজারে (গোমগ্রাম বাজার) দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। যারা মাদক বিক্রি ও সেবন করে তারাই এই বাজারের প্রতিটা দোকানে লুটপাট করছে। রাতের বেলা মানুষ বাইরে যেতে পারে না। মাদক সম্রাট আতাউর রহমানের আশ্রয়ে শত শত মাদক ব্যবসায়ী আমাদের এই বাজারকে তছনছ করে দিচ্ছে।’

গোমগ্রাম বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান পলাশ বলেন, ‘আমরা যারা ব্যবসা করি সন্ধ্যার পরে নগদ টাকা নিয়ে বাড়িতে যেতে পারি না। বাজারে প্রতিটা ব্যবসায়ী আতঙ্কে থাকে। কিছু দিন আগেই পাশের দোকান থেকে ৪লাখ টাকা নিয়ে গেছে।’


অস্ত্রোপচার প্রয়োজন ৩ সপ্তাহের মধ্যে, তারিখ পড়েছে পরের বছর

অস্ত্রোপচার প্রয়োজন ৩ সপ্তাহের মধ্যে, তারিখ পড়েছে পরের বছর
প্রতীকী ছবি
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত
  • বিশ্ব হার্ট দিবস আজ

  • দেশে জন্মগত হৃদ্‌রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪০ হাজারের মতো।

ছয় বছরের শিশু মেঘ। মেঘের জন্ম হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র নিয়ে। বগুড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেঘের পরিবার বগুড়া-ঢাকা, ঢাকা-বগুড়া করতে করতে দিশেহারা। একমাত্র সন্তানের এ অবস্থায় সবচেয়ে ভালো চিকিৎসকের চিকিৎসা চান তারা। ঢাকার নামী এক শিশু হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের সন্ধান পেলেও একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার সিরিয়াল পেতে পরিবারটিকে পোহাতে হয় সীমাহীন ভোগান্তি।

দিনের পর দিন, মাসের পর মাস অপেক্ষার পর সেই চিকিৎসককে দেখাতে সক্ষম হন মেঘের বাবা-মা। তিনি জানান, শিশুটির অতিসত্বর অস্ত্রোপচার দরকার। চিকিৎসকের মন্তব্য উদ্ধৃত করে মেঘের বাবা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আপা বলেছিলেন, ইমিডিয়েটলি ওর অপারেশন করাতে হবে, তিন সপ্তাহের ভেতরে। কারণ মেঘের হৃৎপিণ্ডের ছিদ্র দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়ে সেটা ভাল্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল।’

আর এ জন্য মেঘের বাবা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের এক চিকিৎসককে রেফার করেন। সেই চিকিৎসক মেঘকে দেখেন, তিনিও অস্ত্রোপচার করার পক্ষে মত দেন। কিন্তু বাদ সাধে সিরিয়াল। হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে মেঘের পরিবারকে অস্ত্রোপচারের জন্য সময় দেয়া হয় ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ।

মেঘের বাবা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের তারিখ দেখে পরিবারের যে যেখানে আছেন, তাদের কাছে যাই। কারও কোনো যোগাযোগের মাধ্যমে যদি একমাত্র সন্তানের অস্ত্রোপচারটা আগে করাতে পারি, তারিখ পাওয়া যায় জানুয়ারিতে। কিন্তু যে বাচ্চার অপারেশন তিন সপ্তাহের ভেতরে করানোর জন্য বলা হয়েছে, সেটা ছয় মাস অপেক্ষা করার মতো নিষ্ঠুরতা মনে হয়েছে। এরপর ফের মানুষের কাছে ধরনা দিচ্ছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনে হচ্ছে সময়টা যদি কমিয়ে আনাও যায়, সেটাও আগামী নভেম্বরের আগে হবে বলে মনে হয় না।’

বিশ্বে হাসপাতালে জন্ম নেয়া প্রতি ১ হাজার শিশুর মধ্যে ৮ থেকে ১০টি শিশু জন্মগত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে জন্ম নেয়। চিকিৎসকরা অবশ্য বলছেন, দেশে মোট কত শিশু হৃদ্‌রোগী রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল এবং বারডেম হাসপাতালে শিশু হৃদ্‌রোগীদের চিকিৎসা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ থেকে ৬০টি শিশু, জাতীয় হৃদ্‌রোগ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে শিশু হৃদ্‌রোগী আসে আরও বেশি। তাদের সবাইকে এক দিনে ইকো করাও সম্ভব হয় না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তথ্যমতে, হার্টে ছিদ্র ‍নিয়ে জন্ম নেয়া ১০০ শিশুর মধ্যে ১০ থেকে ২০ শতাংশের ছিদ্র আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়। বাকি ৮০ শতাংশের চিকিৎসা নিতে হয়। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের অস্ত্রোপচারের দরকার হয়। বাকিদের বিনা অস্ত্রোপচারে ডিভাইসের মাধ্যমে ছিদ্র বন্ধ করা হয়। অস্ত্রোপচার করা শিশু হৃদ্‌রোগীদের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের অস্ত্রোপচার হয় জটিল। সেই সঙ্গে কিছু কিছু নবজাতকের সমস্যা এত প্রকট থাকে যে তাদের জন্মের পরপরই অস্ত্রোপচারের দরকার হয়। কিন্তু ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া এ ধরনের অস্ত্রোপচার কোথাও হয় না। জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শুরু হলেও এখন আর হচ্ছে না।

এই সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে চিকিৎসকসংকট। দেশে শিশু কার্ডিয়াক সার্জনের সংখ্যা ৮ জন, শিশু কার্ডিওলজিস্ট রয়েছেন ২০ জনের মতো।

দেশে ১৭ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে শিশু-কিশোরের সংখ্যা ৪০ শতাংশ। সে হিসাবে শিশু-কিশোরের সংখ্যা ৬ কোটি ৪০ লাখ। দেশে জন্মগত হৃদ্‌রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪০ হাজারের মতো বলে ধরা হয়। এই রোগীদের মধ্যে চিকিৎসার ভেতরে আসা শিশুদের ২০ থেকে ৪০ ভাগ বিলম্বিত চিকিৎসার কারণে মারা যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে হৃদ্‌রোগে শতকরা প্রায় ২৭ ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ১০ ভাগই শিশু। দেশে বর্তমানে প্রতি হাজারে ১০ জন শিশু হৃদ্‌রোগে ভুগছে। আর এমন পরিস্থিতিতেই আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য- ইউজ হার্ট ফর এভরি হার্ট।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, দেশে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে শিশু কার্ডিওলজি বলতে কোনো বিভাগ নেই, চিকিৎসক নেই। ১৭ কোটি মানুষের দেশে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত শিশুরা যে পরিমাণে অবহেলার শিকার, এটা ভাবাও যায় না। অথচ এমন অনেক শিশু রয়েছে, যাদের অতিসত্বর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু মাত্র দুটি হাসপাতালে আর কত চিকিৎসা দেয়া যাবে।

জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশু কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার দৈনিক বাংলাকে বলেন, দেশে দক্ষ কার্ডিয়াক জনবল নেই, পৃথক ক্যাথল্যাব নেই। তাই কার্ডিয়াক সার্জারির জন্য আলাদা করে কোর্স এবং পোস্ট তৈরি করতে হবে। সেই সঙ্গে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে মানসম্মত পৃথক শিশু আইসিইউ বিশেষজ্ঞসহ আইসিইউ দিতে হবে। তাহলে শিশু হৃদ্‌রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা অনেকখানি কমবে।


র‌্যাবে সংস্কার হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ভাববে যুক্তরাষ্ট্র: পিটার হাস

র‌্যাবে সংস্কার হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ভাববে যুক্তরাষ্ট্র: পিটার হাস
মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

র‍্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। তবে এই বাহিনীতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে সেন্টার ফর গর্ভন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে পিটার হাস বলেন, ‘র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়াটা কোনো শাস্তি নয়। তারা যেন তাদের আচরণ পরিবর্তন করে, জবাবদিহি নিশ্চিত করে সেজন্যই দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। কাজ করছে। আমরা আশা করছি, র‍্যাবের আচরণে পরিবর্তন হবে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে পিটার হাস বলেন, ইন্দো প্যাসিফিক কৌশলে (আইপিএস) বাংলাদেশের যোগ দেওয়া না দেওয়াটা কোনো বিষয় নয়। কেননা এটা একটি নীতি। এটা বাংলাদেশ কিভাবে নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।

এক প্রশ্নের উত্তরে পিটার হাস বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যোগ দেওয়াটা বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ কোন জোটে যোগ দেবে, সেটা তাদের বিষয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং এর সাবেক-বর্তমান ছয় কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।


রোহিঙ্গাদের যেতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের যেতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবাইকে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে যে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তাদের (রোহিঙ্গাদের) নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। সবাইকে বুঝতে হবে পরিস্থিতি। আমাদের পক্ষে আর কোনো লোক নেয়া সম্ভব নয়, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াশিংটনে ভয়েস অব আমেরিকার (ভোয়া) বাংলা সার্ভিসের সঙ্গে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সাক্ষাৎকারটি প্রচার হয়।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের বারবার আহ্বানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বিশাল জনসংখ্যার  (সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা প্রায়) দায়িত্ব একা একটি দেশের পক্ষে নেয়া অসম্ভব। শুধু আশ্রয় দেয়াই নয়, এত বিশাল জনসংখ্যার জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করাও একটি বড় দায়িত্ব, যা কোনো দেশ একা বহন করতে পারে না।

তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞা এবং চলমান কোভিড-১৯-এর কারণে সমগ্র বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হচ্ছে, যা বিশ্ববাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘যারা (রোহিঙ্গাদের) সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিল (স্থানীয় জনগণ), তারা এখন নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য কতটা আর করতে পারে, কারণ এর বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে এবং দেশটিকে তার জনগণের কথাও ভাবতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিশু-কিশোররা এখন ঘিঞ্জি    বস্তিতে (রোহিঙ্গা ক্যাম্প) লালিত-পালিত হয়ে বড় হচ্ছে, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ ও সুস্থ স্বাস্থ্যের সঙ্গে বেড়ে ওঠার সুযোগ খুবই সীমিত।

বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে আর কোনো লোক নেয়ার অবস্থানে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কক্সবাজারের বন ধ্বংস করেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিনষ্টের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং এলাকার আবাদি জমি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক রোহিঙ্গা মানব পাচারের পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েছে এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে।

এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সময় হত্যা ও ধর্ষণসহ অমানবিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে আমাদের বিপুল জনগোষ্ঠীকে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। কাজেই আজকে তারা (বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা) যখন একই ধরনের নির্যাতনের শিকার, সে কথা চিন্তা করেই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দেয়। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজের চোখে (১৯৭১ সালে) সেই দুর্ভোগ দেখেছি।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ১৬ কোটি বাংলাদেশির পাশাপাশি কয়েক লাখ মানুষের (রোহিঙ্গাদের) দায়িত্ব নেয়ার জন্য তার ছোট বোন শেখ রেহানার অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

শেখ রেহানাকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘আপনি ১৬ কোটি লোককে খাওয়াতে পারেন, আর কয়েক লাখ লোকতে খাওয়াতে পারবেন না ?’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ইতিবাচক জবাবে বলেছেন, ‘প্রয়োজনে বাংলাদেশিরা একবেলা খাবার খেয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরেক বেলার খাবার ভাগ করবে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশি জনগণ, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রচুর খাবার নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরবর্তীতে এগিয়ে এসে রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে শুরু করেছে।

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নানা অভিযোগ, মিডিয়ার স্বাধীনতা ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, মধ্য আয়ের দেশে উত্তরণের পথে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, গৃহহীনদের জন্য নেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ তার সরকারের নেয়া নানা কল্যাণমুখী নীতি ও কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী, ট্রান্সজেন্ডারদের কল্যাণে নেয়া নানা পদক্ষেপ, জিয়া-এরশাদ আমলের সামরিক শাসন, আগামী নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে তৎকালীন পাকিস্তান গোয়েন্দাদের গোপন রিপোর্ট-এর ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত সিক্রেট ডকুমেন্টস বইটির সম্পাদনা ও প্রকাশনার প্রেক্ষাপট নিয়েও তিনি কথা বলেন। জলবায়ু পরিবর্তন, করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইত্যাদির ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ কীভাবে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হয়ে উঠতে পারে তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথাও তুলে ধরেন।

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অপপ্রয়োগের ফলে বাংলাদেশে এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতি চালু হয়েছে, যার ফলে মিডিয়াগুলো ব্যাপক সেলফ সেন্সরশিপ চর্চা করছে- এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ৪৪টি টেলিভিশনের অনুমোদন দেয়া আছে, সেখানে প্রায় ৩২টি টেলিভিশন এখন চলছে। সেখানে যারা যান, কথা বলেন, বিশেষ করে টক শো প্রোগামটাতে খুব বেশি কথা হয়। তারা সারা দিন কথা বলে। সরকারকে গালি দেয়া, সমালোচনা করা, প্রত্যেকটা কাজে সত্য-মিথ্যা যে যেভাবে পারছে বলছে। সব কথা বলার পর কেউ যদি বলে ‘আমাকে কথা বলতে দিল না’, তার কী জবাব আছে? 

তিনি আরও বলেন, একসময় দেশে প্রতি রাতে কারফিউ জারি করা হতো, মানুষ রাস্তায় বের হতে পারত না। একটা মানুষ যে কথা বলবে, প্রতিবাদ করবে সে অধিকারটা ছিল না। একটা কথা প্রচলিত ছিল যে, সাদা একটা মাইক্রোবাস কাউকে তুলে নিলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যেত না। আমাদের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীর হাজার হাজার অফিসার-সৈনিক, তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বলতে পারি যে, পঁচাত্তর সাল থেকে নিয়ে ৮৬ সাল পর্যন্ত ১৯টা ক্যু হয়েছে বাংলাদেশে। এরপরও ক্যু অ্যাটেম্প হয়েছে কয়েকবার এবং সেই সময়ে কোনো মানুষের কোনো অধিকার ছিল না। কথা বলার কোনো অধিকার ছিল না। মত প্রকাশের কোনো অধিকার ছিল না যে তারা একটা কোনো প্রতিবাদ করবে। সেই অবস্থাটা বিরাজমান ছিল।’