মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দপ্তরি আহত

ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দপ্তরি আহত
গ্রেপ্তার শাফি তালুকদার। ছবি : দৈনিক বাংলা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তর প্রতিবাদ করায় স্কুলের দপ্তরিকে কাটার দিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হবে।

আহত সুলতান মাহমুদ ওই একই স্কুলের দপ্তরি হিসেবে কাজ করেন।

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অভিযুক্ত শাফি তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুলতানের বাবা তাড়াশ থানায় ইভটিজিং ও হত্যা উদ্দেশ্য উল্লেখ করে মামলা করেছেন। শুক্রবার শফিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর কথা।

স্থানীয়রা জানান, সুলতানকে আঘাত করে শাফি। পরে শিক্ষকসহ এলাকার লোকজন শাফিকে আটক করে তাড়াশ থানা পুলিশের কাছে দেয়। আহত সুলতানকে উদ্ধার করে তাড়াশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওই স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বোয়ালিয়া গ্রামের শাফি তালুকদার প্রায় সময়ই স্কুলের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করত। বৃহস্পতিবার দুপুরে শাফি ওই ছাত্রীকে উক্ত করতে স্কুলে যায় এবং তাকে উদ্দেশ্য করে বাজে কথা বলে । এ সময় একই ক্যাম্পাসের মধ্যে স্কুলের দপ্তরি সুলতান প্রতিবাদ করলে শাফি ক্ষীপ্ত হয়ে তার প্যান্টের পকেট থেকে ছোট এন্টিকাটার দিয়ে সুলতানের পেটের মাঝে আঘাত করে। এতে তার পেটের কাছে কেটে যায়।’

সুলতানের বাবা বলেন, ‘শফি আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। শিক্ষক ও ছাত্ররা আমার ছেলেকে বাঁচিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’


বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনের নামে দুদকের মামলার সিদ্ধান্ত

বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনের নামে দুদকের মামলার সিদ্ধান্ত
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকসহ ১৩ জনের নামে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। আজ মঙ্গলবার অনুসন্ধান প্রতিবেদনের আলোকে মামলাটির অনুমোদন দেয় কমিশন।

সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক আলিয়াজ হোসেন যে কোনো সময় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করবেন।

অনুমোদিত মামলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরিচার নগরবাড়ি, কাজিরহাট, নরাদহ নদী বন্দরে ইজারা দেয়ায় কোনো নিয়ম-নীতি মানা হয়নি। এভাবে ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ এ দুই অর্থবছরে দুর্নীতির মাধ্যমে ইজারা দিয়ে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে পরস্পর যোগসাজশে লাভবান হয়েছে আসামিরা। মামলায় গোলাম সাদেক ছাড়াও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র সদস্য দেলোয়ার হোসেন, দুই পরিচালক আবু জাফর হাওলাদার, ওয়াকিল নওয়াজ, অতিরিক্ত পরিচালক সাইফুল, যুগ্ম পরিচালক জুলফা খানম, উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানসহ সাবেক তিন উপপরিচালক সেলিম রেজা, কবির হোসেন, মাসুদ পারভেজ। এ ছাড়া তিন ইজাদারকেও মামলায় আসামি করা হচ্ছে। এর হলেন, এজাজ আহমেদ সোহাগ, সাইফ আহমেদ ইমন এবং রফিকুল ইসলাম খান।


ঘর ঝাড়ু দেয়া নিয়ে দুই নারীর মারামারি, প্রাণ গেল ১ জনের

ঘর ঝাড়ু দেয়া নিয়ে দুই নারীর মারামারি, প্রাণ গেল ১ জনের
লাশ। প্রতীকী ছবি
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কুমিল্লায় ঘর ঝাড়ু দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই নারীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর উনাইসার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম মাহমুদ আক্তার (৪০)। তার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার মেটংঘর এলাকায়। 

কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

মোখলেছুর জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাহিমা বেগমকে আটক করা হয়েছে। রাহিমা বেগমের বাড়ি জেলার বরুড়া উপজেলায়। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিহত মাহমুদা ও রাহিমা নগরীর উনাইসার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একই কক্ষে থাকতেন। মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে কে ঘর ঝাড়ু দিবেন, এই নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মারামারি হয়।

পরে আহত অবস্থায় মাহমুদা আক্তারকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


ট্রফি ভাঙা সেই ইউএনওকে বদলি

ট্রফি ভাঙা সেই ইউএনওকে বদলি
ইউএনও মেহরুবা ইসলাম । ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বান্দরবানের আলীকদমে ফুটবল টুর্নামেন্টের ট্রফি ভেঙে ফেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহরুবা ইসলামকে ঢাকা বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

তাকে ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে ন্যস্ত করে সোমবার প্রজ্ঞাপন জা‌রি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে তাকে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর ১৮৯৮’ এর সেকশন-১৪৪ এর ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউপির রেপারপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ট্রফি ভেঙে আলোচনায় আসেন মেহরুবা।

দাম বাড়িয়ে ধরা আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠান

দাম বাড়িয়ে ধরা আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বেশি দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার, প্রাণ, এসিআই, বসুন্ধরা, এস আলম, সিটি, আকিজ, মেঘনাসহ আরও ৩৬ কোম্পানি ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

চাল, ডাল, আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার কারসাজি করে অস্থিরতার অভিযোগে এই প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিযোগিতা কমিশন।

গতকাল সোমবার কমিশনের পক্ষ থেকে এ মামলা করা হয় বলে কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান দৈনিক বাংলাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব আইনে মামলা হয়েছে। এখন প্রত্যেককে শুনানির জন্য ডাকা হবে। শুনানিতে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মফিজুর রহমান বলেন, ‘জরিমানার পরিমাণ হবে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান বছরে যে পরিমাণ টার্নওভার, তার সর্বনিম্ম ১ থেকে ১০ শতাংশ।

সোমবার  যাদের নামে মামলা করা হয় তাদের মধ্যে রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম, স্কয়ার, প্রাণ, এসিআই, বসুন্ধরা গ্রুপ সিটি, আকিজ ও মেঘনার মতো প্রতিষ্ঠান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই অভিযোগে ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল কমিশন। এ নিয়ে দুই দফায় সব মিলিয়ে ৪৪ মামলায় ৩৬ ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কমিশন।

এসব কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কমিশনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তারা বাজারে চাল, আটা, ময়দা, ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও টয়লেট্রিজ পণ্যের ‘অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে অস্থিরতা’ তৈরি করেছে।

কমিশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চালের বাজারে ‘অস্থিরতার জন্য’ স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের চেয়ারম্যান, এসিআইয়ের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান অথবা এমডি, প্রাণ ফুডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অথবা এমডি, সিটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এমডির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- কুষ্টিয়ার রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের স্বত্বাধিকারী মো. আবদুর রশিদ, দিনাজপুরের জহুরা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মো. আবদুল হান্নান, নওগাঁর বেলকন গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মো. বেলাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এরফান গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মো. এরফান আলী, বগুড়ার কিবরিয়া অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. গোলাম কিবরিয়া, নওগাঁর মফিজ উদ্দীন অটোমেটিক রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী তৌফিকুল ইসলাম, বগুড়ার আলাল অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের আলাল আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নুরজাহান অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মো. জহিরুল ইসলাম, বগুড়ার খান অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী পুটু মিয়া, কুষ্টিয়ার মেসার্স দাদা রাইচ মিলের মো. আরশাদ আলী, নওগাঁর মজুমদার অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ব্রজেন মজুমদার, নারায়ণগঞ্জের সিটি অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস এবং নওগাঁর ম্যাবকো হাইটেক রাইস ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান অথবা এমডির বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন।

এ ছাড়া আটা-ময়দার বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য মেঘনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি, এসিআই, টি কে গ্রুপের এমডি, নুরজাহান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি, এস আলম রিফাইন্ড ইন্ডাস্ট্রির এমডি এবং সিটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এমডির বিরুদ্ধে মামলা করেছে কমিশন।

ডিমের বাজারে কারসাজির জন্য সিপি বাংলাদেশ কোম্পানির এমডি বা সিইও, প্যারাগন পোলট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডায়মন্ড এগ লিমিটেডের এমডি, পিপলস ফিডের স্বত্বাধিকারী, কাজী ফার্মস গ্রুপের এমডি কাজী জাহেদুল হাসান, ডিম ব্যবসায়ী আড়তদার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ফার্মের মুরগির বাজারে অস্থিরতার জন্য কাজী ফার্মস গ্রুপের এমডি কাজী জাহেদুল হাসান, সাগুনা ফুড অ্যান্ড ফিডসের পরিচালক, আলাল পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিডের এমডি বা সিইও, নারিশ পোলট্রি ও হ্যাচারির পরিচালক, প্যারাগন পোলট্রির এমডি এবং সিপি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

টয়লেট্রিজের (সাবান, সুগন্ধী সাবান ও গুঁড়া সাবান) অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর জন্যও কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে এসিআইয়ের চেয়ারম্যান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের এমডি, স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান বা এমডি, কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানি (তিব্বত) ও কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান অথবা এমডি।

৩৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে মামলার বিষয়ে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শুধু মামলা হলে বা শুনানিতে ডাকলেই হবে না। কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, সেটাই বড় কথা। আমরা চাই যারা মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তাদের যথাযথ শাস্তি হোক। আর যেন কেউ কারসাজি করে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে সাহস না পায়।

গোলাম রহমান বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থে প্রতিযোগিতা কমিশন তো এত দিন কিছুই করেনি। এই প্রথম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করল। এখন দেখতে হবে, কত দ্রুততার সঙ্গে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়। আইন অনুযায়ী কাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অন্যায়ভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেই অপরাধে যদি সত্যিই এদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, তাহলে বাজারে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যরা ভয় পাবে, অযৌক্তিকভাবে ইচ্ছামতো আর পণ্যের দাম বাড়াবে না। দেশের মানুষ স্বস্তি পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিযোগিতা কমিশনের এই মামলা করাকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। যদি সত্যিই এদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, তাহলে আমি কমিশনকে সাধুবাদ জানাব।’

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে স্কয়ার টয়লেট্রিজের পরিচালক মালিক মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, ‘আমরা মামলার বিষয়ে এখনো কিছু জানি না। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের একটি নোটিশ দেয়া হয়েছে। সেখানে কিছু তথ্য-উপাত্তসহ ২৮ সেপ্টেম্বর কমিশনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আমরা তথ্য-উপাত্তসহ উপস্থিত থাকব।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখনো এ ধরনের কোনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে আমরা এ বিষয়ে উত্তর দেব। তবে আমি এটুকু বলতে পারি যে, আমরা অ্যারোম্যাটিক চাল বিক্রি করি। সেগুলোর কাঁচামালের দাম বেড়েছে, তাই আমরা আমাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছি। আমাদের এখানে কোনো কারসাজি ছিল না।’

কমিশন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার যে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তার মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মামলার শুনানি গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।


গ্রাম আর জঙ্গলের আকর্ষণে লিটনের ইকো কটেজ

গ্রাম আর জঙ্গলের আকর্ষণে লিটনের ইকো কটেজ
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় ‘বাদাবন ইকো কটেজ’। ছবি: দৈনিক বাংলা
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
  • পল্লি প্রকৃতি আর জঙ্গলের নীরবতা একসঙ্গে উপভোগ করা যায় এখানে

  • স্থানীয়দের আয়ের উৎস তৈরি হয়েছে

আওয়াল শেখ, খুলনা ব্যুরো

ছবির মতো আঁকাবাঁকা পিচঢালা পথটি চলে গেছে সুন্দরবনের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা খাদ্য সংরক্ষণাগার (সাইলো) পর্যন্ত। ওই পথের এক পাশে সুন্দরবন, অন্য পাশে গ্রাম। এখানে বনজীবী আর গ্রামের মানুষের সরল জীবনযাপন ও সংস্কৃতি খুব কাছ থেকে উপভোগ করা যায়। তাই এখানেই গড়ে উঠেছে ‘বাদাবন ইকো কটেজ’।

একদিকে গ্রামীণ মেঠোপথ, ধানখেত, খেয়াঘাট, রাখালিয়া বাঁশি, আরেক দিকে জঙ্গলের নীরবতা, গা ছমছমে ভাব। আর কী চাই? তাই তো রোমাঞ্চপ্রেমী পর্যটকদের পদচারণায় সারাক্ষণ মুখর এই বাদাবন ইকো কটেজ।

কমিউনিটি বেজড ওই কটেজটি এখন এলাকার অন্তত ৩০টি পরিবারের আয়ের উৎস। লিটন জমাদ্দার নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা নিজেদের জমিতে কটেজটি তৈরি করেছেন।

কটেজের অবস্থান বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের দক্ষিণ চিলা গ্রামে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই ফরেস্ট রেঞ্জের বৈদ্যমারী টহলফাঁড়ির ঠিক বিপরীত পাশে। মোংলা নদী পার হয়ে সরাসরি পিচঢালা রাস্তা চলে গেছে ওই গ্রামে। মোংলা থেকে ওই গ্রামের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। পুরো পথই ছায়া ঢাকা, মায়ায় ঘেরা।

শুরুর কথা

২০০৭ সালে ওই এলাকার কিছু তরুণ, যুবকদের ইকো ট্যুর গাইড হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে ইউএসএইডের ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেমস অ্যান্ড লাইভলিহুডস (ক্রেল) প্রকল্প। ওই প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পান লিটন জমাদ্দার। তখন তিনি নবম শ্রেণির ছাত্র। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময় ইকো ট্যুর গাইডের আরও কয়েকটি প্রশিক্ষণ নেন। তখন থেকেই সুন্দরবন ভ্রমণের বিভিন্ন নৌযানে আসা পর্যটকদের জন্য ইকো ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ শুরু করেন। এভাবেই চলে ২০১৭ সাল পর্যন্ত।

এরপর ক্রেল প্রকল্প থেকে ইকো কটেজ করার প্রস্তাব দেয়া হয় লিটনকে। চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প থেকে লিটনকে কিছু আনুষঙ্গিক সাহায্য করা হয়। এরপরই লিটন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

লিটন বলেন, ‘ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করার সময় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বেশির ভাগেরই আগ্রহ থাকত গ্রামের পরিবেশে থাকার। তারা আমার বাড়িতে এক-দুই দিন থাকার জন্য আবদার করতেন। কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পর্যটকদের ওই আগ্রহের কথা মাথায় রেখে ইকো কটেজ করার প্রস্তাব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা লুফে নিই।’

লিটন তার বাড়ির পাশের পুকুর ও মাছের ঘেরের সামনের অংশকে বেছে নেন ইকো কটেজ করার জন্য। ক্রেল প্রকল্প থেকে কটেজের একটি নকশাও দেয়া হয়। ওই নকশার সঙ্গে নিজের পরিকল্পনা মিলিয়ে কটেজটি তৈরি করেন লিটন। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে এর উদ্বোধন করা হয়।

সুন্দরবন সংলগ্ন ওই গ্রামের মানুষ সুন্দরবনকে বাদা নামে ডাকেন। সে কারণে কটেজের নাম হিসেবে স্থানীয় ওই নামটিকেই বেছে নিয়েছেন লিটন।

শুরুর দিকে এখানে ছিল মাত্র দুটি ঘর। থাকার ব্যবস্থা ছিল ৮ থেকে ১০ জনের। চাহিদার কারণে এখন কটেজে ঘরের সংখ্যা বেড়েছে। যুক্ত হয়েছে পর্যটকদের আনন্দ দেয়ার জন্য নতুন নতুন উপকরণ। বর্তমানে ওই কটেজে ৩৫ থেকে ৪০ জন একসঙ্গে থাকতে পারেন। 

পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা

গোলপাতা, কাঠ দিয়ে তৈরি মাটির ঘরগুলোতে ঢুকলেই ভেতরটা যেন শীতল হয়ে যায়। মনে হয় প্রকৃতির কোলেই আছেন আপনি। তবে ঘরগুলো মাটি আর কাঠের হলেও রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। সামনে পুকুরের ওপর বাঁশের মাচায় বসে রয়েছে মাছ ধরার সুযোগ। দেশি কায়দায় রান্না মুরগি, মাছ খাওয়ার পাশাপাশি বারবিকিউর ব্যবস্থাও রয়েছে। আর বন বিভাগের কাছ থেকে পাশ নিয়ে সুন্দরবনে হেঁটে আসার সুযোগ তো থাকছেই। কপাল ভালো থাকলে মিলে যেতে পারে মৌয়ালদের সঙ্গে মধু সংগ্রহ করার সুযোগও। 

টিপ্পনি উপেক্ষা করে এগিয়ে চলা

এমন প্রত্যন্ত গ্রামে কটেজ হবে, দেশি-বিদেশি পর্যটক আসবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাই করতে পারেননি। তাই তো ইকো কটেজ তৈরির সময় বন্ধুবান্ধব ও এলাকাবাসীর কাছে নানান টিপ্পনি সহ্য করতে হয়েছে লিটনকে। কিন্তু থেমে থাকেননি। পরিবার থেকেও বাধা দেয়া হয়। তবে বন বিভাগে চাকরিরত এক ভাই তাকে উৎসাহ দিয়েছেন। যারা এক সময় টিপ্পনি কাটত, এখন তারাই পর্যটকদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

দিন দিন কটেজে পর্যটকদের থাকার আগ্রহ বাড়ছে। ছুটির দিনগুলোতে চাপ বেশি থাকে। বিশেষ করে গ্রুপ ট্যুর বেশি হয়। এখন ১০ শতাংশের মতো বিদেশি পর্যটক ভিড় করেন তার কটেজে। বিদেশি সামলাতে ইংরেজিটাও শিখে নিয়েছেন লিটন।  

সব মিলিয়ে কেমন আছেন জানতে চাইলে হেসে লিটনের উত্তর- ‘ভালো আছি। একজন পর্যটক যখন ভ্রমণ শেষে বাড়িতে গিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করে, তখন ভালো থাকাটা সার্থক হয়। মনে হয়, হয়তো যেভাবে করতে চেয়েছি তা পারছি।’