শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বৈঠার ছন্দে মেতে উঠল যমুনা

যমুনার বুকে নৌকাবাইচ। ছবি: দৈনিক বাংলা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:২৭

থইথই জলের ওপর সারি সারি নৌকা। তাতে ঢাকঢোলের বাজনা। মাঝিমাল্লার মুখে গ্রাম-বাংলার গান। সঙ্গে নদীর জলে বৈঠার ছন্দ। যমুনার শান্ত জলের ঢেউকে এভাবেই রাঙিয়ে দিয়ে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নে হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। আর সেই নৌকাবাইচ দেখতে বিস্তৃত যমুনা নদীর বুকে নেমেছিল হাজারও জনতার ঢল।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয় এই নৌকাবাইচ। প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ণিল এই আয়োজনের উদ্যোক্তা ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনি।

নৌকাবাইচ দেখতে শুক্রবার বিকেলে বিনোদনপ্রেমী দর্শনার্থীদের ঢল নামে যমুনা নদীর পাড়ে। জেলার অন্যতম বিনোদনমূলক এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে জলপথে নৌকা আর সড়কপথে যানবাহনে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্রতিযোগিতায় খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, পাবনা ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি উপজেলা থেকে আল্লাহ ভরসা, মায়ের দোয়া, সোনার তরী, ফুলের তরী, আদর্শ তরী, ময়ূরপঙ্খী, পঙ্খীরাজ জলপরীসহ বাহারি নাম ও রঙের ডিঙি, কুশা, সিপাই, খেল্লা, অলংগাসহ কয়েক ক্যাটাগরির প্রায় অর্ধশত নৌকা অংশ নেয়। ছোট-বড় ও মাঝারি নৌকা নিয়ে পৃথক পৃথক কয়েকটি রাউন্ডে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর থেকে আসা নোমান মিয়া বলেন, ‘নৌকাবাইচ দেখে খুব ভালো লাগল। সামনে আবারও এই নৌকাবাইচ চাই।’

বাসাইল উপজেলা থেকে নৌকাবাইচ দেখতে আসা সুজন নামে এক কলেজছাত্র বলেন, ‘জীবনের প্রথম নৌকাবাইচ দেখলাম। বলে বোঝানো যাবে না কত ভালো লাগল।’

স্কুলশিক্ষার্থী সুমাইয়াও মা-বাবার সঙ্গে নৌকাবাইচ দেখতে এসেছিল। প্রতি বছর এমন নৌকাবাইচ আয়োজনের দাবি তারও।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত রাউন্ডে টাঙ্গাইলের ভূয়াপুরের ‘সোনার তরী’ নৌকাটি চ্যাম্পিয়ন হয়। রানারআপ হয় কালিহাতী উপজেলার ‘হিরার তরী’। পরে অতিথিরা বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ ছাড়াও অংশগ্রহণকারী প্রতিটি নৌকাকেই পুরস্কৃত করা হয়।

ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন চকদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনি। এর আগে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত। এ ছাড়া অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

হজের খরচ ৫ থেকে ৬ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব: হাব সভাপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হজের মোট খরচ ৫ থেকে ৬ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর আশকোনার হাজী ক্যাম্পে হজ যাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

হাবের সভাপতি বলেন, ২০২৭ সালে হজ যাত্রার বিমানের টিকিট মূল্য কমে ১ লাখে নেমে আসবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো গেলে হজের মোট খরচ কমে আসবে।

তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়ি ভাড়া, ট্রান্সপোর্ট চুক্তি, তাবু নির্বাচনের কাজ করতে হলেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা গেছে। সব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েও মন্ত্রণালয়, হজ অফিস ও হাবের সহযোগিতায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে হয়েছে।

এছাড়া সৌদি সরকারের নতুন নতুন সিদ্ধান্তের কারণে দেশের বিদ্যমান হজ ও ওমরাহ আইন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন তিনি।


সিরাজগঞ্জ রোডে ভয়ংকর গরু ডাকাতি: রাজধানীর সুপারশপে পৌঁছায় লুটের মাংস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে রহস্যে ঘেরা থাকা একটি ভয়ংকর গরু ডাকাতির ঘটনার অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ রহস্য উদঘাটন করেছে বাংলাদেশ পুলিশের সলঙ্গা থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ওঠে এসেছে এক ভয়াবহ সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের কার্যক্রম, যারা মহাসড়কে ফিল্মি কায়দায় গরুবাহী ট্রাক ছিনতাই করে সেই গরু জবাই করে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত সুপারশপে মাংস সরবরাহ করত।

ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ১৭ এপ্রিল মাসে। সময়টা ছিল ঠিক কোরবানির ঈদের পূর্ব মুহূর্তে। চট্টগ্রামের বাসিন্দা আমানুল্লাহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন হাট থেকে ১৪টি ষাঁড় গরু ক্রয় করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। গরুগুলো একটি ট্রাকে করে বহন করা হচ্ছিল। গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের ওপর পৌঁছালে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল তাদের পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালায়।

ডাকাতরা নিজেদের ব্যবহৃত একটি পিকআপ দিয়ে গরুবাহী ট্রাকটিকে চাপ দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর তারা ট্রাকের ড্রাইভার, হেল্পার ও গরুর রাখালকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তাদের ডাকাতদের ব্যবহৃত গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় এবং গরুসহ পুরো ট্রাকটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও দীর্ঘদিন পর্যন্ত মামলার কোনো কূলকিনারা হয়নি।

এ ঘটনায় সে সময় সলঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও আসামি গ্রেপ্তার কিংবা ডাকাতির রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। ন্যায়বিচার অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

অবশেষে সম্প্রতি সালঙ্গা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মানিকগঞ্জের কুখ্যাত ডাকাত সদস্য হাসান ওরফে রিপনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং পুরো ঘটনার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।

জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে, ওই রাতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় মোট ১২ জন সদস্য অংশ নিয়েছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের সদস্য। পরিকল্পিতভাবে তারা গরুবাহী ট্রাক টার্গেট করত এবং সুযোগ বোঝে গভীর রাতে অভিযান চালাত।

গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত সদস্যের দেওয়া তথ্যমতে, ডাকাতির পর গরুগুলো ঢাকার আশুলিয়া থানার এনায়েতপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লোকচক্ষুর আড়ালে পরিচালিত এক খামারে রাতের আঁধারে গরুগুলো বিক্রি করা হয়। খামারের মালিক জিয়া নামের ব্যক্তি যিনি রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপ ও অভিজাত শপিংমলে মাংস সরবরাহ করতেন।

পুলিশ জানায়, কৌশলী ওই ব্যবসায়ী জিয়া দ্রুত গরুগুলো জবাই করে মাংস হিসেবে বাজারজাত করে দেয়। ফলে ডাকাতির আলামতও দ্রুত মুছে ফেলা সম্ভব হয়। রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত সুপারশপে সেই মাংস সরবরাহ করা হয়েছে বলেও তদন্তে ওঠে এসেছে।

এ ঘটনায় জিয়া ও তার সহযোগী আলিমকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে কুখ্যাত ডাকাত হাসান ওরফে রিপন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে ডাকাতচক্রের অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সলঙ্গা থানা পুলিশের এই সফল অভিযানে দীর্ঘদিনের রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মামলার অগ্রগতি শুধু একটি ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন নয়, বরং মহাসড়ককেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের ভয়ংকর নেটওয়ার্কও সামনে নিয়ে এসেছে।


পটুয়াখালীর বাউফলে পাশাপাশি কবরে শায়িত হলেন স্বামী-স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পাঁচজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর বাউফলের একে একে নিভে গেল একটি পরিবারের সবকটি প্রাণ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণের আগুনে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় পর্যায়ক্রমে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন স্বামী, স্ত্রী ও তাদের তিন সন্তান।

শনিবার (১৬ মে) সকালে যখন মা সালমা বেগম (৪০), একমাত্র ছেলে মুন্না (১২), দুই মেয়ে মুন্নী (৯) ও শিশু কথা’র (৭) সাদা কফিনে মোড়ানো লাশ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের কাড়াল বাড়িতে এসে পৌঁছায়, তখন পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এর আগে গত সোমবার সকালে দাফন করা হয়েছিল গৃহকর্তা কালাম মিয়াকে (৫০)। আজ নতুন বাড়ির পুকুরপাড়ে কামাল মিয়ার কবরের ঠিক পাশেই বাকি চারজনকে শায়িত করা হয়েছে। একই সারিতে পাশাপাশি পাঁচটি তাজা কবরের দিকে তাকিয়ে নির্বাক চোখে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত মানুষ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কালাম মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভুইগড় এলাকার একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলায় দুটি রুম নিয়ে ভাড়া থাকতেন তিনি। গত রবিবার (১০ মে) সকাল ৬টার দিকে কালাম মিয়া রান্নাঘরে গ্যাসের চুলায় তরকারি গরম করতে যান। তখন স্ত্রী ও সন্তানরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। ঘরটিতে আগে থেকেই জমে থাকা লিকেজ গ্যাস দেশলাইয়ের সংস্পর্শে আসতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। জ্বলন্ত আগুনের মাঝেও বাবা কালাম মিয়া ঘরের দরজা খুলে দগ্ধ ছেলে মুন্নাকে বাইরে বের করে দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখা কামালের স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তাসহ সবাইকে নির্মমভাবে গ্রাস করে নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

বার্ন ইউনিটের বিছানায় একে একে নিভে গেছে পাঁচটি প্রাণ। মৃত্যুর এই নির্মম মিছিলে প্রথমে বিদায় নেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কালাম মিয়া। দুর্ঘটনার দিন রবিবারই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। স্বজনরা রাতেই তার মরদেহ নিয়ে আসেন গ্রামের বাড়িতে এবং সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে দাফন করা হয়। তখনো কেউ জানত না, এই কবরের পাশে আরও চারটি কবর খুঁড়তে হবে।

বুধবার বিকেল মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়ে ৭ বছরের শিশু কথা। মায়ের কোল খালি করে চলে যাওয়া কথার লাশ রাখা হয় হাসপাতালের হিমাগারে। বুধবার রাত ১১টা বোনকে হারানোর কয়েক ঘণ্টার মাথায় বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় একমাত্র ছেলে মুন্না (১২)। একইদিন বিকালে না ফেরার দেশে চলে যায় মেঝ মেয়ে মুন্নী (৯)। শুক্রবার সকাল ৮টা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মা সালমা বেগম (৪০)।

শনিবার(১৬মে) সকালে যখন মা ও তিন সন্তানের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কাড়াল বাড়ির উঠানে এসে থামে, তখন উপস্থিত শত শত মানুষের চোখের পানি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে যখন একে একে চারটি সাদা কফিন বের করা হচ্ছিল, তখন স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শেষবারের মতো একনজর দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে চারপাশ থমকে যায়। এরপর সকাল ১০টায় জানাজা শেষে কামাল মিয়ার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তার স্ত্রী ও সন্তানদের।

কালাম মিয়ার চাচাতো ভাই সোহাগ বলেন, প্রায় ২০-২২ বছর আগে কামাল বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে উজিরপুরে বিয়ে করেছিল। কত কষ্ট করে ফতুল্লার ব্যবসাটা দাঁড় করাল। মাত্র ২০-২৫ দিন আগেও ঢাকায় ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল। ভাবতেই পারছি না, ভাই-ভাবি আর পুলাপাইনডি এভাবে আমাদের ছেড়ে এক্কেরে চলে যাবে!

কালাম মিয়ার বোন রাসেদা বেগম বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, ঈদের আগে ভাইয়ের সাথে শেষ দেখা হয়েছিল। বাড়িতে ভাইয়েরা মিলে একটা নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ ধরছিল। ভাই বলছিল 'এবার কোরবানির ঈদে বাড়ি আইসা ঘরের কাজ শেষ করমু, বাকি জীবনটা স্ত্রী-সন্তান নিয়া দেশের বাড়িতেই থাকমু।' ভাই আমার বাড়ি ফিরল, কিন্তু লাশ হয়া!

এদিকে এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পেছনে ভবন কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন এক স্বজন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাসার গ্যাসের পাইপ লিকেজ হওয়ার বিষয়টি কালাম মিয়া আগের দিনই ভবনের দারোয়ানকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দারোয়ানের অলসতা করে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানায়নি। যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে আজ একটি পুরো পরিবার এভাবে শেষ হয়ে যেত না।


হলুদ বসন্তে রূপসী ক্যাম্পাস: সোনালু রঙে সেজেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে যখন প্রকৃতির প্রাণ বের হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা, তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস সেজেছে এক ভিন্ন রূপে।

ক্যাম্পাসের সবুজ বুক চিরে এখন উঁকি দিচ্ছে সোনাঝরা রং। চারপাশ আলো করে ফুটেছে সোনালু ফুল। প্রকৃতির এক অনন্য উপহার।

সোনালু মূলত গ্রীষ্মের ফুল। বৈজ্ঞানিক নাম (Cassia fistula)। বাংলায় এটি ‘সোনালু’ বা ‘বানরলাঠি’ নামে পরিচিত। এর দীর্ঘ, নলাকার ফলগুলোর কারণেই গ্রামীণ মানুষ একে বানরলাঠি বলে ডাকে।

তবে এর ইংরেজি নাম ‘গোল্ডেন শাওয়ার’ যেন এর রূপকে সবচেয়ে ভালো ফুটিয়ে তোলে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গাছ থেকে যেন হলুদের ঝর্ণাধারা নামছে।

চবি ক্যাম্পাসে হলুদের মেলা:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি মোড়েই এখন সোনালুর দেখা মিলছে। বিশেষ করে রাস্তার পাশে, হলের সামনে এবং বিভিন্ন অনুষদের খোলা জায়গায় এই গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে।

পাতাঝরা এই গাছের ডাল থেকে লতানো থোকায় থোকায় ঝুলছে উজ্জ্বল হলুদ ফুল। হালকা বাতাসে যখন ফুলগুলো ঝরে পড়ে, তখন নিচের পিচঢালা রাস্তা যেন হলুদ গালিচায় রূপ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা সবুজ পাহাড়ের মাঝে এই হলুদ রং এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করেছে।

ক্যাম্পাসের এই রূপ উপভোগ করছেন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষার ক্লান্তি শেষে সোনালু গাছের শীতল ছায়া আর এই নয়নকাড়া দৃশ্য শিক্ষার্থীদের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি।

অনেকেই থমকে দাঁড়াচ্ছেন ছবি তুলতে, কেউবা মেতে ওঠছেন আড্ডায়। তীব্র গরমের মাঝেও সোনালুর এই সোনাঝরা হাসি চবি ক্যাম্পাসকে করে তুলেছে এক জীবন্ত ক্যানভাস।


নীলফামারী জেলা পরিষদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে নানা সামগ্রী বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর জলঢাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে ফ্যান, বাই-সাইকেল, স্কুল ব্যাগ, টিফিন বক্স, পানির বোতল ও খেলার সামগ্রী বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে জলঢাকা ডাকবাংলো মাঠে নীলফামারী জেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দের অর্থায়নে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে সামগ্রী তুলে দেন নীলফামারী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী, জলঢাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আলমগীর হোসেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। জেলা পরিষদ পিছিয়ে পড়া ও হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের শিক্ষাজীবন সহজ ও আনন্দময় করতে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা ও খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

অনুষ্ঠানে সামগ্রী পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এ ধরনের উদ্যোগকে শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করেন।


নিখোঁজের পাঁচদিন পর গলায় ইট -কোমরে বস্তা বাঁধা অবস্থায় কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

নিখোঁজের পাঁচদিন পর কিশোরগঞ্জের ইটনা থেকে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি চরের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় কিশোরটির গলায় ইট ও কোমরে বস্তা বাঁধা ছিল।

নিহত কিশোরের নাম আরিক মিয়া (১২)। সে নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার পাঁচহাট গ্রামের রেজেক মিয়ার ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত ১১ মে রাত ১টার দিকে আরিক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন খালিয়াজুড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার পরিবার।

শনিবার দুপুরে পাশ্ববর্তী ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি চরে কয়েকজন যুবক ঘাস কাটতে গিয়ে একটি ডোবায় মরদেহটি দেখতে পান। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আরিকের বলে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বজনদের দাবি, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়াও তার গলায় ইট এবং কোমরে বালুর বস্তা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব মিয়া জানান, ১১ মে নিজ বাড়ি থেকে ছেলেটি নিখোঁজ হয়। পরদিন তার পরিবার খালিয়াজুড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। শনিবার ইটনার ধনপুর কালিবাড়ি চর এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক শিক্ষার বিকল্প নেই: দীপেন দেওয়ান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত জাপানি শিক্ষা পদ্ধতি ‘কুমন’ প্রশিক্ষণের যাত্রা রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে। এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেডের সহায়তায় ব্র্যাক কুমন লিমিটেড ও মোনোঘরের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্ত্বা জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৪০ জন শিক্ষার্থী গণিত বিষয়ে ‘কুমন’ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাঙামাটির রাঙ্গাপানি মোনোঘর আবাসিক বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কুমন লার্নিং সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, নতুন প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যোগ্য করে গড়ে তুলতে আধুনিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। পার্বত্য অঞ্চলের অবহেলিত ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এই ধরনের আধুনিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় দীক্ষিত করতে বিদেশী আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি যাতে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা সহজেই আয়ত্ত করতে পারে, সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার সবসময় আন্তরিক এবং এই ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সরকার বিশেষভাবে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করে আসছে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদ শীঘ্রই পুনঃগঠন করা হবে। পুরো বিষয়টি এখন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। এটি একটি বড় এবং জটিল প্রক্রিয়া, তাই এখানে কোনো প্রকার ভুল হতে দেওয়া যাবে না। তবে পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন আইনের বিধান মেনেই সকল জাতিসত্ত্বার সদস্যসহ সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে এই জেলা পরিষদগুলো গঠন করা হবে। অচিরেই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জাপানে উদ্ভাবিত এবং বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে সমাদৃত ‘কুমন’ পদ্ধতি শিশুদের আত্মশিক্ষা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং যেকোনো জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিশুদের আধুনিক শিক্ষায় এগিয়ে নিতে এই লার্নিং সেন্টারটি অনন্য অবদান রাখবে।

মোনোঘরের সভাপতি উদয় শংকর মহাথের-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক কুমন লিমিটেডের চিফ বিজনেস অফিসার নেহাল বিন হাসান, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কিমুরা কেঞ্জি, ভাইস প্রেসিডেন্ট গোলাম কিবরিয়া, মোনঘরের মহাসচিব কীর্তি শিখান চাকমা এবং জাইকা (JICA) বাংলাদেশ অফিসের স্পেশাল অ্যাডভাইজার কিয়োকো আমাদা।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক কুমন লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার অনন্য হকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।


জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার এক জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের ইমান আলী বাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে চালগুলো উদ্ধার করা হয়।

অভিযুক্ত মো. আবদুস সামাদ ওরফে ডাক্তার সামাদ স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে সরকারি চাল মজুত করে রাখা হচ্ছিল। পরে এসব চাল বেশি দামে বিক্রি করা হতো। গতকাল শনিবার সকালে এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে সামাদের বাড়িতে যান। সেখানে একটি কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি চালের বস্তা দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ৯৯ বস্তা চাল উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখেন।

এ বিষয়ে আবদুস সামাদ বলেন, ‘আমার ছোট ভাই ডাক্তার আজগর একজন ডিলার। নূরানী মাদ্রাসার সরকারি বরাদ্দের চাল তিনি কিনে এনেছেন। পরে সেগুলো বাড়িতে রাখা হয়েছিল।’

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে চালগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। চাল কেনার বিষয়ে বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


নলছিটিতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শনে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলায় চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন এলজিইডি ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম শাহাবুদ্দিন এবং উপজেলা প্রকৌশলী আজিজুল হক। শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলমান খনন কাজ ঘুরে দেখেন।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন খালগুলো খনন না হওয়ায় পানি প্রবাহ কমে গিয়ে কৃষি কাজে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে কৃষকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। বর্তমানে খাল পুনঃখননের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে,এবং কৃষকরা সহজেই চাষাবাদের জন্য পানি ব্যবহার করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনার আলোকে খাল পুনরুদ্ধার ও জলাধার সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রামীণ কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের প্রকল্প কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। সারাদেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প(IPCP) এলজিইডি, নলছিটি, ঝালকাঠী এর আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে (RDPP No-16) এর আওতায় মল্লিকপুর হতে তেরলা ব্রিজ পর্যন্ত কুদেরধন খাল, বচন বাড়ি খাল, বড় তালুকদার বাড়ি হয়ে মোনাই বাড়ি পর্যন্ত এবং চন্দ্রকান্দা বাজার হতে ভরতকাঠি জিপিএস এবং জুরকাঠী শাখা খাল পর্যন্ত, পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে।


জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার এক জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের ইমান আলী বাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে চালগুলো উদ্ধার করা হয়।

অভিযুক্ত মো. আবদুস সামাদ ওরফে ডাক্তার সামাদ স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে সরকারি চাল মজুদ করে রাখা হচ্ছিল। পরে এসব চাল বেশি দামে বিক্রি করা হতো। শনিবার সকালে এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে সামাদের বাড়িতে যান। সেখানে একটি কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি চালের বস্তা দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ৯৯ বস্তা চাল উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখেন।

এ বিষয়ে আবদুস সামাদ বলেন, “আমার ছোট ভাই ডাক্তার আজগর একজন ডিলার। নূরানী মাদরাসায় সরকারি বরাদ্দের চাল তিনি কিনে এনেছেন। পরে সেগুলো বাড়িতে রাখা হয়েছিল।”

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে চালগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। চাল কেনার বিষয়ে বৈধ কাগজপত্র আছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ঝিনাইদহে জেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে জেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে শহরের জোহান ড্রীম ভ্যালী পার্কে এ সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি সামছুল আলমের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মোঃ আব্দুল মজিদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মমিনুর রহমান ও চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন।
সভায় জেলার বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসময় উন্নয়ন কার্যক্রম, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এনজিওগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।


বাকৃবিতে পর পর দুটি আবাসিক হলে চুরি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আরাফাত হোসাইন, বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) দুটি আবাসিক হলে পৃথক চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিকন্যা হল এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে চুরির ঘটনাগুলো ঘটে।

শনিবার (১৬ মে) রাতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ডি ব্লকের চার তলার ৪৪১ ও ৪৪০ নম্বর কক্ষেও চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, চোর জানালার দুটি স্টিলের শিক কেটে কক্ষে প্রবেশ করে মূল্যবান মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে কৃষিকন্যা হলের খ ব্লকের ১৩ নম্বর কক্ষে সিলিং ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চোর সিলিংয়ের পথ দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে নগদ প্রায় ৪ হাজার টাকা, আইডি কার্ডসহ দুটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

এক শিক্ষার্থী জানান, রিডিং রুম থেকে ফিরে দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পেয়ে জানালা দিয়ে চোরকে দেখতে পান। পরে চিৎকার করলে চোর দ্রুত সিলিংয়ের পথ দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় হলের নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ ছাত্রী বাড়িতে চলে যাওয়ায় হল তুলনামূলক ফাঁকা ছিল এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে চোর।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল থাকা সত্ত্বেও চোর কীভাবে চার তলায় উঠে জানালার শিক কেটে কক্ষে প্রবেশ করলো, তা নিয়ে প্রশাসনের জবাবদিহি প্রয়োজন। তারা বলেন, সম্প্রতি একের পর এক চুরির ঘটনায় আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উচ্চ রেজুলেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত এবং হল এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থী মেজবাউল হক মিজু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে চারতলার মতো জায়গায় উঠে জানালার শিক কেটে চুরি করা সম্ভব হয়, সেখানে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।”

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কৃষি কন্যা হলেও সিলিং কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসময় অনেক সিনিয়র শিক্ষার্থী চাকরির পরীক্ষার জন্য ঢাকায় অবস্থান করায় হলের কিছু কক্ষ ফাঁকা ছিল। চোরেরা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উচ্চ রেজুলেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রভোস্টের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।

কৃষিকন্যা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, হলের নির্মাণ কাজ চলমান। সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী সংখ্যা অনেক কম। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু আজকের এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা হতে পারে অথবা কোনো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি সুযোগ বুঝে এই কাজ করেছে বলে অনুমান করছি।

অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা বলেন, সোহরাওয়ার্দী হলের আজকের চুরির ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে। উক্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং প্রক্রিয়া উদঘাটনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, শিক্ষার্থীরা রুমে থাকা অবস্থাতেই জানালা কেটে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা কিছুটা অস্বাভাবিক এবং বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের কোনো প্রকার অবহেলা ছিল কি না, তাও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা শাখাকে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাকৃবির নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা স্বাধীন রক্ষী থাকলেও, সার্বিক নজরদারির স্বার্থে সেন্ট্রাল সিকিউরিটি সেকশন থেকে আমরা সর্বদা তৎপর আছি। কৃষিকন্যা হলের চুরির ঘটনার পর পরই চিফ সিকিউরিটি অফিসারকে পাঠিয়ে একটি সম্ভাব্য প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং কারণসমূহ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিশাল এই ক্যাম্পাসে জনবল সংকট একটি বড় সমস্যা, যার সুযোগ নিয়ে চোরেরা অন্ধকার ও আড়ালে থাকা সীমানাগুলোকে টার্গেট করে।

এ বিষয়ে বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. কাজী ফরহাদ কাদির বলেন, আমরা হলগুলোর প্রভোস্টদের সাথে কথা বলেছি। হলের নিরাপত্তার দায়িত্ব মূলত প্রভোস্টের। হলের ভেতরের নিরাপত্তার বিষয়টাতেও ঘাটতি আছে, যেটা প্রভোস্টের এখতিয়ারে পড়ে। সেখানে সিসি ক্যামেরারও বোধহয় কভারেজ নাই। তো সেই দিকগুলোতে আসলে আমাদের একটু জোরদার করতে হবে। আমাদের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী হলের শান্তিশৃঙ্খলার দায়িত্বে প্রক্টোরিয়াল বডি আছে, নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা সেকশন আছে, ফ্যাকাল্টিগুলোতে ডিন মহোদয় এবং হলগুলোতে প্রভোস্টের দায়িত্ব আছে। এদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে আসলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে কাজ করা দরকার।


কোরবানির পশু থেকে মানুষে ছড়াতে পারে প্রাণঘাতী রোগ, সতর্ক করলেন বাকৃবি অধ্যাপক 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আরাফাত হোসাইন, বাকৃবি প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। তবে এই সময়ে গবাদিপশুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু সংক্রামক রোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা এবং ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ বা খুরা রোগের মতো জুনোটিক রোগ (প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ায় এমন রোগ) নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

কোরবানির হাটের মাধ্যমে এসব রোগ মানুষে সংক্রমণের ঝুঁকি, রোগ প্রতিরোধ এবং করণীয় বিষয় নিয়ে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিমুল এহসান।

তিনি বলেন, ‘দেশে কিছুদিন আগে রংপুর ও গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এ সময় মানুষের মধ্যে চামড়ায় ক্ষত, চোখ ফোলা এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা গেছে। অ্যানথ্রাক্স একটি ভয়াবহ জুনোটিক রোগ, যা আক্রান্ত প্রাণীর রক্ত, মাংস এবং দেহের বিভিন্ন অংশের সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। হাটে যদি কোনো আক্রান্ত পশু থাকে, তাহলে সেখান থেকে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে নিয়মিত টিকাদান এবং হাটে প্রাণীর প্রবেশপথে বিশেষজ্ঞ টিম দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গেলে এ ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।’

আক্রান্ত পশু শনাক্তকরণ সম্পর্কে অধ্যাপক জানান, ‘অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত পশু অনেক সময় লক্ষণ প্রকাশের আগেই মারা যায়। তবে লক্ষণ দেখা দিলে পশুর শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণীটি মারা যায়। মারা যাওয়ার পর নাক, মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে আলকাতরার মতো কালো রক্ত বের হয়। এই রক্ত বাতাসের সংস্পর্শে এলে জীবাণুটি “স্পোর” তৈরি করে, যা দীর্ঘ সময় সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম। এ ছাড়া পশুর জিহ্বা, নাক বা গলায় কালচে কিংবা সাদা দাগ ও ফোসকা দেখা দিতে পারে। আচরণগত পরিবর্তন হিসেবে অস্বাভাবিক উত্তেজনা বা অতিরিক্ত শান্তভাবও লক্ষ করা যেতে পারে।’

কোরবানির পশুদের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের পর আরও একটি ভয়াবহ রোগ হলো ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ, যা খুরা রোগ নামে বেশি পরিচিত।

অধ্যাপক বলেন, ‘খুরা রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং বাতাসের মাধ্যমে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোরবানির সময় এ রোগ মহামারি আকারে দেখা দেয়। দিনাজপুর বা চট্টগ্রামের কোনো আক্রান্ত গরু যখন ঢাকায় বিক্রির জন্য আনা হয়, তখন পুরো পথজুড়ে এবং আশপাশের সব গরুর মধ্যে এ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। তাই খামারিদের প্রতি অনুরোধ, অসুস্থ পশু কোনোভাবেই হাটে বা ট্রাকে তোলা উচিত নয়। আগে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পশুকে সুস্থ করে তারপর কোরবানির জন্য বাছাই করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত কোরবানির পরও অনেক গরু অবিক্রিত থেকে যায়। এসব পশু হাটে এসে আক্রান্ত হয়ে নিজ এলাকায় গিয়ে অন্যান্য সুস্থ পশুকেও সংক্রমিত করতে পারে। তবে ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ মানুষে সংক্রমিত হলেও অ্যানথ্রাক্সের মতো জটিল পর্যায়ে যায় না।’

হাটে যাওয়ার সময় ক্রেতাদের উদ্দেশে অধ্যাপক বলেন, ‘অসুস্থ মনে হওয়া প্রাণী স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে শরীরে কোনো ক্ষত বা কাটা থাকলে তা ঢেকে হাটে যাওয়া উচিত, কারণ ক্ষতস্থান দিয়ে অ্যানথ্রাক্স বা টিটেনাসের মতো জীবাণু সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পশুর সংস্পর্শে আসার পর দ্রুত হাত ও পা সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।’

ড. আমিমুল আরও বলেন, ‘হাটের বর্জ্য ও রক্ত যাতে যত্রতত্র না পড়ে, সে বিষয়ে হাট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। কোরবানির পর পশুর বর্জ্য নিরাপদ স্থানে মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং মাংস সঠিকভাবে রান্না করা নিশ্চিত করতে হবে।’ সন্দেহজনক কোনো পশু হাটে দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।


banner close