বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
৫ কার্তিক ১৪৩৩

‘এখনকার মতো খাদ্যসংকট পৃথিবীতে আর আসেনি’

খুলনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:৪০

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ‘বর্তমানের মতো সারা পৃথিবীতে এরূপ খাদ্য সংকট আর আসেনি। তাই সব দেশে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। চাহিদা অনুযায়ী কৃষি উৎপাদনে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাগেরহাটের মোংলায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন সক্ষমতাসম্পন্ন সাইলো রয়েছে। বাধাহীনভাবে খাদ্যপণ্য পরিবহনে মোংলা থেকে জয়মনি পর্যন্ত রাস্তাটি মেরামতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাজ করতে হবে।’

একই সঙ্গে খুলনা-যশোর রাস্তার বেহাল অবস্থা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেন।

বৃহস্পতিবার রাতে খুলনায় কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলবিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘শুদ্ধাচার কৌশলের মূল কথা হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদান করবেন। ব্যক্তিগত চারিত্র্যিক শুদ্ধতার মাধ্যমে দাপ্তরিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি তৈরি হলে জনগণ সেবা পাবে। দপ্তরের নিজস্ব কার্যক্রমের নিয়মিত প্রচারণা ও জবাবদিহি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সততার আদর্শ প্রতিপালনে নিজেদের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের প্রতিও আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।’

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কামরুন নাহার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রাহাত আনোয়ার, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, খুলনা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল এম আনোয়ার হোসেন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার, পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা, রেঞ্জ ডিআইজি ড. খ. মহিদ উদ্দিন ও খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সভায় খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনাররা, বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিআরটি প্রকল্প বাতিল, সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত

* ১৪ বছরের অপেক্ষার পর বিশেষায়িত বাসের বদলে চলবে সাধারণ যানবাহন * সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি বিআইপি ও গাজীপুরের নাগরিকদের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৯৭ শতাংশ। বাকি মাত্র ৩ শতাংশ কাজ শেষ হলেই চালু হওয়ার কথা ছিল বিশেষায়িত বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সেবা। কিন্তু ১৪ বছরের অপেক্ষার পর সেই প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে সরকার। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নির্মিত বিআরটি করিডরকে সাধারণ যানবাহন চলাচলের উপযোগী মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০১২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কয়েক দফায় মেয়াদ ও ব্যয় বাড়লেও চালু হয়নি কাঙ্ক্ষিত সেবা। সর্বশেষ অনুমোদিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজের ভোগান্তি শেষে আধুনিক গণপরিবহন চালুর অপেক্ষায় থাকা গাজীপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের গত সোমবারের (১৯ অক্টোবর) সিদ্ধান্তপত্র অনুযায়ী, গত রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরটি করিডরের দুই লেনকে তিন প্লাস তিন লেনবিশিষ্ট সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি দুটি দুই লেনের ওভারপাসকে চার লেনের ওভারপাসে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে অবকাঠামো পরিবর্তনে অতিরিক্ত কত অর্থ ব্যয় হবে, কত দিনে কাজ শেষ হবে এবং নির্মিত স্থাপনাগুলোর কোন অংশে পরিবর্তন আনতে হবে, তা সিদ্ধান্তপত্রে উল্লেখ নেই।

‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট’ নামের এই প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২০ কিলোমিটার করিডর নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৬ কিলোমিটার সমতলের সড়ক এবং সাড়ে চার কিলোমিটার উড়ালপথ। নির্মাণ করা হয়েছে তুরাগ নদের ওপর ১০ লেনের সেতু, ছয়টি উড়ালপথ, ছয়টি এলিভেটেড বাসস্টেশন, ফুটপাত, নিকাশিব্যবস্থা ও বাস রাখার ডিপো।

গাজীপুরের নাগরিক সংগঠন গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়নের দাবি, প্রকল্পে সরকারি অর্থ ও বৈদেশিক ঋণ মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার ৮০০ কোটি থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ করে বিআরটি চালুর সম্ভাবনা যাচাই না করে অবকাঠামোর ব্যবহার পরিবর্তন করলে সরকারি অর্থের অপচয় বাড়তে পারে।

বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংগঠনটির মতে, বিশেষায়িত গণপরিবহনের অবকাঠামোকে সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর টেকসই, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহন পরিকল্পনার পরিপন্থি। এতে ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর যাতায়াত উৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত গাজীপুর ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান এবং ঢাকার সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার প্রস্তাবনার সঙ্গেও অসংগতিপূর্ণ।’ সংগঠনটি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, বিআরটি ও এমআরটির পরিচালনায় সমন্বিত সংস্থা গঠন এবং বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের পরিবহন পরিকল্পনায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে নেতৃত্বদানকারী সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ হিসেবে সরকারি তিন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কথা উঠে এসেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের দায়িত্ব ছিল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওপর। আলাদা সংস্থার অধীনে কাজ চলায় বিভিন্ন অংশের নির্মাণকাজ ভিন্ন সময়ে শেষ হয়েছে।

এ ছাড়া সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা, বাস্তব ট্রাফিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিবহন চাহিদা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বর্তমান নকশায় বিআরটি চালু করলে যানজট ও জনভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। বিকল্প হিসেবে উন্নত মহাসড়ক নির্মাণ ও রেলভিত্তিক গণপরিবহন জোরদারের সুপারিশও উঠে এসেছিল।

অন্যদিকে, বিআরটি চালুর পক্ষে থাকা পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিকদের বক্তব্য, নকশা ও পরিচালনায় সমস্যা থাকলে তা সংশোধন করে সেবা চালুর সম্ভাবনা যাচাই করা উচিত।

গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়নও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, অবকাঠামো অপসারণের কার্যক্রম স্থগিত, অবশিষ্ট কাজ শেষ করে বিআরটি চালুর সময়সীমা ঘোষণা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। দীর্ঘ বিলম্ব ও প্রকল্পের ত্রুটির জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।


নির্বাচিত

সংস্কার ও উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে যাচ্ছে আদমদীঘির উপজেলা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থা কাটিয়ে সংস্কার ও উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যেতে চলেছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও চত্বর। বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজের ফলে প্রশাসনিক পরিবেশে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। এতে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে সেবা নিতে এসে স্বস্তি প্রকাশ করছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। তবে উপজেলা চত্বরে চারপাশের ভাঙাচোরা সীমানাপ্রাচীর পুনর্নির্মাণ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা হলে পুরো চত্বরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ আরও উন্নত হবে। যারফলে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক এলাকার সামগ্রিক চিত্রও আরও আধুনিক ও নান্দনিক হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।

জানা যায়, ১৯৮৩ সালে আদমদীঘি উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর স্থাপন করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ সহজেই নিজ এলাকার নিকটবর্তী দপ্তর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবাগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এ কারণে উপজেলা জনসাধারণের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে উপজেলা প্রশাসনিক চত্বরের বিভিন্ন ভবন ও অবকাঠামো জরাজীর্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় এই উপজেলা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেশি অবহেলিত ছিল। ফলে দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ তেমন চোখে পড়েনি। পটপরিবর্তনের পর উপজেলা প্রশাসনিক এলাকায় একাধিক দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে।

এর মধ্যে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে আধুনিক মানের গেট নির্মাণ ও উভয় পাশে প্রাচীর নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ কিছু সড়ক সংস্কার, পরিত্যক্ত পুরোনো ভবন অপসারণ করে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাংলোর অভিমুখী সড়ক আরসিসিকরণ, কৃষি অফিসের সামনের সড়ক আরসিসিকরণ এবং হলরুমের সামনে ইউনিব্লক স্থাপনের কাজ উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন সংস্কারহীন অবস্থায় থাকা স্টাফদের আবাসিক যমুনা ও রূপসা ভবন সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে আনসার সদস্যদের ব্যারাক নির্মাণের কাজ চলছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, মহিলাবিষয়ক দপ্তরের জরাজীর্ণ ভবন এবং ট্রেনিং সেন্টারের জন্য পুরোনো ভবনসহ ছয়টি কক্ষ সংস্কার ও নির্মাণকাজও করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের জরাজীর্ণ বাউন্ডারি ওয়াল চারপাশে পুনর্নির্মাণ এবং পুরো চত্বরে জলাবদ্ধতা নিরসনে উন্নতমানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে দায়িত্বরত উপজেলা প্রশাসন। এসব উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হলে উপজেলা পরিষদ চত্বরের সার্বিক পরিবেশ ও সৌন্দর্যে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো অসম্পন্ন রয়েছে। এসব কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত বরাদ্দের চাহিদাপত্র পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়াসাপেক্ষে উপজেলা পরিষদের সীমানাপ্রাচীর, অভ্যন্তরীণ ড্রেন, নতুন কোয়ার্টার নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।’


নির্বাচিত

দেশ গড়তে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: অর্থ উপদেষ্টা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ মাহমুদ আল তিতুমীর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

‘আপনারা বলেন হরিজন, আসলে সবাই আমরা মানুষ। আর এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’—সামাজিক সম্প্রীতি, মানবিক মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রত্যয় ব্যক্ত করে এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ মাহমুদ আল তিতুমীর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম বজায় থাকবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমরা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি উপজেলা পৌঁছালে উপজেলা প্রশাসন তাকে ফুলের বনসাই গাছ উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটি দার্শনিক ভিত্তির কথা বলেন—সবার আগে বাংলাদেশ, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ।’

ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাশেদ মাহমুদ আল তিতুমীর বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, আমাদের সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, সমাজে পুরোহিতসহ ধর্মীয় নেতারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করুন।

আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা, ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহম্মেদ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সানোয়ার আহম্মেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাইদ মণ্ডলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতারা।


নির্বাচিত

নারী ফুটবলের উচ্ছ্বাসে মুখরিত গোপালপুর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

নারী ফুটবলের উচ্ছ্বাসে মুখরিত টাঙ্গাইলের গোপালপুর। হেমনগর জমিদার বাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে মরহুম ফরহাদ হোসেন তালুকদার স্মৃতি ফুটবল একাডেমী ও ময়মনসিংহের কলসিন্দুর নারী ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচ।

হেমনগর স্পোর্টিং ক্লাব ও হক পল্লী ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রথমার্ধের খেলায় মরহুম ফরহাদ হোসেন তালুকদার স্মৃতি ফুটবল একাডেমীর পক্ষে ১টি গোল করেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক স্ট্রাইকার কৃষ্ণা রাণী সরকার। এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ময়মনসিংহের কলসিন্দুর নারী দলের আকলিমার গোলে সমতা ফেরান। খেলার উদ্বোধন করেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহাফুজুল আলম খান, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ, জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, সূতী ভিএম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক গোলাম রায়হান বাপন এবং গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি কাজী লিয়াকত, হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রোজ তালুকদার।

প্রমিলা ফুটবলের এই আকর্ষণীয় ম্যাচ উপভোগ করতে গোপালপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০ হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।


নির্বাচিত

টেকনাফ সীমান্তে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় চার মাদক কারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) ৪ বিজিবির আওতাধীন টেকনাফের হোয়াইক্যং চেকপোস্ট ও উলুবনিয়া সীমান্তে পৃথক অভিযান চালানো হয়।

আটকরা হলেন- টেকনাফের হোয়াইক্যং কাটাখালির বক্কর আহমেদের ছেলে শাকিল (২২), মৃত কাদেরের ছেলে রাসেল (২৩), চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার গোসাইলভাঙা গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৩১) এবং উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত সিদ্দিকের ছেলে খায়রুল আমিন (২৪)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, এসব অভিযানে ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ চার মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, প্রথম অভিযানে একটি ডাবল কেবিন পিকআপ আটক করা হয়। গাড়িটি মৌলভীবাজার থেকে টেকনাফ হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিল। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পিকআপটি হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্টে পৌঁছালে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে পিকআপের পেছনের সিট কভারের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকানো ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় একজনকে আটক করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযানে রাত ৯টার দিকে পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার হোয়াইক্যং উলুবনিয়া নামক স্থানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাম্বুশ করে বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে শাকিলসহ তিনজনকে আটক করা হয়।


নির্বাচিত

সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে তাহিরপুরে মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে উপজেলার বাদাঘাট বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিকরা ছাড়াও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা ও দোয়ারাবাজারে সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা সাংবাদিক সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।’ এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

এতে বক্তব্য রাখেন কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়া তাহিরপুর প্রতিনিধি আবির হাসান-মানিক, দৈনিক খোলা কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি রোকন উদ্দিন, দৈনিক মানবজমিনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এমএ রাজ্জাক, দৈনিক ইত্তেফাকের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আলম সাব্বির সমাজসেবক ও সংগঠক আবুল হোসেন, বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ও গণকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সারোয়ার ইবনে গিয়াস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন রাফি, দৈনিক বাংলা তাহিরপুর প্রতিনিধি আবুল কাশেম, এনটিভি মাল্টিমিডিয়ার উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, দৈনিক আলোর সকাল অনলাইন নিউজ পোর্টালের পরিচালক মো. আ. মান্নান, দৈনিক নিউজ বাংলা তাহিরপুর প্রতিনিধি মো. বাবুল মিয়া, দৈনিক এদিনের তাহিরপুর প্রতিনিধি সামায়ুন এবং দৈনিক হাওর বাংলার তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ।


নির্বাচিত

ভুলতা-গাউছিয়ায় দখলমুক্ত ফুটপাত, নজরদারি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের ভুলতা-গাউছিয়া সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদের পর পাল্টে গেছে এলাকার চিত্র। আগে চার লেনের সড়কের তিল লেন ও ফুটপাত দখল করে কাঁচা বাজার সহ নিত্যপণ্যের দোকান পাট বসতো। এখন আর সেই দোকানগুলো নেই। নেই কোন কোলাহল। ফুটপাত ওসড়ক থেকে হকার উচ্ছেদের পর রূপগঞ্জের ভুলতা-গাউছিয়া, রূপসী, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন এলাকার চিত্রও পাল্টে গেছে। সড়কের পাশে সিএনজি, রিকশা ও অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনার স্তুপও নেই।

তবে এলাকাবাসী বলছে, কঠোর নজরদারি না থাকলে হয়তো আবারো ফটপাত দখল করে বসতে পারে দোকান। এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।

জানা গেছে, সড়কটি ঢাকা সিলেট মহাসড়ক জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঐতিহ্যবাহী গাউছিয়া মার্কেট। প্রায় ২ বছর ধরেই গোলাকান্দাইল মজিদ প্লাজা থেকে ভুলতার রেদোয়ান টাওয়ার পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়কের ফুটপাত ও মূলসড়কের ওপর গড়ে উঠা অবৈধ দোকান পাটের কারনে পথচারীদের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে কষ্ট হইতো।

গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার ভুলতা-গাউছিয়া সহ আশপাশের এলাকায় অবৈধ স্হাপনা ও হকারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের দখলে থাকা সড়ক ও ফুটপাত দখল মুক্ত হয়েছে। পকেট মার,মলমপার্টি ও ছিনতাই কারী নেই। ভুলতা ইউনিয়নের যুবদলের কর্মীরা ও প্রশাসনের লোকজনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ভুলতা ফ্লাইওভারের আসা যাওয়ার এলাকা সাওঘাট, এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক, রূপসী, মুড়াপাড়া ও কাঞ্চনসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উভয় পশের ফুটপাত ও সড়কে গড়ে উঠা ৫ শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও স্হাপনা সরিয়ে দেয়া হয়েছে। অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ হওয়ার ফলে চিরচেনা তীব্র যানজট ও জনজটও কিছুটা কমে এসেছে এবং পথচারী ও যানবাহন চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে।

ফুটপাথ দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগে রূপগঞ্জ থানা ও ট্রাফিক বিভাগ এবং নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

অভিযান চলাকালে সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ দোকান ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়। ১৪ অক্টোবর বুধবার গোলাকান্দাইলের সাওঘাট এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। মূল সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন অবৈধ ভাসমান দোকানপাট গড়ে উঠেছিল এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে তাদের মালামাল রাস্তায় ও ফুটপাথে ফেলে রেখেছিল, যার ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছিল।

কাঞ্চন বাজারে ও স্থানীয় বিএনপি যৌথ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ফুটপাথ দখলমুক্ত করেছে। গত ১৭ অক্টোবর সকালে কাঞ্চনপৌরসভার নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এসময় স্থানীয় বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ দল ও অঙ্গ -সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রূপগঞ্জ থানার বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, ‘যারা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত, তাদের পরিচয় একটাই- তারা চাঁদাবাজ। কারো নাম, পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের ভুলতা-গাউছিয়া, এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রমের পর আমরা কয়েক দফা সরজমিনে পরিদর্শন ও মনিটরিং করেছি।

জনস্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে নিজ উদ্যোগে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ সুন্দর ও সবুজ রাখতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।’

আরিফুল ইসলাম আরিফ ভুলতা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে রাস্তার পাশে থাকা ভবন বা জায়গার মালিকদের একটি অংশ অবৈধভাবে হকার বসানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অবৈধ হকারদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা বা অগ্রিম অর্থ নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। আবার কোথাও কোথাও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।’

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হকার ও ভাসমান অপরাধীদের জন্য এই এলাকা চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছিল, যা থেকে অনেকটাই রেহাই মিলেছে উচ্ছেদের কারণে। এখন দেখতে হবে এই সুন্দর পরিবেশ কত দিন টিকে।

মঞ্জু নামের এক পথচারী বলেন, হকাররা রাস্তা পর্যন্ত দখল করে রেখেছিল। যা থেকে উদ্ধার পেয়েছে পথচারীরা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে পুরো রূপগঞ্জ উপজেলাকে সুন্দর করা সম্ভব হবে।

নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপুর উদ্যোগে ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের কথা বিবেচনা করে গাউছিয়া মার্কেটের পশ্চিম পাশে সিংলাব সড়কের বালুর মাঠে দোকান বসার স্থান করে দিয়েছেন। এখন থেকে যে কোন মানুষ উন্মুক্ত জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। কোন প্রকার টাকা দিতে হবে না।


নির্বাচিত

চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

এর আগে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রাম ভ্রমণের অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং সেখান থেকে সরাসরি পূজামণ্ডপের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পূজামণ্ডপে পৌঁছালে তাকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধিরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সহ স্থানীয় বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা।


নির্বাচিত

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সাড়ে ৩ হাজার কোস্ট গার্ড মোতায়েন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় উপাসনালয়, পূজামণ্ডপ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ উপলক্ষে কোস্ট গার্ডের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে মোংলা উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসাধারণের জানমাল নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ড নিয়মিত কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’

মহাপরিচালক জানান, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় এলাকায় ১৪৪টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে বিসর্জনস্থলগুলোতে বিশেষ ডুবুরি দল প্রস্তুত থাকবে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগেরও আহ্বান জানান তিনি।

মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে।


নির্বাচিত

উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎আলি হায়দার, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

সরকারের জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রূপকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভেদাভেদ ভুলে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

‎তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

‎মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত এলসিএস (LCS) শ্রমিকদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ জেলার পরিচালন বাজেটের আওতায় গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (Off Pavement) প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের মাঝে এসব চেক বিতরণ করা হয়।

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এলজিইডি কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম।

‎প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও নীতি বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হলো মাঠ প্রশাসন। সরকারের অর্জন ও সফলতা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

‎তিনি বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনকল্যাণে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

‎জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা যার যার অবস্থান থেকে জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, বলেন তিনি।

‎এর আগে সকাল থেকে কুলিয়ারচরের বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সকাল ১০টায় ফরিদপুর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এরপর বেলা ১১টায় ছয়সূতীতে জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।

‎এরপর কুলিয়ারচর কালী নদীতে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করার কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এলসিএস শ্রমিকদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

‎অনুষ্ঠানে কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চেকপ্রাপ্ত এলসিএস শ্রমিক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শ্রমিকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চেকের অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

‎প্রতিমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় সালুয়া এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ডুমরাকান্দা ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।


নির্বাচিত

দিনাজপুরে সড়কে গাছ ফেলে ৪ গাড়িতে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৮

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সড়কে গাছ ফেলে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানসহ চারটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের ৮ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনসহ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন। এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. শাকিল সরকার (২৬), মো. রুহুল আমিন (৩৫), মো. রাশেদ মিয়া (৩০), মো. রবিউল প্রধান (৩৫), মো. সাজ্জু মিয়া (৫৩), মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে চেয়ারম্যান (৪২), মো. শাহিন মিয়া (৩০) ও মো. মিরাজ মিয়া (২৬)। তাদের বাড়ি গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায়।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সোয়া ১টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় একদল ডাকাত সড়কে চলাচলরত যানবাহনে ডাকাতি করে। এ সময় চালক, সহকারী ও যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে মালামাল লুট করা হয়।

ঘটনার পর সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অভিযানে ডাকাত দলের আট সদস্যকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে- দুটি এইচপি ল্যাপটপ, ইনফিনিক্স, অপো, ভিভো, অনার ও স্যামসাং ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন, একটি ম্যাক্সটেল বাটন ফোন, একটি চাপাতি ও একটি ছুরি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, এই ডাকাতির ঘটনায় যদি আরও কোনো ডাকাত জড়িত থাকে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে: মৌলভীবাজারে শ্রমমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান- সব ধর্মের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশকে সুন্দর ও শান্তির দেশে পরিণত করতে সবাইকে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ত্রিনয়নী শিববাড়ী মন্দিরের দুর্গাপূজা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্গাপূজা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে উদ্‌যাপনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ও নির্বাচনী এলাকায় পূজার আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করছেন।’

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) সিলেটের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছি এবং আজ (মঙ্গলবার) মৌলভীবাজারে এসেছি। এবারের দুর্গাপূজা আগের বছরের তুলনায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এবার পূজা উদ্‌যাপনে আরও বেশি সহযোগিতা করেছেন, যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন।’ বাংলাদেশি হিসেবে সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও সমৃদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্দির পরিদর্শনকালে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্যসচিব আবদুর রহমান রিপন ও সিনিয়র সদস্য এম এ মুকিত এবং ত্রিনয়নী শিববাড়ী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য, দর্শনার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী মৌলভীবাজার সদরের শ্রী শ্রী নতুন কালীবাড়ি মন্দির ও মহেশ্বরী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।


নির্বাচিত

বরাদ্দ জটিলতায় আটকে নিরাপদ পানির প্রকল্প, দুর্ভোগে গ্রামবাসী

* আড়াই কোটি টাকার নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

প্রকল্পের শুরুতে ৫০টি বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহের করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে ৩৩০টি বাড়ি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮০টিতে। তবে প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ বাড়েনি। ফলে পুরো কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদার গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও নিরাপদ পানি পাচ্ছেন না উপকারভোগীরা। প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এই ঘটনা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরআমখাওয়া ইউনিয়নের চরমাদার গ্রামের।

জানা গেছে, চরমাদার গ্রামের ৫০টি বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’ নেয় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল। দেড় বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে পাঁচ মাস দেরি করে বিএম ট্রেড নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে চরআমখাওয়ার চরমাদার গ্রামে। চরমাদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে বসানো হয়েছে ওভারহেড ট্যাংক বা উচ্চ জলাধার। দেখা যায়, উচ্চ জলাধার থেকে চারপাশের ৩৮০টি বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য পাইপ সংযোগ ও প্লাটফর্ম স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। অসমাপ্ত রয়েছে মটর বা পাম্প বসানোসহ কারিগরি কাজ। ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রকল্পটি চালু হলে আয়রণমুক্ত নিরাপদ পানি পাবে তারা । প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকারভোগীদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে কমিটি করা হবে। এই কমিটির অধীনে পরিচালিত হবে প্রকল্পটি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটির চুক্তি মোতাবেক ওই এলাকার ৫০টি বাড়িতে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ৩৩০টি বাড়ি বৃদ্ধি করে ৩৮০টি বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য সংযোগ দেওয়া হয়। এতে ব্যয় বেড়ে গেলেও বাড়তি ৩৩০ বাড়িতে সংযোগ স্থাপন বাবদ প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ সমন্বয় করা হয়নি। সে কারণে প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন করে ৩০ শতাংশ কাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির বাকি ৩০ শতাংশের কাজ সমাপ্ত করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দিয়ে ইতোমধ্যে চার থেকে পাঁচটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ দেওয়া হয়েছে চলতি বছরের ৬ অক্টোবর। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা আমলে নিচ্ছে না। প্রকল্পের অতিরিক্ত কাজের ব্যয় বরাদ্দ সমন্বয় না করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অসমাপ্ত কাজ করবে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

চরমাদার গ্রামের উপকারভোগী আক্কাস আলী বলেন, ‘পানির লাইনের কাজ মেলা দিন থেকে বন্ধ হইছে। কাজ বাকি আছে কিন্তু করছে না। চালু হলে আমরা নিরাপদ পানি পাইতাম। রোগবালাই হইতো না। আমাগোর দাবি, পানির লাইনডা যেন তাড়াতাড়ি হয়।’

উপকারভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজি মো. শাসছুল হক জানান, এলাকায় একটা পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি তা চালু হচ্ছে না। পানির লাইন চালু হলে গ্রামবাসী আয়রণমুক্ত নিরাপদ পানি পেত। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানান তিনি।

উপকারভোগী নুর নাহারের ভাষ্য, গিরামে (গ্রামে) পানির লাইন হইল কিন্তু আমরা সুবিধা পাইলাম না। আমাগো কলের পানিতে আয়রণ আছে। পানির লাইন চালু হইলে আমরা আয়রণমুক্ত পানি পাইতাম। আমরা ফ্রেশ পানির জন্য লাইন নিছি। কিন্তু তিন বছর পার হইলেও আমরা আয়রণমুক্ত পানি পাইলাম না।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিএম ট্রেডের প্রকৌশলী শহিদ মিয়া জানান, তাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অন্য একটি প্রকল্পের কাজে ব্যস্ত ছিল। এখন সে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। ওই প্রকল্পটির অসমাপ্ত কাজ চলতি মাসেই শুরু করা হবে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বাবলু মিয়া বলেন, ‘তারা ওই প্রকল্পে অতিরিক্ত কাজ করেছেন। ৫০টির পরিবর্তে চাহিদা অনুযায়ী ৩৮০টি পরিবারে পানি সরবরাহের সংযোগ দিয়েছেন। এ জন্য রিভাইজ বাজেট করা হয়েছে। বাজেটটি নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস থেকে পাস হয়েছে। এখন সেটি প্রকল্প পরিচালকের অফিসে রয়েছে। সেখান থেকে বাজেটটি অনুমোদিত হবে। তবে তারা বলেছে, কাজ শেষ করতে বাড়তি কাজের ব্যয় সমন্বয় করবেন। আশা করা যাচ্ছে, দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।’

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মাজেদুর রহমানের ভাষ্য, অতিরিক্ত কাজের জন্য রিভাইজ বাজেট করা হয়েছে। তাতে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। বাজেটটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ খুব শিগগির শুরু করবে বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

banner close