মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, ‘বর্তমানের মতো সারা পৃথিবীতে এরূপ খাদ্য সংকট আর আসেনি। তাই সব দেশে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। চাহিদা অনুযায়ী কৃষি উৎপাদনে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাগেরহাটের মোংলায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন সক্ষমতাসম্পন্ন সাইলো রয়েছে। বাধাহীনভাবে খাদ্যপণ্য পরিবহনে মোংলা থেকে জয়মনি পর্যন্ত রাস্তাটি মেরামতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাজ করতে হবে।’
একই সঙ্গে খুলনা-যশোর রাস্তার বেহাল অবস্থা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেন।
বৃহস্পতিবার রাতে খুলনায় কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলবিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘শুদ্ধাচার কৌশলের মূল কথা হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদান করবেন। ব্যক্তিগত চারিত্র্যিক শুদ্ধতার মাধ্যমে দাপ্তরিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি তৈরি হলে জনগণ সেবা পাবে। দপ্তরের নিজস্ব কার্যক্রমের নিয়মিত প্রচারণা ও জবাবদিহি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সততার আদর্শ প্রতিপালনে নিজেদের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের প্রতিও আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।’
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কামরুন নাহার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রাহাত আনোয়ার, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, খুলনা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল এম আনোয়ার হোসেন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার, পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা, রেঞ্জ ডিআইজি ড. খ. মহিদ উদ্দিন ও খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভায় খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনাররা, বিভাগের ১০ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহে ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫১ জন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মমেক হাসপাতালের ডেঙ্গু সামারিতে প্রকাশিত তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া ১ হাজার ২৫১ জনের মধ্যে ৮১৫ জন পুরুষ, ৩৭৫ জন নারী ও ৬১ জন শিশু। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ মারা যাওয়া রোগী খেলন সরকার (৬৫)। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর রামবাবু রোড এলাকার নরেন্দ্র সরকারের স্ত্রী। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা অবস্থায় ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মমেক হাসপাতালে নতুন করে ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ৭৬ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে মমেক হাসপাতালে ১৩০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯২ জন পুরুষ, ৩৮ জন নারী ও ১০ জন শিশু।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান আরও বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মমেক হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৭০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩ জন।
ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইন উদ্দিন বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।’ পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির তাকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই কিশোরকে আদালতে হাজির করে গুলশান থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মো. আরেফিন ইসলাম তাকে সংশোধনাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তার পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর হোসেন জামিনের আবেদন করেন।
জামিন আবেদনে বলা হয়, এই কিশোর গাড়িতে ড্রাইভারের পাশের আসনে বসা ছিল। নিহত মেহেদী একজন শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তাকে হর্ন বাজানো সত্ত্বেও দ্রুত সরে যেতে না পারায় দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে যায়।
আবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে নগদ ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, মামলাটি তদন্তকালে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার পরপরই প্রাইভেটকারের ডান পাশের ড্রাইভিং সিটের দরজা খুলে কিশোরকে বের হতে দেখা যায়। তদন্তকালে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন না দিয়ে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বাদী হয়ে গত বুধবার রাজধানীর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বেপরোয়াভাবে প্রাইভেটকার চালিয়ে তার ভাইকে গাড়িচাপা দিয়ে গুরুতর আহত করেন এবং এতে তার মৃত্যু ঘটে। মামলার এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দিয়ে দুটি ল্যাম্প পোস্টে ধাক্কা দেয়। পরে পথচারী ও নির্মাণ শ্রমিকরা গাড়িটি তুলে তাকে উদ্ধার করেন। পুলিশ তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কিশোর-তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির ঝুঁকি এবং অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের মাদক ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখা, সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হবে। তবে কমিটি কবে নাগাদ গঠন করা হবে, সদস্য কাঠামো কী হবে এবং কমিটির সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কার্যপরিধি কী থাকবে—এসব বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মাদক নিয়ে আগের উদ্যোগ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে অবশ্য এটি সরকারের প্রথম উদ্যোগ নয়। শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের পর নিয়মিত মাদকবিরোধী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৫ সালেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের কুফল নিয়ে ডকুমেন্টারি ও থিম সং প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা। এবার কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রমকে আরও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ও নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জুয়া নিয়ে নতুন বাস্তবতা: মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি এবার জুয়াকেও একই প্রতিরোধ কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের সুযোগ সহজলভ্য হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
চলতি বছর জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে প্রচলিত জুয়ার পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও অনলাইন বেটিংকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
আইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুয়ার কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর দেওয়া হয়েছে। আর জুয়া প্রতিরোধে আইন প্রয়োগ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও নীতিগত নির্দেশনার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে।
নজরদারি ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব: নতুন কমিটি গঠনের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে শুধু কমিটি গঠন করলেই এ উদ্যোগ কার্যকর হবে না। নিয়মিত সভা ও কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এখন কমিটিগুলোর সদস্য কাঠামো, দায়িত্ব, কার্যপরিধি এবং গঠনের সময়সীমা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা। এসব নির্দেশনা এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ উদ্যোগের কার্যকারিতা অনেকটা নির্ভর করবে।
রাজধানীতে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নাশকতার নতুন কৌশলের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্য, ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণের পর ঘটনার ভিডিও ধারণ করে নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠালে মাঠপর্যায়ের ব্যক্তিদের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এসব নির্দেশনা ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে আসছে বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে ডিবি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিশ্লেষণ করে যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের এ পদ্ধতির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করা হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভারত থেকে যোগাযোগ করছেন—এমনটি নিশ্চিত নয়। প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান নিশ্চিত করতে আরও তথ্য যাচাই প্রয়োজন।
ভিডিও পাঠালেই অর্থ: ডিবির তথ্যানুযায়ী, নাশকতায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শুধু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালেই হচ্ছে না; ঘটনার ভিডিও ধারণ করে নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠাতে বলা হচ্ছে। ভিডিও পাওয়ার পর মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, নাশকতার কাজে একেকজনকে একেক ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেউ ককটেল বা হাতবোমা সরবরাহ করছে, কেউ বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে, আবার কেউ ভিডিও ধারণ ও যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করছে। ককটেল তৈরির জন্যও আলাদা নেটওয়ার্ক থাকার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
ডিবি জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড ও রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ককটেল তৈরির কথিত গোপন স্থাপনার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব স্থানে কারা বিস্ফোরক তৈরি করত এবং তাদের সঙ্গে নাশকতার অন্য অংশের যোগাযোগ কীভাবে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ীতে চারজন গ্রেপ্তার: গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রায়হান উদ্দিন, রাসেল খান, আলা উদ্দিন ও আবদুল্লাহ নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ওই ঘটনায় এক অটোরিকশাচালক আহত হন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালবাগ এলাকা থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। একই দিন দক্ষিণ দনিয়া কাঁচাবাজার এলাকা থেকেও ১০টি হাতবোমা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
ডিবির ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেনের নির্দেশনার কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এসব যোগাযোগের প্রকৃতি এবং নাশকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে যাচাই করা হচ্ছে।
কমলাপুরেও ককটেল বিস্ফোরণ: ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও মোহাম্মদ সানমুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। একই ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বোমাবাজির ঘটনায় সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফ নামে একজনকে মোটরসাইকেল ও ককটেলসহ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতীয় নাগরিক রিমান্ডে: নাশকতার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে রবিউল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির রমনা জোনাল টিম। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত বুধবার তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত।
ডিবির রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, রবিউল ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। তার পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখের অমিল রয়েছে এবং বাংলাদেশে আসার কারণ নিয়েও তিনি বিভিন্ন সময় ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। সাম্প্রতিক নাশকতায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে রবিউল আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে বাস পোড়ানো ও বোমাবাজির সমন্বয়ের অভিযোগে কক্সবাজার থেকে ডেমরা থানা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতীয় নম্বর মানেই ভারত থেকে যোগাযোগ নয়: তদন্তে ভারতীয় নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেলেও এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অবস্থান নিশ্চিত করা যায় না বলে সতর্ক করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির। তার মতে, রোমিং সুবিধা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে এসব অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে নম্বরের দেশ কোডের ভিত্তিতে যোগাযোগকারী ব্যক্তি ভারতে অবস্থান করছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রযুক্তিগতভাবে আরও তথ্য যাচাই প্রয়োজন।
নেটওয়ার্ক শনাক্তে নজরদারি: ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের পর রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি বাড়িয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন এবং ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণ করে নাশকতার নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের পাশাপাশি অর্থদাতা, সমন্বয়কারী ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করাই তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। নাশকতার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, অর্থের উৎস কী এবং বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে যোগাযোগ কীভাবে হয়েছে—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
বিশ্ব মেরিটাইম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (সিইউবি) শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্স (এসএমএস) বিভাগের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সেমিনার, ‘ম্যাপ মেরিটাইম’ কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
‘From Policy to Practice: Powering Maritime Excellence’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের মেরিটাইম খাতের অভিজ্ঞ পেশাজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মেরিটাইম খাতের নীতি, বাস্তব অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা, শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত। বিশ্ব মেরিটাইম দিবস উপলক্ষে এ আয়োজনের জন্য শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্স বিভাগকে তিনি অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মেরিটাইম খাতে অবদান রাখতে দক্ষ, জ্ঞানসমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল গ্র্যাজুয়েট তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সিইউবির উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এ. এস. এম. সিরাজুল হক। তিনি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক মেরিটাইম শিল্পের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে মেরিটাইম শিক্ষা, ব্যবহারিক জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং শিল্প খাতভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মেরিটাইম খাত সম্পর্কে জ্ঞান আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।
সেমিনারে বাংলাদেশের নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নটিক্যাল সার্ভেয়ার অ্যান্ড এক্সামিনার ক্যাপ্টেন কাজী মুহাম্মদ আহসান মেরিটাইম নিরাপত্তা, জাহাজ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান অনুসরণের বিভিন্ন ব্যবহারিক দিক তুলে ধরেন। তিনি পেশাগত দক্ষতা, নিরাপত্তা সচেতনতা এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম মান অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
মার্কেন্টাইল শিপিং লাইনস লিমিটেডের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (শিপিং অ্যান্ড চার্টারিং), মাস্টার মেরিনার (ইউ.কে.) ও এমএনআই (লন্ডন) ক্যাপ্টেন আমান উল্লাহ চৌধুরী শিপিং শিল্পের বাস্তবতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে পেশাগত অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। বৈশ্বিক শিপিং ও চার্টারিং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং দ্য নটিক্যাল ইনস্টিটিউট, ঢাকা ব্রাঞ্চের অনারারি সেক্রেটারি ক্যাপ্টেন সুব্রত কুমার সাহা, এএফএনআই মেরিটাইম শিক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন, ধারাবাহিক শিক্ষা, নেতৃত্ব ও পেশাগত নৈতিকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সফল মেরিটাইম ক্যারিয়ারের জন্য শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিইউবির শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মো. নাসির উদ্দিন। তিনি অতিথি ও বক্তাদের স্বাগত জানান এবং শিক্ষার্থীদের শিল্প খাতভিত্তিক মেরিটাইম শিক্ষা ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরিতে বিভাগের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন, স্কুল অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং মেরিটাইম খাতের প্রতিনিধিরা।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ম্যাপ মেরিটাইম’ কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সামুদ্রিক ভূগোল, সমুদ্রবন্দর, শিপিং ও মেরিটাইম বাণিজ্য, অভ্যন্তরীণ নৌপথ, নদীপথে পরিবহন এবং মেরিটাইমবিষয়ক জ্ঞানের ওপর শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন।
প্রতিযোগিতায় সেরা পাঁচ প্রতিযোগীকে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সার্টিফিকেট অব অ্যাচিভমেন্ট ও স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অতিথি ও বক্তাদের সিইউবির পক্ষ থেকে স্মারক ক্রেস্ট ও উপহার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিশ্ব মেরিটাইম দিবস ২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে কেক কাটা হয়। এতে প্রধান অতিথি, বক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞ মেরিটাইম পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং শিপিং ও মেরিটাইম শিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন।
রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ককে হকারমুক্ত ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হকারমুক্ত ঘোষিত ওই সড়কগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনে যান ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ বসলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি। তারা নিজেরাও স্বেচ্ছায় এসব মূল সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা নগরবাসীকে ফুটপাত ও সড়কে স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে চাই।’
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, কেবলমাত্র রমনা ভবনসংলগ্ন পূর্বপাশের ফুটপাতে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা রেখে নির্ধারিত জায়গায় নিয়মানুযায়ী নিবন্ধিত নির্দিষ্টসংখ্যক হকার বসতে পারবেন। নির্ধারিত স্থান, সময়, সংখ্যা ও নিবন্ধনের বাইরে যত্রতত্র হকার বসে জনভোগান্তি তৈরির কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।’
হকারদের নিবন্ধন ফি কমানোর দাবির বিষয়ে প্রশাসক বলেন, ‘বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনামা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় উপস্থিত থেকে পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মূল সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম তদারকি করেন।
এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপদ রংপুর গড়ার লক্ষ্যে নাগরিকরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে অপরাধী ও অপরাধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছে দিতে ‘সেভ রংপুর’নামে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েবসাইটটির (অ্যাপস) উদ্বোধন করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সেভ রংপুর এর প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কোর্ডিনেটর আল মামুন বলেন, রংপুরের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলা। অপরাধ সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে অনেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা পরিচয় প্রকাশের বিষয়টি সামনে আনতে চান না। তাই তাদের জন্যই ‘সেভ রংপুর’ প্ল্যাটফর্মে পরিচয় গোপন রেখে তথ্য জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
নাগরিকদের দেওয়া তথ্য প্রশাসনের কাছে পৌঁছে যাবে, যা অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়তা করবে।
অ্যাপস-ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে মাদক, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে তথ্য দেয়ার সুযোগ থাকবে। তিনি আরও বলেন, সেভ রংপুরকে যারা এগিয়ে নিতে চান, তারা সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। এই প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকর ও এগিয়ে নিতে তথ্যভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি চাইলে নিজের পরিচয় গোপন রেখে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিতে পারবেন। অনেকেই বাড়ির আশপাশে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানলেও প্রশাসনের কাছে সরাসরি যেতে পারেন না। আবার অনেকের ধারণা, তথ্য দিলে সাক্ষী হতে হবে কিংবা পরবর্তীতে নানা ধরনের জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এসব কারণে অনেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে আগ্রহী হন না। তাদের কথা বিবেচনা করেই এই ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে। এখানে আপনি যে তথ্য দেবেন, তা গোপন রাখা হবে।
এসময় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিরাপদ শহর শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অপরাধের তথ্য জানান এবং সচেতন ভূমিকা পালন করেন, তাহলে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রংপুর গড়ে তোলা আরও সহজ হবে।
এসময় রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান, মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার জোবায়ের ইসলামসহ বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
বর্জ্য এখন কোনো সংকট নয়, এটি এখন বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে শলুয়ায় নির্মিত বর্জ্য রিসাইকিং প্লান্টটি চালু হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন দিক উন্মোচিত হবে। কিন্তু এটি পরিচালনার দায়িত্ব প্রাইভেট সেক্টরে ছেড়ে দিলে তারা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারবে কি না, তাও ভেবে দেখতে হবে। না পারলে এটা কীভাবে পরিচালনা করা সম্ভব তার জন্য কর্মকর্তা পর্যায়ে আরও সভা আহ্বানের নির্দেশ দেন।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশনে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার পেশাদারত্ব জোরদারকরণ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। রাজকীয় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় বাংলাদেশ নগরভিত্তিক পানিচক্রের টেকসই রূপান্তর’ প্রকল্পের আওতায় কেসিসি ও এসএনভি যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। গত ১৮ জুলাই কেসিসি ও এসএনভির মধ্যে অনুষ্ঠিত কৌশলগত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার মানোন্নয়ন, জবাবদিহিতা এবং পেশাদারত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
মাঠপর্যায়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজে কয়েকটি ওয়ার্ড নিয়ে পাইলট কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, ‘তাহলেই ৩১টি ওয়ার্ডে আমাদের কী ধরনের ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন তার সঠিক ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। একমুখী কাজ থেকে বের হয়ে সম্মিলিতভাবে ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বহুমুখী কাজ করতে পারলে সফল হওয়া সম্ভব হবে বলে কর্মশালায় প্রশাসক উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ নগরভিত্তিক পানিচক্রের টেকসই রূপান্তর’ প্রকল্পটি খুলনাসহ ৪টি সিটি করপোরেশন ও ৮টি পৌরসভায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্যানিটেশন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন ও সংশ্লিষ্ট নগর পরিসেবার নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও স্থায়িত্ব উন্নয়নের মাধ্যমে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নত করাই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। কর্মশালায় প্রাথমিক উৎস থেকে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ সেবার পেশাদারত্বকরণের আওতায় সেবাদানকারীদের শর্তযুক্ত অনুমতিপত্র লাইসেন্স প্রদান এবং কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন, কেসিসি কর্তৃক নির্ধারিত ও অনুমোদিত সার্ভিস চার্জ ট্যারিফ কাঠামো অনুসারে নাগরিকদের নিকট থেকে সেবা মূল্য নিশ্চিতকরণ, প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ সেবায় নিয়োজিত সকল ভ্যান গাড়িকে কেসিসির নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সেবার আওতাবহির্ভূত এলাকা, সড়ক ও পরিবার চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে সমগ্র মহানগরকে ধাপে ধাপে শতভাগ প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া আলোচ্য বিষয়গুলো বাস্তবায়নে ওয়ার্ড পর্যায়ের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কঞ্জারভেন্সি বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরাসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কঞ্জারভেন্সি বিভাগরে কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। সঞ্চালনা করেন এসএনভির কাস্টার কো-অর্ডিনেটর উজ্জ্বল কুমার দাস।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি সড়কের জায়গা দখল করে বাড়ির দেওয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৫ নম্বর বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহমুদাবাদ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাহারিয়ার পাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন সাহেবানি সড়কে এ নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নকশায় সড়কটির প্রস্থ ২৪ ফুট হলেও বিভিন্ন স্থানে সড়কটি সংকুচিত করে দখলদাররা বাড়িঘর ও দেওয়াল নির্মাণ করে যাচ্ছেন। ফলে সড়কের বড় একটি অংশ বেদখল হওয়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে দীর্ঘদিনের সামাজিক বিরোধ।
এ ঘটনায় স্থানীয় যুবক মো. ইব্রাহিম সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের তীর স্থানীয় ব্যবসায়ী মৃত এরশাদ উল্যা সেরাংয়ের ছেলে জানে আলম বাবুলের দিকে।
অভিযোগকারী বলেন, সড়ক দখল করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং এলাকাবাসী উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাহারিয়ার পাড়া জামে মসজিদের উত্তর পাশে ভাড়াঘর নির্মাণের পাশাপাশি সড়কসংলগ্ন এলাকায় দেওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। সড়কের জায়গা ব্যবহার করে বাড়ি নির্মাণের পর গাইডওয়াল তৈরির সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সাহেবানি সড়কটি সরকারি নকশা অনুযায়ী ২৪ ফুট প্রশস্ত। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন স্থানে সড়কটির প্রস্থ কমে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের জায়গা ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আলমগীর বাদশাহ বলেন, সরকারি সড়ক দখল উচ্ছেদ করা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী চাপের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে প্রশাসনের উচিত দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করা। সরকারি নকশা, ডিজিটাল জরিপ ও বাস্তব সীমানা মিলিয়ে সড়কটি মেপে দখল চিহ্নিত করা গেলে দীর্ঘদিনের বিরোধেরও অবসান হবে। আর ভোগান্তি নিস্তার পাবে এলাকাবাসী।
তবে আলম বাবুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার ক্রয় করা জায়গার ওপর বাড়ি ও দেওয়াল নির্মাণ করছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে এসে আমার জায়গা পরিমাপ করে দিয়েছেন। আমি আমার জায়গাতেই দেওয়াল নির্মাণ করছি।
সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) পদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ড. শেখ শরিফুল আলম।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক লিখিত পত্রে ড. শেখ শরিফুল আলম জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিনি চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগ দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, চ্যান্সেলরের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৪ সালেল জুন পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ৩০ জুন থেকে চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ড. শেখ শরিফুল আলম।
চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারকালে ২টি ট্রাক ভর্তি ইউরিয়া সারসহ ২ পাচারকারীকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানাধীন বাঁশবাড়িয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকায় গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাটিয়ারি কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় মিয়ানমারে অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশে ট্রাক থেকে কার্গো বোটে স্থানান্তরকালে প্রায় ২১ লাখ টাকা মূল্যের ৬০০ বস্তা (৩০ হাজার কেজি) ইউরিয়া সার ও পাচার কাজে ব্যবহৃত ২টি ট্রাকসহ ২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, জব্দকৃত সার, পাচার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন মানবসম্পদ সুস্মিতা সাহা) এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইমতিয়াজ জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নৃত্য, সংগীত, অভিনয়, আবৃত্তি ও নাটক পরিবেশন করে। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
মাগুরার শালিখা উপজেলায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১১০০টি চিতল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য অভয়াশ্রমে এসব পোনা অবমুক্ত করা হয়।
Biodiversity for Resilient Livelihoods (BRL) in the Modified Ganges Delta of Bangladesh প্রকল্পের আওতায় এবং সুইডেন দূতাবাস, ঢাকা, বাংলাদেশের অর্থায়নে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাস্তবায়নে ছিল সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস)। কারিগরি ও সার্বিক সহযোগিতা ছিল উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর শালিখা, মাগুরা।
কর্মসূচির আওতায় কানুদার খাল অভয়াশ্রম, ফটকি নদীর চুকিনগর এবং ভাটোয়াইল গ্রামের নিকটবর্তী মৎস্য অভয়াশ্রমে ১০ থেকে ১১ ইঞ্চি আকারের মোট ১১০০টি চিতল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
আয়োজকরা জানান, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক উৎসে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সমাজিক অবস্থার প্রভূত উন্নয়ন করা করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা মৎস্য অফিসার সাধন চন্দ্র সরকার, সিএনআরএস ফিল্ড ম্যানেজার সরোয়ার হোসেন, শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হাসান চৌধুরী, উপজেলা মৎস্য অফিসার ওমর সানি এবং সাইট অফিসার শরিফুল ইসলাম।
এছাড়া মঘি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফখরুদ্দিন মন্ডল, আড়পড়া চুকিনগরের সদস্য প্রদীপ মণ্ডল, রাজীব মন্ডল, আরাফাত বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইলেকট্রিক মিডিয়া সাংবাদিকবৃন্দ সংশ্লিষ্টরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।