সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মরিয়ম বলছেন মায়ের লাশ, নিশ্চিত নয় পুলিশ

ফুলপুর থানায় মরিয়ম ও তার বোনেরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:৫২

ময়মনসিংহের ফুলপুরে ১২ দিন আগে গলিত অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি দাফনও করা হয়। ফুলপুরে হাজির হয়ে মরদেহটি মা রহিমা বেগমের বলে দাবি করেছেন খুলনার দৌলতপুরের মরিয়ম মান্নান। তবে মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এ পরিস্থিতিতে পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন মরিয়ম।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফুলপুরে যান মরিয়ম মান্নান। তার দুই বোন মাহফুজা আক্তার ও আদুরী আক্তার তার সঙ্গে ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফুলপুর থানায় পৌঁছলে পুলিশ অজ্ঞাত ওই নারীর ছবিসহ পরনে থাকা পোশাক দেখায় তিন বোনকে। ছবি ও পোশাক দেখেই মরিয়ম মান্নান বলেন, এটি তার মায়েরই মরদেহ।

মরিয়ম মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘২৭ দিন ধরে আমার মা নিখোঁজ। আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের মাকে খুঁজছি। এরই মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় একটি অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে এখানে ছুটে এসেছি। সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও ছবিতে আমার মায়ের শরীর, মায়ের কপাল ও হাত দেখে মনে হয়েছে এটাই আমার মা।’

তবে মরিয়মের মতো নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ। ফুলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মোতালেব চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মরিয়মের মায়ের বয়স ৫৫ বছর। আর আমরা যে গলিত মরদেহটি উদ্ধার করেছি, সেটির আনুমানিক বয়স ২৮ থেকে ৩২ বছর মনে হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনায় মরদেহটি তার মায়ের নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।’

এ অবস্থায় ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে কি না- জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মরিয়ম মান্নান ওই মরদেহটি তার মা রহিমা খাতুনের দাবি করলেও নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। চূড়ান্তভাবে মরদেহ শনাক্তে মরিয়মের ডিএনএ টেস্ট করা প্রয়োজন। এর জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে।’

মরিয়ম মান্নান জানান, গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা বণিকপাড়া থেকে নিখোঁজ হন তার মা রহিমা বেগম। পানি আনতে বাড়ি থেকে নিচে নামার পর থেকেই তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মাকে খুঁজে না পেয়ে প্রথমে থানায় জিডি ও পরে অপহরণ মামলা করেন রহিমা বেগমের মেয়েরা। এ মামলায় এরই মধ্যে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করলেও সন্ধান মেলেনি রহিমা বেগমের।

এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মরিয়ম মান্নান জানান, তার মায়ের সন্ধান পেয়েছেন।


উপাত্ত ছাড়া যেকোনো তথ্য কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক যুগে ডেটা বা উপাত্ত ছাড়া যেকোনো তথ্য কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত বা ধারণা মাত্র। সঠিক উপাত্ত ছাড়া যেকোনো জনসংযোগ বা প্রচার কৌশল ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে। তাই জনসংযোগ কর্মকর্তাদের যেকোনো বার্তা তৈরিতে সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ উপাত্তের ওপর নির্ভর করার আহবান জানান তিনি।

রোববার (২৪ মে) সকালে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের (পিআরও) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান যুগটি হচ্ছে নিখুঁত ডেটা বা উপাত্তের যুগ। আপনি মাঠ পর্যায়ে কী কাজ করছেন বা সরকারের বার্তা জনগণের কাছে কিভাবে পৌঁছাচ্ছে, তা কেবল মুখের কথায় বা ধারণার ওপর ভিত্তি করে নিরূপণ করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও সত্যতা নিশ্চিত করতে হলে তার পেছনে অবশ্যই অকাট্য উপাত্ত থাকতে হবে। উপাত্তহীন যেকোনো তথ্যকে সমাজ কেবল একজন ব্যক্তির মতামত হিসেবেই দেখবে, যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা বস্তুনিষ্ঠ মূল্য নেই।’

জনসংযোগের আধুনিকায়নে ‘সাইকোগ্রাফি’ এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট উপাত্ত বের করা অত্যন্ত সহজ। একটি তথ্যে বা সংবাদে মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন- কয়টি লাইক, ডিসলাইক বা কী ধরনের মন্তব্য আসছে, সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে জনমতের নিখুঁত গ্রাফ তৈরি করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘এই বৈজ্ঞানিক উপাত্তকে কাজে লাগিয়েই জনসংযোগ কর্মকর্তাদের পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট বা নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলা করতে হবে।’

তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরো বলেন, নিজেদের দক্ষ ‘ডিজিটাল ফোর্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও সাফল্যকে উপাত্ত বা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারলে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে যায়। উপাত্তভিত্তিক প্রচারণাই পারে বিভ্রান্তি দূর করে জনমনে সঠিক পারসেপশন বা ধারণা তৈরি করতে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম ও মো. ইয়াসীন উপস্থিত ছিলেন।


হামে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫২৮

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে ২৩ মে সকাল ৮টা থেকে ২৪ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে দেশে হাম ও হামের সদৃশ উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে এদের মধ্যে ১২৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম সংক্রমণে অন্তত ৮৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে হামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গ নিয়ে আরও ৪৪২ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

ডিজিএইচএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত সময়কালে সারাদেশে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৮ হাজার ৬২২ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।

সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্যমতে, দেশব্যাপী এ পর্যন্ত মোট ৬৩ হাজার ৮১৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৬ হাজার ২১৪ জন রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে আক্রান্ত অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।


সমুদ্রে তেল-গ্যাস মিললে তা উন্নয়নের বড় নিয়ামক হবে: জ্বালানি মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হোসেন মাহমুদ বলেছেন, জ্বালানি ছাড়া দেশের উন্নয়ন হয় না। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই গ্যাস অনুসন্ধানের চুক্তি করা হবে। এই দরপত্রের মাধ্যমে সমুদ্রে তেল বা গ্যাস পাওয়া গেলে, তা দেশের উন্নয়নের বড় নিয়ামক হবে। বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বানের বিষয়ে রোববার (২৪ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা তিনি বলেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করে স্বচ্ছতার সঙ্গে সবকিছু করা হচ্ছে। দরপত্রে অংশ নিতে ইচ্ছুক অনেকে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। এবারের দরপত্র বেশ অংশগ্রহণমূলক হবে।

গত বছরের দরপত্রে কোনো কোম্পানি অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে আছে এবং বিনিয়োগকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে অংশ নেবে বলে তিনি আশা করেন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের প্রতি আস্থা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিদেশি কোম্পানির আগ্রহ বাড়াতে উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) ২০২৬ সংশোধন করে কিছু সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিনিয়োগ আকর্ষণে এবার কী চমক থাকছে, এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘চমক হলো বিএনপি সরকার।’

অতীতে কয়েকটি কোম্পানি কাজ শুরু করেও শেষ না করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কী হবে, তা বলা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দিনের একটা জট খুলল। দেশের সম্পদ মাটির নিচে রেখে আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়েছে। সমুদ্র বিজয়ের নামে অনেক লাফালাফি হলেছে, কিন্তু সমুদ্র থেকে সম্পদ আহরণের কথা ভুলে গিয়েছিল। যাদের সঙ্গে সমুদ্র বিজয় হয়েছে, তারা গ্যাস আবিষ্কার করে ব্যবহার করছে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় জ্বালানি খাত বেহাল ছিল। এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আজ জ্বালানি খাতের জন্য একটি আনন্দের দিন। ছয়টি জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করে আজ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এটি সব দূতাবাসেও পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, অতীতের দরপত্রে যেসব ত্রুটিবিচ্যুতি ছিল, সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই জ্বালানি খাতে যে সব ঝুঁকি আছে, তা দূর করা হবে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছর সাতটি কোম্পানি দরপত্র সংগ্রহ করলেও কেউই জমা দেয়নি। এরপর কারণ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মতামত নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে গত এক বছর গবেষণা করা হয়েছে। এরপর পিএসসি সংশোধন করা হয়েছে।


১০ মাসে বিদেশি ঋণ শোধ ৩৮০ কোটি ডলার

আপডেটেড ২৪ মে, ২০২৬ ২৩:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ আরও বেড়েছে। কয়েক বছর আগে থেকে এই চাপ বাড়তে শুরু করে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই (জুলাই-এপ্রিল) বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানসহ দাতাদের ঋণ শোধের পরিমাণ ৩৮০ কোটি ডলার।

রোববার (২৪ মে) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জুলাই–এপ্রিলের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখা গেছে, ওই ১০ মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে এসেছে ৪২৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় থাকা প্রকল্পের অনুকূলে দাতাদের কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার। এর হিসাব ইআরডি করে থাকে।

কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েছে। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো চার বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, একই ধারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হলে এ বছর বিদেশি ঋণ শোধের পরিমাণ সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার পার হতে পারে।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই–এপ্রিল) বিদেশি ঋণের আসল ২৪৭ কোটি ডলার ও সুদ ১৩৩ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। অন্যদিকে ৩৮৪ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে ও ৩৯ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ২৮০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৪২৬ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল। গত এপ্রিলে বিদেশি ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি মেলেনি।


সীতাকুণ্ডের নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার ১৮ ঘণ্টা পর রিফাত শেখ (১৬) নামের এক পর্যটক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। নিহত রিফাত কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকার মোহাম্মদ খায়রুল শেখের ছেলে এবং স্থানীয় গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৩ মে) বিকেলে কুমিল্লা থেকে ৫ বন্ধুর একটি দল গুলিয়াখালী বীচে বেড়াতে আসে। বিকেল চারটার দিকে তারা সাগরে সাঁতার কাটতে নামলে হঠাৎ জোয়ারের তীব্র স্রোতে ৫ জনই ডুবতে শুরু করে। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বোট চালকেরা দ্রুত এগিয়ে এসে ৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও রিফাত নিখোঁজ হয়।

সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে শনিবার (২৩ মে) বিকেল থেকেই ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করে, তবে রাতে বৈরী আবহাওয়া ও অন্ধকারের কারণে অভিযান স্থগিত করা হয়। পরে রোববার (২৪ মে) ভোরে পুনরায় অভিযান চালিয়ে সকাল সাড়ে আটটার দিকে রিফাতের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সমুদ্র সৈকতে প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।


নদীর পাড়েই বৃদ্ধার ১৯ বছরের জীবনযুদ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় মাথা গোঁজার এক টুকরো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে বলেশ্বর নদীর পাড়ে প্রকৃতির সাথে লড়াই করে চলেছেন ৪৩ বছর বয়সী রেকসোনা বেগম।

২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী সিডরের আগে থেকেই স্বামী পরিত্যক্তা এই নারী তার বৃদ্ধা মা ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে সাউথখালী ইউনিয়নের রায়েন্দা গ্রামে নদীর পাড়ে অস্থায়ী খুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

নদী ভাঙনের তীব্র ঝুঁকি ও চরম অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে তিনি নদীর পাড়ে ছোট একটি চায়ের দোকান চালান এবং মাঝেমধ্যে নদীতে রেনু পোনা ধরে সংসার চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বর্তমানের লাগামহীন খরচের বাজারে সেই সামান্য আয়ে তিনজনের সংসার ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

অশ্রুসজল চোখে রেকসোনা বেগম জানান, স্বামী চলে যাওয়ার পর থেকে সব দায়িত্ব তার একার কাঁধে। আগে স্বামীর রেখে যাওয়া কিস্তির টাকা শোধ করতেই তার সব শেষ হয়ে গেছে, এখন নতুন করে ঘর তোলার মতো কোনো সামর্থ্য তার নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই সংগ্রামী নারীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য সংস্থার প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।


চুয়াডাঙ্গায় সোয়া কোটি টাকার স্বর্ণসহ চোরাকারবারি আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

দামুড়হুদা সীমান্ত এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ১ কোটি ২১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা মূল্যের ৫টি স্বর্ণের বারসহ মো. বাপ্পি (২৭) নামের এক চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডুগডুগি গ্রামের কলোনিপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল যোগে বাপ্পি ওই এলাকা পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি তাকে থামার নির্দেশ দেয়। সে নির্দেশ অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করে ৬০০ গ্রাম ওজনের ৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক বাপ্পি স্বীকার করেছে স্বর্ণগুলো ভারতে পাচারের উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছিল।

জব্দকৃত স্বর্ণ চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে এবং আসামিকে মোটরসাইকেলসহ দামুড়হুদা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


ভ্রমণপিপাসুদের বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইতোমধ্যে অধিকাংশ নামি-দামি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের রুম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়।

সবুজ চা বাগান, পাহাড় আর বনের মিতালিতে গড়া কমলগঞ্জ উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলো প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে মুখরিত থাকে লাখো পর্যটকের পদচারণায়। এবারও এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মাঝে সবচেয়ে নান্দনিক ও আকর্ষণীয় এই উদ্যান। বন্যপ্রাণী ও বিলুপ্তপ্রায় জীব ‘উল্লুক’ দেখার পাশাপাশি সবুজ প্রকৃতির মাঝে বুক ভরে শ্বাস নিতে প্রতিবারই এখানে ঢল নামে পর্যটকদের।

চা বাগানের বুক চিরে গড়ে ওঠা প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হ্রদের স্বচ্ছ পানি আর বিরল বেগুনি শাপলার সমাহার ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

এ ছাড়া মাধবপুর লেক থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে অবস্থিত দেশের এক শ্রেষ্ঠ সন্তানের স্মৃতিসৌধ দেখতে ভিড় করবেন হাজারো দেশপ্রেমিক জনতা।

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য রাজকান্দি বন রেঞ্জের কুরমা বনবিটের প্রায় ১৬০ ফুট উচ্চতার ‘হামহাম’ জলপ্রপাত দারুণ এক গন্তব্য। দুর্গম পাহাড় ও ছড়ার পানি পাড়ি দিয়ে এই জলপ্রপাত দেখতে ইতোমধ্যেই বুকিং দিয়েছেন তরুণ পর্যটকরা।

এ ছাড়াও বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ মণিপুরি সম্প্রদায়, মাগুরছড়া ও ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, শমশেরনগর বিমানবন্দরসংলগ্ন বধ্যভূমি, দৃষ্টিনন্দন বিএএফ শাহীন কলেজ এবং ব্রিটিশ আমলের তিলকপুর নীলকুঠি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

স্থানীয় ট্যুর গাইড মো. আহাদ মিয়া বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে মুখরিত থাকবে দর্শনীয় স্থানগুলো। ইতোমধ্যেই অনেকে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং গাইড বুকিং দিয়েছেন। আমরা পর্যটকদের বরণ করে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, মৌলভীবাজারের প্রধান প্রধান হোটেল ও রিসোর্টের অধিকাংশই শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। এখানে পাঁচতারকা মানের দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, গ্র্যান্ডসুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়াম, লেমন গার্ডেন, নভেম ইকো রিসোর্ট, টি হ্যাভেন এবং বালিশিরা রিসোর্টসহ প্রায় ১০০টি হোটেল-মোটেল ও কটেজের অধিকাংশ রুমই ইতোমধ্যে বুক হয়ে গেছে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ জানান, পর্যটকদের আগাম বুকিংয়ের যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আশা করা যাচ্ছে ঈদের ছুটিতে কোনো রুমই খালি থাকবে না। পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ওসি কামরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় তারা শতভাগ প্রস্তুত।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘টানা ছুটির এই সময়ে পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও টহল জোরদার থাকবে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কমলগঞ্জ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি। এর পর্যটন স্পটসমূহ অতিথিদের বরণ করতে প্রস্তুত। ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে।’


নলছিটিতে যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় আমিনুল ইসলাম বাবু (২৭) নামের এক যুবকের কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে।

নিহত আমিনুল ইসলাম বাবু উপজেলার নাচনমহল গ্রামের মো. আলমগীর হোসেন তালুকদারের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৩ মে) রাত ৯টার দিকে আমিনুল বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। রোববার (২৪ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার কুড়ালিয়া গ্রামের কৃষ্ণকান্ত রায়ের বাড়ির পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে নলছিটি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নলছিটি থানার ওসি মো. আরিফুল আলম জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপের গভীর চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।


মেঘনা নদীপথের শীর্ষ নৌডাকাত গ্রেপ্তার, লাখ টাকা উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

মেঘনা নদীপথের ত্রাস ও শীর্ষ নৌডাকাত দ্বীন ইসলাম ওরফে ধীরাকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে ভৈরব নৌপুলিশ। রোববার (২৪ মে) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ডাকাতির ১ লাখ ৭০ হাজার ১৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বিকেলে তাকে কিশোরগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মে ভোর ৫টার দিকে ভৈরব বাজারের ‘এনএম ব্রাদার্স’ নামের একটি বাদাম ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকসহ ১০ জন কর্মচারী নৌকাযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাইশমৌজা বাজারের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৬টার দিকে তাদের নৌকাটি আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা এলাকায় পৌঁছালে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে ডাকাত দল তাদের ওপর হামলা চালায়।

ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে বস্তায় থাকা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ভৈরব নৌ পুলিশ দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাঝনদী থেকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ওই দিন দুপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক শামীম আহমেদ বাদী হয়ে ভৈরব নৌ থানায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা করেন।

মামলার এক সপ্তাহের মাথায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শীর্ষ ডাকাত ধীরাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

ভৈরব নৌ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, দ্বীন ইসলাম ওরফে ধীরা মেঘনা নৌপথের অন্যতম শীর্ষ ডাকাত। তার নেতৃত্বেই মূলত এই নদীপথে বড় বড় ডাকাতি সংঘটিত হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে গত ১৬ মে বাদাম ব্যবসায়ীদের ৩৫ লাখ টাকা ডাকাতির কথা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার ১৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


পাবনার হাট কাঁপাচ্ছে ৪০ মণের ‘সাদা সুলতান’, দাম ১৫ লাখ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পাবনার কোরবানির পশুর হাটে প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ‘পাবনার সাদা সুলতান’ নামের এক বিশাল আকৃতির ষাঁড়। ধবধবে সাদা রঙের প্রায় ৬ ফুট উচ্চতা আর ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই হলস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির ওজন দাবি করা হচ্ছে প্রায় ৪০ মণ (১ হাজার ৬০০ কেজি)। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা এই দানবীয় পশুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। বিশাল এই ষাঁড়টিকে একনজর দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন খামারির বাড়িতে।

মায়ের অসুস্থতায় প্রবাস ছেড়ে খামারি ও সফল উদ্যোক্তা: ষাঁড়টির মালিক পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের হামিদপুর মধ্যপাড়া গ্রামের ফারুক হোসেন সরদার। ২০০৩ সালে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পরিবারের হাল ধরতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেখানে আট বছর ভালোই কাটছিল। কিন্তু ২০১১ সালে মায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে সবকিছু ফেলে দেশে ফিরে আসেন ফারুক।

দেশে এসে কর্মসংস্থানের তাগিদে ছোট পরিসরে শুরু করেন গরুর খামার। চার বছর আগে তার খামারের একটি গাভী থেকে এই সাদা বাছুরটির জন্ম হয়। তখন থেকেই পরম যত্নে সেটিকে বড় করতে থাকেন তিনি। বর্তমানে ফারুকের খামারে ২০টি গরু রয়েছে। পাশাপাশি তার একটি মাছ ও মুরগির খামারও রয়েছে।

রাসায়নিকমুক্ত সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পালন: খামারি ফারুক হোসেন সরদার বলেন, ‘বিদেশ থেকে ফেরার পর দেশে কোনো কাজ ছিল না। শূন্য থেকে এই খামার গড়ে তুলেছি। এই ষাঁড়টিকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, ভূষি, ছোলা, যব, গম ও কাঁচা ঘাস খাইয়ে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। চার বছর ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করে একে বড় করেছি। এখন বিক্রির সময় মায়া লাগছে। তবে ভালো দাম পেলে বিক্রি করতে হবে। কোনো ক্রেতা যদি ১৫ লাখ টাকায় এটি কেনেন, তবে উপহার হিসেবে তাকে একটি খাসি ফ্রি দেওয়া হবে।’

ফারুকের এই সাফল্যে সমান অংশীদার তার স্ত্রী মুনতাহিনা আক্তার। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘চারটা বছর দিন-রাত একে সন্তানের মতো দেখভাল করেছি। এখন একটা গভীর মায়া পড়ে গেছে। ও যেখানেই যাক, যেন ভালো থাকে—এই দোয়াই করি।’

স্থানীয় প্রতিবেশী আবদুল্লাহ খান জানান, সাদা রঙের এত বড় এবং সুন্দর গরু এই এলাকায় এর আগে কেউ কখনও দেখেনি। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষ এটি দেখতে আসছে এবং পাইকাররাও দরদাম করছেন।

চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত পাবনায়: পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম জানান, খামারি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মে ষাঁড়টি মোটাতাজা করেছেন। আশা করা হচ্ছে, তিনি বাজারে ভালো দাম পাবেন। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পাবনা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি। এর বিপরীতে জেলার ৩৩ হাজার ৪০টি খামারে কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি—যা চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫টি গরু এবং ৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৭টি ছাগল ও ভেড়া রয়েছে।


ফরিদপুরে অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে জেলা পরিষদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফরিদপুরে অসহায়, দুস্থ, অসুস্থ ব্যক্তি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ। রোববার (২৪ মে) বেলা ১১টায় শহরের কবি জসীমউদ্দীন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই অনুদান বিতরণ করেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন ও নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম সানজিদা সুলতানা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল এবং যুবদল নেতা রুবেল হোসেন দুলালসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।


কেঁচো চাষে সফলতার গল্প: গৃহিণী থেকে উদ্যোক্তা বনানী রানী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সংসারের কাজের ফাঁকে অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে ভাগ্যবদল করেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বয়াতিরহাট ছোটশিংগা গ্রামের গৃহিণী বনানী রানী। দীর্ঘ ১৬ বছরের কঠোর পরিশ্রমে তিনি আজ একজন সফল ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনকারী উদ্যোক্তা।

চার সদস্যের দরিদ্র পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় ১৬ বছর আগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহায়তায় মাত্র দুটি রিং ও এক মুঠো কেঁচো নিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুরুতে বাজারজাতকরণে সমস্যা ও নানা সামাজিক কটূক্তির শিকার হয়ে কাজ বন্ধ রাখলেও তিনি দমে যাননি।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে নিজের পণ্যের প্রচার শুরু করলে সারের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। এরপর কৃষি বিভাগ ও গণস্বাস্থ্যের সহায়তায় তিনি স্থায়ী খামার গড়ে তোলেন। গোবর ও কলাগাছ ব্যবহার করে তৈরি এই জৈব সার বিক্রি করে তিনি এখন বছরে প্রায় ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা আয় করছেন।

বনানী রানী জানান, নানা বাধা ও শত্রুতার শিকার হলেও আজ তার সার ছাদ বাগান ও কৃষকদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়। ভবিষ্যতে তিনি এই খামার আরও বড় করে দেশের বাইরেও সার রপ্তানি করতে চান।


banner close