রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রহরীকে মারধরের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

ইউএনও সমর কুমার পাল। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:৫৬

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে নৈশপ্রহরীকে মারধরের অভিযোগে জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। বগুড়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ডিসি জিয়াউল হক জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনা জানার পর মৌখিকভাবে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন আহমেদকে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সদর ইউএনওর ওপর অভিযোগের বিষয়ে আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এখনো লিখিত কোনো নির্দেশনা আসেনি। লিখিত আসার পরই আমি যথাযথ নিয়ম মেনে প্রতিবেদন জমা দেব।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরের ইউএনও সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে আলমগীর হোসেন নামের এক নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে গুরুতর আহতের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের পর তাকে উপজেলা পরিষদের ক্যাম্পাসে ফেলে রাখা হয়। তবে ইউএনওর দাবি, ‘তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। সে সিমপ্যাথি নেয়ার জন্য এমন অজুহাত দেখাচ্ছে।’

আলমগীর হোসেন সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের নৈশপ্রহরী। তিনি সিরাজগঞ্জ সদরের মেহের আলীর ছেলে। বর্তমানে চাকরির সুবাদে উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের কোয়ার্টারে থাকেন।

বৃহস্পতিবার শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর বলেন, ‘আমার স্ত্রী বগুড়ায় আমার সঙ্গে থাকতে চায়। এ নিয়ে ১৫ দিন আগেও উপজেলা প্রকৌশলী স্যারের কাছে কমপ্লেইন দিয়েছে। এইটা নিয়ে স্যার আমাকে তিনবার শোকজ করছেন। আমি জবাব দিছি। আজ ইউএনও স্যারের কাছে বউ গিয়ে আবার কমপ্লেইন দেয়।’

আলমগীর হোসেন আরও জানান, ‘এই কমপ্লেইনে ইউএনও স্যার আমাকে তার অফিসে ডাকে। আমি গেলে আনসার সদস্যরা আমাকে ধরে তার (ইউএনও) কাছে নিয়ে আসে। আর লাঠিও আনে তারা। ইউএনও স্যার এসে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে। ওই সময় তার দেহরক্ষী দুই আনসার সদস্য আমাকে ধরে রেখেছিল। আমি অনেক কাকুতি-মিনতি করেছি, আমাকে যেন না মারে। বলছি, স্যার আমি আপনার স্টাফ। কিন্তু স্যার আমাকে মারতেই থাকে। একবার অচেতনও হয়ে পড়ি।’

তবে মারধরের ঘটনা সত্য নয় বলে দাবি করেন সদর ইউএনও সমর কুমার পাল। তিনি বলেন, ‘আলমগীর সদর উপজেলা প্রকৌশল অফিসের নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরি করে। কিছুদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝামেলা চলছে। আলমগীর তার বউকে উপজেলা ক্যাম্পাসে এনেছে। রাত্রিযাপন করেছে। কিন্তু বউকে এখানে রেখে সে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়টি গত বুধবার জানতে পারি।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে আলমগীরের স্ত্রীকে উপজেলার সিঁড়ির মধ্যে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখি। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি তার মেয়ের বাড়ি মাঝিড়াতে। এ কথা শুনে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সেখানে পাঠিয়ে দিই। এখন এ ঘটনার পরে আজ (শুক্রবার) বিকেলে আলমগীর দেখি কোথা থেকে আসে। আমি তাকে ডেকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছি। আর তাকে বলেছি তুমি এই সমস্যা সমাধান না করে এখানে আসবা না। এ ছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীকেও বলে দিয়েছি, ভাই এই ছেলেকে আপনি বদলি করেন।’

সমর কুমার পাল আরও বলেন, ‘এরপর দেখি সিমপ্যাথি নেয়ার জন্য আলমগীর আমগাছের নিচে শুয়ে পড়ে। সবাইকে বলছে তাকে মারধর করা হয়েছে। অনেকেই তার এ কাজে ইন্ধন দিচ্ছে। কিন্তু আমার দিক থেকে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

আলমগীরের স্ত্রী শহীদা বেগম কোনো অভিযোগ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, ‘তাকে তো আলমগীর ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল। আমি পরিষদের নিরাপত্তার কারণে, সুনাম রক্ষার জন্য তাকে মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। কোনো অভিযোগের বিষয় নেই।’


নির্বাচিত

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা: পুলিশ সুপার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২৯
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার জানান, পরিবারের সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে। এতে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন নামের এক তরুণ অপ্রতীমকে সাথে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলের দিকে যাচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের আগেই সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন তুহিনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে যে, অপ্রতীমের আইফোনটি হাতিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে ওই নির্জন স্থানে নেওয়া হয়েছিল। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ফাহাদ এবং ফাহাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কামরুল নামের অপর সহযোগীকে আটক করে। প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরবর্তীতে তুহিনের দেখানো মতে তার নিজ বাড়ি থেকে অপ্রতীমের ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিয়াম নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে তার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে জেলা পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নির্জন বনে অপ্রতীমের ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল শক্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘাতকেরা ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে এবং আলোচিত লামিসা হত্যা মামলার মতো এ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াও যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সে ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের মাধ্যমে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।


নির্বাচিত

আওয়ামী লীগ সমর্থকের বাড়িতে ভূরিভোজ, ওসি প্রত্যাহার

আবদুর রহিম সরকার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সেনবাগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে অংশ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম সরকার। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রত্যাহারের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়। এরই মধ্যে উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থক ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাড়িতে গিয়ে ওসির ভূরিভোজে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

বর্তমানে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শনিবার সন্ধ্যায় ওসি আবদুর রহিম সরকারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হলে তিনি থানা ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার জানান, এক ব্যক্তির বাড়িতে দাওয়াত খাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষাপটেই ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

অপ্রতীম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৪
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

অবরোধ চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। এর ফলে মহাসড়কের ওই অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতীমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ১১টায় গন্ধমতি এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন।


নির্বাচিত

গাজীপুরে সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুনে ৩৮ ঘর পুড়ে ছাই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর সদর উপজেলায় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৮টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ঘরগুলোতে থাকা আসবাবপত্রসহ যাবতীয় মালামাল ভস্মীভূত হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার বানিয়াচালা মধ্যপাড়া এলাকায় জাহাঙ্গীর হোসেনের মালিকানাধীন একটি ভাড়া বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বিভিন্ন কারখানার কাজ শেষ করে ভাড়াটিয়ারা রাতে রান্নাবান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় একটি ঘরের রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন পাশাপাশি থাকা অন্য কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান এবং ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি দল ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কারখানা ছুটির পর ভাড়াটিয়ারা রান্নার সময় সিলিন্ডারের ছিদ্র থেকে আগুনের বিস্তার ঘটে। এতে ঘর ও মালামালসহ আনুমানিক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া স্বপ্না আক্তার আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, কাজ থেকে ঘরে ফিরে হঠাৎ তারা আগুন দেখতে পান এবং ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই চোখের পলকে তাদের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের সার্বিক বিষয়ে রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মুহাম্মদ আবু সায়েম মাসুম জানান, রাত সাড়ে ৮টায় খবর পাওয়ার পরপরই তাদের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং রাত ১১টা ২০ মিনিটে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকেই এ দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।


নির্বাচিত

মধ্যরা‌তে দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী লোকাল বাসে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দৌলতদিয়া থেকে কুষ্টিয়া রুটে চলাচলকারী ‘মা ক্লাসিক পরিবহন’-এর বাসটি টার্মিনালে পার্কিং করা ছিল। মধ্যরাতে হঠাৎ বাসটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে বাসটির সিংহভাগ অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম জানান, আগুনে বাসটির ভেতরের আসন ও ডেকোরেশন সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ঘটনাটি বাসের নিজস্ব যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটেছে নাকি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।


নির্বাচিত

কুবিতে অপ্রিতমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে এই জানাজা সম্পন্ন হয়।

উক্ত জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শরিক হন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জানাজা শেষে অপ্রতীমের মরদেহ গন্ধমতী ঈদগাহ ময়দানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তার দাফন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

জানাজা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীন বলেন, "অপ্রতীম আমাদেরই সন্তান এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সদস্য। আমরা চাই আমাদের অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু বিচার হোক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বিজয় ২৪ হল পর্যন্ত রাস্তায় সিসিটিভি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

শোকার্ত বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার ছেলে কুমিল্লার আবহাওয়ায় আপনাদের ছায়ায় বড় হয়েছে। আমার ছেলে যদি কোনো ভুল করে তাহলে মাফ করে দিবেন এবং আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।"

উল্লেখ্য, নিখোঁজ হওয়ার পরদিন গতকাল সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সানন্দা পশ্চিমপাড়া লালমাই পাহাড়ি এলাকা থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।


নির্বাচিত

সাগরে লঘুচাপ, দেশের ৮নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

উত্তর আন্দামান সাগর ও এর সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের অন্তত আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত আবহাওয়ার বার্তায় বলা হয়, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সাথে এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল থেকে ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সকালের দিকে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ এবং তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গতকাল রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় ঢাকার দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

সারাদেশের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, নেত্রকোনা, কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বরিশালের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।


নির্বাচিত

পটুয়াখালীতে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৩৫

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ৩৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন পায়রা পেট্রোল পাম্পের মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনার তালতলী থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি নৈশকোচ পায়রা পেট্রোল পাম্প এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উভয় যানবাহনই সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায় এবং অটোরিকশাটি বাসের নিচে চাপা পড়ে সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথ উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে অটোরিকশার তিন আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেকার দিয়ে খাদ থেকে বাসটি তোলার পর তার নিচ থেকে আরও একজনের মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৫), বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের তিথী (২৩), গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের কাইয়ুম প্যাদা (৫০) এবং একই উপজেলার চার আনি বাউরিয়া গ্রামের শিল্পী রানী (৪০)। দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীরা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উদ্ধার তৎপরতা সম্পর্কে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বেল্লাল হোসেন জানান, পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি তোলার পর তলদেশ থেকে সর্বশেষ মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


নির্বাচিত

মহিপুরে আপন বোনসহ ৪ শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 মো: আল ইমরান, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন ৭নং লতাচাপলি ইউনিয়নের ডঙ্কুপাড়া গ্রামে আপন বোন জান্নাতী সহ চার শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে হাসান (১৫) নামের এক কিশোর কে গ্রেফতার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদের পাশের গলি থেকে এস আই জাকির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযুক্ত কিশোর হাসান কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪. ০০ টার দিকে শিশু ধর্ষণ চেষ্টাকারী অভিযুক্ত হাসান(১৫) পিতাঃ শহিদ হাওলাদার এর নিজ বসত বাড়িতে আপন বোন জান্নাতি(০৮) সহ প্রতিবেশি ও খেলার সাথী লাবনী (০৬),মোসাঃ হামিদা(০৯),মুসফিকা(০৮) কে ধর্ষণ চেষ্টা চালায়।

এ ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন হাসানকে শারিরীক আঘাত সহ মাথার আংশিক চুল কেটে দেয়।যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে ভিকটিম লাবনীর মা মোসাঃ জাকিয়া বেগম বাদী হয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মহিপুর থানায় নারী ও শিশু আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরবর্তী সময়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভিকটিম লাবনী ও হামিদা বিজ্ঞ আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।

এবিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম হাওলাদার বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু আইনে মামলা হয়েছে এবং এস আই জাকির হোসেনর নেতৃত্বে মহিপুর থানা পুলিশের একটি টীম অভিযুক্ত কিশোর হাসান কে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ও আদালতে প্ররনের প্রক্রিয়া চলমান।


নির্বাচিত

 ‘ভাত চুরি’র অভিযোগ এনে ভার্সিটির ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা

ছবি: শিক্ষার্থী আজমল
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা নগরের এক ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরির’ অপবাদ দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজমল নামের এ শিক্ষার্থীকে মারধরের পর ভবনের চারতলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

নিহত আজমল খুলনার হরিণটানা থানার গল্লামারী এলাকার বাসিন্দা। হাসপাতালের ভর্তি নথিতে তার বাবার নাম কুতব উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আজমল নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে তিনি আহত হয়েছেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের এক ওয়ার্ডবয় জানান, আজমলকে সঙ্গে করে নিয়ে আসা ব্যক্তিরা তখন দাবি করেন, চুরির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ার ভয়ে আজমল ভবনের চারতলা থেকে লাফ দেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার মৃত্যুর খবর জানার পর নিজেদের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিরা দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাত ও পায়ে দাগের পাশাপাশি মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। এসব আলামত থেকে তাকে মারধর করা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে আঘাতগুলো পড়ে যাওয়ার কারণে হয়েছে, নাকি তার আগে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

স্থানীয় বাড়ির মালিক আবু বকর দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তারা সংশ্লিষ্ট কক্ষে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। তার দাবি, আজমলকে ছাদে নিয়ে নির্যাতনের পর সেখান থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আজমল পাশের একটি কক্ষে থাকতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ওই অংশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বসবাস করেন। প্রাথমিকভাবে আজমলের মৃত্যুর ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় যুবকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বলেন, আজমুল ২০২৫ সালে ও কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি। মাত্র ১০ দিন আগে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বাড়ি যায়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনায় আসে। রাত ৯টার দিকে ফোনে তাদের সঙ্গে আজমুলের শেষ কথা হয়। তখন সে বলেছিল, আমি ভালো আছি। তোমরা আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না।

তিনি বলেন, রাত ১২টার পরে আমার ছেলের মোবাইল ফোন দিয়ে অন্য একটি ছেলে ফোন দেয়। বলে, আপনার ছেলে ঝামেলা করেছে। তাকে পেতে হলে দ্রুত এক লাখ টাকা নিয়ে আসেন। টাকা না আনলে আপনার ছেলেকে পাবেন না। তখন আমি বলি, আমরা গরিব মানুষ, এক লাখ টাকা কোথায় পাব? তখন সে বলে, আপনি কী করেন? আমি তাকে বলি, আমি কৃষিকাজ করি। তখন সেই ছেলে আবার বলে, আপনি দ্রুত চলে আসেন। তখন আমি বলি, আমি ট্রেনে দ্রুত আসছি। সে বলে, আপনি ট্রেনে আসবেন, না বাসে আসবেন, না প্লেনে আসবেন, সেটা আপনার ব্যাপার। তারপর সকালে এসে দেখি, আমার ছেলে আর বেঁচে নেই।

কান্না জড়িত কণ্ঠে কুতুব উদ্দিন বলেন, আমি কার কাছে এ বিচার দেব? আমি কারো কাছে বিচার দেব না। আমরা গরিব মানুষ। বাড়ি অনেক দূরে। আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আজমলকে ছাদে নিয়ে মারধরের পর সেখান থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগেরও চেষ্টা চলছে।


নির্বাচিত

আইনজীবীদের মানবিকতার গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আইন পেশায় শুধু অর্থ উপার্জনই শেষ কথা নয়; পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন আইনজীবীকে মানবিক হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) ‘এনএসইউ ল ফেস্ট সিজন-৩’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো মানুষ বিপদে পড়ে যখন আইনজীবীর কাছে আসেন, তখন তিনি ওই আইনজীবীর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন। সেই আস্থার মর্যাদা দেওয়া আইনজীবীর দায়িত্ব। মক্কেলের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে প্রয়োজনে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, একজন আইনজীবী একই সঙ্গে মক্কেলের প্রতি দায়বদ্ধ এবং আদালতের একজন কর্মকর্তা। মক্কেলের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আদালতকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা আইনজীবীর অন্যতম দায়িত্ব। তাই আদালতের প্রতিও আইনজীবীকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

আইন পেশায় সফল হতে পড়ালেখা ও কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, একজন ভালো আইনজীবী হতে হলে সততা, দক্ষতা, পেশাগত দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, আইনজীবীর কাছে আসা প্রতিটি মক্কেলই তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত জীবনে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগকেও গুরুত্ব দিতে হবে। একজন আইনজীবীর কাছে মানুষ ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা নিয়ে আসেন। সেই প্রত্যাশা পূরণে আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধও ধারণ করতে হবে।

আইনজীবীদের সমাজের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সমাজের পরিবর্তন ও বিকাশে আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন পেশায় প্রবেশের পর যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নতুন আইনজীবীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

তরুণ আইন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য শিক্ষাজীবন থেকেই আইন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ল অ্যান্ড মুটিং সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘এনএসইউ ল ফেস্ট সিজন-৩’-এ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। উৎসবে আইনবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, বোর্ডের সদস্য এম. এ. কাশেম ও বেনজীর আহমেদ, স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম এবং আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ল ফেস্টের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। এতে আইন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, পেশাগত দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যতে আইন পেশায় নিজেদের প্রস্তুত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।


নির্বাচিত

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে সিভিল সার্জন, সেবার মানোন্নয়নে সন্তুষ্টি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে সিভিল সার্জন চিকিৎসাসেবার মান ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ (আউটডোর), পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, রান্নাঘরসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে খোঁজ নেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হয়ে তিনি সেগুলো সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানান।

পরিদর্শন শেষে জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, “গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি। আমার কাছে মনে হয়েছে, গোয়ালন্দের চিকিৎসাসেবা আগের তুলনায় অনেকটাই উন্নত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে আমাদের অতিরিক্ত সহকারী পরিচালক এসেছিলেন। তিনিও হাসপাতালটি পরিদর্শন করে গেছেন।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. রোমেল হাসানসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান সিভিল সার্জনের পরিদর্শনকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের নিয়মিত ও তদারকি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্প্রতি কয়েকটি নতুন সেবা যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ইসিজি সেবা চালু, রয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস পরীক্ষাসহ এক্স-রে ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা হাসপাতালেই পাওয়া যাচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এসব সেবা চালুর ফলে স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জেলা সিভিল সার্জন।


নির্বাচিত

নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়কে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে বাঞ্ছারামপুরের কড়ইকান্দি ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে রয়েছে ১৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। কোথাও সড়ক সরু, কোথাও খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অংশ। অনেক স্থানে দুটি যানবাহন পাশাপাশি চলাচল করাও কঠিন। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এ পথে যাতায়াতকারী মানুষ ও যানবাহনকে।

নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর, মুরাদনগর ও কসবা উপজেলার মানুষের একটি বড় অংশ এই সড়ক ব্যবহার করে কড়ইকান্দি ফেরিঘাটে পৌঁছান। এরপর মেঘনা নদী ফেরিতে পার হয়ে আড়াইহাজার হয়ে তারা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের সংকীর্ণতা, অসংখ্য বাঁক এবং ফেরিঘাটে অপেক্ষা—এই তিন কারণে তাদের যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকামুখী যাত্রায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হয় না।

দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতে ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি প্রশস্ত ও টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সরলীকরণ করার কথা রয়েছে।

প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নতুন অ্যালাইনমেন্ট ও বাঁক সরলীকরণের ফলে বর্তমানে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি কমে প্রায় সাড়ে ৩২ থেকে ৩৩ কিলোমিটারে নেমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে একদিকে পথের দূরত্ব কমবে, অন্যদিকে যাতায়াত আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আরেকটি দাবি মেঘনা নদীর ওপর কড়ইকান্দি-বিশনন্দী সেতু নির্মাণ। প্রায় ৩ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত এই সেতু নির্মিত হলে ফেরিনির্ভরতা কমবে এবং ঢাকা ও আশপাশের জেলার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘ভুলতা-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর সড়কের প্রকল্পটি মোট পাঁচটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। আরেকটি প্যাকেজের কম্পারেটিভ স্টেটমেন্ট (সিএস) প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে আড়াইহাজার-বিশনন্দী-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর সড়কের দুরবস্থার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও তুলে ধরেছেন নবীনগর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু সড়ক নির্মাণ বা সংস্কার নয়, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন এবং মেঘনা নদীর ওপর প্রস্তাবিত কড়ইকান্দি-বিশনন্দী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ—সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের মতে, এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে নবীনগরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।


নির্বাচিত

banner close