বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রহরীকে মারধরের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

ইউএনও সমর কুমার পাল। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:৫৬

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে নৈশপ্রহরীকে মারধরের অভিযোগে জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। বগুড়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ডিসি জিয়াউল হক জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনা জানার পর মৌখিকভাবে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন আহমেদকে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সদর ইউএনওর ওপর অভিযোগের বিষয়ে আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এখনো লিখিত কোনো নির্দেশনা আসেনি। লিখিত আসার পরই আমি যথাযথ নিয়ম মেনে প্রতিবেদন জমা দেব।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরের ইউএনও সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে আলমগীর হোসেন নামের এক নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে গুরুতর আহতের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের পর তাকে উপজেলা পরিষদের ক্যাম্পাসে ফেলে রাখা হয়। তবে ইউএনওর দাবি, ‘তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। সে সিমপ্যাথি নেয়ার জন্য এমন অজুহাত দেখাচ্ছে।’

আলমগীর হোসেন সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের নৈশপ্রহরী। তিনি সিরাজগঞ্জ সদরের মেহের আলীর ছেলে। বর্তমানে চাকরির সুবাদে উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের কোয়ার্টারে থাকেন।

বৃহস্পতিবার শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর বলেন, ‘আমার স্ত্রী বগুড়ায় আমার সঙ্গে থাকতে চায়। এ নিয়ে ১৫ দিন আগেও উপজেলা প্রকৌশলী স্যারের কাছে কমপ্লেইন দিয়েছে। এইটা নিয়ে স্যার আমাকে তিনবার শোকজ করছেন। আমি জবাব দিছি। আজ ইউএনও স্যারের কাছে বউ গিয়ে আবার কমপ্লেইন দেয়।’

আলমগীর হোসেন আরও জানান, ‘এই কমপ্লেইনে ইউএনও স্যার আমাকে তার অফিসে ডাকে। আমি গেলে আনসার সদস্যরা আমাকে ধরে তার (ইউএনও) কাছে নিয়ে আসে। আর লাঠিও আনে তারা। ইউএনও স্যার এসে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে। ওই সময় তার দেহরক্ষী দুই আনসার সদস্য আমাকে ধরে রেখেছিল। আমি অনেক কাকুতি-মিনতি করেছি, আমাকে যেন না মারে। বলছি, স্যার আমি আপনার স্টাফ। কিন্তু স্যার আমাকে মারতেই থাকে। একবার অচেতনও হয়ে পড়ি।’

তবে মারধরের ঘটনা সত্য নয় বলে দাবি করেন সদর ইউএনও সমর কুমার পাল। তিনি বলেন, ‘আলমগীর সদর উপজেলা প্রকৌশল অফিসের নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরি করে। কিছুদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝামেলা চলছে। আলমগীর তার বউকে উপজেলা ক্যাম্পাসে এনেছে। রাত্রিযাপন করেছে। কিন্তু বউকে এখানে রেখে সে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়টি গত বুধবার জানতে পারি।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে আলমগীরের স্ত্রীকে উপজেলার সিঁড়ির মধ্যে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখি। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি তার মেয়ের বাড়ি মাঝিড়াতে। এ কথা শুনে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সেখানে পাঠিয়ে দিই। এখন এ ঘটনার পরে আজ (শুক্রবার) বিকেলে আলমগীর দেখি কোথা থেকে আসে। আমি তাকে ডেকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছি। আর তাকে বলেছি তুমি এই সমস্যা সমাধান না করে এখানে আসবা না। এ ছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীকেও বলে দিয়েছি, ভাই এই ছেলেকে আপনি বদলি করেন।’

সমর কুমার পাল আরও বলেন, ‘এরপর দেখি সিমপ্যাথি নেয়ার জন্য আলমগীর আমগাছের নিচে শুয়ে পড়ে। সবাইকে বলছে তাকে মারধর করা হয়েছে। অনেকেই তার এ কাজে ইন্ধন দিচ্ছে। কিন্তু আমার দিক থেকে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

আলমগীরের স্ত্রী শহীদা বেগম কোনো অভিযোগ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, ‘তাকে তো আলমগীর ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল। আমি পরিষদের নিরাপত্তার কারণে, সুনাম রক্ষার জন্য তাকে মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। কোনো অভিযোগের বিষয় নেই।’


হাম-ডেঙ্গুর ঝুঁকির মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে অ্যানথ্রাক্স

* পাঁচ জেলায় শতাধিক আক্রান্ত * বাড়ছে প্রাণীবাহিত রোগের শঙ্কাও * রুগ্‌ণ পশুর মাংস ভাগ করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ
ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণের চাপ সামলাতে যখন ব্যস্ত জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা, তখন নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে অ্যানথ্রাক্স। গত দুই মাসে দেশের পাঁচ জেলায় শতাধিক মানুষ এ প্রাণীবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের অনেকেরই রুগ্‌ণ গরু-ছাগলের মাংস কাটাকাটি, ভাগাভাগি কিংবা নাড়াচাড়ার ইতিহাস রয়েছে। কোথাও একটি অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস ভাগ করে দেওয়ার পর একই এলাকার একাধিক পরিবারের মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবের তথ্য পাওয়া গেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে। ৯ সেপ্টেম্বর একটি রুগ্ন গরু জবাই করে তার মাংস প্রায় ১০০ ভাগ করে বিভিন্ন বাড়িতে দেওয়া হয়। এরপর ওই মাংস যেসব বাড়িতে যায়, সেসব পরিবারের সদস্যদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ৩১ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আশঙ্কা করছে, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মেহেরপুরের গাংনীতে আগস্টে ৩৮ এবং সেপ্টেম্বরে ১৮ জনসহ ৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অন্তত ১৫ জন এবং রংপুরের পীরগাছায় অন্তত ৫০ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরেও অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এসব সংক্রমণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সুন্দরগঞ্জের ঘটনাকে বড় প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখছে আইইডিসিআর। সংক্রমণের উৎস ও বিস্তার অনুসন্ধানে সেখানে দল পাঠানো হয়েছে।

মাংস ভাগ করেই ছড়াচ্ছে সংক্রমণ: সুন্দরগঞ্জের ঘটনা অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকির একটি স্পষ্ট চিত্র সামনে এনেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, ৯ সেপ্টেম্বর একটি বড় আকারের রুগ্ন গরু জবাই করা হয়। পরে গরুটির মাংস প্রায় ১০০ ভাগ করে বিভিন্ন বাড়িতে দেওয়া হয়। এরপর এসব বাড়ির মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হন।

প্রথমে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে আরও ১৪ জন ভর্তি হন। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়ায়। এর আগে আগস্টেও একই ধরনের ঘটনায় ছয়জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

মেহেরপুরের গাংনীতেও আক্রান্তদের সঙ্গে রুগ্‌ণ ছাগলের মাংস কাটাকাটি ও নাড়াচাড়ার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আক্রান্তদের প্রত্যেকেরই রুগ্ন গরুর মাংসের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস রয়েছে।

অর্থাৎ, রোগটি শুধু পশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; অসুস্থ পশু জবাই, মাংস ভাগাভাগি ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যেও দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে।

পীরগাছায় নমুনায় মিলেছে অ্যানথ্রাক্স: রংপুরের পীরগাছায় চারটি ইউনিয়নে অন্তত ৫০ জনকে অ্যানথ্রাক্সের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। জুলাই থেকে সেখানে ত্বকের সমস্যার রোগী আসতে শুরু করার পর এলাকায় গবাদিপশু মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

আইইডিসিআরের প্রতিনিধি দল ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ থাকা ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষায় আটজনের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ গরুর মাংসের নমুনা পরীক্ষাতেও অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা জানিয়েছেন, তাদের মৃত্যুর কারণ অ্যানথ্রাক্স নয়। তাদের হৃদ্‌রোগসহ অন্যান্য জটিলতা ছিল। তার ভাষ্য, পীরগাছার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে।

অ্যানথ্রাক্স কতটা ভয়ংকর: অ্যানথ্রাক্স ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামের স্পোর গঠনকারী ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। মাটিতে এ জীবাণু দীর্ঘদিন থাকতে পারে। গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মতো তৃণভোজী প্রাণী দূষিত ঘাস বা খাবারের মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে।

আক্রান্ত পশু জবাইয়ের সময় মাংস, রক্ত, পশম, হাড় বা অন্যান্য অংশের সংস্পর্শে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ মাংস খেলেও সংক্রমণ হতে পারে। মানুষ থেকে মানুষে সাধারণত এ রোগ ছড়ায় না।

মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স প্রধানত ত্বকজনিত, পাকস্থলী ও অন্ত্রজনিত এবং শ্বাসজনিত—এই তিন ধরনের হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ত্বকজনিত অ্যানথ্রাক্স। আক্রান্ত স্থানে প্রথমে ফোলা বা চুলকানি হয়, পরে ক্ষতটি কালো হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে আক্রান্ত পশুর মাংস খেলে পাকস্থলী ও অন্ত্রজনিত অ্যানথ্রাক্স হতে পারে। এতে বমি, পেটব্যথা, জ্বর, রক্তমিশ্রিত পায়খানা ও রক্তবমির মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শ্বাসজনিত অ্যানথ্রাক্স বিরল হলেও অত্যন্ত গুরুতর এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে প্রাণঘাতী হতে পারে।

বাংলাদেশে বারবার ফিরছে রোগটি: বাংলাদেশে অ্যানথ্রাক্স নতুন কোনো রোগ নয়। ২০১০ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ১২টি জেলায় ১০৪টি গবাদিপশু ও ৬০৭ জন মানুষের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হওয়ার তথ্য গবেষণায় উঠে এসেছে। আক্রান্ত মানুষদের সবাই ত্বকজনিত অ্যানথ্রাক্সে ভুগেছিলেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে ৪৩৭টি এবং ২০০৯ সালে ৪৪৯টি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু শনাক্ত হয়েছিল। ২০১১ সালে বগুড়ার ধুনটে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়। একই গ্রামের আরও ১৬ জন আক্রান্ত হন।

২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশের সাত জেলায় অ্যানথ্রাক্সের ২৬টি প্রাদুর্ভাব নিয়ে করা গবেষণায় ১ হাজার ২১০ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে জুনোটিক রোগের ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্সের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন উজাড়, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা এবং মানুষের সঙ্গে প্রাণীর ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে রোগজীবাণুর বিস্তারের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বন্য প্রাণী ও বাদুড় মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে আসায় নতুন রোগজীবাণুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিও বাড়ছে। অ্যানথ্রাক্স ছাড়াও ব্রুসেলোসিস, সালমোনেলোসিস, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টেরিওসিস ও লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো প্রাণীবাহিত রোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শুধু রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা করলেই হবে না; পশুর রোগ শনাক্তকরণ, টিকাদান, কসাইখানার স্বাস্থ্যবিধি, মাংসের বাজারে নজরদারি এবং পরিবেশগত ঝুঁকি—সবকিছুকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।

‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতিতে নজরদারি জরুরি: জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতির পরিকল্পনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়নে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে আলাদা করে দেখলে প্রাণীবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, আক্রান্ত পশু যেন কেউ জবাই বা বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের নজরদারি বাড়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো পশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অস্বাভাবিকভাবে মারা গেলে তার মাংস বা চামড়া ব্যবহার করা যাবে না। আক্রান্ত পশুর মৃতদেহ নিরাপদভাবে ধ্বংস করতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত এলাকায় জীবাণুমুক্তকরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পশুকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সতর্কতার বিকল্প নেই: রুগ্ন পশু জবাই, বিক্রি কিংবা তার মাংস কাটাকাটি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঁচা মাংস ধরার সময় হাতে কাটা বা ক্ষত থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রয়োজন হলে গ্লাভসসহ সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে হবে।

মাংস ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে এবং অর্ধসেদ্ধ মাংস এড়িয়ে চলতে হবে। গবাদিপশুকে নিয়মিত অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাবের উৎস ও বিস্তার অনুসন্ধানে আইইডিসিআরের দল কাজ করছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগও আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নমুনা পরীক্ষা ও টিকাদান চালাচ্ছে।

হাম ও ডেঙ্গুর মতো রোগের চাপের মধ্যেই পাঁচ জেলায় অ্যানথ্রাক্সের এই বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন সতর্কবার্তা। একটি রুগ্ন পশু জবাই থেকে যখন কয়েক ডজন মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন, তখন প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণকে আর শুধু প্রাণিসম্পদ খাতের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, পশুর শতভাগ টিকাদান, অসুস্থ পশু জবাই বন্ধ, নিরাপদ মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা এবং মাংসের বাজারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষ-প্রাণী-পরিবেশকে একই কাঠামোয় এনে সমন্বিত নজরদারিই হতে পারে এই ঝুঁকি মোকাবিলার প্রধান পথ।


দুই মাদক কারবারিকে শাস্তির বদলে তাবলিগে পাঠালেন ওসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন চাঁদপুরের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম। একাধিকবার মাদক মামলায় জড়িয়ে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে ফেরার অভিযোগ থাকা দুই ব্যক্তিকে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে ওসি আজিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের শাহজালাল ও হেলালের বিরুদ্ধে একাধিক মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তারা আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়তেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল।

এ পরিস্থিতিতে শুধু মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নয়, তাদের জীবনধারায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন ওসি আজিজুল ইসলাম। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দুজনকে থানায় ডেকে এনে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।

তিন দিন পর মঙ্গলবার জোহরের নামাজ আদায় করে তারা থানায় ফিরে ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে মাদক থেকে দূরে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শাহজালাল ও হেলাল বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এখন থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করব, প্রতি মাসে তিন দিন তাবলিগে যাওয়ার চেষ্টা করব এবং ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে আর জড়িত হব না।’

ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু মামলা দিয়ে সব সময় মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। তাদের নৈতিকভাবে পরিবর্তন করতে হবে। আমরা চাই, তারা সত্যিকারের ভালো মানুষ হয়ে সমাজে ফিরে আসুক।’

ওসির এ উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি অপরাধে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে তাদের জীবনধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হতে পারে।


রাবির ১৯ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব স্থগিত, ৭৯ জনকে সতর্ক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় র‍্যাগিং, শারীরিক হামলা ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৯ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাদের আবাসিকতা বাতিল করে ভবিষ্যতে হলে থাকার সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই অভিযোগে আরও ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে সিন্ডিকেটে।


সিন্ডিকেট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন বিভাগের মোট ৯৮ শিক্ষার্থীকে নানা মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৫ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তিনজন এবং চারুকলা অনুষদের সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে একজনসহ মোট ১৯ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য তাদের বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে বিভিন্ন বিভাগের ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে র‍্যাগিংয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে অধিকতর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি জানানো হবে।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা-২০২৬-এ উপস্থাপিত অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ৩১ জন, ইতিহাস বিভাগের ১৮ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৫ জন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ১৩ জন, অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সাতজন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের চারজন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের চারজন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের চারজন, অর্থনীতি বিভাগের দুজন এবং গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের একজন রয়েছেন। সব মিলিয়ে এসব বিভাগের ৯৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৫ জন, চারুকলা অনুষদের সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে একজন এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তিনজনসহ মোট ১৯ জনকে এক বছরের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের আবাসিকতা বাতিল করা হবে এবং পরবর্তীতে হলে আবাসিকতার সুযোগ পাবেন না।’


তিনি আরও বলেন, ‘র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৭৯ জনকে কঠোর সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবারকেও চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানাবে কর্তৃপক্ষ।’#


ছাত্রলীগ নেতাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নওগাঁর বদলগাছীতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে প্রথম দফায় গ্রেপ্তারের সুযোগ পেয়েও আটক করতে না পারার অভিযোগে উপপরিদর্শক (এসআই) অসিত কুমারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে শিথিলতা ও অসাবধানতার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামি রাকিবুল হাসান বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের আক্কেলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি। একটি সিআর মামলায় (নম্বর ২২২/২৫) তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে আক্কেলপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে বদলগাছী থানা পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই অসিত কুমার। এর আগে উপজেলার ভান্ডারপুর বাজার এলাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়। সেখানে পুলিশ তাঁকে আটক করার চেষ্টা করলেও তিনি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পরে গভীর রাতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফার অভিযানে রাকিবুলকে গ্রেপ্তারের সুযোগ পেয়েও তাঁকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগ পুলিশ প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। এমনকি তাঁকে ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এসআই অসিত কুমার বলেন, আদালতের পরোয়ানা থাকায় রাকিবুলকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিকবার অভিযান চালানো হয়। ভান্ডারপুর বাজারে প্রথম দফায় তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রথম দফায় তাঁকে ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অসিত কুমার বলেন, এমন একটি অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। তবে কে বা কারা এ অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানেন না। আসামিকে গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

গ্রেপ্তার হওয়া রাকিবুল হাসানের মা রেহেনা পারভিন বলেন, পুলিশ তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। তবে ছেলেকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো লেনদেন বা পুলিশের অসদাচরণের বিষয়ে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি বলে দাবি করেন।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, প্রথম অভিযানে আসামিকে পেয়েও ছেড়ে দেওয়া বা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার একটি অভিযোগ পুলিশ সুপারের কাছে পৌঁছেছিল। এরপর এসআই অসিত কুমারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রথম দফায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে প্রথম অভিযানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কী ধরনের শিথিলতা হয়েছিল, তা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়।

নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় কোনো আলোচনা, গুঞ্জন বা অন্য কোনো কারণে এসআই অসিত কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণেই তাঁকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এসপি বলেন, প্রথমবার অভিযানের সময় আসামিকে গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অসাবধানতার কারণে তিনি পালিয়ে যান। কর্তব্য পালনে এমন শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই এসআই অসিত কুমারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তবে পরবর্তীতে ওই এসআইয়ের নেতৃত্বেই রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুলের বিরুদ্ধে থাকা আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী তাঁকে আটক করে আইনগত প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম দফার অভিযানে আসামিকে আটক করতে না পারা এবং তাঁকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই অসিত কুমারের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।


খুলনা নগরীর ডেঙ্গু ঠেকাতে নানা উদ্যোগ

* ঘর-আঙিনা পরিষ্কারের আহ্বান কেসিসি প্রশাসকের * ৮ রেড জোনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প * ৪০০ নিম্নআয়ের পরিবার পেল মশারি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে কেসিসি কর্তৃক নগরীতে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে সড়কসংলগ্ন বড় বড় ড্রেনগুলোতে মশার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এখন বাড়ি, অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করতে পারলে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ কমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বাড়ির অভ্যন্তরে বদ্ধ পানি, ডাবের খোসায়, টায়ারে, প্লাস্টিকের ভাঙা পাত্র ইত্যাদি স্থানে পানি জমে আছে কি না সেদিকে লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি নিজ নিজ আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলের প্রতি আহবান জানান।

কেসিসি প্রশাসক বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ২৭নং ওয়ার্ড অফিসে স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ মশারি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রশাসক ৩০০টি পরিবারের মাঝে মশারি বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ তাদের খুলনা শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় নগরীতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান, মা ও শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ, প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজ বাস্তবায়ন করছে। সংস্থাটি এখন ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে মশারি বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। গতকাল সংস্থাটির উদ্যোগে নগরীর ১৮নং ওয়ার্ডের খ্রিষ্টান পল্লী ও ঋষি পল্লীতে মশারি বিতরণ করা হয়েছে।

প্রশাসক জনহিতকর কাজে এগিয়ে আসার জন্য ওয়ার্ল্ডভিশনকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৩ মাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি জ্বর অনুভূত হলে অবহেলা না করে মেডিকেল ক্যাম্পে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুরভী বিশ্বাস, সাবেক কাউন্সিলর মো. শমসের আলী মিন্টু ও মাজেদা খাতুন, সমাজসেবক মহিবুল্লাহ শামীম, মেশকাত আহমেদ, শীতলা বাড়ি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুজিত সাহা ও সেক্রেটারি বিজয় ঘোষ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কান্তি ঘোষসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে প্রশাসক নগরীর দৌলতপুরস্থ শহিদ জিয়া কলেজ অডিটরিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ করেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের সুরায় শিশুশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক কল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের’ উদ্যোগে এ মশারি বিতরণ করা হয়।

মশারি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মশক নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে কেসিসি কর্তৃক নগরীর ৮টি রেড জোনে ৮টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু ইউনিট চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্মুক্ত জায়গায় বৃহৎ পরিসরে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনসহ ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা টিম গঠনেরও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শহরের প্রতিটি বাড়ি পরিচ্ছন্ন করার সামর্থ কেসিসির নেই উল্লেখ করে তিনি বাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি নিজ নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ নওসুদুজ্জামান পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ জিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. তারিকুল ইসলাম। কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর কবির হোসেন কবু মোল্লা, সমাজসেবক প্রকৌশলী শাহীর হোসেন জাম্বু, সৈয়দ মাইনুল ইসলাম, সৈয়দ এনামুল হাসান ডায়মন্ড, শেখ মোহাম্মদ কবির হোসেন টিটো, দারুল হুদা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা আবুল কাশেম, ২নং ওয়ার্ডের নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক চমন আক্তার, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন হোসেন, সংগঠনের সদস্য বাদল ঢালী, মাহবুবুল হক, ইরাক আলী, তানভীর, লাভলু, মেজবাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্চিতা দে।

অনুষ্ঠানে প্রশাসক ১০০টি স্বল্প আয়ের পরিবারের সদস্যদের মাঝে মশারি বিতরণ করেন।


ফরিদপুর পৌরসভার জমি দখল করে স্থাপনা, গুঁড়িয়ে দিল কর্তৃপক্ষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফরিদপুর পৌরসভার মালিকানাধীন জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের গোয়ালচামট হাজরাতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা কবির চৌধুরী পৌরসভার প্রায় ০ দশমিক ২৫ (পয়েন্ট ২৫) শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে এস্কেভেটর দিয়ে ওই অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং জমিটি পুনর্দখলে নেয় পৌরসভা।

উচ্ছেদ অভিযানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মো. হাই জকি এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সমাজ উন্নয়নবিষয়ক কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান, বিদ্যুৎ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শরিফুল হাসান, সিভিল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী লাইজিং হোসেন রাজু, হিসাব রক্ষক কৃষ্ণ কুমার সাহা, লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদ বিন আহমেদ, কনজারভেন্সি পরিদর্শক বিকাশ দত্ত, প্রধান সহকারী ফরিদুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী রকিবুল হাসান রবিন, শার্ট লিপিকার অভিজিৎ সাহা অভি, সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক তাওহিদুজ্জামান, কম্পিউটার অপারেটর সালাহউদ্দি আহমেদ সুমন, বাজার পরিদর্শক কাউসার মোল্লাসহ স্থানীয় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অভিযানের পর পৌর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে পৌরসভার জায়গায় যেসব অবৈধ দখলদার রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পৌরসভার সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখা হবে।


বগুড়াকে ইকোনমিক হাব গড়তে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনা হবে: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রধান লক্ষ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক প্রতিরোধ, শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য দূর করা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা। রাষ্ট্রীয় অপচয় বন্ধে তিনি নিজে মাত্র ১৯ জন সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশে গিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য দপ্তরের মাধ্যমে সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন চালু করা হচ্ছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয়সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতা উপভোগ করতে কিংবা নিজেদের ভাগ্য বদল করতে আসিনি। এসেছি এ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদল করতে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করতে।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার হটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং নারীশিক্ষার অগ্রগতিতে বেগম খালেদা জিয়া অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে তার অধীনে চাকরি করার সুবাদে দেখেছি শহীদ জিয়ার মতো তিনিও ছিলেন এক অনন্য স্বচ্ছ ও সৎ মানুষ। যিনি রাষ্ট্রের এক টাকা অপচয়ও সহ্য করতেন না।

প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই জন্মভূমি বগুড়াকে একটি মডেল জেলা এবং ইকোনমিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন, জেলা পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকিরসহ বিভিন্ন সরকারি সপ্তরের কর্মকর্তারা।


জাপানিজ ভাষা শিক্ষা কোর্সের উদ্বোধন করলেন মসিক প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে জাপানিজ ভাষা শিক্ষা কোর্সের (লেভেল–N5 ও N4) উদ্বোধন করা হয়েছে। তরুণদের জাপানিজ ভাষায় দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যেই এ কোর্স চালু করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাপানিজ ভাষাশিক্ষা কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কোর্সটির উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌ. মো. মাহতাব উদ্দিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে জাপানের শ্রমবাজারে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। জাপানিজ ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে প্রশিক্ষণার্থীরা বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিজেদের আরও যোগ্য করে তুলতে পারবেন।

বক্তারা আরও বলেন, শুধু কারিগরি দক্ষতা অর্জনই নয়, সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকাও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে জাপানিজ ভাষাশিক্ষার এ উদ্যোগ প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রস্তুতিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে জাপানিজ ভাষাশিক্ষা কোর্সের বিভিন্ন পর্যায়, প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু, ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের পদ্ধতি এবং (লেভেল–N5 ও N4) সম্পন্ন করার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, জাপানিজ ভাষা শেখার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি জাপানে উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এ কোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী, প্রশিক্ষক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগের সঙ্গে ভাষাশিক্ষা গ্রহণ এবং অর্জিত দক্ষতাকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।


মানিকগঞ্জে ঘোড়ার মাংস বাজার প্রক্রিয়াজাতকরণের দায়ে ৯ জনের কারাদণ্ড

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় অসুস্থ ঘোড়া জবাই করে মাংস বাজারজাত প্রক্রিয়াকরণের অভিযোগে ৯ জনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে মিজানুর রহমানকে এক বছর এবং বাকি আটজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের পাট গবেষণা এলাকায় পরিত্যক্ত হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্সের একটি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এই কারাদণ্ড প্রদান করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন।

দণ্ডিতরা হলেন, মানিকগঞ্জ শহরের পূর্ব দাশড়া এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান, ঢাকার বাড্ডা এলাকার নিয়ামত মিয়ার ছেলে ইমন হাসান, একই এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে তুহিন, নেয়ামতুল্লাহর ছেলে মাসুদ জানা, ঢাকার বড় বেরাত এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মারুফ, গাজীপুরের তেলিপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে রুবেল, গাজীপুরের দিঘিরচালা এলাকার কালো মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম খলিল, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এলাকার আদম আলীর ছেলে হুমায়ুন কবির এবং জামালপুরের তুলসীপুর এলাকার জিল হাফেজের ছেলে সোহেল রানা।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগতে সদর উপজেলার জাগীর এলাকার হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিত্যক্ত কারখানায় অভিযান চালিয়ে অসুস্থ ও মৃত ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় নয়জনকে আটক করে সদর থানা-পুলিশ। এরপর গতকাল বুধবার দুপুরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মিজানুর রহমানকে এক বছর এবং আটজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রিক্তা খাতুন বলেন, ‘সিংগাইরের হিরু নামের এক ব্যক্তি দণ্ডিত নয়জনকে ভাড়া করে এবং ঘোড়া জবাই করে মাংস বাজারজাতের জন্য প্রক্রিয়াজাত করার জন্য চুক্তি করেন। প্রক্রিয়াজাত করা ঘোড়ার মাংস রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন হোটেলে পাঠানোর কথা ছিল। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে তাদের এই কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।’ অভিযানের সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি জানান।


ভিডিপির গোপন তথ্যে কেশবপুরে অজ্ঞান পার্টির সদস্য গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুরে ভিডিপি দলনেতার দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে চোরাচালান ও অজ্ঞান পার্টির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইব্রাহিম হোসেন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেশবপুর উপজেলার ২নং সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের ভিডিপি দলনেতা মো. আলী হোসেন।

জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করেন ভিডিপি দলনেতা মো. আলী হোসেন। বিষয়টি দ্রুত চিংড়া বাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই শামীম হোসাইনকে অবহিত করেন তিনি। পরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শামীম হোসাইনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে চোরাচালান ও অজ্ঞান পার্টির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইব্রাহিম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহিম হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি ও চোরাচালানসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

স্থানীয় পর্যায়ে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। কেশবপুরের এ ঘটনায় ভিডিপি দলনেতার দেওয়া সময়োপযোগী তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে অভিযানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেন তিনি।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অপরাধ দমন, অপরাধীদের শনাক্তকরণে তথ্য প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের এ ধরনের দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


পিরোজপুরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন বহুতল একাডেমিক ভবন উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও ভৌত অবকাঠামোগত প্রসারে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পিরোজপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবনির্মিত পৃথক দুটি বহুতল একাডেমিক ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

‎​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভবন দুটির শুভ উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন।

‎​প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ উপহার দেওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে নতুন এই সুদৃশ্য অবকাঠামো পিরোজপুরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আরও উৎসাহিত করবে।

‎​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।

‎​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কারিগরি প্রস্তুতি ও সময়মতো ভবন নির্মাণের সাফল্য তুলে ধরে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আমাদের অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত ৬ তলা একাডেমিক ভবনটি জেলার শিক্ষা প্রসারে অনন্য ভূমিকা রাখবে।

২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এখানে যোগদানের পর পুরাতন ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের দুই মাস আগেই দুটি শিফটে শ্রমিক নিয়োগ করে আমরা নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। নতুন এই আধুনিক ভবনে এখন থেকে চমৎকার ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হবে। এছাড়াও পিরোজপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ভবনটি আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।

‎​এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইদ্রিস আলী আযিযী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান এবং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিতা রানী বল।

‎​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

‎​দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত বহুতল একাডেমিক ভবন পাওয়ায় সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, নতুন অবকাঠামোর ফলে শ্রেণিকক্ষের বিদ্যমান সংকট দূর হবে এবং মনোরম পরিবেশে পাঠদান পরিচালনা সম্ভব হবে।


নোয়াখালীতে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। বুধবার প্রেসক্লাবের সামনে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘সোনাইমুড়ীর ফয়েজিয়া এতিমখানায় এতিমদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক গোলজার হানিফ এবং মনিরুজ্জামানের ওপর হামলা চালানো হয়।’ এ সময় তাদের সপরিবারকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।


বক্তারা আরও বলেন, ‘হামলার ঘটনায় মামলা করতে গেলে সোনাইমুড়ী থানার ওসি মো. কবির হোসেন মামলা না নিয়ে অভিযোগটি রেখে দিয়েছেন। গত চার দিনেও মামলা গ্রহণ না করে উল্টো আহত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই চাঁদাবাজির অভিযোগ নেওয়া হয়েছে।’


তারা অভিযোগ করেন, ‘চড়ুইভাতি পার্টি সেন্টারে’ হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও এখনো পুলিশ সংগ্রহ করেনি। পাশাপাশি এতিমদের সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা।


এ সময় বক্তব্য দেন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বিষাদ, নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বাবু, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন সোহাগ, এ আর আজাদ সোহেল, দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন বাদল, এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম জাহান, আরটিভি ও দৈনিক আগামীর সময়ের নোয়াখালী প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনি, এশিয়ান টিভির জেলা প্রতিনিধি মুজাহিদ ইসলাম সোহেল, সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন ভূঞা, সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন রাজ প্রমুখ।


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ে আনসার-ভিডিপি ও ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালকের বৈঠক

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সমন্বয়ের বিষয়ে বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে বাহিনীর মহাপরিচালকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।

এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত শহর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের সম্ভাব্য ভূমিকা ও ডিজিটাল মোতায়েন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাহিনীর মহাপরিচালক দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাহিনীর সার্বিক সংস্কার ও সক্ষমতা অর্জনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সুবৃহৎ এই স্বেচ্ছাসেবী সাংগঠনিক কাঠামোর ব্যাপক সম্ভাবনার বিষয়ে উপস্থাপন ও আলোচনা করেন।

এর প্রেক্ষিতে রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ওয়ার্ড/জোন ও থানা এলাকাভিত্তিক প্রশিক্ষিত টিডিপি স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের প্রস্তুত রাখার এ পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর মহাপরিচালকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এ ছাড়াও ঢাকা বিভাগের ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন সক্ষমতার প্রেক্ষিতে আনসার-ভিডিপির স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য ভূমিকার বহুমুখী নিয়ামক ও সার্বিক সমন্বিত মোতায়েন মূল্যায়ন সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। আনসার-ভিডিপি ডিজিটাল ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী দুর্যোগকালীন সময়ে ফার্স্ট রেসপন্ডার হিসেবে দ্রুত সাড়া প্রদান, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং অন্যান্য মানবিক পুনর্বাসন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

প্রস্তাবিত ১ লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবী সদস্যকে বাহিনীর মৌলিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের রূপরেখা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের একটি কার্যকর স্থানীয় দুর্যোগ সাড়াদান সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও অগ্নি-নির্বাপণসহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই বাহিনীর একযোগে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। মাঠপর্যায়ে পেশাদারত্বের মান বাড়াতে প্রশিক্ষণে সহায়তা ও কৌশলগত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও বিশদ আলোচনা করেন।

ভবিষ্যতে যেকোনো জাতীয় সংকট ও মানবিক দুর্যোগে পারস্পরিক সমন্বিত সহযোগিতা আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক।

এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।


banner close