বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রহরীকে মারধরের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

ইউএনও সমর কুমার পাল। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:৫৬

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে নৈশপ্রহরীকে মারধরের অভিযোগে জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। বগুড়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ডিসি জিয়াউল হক জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনা জানার পর মৌখিকভাবে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন আহমেদকে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সদর ইউএনওর ওপর অভিযোগের বিষয়ে আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এখনো লিখিত কোনো নির্দেশনা আসেনি। লিখিত আসার পরই আমি যথাযথ নিয়ম মেনে প্রতিবেদন জমা দেব।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরের ইউএনও সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে আলমগীর হোসেন নামের এক নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে গুরুতর আহতের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের পর তাকে উপজেলা পরিষদের ক্যাম্পাসে ফেলে রাখা হয়। তবে ইউএনওর দাবি, ‘তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। সে সিমপ্যাথি নেয়ার জন্য এমন অজুহাত দেখাচ্ছে।’

আলমগীর হোসেন সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের নৈশপ্রহরী। তিনি সিরাজগঞ্জ সদরের মেহের আলীর ছেলে। বর্তমানে চাকরির সুবাদে উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের কোয়ার্টারে থাকেন।

বৃহস্পতিবার শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর বলেন, ‘আমার স্ত্রী বগুড়ায় আমার সঙ্গে থাকতে চায়। এ নিয়ে ১৫ দিন আগেও উপজেলা প্রকৌশলী স্যারের কাছে কমপ্লেইন দিয়েছে। এইটা নিয়ে স্যার আমাকে তিনবার শোকজ করছেন। আমি জবাব দিছি। আজ ইউএনও স্যারের কাছে বউ গিয়ে আবার কমপ্লেইন দেয়।’

আলমগীর হোসেন আরও জানান, ‘এই কমপ্লেইনে ইউএনও স্যার আমাকে তার অফিসে ডাকে। আমি গেলে আনসার সদস্যরা আমাকে ধরে তার (ইউএনও) কাছে নিয়ে আসে। আর লাঠিও আনে তারা। ইউএনও স্যার এসে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে। ওই সময় তার দেহরক্ষী দুই আনসার সদস্য আমাকে ধরে রেখেছিল। আমি অনেক কাকুতি-মিনতি করেছি, আমাকে যেন না মারে। বলছি, স্যার আমি আপনার স্টাফ। কিন্তু স্যার আমাকে মারতেই থাকে। একবার অচেতনও হয়ে পড়ি।’

তবে মারধরের ঘটনা সত্য নয় বলে দাবি করেন সদর ইউএনও সমর কুমার পাল। তিনি বলেন, ‘আলমগীর সদর উপজেলা প্রকৌশল অফিসের নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরি করে। কিছুদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝামেলা চলছে। আলমগীর তার বউকে উপজেলা ক্যাম্পাসে এনেছে। রাত্রিযাপন করেছে। কিন্তু বউকে এখানে রেখে সে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়টি গত বুধবার জানতে পারি।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে আলমগীরের স্ত্রীকে উপজেলার সিঁড়ির মধ্যে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখি। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি তার মেয়ের বাড়ি মাঝিড়াতে। এ কথা শুনে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সেখানে পাঠিয়ে দিই। এখন এ ঘটনার পরে আজ (শুক্রবার) বিকেলে আলমগীর দেখি কোথা থেকে আসে। আমি তাকে ডেকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছি। আর তাকে বলেছি তুমি এই সমস্যা সমাধান না করে এখানে আসবা না। এ ছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীকেও বলে দিয়েছি, ভাই এই ছেলেকে আপনি বদলি করেন।’

সমর কুমার পাল আরও বলেন, ‘এরপর দেখি সিমপ্যাথি নেয়ার জন্য আলমগীর আমগাছের নিচে শুয়ে পড়ে। সবাইকে বলছে তাকে মারধর করা হয়েছে। অনেকেই তার এ কাজে ইন্ধন দিচ্ছে। কিন্তু আমার দিক থেকে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

আলমগীরের স্ত্রী শহীদা বেগম কোনো অভিযোগ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, ‘তাকে তো আলমগীর ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল। আমি পরিষদের নিরাপত্তার কারণে, সুনাম রক্ষার জন্য তাকে মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। কোনো অভিযোগের বিষয় নেই।’


কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা ও উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণেও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই কোনো চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। সরকারের এই অবস্থানের পক্ষে বিরোধী দল পুরোপুরি সহযোগিতা করবে বলেও বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাপনী বক্তব্যে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে স্বৈরাচারের সময়ে প্রতিবছর এ দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। সব সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই দুর্নীতি। হাত বেঁধে হোক, টুঁটি চেপেই হোক, দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পেশাদার বাহিনীতে পরিণত করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

যেকোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মতভিন্নতা থাকবে, তবে অবশ্যই শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায়পরায়ণতা। এই বাংলাদেশ যাতে আর কখনোই ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচারের কবলে না পড়ে, এই প্রশ্নে সংসদের বিরোধী দল এবং সরকারি দল...আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই... আমাদের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্য, সেই ঐক্য বজায় থাকবে।’


১৫ বছরে ১,৩৩৪ রেল দুর্ঘটনা, বেশি পূর্বাঞ্চলে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

দেশে গত ১৫ বছরে এক হাজার ৩৩৪টি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূর্বাঞ্চলে ঘটেছে এক হাজার ৫১টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ঘটেছে ২৮৩টি। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে কুমিল্লা-৯ আসনের এমপি আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান রেলমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রধানত রেললাইন, পয়েন্টস অ্যান্ড ক্রসিংয়ের ত্রুটির কারণে হয়। এছাড়া চাকার শার্পফ্রেঞ্জ, গেজের অসামঞ্জস্যতা, প্রাকৃতিক কারণে রেললাইন বেঁকে বা ডেবে গিয়ে বগি লাইনচ্যুত হতে পারে।’

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মেট্রোরেল প্রকল্প নির্মাণে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেল এমআরটি-৬ (উত্তর উত্তর-কমলাপুর) প্রকল্পে ডিপিপি তিনবার সংশোধন করা হয়েছে। প্রথমে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি সাত লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ তৃতীয় সংশোধনীতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।’

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে (২০১১-২৬) বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ৬৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ, ৪১টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ, ৩২০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ, ৪৮২টি মিটারগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। যাতে ব্যয় হয়েছে ছয় হাজার ৭৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।’

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত দেড় দশকে ছোট-বড় মিলিয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে ১৩৩৪টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ১০৫১ ও পশ্চিমাঞ্চলে ২৮৩টি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ করাসহ নতুন রেললাইন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি বা বিভাগের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।’

কুমিল্লা-১০ আসনের এমপির প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম বলেন, ‘মহাসড়কে সেচ ইঞ্জিন দিয়ে পরিচালিত অবৈধ যান আটক করে ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

গাজীপুর-৫ আসনের এমপি ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সারাদেশে ২০২৪ সালে জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এক হাজার ৪১৭টি, ২০২৫ সালে এক হাজার ১২৩টি এবং ২০২৬ সালে ৩৬৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে।’

সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা দেওয়ার জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, কিউআরটি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান ১৪টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের কার্যক্রম জোরদারকরণসহ ২৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ওসিসি সেন্টার স্থাপন প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া ৬৪ জেলায় ওসিসি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।


বায়ুদূষণে বছরে ৮৮ হাজার অকালমৃত্যু, ক্ষতি ২৩ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জাবি প্রতিনিধি

দেশের ছয়টি প্রধান শহরে সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5) দূষণের কারণে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জনের অকালমৃত্যু হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জন মানুষ বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে এ দূষণের কারণে বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা) অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ (C2AHR) ইউনিট পরিচালিত গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Pollution সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ড. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল—এই ছয়টি প্রধান শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণজনিত মোট মৃত্যুর মধ্যে বছরে ৩৭ হাজার ৫১৯ জন হৃদ্‌রোগে, ৮ হাজার ৩৪৪ জন দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে এবং ৮১১ জন ফুসফুসের ক্যান্সারে মারা গেছেন।

শহরভিত্তিক বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি অকালমৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। সেখানে PM2.5 দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২), রাজশাহী (২ হাজার ৮২৭), খুলনা (২ হাজার ৬২৫), সিলেট (১ হাজার ৪৮৮) এবং বরিশাল (১ হাজার ৩৯৫)।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ছয়টি শহরেই বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু PM2.5 দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি নগরাঞ্চলে বায়ুদূষণের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা প্রায়ই বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু আমাদের গবেষণা বলছে, এর ফলে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার অকালমৃত্যু এবং জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বায়ুর গুণগত মানসংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, PM2.5 নির্গমন কমানো, নগরাঞ্চলে সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অকালমৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।


১৬ জুলাইকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে ১৬ জুলাইকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করতে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির সদস্যরা টহল শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যৌথ টহলে রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব।

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। লাইভ মিছিল থেকে কাশিয়ানীতে ১৫ জন এবং গোপালগঞ্জ সদরের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশের নিয়মিত টহলের সঙ্গে বিজিবি টহল দিবে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গোপালগঞ্জকে অন্য জেলার থেকে আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে না। গোপালগঞ্জের মানুষ শান্তিপ্রিয়, তাই ১৬ জুলাইকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই এনসিপির পথযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ বছরও সম্ভাব্য নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


ইটভাটায় কোনোভাবেই কাঠ পোড়ানো যাবে না: পরিবেশমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কোনোভাবেই কাঠ পোড়ানো যাবে না। বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ে সভাকক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিএমওএ) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

ইটভাটা শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব, বায়ুমান ব্যবস্থাপনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইটের বিকল্প এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই ইটভাটা বন্ধ না করে, কীভাবে ইটভাটা থেকে সৃষ্ট দূষণ কমানো যায়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দূষণ কমাতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইট বানাতে জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করা হলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। এর ফলে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন কমছে। এর বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। উচ্চ মাত্রার সালফার সমৃদ্ধ কয়লা ইটভাটায় ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষিত করে।’ তাই কয়লা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর গুণগত মানের নীতিমালা করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান এবং মহাসচিব মমিন উল্লা খানের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন জেলার উপদেষ্টা ও সহসভাপতিসহ একটি প্রতিনিধিদল সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে ইট উৎপাদন এবং পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও তাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তাদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


মৎস্য খাতের উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের সমন্বিত তালিকা হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে দেশের উদ্যোক্তাদের সমন্বিত তালিকা প্রণয়ন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষিত তরুণরা বাণিজ্যিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে এলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।’

বুধবার (১৫ জুলাই) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ পরিচালকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল (জুম) সভায় অংশগ্রহণ করে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভাগীয় পরিচালক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সারাদেশের খামারি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সমস্যার সমাধানে কাজ করতে হবে।’

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘শিক্ষিত উদ্যোক্তা পরিকল্পিতভাবে খামার পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার, খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং লাভজনকতা বাড়ে। অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে উপকরণ ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তালিকা প্রণয়নের পর বিভাগভিত্তিক খামারিদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা হবে। এসব সভায় তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে সরাসরি মতামত নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বাস্তবসম্মত নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে।’

সরকার এই খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।’

খামারিদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত তালিকা প্রস্তুত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আবুবকর সরকার। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালকরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা জাগিয়ে রাখতে শিল্পকলায় আর্টক্যাম্পের আয়োজন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের ভাষায় ধারণ ও উদযাপনের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প ‘ক্যানভাস ২৪: মুক্তির মহাকাব্য’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় এই আর্টক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই আর্টক্যাম্পে দেশের ৫৫ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, গণমানুষের সংগ্রাম এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের ভাষায় ক্যানভাসে রূপায়িত করবেন।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বিগত সময়ে যে অনিয়ম-অবিচার হয়েছে, তা যেন আর না হয় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এরই প্রেক্ষাপটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে উপজীব্য করে তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। এই আর্টক্যাম্পে যেসব শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন, তাদের তুলির ছোঁয়ায় ভেসে উঠবে সেই জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো।’

​বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘মানুষের মধ্যে জুলাই স্পিরিট জাগিয়ে রাখার একটা অংশ হচ্ছে এই আর্টক্যাম্প। যেখানে শিল্পীরা ছবি আঁকবেন এই জুলাইকে কেন্দ্র করে। জুলাইয়ের নানা দিক আছে, ঘটনা আছে, স্পিরিট আছে—নানাভাবে আমরা এটাকে তুলে ধরতে চাই। যত রকম আর্ট ফর্ম আছে সেগুলোর মাধ্যমে আমরা জুলাইকে ধারণ করতে চাই, জুলাইকে ছড়িয়ে দিতে চাই ও জুলাইকে জাগিয়ে রাখতে চাই।’

​অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ, শিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং শিল্পী ও অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।


সোনারগাঁয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থীর একই স্থানে সভাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের প্রতাপের চর এলাকায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে প্রতাপের চর মসজিদের সামনে রফিকুল ইসলামের সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ খবরে মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন বিশাল প্যান্ডেল করে ভূড়িভোজের আয়োজন করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ দু’পক্ষের সভা বন্ধ করে দেয়।

জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানা প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। এ নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দুপক্ষের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তর্কবির্তক, হাতাহাতি ও উত্তেজনা চলছে। গতকাল বুধবার বিকেলে রফিকুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নির্বাচনী সভা উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ বিষয়টি জানতে পেরে মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন গতকাল বুধবার দুপুরে তড়িঘড়ি করে সভা ডেকে ভূড়িভোজের আয়োজন করে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের সভা বন্ধ করে দেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের সভা পন্ড করার জন্য এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমি তাদের সভা অন্যত্র করার জন্য অনুরোধ করার পরও তারা ভূড়িভোজের আয়োজন করে আমাদের ওপর হামলা করার পাঁয়তারা করে। তারা বড় বড় পাতিল এনে রান্না-বান্নার আয়োজন করছিল। তিনি দাবি করেন, মাসুম রানা সমর্থক ইকবাল হোসেন একজন মাদকের ডিলার। পুলিশ তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানা জানান, আমরা ১৫ দিন আগেই এ নির্বাচনী সভার আহ্বান করেছি। মা, বোন, কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন ছিল। হঠাৎ রফিকুল ইসলাম একই জায়গায় সভা ডেকেছেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ এসে দু’জনের সভাই বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে আমার সমর্থক ইকবাল হোসেনকে নিয়ে মাদকের সম্পৃক্তার বিষয়ে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা সত্য নয়।

সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী একই স্থানে সভা করার বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় সভা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, ‘দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভা করার বিষয়ে জানেন না। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কায় পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছেন।’


মৌলভীবাজারে বন্যাকবলিতদের সহায়তা দিল ৪৬ বিজিবি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বন্যার কারণে যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কুরমাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিজিবির পক্ষ থেকে একটি জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই সাথে বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর মাঝে রান্না করা খাবারও বিতরণ করা হয়।

দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে বন্যা-পরবর্তী বিভিন্ন পানিবাহিত ও অন্যান্য রোগব্যাধির ঝুঁকি বিবেচনা করে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পে বিজিবির চারজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন। তারা দিনব্যাপী প্রায় ৪৫০ জন নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেন। চিকিৎসাদানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বিভিন্ন পরামর্শও দেওয়া হয়।

শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, বন্যার কারণে চরম দুর্ভোগে থাকা ১০০টি পরিবারের মাঝে রান্না করা দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়। কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় থাকা পরিবারগুলো বিজিবির এই মানবিক সহায়তায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

কার্যক্রম চলাকালে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ। এ সময় তার সাথে বিজিবির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকার বহু মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাদের কষ্ট লাঘব এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিজিবি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্যাকবলিত এলাকায় আমাদের এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’


ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলুপ্তির পথে ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীনের পথে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম। নদীর প্রবল স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত পরিবার। প্রতি বছর নদীভাঙনে পদ্মা নদীর তীরবর্তী অনেক মানুষ ভূমিহীন হয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।

পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হার্ডিংঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার ওপর দিয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।

ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের প্রবীণ অধিবাসী ইয়ার কবিরাজ বলেন, ‘কয়েকদফায় নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সব হারিয়ে গেছে। এখন বসতবাড়িটুকুই আমার শেষ সম্বল।’ তিনি আরও জানান, প্রায় ৬০-৭০ বছর আগে চাকলার চর থেকে এই এলাকায় তার বাপ-দাদারা এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। শেষ সম্বল বাড়িটুকু হারিয়ে গেলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

তবে সেটিও আগামী কিছুদিনের মধ্যে মধ্যে নদীতে বিলিন হওয়ার শঙ্কায় কাটছে তার প্রতিটি নির্ঘুম রাত।

আফতাবুল সরদার (৭০) জানান, সবই চলে গেছে পানির নিচে। বেচাকেনা করলেও মানতে পারতাম। কিন্তু এখানে তো সবই গেছে পানির নিচে।

শুধু আফতাবুর সরদারই নন, ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বহু সচ্ছল পরিবার।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার মানুষ একদম নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টা আরও দেখভাল করলে ভালো হতো।

পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে এই ভাঙনের মূল কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু জিওব্যাগ নদীতে ফেলে দিলেও তীব্র স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবর্তনে সেসব বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বারবার প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়ার পরও থামানো যায়নি ভাঙন। তাই বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বাঁচাতে মজবুত বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।

তারা জানান, সবাই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক জায়গায় কথা বলে হয়েছে; কিন্তু কোনো উপকার হচ্ছে না।

অনেক নেতাই বারবার এসে প্রতিশ্রুতি দেন; কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না।

কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তবে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’


কেশবপুর হাসপাতালে ফেলে যাওয়া মা-শিশুকে ইউএনও―র সহায়তা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় পরপর দ্বিতীয়বার কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় এক প্রসূতি নারী ও তার নবজাতক কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন তাদের পাশে দাঁড়ান এবং চিকিৎসার ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কেশবপুর উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এক নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তার ঘরে আরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নবজাতক কন্যাশিশুর জন্মের খবর পেয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা প্রসূতি মা ও শিশুটিকে ক্লিনিকে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অসহায় ওই নারীর বাবা নেই। আর্থিক সংকটের কারণে তার মাও দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে পারেননি। ফলে অপারেশনের পর প্রয়োজনীয় সেবা, পুষ্টিকর খাবার ও মানসিক সমর্থন ছাড়াই নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে হয় তাকে। এমনকি খাবার ও অর্থের অভাবে অন্যের সহায়তায় কোনোমতে দিন পার করছিলেন তিনি।

ঘটনার বিষয়টি ইউএনও রেকসোনা খাতুন জানতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। প্রসূতি নারীর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে কেশবপুরে আনার ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

ইউএনওর অনুরোধে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রসূতি নারীর সিজারিয়ান অপারেশনসহ চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ মওকুফ করে। পরবর্তীতে মা ও নবজাতককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে তার মায়ের বাড়িতে পাঠানো হয়।

বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুটি তার মাতৃগৃহে অবস্থান করছে। তবে কন্যাসন্তান জন্মের কারণে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘ সময় তাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘প্রসূতি মা ও নবজাতকের দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমরা দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছি। একজন মায়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের সময়ে তাকে এভাবে পরিত্যাগ করা অত্যন্ত অমানবিক। সন্তানের লিঙ্গ নিয়ে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেশবপুর থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহযোগিতায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এখন মা ও শিশুকে নিজেদের কাছে নিয়ে যেতে সম্মতি জানিয়েছে।’

রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘বিজ্ঞান ও সভ্যতার এই যুগে দাঁড়িয়ে কন্যাসন্তান জন্মকে অপরাধ হিসেবে দেখা চরম মানসিক দেউলিয়াত্বের পরিচয়। ছেলে-মেয়ে নয়, প্রত্যেক সন্তানই সমান মর্যাদা ও ভালোবাসার দাবিদার। সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠুক, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে কন্যাসন্তান নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্যমূলক মানসিকতা দূর করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।


কিশোরগঞ্জের হাওরে ‘নিষিদ্ধ জালে’ দেশীয় মৎস্যনিধন

আইনি জটিলতা ও প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রাম, ইটন, মিঠামইন, নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার কিছু অংশ প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের এক বিশাল আধার। কিন্তু বর্তমানে এই হাওরগুলোতে অবৈধ জাল ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। চায়না দুয়ারি, কারেন্ট জাল এবং মশারি জালের অবাধ ব্যবহারে হাওরের জলজ পরিবেশ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এই জালগুলোর সূক্ষ্ম বুননের কারণে রেনু ও পোনা মাছও রেহাই পাচ্ছে না, ফলে মাছের প্রাকৃতিক বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া পানির নিচে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা চায়না দুয়ারি জাল মাছ চলাচলের পথ রুদ্ধ করে নির্বিচারে সব ধরনের মাছনিধন করছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের মূল কারিগর এই নিষিদ্ধ জালগুলো এখন স্থানীয় হাট-বাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। অষ্টগ্রামের আদমপুর বাজার ও নাসিরনগরের চাতলপার বাজারসহ হাওর এলাকার বিভিন্ন বাজারে এগুলো অবাধে বেচাকেনা চলছে। সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে অসাধু চক্র সহজেই এই মরণফাঁদ সংগ্রহ করতে পারছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা ও জাল পুড়িয়ে ফেলার উদ্যোগ নিলেও, আইনি জটিলতার কারণে এটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল আনতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এই বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিষিদ্ধ জাল বন্ধ করতে হলে মূলত এর উৎপাদন ও আমদানির উৎসগুলো বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর, লৌহজং ও গজারিয়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি ঘরে এসব জাল তৈরির কারখানা রয়েছে। তারা আইনি জটিলতা বা উচ্চ আদালতের রিটের দোহাই দিয়ে সারাদেশে এই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে নিয়েছে, যা আমাদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরও জানান, গত বছর পাকুন্দিয়া উপজেলায় নিষিদ্ধ জালের একটি বিশাল চালান আটক করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা উচ্চ আদালতের এমন একটি আদেশের কপি দেখান, যেখানে সারাদেশে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকার কথা বলা হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবগত মুচলেকা নেওয়া হয়, ওই ব্যবসায়ীরা কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় কোনোভাবেই এই নিষিদ্ধ জাল বিক্রি করবেন না। এই মুচলেকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও মূলত আইনি কৌশলের কাছে প্রশাসন অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় হাট-বাজারে জাল বিক্রির বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় বাজারে গিয়ে নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হয় না। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আমরা অবশ্যই অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। হাওরের নদী ও খালগুলোতে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হাওরের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এখনই সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। শুধু হাওরে অভিযান না চালিয়ে জাল উৎপাদনকারী মূল চক্রকে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক ও মৎস্যজীবীদের নিয়ে প্রতিটি এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং দেশীয় মাছের অভয়াশ্রম গড়ার মাধ্যমে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সমন্বিত ও টেকসই পদক্ষেপই পারে এই ধ্বংসযজ্ঞ রোধ করে হাওরের মৎস্যসম্পদ ও জাতীয় অর্থনীতিকে রক্ষা করতে।


৭ দিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মাগুরা, সড়ক-সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন পাঁচ গ্রামের যোগাযোগ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা

টানা ৭ দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাগুরার জনজীবন। অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে পানিতে। কোনো কোনো এলাকার সড়ক এবং সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

শহরের নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যাওয়াই ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। টানা সাত দিন বৃষ্টি নামার পর মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সূর্যের দেখা মিললেও রাস্তায় পানি কাদার জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মাগুরাবাসীকে।

গত শুক্রবার (১১ জুলাই) ভারি বর্ষণের কারণে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের সড়কের ছোট্ট সেতুটি পানির প্রবল চাপে ভেঙে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে আশেপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষ। সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভেঙে পড়া সেতুটির উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চলাচল ছিল। বর্তমানে সাধারণ মানুষের চলাচলে অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না এমনকি কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে সময়মতো হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এলাকাবাসীরা জানান,ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য সেতুটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া শর্তেও কোনো কাজ হয়নি অনেক যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে এর উপর দিয়ে চলাচল করতো টানা বৃষ্টিতে ব্রিজের নিচের মাটি সরে গিয়ে ভেঙে পড়েছে। দ্রুত সেতুটি সংস্কার করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তারা।

এদিকে মাগুরার চারটি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা, কুমার, ফটকি ও মধুমতি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে বয়ে চলেছে।

এছাড়াও মাগুরা সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা যেমন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কলেজপাড়া, আলামিন স্কুল সংলগ্ন সড়কসহ বিভিন্ন নিম্নাঅঞ্চল সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো এলাকার পানি নেমে গেলেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়কের। যেমন পলি ক্লিনিক সংলগ্ন সড়ক, শুভেচ্ছা প্রিপারেটরি স্কুল সংলগ্ন সড়কের বেহাল দশার জন্য রিক্সা এবং অটো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে যাওয়াই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ফলে প্রায় সময় নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটে। শহরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও ময়লা আবর্জনার কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে পানিতে তলিয়ে যায়।

বিশেষ করে কলেজ পাড়ায় বিভিন্ন কোচিং সেন্টার হওয়ায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীরা কোচিং করতে এই সড়ক ব্যবহার করে। বিভিন্ন জায়গায় ড্রেনের মুখ খোলা থাকায় প্রায় সময় ড্রেনের মধ্যে পড়ে শিক্ষার্থীদের জামা কাপড় নোংরা হয়ে যায়। তাছাড়া ভারি বর্ষণের কারণে সময় মত কোনো যানবাহন না পাওয়ায় সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীরা অফিস আদালতে বা বিদ্যালয় যেতে পারছেন না। এদিকে সারাদেশে চলছে এইচএসসি পরীক্ষা সেই সাথে হাইস্কুলগুলোতে শুরু হয়েছে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা। কিছু কিছু এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় ঘর থেকে বেরোতে পারছেন না অনেকেই। পরীক্ষার জন্য বৃষ্টিতে ভিজেই শিক্ষার্থীদের যেতে হচ্ছে পরীক্ষা দিতে। অধিকাংশ সময় বৃষ্টির জন্য যানবাহন না পাওয়ার কারণে কলেজ ও বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।

তবে এ ব্যাপারে মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোয়াদ্দার একটি বিশেষ পন্থা অবলম্বন করেছেন। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কথা চিন্তা করে তিনি পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের থেকে ১৫ - ২০ মিনিট দেরিতে পরীক্ষা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে অভিভাবকরা বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, টানা সাতদিন বৃষ্টিতে ঘর থেকেই বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও পরীক্ষার জন্য আমাদেরকে এই বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পানি জমে থাকায় আমাদের জুতা অনেক সময় ভিজে যায় এতে চুলকানি সহ নানা ধরনের সমস্যায় ভুগতে হয়। আবার অনেক সময় পা পিছলে পানিতে পড়ে আমাদের কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।

শহরের সততা কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা বলেন, টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে মাগুরার বিভিন্ন গ্রামের বাড়িঘর রাস্তা, মাঠঘাট পানিতে তলায় গেছে। সেজন্যি বিভিন্ন শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর যেগুলো আছে রাস্তায় পানি কাঁদার জন্যি যানবাহন না পাওয়ায় সেগুলো আনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাজারে সবজির পরিমাণ খুবই কম। এতে আমাদের মতো ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।

মাগুরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান বারী জানান, শহরে পানি জমার প্রধান কারণ হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপব্যবহার। পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে কলেজপাড়া একটি ব্যস্ততম এলাকা এখানে ঘনবসতি হওয়ায় বাসা বাড়ির সমস্ত ময়লা প্রতিনিয়ত পলিথিনে করে ড্রেনের মধ্যে ফেলা হয়। নিষেধ করলেও কেউ শোনে না আর প্রতিনিয়ত এই ময়লা ফেলার কারণে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।


banner close