রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬
১৫ চৈত্র ১৪৩২

ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রহরীকে মারধরের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

ইউএনও সমর কুমার পাল। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:৫৬

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে নৈশপ্রহরীকে মারধরের অভিযোগে জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। বগুড়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ডিসি জিয়াউল হক জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনা জানার পর মৌখিকভাবে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন আহমেদকে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সদর ইউএনওর ওপর অভিযোগের বিষয়ে আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এখনো লিখিত কোনো নির্দেশনা আসেনি। লিখিত আসার পরই আমি যথাযথ নিয়ম মেনে প্রতিবেদন জমা দেব।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরের ইউএনও সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে আলমগীর হোসেন নামের এক নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে গুরুতর আহতের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের পর তাকে উপজেলা পরিষদের ক্যাম্পাসে ফেলে রাখা হয়। তবে ইউএনওর দাবি, ‘তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। সে সিমপ্যাথি নেয়ার জন্য এমন অজুহাত দেখাচ্ছে।’

আলমগীর হোসেন সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের নৈশপ্রহরী। তিনি সিরাজগঞ্জ সদরের মেহের আলীর ছেলে। বর্তমানে চাকরির সুবাদে উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের কোয়ার্টারে থাকেন।

বৃহস্পতিবার শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর বলেন, ‘আমার স্ত্রী বগুড়ায় আমার সঙ্গে থাকতে চায়। এ নিয়ে ১৫ দিন আগেও উপজেলা প্রকৌশলী স্যারের কাছে কমপ্লেইন দিয়েছে। এইটা নিয়ে স্যার আমাকে তিনবার শোকজ করছেন। আমি জবাব দিছি। আজ ইউএনও স্যারের কাছে বউ গিয়ে আবার কমপ্লেইন দেয়।’

আলমগীর হোসেন আরও জানান, ‘এই কমপ্লেইনে ইউএনও স্যার আমাকে তার অফিসে ডাকে। আমি গেলে আনসার সদস্যরা আমাকে ধরে তার (ইউএনও) কাছে নিয়ে আসে। আর লাঠিও আনে তারা। ইউএনও স্যার এসে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে। ওই সময় তার দেহরক্ষী দুই আনসার সদস্য আমাকে ধরে রেখেছিল। আমি অনেক কাকুতি-মিনতি করেছি, আমাকে যেন না মারে। বলছি, স্যার আমি আপনার স্টাফ। কিন্তু স্যার আমাকে মারতেই থাকে। একবার অচেতনও হয়ে পড়ি।’

তবে মারধরের ঘটনা সত্য নয় বলে দাবি করেন সদর ইউএনও সমর কুমার পাল। তিনি বলেন, ‘আলমগীর সদর উপজেলা প্রকৌশল অফিসের নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরি করে। কিছুদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝামেলা চলছে। আলমগীর তার বউকে উপজেলা ক্যাম্পাসে এনেছে। রাত্রিযাপন করেছে। কিন্তু বউকে এখানে রেখে সে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়টি গত বুধবার জানতে পারি।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে আলমগীরের স্ত্রীকে উপজেলার সিঁড়ির মধ্যে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখি। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি তার মেয়ের বাড়ি মাঝিড়াতে। এ কথা শুনে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সেখানে পাঠিয়ে দিই। এখন এ ঘটনার পরে আজ (শুক্রবার) বিকেলে আলমগীর দেখি কোথা থেকে আসে। আমি তাকে ডেকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছি। আর তাকে বলেছি তুমি এই সমস্যা সমাধান না করে এখানে আসবা না। এ ছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীকেও বলে দিয়েছি, ভাই এই ছেলেকে আপনি বদলি করেন।’

সমর কুমার পাল আরও বলেন, ‘এরপর দেখি সিমপ্যাথি নেয়ার জন্য আলমগীর আমগাছের নিচে শুয়ে পড়ে। সবাইকে বলছে তাকে মারধর করা হয়েছে। অনেকেই তার এ কাজে ইন্ধন দিচ্ছে। কিন্তু আমার দিক থেকে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

আলমগীরের স্ত্রী শহীদা বেগম কোনো অভিযোগ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, ‘তাকে তো আলমগীর ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল। আমি পরিষদের নিরাপত্তার কারণে, সুনাম রক্ষার জন্য তাকে মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। কোনো অভিযোগের বিষয় নেই।’


পদ্মায় বাসডুবির যেসব কারণ, অভিযোগ আকাশ সমান 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি                                     

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এসেছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ও ঘাট পরিচালনার বিশৃঙ্খলার চিত্র।

রেলিংবিহীন অরক্ষিত পন্টুন, অ্যাপ্রোচ সড়ক ঢালু ও খানাখন্দে ভরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে আগে উঠতে যানবাহনগুলোর প্রতিযোগিতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ফেরিঘাটটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যার কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইতোমধ্যে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রাজবাড়ী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন, ‘বাস দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ী জেলার ১২টি পরিবারের ১৮ জন রয়েছেন। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার চারজন, ঝিনাইদহের একজন, গোপালগঞ্জের একজন, দিনাজপুরের একজন এবং ঢাকার আশুলিয়ার একজন। কোনো পরিবারের মা-ছেলে ও নাতির মৃত্যু হয়েছে, কোনো পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, আবার কোনো পরিবারে মা-মেয়ে, মা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত হলে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।’

এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকেও ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম। কমিটিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, গত বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নদী পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে।

সরেজমিনে ৩ নম্বর ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, অত্যন্ত পুরোনো আকারে ছোট পন্টুনটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। লোহার রেলিং বা নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। এতে যাত্রী ও যানবাহনকে ফেরিতে ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হয়। অপর দুটি ঘাটেরও (৪ ও ৭ নম্বর ঘাট) একই চিত্র। ফেরিঘাটের মূল সড়ক থেকে পন্টুন পর্যন্ত সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়কগুলো বেশ ঢালু। তিনটি ঘাটেই সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। এতে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে যানবাহনগুলোতে ফেরিতে ওঠানামা করতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়। মাঝে মধ্যে এই সংযোগ সড়কে যানবাহন আটকে যাচ্ছে, কখনো দুর্ঘটনাও ঘটছে।

কুষ্টিয়া থেকে আসা গাজীপুরগামী এমআর পরিবহনের যাত্রী জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পন্টুনে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী বা রেলিং নেই; থাকলে ওই বাসটি নদীতে পড়ে ডুবে যেত না। এত মানুষের প্রাণহানিও হতো না। অথচ এদের কত বাজেট থাকে, এদের গাফিলতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

২৫ মার্চ বেলা ১১ টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফোরিঘাটের পন্টুনে আটকে যায় তরমুজ বোঝাই একটি ট্রাক। এতে করে অল্পের জন্য রক্ষা পায় তরমুজসহ ট্রাকে থাকা ৩ জন।

দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে আসা ট্রাকচালক হামিদুর রহমান বলেন, ‘ফেরিতে ওঠানামার সড়কগুলো খাড়া ঢালু। লোড নিয়ে ফেরিতে গাড়ি ওঠানামা করতে অনেক সময় ব্রেক কন্ট্রোল (নিয়ন্ত্রণ) করতে সমস্যা হয়। ব্রেক ফেল করলেই দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। ফেরিগুলোও পুরোনো।’ এগুলোর দিকে কারও নজর নেই। আমরা সব সময় এখান দিয়ে যাওয়ার সময় দুশ্চিন্তায় থাকি।’

সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পেছনে ঘাট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ঘাট পার হতে আসা যানবাহন পন্টুনে ওঠার আগের সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। এরপর ঘাটে আসা ফেরি থেকে সব যানবাহন নেমে যাওয়ার পর অপেক্ষায় থাকা যানবাহনগুলো ফেরিতে উঠবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গত বুধবার বিকেলে হাসনাহেনা নামের ফেরিটি ঘাটে এসে পৌঁছাতেই সংযোগ সড়ক থেকে চলতে শুরু করে বাসটি, যা সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ে।

সৌহার্দ্য পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মনির হোসেন বলেন, ‘দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্টে অনেক সময় বিআইডব্লিউটিসির তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা দায়িত্বে থাকেন। ঘাটের পরিস্থিতি না বুঝেই অনেক সময় নদী পাড়ি দিতে আসা ঢাকামুখী গাড়িগুলোকে ফেরিঘাটে পাঠিয়ে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিকেও ৩ নম্বর ঘাটে পাঠিয়ে দেন। ঘাটে এসে তারা দেখেন, একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে চলা শুরু করেছে। উপায় না পেয়ে পন্টুনের মাথায় সংযোগ সড়কে পরের ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ছোট ফেরি এসে পন্টুনে ধাক্কা দিয়ে ভেড়ে। সংযোগ সড়ক ঢালু সড়ক হওয়ায় এবং পন্টুনের ধাক্কা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সরাসরি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায় বাসটি।

স্ত্রী-সন্তান হারা রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘ফেরি কর্তৃপক্ষের অনেক গাফিলতি আছে। ফেরিতে কতগুলো যানবাহন ধরবে সেটা তারা না দেখেই উপর থেকে বাসটিকে ডেকে নিচে নিয়ে আসে। অথচ বাসটি এসে ফেরির নাগাল পায়নি। তা ছাড়া অ্যাপ্রোচ সড়কের অবস্থা বেহাল। আমি চাই তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ বলেন, ‘পন্টুনগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে রেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। যারা ফেরি ও ঘাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’ একই সঙ্গে ঘাটের জরাজীর্ণতা দূর করতে দ্রুত সমাধানের কথাও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাধারণত গাড়িগুলো পন্টুনে আসার আগে থামে। এরপর সুবিধামতো ফেরিতে উঠে পড়ে। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় দেখা গেছে, হাসনাহেনা ফেরিটি প্রস্তুত ছিল না, তার আগেই চালকের ভুলে গাড়িটি পন্টুনে এসেছে। নিয়ম হলো, ফেরিতে থাকা গাড়িগুলো আগে নামবে, এরপর নতুন করে যানবাহন উঠবে।’

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন,

‘বাসটি ‘ব্রেক ফেল’ করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছেন।’ তিনি বলেন, ‘ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্টে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীসহ অন্য কর্মীরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বুধবার দুর্ঘটনার আগে বাসটি ফেরিঘাটে অপেক্ষমাণ ছিল। বাসটি ব্রেক ফেইল করলে চালক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।’

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক বাসযাত্রী এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটিতে ত্রুটি ছিল। যে কারণে চালক বাসটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এরপরও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্তের কাজ শুরু করেছেন। তদন্তের পর দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে।’

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, ‘এখন আর নিখোঁজের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। যদি নিখোঁজের খবর আসে, তাহলে তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করা হবে।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘সরকার এর মধ্যে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে ঘাট ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান জানান, নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার কাজ করবে।

তবে এই দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানির নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং দায়িত্বহীনতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। স্বজন হারানোর বেদনা আর প্রশাসনিক জবাবদিহির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। পদ্মার বুকে ডুবে যাওয়া একটি বাস যেন উন্মোচন করে দিয়েছে বহুদিনের অব্যবস্থাপনা-যার মাশুল গুণতে হলো যাত্রীদের প্রাণ দিয়ে।

এখন দেখার বিষয়-তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কী কেবল ফাইলের ভেতরেই বন্দি থাকবে, নাকি সত্যি বদলাবে দৌলতদিয়া ঘাটের ভাগ্য। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর আদৌ কী বদলাবে ঘাটের চিত্র, নাকি এই কান্না আর ক্ষোভই হয়ে থাকবে পরবর্তী দুর্ঘটনার পূর্বাভাস হিসেবে।


যশোরে তেল মজুদ রেখেও বিক্রি বন্ধ, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

যশোরে জ্বালানি তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।

রবিবার (২৯ মার্চ) সদর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের তেলের মজুদ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। এ সময় শহরের মনিহার এলাকার যাত্রিক ফিলিং স্টেশন-এ ৮১৫ লিটার পেট্রল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ ঘটনাকে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে করিম, চলন্তিকা, প্রাইম, চয়নিকা, জালালউদ্দিন, আমিন এবং মনিহার এলাকার মনির উদ্দিন ফিলিং স্টেশনেও তদারকি করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে তেলের মজুদ ও বিক্রয় কার্যক্রম স্বাভাবিক পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসাইন।

তিনি জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সরিষাবাড়ীতে ভেঙে যাওয়ার ৬ বছরেও জোড়া লাগেনি ব্রিজের পিলার ও স্প্যান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

৬ বছরেও জোড়া লাগেনি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত শুয়াকৈর ব্রিজটির দুই প্রান্ত। ২০২০ সালের প্রবল বন্যায় পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় ৬ বছরেও জোড়া লাগেনি কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর এলাকায় নির্মিত এ ব্রিজটির পিলার ও স্প্যান। ফলে চলাচলের নানা দুর্ভোগ নিয়েই যাতায়াত করছে দুই উপজেলার ১৭ থেকে ২০টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। বর্ষাকালে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত কাঠের ব্রিজই এখন একমাত্র ভরসা স্থানীয়দের। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে নৌকায় যাতায়াত করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণহানির মতোও ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ভোগ লাঘবে অতি দ্রুত ব্রিজটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে শুয়াকৈর-হুদুর মোড় এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর নির্মাণ করা হয় ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি। প্রায় ২ কোটি টাকায় সেতুটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায় এম এইচ এন্টারপ্রাইজ। ২০০৬ সালে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। নির্মাণের ১৪ বছরের মাথায় গত ২০২০ সালের ২১ জুলাই দুপুরে বন্যার পানির তোড়ে ব্রিজটির দুটি পিলারসহ ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি গার্ডার প্রায় এক ফুট ঢেবে যায় এবং ওইদিন রাতেই ব্রিজের মাঝের অংশের ৭ নম্বর পিলার এবং ৬ ও ৭ নম্বর স্প্যানের ৪০ মিটার পানির তোড়ে ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সেতুর মাঝামাঝি তিনটি স্প্যানসহ ৬০ মিটার ব্রিজ নদীতে এক রাতেই বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নদী পারাপারে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় এ অঞ্চলের মানুষদের। ব্রিজটি নদীতে বিলীন হওয়ায় সাধারন মানুষে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বর্তমানে ভেঙে যাওয়া সেতুটির দুপাশের অংশ মূর্তিমান হিসেবে দাড়িয়ে আছে। সেতুটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া ৬ বছর হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্দ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এতে চরম অনিশ্চিত হতাশা ও চলাচলে দুর্ভোগে পড়েন সরিষাবাড়ী উপজেলার চররৌহা, চরনান্দিনা, বড়বাড়ীয়া, বীর বড়বাড়ীয়া, হেলেঞ্চাবাড়ী, স্বাধীনা বাড়ী, চরহাটবাড়ী, সিধুলী, চুনিয়াপটল, সিংগুরিয়া, ডিগ্রি পাজবাড়ী, খন্দকারবাড়ী, চরছাতারিয়া, আদ্রা, শুয়াকৈর ও পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জ উপজেলার চর লোটাবর, শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী, সদরাবাড়ী ও রায়েরছড়াসহ চরাঞ্চলের প্রায় ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।

শুয়াকৈর গ্রামের সামাদ মণ্ডল, আব্দুল মোতালেব, জয়তন বেওয়া, শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, বরণ মিয়া, সুমাইয়াসহ একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের রাস্তা নেই, যাতায়াত করতে পারছি না। সবাই শুধু আশা দিয়ে যাচ্ছে। কেউ দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসছে না। ব্রিজটি ভাঙার পর থেকে আমাদের আর দুঃখের শেষ নেই। নিম্নমানের কাজ করার কারণেই ব্রিজটি ভেঙে গেছে। নদী পাড়াপারে চরম বাধা হয়ে দাড়িয়েছে এলাকার মানুষের। জনবহুল এ চরাঞ্চলের নারী-পুরুষরা নদী পারাপারে বিকল্প হিসেবে নৌকায় গাদাগাদি করে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। নৌকায় পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় নদীর দুই পাড়ে। কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে না পারার কারণে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া চরাঞ্চলের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ারও চরম বিঘ্নতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ব্রিজটি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ায় বেকার হয়ে পড়ছে দুই পাড়ের শত শত দরিদ্র রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালকরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, ‘ব্রিজটি সংস্কার করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামিমের পক্ষ থেকে ও উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকাটি স্বাক্ষরিত হয়ে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের গিয়েছে। ব্রিজটি সংস্কার করার সকল প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপি বলেন, ‘৬ বছর ধরে ব্রিজটি ভাঙার কারণে মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যেই শুয়াকৈর ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে ও এলজিইডি অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করি অতি দ্রুত শুয়াকৈরবাসীসহ দুই উপজেলার একাধিক গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ শেষ হবে।’


মোংলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মোংলা প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোংলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেল উদ্ধার হয়।

রোববার (২৯ মার্চ) মধ্যরাতে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন এলাকায় অবস্থিত যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এ এই অভিযান চালানো হয়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, এনএসআই এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। তেল সংরক্ষিত তিনটি ট্যাংক পরিমাপ এবং নথিপত্র যাচাই শেষে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অবৈধ তেল শনাক্ত করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ লক্ষ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা।

অবৈধভাবে মজুতকৃত তেলের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে চলমান রয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানান সাব্বির আলম সুজন

এ ঘটনায় ডিপো ম্যানেজার মো. আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে তিনি অনুপস্থিত থাকায় দাপ্তরিক নথি ও হিসাব উপস্থাপন করেন অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর মো. ফারুক হোসাইন।

অন্যদিকে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমির মাসুদ জানান, ডিপোর তেলের হিসাবে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্ট ট্যাংকগুলো সিলগালা করা হয়েছে। আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।


কাপাসিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ জন আটক: প্রাইভেটকার, খেলনা অস্ত্র উদ্ধার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি 

গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার (২৮ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের পাপলা চামুরখী মোড় থেকে একটি প্রাইভেটকার, খেলনা অস্ত্র, চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করেছে।

থানার প্রেস রিলিজ মারফত জানা যায়, গত শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে কাপাসিয়া থানার এএসআই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে থানা পুলিশ সদর ইউনিয়নের বলখেলা বাজার এলাকায় টহলরত ছিলেন। ওই সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শে পার্শ্ববর্তী টহলরত এসআই মো. মিলন মিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে একযোগে অতর্কিত অভিযান চালিয়ে তারা উল্লিখিত স্থান থেকে ৪ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আটককৃতরা হলেন- শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের মানিক মিয়ার পুত্র মো. সাগর (২৪), টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার আইসড়া গ্রামের মৃত আ. আজিজ তালুকদারের পুত্র মশিউর রহমান জুয়েল (৩৫), জয়দেবপুর সদরের বরুদা এলাকার মৃত শহীদ জালাল উদ্দিনের পুত্র নওয়াব আলী (৬০), ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার রহিমপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র মো. সাব্বির (১৫)। তারা সবাই বর্তমানে গাজীপুর সদরের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে।

আটককৃতদের নিকট থেকে একটি পিস্তল সাদৃশ্য খেলনা পিস্তল, একটি শর্টগান সাদৃশ্য খেলনা শর্টগান, একটি চাপাতি, একটি কালো রঙের এক্সারসাইজ স্টিক, একটি মাস্টার চাবি, দুটি অ্যান্ড্রয়েড ও তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ধূসর রঙের প্রাইভেট গাড়ি (নম্বর: ঢাকা মেট্রো- গ-১২-৬৪০২. জব্দ করা হয়।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুর রহমান জানান, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটককৃতরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়রি নং- ১৩৬৫ মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে তাদের গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।


নওগাঁয় স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু, ঘাতক স্বামী আটক 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত স্ত্রী আফসানা মিমি (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এ ঘটনায় রাতেই উপজেলার বকাপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেন সাগরকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।

আটক সাদ্দাম হোসেন উপজেলা সদর মধ্যবাজার গ্রামের জান মোহাম্মদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুরে মধ্য বাজার এলাকার সাদ্দাম হোসেন তার স্ত্রীকে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। গত ১৬ মার্চ পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সাদ্দাম তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা মিমিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহত গৃহবধূর স্বামী সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।


গোপালগঞ্জে ১৫ শত লিটার পেট্রোল মজুদ করায় গঙ্গা মটরসকে জরিমানা ও তেল বিক্রির নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সহিদ চৌধুরী, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের পাঁচুড়িয়ায় ১৫০০ লিটার পেট্রোল অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে ‘গঙ্গা মটরস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ ২৮ মার্চ শনিবার দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারদিন খান প্রিন্স।

জানা গেছে, পাঁচুড়িয়া বাজারে অবস্থিত গঙ্গা মটরস নামের ওই প্রতিষ্ঠানে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং অধিক মুনাফার আশায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে হানা দেয় এবং অবৈধভাবে রাখা ১৫০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করে। আইন অমান্য করে এই বিপুল পরিমাণ তেল মজুদের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

জরিমানা করার পাশাপাশি জনস্বার্থ বিবেচনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জব্দকৃত পেট্রোল সরকার নির্ধারিত মূল্যে উপস্থিত সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে বিক্রির নির্দেশ দেন। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাওয়ার সুযোগ পেয়ে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা মটরস মালিক অর্ণব শর্মা (৫৬) জানান তিনি অসুস্থ থাকার কারনে এক সপ্তাহ দোকান খুলতে পারেননি তাই তার দোকানে এ অবিক্রীত পেট্রোল মজুদ রয়েছে। তিনি অসৎ উদ্দেশ্য বা অধিক মুনাফার আশায় মজুদ করেন নি।


ট্যাংকলরি শ্রমিকদের কর্মবিরতি, উত্তরের ৮ জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

তেল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্যাংকলরি চালকসহ তিন শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানার প্রতিবাদে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে উত্তরের ৮টি জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় তিন শ্রমিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা করার প্রতিবাদে এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এতে পার্বতীপুরে রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহসহ সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। পেট্রোল পাম্প মালিকরা শ্রমিকদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল নিয়ে নীলফামারীর যাওয়ার পথে তেলবাহী একটি লরির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। মেরামত করতে গাড়িটি দাড় করিয়ে শ্রমিকরা গাড়ির কেবিন খুলে কাজ করছিলেন। এ সময় নীলফামারী জেলার এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়া রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি লরি তল্লাশি করে কেবিনে দুটি জারকিনে ১০ লিটার পেট্রোল ও দুই লিটার ডিজেল পান। এ সময় অবৈধভাবে তেল পাচারের অভিযোগে একরামুল হক, চালক শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র ও চালকের সহকারী রিফাতকে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। সেই সঙ্গে তিন জনকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকরা। দুপুরে তারা পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর সামনে একটি সমাবেশ ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সড়কে মহাসড়কে পুলিশি হয়রানি ও অযৌক্তিকভাবে ট্যাংকলরি গাড়ির চালক, ম্যানেজার ও হেলপারকে জেল-জরিমানা করার প্রতিবাদে নিয়াজ ভূঁইয়াকে দ্রুত অপসারণ ও দণ্ডিত শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি চলছে। দাবি বাস্তবায়ন বা পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান জানান, অবিলম্বে জেল হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির পাশাপাশি অভিযুক্ত এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়াকে অপসারণ করা না হলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, জেল-জরিমানায় হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট চলছে। আমরা আল্টিমেটাম দিয়েছি শ্রমিক ভাইদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এনডিসির অপসারণ না হলে আমাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। আমাদের সঙ্গে পাম্প মালিকরাও একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।


নড়াইলে সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ ঘোষণা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল জেলা প্রতিনিধি

নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় জেলার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে নড়াইল পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে দিকে নড়াইল পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম হিট্রু পাম্প বন্ধ ঘোষনার বিষযটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি মুঠো ফোনে বলেন, তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সর্দার হত্যার ঘটনায় জেলার ১০টি পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে প্রকৃত দোষের অতিদ্রুত আটকের ও দাবি জানান এই নেতা ৷

উলেখ্য, নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় এক পেট্রোল পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরেক জন গুরুত্ব আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

রবিবার ( ২৯ মার্চ) দিবাগত রাত দুইটার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর রেল ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ট্রাক চাপায় নিহত নাহিদ সরদার(৩৩) উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। এবং আহত জিহাদ মোল্যা(২৭) একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে তুলারামপুরে অবস্থিত মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে শনিবার রাত ১২টার দিকে ট্রাকের ডিজেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাক চালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে তেল না থাকায় তেল দিতে পারেননি পাম্প ম্যানেজার নাহিদ সরদার। তেল না পেয়ে ট্রাক চালকের সাথে বাগবিতণ্ডা হয়। বাগবিতণ্ডের এক পর্যায়ে ট্রাক চালক সুজাত ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করার হুমকি দেন।

পরে রাত দুইটার দিকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ গ্রাম পেড়লী যাচ্ছিলেন ম্যানেজার নাহিদ ও কর্মচারী জিহাদ। পাম্প থেকে ১০০ গজ দূরে গেলে পিছন দিয়ে এসে ট্রাক চালক সুজাত তার গাড়ি লক্ষ্য করে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে পাম্প ম্যানেজার নাহিদ সরদার মারা যান। মারাত্মক আহত অবস্থায় জিহাদ মোল্যাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তানভীর ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার জসীম উদ্দিন বলেন,"গতকাল রাতে সুজাত নামের এক ট্রাকচালক স্টেশনে তেল নিতে আসেন।

এ সময় তেল নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজার নাহিদ সরদারের সঙ্গে ট্রাকচালকের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে চালক প্রকাশ্যে ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন। পাম্পের কাজ শেষ করে নাহিদ তার সহযোগীকে নিয়ে যখন বাড়ি যাচ্ছিলেন, তখন পিছন দিয়ে গিয়ে তাকে ট্রাক চাপা দেয়।"

পাম্পের আরেক কর্মচারী সোহান হোসেন জানান, ম্যানেজার নাহিদ যখন মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি যাচ্ছিলেন তখন ট্রাক ড্রাইভার ও পাম্প থেকে গাড়ি চালিয়ে তার পিছন দিকে যাচ্ছিলেন। আমাদের মনে সন্দেহ হলে আমরা দ্রুত সামনের দিকে যাই। গিয়ে দেখি তাকে চাপা দিয়ে গাড়ি দ্রুত চলে যাচ্ছে।'

এ ঘটনায় নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনের হাহাজারি আর শোকোর মাতম। হত্যাকারীকে দ্রুত আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পরিবারের সদস্যরা। নিহতের নাহিদের ভাই আকতার সরদার বলেন, একই গ্রামে বাড়ি হলে ও হত্যাকারীদের সাথে আমাদের কোনো পূর্ব বিরোধ নেই। পাম্পে তেল নাই। সে কীভাবে দেবে। তেল দিতে না পারায় আমার ভাইকে সুজাত ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি বাড়িতে তার কোনো পরিবারের সদস্য না থাকায় অভিযুক্তের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেকেন্দর আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই৷ সেখানে গিয়ে দেখি নাহিদ নামে একজন মৃত অবস্থায় রাস্তার উপর পড়ে আছে। জিহাদ মোল্যাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, পাম্পে তেল না পেয়ে তাকে ট্রাকে চাপা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এবং ট্রাক চালক ও ট্রাক আটক করার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।


ধানের আড়তে মিললো ড্রামভর্তি ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর জেলা প্রতিনিধি

যশোরের মণিরামপুরে একটি ধানের আড়ত ও গুদামে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার খেদাপাড়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, খেদাপাড়া বাজারের জ্বালানি তেল বিক্রেতা তবিবর রহমান ও পাশের ধান ব্যবসায়ী গোবিন্দ দাসের গুদামে প্লাস্টিকের চারটি ড্রামে এই বিপুল পরিমাণ তেল লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকালে অভিযান চালানো হলে প্রথমে গোবিন্দের আড়তে ধানের স্তূপের নিচ থেকে এক ড্রাম তেল উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তবিবরের নিজস্ব গুদাম থেকে আরও তিন ড্রাম তেল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে মূল অভিযুক্ত তবিবর রহমান সটকে পড়েন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন জানান, জব্দ করা তেলের মধ্যে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিমাপ না করা গেলেও ড্রামগুলোর ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেলের পরিমাণ আনুমানিক ৭০০ লিটার। জব্দ করা এই তেল মণিরামপুর বাজারের একটি ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।

বাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তবিবর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিতেন। অথচ তিনি গোপনে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা লিটার দরে পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করতেন। ধানের আড়তদার গোবিন্দের সাথে সখ্যের সুবাদে তবিবর তার গুদামকে অবৈধ মজুতের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। শনিবার সকালে আড়তে ধানের নিচে ড্রাম দেখতে পেয়ে স্থানীয়রাই প্রশাসনকে খবর দেয়।


‘তেল নাই’ লেখা দুই পাম্পে মিলল ২৮ হাজার লিটার তেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

ফরিদপুর সদর উপজেলার দুটি পাম্পে অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে হোসেন ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নাই’ লেখা প্লাকার্ড লাগিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ অপরাধে হোসেন ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৮ মার্চ) বিকালে ফরিদপুর -খুলনা মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী কানাইপুর বাজারে হোসেন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ না করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই পাম্পেই ৭০০০ লিটার পেট্রোল, ৬৫০০ লিটার অকটেন ও ১৪৫০০ লিটার ডিজেল মজুত পাওয়া যায়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত হোসেন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ভোক্তাদের জন্য পাম্প চালু করে বাস, ট্রাক, কৃষক, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়াম প্রদান করার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে প্রার্থনা করে।

প্রশাসন জানায়, একই দিন জেলা সদরের কানাইপুর এলাকায় রয়েল ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তাদের শুধু ডিজেল বিক্রি করে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ ছিল। এসময় যাচাই করে দেখা যায়, পাম্পে ৩৫০০ লিটার পেট্রোল, ৩৪০০ লিটার অকটেন ও ১৯০০০ লিটার ডিজেল রয়েছে। এ সময় পাম্পের মালিক ও ম্যানেজার মেশিনের সমস্যা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ চালু করে ভোক্তাদের সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম, দীপ্ত চক্রবর্তী এবং সাকিব রহমান আকাশ এ অভিযান পরিচালনা করেন।

সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


লাইনচ্যুত হল দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস

আপডেটেড ২৯ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৪৭
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। ১ নম্বর লাইনে এই দুর্ঘটনা ঘটার কারণে অন্যান্য ট্রেনগুলো স্টেশনের ২ নম্বর লাইনে চলাচল করে স্বাভাবিক রয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।

সেতাবগঞ্জ স্টেশন মাস্টার মজনুর রহমান জানান, পঞ্চগড় থেকে সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১ নম্বর লাইনে প্রবেশের সময় ‘গ’ নম্বর বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। বর্তমানে উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের সেবার কথা বিবেচনায় রেখে যে বগিটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটি রেখে অন্যান্য বগি নিয়ে ট্রেনটি সান্তাহারে যাত্রা শুরু করবে।

দিনাজপুর স্টেশন সুপার এবিএম জিয়াউর রহমান বলেন, সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১ নম্বর লাইনে লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে ২ নম্বর লাইনে অন্যান্য ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকালেই পঞ্চগড় থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সঠিক সময় অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, সেতাবগঞ্জ ও দিনাজপুর স্টেশন অতিক্রম করে ঢাকা অভিমুখে রওনা দিয়েছে।


ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে ভারত থেকে আসছে আরও সাত হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে চলতি বছরে চতুর্থ দফায় ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর অভিমুখে এই পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, এবারের চালানে ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসবে। পাম্পিং শুরু হওয়ার পর পাইপলাইনের মাধ্যমে এই তেল গন্তব্যে পৌঁছাতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পুরো ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে জমা হবে।

পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব জানান, এর আগে গত শুক্রবার ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে চার দফায় মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে এলো। ভারত থেকে আসা এই জ্বালানি তেল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা— এই তিন রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূ-গর্ভস্থ পাইপলাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি শুরু হয়। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল আসতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগতো, যা এখন মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সম্ভব হচ্ছে।

দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করবে। বর্তমানে বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ভবিষ্যতে এর পরিমাণ ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।


banner close