রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রহরীকে মারধরের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

ইউএনওর বিরুদ্ধে প্রহরীকে মারধরের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি
ইউএনও সমর কুমার পাল। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে নৈশপ্রহরীকে মারধরের অভিযোগে জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। বগুড়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ডিসি জিয়াউল হক জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনা জানার পর মৌখিকভাবে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন আহমেদকে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সদর ইউএনওর ওপর অভিযোগের বিষয়ে আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এখনো লিখিত কোনো নির্দেশনা আসেনি। লিখিত আসার পরই আমি যথাযথ নিয়ম মেনে প্রতিবেদন জমা দেব।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরের ইউএনও সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে আলমগীর হোসেন নামের এক নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে গুরুতর আহতের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের পর তাকে উপজেলা পরিষদের ক্যাম্পাসে ফেলে রাখা হয়। তবে ইউএনওর দাবি, ‘তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। সে সিমপ্যাথি নেয়ার জন্য এমন অজুহাত দেখাচ্ছে।’

আলমগীর হোসেন সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের নৈশপ্রহরী। তিনি সিরাজগঞ্জ সদরের মেহের আলীর ছেলে। বর্তমানে চাকরির সুবাদে উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের কোয়ার্টারে থাকেন।

বৃহস্পতিবার শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর বলেন, ‘আমার স্ত্রী বগুড়ায় আমার সঙ্গে থাকতে চায়। এ নিয়ে ১৫ দিন আগেও উপজেলা প্রকৌশলী স্যারের কাছে কমপ্লেইন দিয়েছে। এইটা নিয়ে স্যার আমাকে তিনবার শোকজ করছেন। আমি জবাব দিছি। আজ ইউএনও স্যারের কাছে বউ গিয়ে আবার কমপ্লেইন দেয়।’

আলমগীর হোসেন আরও জানান, ‘এই কমপ্লেইনে ইউএনও স্যার আমাকে তার অফিসে ডাকে। আমি গেলে আনসার সদস্যরা আমাকে ধরে তার (ইউএনও) কাছে নিয়ে আসে। আর লাঠিও আনে তারা। ইউএনও স্যার এসে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে। ওই সময় তার দেহরক্ষী দুই আনসার সদস্য আমাকে ধরে রেখেছিল। আমি অনেক কাকুতি-মিনতি করেছি, আমাকে যেন না মারে। বলছি, স্যার আমি আপনার স্টাফ। কিন্তু স্যার আমাকে মারতেই থাকে। একবার অচেতনও হয়ে পড়ি।’

তবে মারধরের ঘটনা সত্য নয় বলে দাবি করেন সদর ইউএনও সমর কুমার পাল। তিনি বলেন, ‘আলমগীর সদর উপজেলা প্রকৌশল অফিসের নৈশপ্রহরী হিসেবে চাকরি করে। কিছুদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝামেলা চলছে। আলমগীর তার বউকে উপজেলা ক্যাম্পাসে এনেছে। রাত্রিযাপন করেছে। কিন্তু বউকে এখানে রেখে সে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়টি গত বুধবার জানতে পারি।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে আলমগীরের স্ত্রীকে উপজেলার সিঁড়ির মধ্যে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখি। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি তার মেয়ের বাড়ি মাঝিড়াতে। এ কথা শুনে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সেখানে পাঠিয়ে দিই। এখন এ ঘটনার পরে আজ (শুক্রবার) বিকেলে আলমগীর দেখি কোথা থেকে আসে। আমি তাকে ডেকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছি। আর তাকে বলেছি তুমি এই সমস্যা সমাধান না করে এখানে আসবা না। এ ছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীকেও বলে দিয়েছি, ভাই এই ছেলেকে আপনি বদলি করেন।’

সমর কুমার পাল আরও বলেন, ‘এরপর দেখি সিমপ্যাথি নেয়ার জন্য আলমগীর আমগাছের নিচে শুয়ে পড়ে। সবাইকে বলছে তাকে মারধর করা হয়েছে। অনেকেই তার এ কাজে ইন্ধন দিচ্ছে। কিন্তু আমার দিক থেকে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

আলমগীরের স্ত্রী শহীদা বেগম কোনো অভিযোগ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, ‘তাকে তো আলমগীর ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল। আমি পরিষদের নিরাপত্তার কারণে, সুনাম রক্ষার জন্য তাকে মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। কোনো অভিযোগের বিষয় নেই।’


বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার হলে রানা

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার হলে রানা
পরীক্ষাকেন্দ্রে রানা শেখ। ছবি: দৈনিক বাংলা
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

বাড়িতে বাবার লাশ। আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। এমন পরিস্থিতিতে চোখের পানি মুছতে মুছতে হাতে প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে রানা শেখকে। নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি থেকে চলতি বছর ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সে।

রানা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদি গ্রামের সদ্যপ্রয়াত মজিবর শেখের (৪৬) ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে রানা ছোট। মজিবর শেখ ঢাকায় সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ১৫ দিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যু হয় তার।

স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে মজিবর শেখ মারা যান। এদিন বেলা ১১টা থেকে ছিল রানার কৃষি শিক্ষা পরীক্ষা। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে সকালেই তার কয়েকজন সহপাঠী তার বাড়িতে যায়। বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার অবস্থা ছিল না রানার। পরে সহপাঠীরা সান্ত্বনা দিয়ে তাকে নগরকান্দার শহিদ মুক্তিযোদ্ধা আক্রামুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

রানার ভাই হৃদয় শেখ (১৯) বলেন, আমাদের পরিবারে বাবাই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অভাবের কারণে আমি বেশিদিন পড়ালেখা করতে পারিনি। রানা নিজ ইচ্ছাশক্তির জোরে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। আজ ওর পরীক্ষা দেয়ার মানসিকতা ছিল না। সকালেই ওর সহপাঠীরা বাড়িতে এসে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যায়।

ওই কেন্দ্রে পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমির বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পুরো সময় পরীক্ষা দিয়েছে শেখ রানা। রানা মেধাবী ছেলে। নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী। ছেলেটাকে এরকম অবস্থায় পড়তে হবে, এটি দুঃখজনক।

ওই পরীক্ষাকেন্দ্রের সহ-কেন্দ্র সচিব মো. মাহাবুব আলী মিঞা জানান, যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে রানা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বাবা মারা যাওয়ায় সে ভেঙে পড়েছিল। পরীক্ষা চলাকালে আমরা সার্বক্ষণিক তার খোঁজখবর নিয়েছি।

পরীক্ষা দিয়ে দুপুরে রানা বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর বিকেলে তার বাবা মজিবর শেখের জানাজা শেষে  দাফন হয় স্থানীয় জুঙ্গুর্দী ঈদগাঁ কবরাস্থানে।

সরকারি এম এন একাডেমির প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন মিয়া বলেন, সকালেই রানার বাবার মৃত্যুর খবর শুনেছি। এটি খুবই কষ্টদায়ক। আমরা সকালেই রানার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সে যে পরীক্ষাটি দিতে পেরেছে, এতে আমরা খুশি। সে খুব শক্ত মনের পরিচয় দিয়েছে।


এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুই বছরেও শুরু হয়নি বিচার

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুই বছরেও শুরু হয়নি বিচার
সিলেট এমসি কলেজ, ইনসেটে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামিরা
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সমালোচনার মুখে দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তদের। তবে এ ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি সাক্ষ্যগ্রহণ। কোন আদালতে বিচার হবে, এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় আটকে আছে মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এদিকে বিচারকাজে শুরুতে দীর্ঘসূত্রিতায় শঙ্কা বাড়ছে বাদীপক্ষের। আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত তারা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, বাদীপক্ষের কারণেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুতে বিলম্ব হচ্ছে।

সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট রাশিদা সাঈদা খানম বলেন, মামলার কার্যক্রম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শুরু হওয়ার কথা ছিল। আমরাও প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু বাদীপক্ষ এটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যেতে চায়। এ ব্যাপারে বাদী উচ্চ আদালতে একটি রিটও করেছেন। উচ্চ আদালত এ ব্যাপারে একটি আদেশ দিয়েছেন শুনেছি। তবে আদেশের পূর্ণাঙ্গ আদেশের কপি এখনো পাইনি। এ কারণে মামলার কার্যক্রম আটকে আছে। উচ্চ আদালতের আদেশের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

কেন আটকে আছে কার্যক্রম

ধর্ষণের ঘটনার পরদিন ওই তরুণীর স্বামী নগরের শাহপরাণ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। এ ছাড়া ওই রাতে ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করে পুলিশ। ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ধর্ষণ মামলায় ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এরপর ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন। আর চলতি বছরের ১১ মে মাসে একই আদালতে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠনের পর ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। তবে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে শুরুর আবেদন করে বাদীপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর বাদীপক্ষ একই আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি ফৌজদারি বিবিধ মামলা করেন। ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে একই আদালতে সম্পন্নের আদেশ দেন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বদলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর আবেদন করে বাদীপক্ষ।

বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের দীর্ঘদিন পরও সাক্ষ্যগ্রহণের শুরু না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর জন্য গত ১ আগস্ট বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বাদী একটি রিট করেন। ১৬ আগস্ট রিটের শুনানি শেষে দুই মামলার কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির প্রক্রিয়া গ্রহণে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের এই আদেশের কপি এখনো হাতে আসেনি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। এর আগে ২৭ জুলাই আসামি রবিউল ইসলামের জামিন শুনানিতে মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কেন শুরু করা হয় না মর্মে রাষ্ট্রপক্ষকে গত ২১ আগস্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক। ১৬ অক্টোবর মামলার পরবর্তী তারিখ রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রাশিদা সাঈদা খানম বলেন, ‘আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হয়েছে।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী শহীদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘মামলার দুই বছর পেরিয়েছে। অভিযোগ গঠনেরও অনেক দিন চলে গেছে। এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই ঘটনায় পুলিশের দুটি অভিযোগপত্র দেয়ায় বাদীপক্ষের সন্দেহ হয়। এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাক্ষীদের জন্যও বিষয়টি বিড়ম্বনার। কারণ, চাঞ্চল্যকর এ মামলার সাক্ষীরা দুই আদালতে দুই দিন আসবেন কি না, এ নিয়ে শঙ্কা রয়েছেন। কারণ ধর্ষণকারীরা প্রভাবশালী। এজন্য বাদীপক্ষ উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। উচ্চ আদালত এরই মধ্যে সংক্ষিপ্ত আদেশও দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ আদেশের কপি পাওয়ার পর মামলার ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করা হবে।’

সে রাতে যা ঘটেছিল

২৫ মার্চ সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেট কারে করে শাহপরাণ মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী (২০)। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকানে প্রবেশ করেন স্বামী। এই সময়ে পাঁচ থেকে ছয়জন তরুণ তাদের জিম্মি করে প্রাইভেট কারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। এরপর স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে ছাত্রাবাসের ভেতরে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বামীর টাকা-পয়সা ও প্রাইভেট কার রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেন ধর্ষকরা।

ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে তরুণীর স্বামী ঘটনাটি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা ছাত্রলীগ কর্মী হওয়ায় প্রথমে ছাত্রাবাসে প্রবেশে গড়িমসি করে পুলিশ। এই সুযোগে ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যান ধর্ষকরা। এরপর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।

মামলার বাদী ওই তরুণীর স্বামী বলেন, ‘ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেল। এখনো বিচার শুরু হলো না। দীর্ঘসূত্রিতায় বিচার পাওয়া নিয়েই আমরা শঙ্কিত। অভিযুক্তরাও বিষয়টি আপস করার জন্য নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন।’

অভিযুক্ত যারা

২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চালঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। অভিযোগপত্রে ওই তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের জন্য সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে আছেন। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি। অভিযুক্ত আটজনকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই চারজনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে। আর ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।


দুই চিকিৎসকের মারামারি, বন্ধ ছিল অস্ত্রোপচার

দুই চিকিৎসকের  মারামারি, বন্ধ ছিল অস্ত্রোপচার
চিকিৎসকদের দ্বন্দ্বে বন্ধ ছিল জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার। ছবি: দৈনিক বাংলা
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে দুই ডাক্তারের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অপারেশন থিয়েটার দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন অপারেশন করতে আসা রোগীরা। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের দোতলার জেনারেল সার্জারি এবং গাইনি ও প্রসূতি অপারেশন থিয়েটারে ঘটনাটি ঘটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেনারেল হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানান, হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট নাহিদুল কাদিরের সঙ্গে সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. শামসুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় ডা. নাহিদুল কাদির অধ্যাপক ডা. তাইজুল ইসলামকে ডেকে আনলে তার সঙ্গেও কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ডা. তাইজুল ইসলাম অপারেশন থিয়েটারের ভেতরেই ডা. শামসুর রহমানের ওপর চড়াও হয়ে শার্টের কলার ধরে ঘুষি মারেন।

কর্মচারীরা আরও বলেন, ‘আমরা অপারেশন থিয়েটারে দরজার সামনে ছিলাম। পরে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে হট্টোগোল শুনি এবং জানতে পারি এক ডাক্তার আরেক ডাক্তারকে মেরেছেন। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে প্রায় দুই ঘণ্টা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এতে করে নিপা আক্তার, ঝর্ণা বেগমসহ কয়েকজন রোগী অস্ত্রোপচার না করেই চলে যান।’

অপারেশন থিয়েটার থেকে ফেরত আসা রোগী ঝর্ণা বেগমের স্বামী বাবুল হোসেন বলেন, সকাল ৯টার দিকে অপারেশনের জন্য ঝর্ণাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ঝর্ণাকে অপারেশন থিয়েটারের পাশের রুমে রাখা হয়। হঠাৎ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে হট্টগোল শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন থিয়েটারের কেচিগেট লাগিয়ে দেন সেখানকার লোকজন। দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অপারেশন থিয়েটার খোলা হয়। এ কারণে ঝর্ণার অপারেশন আর করেননি ডাক্তাররা।

রোগী ঝর্ণা বেগম বলেন, ‘আমি পেটের ব্যথা নিয়ে ১১ দিন ধরে ভর্তি আছি। অনেক অপেক্ষার পর আজ অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডাক্তারদের মারামারির কারণে অপারেশন হলো না। এখন শুনছি কাল (আজ) নাকি আমার অপারেশন হবে। আমি ব্যথা আর সইতে পারছি না।’

চিকিৎসক তাজুল ইসলাম ও নাহিদুল কাদিরের সঙ্গে মোবাইলে যোগযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, ‘অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে দুই ডাক্তারের মধ্যে একটি ঘটনা ঘটেছিল। আমরা কয়েকজন বসে বিষয়টি সমাধান করে ফেলেছি। এখন অপারেশন থিয়েটার চালু হয়েছে।’


পার্বত্য অঞ্চলে হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প: আইজিপি

পার্বত্য অঞ্চলে হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প: আইজিপি
রিসোর্ট উদ্বোধন করছেন আইজিপি। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বান্দরবান প্রতিনিধি

পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শিগগিরই প্রস্তাবিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্প স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদ। পাশাপাশি পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) থান‌চি থানা ভবন সংলগ্ন এলাকায়‌ পুলিশের একটি রিসোর্ট উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় বেনজির আহমেদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় দুর্গম থানচিতে আজ রাস্তা ঘাটের  অনেক উন্নয়ন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকেরা থানচির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে একটি মনোরম পরিবেশে হাইল্যান্ডার্স পা‌র্ক অ্যান্ড রি‌সোর্ট গড়ে তুলতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, থানচি থানার কাছেই বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাষ্টি বোর্ডের অর্থায়নে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি কটেজ সম্বলিত হাইল্যান্ডার্স পা‌র্ক অ্যান্ড রি‌সোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এই রিসোর্টের মধ্যে সুইমিং পুল, পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, পাহাড়িদের আদলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মাচাংঘর, কটেজ, ক্যাফে হাউস, রেস্টুরেন্ট, পিকনিক স্পট, ঝরনা গড়ে তোলা হবে হবে।

রিসোর্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি কবির আহমেদ, বান্দরবানের পুলিশ সুপার ‌মো. তারিকুল ইসলাম ও থানচি থানার ওসি সুদীপ রায়।


মসজিদে জমি দান করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা

মসজিদে জমি দান করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা
নিহত আরশেদ আলী। ছবি: দৈনিক বাংলা
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

মানিকগঞ্জ সদরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আরশেদ আলীকে (৬৫) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে খবির হোসেনের (৪০) বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আরশেদ আলী মসজিদে জমি দান করলে তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন খবির।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের চর-উকিয়ারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরশেদ আলী সদরের জাগীর ইউনিয়নের চর-উকিয়ারা এলাকার মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন।

পুলিশ বলছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত খবির হোসেন পলাতক রয়েছেন। তবে নিহত আরশেদ আলীর বড় ছেলের স্ত্রী সাহেরা বেগম (৩০), ছোট ছেলে খোরশেদ আলী (৩৫), ছোট ছেলের বউ রুমা আক্তার (২৫) ও নাতি আহাদ মিয়াকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে জমিসংক্রান্ত বিষয়ে ছেলেদের সঙ্গে আরশেদের বিরোধ চলছিল। ১৫-২০ দিন আগে তিনি বাড়ির পাশের চর-উকিয়ারা জামে মসজিদের নামে মৌখিকভাবে ১০ শতাংশ জমি দান করেন। এ খবরে ছেলে ও পুত্রবধূরা ক্ষুব্ধ হন। ওই ঘটনার জের ধরেই খবির হোসেন তার বাবাকে বাড়ির পাশের মেহগনি গাছের বাগানে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।

ওসি বলেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলে ও ছেলের বউ এবং নাতিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক বড় ছেলে খবির হোসেনকে ধরতে অভিযান চলছে।