সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৪ ফাল্গুন ১৪৩২

৩ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিন পরিবারের ছয়জন

সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতীকী ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২৩:০৫

কক্সবাজার, জয়পুরহাট ও গাজীপুরে পৃথক তিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন। প্রতিটি দুর্ঘটনাতেই নিহত হয়েছেন দুজন করে। প্রতিটি স্থানেই নিহত দুজন একই পরিবারের সদস্য। দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় মিনি ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে মা-ছেলে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টায় উপজেলার হোয়াইক্যং লম্বাবিল এলাকায় সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

নিহতরা হলেন- টেকনাফ পৌরসভার পুরোনো পল্লানপাড়ার আবুল কালামের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (১৯) ও তার দুই মাস বয়সী ছেলে মো. আসওয়াত। আহত হয়েছেন একই এলাকার রেহেনা ও খোরশিদা বেগম।

হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলান ভূঁইয়া জানান, দুপুরে অটোরিকশায় কক্সবাজার শহরের দিকে যাচ্ছিলেন ফাতেমা ও তার ছেলেসহ কয়েকজন। লম্বাবিল এলাকায় পৌঁছলে পেছন দিকে থেকে আসা একটি মিনি ট্রাক ওই অটোরিকশার পেছনে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পালংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ফাতেমা ও তার ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

মনিরুল বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনের পর লাশ হাসপাতালে রয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে আলাপের পর হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দুর্ঘটনার পর মিনি ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। তবে গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে।

জয়পুরহাটের কালাইয়ে ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহিরুম গ্রামের মাথায় সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় নিহত দুজন সম্পর্কে দাদা-নাতি। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম (৫৫) কালাই উপজেলার শিকটা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত তছির উদ্দিনের ছেলে। নিহত শিশু শাকিব হোসেন (৫) তার নাতি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চারজন যাত্রী নিয়ে মোলামগাড়ীহাট থেকে পাঁচগ্রাম যাচ্ছিল একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান। ভ্যানটি মহিরুম গ্রামের মাথায় পৌঁছলে পেছনে থেকে একটি ট্রাক এসে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দাদা নজরুল ও নাতি শাকিবের মৃত্যু হয়। অটোভ্যানের চালককে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, অটোভ্যানকে ধাক্কা দেয়া ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে নানি ও নাতনির মৃত্যু হয়েছে। ইজিবাইকের চালক ও নিহত শিশুর মা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে শিলমুন ক্যাথারসিস হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রওশন আরা বেগম (৫০) ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার চরকমর গ্রামের আব্দুল বারেকের স্ত্রী। তার কোলে থাকা ছয় মাস বয়সী নাতনি রাইসা ইসলামও প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া রওশন আরার মেয়ে ও শিশু রাইসার মা রিতা আক্তার (২৩) ও ইজিবাইকের চালক রুবেলকে (৩২) আহত অবস্থায় ক্যাথারসিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, জয়দেবপুর থেকে ইজিবাইকে করে টঙ্গীর মরকুন এলাকায় মেয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন রওশন আরা বেগম। তার সঙ্গে ছিলেন মেয়ে রিতা আক্তার ও নাতনি রাইসা। বিকেল ৪টার দিকে তাদের বহনকারী ইজিবাইকটি নিমতলী লেভেল ক্রসিং পার হয়ে শিলমুন ক্যাথারসিস হাসপাতালের সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা মিরেরবাজারগামী আকিজ সিমেন্টের একটি মিক্সার ট্রাক সেটিকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনাস্থলেই দুজন প্রাণ হারান। ঘাতক ট্রাকটি আটক করা গেলেও এর চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন।


কুষ্টিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় মসজিদের ইমাম আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মসজিদের এক ইমামকে রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে পেটানোর অভিযোগ ওঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের নিদেনবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তির নাম আসলাম উদ্দিন (২১)। তিনি যদুবয়রা ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে এবং জোতমোড়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম। এ ছাড়া তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ছাত্রশিবির কর্মী হিসেবে ৬টি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে আহত ইমাম আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরছিলাম। লালনবাজার-সংলগ্ন বাবুর স্কেল (কাট পরিমাপ যন্ত্র) এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে চার থেকে পাঁচজন লোক এসে আমার রাস্তা আটকিয়ে রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারপিট করে দ্রুত চলে যায়। হামলাকারীদের মুখ বাঁধা ও মুখে মাস্ক পড়া ছিল।’

যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা ইমাম সাহেবের ওপর হামলা চালিয়েছে। তার পিঠে, হাতে, পায়ের মাংসপেশি ও কপালে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কুমারখালী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াদ আল মাহমুদ বলেন, ‘গত রাতে আমাদের কর্মী আসলাম ভাই মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেছে। আসলাম উদ্দিন ছাত্রশিবিরের কর্মী সে নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘একজন মসজিদের ইমামের ওপর হামলার খবর পেয়েছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


সোনারগাঁয়ে যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দুর্বৃত্তরা এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মো. নাঈম মিয়া (২২)। সে পরমেশ্বরদী গ্রামের আ. হেকিমের ছেলে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিহতের বড় ভাই নাসিমুল ইসলাম বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আবুল হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামের আ. হেকিমের ছেলে মো. নাঈম মিয়া পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। পাশাপাশি সুদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত রোববার রাত ৮টার দিকে নাঈম ও নাসিমুল দুই ভাই পাড়ার চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠ্যাৎ অপরিচিত এক ফোন পেয়ে বাইরে যায় নাঈম। পরে রাত ৯টার দিকে বাড়ির পাশে একটি খেতে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাঈমের দেহ পড়ে ছিল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

নিহতের বড় ভাই নাসিমুল ইসলাম জানান, তারা দুই ভাই এক সঙ্গে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। ঘটনার আগে তারা বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ একজনের ফোন পেয়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে সেখান থেকে বের হয়ে যায়। সে ফোনে বলতেছিল, ‘আমার কাছে টাকা নাই’। দুই-তিনবার এ কথা বলছিল। তখনো একটু দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলতেছিল। কিছুক্ষণ পর দেখি নাঈম সেখানে নাই। একটু পর তিনিও বাড়িতে চলে যান।

তিনি আরও জানান, বাড়িতে গিয়ে ছোট ভাই নাঈমকে তার মোবাইলে কল দিয়ে বন্ধ পান। আধা ঘণ্টার পর বাইরে হৈ-চৈ শোনতে পেয়ে বেরিয়ে যান নাছিমুল। লোকজন ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করছিল। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে পাশের জমিতে গিয়ে নাঈমের বস্তাবন্দি রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি মো মহিববুল্লাহ জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ‘নাঈম পেশায় রাজমিস্ত্রী। তিনি সুদের বিনিময়ে মানুষকে টাকা ধার দিতেন। হত্যাকারীদের সঙ্গে লেনেদেনের দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ কাজ করছে।


ঝিনাইগাতী সার গুদাম ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সারের গুদামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার ট্রেডার্সের মনোনীত প্রতিনিধি মেহেদী হাসান হালিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেছে। এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মাসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ট্রাক চালকরা। অভিযোগে জানানো হয়, সারের গুদামে প্রতিটি ট্রাক লোডের জন্য আগে ২৫০ টাকা এবং বর্তমানে ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মেসার্স সরকার ট্রেডার্স, এবং ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ২ (দুই) বছর মেয়াদি চুক্তিনামায় প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর আনছার আলী স্বাক্ষর করে মেহেদী হাসান হালিমকে প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেন। এরপর থেকেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর আনছার আলীর ছত্রছায়ায় নিয়মিতভাবে চাঁদাবাজি শুরু করেন হালিম।

ট্রাকচালকরা জানান, পূর্বে এ ধরনের টাকা দিতে হতো না, তবে বর্তমান ঠিকাদারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। টাকা না দিলে গুদামে ট্রাক লোড বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং দ্রুত প্রতিকার চান।

এ বিষয়ে মেহেদী হাসান হালিম বলেছেন, ‘আমি কোনো টাকা নেই না। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে গুদামে গোলযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। টাকা নেওয়ার কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারবে না। আমি গুদামের কার্যক্রম নিয়ম মেনে পরিচালনা করছি।’

গুদামের ইনচার্জ আদিলুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে জানান, এই বিষয়টি প্রশাসনের আওতায় না থাকলেও তিনি পরিস্থিতি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছেন। তিনি আরও জানান, আজ থেকে ট্রাক চালকদের কোনো টাকা নেওয়া হবে না। তবে সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।

এ ঘটনায় ট্রাকচালকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, এবং তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


মৌলভীবাজারে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সোনাটিকি গ্রামে ১০ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিবেশী সৈয়দ নানখার আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ইতোমধ্যে রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ৩নং মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি এলাকায় গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ির উঠানে একা থাকা পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রতিবেশী সৈয়দ নানখার আলী শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি সোনাটিকি গ্রামের মৃত আকদছ আলীর ছেলে সৈয়দ নানখার আলী (৪০)।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার জানায়, ঘটনাটি ঘটে সম্প্রতি গ্রামের একটি নির্জন স্থানে। অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। শিশুর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ঘাটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা খুবই নিন্দনীয়। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজনগর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মোবারক হোসেন জানান, মৌলভীবাজারের রাজনগরে এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত সৈয়দ নানখার আলীকে আটক করেছে পুলিশ।


রূপগঞ্জ যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যৌথ বাহীনির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। রূপগঞ্জের মাছিমপুর এলাকায় রূপগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের মেজর রিয়াদ (৫১ এমএলআরএস আর্টির) যৌথ অভিযানে ২টি ওয়ান শুটার পাইপগান ও ৩টি কার্তুজ শিসা গুলিসহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাছিমপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

যৌথ বাহিনী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা জানতে পারেন পারভেজ ও তার সহযোগী শাহীন মাছিমপুর এলাকায় অবৈধ অস্ত্রসহ অবস্থান করছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকাটি ঘিরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে তাৎক্ষণিক তল্লাশি চালিয়ে ভবনটি থেকে দুটি অস্ত্র ও তিনটি কার্তুজ শিসা গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাবজেল হোসেন বলেন, ‘উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানায় সেনাবাহিনী।


মাগুরা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপিপন্থি সভাপতি, সম্পাদক নির্বাচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে মিজানুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পুনরায় শাহেদ হাসান টগর নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতরা দুজনই জেলা বিএনপির নেতা। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির বার ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ২৮২ জন ভোটারের মধ্যে ২২৬ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

প্রত্যক্ষ ভোটেসহ সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মেহেদি হাসান লিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ফৌজদারি শাখা) পদে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দেওয়ানি শাখা) পদে আমেনা খাতুন লাবনী, ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে তাসলিমা আক্তার পপি।

কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সঞ্জয় রায় চৌধুরী, আ.ন.ম. ওবায়দা শহীদ ওবা, অসীম কুমার শিকদার, এনামুল হক (২), জাকির হোসেন মণ্ডল ও ফারহানা বিউটি। এ ছাড়া হিসাব রক্ষক পদে অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম, গ্রন্থাগারিক পদে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন বিশ্বাস এবং কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এবারের বার্ষিক নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট শিবপ্রসাদ ভট্টাচার্য।


জীবননগরের আলমসাধু উল্টে নিহত-১, আহত-১৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলীতে শিয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি আলমসাধু উল্টে যায়। এ ঘটনায় সন্ধ্যা রানি নামে ১ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৫ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রামনগর গ্রামের বাগদী পাড়ার বাসিন্দা। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের মালোপাড়ার নিকট এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সন্ধ্যা রানি (৬৩) দর্শনা রামনগর বাগদিপাড়ার দুলালের স্ত্রী। আহতরা হলেন- দুলালের মেয়ে বাদোলি রা‌নি (৩০), কুমার মণ্ডলের ছেলে বিকা‌শ মণ্ডল (৪৫),‌ বিকাশ মণ্ডলের স্ত্রী রিকা রা‌নি (৪০), খোকনের স্ত্রী শেফালী (৪৫), গোপালের স্ত্রী সন্ধ্যা (৫০), ঠাকুর বিশ্বাসের স্ত্রী জোসনা (৫০), চিত্তের স্ত্রী চায়না (৩০), কোমলের ছেলে টুকুল (৩০), সু‌নিলের ছেলে অশোক (৪০), আব্দুল জ‌লিলের ছেলে আলমসাধুচালক মিলন (৩০)। আহতদের উদ্ধার করে বি‌ভিন্ন ক্লি‌নিকে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, তারা বিভিন্ন হাট-বাজারে ঝুড়ি-ঝাপি বিক্রি শেষে আলমসাধুযোগে খালিশপুর থেকে দর্শনাতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে উথলী মালোপাড়ার নিকট পৌঁছালে দুটি শিয়াল সামনে চলে আসে। এ সময় দ্রুতগতির আলমসাধুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে আলমসাধুতে থাকা নারী-পুরুষরা রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং সন্ধ্যা রানি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দর্শনার বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করে। উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু জানান, উথলী মালোপাড়ায় আলমসাধু উল্টে ১ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


নির্মাই শিববাড়িতে দুই দিনব্যাপী শিব চতুর্দশী উৎসবের সূচনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান নির্মাই শিববাড়িতে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী শিব চতুর্দশী উৎসব। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

উৎসব উপলক্ষে শিববাড়ি প্রাঙ্গণ সেজেছে বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও নান্দনিক আলোকসজ্জায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা দলে দলে এসে সমবেত হচ্ছেন। পূজা-অর্চনা, আরতি, প্রার্থনা এবং বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ভক্তরা পালন করছেন শিব চতুর্দশীর পবিত্র আচার।

নির্মাই শিববাড়ির সেবাইত ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী জানান, এটি দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান। প্রতি বছরের মতো এবারও শিব চতুর্দশী উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভক্তদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজক কমিটি প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ঐতিহাসিক এ তীর্থস্থানে শিবমন্দিরের পাশেই রয়েছে কালীমন্দির এবং প্রায় ৯ একর জায়গাজুড়ে একটি বিশাল দিঘী। দিঘীর চারপাশে বিস্তৃত সবুজ বৃক্ষরাজি স্থানটিকে দিয়েছে অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ তীর্থস্থান প্রতি বছর শিব চতুর্দশী উপলক্ষে ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা অঞ্চলে একসময় ত্রিপুরার মহারাজা রাজত্ব করতেন। সে সময় কুকি সামন্তরাজার বিদ্রোহ দমনে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে কুকিরা পরাজিত হলেও মহারাজার প্রধান সেনাপতি যিনি রাজার জামাতা ছিলেন রণক্ষেত্রে নিহত হন। এতে মহারাজার কন্যা নির্মাই স্বামীহারা হন।

তৎকালীন ভারতবর্ষে সহমরণ প্রথা প্রচলিত থাকলেও রাজকন্যা নির্মাই সহমরণে সম্মত হননি। বরং স্বামীর মৃত্যুস্থলে এসে তিনি শিবের আরাধনায় নিমগ্ন হন এবং আধ্যাত্মিক সিদ্ধি লাভ করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। পরবর্তীতে তার নামানুসারে ১৪৫৪ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা পরগণার শঙ্করসেনা গ্রামে নির্মাই শিববাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে আয়োজিত এ উৎসব শ্রীমঙ্গলের সংস্কৃতি, ঐক্য ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, আয়োজক কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছেন। উৎসবকে ঘিরে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।


ঝিনাইগাতীতে সারের গুদামের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেটেড ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৭
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সারের গুদামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার ট্রেডার্স এর মনোনীত প্রতিনিধি মেহেদী হাসান হালিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মাসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ট্রাক চালকরা। সেখানে দাবি করা হয়, সারের গুদামে প্রতিটি ট্রাক লোডের জন্য আগে ২৫০ টাকা এবং বর্তমানে ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।

ট্রাক চালকরা জানান, পূর্বে এমন কোন টাকা দিতে হতো না, কিন্তু বর্তমানে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। টাকা না দিলে, গুদামে ট্রাক লোড বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তারা আরও জানান, এর ফলে তাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং তারা এর প্রতিকার চান।

এ বিষয়ে মেহেদী হাসান হালিম বলেছেন, "আমি কোন টাকা নিই না। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে গুদামে গোলযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছে। টাকা নেওয়ার কোন প্রমাণ তারা দিতে পারবে না। আমি গুদামের কার্যক্রম নিয়ম মেনে পরিচালনা করছি।"

গুদামের ইনচার্জ আদিলুজ্জামান জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের আওতায় না থাকলেও তিনি পরিস্থিতি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছেন। তিনি আরো জানান, "আজ থেকে ট্রাক চালকদের কোন টাকা নেওয়া হবে না। তবে সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ শুধুমাত্র উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।"

এ ঘটনায় ট্রাক চালকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, এবং তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


ধানমন্ডি ৩২ থেকে ঢাবি শিক্ষকসহ আটক ৫

আপডেটেড ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। এ সময় হট্টগোলের সৃষ্টি হলে তাকে আটক করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। এ সময় কুমিল্লা থেকে আসা আরো এক নারীসহ আরও ৪ জনকে আটক করা হয়। আটক চারজনের নাম জানা যায়নি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কেউ কথা বলতে চাননি। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে আজ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ঢাবির এই অধ্যাপক। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে গমন করে অশ্রুপাত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব আজ বিকেল ৪টায়। আপনাদের দলে দলে যোগদান করার অনুরোধ করছি।

পরে এদিন বিকেলে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে যান আ ক ম জামাল উদ্দীন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দীন ওই এলাকায় গেলে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে নিয়ে যান।


কুমিল্লা সীমান্তে ৬০ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি-সিগারেট জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও সিগারেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ এসব পণ্য উদ্ধার করা হলেও জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।

একই দিন বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের (১০ বিজিবি) কম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ।

তিনি জানান, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার বিওপির আওতাধীন কটকবাজার পোস্টের একটি বিশেষ টহল দল ভোরে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালায়।

এ সময় সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে বাগবেড় এলাকায় কয়েকটি বস্তা ও কার্টন সন্দেহজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা দ্রুত মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


ডেঙ্গুতে একদিনে আক্রান্ত আরো ৩১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ৩১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) সাতজন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ছয়জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চারজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুজন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন এবং রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন রয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট এক হাজার ২২৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩০৯ জন। এর মধ্যে ৬৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ শতাংশ নারী।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


দেশ ছেড়েছেন ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছেড়েছেন। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি নেদারল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। তবে প্রথমে জার্মানি যাবেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন ফয়েজ আহমদ। দেশ ছাড়ার পরে কারণ উল্লেখ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্টে দিয়েছেন তিনি।

বিশেষ সহকারীর ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সকালে তিনি দেশ ছাড়েন। দেশ ছাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, তিনি নেদারল্যান্ডের নাগরিক। জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে বিদায় নেন। কর্মকর্তারা তাকে শুভেচ্ছা উপহারও দিয়েছেন।

নেদারল্যান্ডের নাগরিক হিসেবে তার পাসপোর্ট আছে। তিনি সেই পাসপোর্ট নিয়ে চলে গেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশেষ সহকারী হিসেবে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেন। এসব সংস্কার করতে গিয়ে বেশ আলোচিত এবং সমালোচিত হন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

দেশ ছাড়ার পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব লেখেন, ফেব্রুয়ারির ৮, ৯, ১০ তারিখে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে। এরপরে নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। প্রযুক্তি নির্ভর নির্বাচনী আয়োজনে আমার কিছু কন্ট্রিবিউশন ছিল। কলিগদের থেকেও ঠিকঠাক বিদায় নিয়েছি। ১০ ফেব্রুয়ারি অফিসিয়ালি শেষ কর্মদিবস ছিল।

সেদিন কর্মকর্তা কর্মচারী সবার সাথে একসাথে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছি। গান গেয়ে বিদায় দিয়েছেন আমার সহকর্মীরা, ওয়ালে পাবেন।

তিনি বলেন, একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এবং সৎ ব্যক্তিকে দুটো অসম্মানজনক কটু কথা শোনানোর আগে, তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেবেন, চাওয়াটা খুব বেশি বড় না। বিদায় সময় এক সহকর্মী জিজ্ঞেস করেছিল পরে কি করবেন? বলেছি একটা চাকরি খুঁজতে হবে দ্রুত। দেশের জন্য কাজ করতে এসে ফাইনান্সিয়ালি অনেক লোকসান হয়েছে। সেভিংস যা ছিল সব শেষ হয়েছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং আছে প্লাস স্ত্রীর মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি আছে। ছুটি চেয়ে যথাযথভাবেই পরিবারের কাছে যাচ্ছি। একটা দীর্ঘ সময় সন্তান ও পরিবারকে সময় দিতে পারেনি, পরিবারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্লাস আজকে ভ্যালেন্টাইন ডে।

অনেকগুলো বই উপহার পেয়েছি, বইগুলো সাথে নিয়ে এসেছি। দীর্ঘ ক্লান্তির পরে একটু লম্বা বিশ্রাম প্রয়োজন। স্লিপিং সাইকেল ডিসরাপট হওয়ায় বিগত এক বছর নিয়মিত ঘুমাতে পারিনি। বিশ্রামের পাশাপাশি উপহার পাওয়া বইগুলো পড়ব। পত্রিকার কলাম নিয়মিত পড়তাম, বিগত সময়ে আমার সহ-লেখকরা যেসব মৌলিক লেখা লিখেছেন সেগুলোও পড়তে হবে।

তিনি আরো বলেন, পুনশ্চ, আমি অল্প সময়ে জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এটুকু বলতে পারি। একটা শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রযুক্তি এবং স্বচ্ছতা এনেছি। সবগুলো পুরোনো আইন ও পলিসি পরিবর্তন করতে পাগলের মত খেটেছি। এগুলো প্রায় ৫ বছরের কাজ। বিশ্বাস না হলে কোনো পেশাদার গবেষণা সংস্থা এবং অডিট ফার্ম দিয়ে যাচাই-বাছাই করে নিয়েন।

আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি আমি ১ টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমি বাই ভার্চু সৎ লোক। টাকা মারছি এটা নিতে পারি না। মোবাইল ব্যবসায়ীরা, টেলিকম মাফিয়ারা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা করেছে। আমি তাদের কাছে মাথানত করিনি।

দ্রুত একটা চাকরি খুঁজব। আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব। আমার স্ত্রী সন্তানকে ডিপ্রাইভ করে, নিরাপদ জীবন ফেলে দেশে এসেছি, কিছু মানুষ আমাকে যে যেভাবে পেরেছে অপমান, অপদস্থ করতে কাজ করেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই দেশের উল্লেখযোগ্য মানুষ সৎ লোক এবং নলেজ ড্রিভেন লিডারশিপ ডিজার্ভ করে না। এই কষ্ট আমাকে তীব্রভাবে আঘাত করেছে।

আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ পানাহার করি, সাধারণ চলাফেরা করি। নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছি। ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন।


banner close