বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২

টাকা হলেই মিলত সব সার্টিফিকেট, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

টাকা হলেই মিলত সব সার্টিফিকেট, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার
র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে শিক্ষা সনদ, স্কুল-কলেজের প্রশংসাপত্র, বিভিন্ন কোম্পানির পরিচয়পত্র- সবকিছুই মিলত তার কাছে। শুধু লাগত টাকা। এভাবেই ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রতারণা করে আসছিলেন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ছোটনা (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৪)। শেষ পর্যন্ত র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি। মামলা করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‍্যাব-১১ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মো. সাকিব হোসেন তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার ইপিজেড এলাকার একটি ছবি তোলার স্টুডিও দোকান থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাইফুলকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে গতকাল দুপুরে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

মেজর সাকিব জানান, আটকের সময় সাইফুলের কাছ থেকে বিভিন্ন ভুয়া সনদ ও জন্মনিবন্ধন সনদসহ বিভিন্ন ধরনের নথিপত্র জব্দ করা হয়। ভুয়া সনদ তৈরিতে তার ব্যবহৃত কম্পিউটার সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাবের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্বীকার করেছেন, ওই দোকানে বসেই তিনি ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া সনদ তৈরি করে দিতেন। এর মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী জানান, মামলা দায়েরের পর গতকাল দুপুরে সাইফুলকে আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।


নৌকাডুবি: তিন বছরের ভাতিজিকে নিয়ে বেঁচে ফেরেন মানিক

নৌকাডুবি: তিন বছরের ভাতিজিকে নিয়ে বেঁচে ফেরেন মানিক
ছোট্ট ভাতিজিকে নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন মানিক। ছবি : দৈনিক বাংলা
হোসেন রায়হান, পঞ্চগড়
প্রকাশিত

তিন বছর বয়সী ভাতিজি অঙ্কিতা রানীকে নিয়ে মহালয়া ধর্মসভায় যাচ্ছিলেন মানিক চন্দ্র রায় (২৮)। করতোয়ার ওপারের বদেশ্বরী মন্দিরের ওই অনুষ্ঠানে যেতে চরে বসেন সেই নৌকায়। অপরপ্রান্তে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি তলিয়ে যায় মাঝ নদীতে। এ ঘটনায় করতোয়ার পাড় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হলেও ভাতিজিকে নিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন মানিক।

এখনো আতঙ্ক কাটেনি মানিক চন্দ্রের। গত রোববারের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়লেই গা শিউরে ওঠে তার। সে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন দৈনিক বাংলার সঙ্গে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের পাশাপাশি নৌকার শ্যালো ইঞ্জিনের ত্রুটি ছিল বলে দাবি করছেন তিনি।

মানিক চন্দ্রের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের বটতলী এলাকায়। তিনি গুরুদাস চন্দ্র রায়ের ছেলে।

তিনি বলেন, ‘বড় ভাই সন্তোষ রায়ের মেয়ে অঙ্কিতাকে নিয়ে ধর্মসভায় যাচ্ছিলাম। ঘাটে গিয়ে দেখি শতাধিক মানুষ নদী পার হওয়ার জন্য নৌকার অপেক্ষায়। শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ওই নৌকাটি ঘাটে ভিড়লে অঙ্কিতাকে নিয়ে নৌকার সামনে চলে যাই। আমার পেছনে থাকা সবাই উঠে বসে নৌকায়। শ্যালো ইঞ্জিন চালু করে ঘাট ত্যাগ করে নৌকাটি।

কিন্তু প্রায় ১০০ মিটার যাওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় শ্যালো ইঞ্জিন। পুনরায় ইঞ্জিন চালু করলে মাঝ নদীতে গিয়ে আবারও বন্ধ হয়। এভাবে একে একে তিনবার ইঞ্জিন বন্ধ হলে থেমে যায় নৌকা। এক পর্যায়ে নৌকাটি দুলতে থাকে। দেরি না করে সবার আগেই ভাতিজিকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি পানিতে। সাঁতরে পাড়ে আসার চেষ্টা করি। পরে স্থানীয়রা ডিঙ্গি নৌকায় করে আমাদের উদ্ধার করেন।’

তিনি আরও বলেন, প্রাণে বেঁচে ফিরলেও সেদিনের ঘটনা ভোলার মত না। বারবার কানে ভাসছে মানুষের আহাজারি। তবে মাঝ নদীতে নৌকার ইঞ্জিন বারবার বন্ধ না হলে না-ও ঘটতে পারত এমন দুর্ঘটনা।

জানা গেছে, ৪০ থেকে ৫০ জনের ধারণ ক্ষমতার নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী উঠেছিল। একদিকে অতিরিক্ত যাত্রী, অপরদিকে ইঞ্জিনের ত্রুটি- এই দুই কারণে নদীর মাঝে গিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। সে সময় অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নারী ও শিশুরা পানিতে ডুবে যায়।

মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আনসার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমিও নদী পারাপারের জন্য নৌকার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী উঠায় আমি নৌকার জন্য অপেক্ষায় থাকি। তবে নৌকাটি ঘাট ছেড়ে কিছু দূর যাওয়ার পর শ্যালো ইঞ্জিন বন্ধ হয় এবং পুনরায় চালু করার সময় ঘাট থেকে কিছু একটা ভাঙার শব্দ শুনতে পাই।’

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘আমরা নৌকাডুবির ভিডিও সংগ্রহ করেছি। প্রত্যক্ষদর্শী এবং বেঁচে ফেরাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সব ধরণের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার আগে কিছু বলতে চাচ্ছি না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ব্রিফ করবেন।’


বেনাপোল সীমান্তে ৫ কেজি স্বর্ণসহ আটক ৩

বেনাপোল সীমান্তে ৫ কেজি স্বর্ণসহ আটক ৩
আটক তিনজনের একজন। ছবি : সংগৃহীত
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত

যশোরের বেনাপোল সীমান্তে প্রায় ৫ কেজি ওজনের স্বর্ণ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তিনটি অভিযানে স্বর্ণগুলো জব্দ করা হয়। এ সময় একটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেলসহ তিন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে পাচারের তথ্য পেয়ে বেনাপোলের পুটখালী সীমান্তে অভিযান চালানো হয়। একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে ১ কেজি ৬০ গ্রাম ওজনের ১ পিচ বড় স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে রাতেই যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বেনাপোল সীমান্তের মালিপুতা এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের ১৮ পিচ স্বর্ণের বার উদ্ধার করেন।

আটকরা হলো বেনাপোল পৌর এলাকার ছোট আঁচড়া গ্রামের আঁশা (২৮), বেনাপোল নামাজ গ্রামের সোহানুর রহমান বিশাল (২৭) ও বেনাপোল গোগা গ্রামের সাকিব হোসেন। সবাইকে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

২১ ও ৪৯ বিজিবি সূত্র জানায়, আসন্ন দূর্গাপুজা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতে কোন স্বর্ণ যেতে না পারে সে জন্য কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

এর আগে দুপুরের দিকে ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বেনাপোলের রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউরিয়া সারের মধ্যে থেকে  ১ কেজি ২৩৩ গ্রাম স্বর্ণসহ একজনকে আটক করে।


চাঁদপুরে ৯ মাসে ‘নিখোঁজ’ ৪ শতাধিক

চাঁদপুরে ৯ মাসে ‘নিখোঁজ’  ৪ শতাধিক
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্কের টানে ঘর ছাড়ছেন কেউ। প্রবাসী ব্যক্তির স্ত্রী কিংবা নিঃসঙ্গতার শিকার ব্যক্তিরাও নিখোঁজ তালিকায় আছেন।

  • জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুর সদর মডেল থানায় ৪০০-এর বেশি নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। খোঁজ মিলেছে দুই শতাধিকের।

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর

চাঁদপুরে গত ৯ মাসে চার শতাধিক ব্যক্তি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। সদর থানায় এসব জিডি করেছেন নিখোঁজ নারী-শিশু ও কলেজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা।

জিডির বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, পরকীয়া, প্রেম ও পারিবারিক কলহে ঘর ছাড়ার সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া মানসিক ভারসাম্যহীন, বৃদ্ধা ও শিশুরা আছেন।

চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা আহমদ উল্লাহ নিখোঁজ হয়েছেন কয়েক মাস আগে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করে ঘর ছেড়েছেন আহমদ। তার খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।

নিখোঁজ আহমদের বাবা আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমার ছেলে মাস্টার্স পাস করার পড়ে কোনো চাকরি পাচ্ছিল না। তার মা ও বোনসহ আমি বিভিন্ন সময় তাকে চাকরির জন্য বলতাম। এই নিয়ে আমার ছেলে মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকত। হঠাৎ করে সে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও তার খোঁজ পাইনি। আমরা এখনো তার অপেক্ষায় আছি।’

প্রায় দুই মাস আগে চাঁদপুর সদরের বাসিন্দা মনসুরের স্ত্রী নিখোঁজ হন। মনসুর বলেন, ‘দুই মাস হয়েছে বিয়ে করেছি। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে স্ত্রী কলেজে আসা-যাওয়া করত। হঠাৎ করে কলেজে যাওয়ার পর সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। তার সঙ্গে ওই এলাকার এক ছেলের সম্পর্ক ছিল।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘর ছেড়েছে কথিত প্রেমিক যুগল। উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্কের টানে ঘর ছাড়ছে। এ ছাড়া প্রবাসী ব্যক্তির স্ত্রী কিংবা নিঃসঙ্গতার শিকার হয়েও কেউ কেউ ঘর ছেড়েছেন বলে জিডিতে বলা হয়েছে।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইয়াহইয়া খান বলেন, শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ে এ ব্যাপারে পরিবারের লোকজনের অধিক সচেতন হতে হবে। তারা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অসিত বরণ দাশ বলেন, ইদানীং হঠাৎ করেই তরুণ-তরুণীদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না সে বিষয়ে স্বজনদের নজর রাখতে হবে। তারা চাইলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও জানিয়ে রাখতে পারেন। তাহলে শিক্ষকরাও পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রশিদ বলেন, চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুর সদর মডেল থানায় ৪০০-এর বেশি নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ২ শতাধিক। বাকিগুলো তদন্তাধীন।


চাহিদামতো কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ

চাহিদামতো কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ
বাংলাদেশি শ্রমিক। ছবি: সংগৃহীত
জেসমিন পাপড়ি
প্রকাশিত
  • চার মাসে নেপাল পাঠিয়েছে ৮০ হাজার কর্মী, বাংলাদেশ পাঠিয়েছে মাত্র ৩৮২২।

জেসমিন পাপড়ি

মালয়েশিয়া সরকার গত চার মাসে ১ লাখ কর্মীর চাহিদা দিলেও এর বিপরীতে মাত্র ৩ হাজার ৮২২ জন পাঠাতে পেরেছে বাংলাদেশ। অথচ গত ৪ মাসে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৮০ হাজার কর্মী পাঠিয়েছে নেপাল, যারা বাংলাদেশের কর্মীদের তুলনায় অর্ধেক খরচে গেছে। 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ দৈনিক বাংলাকে জানান, মালয়েশিয়া যেতে অভিবাসন ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার টাকা। সেখানে কর্মীদের ন্যূনতম মাসিক বেতন হবে ১ হাজার ৫০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত। তবে বাস্তবে মালয়েশিয়া যেতে শ্রমিকদের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর বাংলাদেশের জনশক্তি খাতের ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত ছিলেন সিন্ডিকেট নিয়ে। ফলে খরচ বেড়ে গেছে। ওদিকে একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় নানা তদবিরে ব্যস্ত ছিলেন তারা। এই ফাঁকে জনশক্তি পাঠানোর গতি হয়ে গেছে শ্লথ। ফলে এই বাজারে অন্য দেশের কর্মীরা ঢুকে পড়ছেন।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে বাংলাদেশের মিশনটি। বিপরীতে মাত্র সাড়ে তিন হাজারের কিছু বেশি কর্মী গেছে।

দূতাবাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই চমৎকার সুযোগটি আমরা নিতে পারলাম না শুধু দুর্বৃত্তায়নের কারণে। আমরা কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ হচ্ছি। আমাদের কূটনৈতিক সাফল্য এখন ব্যর্থ হওয়ার পথে।’

কর্মী না পাঠাতে পারার অন্যতম কারণ সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে মালয়েশিয়ায় অন্তত ১৫ লাখ কর্মীর প্রয়োজন। বাংলাদেশ কর্মী পাঠাতে পারছে না বলে তো কোম্পানিগুলো বসে থাকবে না। তারা বিভিন্ন সোর্স থেকে কর্মী সংগ্রহ করছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের ওই কর্মকর্তা বলেন, নেপাল মাত্র ৭ থেকে ৮ হাজার রিঙ্গিতে (১ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা) মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশি কর্মীদের আসতে খরচ হচ্ছে এর দ্বিগুণ। এর জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পুরোপুরি দায়ী। তাদের উচ্চ মুনাফার মানসিকতার জন্যই মালয়েশিয়ার বাজার হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমইটির মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নিয়োগের অনুমতি পাওয়ার পরও কর্মী যেতে কিছুটা সময় লেগে যায়। আশা করছি খুব শিগগির মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার সংখ্যা বাড়বে।’

দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এমওইউ অনুযায়ী, বৃক্ষরোপণ, কৃষি, উৎপাদন, পরিষেবা, খনি, নির্মাণ এবং গৃহস্থালি পরিষেবাসহ সব খাতে ৫ বছরে ৫ লাখ কর্মী নেবে মালয়েশিয়া।

সমঝোতার পর মালয়েশিয়া সরকাররের মানবসম্পদমন্ত্রী ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে মাত্র ২৫ টি এজেন্সি ও এর সঙ্গে সহযোগী (সাব-এজেন্ট) হিসেবে ১০টি করে এজেন্সি রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। কিন্তু তাতে রাজি হননি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ। তবে মালয়েশিয়ার অনড় অবস্থানের কারণে শেষ অব্দি বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপনের এজেন্সিসহ ২৫টির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। তালিকাভুক্ত এসব এজেন্সির বাইরে কেউ মালয়েশিয়াতে কর্মী পাঠাতে পারবে না বলে অনড় ছিল মালয়েশিয়া।

এই সিন্ডিকেট নিয়ে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। আন্দোলনে মাঠে নামে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর একটি বড় অংশ। এর প্রভাবে বায়রা নির্বাচনে বিজয়ী হয় সিন্ডিকেটবিরোধীরা। তবে এরপর শুরু হয় নতুন মেরুকরণ। ২৫ টি এজেন্সির বাইরে সিন্ডিকেটবিরোধীদের ২৫ থেকে ৭৫ টি এজেন্সি  যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বিদ্যমান ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে আরও ২৫ থেকে ৫০ টিটি এজেন্সির কর্মী পাঠানোর অনুমতি লাভের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই সংখ্যা ১০০ পর্যন্ত হতে পারে। তবে এখনো সেটি চুড়ান্ত না হওয়ায় পূর্ব নির্ধারিত ২৫ এজেন্সির মাধ্যমেই কর্মীরা মালয়েশিয়া যাচ্ছে।

গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে প্রথম দফায় ৫৩ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করে। এরপর নিয়মিত ফ্লাইট না হয়ে হঠাৎ হঠাৎ কিছু কর্মী যাচ্ছে। দূতাবাস থেকে প্রায় ৪০ হাজার কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন করলেও কর্মী যাচ্ছে হাতে গোনা।

কারা কত কর্মী পাঠালো

সিন্ডিকেটভুক্ত এজেন্সিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী মালয়েশিয়াতে পাঠিয়েছে বিএম ট্রাভেলস, ৭৬৯ জন কর্মী। ৪১৬ জন কর্মী পাঠিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফেনী-২ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রতিষ্ঠান স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড। ৩২৭ জন কর্মী মালয়েশিয়া পাঠাতে পেরেছে ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। এটি ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান।

এরপরই আছে আল ইসলাম ওভারসিজের মালিক জয়নাল আবেদিন জাফরের ছেলে রাশাদ আবেদিনের মালিকানাধীন এসওএস ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস, যারা কর্মী পাঠাতে পেরেছে মাত্র ৩১৬ জন।

সিন্ডিকেটবিরোধী ব্যবসায়ীরা যাকে এই সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক বলে অভিযোগ করে আসছেন তিনি রুহুল আমিন স্বপন। জনশক্তি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বায়রার সাবেক এই মহাসচিবের রিক্রুটিং এজেন্সি ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল এখন পর্যন্ত মাত্র ২০৯ জন কর্মী মালয়েশিয়া পাঠাতে পেরেছে।

এ ছাড়া অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল পাঠিয়েছে মাত্র ১৯৬ জন কর্মী। সবচেয়ে কম, মাত্র সাতজন কর্মী পাঠিয়েছে ঐচি ইন্টারন্যাশনাল। এ ছাড়া গ্রিনল্যান্ড ওভারসিজ ১৪০ জন কর্মী পাঠিয়েছে।

অথচ এ বছরের ১৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে নেপাল ৩৩ হাজার ২০ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠায়। এর আগের মাসে (১৭ জুলাই-১৬ আগস্ট) যায় ২২ হাজার ৩৭৫ জন কর্মী।

বিকল্প পথে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় কর্মীর অভাবে বহু প্রতিষ্ঠান অচল। জানা গেছে, মালয়েশিয়া নেপাল বা অন্যান্য দেশ থেকে কর্মী নিলেও সেখানকার কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা ব্যাপক। তাই আপাতত বিকল্প পথে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের নতুন প্রক্রিয়াও শুরু করেছে মালয়েশিয়া।

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসল) মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে এসব কর্মী নেয়া হবে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জি-টু-জি) সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী কর্মী নিয়োগের জন্য এই এককালীন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে গত শুক্রবার এক চিঠিতে জানায় মালয়েশিয়ান এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (এমইএফ)।

কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এক মাসের মধ্যে এই ১০ হাজার কর্মী নেয়া হবে। এ জন্য কর্মীদের কোনো টাকা দিতে হবে না। বলা যায় শূন্য অভিবাসন খরচে এসব কর্মী নেয়া হবে। প্রথমবার নেয়ার পর যদি এই পদ্ধতি কাজে দেয় তা হলে এভাবে আরও কর্মী নিতে পারে দেশটি।

বোয়েসলের মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক কর্মসংস্থান) বনানী বিশ্বাস জানান, ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। চাহিদা জানানোর পরপরই শ্রমিক পাঠানো শুরু হবে।

এর আগে ১০ এজেন্সির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অভিযোগে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শ্রমিক শোষণসহ নানা অভিযোগে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার কিছু কোম্পানি থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাই এসব কোম্পানি এখন আর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দিতে চায় না। বরং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড মেনে কর্মী নিতে চায় তারা।

২০১৮ সালে বন্ধের আগে সে বছর প্রায় পৌনে ২ লাখ কর্মী দেশটিতে যায়। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বৈধভাবে মালয়েশিয়া গেছেন সাড়ে ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কর্মকর্তারা বলছেন, যাচাই-বাছাইয়ের কিছু জটিলতার কারণেই কর্মী পাঠানোর গতি তুলনামূলক কম। তাছাড়া এখনো নতুন চাহিদার কর্মীরা যাওয়া শুরু করেনি। যারা গেছেন তারা অনেক পুরোনো চাহিদা কর্মী।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক মো. শহিদুল আলম বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বোয়েসলের মাধ্যমে নির্ধারিত বেসরকারি সংস্থাগুলোর বাইরে গিয়ে লোক পাঠাতে কোনো সমস্যা নেই। এর পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমেও মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার সংখ্যা বাড়বে।’


ঢাকা উত্তর সিটির আবদারে আটকে পাতাল রেলের কাজ

ঢাকা উত্তর সিটির আবদারে আটকে পাতাল রেলের কাজ
প্রস্তাবিত পাতাল রেল। ছবি: দৈনিক বাংলা
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত
  • ডিপোর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে অক্টোবরে

  • ড্রেনেজ, ফুটপাত ঠিক রেখেই নকশা করতে হবে- ডিএনসিসি

তৌফিকুল ইসলাম

মাটির নিচে থাকা টেলিফোন, গ্যাস, পানিসহ ইউটিলিটি সেবার লাইন সরানো নিয়ে

মেট্রোরেলের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। উল্টো আরেকটি প্রস্তাব দিয়েছে তারা। ডিএনসিসির প্রস্তাবে যে ‘আবদার’ জানানো হয়েছে তাকে অযৌক্তিক বলছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। এই টানাপোড়েনে আটকে গেছে পাতাল রেলের কাজ। 

জুন মাসে এ কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চার মাস পেরিয়ে গেছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একই সঙ্গে এই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) অবসরে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও নতুন পিডি নিয়োগ হয়নি, এতে প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি হচ্ছে না।

পাতাল ও উড়াল মিলে মেট্রোরেল লাইন-১ এর মোট দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত পাতাল অংশের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। অন্যদিকে নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত নির্মাণ হবে উড়ালপথ, যার দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার। পাতাল পথে স্টেশন হবে ১২টি এবং উড়ালপথে থাকবে ৭টি। উভয় পথে মোট ১৯টি স্টেশন চূড়ান্ত হয়েছে। ২০২৬ সালে পাতাল রেলের নির্মাণ কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে।

ইতিমধ্যেই পাতাল রেলের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ নকশায় যেভাবে ইউটিলিটি সরানোর প্রস্তাব দিয়েছে তাতে আপত্তি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

প্রকল্প সূত্র জানায়, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো পাতাল রেলের রুটেও মাটির নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন। পাতাল রেল কর্তৃপক্ষ ইউটিলিটি সেবার লাইন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নকশায় বিস্তারিত তুলে ধরেছে। তারা বলেছে, পাতাল পথে যেসব স্টেশন হবে সেখানে কয়েকটা কমন করিডর করে সব ইউটিলিটির লাইন একসঙ্গে রাখা হবে। তবে স্টেশনের বাইরে এমন করা হবে না।

আর এখানেই আপত্তি সিটি করপোরেশনের। তাদের আবদার শুধু স্টেশনেই না, পাতাল রেলের পুরো রুটেই ইউটিলিটি লাইনগুলো একসঙ্গে কংক্রিটের পাইপে কমন করিডরে করে দিতে হবে। তাদের বক্তব্য, এতে ইউটিলিটি সেবাগুলোর ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং বারবার রাস্তা খুঁড়তে হবে না। সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবে একমত নয় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেট্রোরেলে লাইন-১ এর একজন সহকারী প্রকৌশলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি যে প্রস্তাব দিয়েছে তা করতে গেলে আমাদের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু কাজ শেষ হবে না। তাতে খরচও বাড়বে। আমরা আমাদের প্রস্তাবমতো ব্যবস্থা শুধু স্টেশনগুলোতেই রাখতে পারি। সিটি করপোরেশন চাইলে বাকিটা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় করে নিতে পারে। মালিবাগ থেকে নদ্দা অংশে ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের প্রস্তাবে এখনো একমত হয়নি ডিএনসিসি। আমরা চেষ্টা করছি সমন্বয় করে বিষয়টি সমাধান করার।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের অভাব আছে, এটি নতুন নয়। এতে প্রকল্পের কাজে ব্যাঘাত ঘটে, নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয় না প্রকল্পের কাজ। সে ক্ষেত্রে কাজ শুরুর পরিকল্পনার আগেই তাদের মধ্যে সমন্বয় করা উচিত। তাহলে পরে জটিলতা হবে না।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের কোনো ঘাটতি নেই। যেটা করলে দুপক্ষের জন্যই উইন উইন সিচুয়েশন হবে সেভাবেই আমরা কাজ করছি। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করার আমরা সেটা করছি। তবে আমাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তায় ফুটপাতসহ অন্যান্য বিষয় ঠিক রেখেই তাদের নকশা করতে হবে।’

মেট্রোরেলের মালিক প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন সিদ্দিক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘তেমন বড় কোনো জটিলতা নেই। যখন যে কাজ হবে সেটির বিষয়ে করপোরেশনের অনুমতি নেয়া হবে। আশা করছি ইউটিলিটি নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না। মেট্রোরেল লাইন-৬ এর কাজ যখন করতে পেরেছি, তখন লাইন-১ এর কাজও হয়ে যাবে। আর পাতাল রেলের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বাকিটা সরকারের হাত।’

 টানেল বোরিং মেশিন আসবে এপ্রিলে 

কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মাটির নিচে রেল ট্র্যাক যাবে রাস্তার প্রায় ১০ মিটার নিচ দিয়ে। দুটি টানেল বোরিং মেশিন প্রতিদিন সামনের দিকে মাটি কেটে এগোবে। বিমানবন্দর, কুড়িল, নতুন বাজার এবং কমলাপুরে বসবে এসব টানেল বোরিং মেশিন।

মেট্রোরেল লাইন-১ এর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাস থেকে টানেলের  খনন শুরু হবে। এই কাজের জন্য এপ্রিল মাসে টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) আনা হবে। মোট ৯টি টানেল বোরিং মেশিন আসবে, এর মধ্যে চারটি দিয়ে কাজ শুরু করার কথা আছে। বিমানবন্দর রেলস্টেশন, টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত- এই তিনটি পাতাল স্টেশনে প্রথমে খনন কাজ একসঙ্গে শুরু হবে। তাই সবার আগে এই তিনটি স্টেশনেরই ইউটিলিটি সরানোর শুরু হবে। ইউটিলিটির কাজ শেষ করতেই চার মাস সময় লাগবে।

 কেমন হবে পাতাল স্টেশন  

প্রতিটি পাতাল স্টেশন হবে তিনতলাবিশিষ্ট। টিকিট কাউন্টার ও অন্যান্য সুবিধা থাকবে প্রথম বেসমেন্টে এবং প্ল্যাটফর্ম থাকবে দ্বিতীয় বেসমেন্ট। তবে উড়াল স্টেশনের টিকিট কাউন্টার এবং প্ল্যাটফর্ম থাকবে তিন তলায়। যাত্রীদের চলাচলের জন্য উড়াল এবং পাতাল- দুই পথের স্টেশনেই থাকবে লিফট, সিঁড়ি এবং এস্কেলেটর সুবিধা। স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাতাস এবং অক্সিজেন আসতে থাকবে অতিরিক্ত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা।

 নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে অক্টোবরে

মেট্রোরেলের লাইন-১ এর ডিপো নির্মাণ হবে নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জে। গত জুলাই মাসে এই ডিপো এলাকায় মূল নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পিছিয়ে দিয়ে আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়ার কথা ছিল মূল নির্মাণকাজ। তারপরও শুরু হয়নি কাজ।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পাতাল রেলের ডিপোর কনস্ট্রাকশন কাজ অক্টোবর মাসে শুরু হবে। আশা করছি  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কাজ উদ্বোধন করবেন। ডিপো নির্মাণের মধ্য দিয়ে পাতাল রেলের আনুষ্ঠানিক কনস্ট্রাকশন কাজ শুরু হবে। ডিপো নির্মাণ কাজের দরপত্র ও ঠিকাদার নিয়োগসহ যাবতীয় কাজ শেষ।’

এদিকে পুরো প্রকল্পটির কাজ ১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে ৮টি প্যাকেজের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে । আরো দুই থেকে তিনটি প্যাকেজের টেন্ডার কাজ এই মাসের মধ্যে শুরু হবে।

প্রকল্পটি শেষ হলে এই রুটে প্রতিদিন ৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট। পাতাল রেলের জন্য কেনা হবে ২৫টি ট্রেন। প্রতিটি ট্রেনে কোচ থাকবে ৮টি করে ৷ একেকটি ট্রেন সেটে একসঙ্গে ৩ হাজার ৮৮ জন যাত্রী পরিবহন করা যাবে।

পাতাল মেট্রোরেল নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে  ৪০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং বাকিটা বাংলাদেশ সরকার।